somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আইসিটির ৫৭ ধারার কালো থাবা বন্ধ করুন...

কাজী রায়হান রাহী ও উল্লাস দাসের নিঃশর্ত মুক্তি, অনলাইন এক্টিভিস্টদের উপর হামলা/মামলা/হয়রানী বন্ধ ও আইসিটির ৫৭ ধারা বাতিলের দাবীতে আগামীকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে ব্লগার অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম এই কর্মসুচির আয়োজন করছে। আপনাদের সবার অংশগ্রহন আমাদের কাম্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধ্যাদেশ ২০০৬, সংশোধিত ২০১৩-এর মত একটি কালা-কানুন ব্যবহার করে, প্রশাসনের ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার করে কাজী রায়হান রাহী, উল্লাস দাসকে গত ৩১ মার্চ গ্রেফতার করে জেলে পুরেছে প্রশাসন। তাদের অপরাধ কি? ফেসবুকে ব্যক্তিগত কথা-বার্তা, তর্ক বিতর্ক?

গ্রেফতারের পূর্বে তাদেরকে একদল চিন্হিত দুর্বৃত্ত শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে এবং জনসমক্ষে হেয় করেছে। এই সন্ত্রাসীদের কি কিছু হয়েছে? তাদেরকে জেলে ঢুকানো হয়েছে? সবগুলি প্রশ্নের উত্তর একটাই, না । তাহলে কি ধরে নিতে হবে আমাদর প্রশাসন অজ্ঞ, অক্ষম, অদক্ষ? এর সবগুলির উত্তর যদি হয় হ্যা, তাহলে অবস্থা আরো ভয়াবহ। প্রশাসন আইনের শাসন নয়, বরং কারো কারো স্বার্থ রক্ষা করছে আর পাশাপাশি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।

সরকার গণবিরোধী ICT Act ব্যবহার করে, অন্য কথায় ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার করে যাকে খুশি তাকে জেলে পুরে ব্লগার বা রাজনৈতিক একটিভিস্টদের সাহস, মনোবল বা তৎপরতা ই দুর্বল করতে পারবে না। বরং এসব করে সরকার ৫৭ ধারা বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে তুলবে। এযাবত কালের বাংলাদেশের কোনো সরকার এদেশের গণমানুষের মুক্তির সংগ্রাম ও সংগ্রামের ইতিহাস থেকে কিছু শেখেনি। যে জাতি বারে বারে
স্বৈরশাসনকে শুধু প্রত্যাখানই করেনি, বরং পরাস্ত করেই ছেড়েছে সে জাতি বর্তমানা শোষকের অন্যায় ও অত্যাচার সহ্য করবে তা মনে করা ভুল হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন তাঁদের কাছে এ বিষয়টি অস্বচ্ছ থাকার কথা নয়।

গণবিরোধী ৫৭ ধারায় এর আগেও ৪ জন ব্লগার ও ২ জন ফেসবুকারকে জেলে পোরা থেকে শুরু করে নানা রকম হয়রানী ও অত্যাচার করেছে। এই কালো আইন বাতিল করতে সোচ্চার হন, দাবী তুলুন -

১. রাহী, উল্লাস সহ সকল ব্লগার, ফেসবুকারদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
২. মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হবে।
৩. কালা-কানুন বাতিল করতে হবে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধ্যাদেশ ২০১৩ সংশোধন করতে হবে।

ফেসবুক ইভেন্টের লিঙ্ক ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29939802 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29939802 2014-04-10 21:51:53
মধ্যবিত্ত আমরা...

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার আগেই যদি প্রতিরোধ করা হয়, তাইলে দেয়াল থেকে কিছুটা দূরত্ব পাওয়া যায়। কিন্ত এই ব্যাপারটা ইকোনোমিক্যালি এবং কালচারালি ধর্মভিরু মধ্যবিত্তদের বুঝের বাইরে। দীর্ঘিদিনের হেজেমনি থেকে বের হয়ার সাহস টা এক করে আমরা বিষ্ফোরণ ঘটাইতে পারি না। কারন আমরা মিডল ক্লাশ, সব সময়ে, সব ব্যাপারে।

প্রথমত, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারনে সবার আগে আমাদের চাওয়া থাকে একটুখানি সিকিউরিটি। তিন বেলা খাওয়া পরার সিকিউরিটি থাকলে আমরা আন্দোলন নামক ঝামেলায় যাইতে চাই না। একদিন দুইদিন কিঞ্চিত জোস থাকলেও বাসায় ঢুকার সময় বাজার করে ঢুকতে হবে, এই চিন্তা মাথায় নিয়ে বিপ্লব হয় না। মিডল ক্লাস মেন্টালিটি আমাদের একটা কম্পিটিশনের মাঝে আটকায়া রাখে। যার কারনে সামগ্রিক ভাবে যে কোন কিছু দেখার বদলে বরং ব্যাক্তিগত ভাবে আমি কি পাইতেসি সেটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। বড়ই সুইং মেন্টালিটি ধারন করি আমরা। আজকে গণজাগরন বলে মাথা কুটে ফেলছি, আবার কালকেই ইমরানের মায়েরে বাপ বলে দুই চারটা চড় থাপ্পড় লাগায়া দিচ্ছি। পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা, গান বাজনা করে ঘরে ফিরে পিস টিভি দেখে আবার গিলটি ফিল করছি, ইসলামের সাথে ব্যাপার টা সাঙ্ঘর্ষিক হয়ে গেলো নাতো ? আমরা আগে বাঙ্গালী নাকি আগে মুসলমান এই দ্বন্দ থেকে আমরা বের হতে পারি না।

আচ্ছা, আমাদের কোন ধারনা আছে রাষ্ট্র আমাদের কি দিতে পারে ? সরকার আমাদের কোন কোন চাওয়া গুলো পুরন করতে বাধ্য ? অশিক্ষা কুশিক্ষা তথা প্রশ্ন ফাঁস আর চাকুরির জন্য শিক্ষা পদ্ধতির কারনে আমাদের অধিকার নিয়ে আমরা একদমই সচেতন না। কতটুকু আমদের প্রাপ্য, আর কতটুকু আমরা পাইতেসি তা আমাদের মধ্যবিত্ত ব্রেনে খুব একটা ভালো ধরে না। যতক্ষন না পর্যন্ত সরাসরি আমি আক্রান্ত হচ্ছি, ততক্ষন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় চিন্তা আমাদের ভাবায় না। ৪২ বছর পরেও যুদ্ধপরাধীদের বিচার আর আওয়ামী বিএনপি অপরাজনীতির প্যারাডক্সের সম্পর্কটা আমাদের কাছে ক্লিয়ার না। ক্লিয়ার হবে কেমন করে ? আমরা শিক্ষিত না, আমরা ইতিহাস জানিনা, আমরা অধিকার সচেতন না। তিস্তায় পানি নাই তো আমার কি ? আমার চিন্তা বাড়িওয়ালা মাস শেষে ভাড়া বাড়ায় কিনা তাই নিয়ে। রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র হলে আমার কি ? আমার বাসার পরিবেশ তো আর নষ্ট হচ্ছে না। সর্বপরি আমি মধ্যবিত্ত। কেমন করে আমাকে দিয়ে রেভ্যুলিউশন আশা করেন ?]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29939732 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29939732 2014-04-10 16:34:00
দ্রোহ

সেদিন দেখেছিলাম ইতিহাস...

ছেলেটির ভিতর থেকে চেতনার বানী ধ্বনিত হয়েছিলো
হাড্ডিসার পেশির বাঁকে, যেন এক অঙ্গার রয়েছিলো
চেয়ে দেখেছিলো সমগ্র লোকালয়ের কুয়াশাঘেরা আকাশ,
শিতল বাতাসে ছালা মুড়ি দেয়া পথশিশুর নিশ্বাস
শির উঁচু করে দাঁড়ানো ঐ ছেলেটির চাহনী, ছুটে চলা গতি,
তার উজ্জ্বল উচ্ছল প্রগতির সাম্য ও সম্প্রীতি
প্রদীপ্ত শিখায় কাপুরুষের হৃদয় ভেঙ্গে খান খান...
হা হা হা, ছুটে বজ্রকন্ঠের বাণ
দ্রোহে পরিনত হয়েছিলো, শত অভিমান

ভয়ে কুঁকড়ে যায় ককটেল হাতে ঐ জীবন্মৃত
এখানেই শেষ, শুরু হয় নতুন স্বদেশ চরিত...
]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29908883 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29908883 2013-12-23 00:34:20
প্রসংগঃ জামাত শিবির


ভূমিকা


জামাতের লিঙ্ক লবিং কিংবা বাঁশের কেল্লার দিকে তাকালেই বুঝা যায় তাদের লোকবল এবং ফান্ডিং বেশ স্ট্রং। জামায়েতি ইসলাম সাংগঠনিক ভাবে অনেক দক্ষ। তাঁদের মূল শক্তি বলা যেতে পারে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তার, আর্থিক সংগঠন এবং বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দল গুলোর ভোটের রাজনীতি এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে জোট বাধা। নানা রকম তর্ক বিতর্ক থাকা সত্বেও গণজাগরণের কারনে এত বছরে সবচাইতে বড় ধাক্কাটি খেয়েছে জামায়াত শিবির। একদিকে তাদের নেতাদের আটকে ফেলা হয়েছে, অন্য দিকে সহজ সরল মানুষদের ধর্মের নামে তারা যে বোকা বানিয়ে আসছিলো, তাও ফ্লাশ হয়ে গেছে। খসে পড়েছে তাঁদের মুখোশ। এতে করে ম্যাস পিপলের কাছে তাদের গ্রহনযোগ্যতা প্রায় শুন্যের কোঠায়। এই সুযোগে যদি জামায়তের সকল প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংগঠন গুলাও গুড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে মাথা তুলে দাড়ানোর শক্তিটা নষ্ট হয়ে যাবে তাদের। যেই কাজ টা ৪২ বছর আগে শুরু হয়া দরকার ছিলো, এতদিন পরে হলেও তার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।


তৃণমূল পর্যায়ে যেভাবে শুরুটা হয় জামাতি নেটওয়ার্ক


আমরা দেখেছি, মাদ্রাসাগুলোর কথা বাদ দিলেও একটা মফস্বল, গ্রাম কিংবা শহরের পাড়া মহল্লা ও কলোনী এরিয়াগুলোতে জামায়াত তার শিবীরের ফ্রন্ট দিয়ে শিশুকাল থেকেই গ্রুমিং শুরু করে দেয়। ট্যালেন্ট বাচ্চাকাচ্চাদের টার্গেট করে থ্রি ফোর এ পড়া অবস্থাতেই তাঁদের হাতে তুলে দেয় কিশোর কন্ঠ আর জুভানিল ভয়েস। সাহিত্যনুরাগি করার নাম দিয়ে শুরু করে দেয় ব্রেইন ওয়াশ আর ভুল ইতিহাসের চর্চা। ক্লাশ ফাইভে/এইটে স্কলার্স ফোরাম নামে বৃত্তি প্রদান করে আরো একধাপ কাছে টেনে নেয় শিশু কিশোরদের। ইসলামি ছাত্রশিবীরের এক ধরনের রিপোর্ট ফরম আছে যেখানে রেগুলার নামাজ ও কোরআন শরীফের একটা রুটিন ফলো করানো হয়। আপাতদৃষ্টিতে এতে খারাপ কিছু না থাকায় অভিভাবকরাও ব্যাপারটাকে ভালো চোখে দেখে। আদতে এই সকল রিপোর্ট, উইকএন্ডে মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান হচ্ছে কমিউনিকেশন বিল্ড আপ করার পদ্ধতি। একবার যখন কোন কিশোর এই প্রসিডিওরের মাঝে ঢুকে পড়ে, তখন আর বের হবার কোন উপায় থাকেনা। ভালো কিছু প্রাক্টিসের পিছনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিবীরের সাথে তাঁদের ইনভল্ভ রাখা। একসময় টার্গেটেড বাচ্চাদের তারা শিবীরের সমর্থক থেকে কর্মীতে রুপান্তর করে। স্পোর্টস, ডিবেট বা কুইজের মত ইভেন্টের মধ্য দিয়ে ইনভল্ভমেন্ট বাড়তে থাকে তারা। বিভিন্ন আলোচনার মধ্যে অত্যন্ত সচেতন ভাবেই তারা এড়িয়ে যায় আমাদের দেশের সঠিক ইতিহাস। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে সত্যিকার ধর্মীয় বিশ্বাসের উপরে এটে দেয়া হয় মৌলবাদ আর জিহাদি লেবাস। আর এতদিন ধরে গ্রুমিং করার ফলে সত্য মিথ্যার পার্থক্য বিচার করার ক্ষমতাও থাকেনা এই বাচ্চাগুলোর।

স্কুল পেরিয়ে কলেজের গন্ডিতে ঢুকার সাথে সাথে তাদের দিয়ে শুরু করানো হয় রাজনৈতিক কার্যকলাপ। ইসলামে যেখানে নারী নেত্রিত্ব কিংবা গণতন্ত্রকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে ক্ষমতা দখল করতে চায় যে কোন মূল্যে। কলেজে থাকতেই মোটামুটিভাবে মিছিল মিটিং ও সমাবেশ বাদ্ধতামূলক করা হয় তাদের কিশোর কর্মীদের জন্য। তাদের প্রোভাইড করা হয় যাবতীয় সুবিধা ও টাকা পয়সা। কলেজ পাশ করলেই রেটিনা কিংবা ফোকাস এ ভর্তী করে দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের একটা স্থান করে নেয়ার জন্য। প্রশ্নপত্র ফাঁস করা সহ নানান অনৈতিক উপায়ে তাঁদের পুট আপ করা হয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে। যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসে, তাঁদের জন্য রয়েছে শিবীরের নিজস্ব মেস, বাসা। সেখানে রাতের পর রাত চলে ব্রেইন ওয়াশ। জিহাদের কথা বলে স্টিমুলেট করা হয় তারুন্যকে। দেয়া হয় ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। এর মাঝ থেকেই কাওকে কাওকে বেছে নেয়া হয় হিটার হিসেবে। বোবামাজি থেকে সুইসাইড টিম পর্যন্ত তৈরি করতে দ্বিধা করেনা। এখন অনলাইন মিডিয়ার কারনে সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা যায় তারা সমান ভাবে এক্টিভ। ছাত্রাবস্থায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্যে তাদের আছে আছে প্রমোশন সিস্টেম। একটা সফল অপারেশনের পর বাড়িয়ে দেয়া হয় সুযোগ সুবিধা। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পার হলে চাকুরির সুব্যাবস্থা তো আছেই। জামাতি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্খ্যা তো কম নয়। ইসলামি ব্যাঙ্ক, দিগন্ত মিডিয়া থেকে শুরু করে তাঁদের সকল প্রতিষ্ঠানে রিক্রুট করা হয় ছোটবেলা থেকে গ্রুমিং করে আসা এই ছেলে পেলেদের। এরা যখন এই সকল বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়ে যায়, তখন নিজেদের ব্যাবসার সাথে সাথে চলতে থাকে নতুন আরেক ব্রেইন ওয়াশড প্রজন্ম গড়ে তোলার নীল নকশা...

বাংলাদেশে আর কোন রাজনৈতিক দল এতটা শক্তিশালী এবং প্ল্যান ওয়াইজ আগায় না তৃণমূল পর্যায়ে। কাজেই অভিভাবকগণ, আপনাদের কাছে অনুরোধ, একটু নজর দিন নিজের বাচ্চার দিকে। তাঁদের নৈতিক ও সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করুন। সঠিক ইতিহাস তুলে দিন তাঁদের হাতে।


অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট


জামাতীদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ থেকে ৯ ভাগ। তারা প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করে শুধু রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে। এর মধ্যে, জঙ্গি কর্মকান্ড ছাড়াও সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা ব্যয়, রাজনৈতিক কর্মীদের বেতন, জনসভা আয়োজন ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ।তাদের ১ হাজার ৫শ কোটি টাকা মুনাফার ২৭ শতাংশ আসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যার মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক, বীমা ও লিজিং কোম্পানি। ২০ দশমিক ৮ শতাংশ আসে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে, ১০ দশমিক ৮ ভাগ আসে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে। ১০ দশমিক ৪ ভাগ আসে ওষুধ শিল্প ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে। ৯.২ শতাংশ আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। ৮.৩ শতাংশ আসে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে। যোগাযোগ ব্যবসা থেকে আসে ৭.৫ শতাংশ এবং তথ্য প্রযুক্তি ও সংবাদ মাধ্যম থেকে আসে ৫.৮ শতাংশ। ‌(অধ্যাপক আবুল বারকাত, মৌলবাদীদের রাজনৈতিক অর্থনীতি, ২০০৫)


জামায়তের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ


১. সংস্কৃতি সংগঠনঃসিএনসি, বাংলা সাহিত্য পরিষদ, স্বদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ, উত্সঙ্গ, সৃজন চিন্তন, মৃত্তিকা একাডেমী, প্রতিভা ফাউন্ডেশন, শহীদ মালেক ফাউন্ডেশন, কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশন, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, বিপরিত উচ্চারণ, পল্টন সাহিত্য পরিষদ, ফররুখ পরিষদ, চত্বর সাহিত্য পরিষদ, কিশোর কলম সাহিত্য পরিষদ, ফুলকুঁড়ি সাহিত্য পরিষদ, নতুন কলম সাহিত্য পরিষদ, আল হেরা সাহিত্য পরিষদ, মাস্তুল সাহিত্য সংসদ, সম্মিলিত সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদ, স্পন্দন সাহিত্য পরিষদ, রেলগাছ সাহিত্য পরিষদ, কবি সংসদ বাংলাদেশ, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য সংসদ, কানামাছি সাহিত্য পরিষদ, অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ, শীলন সাহিত্য একাডেমী, পারফর্মিং আর্ট সেন্টার, সংগ্রাম সাহিত্য পরিষদ, উচ্ছ্বাস সাহিত্য সংসদ, ইসলামী সাহিত্য পরিষদ, হিলফুল ফুজুল, দাবানল একাডেমী, মওদুদী রিসার্চ সংসদ, বাংলাদেশ সাহিত্য কেন্দ্র নামে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী [বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কপি]

২. প্রিন্টিং আই মিন প্রকাশনী বাণিজ্যঃসিদ্দিকীয়া পাবলিকেশন্স, আধুনিক প্রকাশনী, প্রীতি প্রকাশন, কিশোর কণ্ঠ প্রকাশনী, ফুলকুঁড়ি প্রকাশনী, মিজান পাবলিকেশন্স, ইষ্টিকুটুম, আল্পনা প্রকাশনী, গণিত ফাউন্ডেশন, প্রফেসর’স, কারেন্ট নিউজ, সাজ প্রকাশন, সৌরভ, সাহিত্যকাল, নবাঙ্কুর, সাহিত্যশিল্প, শিল্প কোণ, আযান, অনুশীলন, ফুলকলি, দিগন্ত, পাঞ্জেরী, আল কোরআন প্রকাশনী,প্রফেসরস গাইড, Youth wave, পৃথিবী।

৩. কোচিং বাণিজ্যঃ রেটিনা,প্রবাহ, ফোকাস, কনক্রিট, ইনডেক্স, রেডিয়াম, অপটিমাম, শুভেচ্ছা, সাকসেস কোচিং সেন্টার।

৪. ব্যাংক প্রতিষ্ঠানঃ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টম্যান্ট লিমিটেড,

৫. ইন্স্যুরেন্সঃ ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ, ইসলামী ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ, তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স

৬. ডেভেলাপারঃ কোরাল রীফ ,মিশন ডেভেলাপারস, এস.এ.এফ,এম.ডি.সি গ্রুপ, কেয়ারী,ইনটিমেট হাউজিং, সোনারগাঁ হাউজিং, লালমাটিয়া হাউজিং, সিলভার ভিলেজ হাউজিং, ওয়ান সিটি, পিংক সিটি, আবাসন সিটি।

৭. বাস সার্ভিসঃ পাঞ্জেরী, আবাবিল

৮. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি(আইআইইউসি), এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউ আই ইউ,ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ টেকনিক্যাল কলেজ, মানারত (স্কুল আর বিশ্ববিদ্যালয়), গ্রীন ইউনিভার্সিটি, লাইসিয়াম কিন্ডারগার্টেন, ইসলামী ব্যাংকের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো। মাদ্রাসার সংখ্যা অসংখ্য (আলিয়া আর কওমি মিলিয়ে)

৯. সংবাদপত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক আমার দেশ, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।

১০. টিভি চ্যানেলঃ দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি।

১১. হাসপাতালঃ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ,ইউনাইটেড হাসপাতাল, ইবনে সিনা, ফুয়াদ আল খতিব মেডিকেল ট্রাষ্ট।

১২. ফার্মাসিউটিক্যালঃ ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, বায়োফার্মা ল্যাবোরেটরীজ লিমিটেড, কেয়ারী সিন্দাবাদ।


আসুন বয়কট করি এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। হয় জামায়াত শিবীর পাকিস্তান, না হয় আমরা...৪২ বছর ধরে যেই কালসাপ দুধ কলা দিয়ে পোষা হয়েছে, তার ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা আম জনতা, হয়তো রক্ষা পাবেনা আপনার সন্তানও, প্লিজ, সচেতন হউন আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে। ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29908681 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29908681 2013-12-22 15:20:17
একটা মিনিট সময় হবে ?
আজকে আমার সামনে ককটেলের আঘাতে পা হারালো এক রিক্সাওয়ালা। সংসার চালানোর একমাত্র যন্ত্রটা তার বিকল হয়ে গেলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আঘাতে। বোমাটা সামনের রিক্সায় না পড়ে আমার রিক্সাতেও পড়তে পারতো। হয়তো এতক্ষনে আমার রক্তাত্ব দেহ নিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে থাকতো মা, চোখের জল ফেলতে ফেলতে হয়তো পাগল হয়ে যেত বৌটা। কল্পনা হলেও এই ঘটনা অবাস্তব কিছু তো নয়। এই রকম হতে পারে আমাদের যে কারো সাথে, যে কোন সময়ে। আমাদের কি কিছুই করার নেই ? ককটেল আর আগুনের রুপ এখন এক একটা প্রতিকী শিশ্ন, রেপ করে চলেছে আমাকে, আমার পরিবার কে, আমার মা কে, আমার দেশ কে। ইশ্বর আর উন্নত বিশ্ব এক হয়ে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে ফকিরা এই দেশ থেকে। আমাদের গর্বের যায়গাটা কেউ যেন ভেঙ্গে চূর্ন বিচুর্ন করে দিলো।

কেউ কি থামাতে পারেনা আমাদের এইসব মহান রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নামের প্রহসন ?
জানিনা, কি হবে। একটা পিটিশন রেডি করা আছে। আসুন সাইন করি। বিশ্ববাসীকে একটু বুঝতে দেই আমাদের অবস্থা। খড়কুটা আকড়ে ধরা ছাড়া আর কিইবা করার আছে।
কেউ কি থামাতে পারেনা আমাদের এইসব মহান রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নামের প্রহসন ?
জানিনা, কি হবে। একটা পিটিশন রেডি করা আছে। আসুন সাইন করি। বিশ্ববাসীকে একটু বুঝতে দেই আমাদের অবস্থা। খড়কুটা আকড়ে ধরা ছাড়া আর কিইবা করার আছে। এর আগেও অনেকবার ব্লগ বা ফেসবুক থেকে নেটে বিভিন্ন পিটিশন তৈরি করা হয়েছিলো। কখনো কখনো ইস্যুগুলো হারিয়ে গেছে বানের জলে, আবার কখনো সামুর "যুদ্ধপরাধীদের বিচার চাই" পিটিশনের মত ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে। জানিনা এবার কি হবে। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে একটা পিটিশন রেডি করেছে আমার কিছু ফ্রেন্ড। যদি সম্ভব হয়, আমরা চেষ্টা করবো ইউএন বা এই জাতীয় কোথাও পিটিশন টা সাবমিট করার। আপনারা একটু সাপোর্ট করবেন ?

পিটিশনের লিঙ্ক , জাস্ট নিজের নাম আর মেইল এড্রেস দিয়ে দিবেন। আর প্রয়োজন মনে করলে আপনার অনুভুতি ব্যাখ্যা করে দিতে পারেন।

সবাইকে ধন্যবাদ।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29903012 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29903012 2013-12-06 02:15:06
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার (পর্ব ১১) <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> " style="border:0;" />

পর্ব ১০- বিজ্ঞাপনী নীতিমালা
পর্ব ৯- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
পর্ব ৮- ক্রিয়েটিভিটি
পর্ব ৭- কমিউনিকেশনের ম্যাজিক
পর্ব ৬- এরিস্টটলের আপেল
পর্ব ৫- কপিরাইটিং
পর্ব ৪- সেক্স এন্ড এডভার্টাইজিং
পর্ব ৩- এড এজেন্সি
পর্ব ২- কিছু দরকারি টার্ম
পর্ব ১- ব্রান্ডিং এবং এডভার্টাইজিং

-------------------------------------------------------------

যারা আমার "বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার" সিরিজ ব্লগ রেগুলার ফলো করেন, তাদের জন্য সুখবর নিয়ে আসলাম। আজকে অবশ্য কোন স্ট্রাটেজি নিয়ে কথা বলবো না। সেটা আগামী পর্বের জন্যেই নাহয় থাকুক। আজকে বরং আপনাদের সাথে অন্য একটা জিনিস শেয়ার করি।

বাংলাদেশের সবচাইতে সম্ভাবনাময় ক্রিয়েটিভ সেক্টর গুলার একটি হলো বিজ্ঞাপন। আমরা যারা কমিউনিকেশনে পড়াশুনা করেছি, বা কাজ করছি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়, তাদের একটা আফসোসের যায়গা হলো, আমাদের দেশীয় বিজ্ঞাপনের কোন আর্কাইভ নেই। অনেক চমৎকার সব বিজ্ঞাপন আমরা দেখি, যা পরবর্তি সময় আর খুজে পাওয়া যায় না। অথচ অন্যান্য দেশের বিজ্ঞাপন কিন্ত ব্রান্ড নেম লিখে সার্চ করলেই পাওয়া যায়। তাই এই ব্যাপারে কিছু একটা করা গেলে খারাপ হতো না। এই হচ্ছে মূল কথা।

সৃষ্টিশীলতা এবং বানিজ্য, এই দুইটা ক্ষেত্রের কম্বিনেশনের কারনে "বিজ্ঞাপন" আমার খুব পছন্দের একটা বিষয়। এই সেক্টরে আমার অসম্ভব আগ্রহের কথাতো বন্ধুরা সবাই জানেনই। এমন আরো অনেকেই আছেন, যারা বিজ্ঞাপনে কাজ করতে চান, বিজ্ঞাপন বানাতে চান। আর কিছু না হলেও অন্তত বাংলাদেশী চমৎকার সব ক্রিয়েটিভ এড গুলোকে এপ্রিশিয়েট করতে চান।

যারা বিজ্ঞাপন দেখতে ভালোবাসেন, মিডিয়া, মার্কেটিং বা কমিউনিকেশনে পড়ছেন, তাদের জন্য একটা বড় সমস্যা হলো, রেফারেন্স দেয়ার মত আমাদের দেশের এডভার্টাইজিং এর কোন বড় আর্কাইভ নেই। বিজ্ঞাপনের সাথে জড়িত আছেন, এমন কিছু মানুষ কিন্ত আপনাদের সাপোর্ট দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সবার সাথে নিজেদের রিসোর্স গুলো শেয়ার করার জন্য, সবার কাছে বিজ্ঞাপনের বড় একটি কালেকশন পৌছে দেয়ার জন্য কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০০০ এর উপরে প্রেস এড এবং ২০০০ এর উপরে টেলিভিশন এড সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সকল এডের আর্কাইভ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ওয়েব সাইট, ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগ এবং ফেসবুক পেজ। আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। আশা করছি বিজ্ঞাপনের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষ জন আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে আরো বড় আর্কাইভ করার জন্য হেল্প করবেন। সেই সাথে সকল ফিল্ম মেকার, এড মেকার, মার্কেটিং এর স্টুডেন্ট এবং সাধারন দর্শকদের সাপোর্ট আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। কমেন্টে সব লিঙ্কগুলো দেয়া হলো।

আশা করছি আপনারা অবশ্যই উপকৃত হবেন।

ফেসবুক পেজ

ইউটিউব চ্যানেল, এখানে প্রায় ২০০০ এর মত টিভিসি আছে।

আমাদের ব্লগ, এখানে পাবেন প্রায় ৫০০০ প্রেস এডের কালেকশন

এবং আমাদের অফিশিয়াল ওয়েব সাইট ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29902717 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29902717 2013-12-05 11:48:54
দু এক কথায় উত্তর দিন

১) ব্লগে কতদিন ধরে আছেন ? (পড়ছেন/লিখছেন)
২) আপনার দৃষ্টিতে ব্লগের সবচাইতে পজেটিভ ব্যাপার কোন টি ?
৩) আপনার দৃষ্টিতে ব্লগের সবচাইতে নেগেটিভ ব্যাপার কোন টি ?
৪) ব্লগের যে কোন একটি ফিচার নতুন যোগ করতে হলে কোন টি চাইবেন ?
৫) ব্লগ/ফেসবুজ কোন টি আপনার কাছে বেশী গ্রহনযোগ্য এবং কেন ?

আমার উত্তর

১) পড়ছি ৫ বছরের উপরে, লিখছি চার বছর ধরে।
২) কন্টেন্টের ভার্সেটাইলিটি এবং গভীরতা
৩) ব্লগের নেগেটিভি পয়েন্ট হলো, অনেক ব্লগ ডিরেক্টলি কোন না কোন গোষ্ঠির সাথে এফিলিয়েটেড। এতে করে মুক্তবুদ্ধির চর্চা রোহিত হয়। ব্লগারদের নেগেটিভিটি হলো পড়া বা লেখার অভ্যাস না থাকলেও শুধুমাত্র ব্লগার আইডেন্টিটির জন্য ব্লগিং করার মানসিকতা।
৪) নটিফিকেশন চাইতাম, এটা যেহেতু হয়ে গেছে তাই এখন চাই ফ্লাডিং, কপিপেস্ট, নকল পোস্ট ফিল্টারিং ফিচার। আর চাই ফেসবুকের সাথে ইন্টিগ্রেশন।
৫) দুইটা দুই জিনিস। ব্লগ বেশী গ্রহনযোগ্য এর গভীরতার জন্য। আর ফেসবুক হচ্ছে ম্যাস ইন্টারেকশন আর মার্কেটিং টুলস হিসেবে।

আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায়...]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29899573 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29899573 2013-11-26 12:01:27
জীবন থেকে নেয়া (পর্ব ২)



তিনটা কাহিনী বলছি। পড়তে পড়তে ব্যাপারগুলো একটু ভিজুয়ালাইজ করার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে নিজেকে সেই যায়গায় বসান।


আপনি সমস্যায় পড়েছেন, বিশাল সমস্যা...

মনে করুন, আপনার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। বিয়ের ডেট তিন দিন পরে। ছেলেটাকে আপনি অত্যাধিক পছন্দ করেন। বলতে গেলে প্রেমের বিয়ে। দীর্ঘদিনের প্রেমের স্বার্থক পরিনতি অপেক্ষা করছে।

আহা, কত স্বপ্ন...

এ অবস্থায় ছেলেটি এক্সিডেন্ট করে দুটো চোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে যায়। চোখে দেখেনা, উপরন্তু প্যারালাইসড হয়ে যাবার কারনে সে চলতে ফিরতে পারেনা। এ অবস্থায় আপনি কি করবেন ? আপনি প্রথমে হয়তো আবেগের বসে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে শিওর থাকুন আপনার পরিবার ও সমাজ ছেলেটাকে মেনে নিতে পারবেনা। ধরুন বিয়ে হয়েও গেলো। কিন্ত তারপর ? কতদিন আপনি আবেগের মাঝে ডুবে থাকবেন ?

সাধারনত প্রেমের বিয়ে হোক, কিংবা এরেঞ্জ ম্যারেজ, একটা মেয়ে বা তার পরিবার স্বামীর কাছে একটা জিনিস ই চায়। সেটা হচ্ছে "সিকিউরিটি" , হতে পারে সেটা সোশ্যাল সিকিউরিটি, হতে পারে ইকোনমিক্যাল সিকিউরিটি, কিংবা হতে পারে মাতৃত্ব কিংবা
সন্তানের ভবিষ্যতের সিকিউরিটি। যখন আপনি দেখবেন, ছেলেটার কাছ থেক কোন ধরনের সিকিউরিটি পাওয়া তো সম্ভব নয়ই, বরং ছেলেটা আপনার জীবনে এক রকম বোঝার মত। কাজ কর্ম, এমন কি সন্তান জন্মদানে অক্ষম, তখন আপনি কতদিন ধরে
ব্যাপার টা মেনে নিতে পারবেন ? সেই সাথে পরিবার, আত্মীয় স্বজনের খোঁচা তো আছেই। এই অবস্থায় পূর্ববর্তি ভালোবাসা আসলে অতটা কার্যকর ?

এক দিকে ভালোবাসা, মানবিকতা, অন্যদিকে বাস্তবতা। কি করবেন আপনি ?


আবার মনে করুন, আপনার একমাত্র মেয়ে। দুটো সন্তান মারা যাবার পর এই মেয়ের জন্ম। মাতৃহারা এই মেয়ে অসম্ভব আদরে বড় হয়েছে । সে মুসলমান, শিক্ষিত, সুন্দরী। কিন্ত পছন্দ করেছে এমন একটা ছেলেকে, যে হিন্দু ধর্মের, প্রায় অশিক্ষিত এবং সন্ত্রাসী। আপনি মেয়েকে অনেক ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করলেন, কিন্ত মেয়ে বুঝলো না। তার একটাই কথা, বিয়ে করলে এই ছেলেকেই করবে। না হলে সে মারা যাবে। এক দিকে আপনার নিজের সন্তান, অন্যদিকে সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবে ছোট হয়ে যাবার ভয়। এমন কি মেয়ের জীবনে সুখি হবার কোন গ্যারান্টিও নেই এ ছেলের সাথে।

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, মেয়েকে বুঝাবেন। কিন্ত মেয়ে বুঝলো না। শাষন করলেন, সে শুনলো না। ভালোবাসার আবেগে সে অন্ধ। মেয়েকে হয়তো ছেড়ে দিবেন ভাবলেন, কিন্ত শত হলেও একমাত্র মেয়েতো। তাছাড়া আপনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন, এই ছেলেটা আপনার মেয়েকে সুখে রাখতে পারবে না। তাছাড়া ছেলেটাও মুসলমান হতে রাজী নয়। এ অবস্থায় আপনি কি করবেন ? ভেবে বলুন তো। নিশ্চিত অসুখী হবে জেনেও মেয়েকে ছেড়ে দিবেন কুলাঙ্গার ছেলেটার হাতে ? নাকি মেয়েকে সুইসাইডের জন্য সুযোগ করে দিবেন।

সন্তানের একেবারে মৃত্যু, নাকি ধুকে ধুকে মৃত্যু, পিতা হিসেবে আপনি কোনটা চাইবেন ??


আবার মনে করুন, আপনি একটা মেয়েকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। কোন একারনে মেয়েটার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। আপনি নিজেও বিয়ে করেছেন, তবে আপনার স্ত্রী অসুস্থ বিধায় আপনি বৈবাহিক জীবনে সুখি নন। আপনার ঘরে দুটি সন্তান আছে। কিন্ত অসুস্থ বউ আর সন্তানদের নিয়ে আপনার জীবন হতাশায় ঘেরা। আরেকটা বিয়ে করতে পারছে না, কারন বাচ্চাদের সৎ মা কেমন হবে, আপনি জানেন না। তাছাড়া আপনার স্ত্রী আপনাকে ভালোবাসে।
এমন অবস্থায় দেখা হলো আপনার সেই প্রেমিকার সাথে। সেই মেয়েটাও বিবাহিত জীবনে সুখি নয়। সে তার হ্যাজবেন্ডের কাছে লাঞ্চিত হয় প্রতিনিয়ত। মানসিক অশান্তির ব্যাপারে খুব একটা পার্থক্য নেই আপনাদের মাঝে। এই অবস্থায় আপ্নারাই হতে পারেন আপনাদের বেস্ট কোম্পানি। আপনারা দুজন দুজন কে এখনো ভালোবাসেন। তাছাড়া এতদিন পর আবার যোগাজোগের পর আপনারা আবার খুজে পেয়েছেন "হতে পারতো" জীবন সঙ্গীকে। দু একদিনের এক্টুখানি দেখা আর ছোঁয়া আপনাদের মরুভূমি জীবনে এক পশলা বৃষ্টির মত সুখ দিয়ে যায়। কিন্ত লুকিয়ে লুকিয়ে কতদিন ? আপনার বয়স আর অবস্থান আপনাকে
পরস্ত্রীর সাথে বিছানায় যাবার পারমিশন দেয় না। কি করবেন এখন ? বস্তুত এখন একমাত্র আপনারাই নিজেদের একটা সুখী জীবনে সেট করতে পারেন। শুধুমাত্র হাত ধরে পালিয়ে যাবার অপেক্ষা...

ভেবে দেখলেন, স্ত্রী ও বাচ্চাদুটোর কথা ভেবে ডিভোর্স নেয়া একদম ঠিক হবেনা। এখন এক হতে পারে, আপনারা এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ার চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্ত এতে করে আপনার অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি অবিচার করা হবে। আর বাচ্চাদুটো বড় হচ্ছে। বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক কোন সলিউশন নয়। এ অবস্থায় আপনি কি করবেন ?

একদিকে আপনার বিবেক, অন্যদিকে আপনার ইমোশন।

-----------------------------------------------------

তারমানে ব্যাপারটা দাড়াচ্ছে, মানুষ হিসেবে আমাদের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের যেহেতু চিন্তা করার ক্ষমতা আছে,
তাই আমরা অনেক কিছুই র‍্যাশনালিং করে বলে ফেলতে পারি। কিন্ত বাস্তব জীবনে আমরা তার অনেককিছুই করতে সক্ষম না।
এ ধরনের সমস্যায় যদি আমাদের কখনো পড়তে হয়, তাহলে আপনি হাইপোথিসিস বা অন্যদের উপদেশ শুনে আসলে কিছু করতে পারবেন না। মন ও মস্তিষ্কের একটা দ্বন্দের মাঝে আপনি পড়ে যাবেন। কখনো আপনি হয়ে উঠবেন আবেগী, আবার কখনো বাস্তবতার নীরিখে আপনি মুখ বুজে পড়ে থাকবেন। কিন্ত বয়ে বেড়াবেন অবর্ননীয় কষ্ট। আমাদের সমাজে আমরা যা খুশি তাই করতে পারিনা। এমন কি অনেক সময় সমাজ সাপোর্ট দিলেও আপনি করতে পারবেন না বিবেকের কাছে বাধা থাকবেন বলে। এখন আপনি যদি আবেগের বশে একটা ভুল ডিসিশান নিয়ে নেন,
তাহলে আপনাকে কি আদৌ খারাপ মানুষ বলা যাবে ? আবার আপনি যদি ঠিক কাজটি করতে গিয়ে সব হারান, তাহলে কি সমাজ কিংবা ভালো মানুষ তকমা আপনার কোন উপকারে আসবে ?

অন্যের সাথে তুলনায় যদি যেতেই চান, তাহলে এই মানুষগুলোর সাথে তুলনা করুন। তার গাড়ি আছে, আমার নেই কেন, কিংবা ওর গার্লফ্রেন্ড অনেক সুন্দর, আমার দিকে কোন মেয়েই তাকায় না-
এ ধরনের কম্পারিজনে গিয়ে আদতে কোন লাভ নেই। মনে রাখবেন, আপনার চেয়ে সুখে আছে, এমন মানুষের সঙ্খ্যা পৃথিবীতে যত, তার চেয়ে হাজার গুনে বেশি আছে, আপনার চেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা মানুষের সঙ্খ্যা।

লেখাটা লেখার সময় আমার নিজের কাছেই মনে হলো, আমি আসলে অনেক সুখী একজন মানুষ। আমার হয়তো অনেক কিছু নেই, তবে এ ধনের সমস্যাও নেই। আমি নিজে খুব একটা আস্তিক না হলেও, এইটুকু বুঝতে পেরেছি, কোন সময়টাতে ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোন উপায় মানুষের হাতে থাকেনা।


জগতের সবচাইতে ক্ষমতাশালী জীব হলেও, জীবনে কাছে আমরা বড়ই অসহায় - এটাই বোধহয় সবচাইতে বড় আয়রনি।

আসুন একবার অন্তত নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে সব দুঃখ গুলো ভুলে যাবার চেষ্টা করি। আমরা হয়তো খারাপ আছি,
তবে অসহায় তো নয়। আমাদের চেয়ে খারাপ ও যে কেউ কেউ থাকতে পারে, তা তো দেখলেনই। তাই জীবনে অপ্রাপ্তির হিসেব না করে, বরং প্রাপ্তিগুলোকে এচিভমেন্ট হিসেবে দেখা উচিৎ। বৃদ্ধ বয়সে মরার আগে হয়তো আপনার কাঁদা লাগবে না। বরং আজকের কোন একটা সুখস্মৃতি মনে করে, তখন আপনার মুখে ঝুলে থাকবে এক টুকরো হাসি।

তাহলে এখন একটা কাজ করুন। জোরে জোরে কয়েক টা নিশ্বাস নিন। অক্সিজেনের উপস্থিতি অনুভব করুন। বেঁচে থাকার আনন্দ আস্বাদন করুন। এবার মুচকি একটা হাসি দিন, এবং আমার সাথে রিপিট করুন-

লাইফ ইজ বিউটিফুল, রিয়েলি বিউটিফুল।


-----------------------------------------------------------

( আমার এক বন্ধুর অসম্ভব মন খারাপ। তার নাকি বেচে থাকতে আর ইচ্ছা করছে না। আমাকে অনেক করে অনুরোধ করলো, কিছু একটা যেন করি।আমি নাদান মানুষ, কিইবা করতে পারি। তবে লেখক হিসেবে ছোট একটা লেখা তো তাকে ডেডিকেট করতেই পারি, তাই না ? আপনি যদি খুব খারাপ থাকেন, বা হতাশায় ভুগে থাকেন, লেখাটি আপনার জন্যেও।

জীবিত বা মৃত কোন চরিত্র বা ঘটনার সাথে এর লেখার কোন সম্পর্ক নেই, কোন কিছু মিলে গেলে তা নিতান্তই কাকতালীয় )


]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29884938 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29884938 2013-10-12 20:09:18
দ্বন্দ্বের মেরুকরণঃ ধর্ম ও বাঙ্গালীয়ানা জগৎ ও জীবনের স্বরুপ উৎঘাটনের প্রচেষ্টাই হলো দর্শন। এ প্রচেষ্টা সর্বকালে সর্বজাতিই করে আসছে বলে দর্শন কোন ব্যাক্তি, জাতি, দেশ বা যুগের একচেটিয়া সম্পদ নয়। অন্যান্য জাতির মত মুসলিম জাতির মধ্যে এরকম প্রচেষ্টা সর্বযুগে লক্ষ্যনীয়। তবে আমার মতে, মুসলিম দর্শন ও ইসলামিক দর্শনের মধ্যে ফারাক বুঝতে পারাটা জরুরী।

সাধারনত ইসলামিক দর্শন বলতে কুরআন ও হাদিসের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ন কতগুলো দার্শনিক চিন্তাধারাকে বুঝায়। অন্যদিকে মুসলিম দর্শন বলতে আমরা জগৎ ও জীবন বিষয়ক এমন একটি সর্বাঙ্গীন ধারনা বুঝি যা কুরআন হাদিসের সাথে সঙ্গতিপূর্ন অথচ মুসলিম জাতির ইতিহাসে বিভিন্ন পর্যায়ে যুগের আলোকে আলোচিত। এদিক দিয়ে বলতে গেলে ইসলামিক দর্শনের চেয়ে মুসলিম দর্শনের পরিসর অনেক ব্যাপক।

আমাদের বাংলাদেশের পার্সপেক্টিভেও এই দ্বান্দিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার ভিউস, নর্মস, রিচুয়াল, আচাঐতিহ্য আমরা পালন করে আসছি বর্ন ধর্ম নির্বিশেষে। বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের পুর্বপুরুষগণ ছিলো বৌদ্ধ ও সনাতনি ধর্মের অনুসারি। বর্তমানে মুসলিম অধ্যুষিত হবার পরো আমরা এই সংস্কৃতির বাহিরে যেতে পারিনি। এটাই আমাদের শিকড়। আমাদের পাঞ্জাবী, ধুতি, পহেলা বৈশাখের ধরন, গায়ে হলুদ, ভাষ্কর্য কিংবা মোমবাতি প্রজ্জলন সবকিছুই এর অন্তর্গত। সমস্যা হচ্ছে সকল ধর্ম নির্বিশেষে আচার অনুষ্ঠান পালনের এই বাঙ্গালী রীতি ইসলামিক দর্শন ও ঐতিহ্যের সাথে সাঙ্ঘর্ষিক যা জাতিগত ভাবে আমাদের দোটানায় ফেলে দেয়। এ কারনেই পহেলা বৈশাখে নাচ গান করা নিয়ে সৃষ্টি হয় নানা ইস্যু। এমন কি অপরাজেয় বাংলা, রাজু ভাষকর্য কিংবা লালনের মূর্তি নিয়েও আমরা প্রশ্ন তুলতে দ্বিধা করিনা।

লালনের মূর্তি নিয়ে যেহেতু কথা উঠলো, বাউল এবং সুফিজম নিয়েও কিছু কথা বলা লাগে। মুসলিম দর্শনে আমাদের উপমহাদেশে সুফিজমের একটা বিরাট যায়গা রয়েছে।

বাংলাদেশে দশম শতাব্দীতেই সুফিজমের আবির্ভাব। ঐ সময় হতেই এ উপমাহাদেশে ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান ও আরব থেকে অনেক সুফিগন আমাদের দেশে এসেছিলেন। কালের আবর্তনে আদী সুফি দর্শনের সাথে এদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাবধারার সংমিশ্রন ঘটে। অন্যদিকে বৈষ্ণববাদ এবং সুফিবাদের মত বাউলবাদও বাংলাদেশের প্রেম দর্শনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রেখেছিলো। সমস্যা সৃষ্টি হয় যখন লাভ অফ গড রাদার দেন ফিয়ার অফ গড - এই কনসেপ্ট কে আমরা ইসলামিক দর্শনের দৃষ্টিতে বিচার করতে চাই। এ ব্যাপারে অন্যকোন দিন বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে।

যাই হোক, আমি আসলে কিছুটা চিন্তায় আছি। আমাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নেগেটিভ ব্যাপারগুলো এত প্রকট ছিলোনা আগেও। আমরা নিজেরাও ধর্মগত দিক থেকে এত সেনসেটিভ ছিলাম না। এখন পরিস্থিতি এমন দাড়িয়েছে, এক ধর্মকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় দাঙ্গা হাঙ্গামা, ভোটিং রাজনীতি, হেফাজত- শাহবাগ, মুক্তিযুদ্ধ সব কিছুর মাঝে একটা লাইন টেনে দেয়া হয়। অথচ ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, মুক্তবুদ্ধির চর্চাতে মুসলিম রা কিন্ত এই উপমহাদেশে বেশ অগ্রগামী ভুমিকা পালন করেছিলো।

সিপাহি বিদ্রোহের পরবর্তিকালে নবাব আব্দুল লতিফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন "মহামেডান লিটারারি সোসাইটি", মুসলিম জাতিগোষ্ঠির উন্নয়নে তার এজেন্ডা ছিলো- মুসলমান দের মধ্যে মুসলমান দের পাশ্চাত্য ভাবধারার সাথে পরিচয় করিয়ে সেখানে একটা একটা অবস্থান তৈরি করা। যদিও তার এই প্রচেষ্টা দরিদ্র মুসলমান সমাজে তেমন সুফল বয়ে আনেনি, তবে মুক্তবুদ্ধির ক্ষেত্রে এই অরগানাইজেশন ফার্স্ট মুভার হিসেবে একটা প্রাক্টিস তৈরি করে দিয়েছিলো। পরবর্তিতে নবাব আমীর আলী খান এর প্রতিষ্ঠায় "ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন" এই প্রিন্সিপাল ধরে এগিয়ে যায়। শিক্ষাখেত্রে মুসলমান দের অগ্রসরতা কিন্ত এই প্রাক্টিসের ই ফল।বাংলাদেশে মুসলিম সমাজে মুক্তবুদ্ধির আন্দোলনে সবচাইতে বেশি অবদান রাখে মুসলিম সাহিত্য সমাজ যা এমন কি বর্নবাদ হিন্দুদের ও অনেক টা প্রভাবিত করে।

আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, টা হলো যুগে যুগে মুসলমান রা অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধরে রেখে মুক্তবুদ্ধির যে চর্চা শুরু করেছিলো, টা একবিংশ শতাব্দীতে এসে কেমন যেন উলটো হয়ে গেছে। এখন আমরা পাশাত্যের হুজুগে ইউটিউব বন্ধ করে দিতেও দ্বিধা করিনা। কাজেই আমাদের ধর্ম সম্পর্কে সেন্টিমেন্ট কে লিমিটে রেখে বাঙ্গালীয়ানার চর্চা করলে হয়তো নিজেদের সমস্যার দিকে আরো বেশি করে নজর দেয়া যেতো।

আজকে আসলে কোন কিছুই আমি ডিটেইলিং করিনি। আমার উদ্দেশ্য ছিলো আউটলাইনে একটা ম্যাসেজ দেয়া, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন পুরন করতে গেলে আমাদের বাঙ্গালী ঐতিহ্য, মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামিক ঐতিহ্য তিন ধরনের দর্শন সম্পর্কেই ধারনা থাকা প্রয়োজন। এ ধারনা শুধুমাত্র কর্পোরেট বিজ্ঞাপনে সীমিত না রেখে ইতিহাস ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিৎ। পরবর্তি কোন পোস্টে হয়তো পয়েন্ট ধরে ধরে আলোচনায় যাওয়া যেতে পারে।

সবার আগে আমাদের মাঝে সহনশীলতা বাড়াতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে মনের মাঝে ধারন করে বাঙ্গালী ও মুসলিম দর্শোনের মাঝে একটা সেতুবন্ধন টানতে পারলেই কেবন মাত্র ধর্মভিত্তিক ইস্যুগুলোকে আমরা গৌন করে দেখতে পারবো। শিক্ষা বুদ্ধি ও যুক্তি হোক আমাদের সম্ভাবনা পাথেয়। তাতে করে আমরা হয়তো ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করা হতে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবো, আমাদের সংস্কৃতিকে বাচিয়ে রাখতে পারবো।

আমার বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলো সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29877621 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29877621 2013-09-19 20:55:51
স্মাইলিং বাংলাদেশঃ আসুন বিশ্বের কাছে তুলে ধরি প্রিয় বাংলাদেশকে পৃথিবী চিনবে নতুন এক বাংলাদেশকে !
"LET’S MAKE A POSITIVE IMAGE TOGETHER…"

ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ নিয়েই কিন্ত দেশের চেহারাটা পালটে দেয়া যায়। ইন্টারন্যাশনালি নিজেদের ভাবমুর্তিকে তুলে ধরার জন্য আমরা কিছু করার চেষ্টা করছি। আপনি আছেন তো আমাদের সাথে ?


কেন এই উদ্যেগ?


বাংলাদেশ লিখে গুগলে “ইমেজ” সার্চ দিলে , বিশাল স্ক্রীনে ভেসে উঠে বাংলাদেশের দুঃখ দুর্দশার ছবি। মারা মারি, বন্যা, লাশ, অনাহারী মুখ ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের দেশ বাংলাদেশ কি এতোটাই অসুন্দর? মোটেই না। অশান্তি, গোলযোগ সব দেশেই কম বেশি আছে, আমরা উন্নয়নশীল দেশ বিধায় উন্নত দেশগুলো আমাদেরকে হতদরিদ্র দেখতে এবং দেখাতে পছন্দ করে। তবে মানুষ আসলে আবেগ অনুভুতির চেয়েও বেশি দাম দেয় ডকুমেন্টস, ছবিকে। তাহলে আমরা গুগলের মত একটা টুলস কে কেন কাজে লাগাবো না ? যেখানে শুধুমাত্র এই একটা যায়গাকে কেন্দ্র করেই আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভুমির পজেটিভ ব্রান্ডিং করতে পারি।

তবে সেটা একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। ১৫ বছরে জমা হওয়া আবর্জনা সরাতে একটু সময় লাগতেই পারে। কিন্তু আমি/আমরা চাই পৃথিবীর মানুষ বাংলাদেশ লিখে সার্চ দিলে যেনো সুন্দর একটা বাংলাদেশ দেখতে পারে।


আমরা যেভাবে আগাবো


প্রাথমিকভাবে আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের সব সুন্দর ছবি গুলোকে একটা “প্লাটফর্ম” এর নিচে নিয়ে আসতে, এবং তারপর সেখান থেকে ছবি গুলোকে SEO (Search engine optimization) করে গুগলের ইমেজ সার্চ-এ প্রথম দিকে নিয়ে আসতে। এতে করে যে কেউ বাংলাদেশ লিখে সার্চ দিলে পজেটিভ বাংলাদেশের সব সুন্দর ছবিগুলোই যেন সবার আগে সামনে আসে।

বিশেষ করে ফটোগ্রাফার ও ওয়েবডিজাইনার ভাই বোনদের হেল্প আমাদের কাম্য। আপনাদের তোলা ছবি, এসইও আর আমাদের সাধারন মানুষজনের প্রচেষ্টা, আশা করি আমরা খুব ভালো কিছু একটা করে দেখাতে পারবো।



স্ট্রাটেজি এবং এক্টিভিটিঃ



১) স্মাইলিং বাংলাদেশ এ রেজিস্ট্রেশন করুন। এটা বানানো হয়েছে শুধু মাত্র এই প্রজেক্টের জন্যেই।

২) বাংলাদেশের সুন্দর সুন্দর ছবি আপলোড করুন। মনে রাখবেন “Description” যতো ছোট দেওয়া যায়, ততোই মঙ্গল। “Description” এর অবশ্যই চেষ্টা করবেন বাংলাদেশ শব্দ-টা যোগ করে দিতে। লেখার ভাষা অবশ্যই ইংলিশ রাখবেন, কারন আমরা সাইট বানাচ্ছি আন্তর্জাতিক ভিজিটর দের জন্যে। ছোট ২ লাইনের ইংলিশ আমরা সবাই কম বেশি লিখতে পারি, উদাহরন স্বরূপ , My beautiful village, Amtoli, Bangladesh.

৩) সাইটের গুনগত মান রক্ষা করার জন্যে যেইসকল ছবি মুছে ফেলা প্রয়োজন সেগুলো মুছে ফেলা হবে।



সাইট ব্যবহারের পদ্ধতিঃ



১) প্রথমেই ইউজার নেম এবং ইমেল এড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর “Board” বানাতে হবে। মনে করুন আমি আমার স্কুলের নামে ফটো এ্যালবাম খুলতে চাই, তাহলে আমি “Board”-এর নাম দিবো Motijheel Model School, তারপর Category সিলেক্ট করবো Education. মোদ্দা কথা হচ্ছে আপনার ছবির সাব্জেক্ট যেটা আপনি সেটার নামেই বোর্ড তৈরি করবেন, এবং যথাযথ ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে দিবেন। একটা বোর্ড এ আপনি যতো খুশি ছবি যোগ করতে পারবেন।

২) আপনি ছবি আপলোড করার সময় ২ ভাবে আপলোড করতে পারবেন, “Upload a post” –এ ক্লিক করবেন তারপর আপনার কম্পিউটার থেকে ছবি সিলেক্ট করতে পারেন, অথবা কোন ওয়েব সাইটের ছবি তে আপনার মাউস দিয়ে “Right Button” ক্লিক করে “Copy Image URL” অথবা “Copy Image Location” –এ ক্লিক করবেন, তারপর আপলোড বক্সে পেস্ট করে দিবেন।

৩) খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেনো কপিরাইট ভঙ্গ না করি, একটা ছবি আপলোড করার পর ছবির উপর “Edit” নামের একটা অপশন আছে, সেটাই ক্লিক করবেন, তারপর দেখবেন “Link” নামের একটি বক্স আছে, সেখানে ফটোগ্রাফার অথবা ছবিটির মালিকের ওয়েবসাইট এড্রেস দিয়ে দিবেন।


আপনাকেই বলছিঃ



●আপনি কি ফটোগ্রাফার?

তাহলে আপনি আমাদের সাইটে আপনার ছবি গুলো পাব্লিশ করুন। আপনি আপনার মনের মতো করে এ্যালবাম তৈরি করে সেখানে আপনার পূর্ণ স্বত্বাধিকার নিয়ে ছবি আপলোড করুন, হোক সেটা ওয়েডিং ফটোগ্রাফি অথবা নেচার ফটোগ্রাফি। গুগলের বুকে সুন্দর সুন্দর বাংলাদেশী ছবি ছড়িয়ে দিতে আপনাদের সাহায্য আমাদের খুব-ই দরকার।

● আপনি কি একজন ওয়েব মাষ্টার?

আপনার ওয়েব সাইট অথবা ব্লগ আছে? সেখানে দয়া করে একটা বাংলাদেশের উপর আর্টিকেল পেস্ট করে আমাদের সাইট থেকে অথবা অন্য কোথাও থেকে বাংলাদেশের কিছু ছবি দিয়ে দিন না। অবশ্যই “img alt” ট্যাগ ব্যবহার করবেন, উদাহরন-

আপনি যদি একজন ওয়েবমাস্টার অথবা ব্লগার হোন, দয়া করে আপনার ওয়েব সাইট এবং ব্লগ লিংক এখানে পোষ্ট করুন।

● আপনি কি SEO নিয়ে কাজ করেন? আমাদের এই প্রজেক্টের SEO টীম মেম্বার হতে চান? দয়া করে পোস্ট করে জানান।

● আপনার স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, গ্রাম, শহর, স্থাপনা, উৎসব অথবা যেকোন সুন্দর কিছু যেটা একটা সুন্দর বাংলাদেশে কে উপস্থাপন করে, সেটাই আমাদের এই ওয়েব সাইটে পোষ্ট করুন।

● বেশি বেশি করে http://smilingbangladesh.org/ আপনার ফেসবুক, গুগল প্লাস এবং টুইটার-এ শেয়ার করুন। আমাদের শেয়ার যতো বেশি হবে গুগলে আমাদের ওয়েব সাইট-কে ততোবেশি প্রাধান্য দিবে। আর আমাদের কাজ ততো বেশি সহজ হয়ে যাবে।

● পরিশেষে, আপনার সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি আমি আমার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান দিয়ে কাজ চালিয়ে যাবো এই সাইটের ছবি গুলো দিয়ে কিভাবে Search engine optimization এর মাধ্যেমে গুগলে বাংলাদেশের সুন্দর সুন্দর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

● আপনার পরিচিত সবার কাছে আমাদের এই প্রজেক্ট ছড়িয়ে দিন, তাদের কে এই গ্রুপে আমন্ত্রন জানান এবং অংশগ্রহন করতে অনুপ্রানিত করুন।

আমাদের ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে জয়েন করুন, এবং সবাইকে ইনভাইট করুন।

ফেসবুক পেজঃ স্মাইলিং বাংলাদেশ পেজ

ফেসবুক গ্রুপঃ স্মাইলিং বাংলাদেশ গ্রুপ


---------------------------------------------------------


এই পোস্ট টি দিপু জামান ভাইয়ার অনুরোধে ব্লগে পোস্ট করা । যে কোন তথ্যের জন্য আপনারা দিপু ভাইকে নক করতে পারেন। আর আমিতো সাথে আছিই। আমার ফেবু লিঙ্ক tanmoy ferdous.

ধন্যবাদ সবাইকে।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29850635 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29850635 2013-07-07 12:30:50
জীবন থেকে নেয়া (পর্ব ১) জটিলতার আবর্তে এই জীবনের পদাবলী
এই বৃত্তে শঙ্কার শেষ না হতেই আবার শুরু
সংশয়ের এই ক্ষেত্রেই বুঝি বুক কাঁপে দুরু দুরু


মানব জীবন বড়ই রহস্যময়। শত মানুষের ভিড়েও কেউ কেউ নিহিলিজমে আবদ্ধ।

আমরা সকলেই মনের মাঝে একাধিক সত্বা ধারন করি। তবে কখন কোন সত্বার দ্বারা আপনি চালিত হবেন, সেটা বুঝা বা নিয়ন্ত্রন করা বড়ই কষ্টাসাধ্য ব্যাপার। আপনি কমপ্লিট নিয়ন্ত্রনে থাকতে পারলে নিজেকে মহাপুরুষ ভেবে নিতে পারেন। কখনো কখনো এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায়, যার কোন ব্যাখ্যা আপাতদৃষ্টিতে আপনি খুঁজে পাবেন না। খুব শক্ত একজন মানুষ, জীবনে কখনো মাথা নোয়ায়নি, অথচ ছোট্ট কোন কারনে সে নিমিষেই ভেঙ্গে পড়তে পারে। আবার খুব নরম মনের একজন মানুষও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অপরাজেয় হয়ে উঠতে পারে। একজন সহয সরল মানুষের ভিতরে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ানক এক পশুসত্বা, আবার একজন খুনীর হৃদয়ের কোণেও লুকিয়ে থাকতে পারে অসম্ভব মায়া। এমন অদ্ভুত দ্বন্দের মেরুকরন আসলে আর কোন ব্যাপারে দেখা যায় না।

আমরা জাতিগত ভাবেই খুব অস্থির। এই অস্থিরতা লুকিয়ে থাকে আমাদের মনের গহীন কোন কোণে। এবং আমরা অস্থিরতার মাঝে থেকেই সারাজীবন স্থিরতা খুজে বেড়াই। অনেক সুখের মাঝে থেকেও, আমরা হয়ে উঠি দুঃখবিলাসী। আর যার জীবনটাই দুখের মাঝে, সে হয়তো প্রিয়জনের একটুখানি ছোঁয়াতেই হয়ে উঠতে পারে পৃথিবীর সবচাইতে সুখি একজন মানুষ। কাছের মানুষ যেমন নিমেষেই দূরে সরে যেতে পারে, আবার কখনো যে আমার হবার নয়, সেই হয়ে উঠতে পারে আমার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৈপরিত্যের একি আজব উদাহরন।

জটিল, বড়ই জটিল। আসলে হয়তো জটিল নয়, আমরাই জটিলভাবে দেখি। মনুষ্য জাতির বেলায় জাজমেন্টাল হবেন না, কখনই না। আপনি নিজেও হয়তো জানেন না, আপনার দ্বারা সব কিছুই সম্ভব। ট্রাস্ট মি, সবকিছু ...


]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29848123 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29848123 2013-06-30 22:35:52
অণুগল্পঃ সিঁড়ি

নীতু একটা প্যাচানো সিঁড়ির ঠিক মাঝখানটায় দাঁড়িয়ে আছে।

অনেকটা সময় ধরেই নীতুর মনে হয় সে সিঁড়ি বেয়ে উঠছে নামছে। কিছুখন উঠা নামার পর মনে হচ্ছে এই যায়গাটায় সে আগেও এসে দাঁড়িয়েছিলো। সেবার কি সে উঠে গিয়েছিলো নাকি নেমে গিয়েছিলো, নীতু ঠিক মনে করতে পারেনা। নিজের জীবনের সাথে কি অদ্ভুত এক মিল এই প্যাচানো সিঁড়িটার। সারাটা জীবন সিঁড়ি বেয়েও কোথাও পৌছুনো গেলো না। ছোটবেলায়, যখন তার মা টা মরে গেলো, নিজেকে এক অন্ধকার ঘরে আবিষ্কার করে সে। খোলা দরজা দিয়ে এক চিলতে আলো আসছিলো। ছোট্ট নীতু দরজা দিয়ে বেরিয়ে দেখতে পায় একটা প্যাচানো সিঁড়ি।সেবারি প্রথম। উপরে উঠার বদলে নীতু নেমে যায় নিচের দিকে। সিঁড়ি ভাংগতে ভাংগতে নীতু যখন আরেকটা দরজা খোলা পায়, তার বয়স তখন আট। একটু আলোর আশায় সে ঢুকে পড়ে দরজা দিয়ে। বাবাকে ওভাবে এক মহিলার সাথে দেখে সহ্য করতে পারেনি । বাবা তাকে দেখেনি, কিন্ত মহিলাটা দেখেছিলো। কি ভয়ানক দৃষ্টি ছিলো, চিৎকার করে উঠতে গিয়েও পারেনি, কে যেন তাকে থামিয়ে দেয়। নীতু বেরিয়ে আসে দরজা দিয়ে। আবার সেই সিঁড়ি, তার পুরনো ঠিকানা।

ইন্টারে পড়া অবস্থায় নীতুর সিঁড়ি বেয়ে চলে অন্য এক ঘরে। কি আলো ! এইবার মনে হয় আর ফিরে যেতে হবেনা সেই স্যাতস্যাতে গন্ধওয়ালা অন্ধকার সিঁড়িতে।
একি, কোথায় এলাম ! আমি কোথায় ? কেউ জবাব দেয় না। আলো আধারির ঘোরে নীতু অনেকগুলো অয়োবয় দেখতে পায়। রঙ বেরঙ্গের লাইট আর ধোয়ার চোটে নীতু ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা, কে পুরুষ, আর কে রমনী। সবাই মিলে তাকে চেপে ধরতে চায়। তারপর কি হয়েছিলো নীতুর ঠিক মনে নেই, তবে নিজেকে সে ফিরে পায় সেই সিঁড়িঘরে। আবছা অন্ধকারে মায়ের একটা ছায়া যেন সে দেখতে পায়। এই সিঁড়ি যেন তাকে টেনে ধরে রাখছে। মায়া সভ্যতার শিলালিপি তার কানে বেজে উঠে, সহস্র শৃঙ্খলে আবদ্ধ হইয়া তুমি মুক্তির স্বাদ পাইবে, ইহাই তোমার নিয়তি।

নিয়তির মাঝে আটকে গেছে নীতু। ভার্সিটিতে পড়া অবস্থায় ফিলোসফির টিচার যখন তার দিকে হাত বাড়িয়েছিলো, তখন নীতুর বড় ঘেন্না হয়েছিলো নিজের উপর। আত্মহত্যা করতে পারেনি। নিয়তি তাকে আবার নিয়ে গিয়েছিলো সেই প্যাচানো সিঁড়িতে।

নিতু মাঝে মাঝেই ঘুরে বেড়ায় সিঁড়িতে সিঁড়িতে। কখনো উঠে, কখনো নামে। কখনো হারিয়ে যায়। খুজে বেড়ায় কোন ঘরের আলো জলছে কিনা, দরজা খোলা আছে কিনা। অভ্যস্ততার কাছে হার মেনে নেয় প্রত্যাশা। রাফির কথা মনে পড়ে যায় নীতুর। এই একটা মানুষই তার হাত ধরে সিঁড়ি ঘর পর্যন্ত আসতে পেরেছিলো। সারাজীবনে সিঁড়ির মাঝে সেই সময়টুকুই ছিলো তার শ্রেষ্ঠ সময়। নিতু জানেনা, কেমন করে সে হারিয়ে গিয়েছিলো বাধভাঙ্গা আবেগে। এইবার নিশ্চই সময় হয়েছে। তার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছে আলোকিত এক পৃথিবী। ছড়িয়ে দেয়া চুলে কাঁটা পরতে পরতে নিতু বেরিয়ে আসে সিঁড়ি থেকে। পিছনে থেকে হাহাকার গুলো মিলিয়ে যায় ধীরে ধীরে...হয়তো মিলিয়ে যায় না, তবে নীতু শুনতে পায় না কোন কারনে।

----------------------------------------------

নীতু বসে আছে একটা প্যাচালো সিঁড়িতে। দ্যজাভু একটা অনুভুতি হচ্ছে নীতুর মনে। এইখানে আগেও সে এসেছিলো। প্রতিবার এই যায়গা ছেড়ে যাবার পর আবার সে এইখানেই ফিরে আসে। বৃত্তবন্দী সেই সিঁড়িঘর। রাফির কন্ঠ প্রতিদ্ধনি তৈরি করে যায় তার কানের কাছে- "আমি পুরুষ বলছি, আমাকে বিশ্বাস করো না..."
ঐতো দূরে দাঁড়িয়ে আছে তার মায়ের প্রতিচ্ছবি। ছোট একটা বাচ্চার প্রতিচ্ছবিও ভেসে উঠে নীতুর সামনে। সদ্যজাত এক শিশু। তবে মায়ের মত এত স্পষ্ট না।
নিতু বুঝতে পারে, শিশুটি এখনো আলোর মায়া ছেড়ে অন্ধকারে আসতে পারেনি....কষ্ট করে উঠে দাঁড়ায় নীতু। মনের ভিতর থেকে ডুকরে উঠা সত্তাকে চোখ বন্ধ করে সে জানিয়ে দেয়, সে আসছে...সিঁড়ি বেয়ে নতুন এক উদ্দ্যেশে পা বাড়ায় । তাকে যে করেই হোক, খুজে বের করতেই হবে, তার নবজাতক অস্তিত্বকে।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29843125 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29843125 2013-06-17 20:48:03
দূরদর্শনে অদূরদর্শীতা...

একটা মজার ব্যাপার দিয়ে শুরু করি।

সাভার ট্রাজেডি নিয়ে টক শো দেখছিলাম একাত্তর টিভিতে।
অমিতাভ রেজা বললেন- আমার খুবি খারাপ লাগে, যখন দেখি গুরুত্বপুর্ন নিউজের মাঝে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। কি হয় সাভারের মত একটা বিষয়ে নিউজের মাঝে বিজ্ঞাপন না দিলে ?

উত্তরে উপস্থাপিকা জানালেন- আপনাদের সাথে সম্পুর্ন একমত। আমরা আপনার সাথে এই আলোচনায় আবার ফিরে আসবো ছোট্ট একটি বিজ্ঞাপন বিরতির পর.... <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

দেখছিলাম একাত্তরের মঞ্চ।
আজকের অতিথিরা সবাই আমার ফিল্ডের সাথে রিলেটেড বলে খুব মনযোগ দিয়ে দেখছিলাম। আমন্ত্রিত অতিথিরা হচ্ছেন, অমিতাভ রেজা (বিজ্ঞাপন নির্মাতা), এনামুল করিম নির্ঝর (চলচ্চত্র নির্মাতা), গাওসুল আলম শাওন (সিইও- গ্রে এডভার্টাইজিং), ইশতিয়াক রেজা (পরিচালক বার্তা, চ্যানেল ৭১) এবং ভিডিও কনফারেন্সে ছিলেন সানাউল্লাহ লাভলু।
আজকের বিষয় ছিলো সাভার ট্রাজেডিতে মিডিয়ার ভুমিকা।

প্রথমেই লাভলু সাহেব বললেন, পৃথিবীর কোন দেশে এই ধরনের ডিজাস্টারের সময় এত কাছ থেকে মিডিয়া কাভারেজ দেয় না। এতে মিডিয়াকর্মীদের ঝুকি যেমন আছে, তেমনি মিডিয়া এথিক্সের কিছু ব্যাপার ও আছে। মিডিয়াগুলোর উচিত ছিলো অনেক দূর থেকে লং শটে পুরো ব্যাপারটা কাভার করা। তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং বোস্টন বোমা হামলার উদাহরন ও দেন। তাছাড়া তিনি আরো বললেন, সাধারন মানুষদের ও উদ্ধার কার্যে অংশ নিয়ার ঝুকি নিতে যাওয়া উচিত হয়নি। মিডীয়া গুলো নিউজ কাভারেজের সময়ে এক ধরনের কম্পিটিশন এর মনোভাব ও কাজ করছিলো সব মিডিয়ার মাঝে। (সাধারন মানুষ এগিয়ে না আসলে এত মানুষ উদ্ধার পেতো কিনা, সে ব্যাপারে তিনি অবশ্য কিছু বলেন নি।)

ইশতিয়াক রেজা সাহেব উত্তরে ওয়ার্ল্ড মিডিয়া পলিসির থেকে কোট করলেন, যে কোন দুর্যোগের সময়ে সকল সাংবাদিকদের কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার কথা বলা আছে। তিনি লাভ্লু সাহেবের কথার উত্তরে জানালেন, প্রথম যখন ঘটনা ঘটে, তখন আসলে মিডিয়া যতটা পারে কাছ থেকেই কাভার করে, এটা মিডীয়ার ই দায়িত্ব। ( তবে উদ্ধারের মাঝখানে কাওকে তার অনুভুতি জিজ্ঞেস করাটা উচিত নয়। দিলো নি মুন্নি সাহাকে একটা খোচা, তবে এড়িয়ে গেলেন একাত্তরের নেয়া ইন্টারভিউগুলো)

অমিতাভ রেজা বলেন, একজন দর্শক হিসেবে মানুষ আসলে বিভৎসতার খবর জানতে চায়, বিভৎসতা দেখতে চায় না। কাজেই শুধু খবর জানানোই যথেষ্ট ছিলো। তবে এই মার্মান্তিক ঘটনা দেখানোর ফলে মানুষের যে হার্ট টাচ করেছে এবং সহায়তা করার জন্য একটা স্পিরিট তৈরি হয়েছে, সেইটা তিনি অস্বীকার করেন নি। তবে ভায়োলেন্স যেন না দেখানো হয়, তা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বললেন তিনি।

রেজা সাহেব জবাবে বললেন, প্রাথমিকভাবে ভায়োলন্স না দেখালে কি এই সাড়া টা মিলতো ?

গাওসুল আলম শাওন এটাকে ডিফেন্ড করেছেন ভিজুয়াল ল্যাঙ্গোয়েজের উদাহরন দিয়ে। দর্শক কি দেখতে চায় এবং কি দেখালে তারা মটিভেটেড হবে, এই ব্যাপারে তিনি জোর দিতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু খবর জানানো যথেষ্ট না, সেই সাথে দর্শকদের কমিউনিকেট করার ও একটা ব্যাপার থাকে।


এনামুল করিম নির্ঝর অবশ্য কিছুটা স্ট্রেইট কথা বলেছেন। তিনি বললেন, ইনফরমেশন এবং সেনসেশন এক জিনিস নয়। কাজেই দর্শকদের কতটুকু ইনফো শেয়ার করা যাবে এবং কতটুকু সেনশেসন দেয়া যাবে, সেইটা আগে থেকেই নির্ধারন করতে হবে।


মাঝখানে দুজন দর্শক ও ফোন দিয়েছিলেন। একঝন জানালেন, এখন টেলিভিশনের পুরো টিয়ারপি নিউজে, প্রগ্রামে টিআরপি নেই বললেই চলে। কাজেই টেলিভিশন সারাক্ষন বাপারটা কাভার করছে। টেলিভশন ও যেহেতু বিজনেস, দর্শক যা দেখাবে, তাই তো দেখানো হবে। এটাই স্বাভাবিক।
অন্য দর্শক জানালেন, টেলিভিশন মিডীয়াকে অবশ্যই এডিটোরিয়াল জাজমেন্টের ভিতর দিয়ে যেতে হবে।


আমার অপিনিয়ন হচ্ছে, মিডিয়া তার ল এবং এথিক্স মেনে একটা ডিজাস্টার কাভার করবে, ভিউয়ারস দের মধ্যে পজেটিভ একটা ম্যাসেজ থ্রো করার চেষ্টা করবে। সেই সাথে তাদের কিছু ম্যাচিউরিটিও দেখাতে হবে। শুধু মাত্র নিউজ না দেখিয়ে তারা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট করতে পারে। এই বিল্ডিং এর মেকিং থেকে ইন্সপেকশনের সাথে কারা কারা জড়িত তা খুজে বের করতে পারে। এইখানে মিডিয়ার ভুমিকা বড়ই স্পষ্ট। শুধুমাত্র আগে খবর পরিবেশনের জন্য নিশ্চিত না হয়েই ইনফরমেশন দেয়া বা মুন্নি সাহা টাইপের অবান্তর প্রশ্ন করা মোটেই যুক্তিযুক্ত না। তবে এ কয়দিনে মিডিয়ার একটা পজেটিভ ভুমিকাই আমরা দেখতে পেয়েছি। আরো পজেটিভ হতে পারতো, যদি এই দুর্দিনে মিডিয়া সকল মানুষ কে মূল ঘটনার সাথে আরো রিলেট করার লক্ষ্যে আগে পরের সকল ঘটনার উপর একটা পার্ফেক্ট ডকুমেন্টেশন করতে পারতো।

তবে একটা ব্যাপার, অনলাইন মিডিয়ার বিরাট ভুমিকাটার কথা কিন্ত মেইনস্ট্রিম মিডিয়া খুব একটা উচ্চারন করছে না।

তা আপনাদের মতামত কি সাভার ট্রাজেডিতে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার ভুমিকা নিয়ে ?
]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29826922 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29826922 2013-05-02 22:07:13
ব্লগিং, ব্লগার ও ধর্ম , শুধুই রাজনীতির খেলা ?


এই লেখাটার শিরোনাম, ব্লগিং, ব্লগার ও ধর্ম , শুধুই রাজনীতির খেলা ? এখন এখান থেকে ধর্ম শব্দটাকে উঠিয়ে দিলে, ইকুয়েশন গুলো বোঝা অনেক সহয হয়ে যাবে। কিন্ত দুখজনকভাবে আমি সরাতে পারছি না প্রেজেন্ট ইস্যুগুলোর কারনে।

দুটো ব্যাপারে কথা বলবো। তার আগে বলে নেই, যে ব্লগারদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা যদি আস্তিক, গে, হিজড়া বা ট্যালেন্টলেস ব্লগার ও হতো, আমি প্রতিবাদ করতাম। এখানে যাদের গ্রফতার করা হয়েছে, তাদের কে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি কিনা তারচেয়েও বড় বিবেচনার বিষয় হলো, তারা আমাদের কমিউনিটির মানুষ ছিলো। তারা ব্লগার কমিউনিটির একটা অংশ।

প্রথমঃ ব্লগ, ব্লগার , ধর্ম ও রাজনীতি

আমি একজন ব্লগার। ব্লগিং করছি বছর চারেক। এক্টিভিজমে আছি বছর দুয়েক। ব্লগ জীবনে এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে আর পড়তে হয়নি। আমি নাস্তিক না আস্তিক, আমার লেখা দেখে কেউ সেই বিচারে যায়নি। এটাই আসলে হয়া উচিত। বাইরের দেশে এমন কি সিভিতেও তার রিলিজিয়াস ভিউ নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকেনা। কারন ইউ শুডেন্ট জাজ এনিওয়ান বাই হিজ/হার জেন্ডার, কালার, রেস , অর রিলিজিয়াস ভিউস। একজন লেখক কে জাজ করবেন তার লেখা দিয়ে। একজন খেলোয়াড়কে জাজ করবেন খেলা দিয়ে। সে কি আস্তিক নাকি নাস্তিক তা দিয়ে নয়। ধর্ম বিদ্বেষী নাস্তিক দের নিয়ে কথা বলছিনা। তাদের কথা আলাদা। কিন্তু আমরা যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করি, নিজীদের প্রগতিশীল বা মুক্তমনা হবার চেষ্টা করি, আমাদের মুল ফোকাস টা থাকে হিউমানিটিজ এবং অসাম্প্রদায়িকতার দিকে। আমি শিওর, এই দীর্ঘ ব্লগ জীবনে কেউ আমাকে ধর্ম নিয়ে কোন উলটা পালটা কথা বলতে দেখেনি। কোন গালিগালাজ করতে দেখেনি। তাহলে আমাকে কোন ধরনের ব্লগারের পর্যায় ফেলা যায় ? ব্লগার মাত্রই নাস্তিক নয়, এটা প্রমিনেন্ট। প্রতি ১০০ জনে দুই বা তিনজন থাকতে পারে যারা নাস্তিক। তাদের জন্যে পুরা ব্লগস্ফিয়ারকে স্টেরিওটাইপ করে ফেলা কি ঠিক হচ্ছে ? আস্তিক ব্লগার রা এই ব্যাপারে কোন কথা তুলছেন না কেন ? আপ্নারা যারা শাহবাগ আদন্দোলনে ছিলেন, তারা কি টাইম অনুযায়ি নামাজে জান নি ? তারা সেই কথা গুলা প্রচার করছেন না কেন ? কিসের ভয় আপনাদের ? স্টেরিওটাইপ করার মাঝে তো আপনি আস্তিক বলে আপ্নাকেও ছেড়ে দেয়া হয়নি । একজন আস্তিক হয়ে এর প্রতিবাদ কেন করছেন না আপ্নারা ?

তাহলে কি ট্যাগিং এর ভয় পাচ্ছেন ? আপনারা ধার্মিক বলে আপনাদের ছাগু ট্যাগ দেয়া হবে ? এ কারনেই ট্যাগিং সংস্কৃতির বিপক্ষে এতদিন ধরে লিখে আসছি। কথায় কথায় যারা ছাগু আর নাস্তিক ট্যাগ দেন, তাদের বলছি। আপনারা টুপি দাড়ি পরিহিতদের বানিয়ে ফেলেছেন ছাগু,আর মুক্তমনাদের বানিয়ে ফেলছেন ধর্ম্ববিদ্বেষী। কিন্ত এই ফ্রাগ্মেন্টেশনের ফলে লাভ টা হচ্ছে কার ? এক থাবা বাবাকে মেরে পুরা আন্দোলন ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এক আসিফ মহিউদ্দিনের জন্য সকল ব্লগারদের নাস্তিক বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবার আন্দোলনের প্রাইম টাইমে ধর্ম কে ব্যাবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছে রাজনীতিবিদ রা, ডাইভার্শন ক্রিয়েট করছে।। এই অবস্থায় আমরা যদি আস্তিকতা নাস্তিকতার লুপহোলের বাইরে বেরিয়ে না এসে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কাজ করছি, পুরা ফায়দাটা চলে যাবে ঐক্যবদ্ধ জামাতিদের হাতে। দেখুন, আমরা আওয়ামি, বিএনপি, ভাদা, পাদা, বাম, কর্পোরেট, আস্তিক নাস্তিক কত ভাগাভাগি করে ফেলছি। অথচ জাশি কিন্ত ঠিকি এক আছে, তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলছে।

আস্তিক নাস্তিক রা কি এখনো নিজেদের ভিতরেই লেগে থাকবেন ? আস্তিক ভাইয়েরা কি নিজের নাক কেটে হলেও নাস্তিকদের যাত্রা বন্ধ করবেন? আদতে সরকারের খড়গ যে আস্তিক নাস্তিক সবার উপরেই নেমে আসছে, সেইটা কি এখনো স্পষ্ট নয় আপনাদের কাছে ? যারা নাস্তিক ব্লগারদের ধরার খুশিতে আনন্দে আছেন, তারা আর কিছুদিন অপেক্ষা করুম দেখবেন, আপনাকে নিয়েও ঠিক একই রকম একশনে যাবে সরকার। মানে আপনার কন্ঠরোধ করার প্রকৃয়া শুরু হয়ে গেছে, এবং এখনি বন্ধ না করলে তা চলতে থাকবে। খেয়করে দেখু, প্রথমে ছিলো আসিফ মহিউদ্দীন, তারপর ছজন ব্লগার, তারপর চুরাশি জনের লিস্ট, এবং অতঃপর ব্লগ বন্ধ করে দেয়া হলো। এ থেকে কি প্রমানিত হয় ?

আসিফ, রাসেল, শুভ, আস্তিক, নাস্তিক এর বাইরে গিয়ে চিন্তা করুন একটু। সব পরিষ্ক্রার হয়ে যাবে। আপনাদের কি আসলেই মনে হয় সরকার আস্তিক নাস্তিক নিয়ে চিন্তিত ? তাদের কি আর কাজ নাই ব্লগে কে কি পোস্ট করসে তা দেখা ছাড়া ? ব্যান যদি করতেই হয় তাহলে নিতীমালা অনুযায়ি করুন। রিপোর্ট করুন, নাস্তিক ব্লগারদের লেখা পড়বেন না, বয় কট করুন ওদের। কিন্ত সরকারি ভাবে হয়রানি করে নিজেদের রাইট তুলে দিচ্ছেন সরকারের হাতে, যে রাইটে আপনি নিজের অজান্তেই বন্দী হয়ে যাচ্ছেন।

দয়া করে সব ব্লগ প্ল্যাটফর্ম ফুলো একসাথে বসুন, কথা বলুন, লিগাল প্রসিডিওর ফলো করুন। দরকার হলে আইনে লড়াইয়ে নামুন। আমরা ব্লগা রা তো পাশে আছিই। দয়া করে ব্লগ প্লাটফর্ম গুলাতে নিজেদের বিভক্তি টেনে এনে শত্রুপক্ষ ও সরকার কে নিজেদের উইকনেস দেখাবেন না।

যা করা যেতে পারেঃ আমু, সামু, সচল, নাগরিক, ইষ্টিশন সব ব্লগ নিজেদের ব্যাক্তিগত এজেন্ডাকে সরিয়ে রেখে একটা ব্লগার্স কমিউনিটি বা অর্গানাইজেশন করতে পারে। সেখানে সব ব্লগ রিপ্রেজেন্টেটর থাকুক এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে ব্লগারদের দায়িত্ব দেয়া হোক। সবার আগে প্রয়োজন আমাদের নিজেদের এক থাকা। একটা কনভেনকরে ডিক্লিয়ার করা যেতে পারে। প্রতিদিন এই সংগঠন থেকে প্রেস রিলিজ এর মাহ্যমে সাধারন জনগন ও মিডিয়ার সাথে কমিউকরা যেতে পারে। কারন আমি দকেহেছি দেশের অনেক মানুষ এখনো ব্লগিং ব্যাপার টা নিয়ে ক্লিয়ার নয়, ব্লগারদের স্ট্যান্ড নিয়ে ক্লিয়ার নয়।আমরা সব ব্লগার যদি একটা প্লাটফর্ম এ দাড়াতে পারি, তাহলে সেটাই হবে সবচাইতে উত্তম বুদ্ধি। (এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত)

দ্বিতীয় কথাঃ রাজনীতি ও আমার অধিকার

সিধাসাধা কিছু কথা বলি। আন্দোলন, ইলেকশন, ব্লগার ইস্যু সব কিছুর সরলীকরন করলে আমরা কিছু জিনিস বুঝতে পারি।

সহয চোখে যা দেখছি তা হলো, সরকার এখন ভীত। বিরোধি দল ছাড়াও যে তৃতীয় কোন শক্তি সরকার কে প্রেশারে ফেলার ক্ষমতা রাখে এই কথাটা সরকার টের পেয়ে গেছে। গণজাগরন মঞ্চও কিন্ত প্রথম দিন সরকারের বিপরীতেই মাঠে নেমেছিলো। পরে সরকার রাজনৈতিক খেলা খেলে এই আন্দোলন কে নিজেদের ফেভারে নিয়ে নেয়। দাবি আদায় হলে তাতে কবশ্য কোন সমস্যা দেখিনা। এই একই ফেভারটা প্রধান বিরোধি দল বিএনপিও যদি নিতো, আমাদের কোন অসুবিধা ছিলো না। আমাদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে তারা যদি জামাত শিবির কে ত্যাগ করতো, সাথে সাথে তারা হিরো হয়ে যেতো। কিন্ত তা তারা পারেনি, বলা ভালো করেনি। আমাদের তরুনদের শক্তিকে তারা খাটো করে দেখেছে। একই ভুল এখন সরকার আবার করতে যাচ্ছে। তারা স্ট্যান্ড নিয়েছে তরুন ব্লগারদের বিপক্ষে। আবার এখন গণজাগরন মঞ্চও তাদের কোন কাজে আসছে না। কাজেই তরুন ব্লগার এক্টিভিস্টদের ইউজ করা শেষ। এখন টিস্যুর মত ঝেড়ে ফেলে দিচ্ছে। ব্যাপারটা তাই নয় কি ? যে ইমরান কে সরকার পুতুলের মত নাচিয়েছে তার অবস্থাও আজ ভীষনভাবে নড়বড়ে। সরকার যে হিরো থেকে জিরো তে চলে এসেছে, তা নিয়ে আদৌ মাথাব্যাথা আছে কিনা তাদের, তা আমরা জানিনা। এবং ইহাই হচ্ছে বাংলাদেশের ভোটিং রাজনীতি। যে রাজনীতিতে বলি হতে হচ্ছে সাধারন ব্লগারদের।

আমার মনে হয় সরকার এখন নানা দিক থেকে প্রেশারে আছে। ৬ তারিখ আবার হেফাজতে ইসলামের লং মার্চ। যেখানে আশা করেছিলাম সরকার জনগণের সাথে থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে থাকবে, সেখানে তারা চেষ্টা করছে সব পক্ষকে খুশি রাখার। কিন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নেগোশিয়েশনের যায়গা নয়। নাস্তিকতার ধোয়া তুলে সব নৌকায় পা দিয়ে সরকার যতই ত্যানা প্যাচাক, তাতে লাভ হবেনা। সরকারের মুখোশ এখন খুলে পড়েছে। সবাইকে খুশি রাখা আর সঠিক কাজ টি করা, এক ব্যাপার না। সরকারের জন্য এখন এটাই সবচাইতে কঠিন পরীক্ষা, তারা কি সঠিক কাজটি করবে, নাকি সবাইকে খুশি রাখার জন্য নীতিকে জলাঞ্জলী দিবে।

আমার ভোট কে ইন্সাল্ট করার অদিকার সরকারের নাই। সরকার কে আমার ভোট পেতে হলে, সততা আর নিষ্ঠার সাথেই পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা ভোটের আশা ত্যাগ করতে পারেন। এইটা আমি থ্রেট দিলাম, এবং মনে রাখবেন, এই থ্রেট আমার একার না। হাজার হাজার তরুনের। আমাদের ভোট কে অপমান করার সুযোগ আমরা আর দিবো না।



জয় বাংলা।

(দয়া করে কেউ আস্তিকতা নাস্তিকতা নিয়ে হুদাই ত্যানা প্যাচাবেন না, প্রাসঙ্গিক থাকুন বিষয়ে)]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29809614 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29809614 2013-04-02 23:53:33
শাহবাগ পরিক্রমা...


ইশ্বর আর শয়তানের মাঝে সত্য মিথ্যার জয় নিয়ে গেম খেলা চলতেসে। খেলার নাম "শাহবাগ আন্দোলন"।

ইশ্বর- শুন ব্যাটা ইবলিস, তুই তো আমার সাথে জীবনেও পারবিনা। আমার টিমের প্লেয়ার সব সলিড। ছাত্র জনতা আছে, জোট, মৈত্রি, ইউনিয়ন, তীরন্দাজ, সাইবার যুদ্ধ, প্রজন্ম চত্বর সবি আছে। আর আছে শহীদ রুমী স্কোয়াডের মত সাহসী ছেলেরা। সত্যের জয় হবেই।

ইবলিশ- আর আমার আছে অমি রহমান পিয়াল, আরিফ জেবোতিক আর আইজু। কাজেই...

অতঃপর গেম শেষে আবারো মিথ্যার জয় হলো।


---------------------------------------------------------------------


খবরঃ

জামাতকে নিষিদ্ধ করার দাবীতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আমরন অনশন শুরু করেছে শহীদ রুমী স্কোয়াড ।

প্রতিক্রিয়াঃ



অমি রহমান পিয়ালঃ
বঙ্গবন্ধুর খুনি বজলুল হুদার পোলার ডাকা অনশনে আমার সমর্থন নাই, সাইন বোর্ডে রুমি ভাইর নাম থাকলেও...

ডাক্তার আইজুদ্দীনঃ শাহবাগ ইস্যুতে আমি সাইড লাইনে থাকলেও এবং ইমরানের সবচেয়ে বড় সমালোচক হলেও আমি এই বিভক্তির সময়ে ইমরানের পাশে দাড়াইলাম-আমার পুর্ন সমর্থন শাহবাগের পিছনে এবং ইমরানের পিছনে এ মুহুর্তে! খুনির পোলা কিংবা পচে যাওয়া বাম ডাস নট রিপ্রেসেনট দ্যা পিপল এনড সারটেনলি ডাস নট রিপ্রেজেনট মি এনড শুড নট রিপ্রেজেনট ইউ!

আরিফ জেবতিকঃ আমি চাই গণজাগরণ মঞ্চ থেকে অনেক বড় আকারে আমরণ অনশনের ডাক দেয়া হোক। আমরা শত মানুষ আমাদের প্রাণ তুচ্ছ করে সেই অনশনে যোগ দেব। এর আগে ছোট আকারে কর্মসূচি দেয়ার বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখতে অনুরোধ জানাই অনেককেই।
আমি সকলের আবেগকে সম্মান করে একজন তুচ্ছ সাধারণ মানুষ হিসেবে শহীদ রুমি স্কোয়াডের সদস্যদেরকে গতরাত থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশন প্রত্যাহারের বিনীত অনুরোধ জানাই।


(প্রিয় পাঠক, গেম আসলে শেষ হয়নি, ফলাফল আপনাদের হাতে...)
]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29806036 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29806036 2013-03-28 01:26:46
প্রসংগ সামহোয়্যার ইন , ব্লগিং এবং ট্যাগিং...
বাংলা ভাষায় কমিউনিটি ব্লগের পথিকৃত এবং সর্ববৃহৎ বাংলা কমিউনিটি ব্লগ হিসাবে সামহোয়্যার ইন ব্লগের ইতিহাসে বেশ জোরালো ভাবেই নানান ঘাত-প্রতিঘাত দেখা গেছে। মুক্ত মত এবং বাকস্বাধীনতার অধিকার এবং চর্চার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা সামাজিক মাধ্যমের ধরণা যেমন সামুর হাত ধরে বিকাশ ঘটে তেমনি এর কিছু সীমাবদ্ধতার সংকটও ব্লগার এবং কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নানাভাবে মতদ্বৈততা ও আশা-নিরাশার বিষয়টিও প্রবলভাবে লক্ষ্য করা গেছে। নীতিমালা, মডারেশন এবং রেজিস্ট্রশনের পর প্রথম পাতায় সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তুমুল বিতর্ক হয়ে আসছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতামূলক পোস্ট ও মন্তব্যও আমরা নানান সময়ে দেখেছি। আলোচনা-সমালোচনা এই সবকিছু নিয়েই এই প্ল্যাটটি এগিয়ে চলেছে। অস্বীকার করার উপায় নাই যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে সামু এখন বাকস্বাধীনতা এবং নানামতের বিতর্কের সুযোগদানকারী একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

বিগত কিছুদিন দিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, গুটি কতক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ব্লগ সাইট উঠে পড়ে লেগেছে সামুর বিরুদ্ধে। অপপ্রচারে নোংরামীর সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সামুতে নাকি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে প্রশ্রয় দেয়া হয়। আবার একটি গোষ্ঠি অপপ্রচার চালাচ্ছে যে সামু বা ব্লগার মানেই নাস্তিক। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের সময় এটি প্রকট হয়ে ওঠে। এইরকম ঢালাও ট্যগিং সামুর কর্তৃপক্ষের তো বটেই নিঃসন্দেহে প্রত্যেক ব্লগারের জন্য অপমানজনক এবং বিব্রতকর। এর প্রতিবাদে এবং প্রতিরোধে ব্লগারদেরই সম্মিলিতভাবে এবং সচেতনতার সাথে তৈরী থাকতে হবে, সংগঠিত থাকতে হবে। যেকোন অন্যায়ের বিরুদ্বে যুক্তিযুক্ত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে ব্লগাররা অসংখ্য প্রমাণ রেখেছেন। একজন ব্লগার হিসেবে এ ব্যাপারে কিছু কথা বলার আছে।

শাহবাগ আন্দোলনের এক মাসেরও বেশী হয়ে গেলো। এই আন্দোলনের সাথে থাকা প্রতিটি সাধারন মানুষ, ব্লগার ও এক্টিভিস্টদের জানাই কৃতজ্ঞতা। আমাদের শাহবাগ আন্দোলনটি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সাধারন মানুষেরা। আর ব্লগার্স কমিউনিটি অক্লান্ত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আহবায়ক এবং আয়োজকের ভুমিকায়। দল মত নির্বিশেষে সব গ্রুপের ব্লগাররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। আহা, আন্দোলন ছাড়াও যদি এমনি শান্তিপুর্ন অবস্থা বজায় থাকতো। উইশফুল থিঙ্কিং। যাই হোক ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিজমের এই পরিনতি কিন্ত একদিনে তৈরি হয়নি। এর পিছনে রয়েছে অনলাইন কমিউনিটির দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিকতার চর্চা। ব্যাপারটা বুঝার জন্য আমাদের একটু ইতিহাসের দ্বারস্থ হতে হবে।

সাইবার জগত পারস্পরিক মত বিনিময়ের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিলো, তারই সফল প্রয়োগ ঘটেছে ব্লগে। বাক স্বাধীনতার থিম কে সামনে নিয়ে লেখার স্বাধীনতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং যৌক্তিক আলোচনার প্রাক্টিসের পিছনে ব্লগের একটা বিরাট ভুমিকা আছে। বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের প্রথম আমলে দু একটি পার্সোনাল ব্লগ থাকলেও কমিউনিটি বাংলা ব্লগ হিসাবে সর্বপ্রথম আবির্ভাব হয় সামহ্যোয়ার ইন ব্লগের (১৫ই ডিসেম্বর, ২০০৫), এলেক্সা র‍্যাঙ্কিং এ থাকা শীর্ষ এই বাংলা ব্লগ। মূল উদ্দেশ্য পাওয়া যাবে সামহ্যোয়ার ইন ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানার বক্তব্য থেকে। বাংলা নিউজে "জাতীয় স্বার্থে সোচ্চার হতে শিখায় ব্লগ " নামে একটি লেখায় তিনি লিখেছেন, "প্রকৃতপক্ষে ব্লগিং ধারনাটি তখনো ছোট্ট একটি গন্ডির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো। জনমত তৈরীর মূলধারার মাধ্যম গুলোতে যখন দ্বিপাক্ষিক অংশগ্রহন সম্ভব নয়, তখন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রাত্যহিক জীবনের আলাপচারিতায় সর্বসাধারনের অংশগ্রহনের গুরুত্বপুর্ন দিকটি মাথায় রেখে এই বাংলা কমিউনিটি ব্লগিং এর শুরুটা করে দেয় স্যামহোয়্যার ইন।"

সচলায়তন এবং প্যাচালি ব্লগ অল্প কদিনের ব্যাবধানে যাত্রা শুরু করে ২০০৭ এ। ২০০৮ এর ১৪ই এপ্রিল যাত্রা শুরু করে আমার ব্লগ। প্রথম আলো ব্লগ যাত্রা শুরু করে ২০০৮ এর ২৩ এ এক্টোবর। এছাড়াও নাগরিক ব্লগ, টেকটিউনস, মুক্তমনা , আমরা বন্ধু, শব্দনীড়, চতুর্মাত্রিক, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ, একুশে ব্লগ ইত্যাদি প্লাটফর্ম কালক্রমে যুক্ত হয়। খেয়াল করলে দেখা যায়, সামুর আগেকার বেশিরভাগ জনপ্রিয় ব্লগাররাই এই সকল ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা এবং অথরিটি প্যানেল। এই ব্লগ গুলোর প্রত্যেকটিরই আলাদা এজেন্ডা রয়েছে। এই এজেন্ডাগুলো নির্ধারিত হয় পলিটিকাল, সোশ্যাল, কর্পোরেট এবং কমিউনিটি বেজড মোটিভ কে সামনে রেখে। এজেন্ডার দিক থেকে বলতে গেলে সামুর এজেন্ডা হচ্ছে গণমানুষের বাক স্বাধীনতার একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। যা ইতিমধ্যে সফল।

এই কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাক স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামুর ভিশন টা তুলে ধরা। বাকস্বাধীনতার চর্চাকে কোনভাবেই অশুভ শক্তিকে প্রশ্রয় দেয়া ভেবে ভুল করার কোন স্কোপ নেই এখানে।

এবার এক্টিভিজমের দিকে আসি। সামুর প্রথম দিকে ভার্চুয়াল জগত হতে রিয়েল লাইফে চলে আসে ব্লগীয় সম্পর্ক যা বিশ্বের অন্য কোন ব্লগস্ফিয়ারে কখনও দেখা যায়নি। শুরু হয় ব্লগ আড্ডা, ব্লগ ক্যাম্পেইন। ২০০৬ সালের মে মাসে ছোট্ট শিশু প্রাপ্তির সাহায্যার্থে একত্রিত হন ব্লগারেরা, এরপর ২০০৭ এ পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য, রাজশাহী ইউনির শিক্ষার্থী শ্বাশতকে বাঁচাতে ২০০৮ এর ক্যাম্পেইন। ব্লগার আরিফ জেবতিকের ভেলরি টেলর সম্পর্কিত ক্যাম্পেইনের কথাও মনে পড়ে। মনে পড়ে ২০০৮ এ যুদ্ধপরাধীদের বিচার চেয়ে গণসাক্ষর কর্মসূচী। যার সফল পরিনতি আজকের এই আন্দোলনে ব্লগারদের ভূমিকা। উল্লেখ্য সামহোয়ার ইন ব্লগ ছিলো এই সব সফল কর্মসুচীর প্রধান প্ল্যাটফর্ম। এমন কি অমি রহমান পিয়াল, আরিফ জেবতিক, আব্দুর নূর তুষার, হিমু, মাহবুব মোর্শেদ, আসিফ এন্তাজ রবী, সিমু নাসের, ড.আইজুইদ্দীন সহ আরো অনেক পরিচিত ব্যাক্তিরা ছিলেন সামুর জনপ্রিয় ব্লগার। পরবর্তিতে বিভিন্ন কারনে তারা হয়তো অন্যান্য ব্লগে শিফট করে। বাংলা ব্লগ এক্টিভিজম নিয়ে ব্লগার কৌশিক আহমেদ তার লেখায় (২৫শে মার্চ, ২০০৯)
ব্লগারদের লেখা এবং এক্টিভিজম কে তিনটি সময়ে ভাগ করেছেন। সচলায়তন সৃষ্টির আগের সময়টাকে তিনি সবচাইতে ক্ষনস্থায়ী এবং প্রডাক্টিভ বলেছেন। এ সময়েই ব্লগার রা ভার্চুয়াল জগৎ হতে তাদের গন্ডিকে ছড়িয়ে দেন বাস্তবে। অন্যদিকে সচলায়তন সৃষ্টির পর দেখা গেলো নতুন এক এরা। কঠোর মডারেশনের কারনে সচলের কোয়ালিটি স্ট্যাবল থাকলেও পাঠক ও লেখক সংখ্যা সীমাবদ্ধ থেকে গেছে একটি নির্দিষ্ট
গন্ডির ভিতরে। একইভাবে আমার ব্লগ এবং প্রথম আলো ব্লগকেও তাদের পলিটিক্যাল এবং কর্পোরেট এজেন্ডা সার্ভ করতে দেখা যায়। আবার চতুর্মাত্রিক বেশী ফোকাস করে সাহিত্য চর্চার উপর। কিন্ত সামু থেকে যায় সেই গণমানুষের ব্লগে। যেখানে সকল বিষয়ে সবাই নানা রকম কথা বলে। সাহত্য চর্চা হোক আর সিটিজেন জার্নালিজম হোক, নিরীক্ষাধর্মী হোক, আর রিভিউমূলক হোক, সব ধরনের পোস্টকেই স্বাগত জানায় সামু। মূলত সামুর এজেন্ডাও কিন্ত তাই ছিলো। কাজেই অন্যান্য ব্লগ গুলোর সাথে সামুর বিভাজন বড়ই স্পষ্ট। আপনি যদি রিসার্চ করতে চান,
দেশের পলিটিক্যাল ফ্লো এবং জনমত দেখতে চান, পলিসি মেকিং সার্ভে করতে করতে চান, এবং সর্বোপরি নির্দিষ্ট কমিউনিটির বাইরে এসে মাস পয়েন্ট অফ ভিউ দেখতে চান, তাহলে আপনাকে সামুতেই আস্তে হবে। আবার তেল গ্যাস রক্ষকরন ইস্যু, আড়িয়াল বিল ইস্যু, কনকো-ফিলিপ্স চুক্তির বিপরীতে, পরিমল ইস্যু, জগন্নাথ ইস্যু এবং বর্তমানের এই মুভমেন্ট সহ আরো অনেক ইস্যুতেই সামুর ব্লগারদের প্রত্যক্ষ ভুমিকা ছিলো। ভার্চুয়াল থেকে ব্লগের র‍্যাশনাল আলোচনার প্রাক্টিস্টাকে তারা নিয়ে এসেছেন রাস্তায়। এ কারনেই বলেছি, এটা দীর্ঘদিনের গনতান্ত্রিক চর্চার ফসল। যেই গণতান্রিকতার চর্চা আমরা দেখতে পাই সামুর বিভিন্ন পোস্ট ও কমেন্টে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে ঠেকিয়ে রাখার ব্যাপারে সামুর অথরিটি এবং ব্লগার রা ছিলেন বরাবরি সোচ্চার। ব্লগাররাই এদের উপস্থিতিকে সমালোচনা, ধিক্কার বা তিরষ্কারের মূখে কোনঠাসা করে এসেছে সবসময়।

এমন কি শাহবাগের চলতি আন্দোলনে ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্টদের যে দুটি গ্রুপ কাজ করছে, তাদের মাঝে ব্লগারদের পোর্শনটাও প্রমিনেন্ট। "ব্লগারস এন্ড অনলাইন এক্টিভিজম নেটোয়ার্ক (বোয়ান) এ আছেন আমাদের বাধন দা, সবাক ভাই সহ আরো অনেকে। আবার "জাতীয় স্বার্থে ব্লগার অনলাইন এক্টিভিস্ট" এর পারভেজ আলম, বাকি বিল্লাহ, মাহবুব রশীদ, আরিফ রুবেল সহ সকলেই কাজ করে যাচ্ছেন নিজেদের মত করে। মূলত ব্লগারদের সরাসরি কন্ট্রিবিউশন টা কোন কম্পিটিশনের ব্যাপার নয়। এব্যাপারটা সবাই বুঝতে পেরেছে বলেই এখানে কোন রকম ফ্রাগমেন্টেশন আসেনি। কাজেই ব্লগারদের প্রতিটা গ্রুপকেই সাধুবাদ জানানো উচিত।

ব্লগার হিসেবে আমাদের আইডেন্টিটি এখন ইস্টাবলিশড। আমরা ব্লগাররা স্বাধীনতার চেতনা ধারন করি। আমরা শুধুমাত্র মনোপলি বিজনেসের জন্য গণমাধ্যম কে কোন নীতিতে বেঁধে দেয়ার পক্ষপাতি নই। বাংলা নিউজ বা বিডি নিউজের মত ডার্টি কর্টপোরেট পলিটিক্স ও আমরা চাইনা বরং ঘৃনা করি। ট্যাগিং কালচার দিয়ে কাউকে বেধে ফেলা, স্পেশালি সেই প্লাটফর্ম কে যেখান থেকে সৃষ্টি হয়েছে বাংলা ব্লগস্ফিয়ারে কমিউনিটি ব্লগের কন্সেপ্ট, যেখান থেকে তৈরী হয়েছেন অসংখ্য লেখক, যেখান থেকে পরিচয় পেয়েছে ফেসবুকের সব সেলিব্রেটিদের। তারা নিজেরাই যখন যুক্তি তর্কের উর্ধে গিয়ে নিজের প্রগতিশীলতাকে বিক্রি করে দেয় দলীয় ও বুরোক্রেসির কাছে, ট্যাগিং কালচারের কাছে, তখন সেটা আমাদের নবীনদের জন্য বড়ই দুখজনক। সম্প্রতি অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রনয়নের ব্যাপারে বিডিনিউজের তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ভুমিকা নিশ্চই আপ্নারা ভুলে জান নি। সে সময় কিন্ত দল, প্লাটফর্ম নির্বিশেষে সকল ব্লগার রাই সোচ্চার হয়েছিলো।

প্রগতিশীলতা আমরা তখনি আশা করবো, যখন মুক্তবুদ্ধির চর্চার প্রসার ঘটবে। সংবাদ পত্র কিংবা অন্যান্য মেইন্সট্রিম মিডিয়াতে একজন কে নানা ধরনের প্রটোকল ফলো করতে হয়। ফ্রি থিঙ্কিং এর যায়গাটা এখানে রুদ্ধ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে নাগরিক সাংবাদিকতার প্লাটফর্ম হিসেবে ব্লগে আমরা দেখি, একজন সাধারন মানুষ তার দৃষ্টিভঙ্গী শেয়ার করতে পারে নির্ভয়ে। বাকিটা ডিপেন্ড করে ফিডব্যাকের উপরে। উদাহরন দেই, মনে করুন একজন ব্লগার পোস্ট দিলো, কাদের মোল্লা নিষ্পাপ। এ রকম পোস্ট একটা কমিউনিটি ব্লগে আসতেই পারে। যেহেতু বাক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া আছে। তবে এই পোস্ট কে অফেন্ড করার দায়িত্ব কিন্ত মূলত ব্লগারের। একজন অপরাধীর আদ্যপান্ত তারা তুলে ধরে, নানান গুরুত্বপূর্ণ ও মূলবান তথ্য দিয়ে, বিতর্ক করে, সত্য প্রমাণিত করে ব্লগাররাই। এভাবে মিথ্যাচারী বা অপরাধ সমর্থনকারী পোস্টদাতাকে বয়কট করা হয়। এটা ব্লগারদের দায়িত্ব। অন্যদিকে নীতিমালা ভঙ্গকারী যে কোন পোস্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার সুযোগ রয়েছে। যাতে সাথে সাথে দায়িত্ব নিবে মডারেটর গন। ব্লগার এবং মডারেটর, এই দুইয়ের মিলিত প্রচেষ্টাই একটি ব্লগ কে আবর্জনামুক্ত রাখতে পারে।
যেমন টি প্রথম দিকে করেছিলো এ টিম। কিন্তু যখনি এ টিম নিজেদের কালেক্টিভ মোটিভের উপরে স্থান দিয়েছে ইন্ডিভিজুয়াল কে, তখনি পতন ঘটেছে তাদের। সাধারন ব্লগারদের ব্লাফ করে খুব বেশিদুর যেতে পারেন নি কেউই। এদিকে সামহ্যায়ারের ব্লগ কতৃপক্ষ পড়েছে মহা বিপাকে। অনলাইন রথি মহারথিদের দের দাবী রাখতে গিয়ে তারা না পারছে ট্যাগিং কালচারে গা ভাসিয়ে দিতে, না পারছে বাক স্বাধীনতার যায়গা থেকে সরে আসতে। তবে নব্য রাজাকারদের ছাড় দিচ্ছেন না তারা। মডারেশনের কোন দুর্বলতার কারনে যদি কিছু এন্টি লিবারেট রা পার পেয়েও যায়, অন্যান্য সবকিছুর বিবেচনায় সামু তার দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং তাদের ভিশনের যায়গা থেকে পরিষ্কার। একে আরো ট্রান্সপারেন্ট রাখার সুযোগ টুকু কিন্ত ব্লগাররাই করে দিতে পারে। ব্লগ পলিটিক্সের ভেতর পড়ে, সামুর মিশন ভিশন যেন হারিয়ে না যায়। সেইটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বাক স্বাধীনতা দেয়াই যদি কাল হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের লেখকদের কলম বন্ধ হতে টাইম লাগবেনা। সামুর মডারেশন প্যানেল যদি দুর্বল হয়, তাকে সাজেস্ট করুন। রিপোর্ট করুন, ফিডব্যাক পাঠান। আমার বিশ্বাস, অবশ্যই কাজ হবে। তবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির ভয়ে যদি ব্লগ ত্যাগ করেন, এবং দূর থেকে তালি বাজিয়ে বলেন, সামু রাজাকারের খোয়াড়, তাহলে তা পরাজয়ের ই লক্ষন। আপনাকে ফাইট করতে হবে। আমরা ব্লগার রা প্রথম থেকেই ফাইট দিতে শিখেছি। সে ফাইটের বহিপ্রকাশ হয় আমাদের কলমে, কি বোর্ডে, শাহবাগে স্লোগানে স্লোগানে। শুধুমাত্র পিসির সামনে বসে থেকে ট্যাগ দেয়ার সংস্কৃতি তৈরি করলে ছাগু দুরিকরন তো হবেই না, উলটা "ছাগু, কাঁঠাল পাতা, ভাদা, পাদা" ইত্যাদি আপাতশব্দের মাঝেই ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ক্ষমতা ব্যাবহার করে কোন ব্লগার বা ব্লগ প্ল্যাটফর্ম কে ছাগু ট্যাগ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। ছাগু ধরতে হলে হলে, ডকুমেন্টস শো করুন, প্রমান করুন,
তারপর লাথি মেরে বের করে দিন। যেমন টা আমরা এতদিন ব্লগে করে আসছি, শাহবাগে করেছি এবং করে যাবো।

রাজাকারের বিরুদ্ধে বললে ভারতের পা-চাটা কুকুর, ভারতের বিরুদ্ধে বললে রাজাকার, ইসলামের একটা ত্রুটি বের করার সামান্য প্রচেষ্টা করলেও নাস্তিক, ইসলামের একটি ভালো দিক তুলে ধরা পোস্ট করলেও মৌলবাদী, বিএনপির বিরুদ্ধে বললে আওয়ামীপন্থি, আওয়ামী লিগ নিয়া কথা বললে বিএনপি'র পোষা কুকুর, জামাতের পক্ষে বললে রাজাকার, বিপক্ষে বললে নিজেই রাজাকারদের টার্গেট। এইভাবে ট্যাগিং সংস্কৃতিতে ভেসে গেলে বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের জন্য তা খারাপ বই ভালো কিছু নিয়ে আসবে না, এটা খুবি স্পষ্ট। খেয়াল করলেই দেখবেন, সামুকে প্রত্যেকেই নিজ নিজ এজেন্ডার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ট্যাগ করে থাকেন। এক্ষেত্রে সামু যে নিজ নিতীমালার উপর ব্যালেন্স রক্ষা করে চলে, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আমাদের ব্লগারদের হাতে অসীম ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতার অপব্যাবহার আমরা করবো না। আমরা ছাগুদের কখনো প্রশ্রয় দেই নি। দিবোও না। নিজেদের পপুলারিটিকে ব্যাবহার করে
ব্যাক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা ট্যাগদাতার গ্রহনযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। সেই সাথে "ছাগু" শব্দটির ওজন ও কমিয়ে দেয়। আর একটা প্রশ্নের জন্ম দেয়-
আজ তাকে ট্যাগ দিয়েছি নিজের সুবিধার কারনে, কাল আপ্নাকেও দিবো। কি করবেন আপনি ? এই প্রশ্নটা সকল ব্লগারস কমিউনিটির উপর ।
এর জবাব ও আমাদের ই দিতে হবে।

(লেখাটি তৈরি করতে নানা বই এবং অন্তর্জালের সহায়তা নিতে হয়েছে। বিশেষ করে একরামুল হক শামিম ভাইয়ের" বাংলা ব্লগের ইতিবৃত্ত" বইটির কথা না বললেই নয়। ওনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা)।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29796676 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29796676 2013-03-13 23:20:27
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার (পর্বঃ ১০) ...বিজ্ঞাপনী নিতীমালা <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_51.gif" width="23" height="22" alt="/:)" style="border:0;" />


বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উধ্যার করেই ছাড়বে তথ্য মন্ত্রনালয়। আসুন, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার নিয়ে কিছু ফানি নিতীমালা নিয়ে গল্প করি আজকে। দেখুন কতটুকু অসামাঞ্জস্য।

বলা হয়েছে, দর্শক শ্রোতাকে কেবল ক্রেতা নয়, তাকে জ্ঞানী, চিন্তাশীল, সৎ, দূরদর্শী ও মুক্তমনা করতে হবে। দর্শকদের দার্শনিক বানাতে হবে নাকি ভাই ! তারমানে টি শার্টের বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ধরেন আসাদুজ্জামান নূর সাহেব গম্ভীরভাবে বানী দিচ্ছে, এই টাইপের বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে মনে হয়। শিশুদের সরাসরি প্রলুদ্ধ করে এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবেনা। তাহলে খেলনা, চিপস, চকোলেট এইগুলার বিজ্ঞাপন কেমন করে দেখানো হবে, সেইটা তথ্য মন্ত্রনালয় ডেমো বানিয়ে দেখাতে পারতো। বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনে পেশাগত পরামর্শ পরিহার করতে হবে। তাহলে একজন আবুল হায়াৎ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমাদের যে পরামর্শগুলো দিয়েছিলেন টিন, ট্যাঙ্ক কেনার বিষয়ে, সেগুলা কি ব্যান করা হবে ? তারপর ধরেন বিজ্ঞাপনে বিদেশি ভাষা ব্যাবহার করলে সাবটাইটেল দিতে হবে। তাহলে কি সকল ইংরেজী ভাষার সাবটাইটেল দিবে এখন ? মানুষ কি এড দেখবে নাকি ভাষা শিখবে ? আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে পুরুষ বা মহিলার অন্তরবাসের বিজ্ঞাপন দেখানো যাবেনা। তবে কন্ডমের বা স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে !

বলা হয়েছে বিজ্ঞাপন নিয়ে কোন কনফিউশন দেখা দিলে সেটা তথ্য মন্ত্রনালয়ে আবেদন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গড নোজ সেই ফাইল কয়দিনে ঘুরে আসবে। কত জন কত টাকা গুনবে। বলা হয়েছে সংসদ, জাতীয় পতাকা, স্মৃতিসৌধ, এইগুলান বিজ্ঞাপনে দেখানো যাবেনা। লও ঠ্যালা, তাইলে টেলিকমের সব অকেশন বেজড বিজ্ঞাপনের বারোটা বেজে যাবে। সেই সাথে চলতি শাহবাগ মুভমেন্ট নিয়ে কিছু দেখাতে হলেও মহা ঝামেলা।

সবচাইতে ভয়ংকর কথাটি হচ্ছে, ১৯৬৩ সালের সেন্সরশিপ অফ ফিল্ম এক্টস এর পরিপন্থি কোন কিছু প্রচার করা যাবেনা। এই আইনটি স্বৈরশাষক আয়ুব খানের করে যাওয়া। মার্শাল ল। ফিল্ম, এডভার্টাইজিং বা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার মত একটা ক্রিয়েটিভ যায়গায় কাচি চালানো কতটুকু ক্ষতি বয়ে আনছে সেইটা আমাদের চিন্তার বাইরে। আশার কথা, এইবার মনে হয় সেন্সর আইন বাদ গিয়ে গ্রেডিং সিস্টেম আসছে।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29792305 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29792305 2013-03-07 18:51:45
একটি মৃত্যুর খবর, বাস্তবতা আর ইটোপিয়া...


আপনাদের একটা গল্প বলি। গল্পের দুইটা অংশ।


(১ম অংশ)

রাজিব ভাইয়ের খবর টা শুনার পরপরি আমি চারুকলার দোতলা থেকে দৌড়ে নিচে নেমে আসি। কয়েক জনের সাথে ফোনে কথা বললাম। চারুকলার সামনে থেকে যাদুঘরের সামনে তথ্যকেন্দ্র পর্যন্ত কেউ তখনো খবরটা শুনেছে বলে মনে হয় নি। তথ্যকেন্দ্রে জানালাম। মিডিয়া সেলে জানালাম। এর কিছুক্ষন পর মঞ্চে ঘোষনা দেয়া হয় ব্লগার "থাবা বাবা"র মৃত্যু নিয়ে। তার দশ মিনিটের মাথায় আমি যখন চারুকলার সামনে যাই, দেখতে পাই যায়গাটা অনেক ফাকা হয়ে গেছে। আমি মন খারাপ করে ছবির হাটে বসি ইমনের দোকানে। হটাৎ দেখলাম, সেখানে আবার মারামারি লেগে গেছে। বিরাট হাউকাউ। হলের ছেলেদের সাথে গ্যাঞ্জাম। এই গ্যাঞ্জাম শেষ হতে না হতেই ত্রিশ চল্লিশ জনের একটা দল বেরিয়ে গেলো ছবির হাট থেকে।

একটা ছেলের দিকে চোখ পড়লো। মাথায় পতাকা বাধা সেই ছেলেটা মুখ গুজে কাদছিলো। কত হতাশা, আহা।

এমন সময় অগ্নিশিখার দিক থেকে চিৎকার চেচামেচি শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি সেদিকেও চলছে ঝামেলা। মারামারি করে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো আরেকটা দল। ততক্ষনে ছবির হাট, চারুকলার সামনে গুটিকয়েক ছেলেমেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই। দাঙ্গা পুলিশ লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কোন ঘটনার আশায়। কিংবা শুধু ভয় দেখানোর জন্যেও হতে পারে। তবে সেই ভয়ে কাজ হয়েছে। যত সব সেলিব্রেটি, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, ইন্টেলেকচুয়াল মানুষজন ছিলো, সব সটকে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে চায়ের দকান গুলো।

মাথা হাটুতে গুজে একা শুধু বসে আছে সেই পতাকা বাধা ছেলেটা। ওর মনের অবস্থা বুঝতে আমার কষ্ট হয়নি। এত কষ্টের একটা আন্দোলন শেষ হয়ে যাবার ভয়টা আমিও পাই। আমিও ফিল করি।

খুব মনে হচ্ছিলো, কোথায় সবাই। এখন তো আরো বেশি করে আমাদের থাকা দরকার। আরো জোরে স্লোগান দেয়া দরকার। ইশ, কি হতো যদি কালকে প্রতিটা ব্লগার যারা এতদিন ছিলেন, কিংবা ছিলেন না, সবাই এক সাথে মাঠে নেমে আসলে। এইটুকু প্রত্যাশা কি আমাদের থাকতে পারেনা ?
আন্দোলনের টাইম কমিয়ে দেয়া, তারপর সবার মাঝে এর প্রতিক্রিয়া, ফেসবুক, রাস্তায় এর তুমুল সমালোচনা, রাজিবের হত্যাকান্ড, দাঙ্গা পুলিশ, রাস্তা ফাকা হয়ে যাওয়া, এই সব কিছুকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয়ার কোন সুযোগ ছিলোনা।

আজকে সেই একই টাইমে আবার দেখলাম সেই ইন্টেলেকচুয়াল দের। যাদের কাওকে কাওকে দেখা গিয়েছিলো টক শো তে। দেখলাম ফটোগ্রাফার, সেলিব্রেটিদের। সবাই এসেছে আজ। চা খেয়ে গল্প করছে আন্দোলন কোন দিকে যাচ্ছে তাই নিয়ে।

শুধু দেখলাম না মাথায় পতাকা বাধা সেই ছেলেটিকে। মনে হলো, এখানেই আমরা ব্যার্থ ।

২য় অংশঃ

পতাকা মাথায় বাধা ছেলেটা বসে আছে মুখ গুজে। ছবির হাট তখন, অন্ধকার। মঞ্চের আওয়াজ কমে এসেছে। এমন সময় কোথেকে যেন স্লোগান ভেসে আসে।

জয় বাংলা। জয় বাংলা।

ছেলেটার মুখে এসে পড়ে মশালের আলো। বেশি না, মাত্র ৫ জনের একটা মিছিল। এদিক সেদিক থেকে এক জন দুজন করে সেই মিছিলে যোগ দেয়। পিঠা ওয়ালা, সিগেরেট ওলারা নিজেদের ঝাপি বন্ধ করে সেই মিছিলে অংশ নেয়। চারুকলার সব আর্টিস্ট রা বের হয়ে আসে ক্যাম্পাস থেকে। কোথেকে যেন একজন চিৎকার দিয়ে বলে উঠে,

রাজিবের রক্ত, বৃথা যেতে দেবোনা। একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার। জয় বাংলা।

সব মানুষ এক হতে থাকে, বাড়তে থাকে মিছিলের প্রকোপ। আকাশে বাতাসে ধনিত হতে থাকে হুঙ্কার। জামাত, শিবির, রাজাকার, এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়।কি বোর্ড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় এক তরুনী। সদ্য লেখা পোস্ট টি ড্রাফট করে উঠে দাঁড়ায় নবীন ব্লগার। ছোট্ট শিশুটি আর তার মা কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে অফিস ফেরত পুরুষ। চারিদিকে বাজে যুদ্ধের দামামা।

পতাকা বাধা সেই ছেলেটি উঠে দাঁড়ায়। এক ঝাটকা দখিনা বাতাস ছেলেটির ভয় আর শঙ্কাকে নিয়ে যায় দূরে, অনেক দূরে। সে আর একা না। তার সাথে আছে পুরো শাহবাগ, পুরো ঢাকা, পুরো বাংলাদেশ। দৃপ্ত কন্ঠে সে বলে উঠে,

জয় বাংলা, জয় বাংলা।


(২য় অংশটি আমার কল্পনা। একজন লেখক বা ফিল্ম মেকার হিসেবে এইটুকু কল্পনা করার স্বাধীনতা নিশ্চই আমার আছে। তবে যেই দিন আমার স্বপ্নটা দেখবে সারা বাংলাদেশের মানুষ। সেইদিন নিশ্চই আমরা নিজেদের সত্যিকারের দ্রোহী ভাবতে পারবো।)

]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29774205 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29774205 2013-02-17 01:16:06
টেলিভিশন মুভি নিয়ে কিছু বিতর্ক...



মোস্তফা সরোয়ার ফারুকির "টেলিভিশন" ছবিটি নিয়ে গত কয়েক দিনে ফেসবুকে অসংখ্য কথা হচ্ছে। নানাজন এটা সম্পর্কে নানান কথা বলছে। ভালো খারাপ সব মিলিয়ে "টেলিভিশন" কিন্ত বেশ হিট করেছে। বলাকার সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে এই ছবিটি। সেই সাথে দেশ বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে অনেক পুরষ্কার।

আমি মুভির রিভিউর দিকে যাবোনা। বরং কিছুটা ব্যাবচ্ছেদ টাইপের করার চেষ্টা করে দেখি, টেকনিক্যাল সাইড থেকে। সবচাইতে বড় প্রশ্ন উঠেছে, টেলিভিশন কি নাটক বা টেলিফিল্ম টাইপের হয়েছে, নাকি সিনেমা হয়েছে।

প্রথম কথা, নাটক আর সিনেমার বেসিক ডিফরেন্স বুঝতে হলে অবশ্যই আগের কিছু জিনিস বুঝতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হিস্টরি অফ মিডিয়া প্রোডাকশন। বাইরে সাধারনত যে ধরনের সিরিয়াল হয় সেগুলা হয় সোপ অপেরা টাইপের না হলে সিটকম টাইপের। একটা সেট, সামনে দুইটা ক্যামেরা। গ্রীন স্ক্রিনের ব্যাবহার থাকবে। আমরা যেটাকে শর্টফিল্ম, , টেলিভিশন মুভি, টেলিফিল্ম, ,নাটক বলি সেগুলা সাধারনত বাইরের দেশে বলেনা। এই কন্সেপ্ট টাই নাই বিদেশে। এটা আমাদের নিজেদের দেশের একটা ফরম্যাট। বাইরের দেশের কাজগুলা তো হয় সিজন বেসড। আমাদের দেশে করে আধা সিরিয়াল, আধা মুভির মতন। এইকারনে এইটাকে বলে টেলিভিশন মুভি বা টেলিমুভি বা টেলিফিল্ম । বাইরের দেশের ফরম্যাটে তো টেলিফিল্ম জিনিসটাই নাই। তবে টেকনিক্যাল ব্যাপারে সিনেমা আর নাটকের মাঝে কিছু পার্থক্য করা যায়। এর মধ্যে সবাচাইতে গুরুত্বপুর্ন হলো ফরম্যাট। নাটকে সাধারনত সর্বোচ্চ সিনে আল্ট্রা (২কে) ফরম্যাটে করে। সিনেমা হয় ৩৫মিমি ফরম্যাটে। বড় পর্দায় ৩৫মিলির সিনেমাটিক ফরম্যাট কখনো টিভি নাটকের ডিজিটালের মত হবেনা। যদিও এখন ডিজিটাল ফরমেটে সিনেমাও হচ্ছে, তবে তা অত্যন্ত দামি ক্যামেরায় করা। সেই ডিজিটাল গিয়ার ও ৩৫ এর কাছাকাছি আউটপুট দেয়। যেমন ক্যাননের ভিডিও ইওস সিনেমাটিক।

স্টোরির ব্যাপ্তিতেও পার্থক্য আছে। সিনেমাতে সমুদ্র দেখানোর জন্য কখনো গ্রীন স্ক্রীন ব্যাবহার করা হবেনা। এখানে আসবে আসল সমুদ্র। মানে ক্যানভাস টা হবে অনেক বড়। "টেলিভিশন" মুভির লোকেশন আর সেট খেয়াল করে দেখবেন এটাকে টেলিফিল্ম বলার আগে। শট এর এঙ্গেল সিনেমাতে অনেক রকমের হবে। ক্রেন শট বা লং জীব আর্ম এর ব্যাবহার থাকবে। অনেক এঙ্গেলের ডায়নামিক শট যাবে। খেয়াল করলে দেখবেন নাটকের শট হয় স্ট্যাটিক। এছাড়াও ডিটেইলিং ও অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। পরিচালক "টেলিভিশন" মুভিতে কি রকম ডিটেইলিং এর ভিতর দিয়ে গেছে সেটা খেয়াল করবেন। আচ্ছা, যারা বলেন সিনেমা এখন নাটকের মত বা টেলিফিল্ম এর মত হয়, তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাস্য, আজগার ফারহাদির "এ সেপারেশন" কে আপ্নারা কি চোখে দেখেন ? এটাকে কি নাটক বলে অস্কার কমিটি উড়িয়ে দিয়েছে ? অন্তর দা যে বলেছেন," আসলে কিন্তু বলা উচিত ছিল, “সিনেমার মতো নাটক বা টেলিফিল্ম হচ্ছে” এই কথাটা যথার্থ।


দ্বিতীয় কথা, "টেলিভিশন" মুভিটা ভালো হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে সেইটা আসলে যার যার পয়েন্ট অফ ভিউ। কারো ধর্মের ব্যাপারে প্রিজুডিস থাকলেও সেইটাও এখানে ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করবে। তবে টেলিভশন মুভিটা নাটক বা টেলিফিল্ম হয়েছে, এইটা বলতে আমি নারাজ। স্টোরির ব্যাপারটা একটু খেয়াল করে দেখবেন। "ধর্মভিত্তিক হেজেমনি আর বর্তমানের টেকনোলজির প্রয়োজনীয়তা, এই দুইয়ের মধ্যে একটা সেতু টানা হয়েছে। এই ছবির প্রধান চরিত্র "শহীদ হুদা রুমি" র ভিতরে যে অন্তর্দন্দ দিয়ে সিনেমার ফিনিশিং টানা হয়েছে, তা কিন্ত মব সাইকোলজি। হয়তো টেলিভিশনের বেলায় নয়, তবে অন্য অনেক ব্যাপারেই এ ধরনের দ্বন্দ দেখা যায়। সিনেমার প্রথমে জন্ম নিয়ন্ত্রন সম্পর্কিত ডায়ালগে তার প্রমান পাওয়া যায়। এই ছবিতে কোথাও কিন্ত দেখানো হয়নি চেয়ারম্যানের ভাবনা টা খারাপের জন্য। দেখানো হয়েছে প্রিজুডিসের কারনে মানুষ অনেক সময় অনেক কিছুর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করেনা। একই আবেগ থেকেই অন্য কোন ঘটনা দারা হয়তো সেই পর্দা টা কেটে যায়। যেমন চেয়ারম্যানের ধর্মের কারনে যেই পর্দাটা ছিলো, ধর্মের ব্যাপারেই কিন্তু সেটা কেটে যায়। কাজেই আমার মনে হয়না এখানে ধর্মকে ছোট করা হয়েছে। এছাড়াও যারা আধুনিক সময়ের সাথে এই ছবির প্লট টেলিভিশন কে এক সুতায় গাথতে পারছেন না, তাদের কে বলি, পুরা ব্যাপার টাকে এক রকম ফ্যান্টাসি ধরে নেন না। ছবির লোগো টা খেয়াল করেছেন ? "টেলিভিশন" লেখার উপরে একটা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার ছবি । কেন দেয়া হয়েছে বলে আপনাদের মনে হয় ? ফ্যান্টাসির আবহ টা বুঝানোর জন্য নয় কি ?

তৃতীয় কথা, বাইরের দেশে কোন ফিল্ম কে এওয়ার্ড দেয়া হলে সেটা শুধুমাত্র বিষয়ের উপর ভিত্তি করে দেয়া হয় না। ছবির স্ক্রিপ্ট, স্ক্রীন প্লে, প্লট, টেকনিক্যালিট , ক্যারেক্টারাইজেশন সব কিছুই দেখা হয়। সবগুলা ব্যাপারে ব্যালেন্স করতে পারলে তবেই এওয়ার্ড পায়। স্বয়ং কি কিদুক এর প্রশংসা করেছেন। আচ্ছা, কিম কিদুক কি ঘাস খায় ? এছাড়া যারা বলছেন, এই মুভিটা তুর্কি মুভি থেকে কপি করা, তাদের কাছে অনুরোধ দুইটা মুভিই আগে দেখুন। ফারুকি সাহেব ই মাছারাঙ্গা টিভিতে এই মুভিটার ব্যাপারে বলেছে। সে বলার আগে কতজন "ভিজনটেলি" এর কথা জানতো তা দেখার ব্যাপার। তুর্কি ক্রিটিক রাই বলেছে, "টেলিভিশন নামে দুইটা প্রডাকশনের মধ্যে বাংলাদেশের টাই বেটার।"


সব শেষে বলি, সবাই টেলিভিশন মুভিটা দেখুন। ভালো খারাপ যাই হোক হলে গিয়ে দেখুন। বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প বদলে যাওয়ার এই সময়ে কিছুটা হলেও নিজের অবদান রাখুন।



হাসান মাহবুব বলেছেন: টেকনিক্যাল টার্ম অতশত জানি না। তবে অনেক সিনেমা দেখার ফলে দেখার একটা চোখ তৈরি হৈসে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমি বলতে পারি টেলিভিশন একটা চমৎকার সিনেমা। এখানে ওয়াইড এ্যাঙ্গেলে ক্যামেরার যে ডিটেইলিং, নদীর দৃশ্যগুলা, খেলনা প্লাস্টিকের গাড়ির দৃশ্য, হঠাৎ একটা ছিদ্রের ভেতর থেকে ভেতরে সিনেমা হলের টিকেট চেকার খুবই মুনশীয়ানার সাথে করা। এটা টেলিফিল্ম নাকি সিনেমা হৈসে এই বিতর্ক আসাই উচিত না।

ছবিটার যেই জিনিসটা আমার সবচে ভালো লাগসে, তা হল ফারুকী থিমটাকে কয়েক জায়গায় স্ক্যাটারড করে আবার একসাথে গাঁথতে পারসে। প্রথমে মনে হতে পারে যে এটা ধর্মান্ধতাকে ফোকাস করাটাই ছবির মূল উদ্দেশ্য, পরে মনে হতে পারে নাহ প্রেমকাহিনী দেখানো হৈতেসে, আসলে টেলিভিশন একটা প্রতীক। মানুষের প্যাশনের। এই যন্ত্রের মাধ্যমে পিতা পুত্রের ভালোবাসা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, প্রেম সার্থক পরিণতি পায়, আবার এটাই ধর্মান্ধ এক বৃদ্ধকে তার আরাধ্য বস্তুর কাছে নিয়ে যায়, কাঁদায়।

আমার খুব ভালো লেগেছে মুভিটা। যেকোন স্ট্যান্ডার্ডেই।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29757374 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29757374 2013-01-29 00:54:45
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার (পর্বঃ ৯)...ফেসবুক এবং ইউটিউব <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />


আগের পর্বঃ পর্ব ৮ -ক্রিয়েটিভিটি


আগে মিডিয়া ছিলো অনেক ইন্ডিভিজুয়াল। অর্থাৎ আপনি হয় টিভির জন্য এড বানাবেন, নাহয় রেডিওর জন্য, নাহয় পত্রিকার জন্য। বাট এখন অনলাইন গনমাধ্যমে আপনি সবগুলা মিডিয়াকে একত্রে ব্যাবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন। অডিও রেকর্ড করে সেটার সাথে ভিডিও যোগ করে ইউটিউবে দিতে পারছেন। সেই ভিডিও আবার ফেসবুকে শেয়ার করতে পারছেন। ব্লগ লিখে পরিচিতি পেলে ফেসবুকে সেই পরিচিতিকে
কাজে লাগাতে পারছেন। আবার ফেসবুক এ পরিচিত হলে সেটা কাজে লাগাতে পারছেন নিউজ পেপারে। এখন সব মিডিয়াই এক হয়ে গেছে অনলাইনের কল্যানে।

একে বলা হয় মিডিয়া কনভার্জেন্স। আবার অনলাইনে বিভিন্ন মিডিয়াকে একসাথে মার্কেটিং এর কাজে ব্যাবহার করাকে বলা হয় ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং কমিউনিকেশন বা আইএমসি। এ কারনেই সব রকম বিজনেস দিনে দিনে নেট ভিত্তিক হয়ে পড়ছে। ব্যাঙ্কিং বলেন, শো-বিজ বলেন, বিল দেয়া, টিকেট কাটা বলেন, পড়ালেখা বলেন, সবকিছুই অনলাইনে করা যাচ্ছে। কাজেই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে এডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রেও আমাদের অনলাইনের ব্যাবহার শিখতে হবে।

অলরেডি কিন্ত অনলাইন প্রমোশনের সিস্টেম টা শুরু হয়ে গেছে। এই যে চোরাবালি অথবা টেলিভিশন মুভি দুটো মুক্তি পেলো। তাদের ফেসবুক এডভার্টাইজিং টা খেয়াল করেছেন ? আমি ইদানিং ক্লোজ আপ ওয়ান, আর পাওয়ার ভয়েস নামে দুইটা প্রোগ্রাম রেগুলার ফলো করি। যেহেতু টিভি দেখার সময় করে উঠতে পারিনা, তাই তাদের প্রগ্রাম গুলো দেখার জন্য নেট আই ভরসা। বাট তারা যদি ফেসবুক পেইজ না খুলতো, বা ইউটিউবে আপ না করতো তাহলে তাদের দর্শক সঙ্খ্যা কিন্ত বাড়তো না। এইভাবেই মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য অনলাইন দারুন সাপোর্ট দিচ্ছে।

আজকে আমরা কথা বলবো অনলাইন ব্রান্ডিং এবং এডভার্টাইজিং নিয়ে।




সবার আগে একটা সহয ইকুয়েশন শিখি আসুন।

আপনার পারফরমেন্স+ কিভাবে আপনার পারফরমেন্স প্রেজেন্ট করছেন = আপনার ব্রান্ডের পারসেপশন

এই কথাটা শুধু এডভার্টাইজিং নয়, আপনার জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মনে করুন আপনি আপনার প্রেমিকাকে অনেক ভালোবাসেন, এটা হচ্ছে আপনার পারফর্মেন্স। কিন্ত সেই ভালোবাসা মনের ভিতরে রেখে দিলে লাভ হবেনা। আপনাকে ফুল নিয়ে যেতে হবে দেখা করার সময়। এটা হচ্ছে আপনার
পারফর্মেন্সের প্রেজেন্টেশন। এই দুইটা ব্যাপার এক করতে পারলেই প্রেমিকার কাছে আপনার একটা ইমেজ তৈরি হবে। ভালো প্রেমিকের ইমেজ। এবং এই ইমেজ বা পারসেপশনই হচ্ছে ব্রান্ড।

আবার মনে করেন আপনি দারুন একটা সোশ্যাল কাজ করেছেন। এখন আপনি যদি সেটা সবার সামনে প্রেজেন্ট করতে পারেন ঠিকমত, তাহলে আপনার সম্পর্কে একটা পারসেপশন তৈরি হবে। একজন হিরো, জিনি সমাজে একটা পরিবর্তন এনেছেন। আর এটাই হচ্ছে আপনার নিজের ব্রান্ড ভ্যালু।
তারমানে হচ্ছে, আপনি কি করছেন, শুধু সেটাই ইম্পর্টেন্ট নয়। আপনি কিভাবে সেটাকে রিপ্রেজেন্ট করছেন এবং সবাই কি ভাবছে, সেটাও ইম্মপর্টেন্ট। ব্রান্ডিং এর বেসিক ধারনা পেতে হলে এই সিরিজের ফার্স্ট পোস্ট টা ঘুরে আস্তে পারেন।

সরাসরি আলোচনায় চলে আসি।

এর আগের একটা পর্বে ইথোস, লোগস, প্যাথোস নিয়ে বলেছিলাম। আজকেও ইথোসের ব্যাপার টা আসবে। ইথোস মানে হচ্ছে ক্রেডিবিলিটি। আপনার এড তখনি মানুষ দেখবে, যখন আপনার একটা বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে, গ্রহনযোগ্যতা থাকবে। এডভার্টাইজিং এ ক্লায়েন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকা মাস্ট। মানে আপনি যাকে বা যেই কোম্পানিকে বিশ্বাস করবেন, তার প্রোডাক্ট ই কিনবেন। অথবা আপনি যদি বিজ্ঞাপন বানান, তাহলে তখনি সেই বিজ্ঞাপন দেখে মানুষ আপনার কথা শুনবে, যখন আপনাকে তারা বিশ্বাস করবে। আজকে সাকিব আল হাসান বিজ্ঞাপনে একটা কথা বললে সবাই শুনবে, কিন্ত আমি আপনি বললে কেউ শুনবেনা। কারন কি ? কারন টা হচ্ছে আপনি যেই দর্শকদের টার্গেট করে বলছেন, তারা আপনাকে চিনেনা। তারা চিনে সাকিব আল হাসান কে। কাজেই আপনার কথা শুনানোর জন্য আপনাকে আগে সেলফ ব্রান্ডিং বুঝতে হবে।

বিখ্যাত একজন মার্কেটিং গুরু টম পিটার্স বলেছেন, "আপনি নিজেই একটা ব্রান্ড" ।

বিশ্বাস করুন, কথাটি মিথ্যা নয়। স্বাভাবিক ভাবে সবাই ধারনা করে থাকেন, ব্রান্ড মানেই একটা প্রোডাক্ট। আসলে কিন্ত তা নয়। একটা সার্ভিস হতে পারে ব্রান্ড,আইডিয়া হতে পারে ব্রান্ড, একটা কনসেপ্ট হতে পারে ব্রান্ড। এবং একজন মানুষ ও হতে পারে ব্রান্ড। এমন কি একটা জাতিও ব্রান্ড হতে পারে। যেমন মনে করুন আপনি চায়নার কথা ভাবছেন। চায়না বা চাইনিজ নামটা শুনলেই আপনার কিছু জিনিস মাথায় চলে আসবে অটোমেটিক্যালি। চাইনিজ খাবার, চায়নার প্রডাক্ট,
চায়নার নাকবোচা মানুষগুলি, চায়না সেট ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মানে হচ্ছে, চায়নার নিজস্ব একটা ব্রান্ড ভ্যালু আছে। যেটা দিয়ে আপনি চায়নাকে রিকগনাইজ করতে পারছেন, রাইট ? যদি কেউ একজন এসে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা আপনি কি হাসান মাহবুব কে চিনেন ? আপনি তাকে চিনুন আর না চিনুন হাসান মাহবুব নামটা কিন্ত ব্রান্ডেড হয়ে গেলো। একই কথা প্রোডাক্টের বেলাতেও। কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, আপনি স্যান্ডেলিনা সাবান ব্যাবহার করেন ? তখন সেই সাবান টা আপনি ব্যাবহার করুন আর না করুন, সাবানের ব্রান্ডিং কিন্ত হয়ে গেলো। কারন সাবান টা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আর এডভারটাইজিং এর কাজ ই হচ্ছে, ব্রান্ড কে প্রতিষ্ঠিত করা।

আপ্নারা যেহেতু ব্লগ পড়েন এবং লিখেন, ধরে নিচ্ছি সকলেরি ফেসবুকে একাউন্ট আছে। বর্তমানে ফেসবুক হচ্ছে ব্রান্ডিং এন্ড এডভার্টাইজিং এর সবচাইতে ইফেক্টিভ যায়গা। কারন আমাদের লাইফের ডিজিটাল রুপটাই হচ্ছে ফেসবুকে একাউন্ট। আমরা বাস্তবে যা, তার একটা ভার্চুয়াল ছায়া হচ্ছে ফেসবুক। রিসার্চ করে পাওয়া যায়, ৯০ % শিশু যারা সদ্য জন্মেছে, তারা অলরেডি ইন ফেসবুক। কিভাবে ? কারন সেই শিশুদের মা বাবারা ফেসবুকে ছবি আপ শুরু করে দেন জন্মের পরপরি। ফেসবুক হচ্ছে এমন একটা মিডিয়া, যেখানে মানুষ কি খাবার খাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, সমাজ সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা, পার্সোনাল অপিনিয়ন, সবকিছুই স্ট্যাটাস হিসেবে দিচ্ছে। দেখবেন একদিন নেট লাইন না থাকলেই আপনার কাছে অস্থির লাগা শুরু করবে। মানুষের এত ক্লোজ আর কোন মিডিয়া নেই। ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে, যখন মানুষ অর্ধেক রিয়েল লাইফে বাচবে, আর অর্ধেক বাচবে ফেসবুকে। তাহলে কেন এডভার্টাইজিং এর জন্য আমরা এই চমৎকার মিডিয়াটিকে কাজে লাগাবো না ?

এখনকার সময় ফেসবুক প্রেম অনেক কমন একটা ব্যাপার। কারো সাথে ব্লাইন্ড ডেটে যাবার আগে, সবার আগে চেক করা হয় ফেসবুক প্রোফাইল। যে তার ফেসবুকে যতটা স্মার্ট, ধরে নেয়া রিয়েল লাইফেও তাই হবে। তারমানে আপনার ফেসবুকের প্রোফাইল মুলত আপ্নাকেই রিপ্রেজেন্ট করছে। ফার্স্ট ইম্প্রেশন টা আসছে ফেসবুকের উপর ভিত্তি করে। শুধু প্রেমের বেলাতেই নয়, বাইরের দেশে জব সেক্টর গুলাতেও ফেসবুক প্রফাইল কে অনেক মূল্য দেয়া হয়। চাকুরির ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি ফেসবুক চেকিং হয় ক্রিয়েটিভ ডিপার্ট্মেন্টে। আমি যেখানে জব করি, সেই অফিসেও সিভির সাথে ফেসবুক এর লিঙ্ক দিতে হয়। এইচার ডিপার্ট্মেন্ট আবার সেই ফেসবুক প্রফাইল অব্জার্ভ করে।
আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না, আপনার পার্সোনালিটির কত বড় একটা অংশ ফেসবুকে প্রতিফলিত হয়। আপনার প্রোফাইল পিকচার, কাভার ফটো, স্ট্যাটাস, এলবাম, লাইক, গ্রুপ, পেজ সবকিছুই আপনার বৈশিষ্ট ধারন করে।




একটা ব্যাপার জানেন ? অধিকাংশ ছুপা ছাগুই কিন্ত ফেসবুকে ধরা খায়। হয়তো অনেক আগে শিবিরের কোন পেজে লাইক দেয়া আছে, কোন স্ট্যাটাসে বা কমেন্টে পাকিস্তান কে সাপোর্ট করেছে। ফেসবুকে কিন্তু সবকিছুরি রেকর্ড থাকে। যত আগেই কেউ কিছু করুক না কেন, তা খুজে বের করা সম্ভব।
আপনার এল্বাম দেখলেই বুঝা যাবে, আপনি মানুষ টা কেমন। আপনার এল্বামে ফ্রেন্ডসদের ছবি বেশি থাকলে ধরে নেয়া হবে আপনি একজন ফ্রেন্ডলি মানুষ। পার্টির ছবি বেশি থাকলে বুঝা যাবে, আপনি ফান লাভিং। আপনার ফলো লিস্টে মেয়েদের সঙ্খ্যাবেশি থাকলে ধরে নেয়া হবে আপনি একজন লুল। সমস্যা কোথায় জানেন ? মে বি আপনি আসলে লুল না। কিন্ত আপনার ফেসবুক প্রোফাইল দেখলে মনে হবে আপনি লুল। তা না হলে ১৮+পেজে কেন লাইক থাকবে ? তারমানে ফেসবুক প্রোফাইল কে হেলাফেলা করার কোন সুযোগ নাই। আপনি যদি "সে কেন চলে গেলো" টাইপের স্ট্যাটাস দেন, ধরে নেয়া হবে আপনি মেন্টালি স্ট্রেসে আছেন। আবার প্রোফাইলে বা কাভারে কাপল ছবি থাকে, ধরে নেয়া হবে আপনি হ্যাপি আছেন। কাজেই যারা জব বা বিজনেস করেন কিংবা করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য ফেসবুক মেইন্টেইন করাটা অনেক জরুরী। চেষ্টা করবেন আপনার ফিল্ড রিলেটেড স্ট্যাটাস, ছবি ইত্যাদি বেশি বেশি শেয়ার করার। আমেরিকাতে জবের ক্ষেত্রে ৭৫% ক্যান্ডিডেটের সিভি চেক করা হয় অনলাইনে। তারা রিসার্চ করে ক্যান্ডিডেটের ফেসবুকের উপর। এমন কি টিমে একজন সাইক্লিয়াটিস্ট ও থাকে, আপনার ফেসবুক থেকে আপনার কার্যক্ষমতার লেভেল ফাইন্ড আউট করার জন্য। ট্রাস্ট মি, ইট হ্যাপেনস এন বাংলাদেশ অলসো।

এইকথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ফেসবুক এ আপনি নিজেকে স্মার্ট এবং এলিজেবল হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুযোগ টা কেন মিস করবেন সামান্য অবহেলা করার কারনে ? আপনার সেলফ এডভার্টাইজিং এর মাধ্যমে আপনি একজন আইকন হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন।

আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল, আসিফ মহিউদ্দীন, আরিফ আর হোসাইন, ড.আইজুদ্দিন,সবাক পাখি এনাদের কথা চিন্তা করেন। এরাই কিন্ত ফেসবুকের রথহি মহারথি। তাদের এক একজনের ফলোয়ার সঙ্খ্যা অনেক। তারা একটা স্ট্যাটাস দিলেই তাতে লাইকের হিড়িক পড়ে যায়। তার মানে হচ্ছে এই মানুষগুলা নিজেদের একটা আইডেন্টিটি ক্রিয়েট করতে পেরেছে ফেসবুকে। তারা যদি একটা কথা বলে, তাহলে সবাই শুনবে। অন্তত পড়ে দেখবে। একবার চিন্তা করে দেখেন
তো, এইরকম কেউ যদি একটা স্ট্যাটাস দেয়, "আজকে লাক্সের নতুন সাবানটা কিনলাম, অনেক দারুন। আপ্নারাও ব্যাবহার করে দেখতে পারেন"- তাহলে কি হবে ? শিওর থাকতে পারেন, স্ট্যাটাসদাতার ফলোয়ারদের মাঝে মিনিমাম ২৫% পরবর্তিতে সাবান কিনার সময়ে লাক্সের নতুন ডিজাইনের সাবান কিনবে।
একই কথা পেজগুলার ব্যাপারেও প্রযোজ্য। একটা পেজে যদি ১০,০০০ মেম্বারের লাইক দেয়া থাকে, তাহলে সেই পেজে একটা ম্যাসেজ থ্রো করা মাত্রই দশ হাজার মানুষের কাছে তা পৌছে যাচ্ছে। একটা বিজ্ঞাপন দিলে তা এক সেকেন্ডে দশ হাজার মানুষের চোখ পড়ছে। তাহলে ফেসবুকের চাইতে ভালো কোন মাধ্যম কি আর হতে পারে ? এ কারনেই দেখবেন এখন যে কোন টিভি অনুষ্ঠান, চ্যানেল, প্রডাক্ট, সার্ভিস এর ফেসবুক পেজ থাকেই। এতে করে তারা সবসময় কাস্টোমারদের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারে। এডভার্টাইজিং কমিউনিকেশনের জন্য ফেসবুকের কোন বিকল্প নাই আসলে।


তবে একটা ব্যাপার আছে। সেটা হচ্ছে, আপনি শুধু ফেসবুক বা ইউটিউব ইউজ করলেই হবেনা, মানুষের কাছে সেটা পৌছুনোর ব্যাবস্থাও করতে হবে। এখানেই চলে আসে কমিউনিকেশন স্ট্রাটেজির কিছু ব্যাপার। ব্যাখ্যা করি তাহলে।





আপনি আপনার বিজনেস প্রমোট করার জন্য কাস্টোমারের সাথে সবসময় একটা কমিউনিকেশনের মাঝে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য ইউটিউব একটা চমৎকার সাইট। জাস্ট একটা ওয়েব ক্যাম হলেই চলবে। তারপর যেটা করবেন, আপনার বিজনেস বা প্রোডাক্টের উপর একটা ভিডিও প্রেজেন্টেশন তৈরি করবেন। হতে পারে আপনি শাই, বা কথা বলতে গেলে সমস্যা হয়। নো প্রবলেম, অন্য কাওকে দিয়ে করান। অথবা আগে স্ক্রিপ্ট করে নিন কি বলবেন। তারপর প্রাক্টিস করে ভিডিও করুন। মনে রাখবেন, আপনি যখন কারো সাথে কথা বলবেন, সে আপনার সাথে অনেক তাড়াতাড়ি ক্লোজ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ব্লগ কিংবা ফেসবুকে মানুষ শুধু আপনার লেখা পড়তে পারছে, বাট আপনাকে লাইভ দেখছে না। কিন্ত ইউটিউবে আপনাকে কথা বলতে দেখা যাবে। এটা সাইকোলজিকাল একটা ব্যাপার। আপনি যখন সামনাসামনি কারো সাথে কথা বলবেন, তখন একটা বন্ড তৈরি হয়। এটাকে বলা হয় পারসোনাল কমিউনিকেশন। ভিডিওতে কিন্ত আপনার
মুখের এক্সপ্রেশন, আপনার হাসি, হাত নাড়ানো ইত্যাদি সবি দেখা যাচ্ছে। আবার জিনি দেখছেন, তিনি যেহেতু কম্পিউটারের সামনে বসে আপনার কথা শুঞ্ছেন, তাই একটা টু ওয়ে কমিউনিকেশন তৈরি হবে। অনেক টা ইউ এন্ড মি টাইমের মত। খেয়াল করলে দেখবেন, আইফোন, স্যামসং বা ডিএসেলার ক্যামেরা কোম্পানিগুলো কিন্তু সবসময় প্রোডাক্টের একটা ভিডিও প্রেজেন্টেশন লঞ্চ করে। যে কোন মডের মোবাইল সেটের নাম টাইপ করে দেখুন ইউটিউবে, দেখবেন বেশ কিছু রিভিউ পাবেন। আর সবসময় যে আপনি এড দিয়ে যাবেন তাও কিন্ত না। যে কোন ব্যাপার নিয়েই ইন্টারেস্টিং কথা বলতে পারেন ভিডিও ব্লগে। সেটা হতে পারে রিসেন্ট কোন ইস্যু নিয়ে, পলিটিক্স নিয়ে, রেপ, করাপশন, স্বদেশ কে নিয়ে।

প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার ভিডিও দেখে আসলেই কেউ আপনার প্রোডাক্ট কিনবে কিনা। আসলে ব্যাপার টা ঠিক সরাসরি আপনার পন্য বিক্রির জন্য নয়। আপনি যখন কন্টিনিউয়াস্লি ভিডিও ব্লগিং করবেন, মানুষ সেটা একবার দেখবে, দুইবার দেখবে, চেঞ্জ করবে, আবার দেখবে...এক সময় তারা নিজের অজান্তেই ইনভল্ভ হয়ে যাবে আপনার সাথে। এটাকে এডভার্টাইজিং এর ভাষায় বলা হয় ক্রাউডিং
ভিডিওর সুবিধা হচ্ছে, আপনাকে সবাই দেখতে পারছে। মানুষ নিজের সেন্স কে কিন্ত অবিশ্বাস করতে পারেনা। তারা আপনাকে দেখছে, আপনার বিজ্ঞাপন দেখছে, প্রোডাক্ট দেখছে, কথা শুঞ্ছে। সো আপনি যে জেনুইন, সেই ব্যাপারে কোন সন্দেহ তাহলে থাকছেনা। আমাদের দেশে চমক হাসান এবং সোলায়মান সুখন নামে দুইজন মানুষ চমৎকার ভিডিও ব্লগিং করেন। আসুন সুখন ভাইয়ের একটা ভিডিও দেখি ।




একটা ব্যাপার মনে রাখবেন, আপনি ভিডিও ব্লগিং এবং ফেসবুক এ এক্টিভ থাকলে মানুষ প্রথমে কেয়ার করবেনা আপনি কি বলতে চাচ্ছেন, বা কিসের এড দিচ্ছেন। বাট তারা
এটা শিওর থাকবে, ইউ আর আপ টু সাম্থিং। তারা অন্তত এইটা শিওর যে আপনি এনোনিমাস কেউ নন। আপনার একটা আইডেন্টিটি তৈরি হবে অনলাইনে। এখন যেটা করবেন তা হচ্ছে, ইউটিউবে আপনার ভিডিও ব্লগে এবং ফেসবুকে শেয়ার করবেন। যেহেতু এতদিন সবাই আপনাকে নিয়মিত দেখে এসেছে, তাদের কাছে অলরেডি আপনি পরিচিত। সো, তারা একবার হলেও ভিডিওটি দেখবে। জানার চেষ্টা করবে, আপনি কি বলতে চাচ্ছেন। মোট কথা আপনার রেগুলার এক্টিভিট
তাদের এইটুকু সিকিউরিটি দিচ্ছে, যে আপনি ফ্রড কেউ না। আপনাকে অনলাইনে প্রতিদিন দেখা যায়, আপনার নাম ঠিকানা সবি ওপেন। তারমানে আপনাকে ট্রাস্ট করা যায়। এবং এতক্ষন যা বললাম, সবি হচ্ছে এই ট্রাস্টটুকু গেইন করার জন্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এডভার্টাইজিং এবং মার্কেটিং এর জন্য অনলাইনে এনোনিমাস থাকা যাবেনা একেবারেই। ব্লগিং ে ভিন্ন ব্যাপার, বাট যখন আপনি কমিউনিকেশনে যাবেন অডিয়েন্সের সাথে, তখন আপনার পরিচিতি সম্পর্কে তাদের সিকিউর করাটা জরুরি। মানুষ কখনই অপরিচিতদের কথা শুনতে চায়না, তাদের কাছ থেকে কিছু কিনতে চায়না।


ফেবুতে তো অনেক পেজ আছে। তাহলে আপনাকে সেই সব পেজ থেকে এগিয়ে থাকতে হলে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। চেষ্টা করুন অডিয়েন্স কে ফ্রি কিছু দেয়ার। আপনি যদি ডাক্তার হন, তাহলে ফ্রি কিছু স্বাস্থ্য টিপস দিন। আপনি সিনেমাখোর হলে আপডেট সিনেমার রিভিউ দিন। ডিজাইনার হলে কিছু ডিজাইন শিখিয়ে দিন। ফটোগ্রাফার কিভাবে ছবি
তুলতে হয়, সেই সম্পর্কে টিউটোরিয়াল দিতে পারেন। অর্থাৎ আপনি মানুষ কে আপনার সাথে এঙ্গেজ হবার সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাদের এমন কিছু জিনিস অফার করছেন, যেটাতে আপনার টাকা খরচ হবেনা, কিন্ত অডিয়েন্স খুশি হবে। জাস্ট বি নাইস, পোলাইট। মেক এ রিলেশনশিপ উইথ দ্যা পিপল।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য যদি কোন পেজ বা গ্রুপ ওপেন করেন, তাহলে সব সময় চেষ্টা করবেন আপডেট রাখার। পারলে আপনার প্রোডাক্টের ছবি, তথ্য, লোগো, প্রেস এড, নিউজপেপারের স্ক্রীনশট ইত্যাদি ক্রমগত শেয়ার করতে থাকবেন।এতে করে আপনার কর্পোরেট আইডেন্টিটির সাথে সবার পরিচয় ঘবে। তাদের চোখ আপনার পন্যের প্রতি আকৃষ্ট হবে। যেমন মনে করুন, রবির ফেসবুক পেজ। দেখবেন তারা সবসময় তাদের কর্পোরেট কালার লাল ইউজ করে সবযায়গাতেই। আবার বাংলালিঙ্ক ইউজ করে কমলা। আপনি একবার দেখলেও রিকগ্নাইজ করতে পারবেন এটা বাংলালিঙ্ক নাকি রবির এড। কাজেই চেষ্টা করবেন একই কালারের
এড, কমন লোগো ইউজ করার। এই সিম্পল রিসোর্স গুলা ইউজ করে কিন্ত আপনি একটা পাব্লিক রিলেশন তৈরি করছেন। আর পাব্লিক রিলেশন বা পি আর হচ্ছে ব্রান্ডিং এর আরেকটা গুরুত্বপূর্ন হাতিয়ার।

তবে ওড়না পেইজ বা একটা লাইক সমান একটা চুম্মা টাইপের বিরক্তিকর ব্যাপারগুলা থেকে দূরে থকার চেষ্টা করবেন।


চেষ্টা করুন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের কাজে ফেসবুক, ইউটিউব এবং ব্লগ কে ইউজ না করে সোশ্যাল মিডিয়া হিসেবে ব্যাবহার করার। এক্টিভিজম শুরু করে দিন ফেসবুকে। বিভিন্ন ইস্যুতে ইভেন্টস ক্রিয়েট করে রাস্তায় নেমে আসুন। ভুলে যাবেন না, এই ফেসবুক দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যে কোন কোন দেশে সরকার পতন হয়েছে। কাজেই সমাজের যেখানেই অসঙ্গতি দেখবেন, সেখানেই ভয়েস রেইস করুন। পরিবর্তন আসবেই, এবং সেটা আমাদের হাত দিয়েই। অনলাইন এক্টিভিস্টরাও কিন্ত চমৎকার একটা ব্রান্ড। সো হ্যাপি ব্রান্ডিং।


এতক্ষন কষ্ট করে পড়ার জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।





(পোস্ট উৎসর্গঃ নোমান , মেঘ রৌদ্দুর, রাকিব এবং আরিফ আদনান। এদের সাথে এডভার্টাইজিং নিয়ে আড্ডা খুব উপোভগ করি )


পর্ব ৬ - কমিউনিকেশনের ম্যাজিক

পর্ব ৬ - এরিস্টটলের আপেল

পর্ব ৫- কপিরাইটিং ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29755866 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29755866 2013-01-26 14:43:57
লেখকের জন্ম, লেখকের মৃত্যু...


কথিত আছে, কবি সাহিত্যিক রা হচ্ছেন একটি সমাজের সভ্যতার মানদন্ড। যে সমাজে কোন লেখক নেই, কোন কবি নেই, সেই সমাজ সৃষ্টিশীলতাকে বিদায় জানিয়েছে।


"কত গুনীজন, বিদগ্ধ প্রান তোমার ছবি আকে,
সত্যজিত আর মৃনাল সেন, কত ভুলবে কাকে
তবুও হৃত্বিক, সুকান্ত মরে, জানতে পারেনা লোকে... "


পাশের দেশ ইন্ডিয়ার দিকে একবার দেখুন। সেই দেশের বন্ধুবান্ধব রা বড় আফসোস করে। আমাদের দেশে কবি সাহিত্যিকদের যে সন্মান দেয়া হয়, তাদের দেশে এর ছিটে ফোটাও নেই। তাদের কবিদের মাঝে আত্মহত্যা করার প্রবনতা বেশি। কত সুকান্ত মরে যায়, আধুনিকতার চাপে ফিরে তাকানোর কোন সুযোগ নেই। সুনিলের মারা যাবার খবর এনডিটিভিতে ছোট একটা নিউজেই সারা। আমার সন্দেহ আছে কতদিন পর আমরা আরেকজন সুনিল বা সমরেশ কে পাবো পশ্চিমবাংলার সাহিত্যে। তাদের ভবিষ্যত সত্যজিত বানানোর জন্য সত্যজিত রায় ফিল্ম ইন্সটিটিউট আছে, শিল্পী বানানোর জন্য শান্তিনিকেতন আছে। কিন্ত লেখক তৈরি হবার কোন সুযোগ নেই। খাতা কলম কে বিদায় জানিয়ে তারা এখন বোকা বাক্সতে বন্দী।


যে দেশে গুনের সমাদর নেই, সেই দেশে গুনী জন্মায় না।
আমরা গুনের কদর দিতে জানি।


আমাদের বাংলাদেশে এক হুমায়ুন আহমেদ মারা যাবার পর একটানা সাত দিন পত্রিকাগুলি তার রচনা প্রকাশ করে। টিভিতে একের পর এক দেখা যায় তার নাটক। আমাদের দেশে জাহানারা ইমাম কে বলা হয় বংগজননী। এক হুমায়ুন আজাদ তার লেখার ক্ষমতা দিয়ে কাপিয়ে দিতে পারে মৌলবাদের ভিত। ব্লগ খুললেই প্রথম পাতাতেই পাওয়া যায় কবিতা, ছোট গল্প। একজন ইমন জুবায়েরের মৃত্যু আমাদের সবাইকে কাদায়।

বইমেলা আসলেই একটা উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয় লেখক -পাঠক সমাজে। লেখকদের আমরা সন্মান করি। টেকনোলজি যতই এগিয়ে যাক, আমদের সাহিত্যের দ্বার কখনো বন্ধ হবার নয়। আমাদের কবি সাহিত্যিক বানানোর জন্য অসাধারন একটা প্রকৃতি আছে, সমৃদ্ধশালী একটা সংস্কৃতি আছে, বিশাল একটা পাঠক সমাজ আছে। আমাদের সাহিত্যের ভবিষ্যত হারিয়ে যাবার নয়।

আসছে ফেব্রুয়ারিতে সকল লেখক পাঠকদের স্যালুট, বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেবার জন্য ।]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29752607 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29752607 2013-01-21 00:41:55
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার... (পর্ব ৮) - ক্রিয়েটিভিটি


এডভার্টাইজিং হলো ব্রান্ডিং এর একটা টুলস। ব্রান্ডিং ব্যাপারটা আমরা আসলে বাইরে থেকে যা বুঝি, তার চাইতেও অনেক ব্যাপক। ব্রান্ডিং কি জিনিস সেটা সম্পর্কে ধারনা পাওয়ার জন্য এই সিরিজের প্রথম পোস্ট থেকে কিছু লেখা কোট করি।

ব্রান্ডিং মানে হচ্ছে "কমোডিটি উইথ আইডেন্টিটি"।

এখানে কমোডিটি হচ্ছে পন্য, আর আইডেন্টিটি হচ্ছে পরিচিতি। কিতাবি ভাষায় না গিয়ে নিজের মত করে বুঝানোর চেষ্টা করি। মনে করেন- আপনাকে আমি একটা লাক্স, এরোমেটিক, ডাভ আর কসকো থেকে একটি সাবান বেছে নিতে বললাম। আপনি কোন টা বেছে নিবেন ?
আমি হলে লাক্স বেছে নিবো। কারন এটার দাম, গন্ধ, কালার, কোয়ালিটি আমার সাথে যায়। আমি এটা চিনি, আমার এটা ভালো লাগে। সেই সাথে এটা সহজলভ্য। তাহলে লাক্স হচ্ছে আমার ব্রান্ড। আবার আমার টাকা পয়সা একটু বেশি হলে আমি হয়তো ডাভ এর দিকে ঝুকতাম । তার মানে ক্ষেত্র বিশেষে আমার কমোডিটির চয়েস, ব্রান্ড চয়েজ চেঞ্জ হচ্ছে।
এই যে পন্যের একটা পরিচিতি আমার কাছে আছে, ইহাই ব্রান্ডিং। বলা জেতে পারে, আপনার পন্য কে আপনার কাছে পরিচিত করাই হচ্ছে ব্রান্ডিং এর মুল কথা।

একটা কথা মাথায় ঢুকিয়ে নিন। পৃথিবীতে সব কিছুই ব্রান্ড এবং সব কিছুর মাঝেই ব্রান্ডিং , এডভার্টাইজিং এর ব্যাপার আছে। এই যে হাসিনা, খালেদা নির্বাবচনের আগে এটা করবো, ওটা করবো, এরকম নানান কথা বলে, ইশতিহার দেয়, এইটাও কিন্ত ব্রান্ডিং। তাদের নিজ নিজ পার্টির ব্রান্ডিং।
বাংলাদেশ যখন খেলায় জিতে, বা এভারেস্ট জয় করে, তখন আমরা দেখি, দেশের পতাকা ব্যাবহার করা হয়। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ব্রান্ডিং।
আবার মসজিদের ইমাম, চার্চের ফাদার থেকে শুরু করে মন্দিরের পুরোহিত রা এত বয়ান দেয়, এটা করেন স্বর্গে যাবেন, ওটা করে, নরকে যাবেন। এইটাও ব্রান্ডিং। ধর্মকে ব্যাবহার করে গড কে সেল করা হচ্ছে।
আবার আপনি কাওকে ভালোবাসেন, আপনার ভালোবাসার এডভার্টাইজিং করতে হবে। না হলে প্রেম টিকবেনা। আপনাকে ফুল কিনে নিয়ে যেতে হবে, এনিভার্সারিতে গিফট দিতে হবে। ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কিন্ত এইগুলা ইম্মপর্টেন্ট না। তারপরো আপনাকে শো অফ করতে হচ্ছে। নিজের ভালোবাসার ব্রান্ডিং করতে হচ্ছে।
পাত্রি দেখার সময় কন্যার মা বলন, আমার মেয়েটা সোনার টুকরা, ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট হয়, ভালো রাধতে জানে, গান
গাইতে পারে। এই কথাগুলো কেন ? আসলে তিনি নিজের মেয়ের ব্রান্ডিং করছেন।

তারমানে দাড়ালো ব্রান্ডিং এবং এডভার্টাইজিং জিনিসটাকে হেলাফেলা করার কোন স্কোপ নাই । যখনি আপনার সামনে অপশন থাকবে কোন কিছুর, এড ও থাকবে যথারীতি।
কারন এডের কাজ ই তো হচ্ছে আপনাকে ইনফরমেশন দেয়া। আপনি যদি মনে করেন ব্রান্ডিং বা বিজ্ঞাপন মানে হচ্ছে খালি টিভিতে কিছু পরিচিত মুখ দেখিয়ে প্রোডাক্টের বর্ননা করে যাওয়া, তাহলে এইটা একটা ভুল ধারনা। আপনার ভুল ভাঙ্গিয়ে দেই। ট্রাস্ট মি, আপনি এডভার্টাইজ ছাড়া একটা পন্যও কিনতে পারবেন না। যে পন্য বা সার্ভিস ই আপনি কিনতে জান না কেন,
আপনাকে এড দেখেই কিনতে হবে।

তার আগে এডের সঙ্গাটা একটু বুঝে নেয়া দরকার।




এডভার্টাইজিং হচ্ছে এক ধরনের ম্যাস কমিউনিকেশন, যার মাধ্যমে আপানার টার্গেট পিপল কে আপনি কোন তথ্য জানাতে পারবেন, ম্যাসেজ দিতে পারবেন, তাকে মটিভেট , ডিমোটিভেট বা ম্যানুপুলেট করতে পারবেন এবং সেই অডিয়েন্স দের মধ্যে এরাউজাল ফিলিং আনতে পারবেন। আকৃষ্ট করতে পারবেন কোন কিছু কিনার জন্য, না কিনার জন্য
কিংবা কোন একশনে আসার জন্য।

আগেই বলে রাখি এড বলতে এখানে শুধুমাত্র টেলিভিশন এড (টিভিসি) বুঝানো হচ্ছেনা। এড হতে পারে নানান ধরনের, নানা মিডিয়া ইউস করে।। টিভিসি, রেডিও এড, বিলবোর্ড, প্রেস এড, ইভেন্টস, কনসার্ট, ফেসবুক, সিএসআর, লিফলেট, ব্রশিয়ার, স্টিকার, জামা কাপড় এমন কি এখন একটা বাসের উপরো দেখবেন নানান এড। আচ্ছা,এবার চিন্তা করুন, এড ছাড়া আপনি কোন পন্য কিনেছেন এই পর্যন্ত ?

মনে করেন, আপনানি মোবাইল কিনেছেন নোকিয়া। এড না দেখলে আপনি জানতেন কিভাবে নকিয়া নামে একটা সেট আছে ? না হয় নোকিয়ার টিভি এড দেখেন নি,বাট দোকানে গিয়ে
সেটের ফিচারগুলা তো পড়েছেন। আবার বলতে পারেন, আমিতো নকিয়া কিনেন নি। কিনেছি একজর্ড কোম্পানির মোবাইল। এইটার তো আর এড দেখায় না। তাহলে ??
এ জন্যেই আগেই বলে নিয়েছি, এড নানা ধরনের হয়। এই যে একজর্ড নামের একটা মোবাইল দোকানে ছিলো, তাদের কাছে তো একজর্ড কোম্পানি অবশ্যই এড দিয়েছে।
আবার দোকানিরা সেই মোবাইল টাকে ডিসপ্লের উপরে রেখেছে যেন আপনি দেখতে পান। যেহেতু নাম না জানা কোম্পানির মোবাইল কিনেছেন, তাহলে নিশ্চই দোকানদার আপনাকে
এই সেটের সুবিধা গুলা বলেছে। এই ডিসপ্লেতে সাজানো থেকে দোকানির আপনাকে তথ্য দেয়া পর্যন্ত সবকিছুই এড।

আরো সহজ করে দেই ব্যাপার টা।

মোবাই কিনার বেলায় আমরা সাধারনত অনেক পন্যের মাঝখান থেকে চোখ বরাবর জিনিস বেছে নেই। সাধারনত বসে পড়ে নিচের দিকের সেট দেখিনা। ডিস্প্লের উপরের দিকে কাঙ্খিত মোবাইল রাখা, যাতে করে ক্রেতা আই লেভেল বরাবর সেট টি দেখতে পান, এইটা একটা এড স্ট্রাটেজি। একে বলা হয় হটস্পট। আবার দোকানি যে আপনাকে মোবাই সম্পর্কে তথ্য দিলো, এইটাকে বলে বিলো দ্যা লাইন এড। তারমানে আপনি আসলে এড ব্যাতিত কোন মোবাইল কিনতে পারেন নি।

টিভি কিনবেন ? কি টিভি ? সনি, স্যামসং ? কেন কিনবেন ? আগের টিভিটা পুরান হয়ে গেছে বলে ? এখন আপনি কিন্ত আগের সেই মান্ধাতা আমলের টিভি আবার কিনবেন না।
অনেক আপডেট টিভি আসায় আপনার পুরান টিভি এখন আর আপনার ব্র্যান্ড নাই। আপনার ব্রান্ড হবে এখন যে টিভি টা কিনবেন সেটা। আপনি আপডেট জিনিস খুজার জন্য নিশ্চই তাদের ব্রশিয়ার চেক করবেন। কোন টিভিতে কি সুবিধা আছে সেইটা দেখবেন। দোকানদার বা অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিবেন। এই যে টিভি কিনার আগে আপনি দোকানীকে জিজ্ঞেস করছেন-
সে আপনাকে সাজেস্ট করছে অমুক টিভিটা কিনার জন্য, এডভার্টাইজিং এর ভাষায় একে বলে পয়েন্ট অফ পারচেস (পিওপি), আবার যখন ব্রশিয়ার চেক করছেন, সেইটা হলো প্রিন্ট এড। ফ্রেন্ড কে জিজ্ঞেস করছেন কোন টিভি ভালো, এইটা হচ্ছে পিয়ার গ্রুপ ফ্যাক্টর, এডের আরেকটা স্ট্রাটেজি।

মানে দাড়ালো, আপনি যেই পন্যই কিনতে জান না কেন, কোন না কোন এডের মাধ্য দিয়ে আপনাকে যেতেই হবে। কাজেই কোন কিছু কিনতে বা বেচতে গেলে এডের কোন বিকল্প নাই।
আপানারা দেখবেন, বেশিরভাগ সময়ে একটা কোম্পানির প্রডাক্টের ম্যানুফেকচার কস্ট এর চেয়ে মার্কেটিং এ বাজেট থাকে বেশি। এরকম একটা পন্য হলো কোকাকোলা। যার প্রডাকশনের কস্টের চেয়ে দশ গুন বেশি দামে বিক্রি করা হয়। কারন সেই দশগুন টাকা খরচ হয় মার্কেটিং এ। যতই সময় যাক, কোকাকোলা যেহেতু তাদের প্রডাক্ট চেঞ্জ করতে পারছেনা, তাই তাদের কঞ্জিউমার ধরে রাখার এক্মাত্র উপায় হলো বোতলের আউটলুক চেঞ্জ করা, বোতলের শেপ চেঞ্জ করা, বিশেষ অফার দেয়া, নামিদামী তারকাদের দিয়ে এড বানানো ইত্যাদি। মানে পন্য চেঞ্জ করতে না পারলে, এড চেঞ্জ করুন- প্রোডাক্ট বিক্রি থেমে থাকবে না।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ট্রানজিশন হচ্ছে এডভার্টাইজিং ইন্ডাস্ট্রিতে। বিশ্বাস হয় না ? একটা টেলিভিশন এড করতে গেলে মিনিমাম ২০-৩০ লাখ টাকা লাগে এখন। আপনার কি মনে হয় এমনি এমনি এইসব বাঘা বাঘা কোম্পানিরা বিনা দরকারে এত টাকা খরচ করে ? মোটেই না। এজন্যই বলছি, বিজনেসের ক্ষেত্রে এডভার্টাইজিং ফিল্ড টা অনেক ইম্পর্টেন্ট। এবং মজার ও। আপনি টাকাও কামাতে পারবেন অঢেল, আবার সৃষ্টিশ্লীলতার ও চর্চা করতে পারবেন। মানে আপনি বোরিং সময় কাটাবেন না। শুধু মাত্র নিজের ক্রিয়েটিভিটি ব্যাবহার করে আইডিয়া দেবেন, আর বেতন নিবেন। এর চেয়ে মজার জব আর হয় ?







যাই হোক, আগের কথায় ফিরে যাই। ব্রান্ড এবং এড সম্পর্কে নিশ্চই একটা ধারনা পেয়েছেন। এখন মাথায় রাখেন, এড ফিল্ডে কাজ করতে গেলে আপনাকে ক্রিয়েটিভ, ইনোভেটিভ হতেই হবে। তাই এডভার্টাইজিং এর সাথে ক্রিয়েটিভিটির একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে।

এখন কথা হচ্ছে, ক্রিয়েটিভিটি কেন ? কোথায় পাবেন , কিভাবে ব্যাবহার করবেন । এডভার্টাইজিং এর থেকে একটু সরে গিয়ে একটু ব্যাপক আলোচনায় আসি।

"এন আইডিয়া ক্যান চেঞ্জ দ্যা ওয়ার্ল্ড"

এই কথাটা যে কতটা শক্তিশালি এই জিনিস টা এখনো আমরা উপলদ্ধি করি নাই। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট সিমন প্যারেস বলেছিলেন, "হাজার হাজার সোলজার যা করতে পারেনা,
একটা ক্রিয়েটিভ আইডিয়াই তা করে দেখাতে পারে।"

আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বসবাস করছি, এমেরিকান রা যাকে বলে 'দ্যা ভুকা ওয়ার্ল্ড',





এই ওয়ার্ল্ড খুবি ফাস্ট মুভিং। আমরা বর্তমানের ফিনানশিয়াল কিংবা সোশ্যাল অবস্থা বিবেচনা করলে দেখতে পাই, কোন কিছুই এই ওয়ার্ল্ডে টিকে না। ইট'স কমপ্লিকেটেড, ভার্সেটাইল এবং ভোলাটাইল। এবং আগামী বিশ বছরে এর কোন পরিবর্তন হবেনা। বরং কমপ্লিকেসি আরো বাড়বে। প্রতিযোগিতা বাড়বে,সামাজিক অবক্ষয় বাড়বে, সামাজিক মূল্যবোধ কমবে। প্রচলিত যা কিছু আমরা ব্যাবহার করি, সব বেকার হয়ে যাবে।
ধর্ম-ডেড, ম্যানেজমেন্ট-ডেড, লজিস্টিক-ডাজেন্ট ম্যাটার, এমন কি সবকিছুর ডিজিটালাইজেশনের ফলে আমাদের সম্পর্ক, আন্তরিকতা, অনুভুতি- ডেড।

সাচি এন্ড সাচি পৃথিবী বিখ্যাত একটি এডভার্টাইজিং কোম্পানি। এর সিইও হচ্ছেন কেভিন রবার্টস। তার মতে, ক্রিয়েটিভ পার্সন দের জন্য এই পৃথিবীটাই হচ্ছে সবচাইতে উপযোগী। তিনি বলেছেন, এইটা 'সুপার ওয়ার্ল্ড' আমাদের জন্য।
সি, উই আর ইন এডভার্টাইজিং। এড মিডিয়াতে সব কিছুই সুপার। সুপার ফ্যান্টাসি, সুপার মডেল, সুপার গার্লজ, সুপার বিজনেস, সুপার মিডিয়া পারসোনা- এভ্রিথিং ইজ সুপার। আর কেনই বা হবেনা ? এড ফিল্ডে যারা কাজ করেন, সকলেই যে ক্রিয়েটিভ।

আমরা বাস করছি ক্রিয়েটিভিটির একেবারে প্রান্তে। এই সময়ে, যখন সব কিছুই মৃতপ্রায়, একমাত্র দামী জিনিস হচ্ছে ক্রিয়েটিভ আইডিয়া। সারা পৃথিবীর মানুষ যখন অসঙ্খ্য কমোডিটির অপশনে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন একটা আইডিয়াই পারে তাদের কে স্বপ্ন দেখাতে। পৃথিবীকে একটা আশা দেখাতে। নতুন কিছু স্বাদ দিতে। ট্রাস্ট মি, এমন অনেক মানুষ জন আছে, যারা একটা আইডিয়ার জন্য বসে আছে। তাদের টাকার কোন অভাব নাই, বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। আমাদের যা দরকার, তা হচ্ছে, জাস্ট একটা অসাধারন আইডিয়া বের করা। এবং তা সবার সাথে শেয়ার করা। আমাদের কাছে আছে আইডিয়া, আমাদের কাছে আছে নেট। আমাদের শুধু এই পিভিলেজটুকু কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য আপনার অনেক টাকার প্রয়োজন নাই। আপনার দরকার খালি একটা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট । সাথে অবশ্যই চরম কোন আইডিয়া। আপনি পুরা পৃথিবীটার চেহারা চেঞ্জ করে দিতে পারবেন, উইথিন টুয়েল্ভ আওয়ার্স। সাইয়ের 'গ্যাংন্যাম স্টাইল' এর কথা চিন্তা করেন। সারা পৃথিবী এখন গ্যাংনাম জরে আক্রান্ত। বাট দিস ইজ নট এ ক্লাসিক। এটা জাস্ট একটা মিউজিক, একটা ড্যান্স মুভ। নাথিং এলস। কিন্ত তারপরেও ইউটিউবে এই ভিডিও ১০০ কোটি বারের বেশি দেখা হয়েছে।

তার মানে মানুষ এখন আসলে কোয়ালিটির বা পিছনে ছুটে খুব কম। ইনসট্যান্টলি তার যা ভালো লাগবে, সেটাই সে গ্রহন করতে প্রস্তুত। তাহলে আপনার কাজ হচ্ছে, গ্রহন যোগ্য কিছু বের করে তা শুধু শেয়ার করা। বাকিটা আমরা নিজেরাই সবাই মিলে করে নিবো। আমরাই হচ্ছি এখন ফর্মে।

জর্জ বার্নাড শ বলেছিলেন, 'প্রগ্রেস উইল ক্যাম বাই দি আনরিজনেবল এন্ড ক্রেইজি ম্যান এন্ড উইম্যান' , এখন সময়টা যাচ্ছে ক্রাইসিসের, আগেই বলেছি। কাজেই আমরা যারা
এডভার্টাইজিং এ আছি, আমরা রিচ, আমরা সাহসী, আমরা ক্রেইজি, আমাদের ভয় পাওয়ার কোন কারন ই নাই। মোর ওভার আমাদের কাছে আছে আসল জিনিস, ক্রিয়েটিভ আইডিয়া। যে ক্ষেত্রেই কাজ করেন না কেন, আপনার ক্রিয়েটিভিটি এপ্লাই করতে পারলে আপ্নিও ভালো করবেন।

এডভার্টাইজিং এর গভীরে যেতে হলে আসলে আপনাকে ক্রিয়েটিভিটি এবং কমিউনিকেশন বুঝে তারপর যেতে হবে।
আজকে দু একটা পয়েন্ট নিয়ে বলি।


"নিউ" নয় "নাও"



এই "দ্যা ভুখা ওয়ার্ল্ডে" টিকে থাকতে হলে আপনাকে 'নিউ'র উপর থেকে নজর সরাতে হবে। এই ওয়ার্লেড সবকিছুই নিউ। এতই নতুন নতুন জিনিস আসছে,সো নিউ ইজ নো লঙ্গার নিউ। ইট'স অলরেডি ওল্ড। যখন আমরা নতুন কিছু একটা শুনি বা জানি, এর আধা ঘন্টার মধ্যেই চলে আসে ফেসবুকে, ব্লগে, ইউটিউবে। সময়ের সাথে সাথে এত এত নতুন জিনিস তৈরি হচ্ছে, বাট আমরা অপশনের চক্করে পড়ে গেছি। এটা না ওটা, সবি তো নিউ। এই করতে করতেই চলে আসে আরেক টা নিউ জিনিস। তারমানে নিউ, নিউ, নিউ ইজ অলরেডি ওল্ড, ওল্ড, ওল্ড।

সো নিউ ইজ নট ইম্পর্ট্যান্ট ফর দ্যা পিপল, হোয়াট ইম্পর্টেন্ট ইজ 'নাও' অর্থাৎ এখুনি । আগের পোস্টেও কিন্ত 'নাও' কথাটার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলাম। যাই হোক, আমাদের হ্যাপিনেসের প্রায় পুরাটাই আসে 'নাও' থেকে। মোটামুটি ভাবে বলা যায় ১৫% আসে, আপনার পাস্ট এচিভমেন্ট বা সুখ মুহুর্তগুলো
থেকে, ১৫% আসে ফিউচার থেকে, লাইক ড্রিমস, হোপ, প্রার্থনা ইত্যাদি। তবে বাকি ৭০% হ্যাপিনেস ই কিন্ত নাও। কাজেই আপনি যখন বিজনেস, এডভার্টাইজিং বা ক্রিয়েটিভে আছেন,
আপনাকে শিওর করতে হবে, আপনি যা করছেন তা যেন কঞ্জিউমার কে নাও (এখনি) হ্যাপিনেস দেয়, নট ইন ফিউচার, নট ইন পাস্ট।

ইমোশন ইন এডভার্টাইজিং




এডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রে ইমোশন একটা খুব গুরুত্বপুর্ন জিনিস।
এডে র‍্যাশনাল এবং ইমোশনাল থিংকিং এর মধ্যে পার্থক্য কিন্ত অনেক ব্যাপক। র‍্যাশনাল বা যৌক্তিক চিন্তা আপনাকে দিবে একটা কনক্লুশন, এবং আরো কনক্লুশন, এবং ইমেইল, মিটিং, কাউন্সেলিং, রিসার্চ, এগেই কঙ্কলুশন...এভাবে চলতেই থাকবে।
কাজেই যুক্তি নির্ভর এড মানেই হচ্ছে সেটাকে একটা সায়েন্টিফিক প্রসেসে নিয়ে আসা।

অন্যদিকে ইমোশনাল থিংকিং লিডস টু একশন। আমরা আসলে এডের মাধ্যমে আপনাকে মুভমেন্টে দেখতে চাই আমাদের সাথে (আগের প্যারায় বর্নিত মুভমেন্ট) , এবং মনে রাখবেন, অলোয়েজ ইমোশন আপনার কঞ্জিউমারকে দিয়ে একশন এ চলে যাবে ডাইরেক্ট। টেলিটকের বিজ্ঞাপন টা কেন এত হিট হলো বলুন ? কারন আমরা ইমশোনাল। টেলিকম কোম্পানিগুলার এডগুলা পুরা গল্পের মত লাগতো এক সময়। ধরেন বাংলা লিঙ্ক এর প্রথম দিকে দিন বদলের চেষ্টায় এডগুলার কথা। এই এড গুলাতে একটা স্টোরি ছিলো। এক একটা এডে এক একজন মানুষের স্ট্রাগল দেখানো হতো। সেই ইমোশন ছড়িয়ে পড়তো ভিউয়ারস দের মনেও। কাজেই ইমোশন ইন এড, ইজি ভেরি ইম্মপরট্যান্ট। আর সোশ্যাল এড হলে তো কথাই নাই।

ইমোশনের আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, আপনি কখনো ইমোশন নিয়ে রিসার্চ করতে পারবেন না। আপনি ইমোশনের প্রিটেস্ট করতে পারবেন না। কাজেই আপনাকে নির্ভর করতে হবে আপনার টার্গেট পিপলদের মনস্তত্ব এবং ইন্সটিঙ্কট এর উপর। আপনাকে সব ধরনের মানুষের সাথে মিশতে হবে, তাদের সাইকোলজি শিখতে হবে। তাহলেই একটা স্বার্থিক এড বানাতে পারবেন।

"বিগ আইডিয়া" বলে কোন ব্যাপার নেই




আসলে কথাটা ব্যাখ্যা করা দরকার। অসঙ্খ্য ছোট ছোট আইডিয়া মিলেই একটা বিগ আইডিয়া হয়। আইডিয়া কখনো একা একা জন্ম নেয় না। আমরা প্রকৃতি থেকে শুরু করে আমাদের চারিপাশের অসঙ্খ্য জিনিস অবজার্ভ করলে আইডিয়ার অভাব হবেনা। শুধু প্রতিনিয়ত ঘটনার সাথে লিঙ্ক খুজে বের করাটাই হলো ব্যাপার। যে বইটা পড়ছি, যে মুভিটা দেখছি, তার প্রতিটা লাইন ই হতে পারে একটি পটেনশিয়াল আইডিয়া। কাজেই চারপাশ দেখুন, ভাবুন, আইডিয়া চলে এসবে। আর একটা ব্যাপার, আইডিয়া কখনো তৈরি হয় না। এটা ডেভেলপ হয়। আইডিয়া ডেভেলপিং এর জন্য সবচাইতে ভালো উপায় হলো মানুষের সাথে ইন্টারেকশন, বই পড়া, মুভি দেখা, অন্যদের সাথে ব্রেইনস্টর্মিং করা। আইডিয়া আপনার চারপাশেই আছে, আপনাকে শুধু দেখতে হবে, খুজে বের করতে হবে।

তবে সে জন্য আপনাকে মন আর চিন্তার প্রসার ঘটাতে হবে।

একটা মৃতপ্রায় গাছ কে দেখে কাঠুরিয়া ভাববে সেটাকে কেটে লাকড়ি বানানোর কথা, আবার একজন আর্টিস্ট দেখবে মৃত্যুর প্রতিকী হিসেবে। তালগাছ দেখে সবাই ভাববে তাল খাওয়ার কথা। আর রবীন্দ্রনাথ ভাববেন,
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
উকি দেয় আকাশে

কাজেই এজ এ ক্রিয়েটিভ পারসন আপনাকে সবার চেয়ে ভিন্ন কোন এঙ্গেলে দেখতে হবে। যে জেনিস টা সবাই দেখেছে, কিন্ত কেউ আপনার মত করে ভাবেনি, সেটাই ক্রিয়েটিভ।

আজ এ পর্যন্তই, পরের দিন অন্য কিছু নিয়ে লেখবো। ইউটিউব অনেকেরি না থাকায় ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক দরকারি লিঙ্ক দিতে পারছি না।


যাই হোক, ধন্যবাদ সবাইকে।



আগের পর্বঃ পর্ব ৭, কমিউনিকেশনের ম্যাজিক ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29746473 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29746473 2013-01-10 19:48:21
ফিরে দেখা ২০১২- বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে সকল স্টিকি পোস্টগুলোর সংকলন।



সবাইকে ২০১৩ সালের শুভেচ্ছা।

দেখতে দেখতে চলে গেলো আরেকটি বছর । এই একটি বছরে ঘটে গেলো নানা ঘটনা । পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে নতুন রেজুলিউশন ঠিক করে সবাই শুরু করছে সম্ভাবনার নতুন প্রহর। ব্যাক্তিগত জীবনের সাথে সাথে ব্লগেও পড়েছে এর প্রভাব। যদিও ব্যাক্তিগতভাবে ব্লগ কে নাগরিক সাংবাদিকতার অনলাইন প্লাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারো কারো মতে ব্লগ হচ্ছে অনলাইন ডায়েরি। তবে কমিউনিটি ব্লগ হিসেবে সামু সেই বিভাজন রেখা এড়িয়ে গেছে সাহিত্য চর্চা সহ আরো নানাবিধ প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে। নিসন্দেহে বাংলা ব্লগস্ফিয়ারকে আরো শক্তিশালি করেছে এই প্রচেষ্টা।

যার প্রমান পাওয়া যায় সামহোয়্যারইন ব্লগের স্টিকি পোস্ট গুলার দিকে তাকালেই। আসুন দেখে নেই ২০১২ সালে সামুতে আলোচিত, সমালোচিত সেই সকল স্টিকি পোস্টগুলা যা তলে ধরেছে সামাজিক ইস্যুতে ব্লগারদের অবদান কে।

২০১১ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর ব্লগার ফিউশন ফাইভ এর লেখা
ফিরে দেখা ২০১১ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত লেখাটি দিয়ে প্রথম স্টিকি পোস্টের সূচনা। এই পোস্টে লেখক ২০১১ এর সারা বছর জুড়ে সামুতে যে সকল ব্যাপার ফোকাসে এসেছে, তাই নিয়ে লিখেছেন। ফিফা প্রতি বছরি এমন কিছু পোস্ট দেন, যাকে বলা যায় সামুর এনুয়াল সামারি। নতুন ব্লগারদের জন্য অবশ্যপাঠ্য ।

ব্লগার রেজওয়ান মাহবুব তানিম ভাই নির্বাচিত গল্প উপন্যাস এবং কবিতা নিয়ে তৈরি করেছিলেন একটি সঙ্কলন পোস্ট। অনেক অনেক সোশ্যাল ইস্যুর ভিড়ে এই লেখাটি সৃজনশীল পাঠকদের জন্য বিরাট একটি প্রাপ্তি। ব্লগ কতৃপক্ষও লেখাটি স্টিকি করে সাহিত্যচর্চাকে করেছে অনুপ্রানিত।
সালতামামি ২০১১ : বছর জুড়ে গল্প, কবিতা ও উপন্যাস লেখা পাঠকপ্রিয় সৃজনশীল ব্লগারেরা


পৃথিবীর ইতিহাসে শান্তিকামী এক মানুষের গল্প নিয়ে স্টিকি পোস্ট, রিয়াজুল ইসলামের লেখা, ভাজিলি আর্কাইপভ: নিউক্লিয়ার যুদ্ধ থেকে পৃথিবীকে রক্ষাকারী সেই মানুষটি


ফেব্রুয়ারিতে ব্লগার ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন একটি লেখা লিখেছিলেন শহীদ দিবসের ইতিহাস নিয়ে। "হাজার বছরের পুরোনো রক্তে ভেজা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি..." সম্ভবত এমন নাম ছিলো পোস্ট টির। তবে চয়নের একাউন্ট স্থগিত করার কারনে পোস্ট টি আর খুজে পাওয়া যায় নি।

৩য় স্টিকি পোস্ট টি সর্বাধিক স্টিকি হওয়া নোটিশবোর্ডের।
প্রতি বছরি সামুর বেশ কিছু ব্লগারের বই বের হয় বইমেলাতে। ইনফরমেশনের অভাবে আমরা অনেকেই তা জানতে পারিনা। এইবার প্রচারনার দায়িত্ব নিয়েছিলো কতৃপক্ষ। যার ফলস্বরুপ সমস্ত আপডেট ইনফো দিয়ে নোটিশবোর্ডের লেখা অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১২'তে প্রকাশিতব্য সামহোয়্যার ইন ব্লগারদের বইগুলো , আশা করছি এইবারো আমরা এমন একটি পোস্ট পাবো।

১০ ই ফেব্রুয়ারি বিডিনিউজ২৪ এবং ইত্তেফাকে চট্টগ্রামের হা্টহাজারিতে মন্দির ভাংচুর নিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হয়। অন্যান্য মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলো এই খবরের ফলোআপ করলেও প্রথমে এড়িয়ে গিয়েছিলো সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কথা ভেবে। কিন্ত সামুর সচেতন ব্লগার রা বরাবরি সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী। তার প্রমান পাওয়া যায় ব্লগার কৌশিক এর লেখা স্টিকি পোস্ট থেকে । মিডিয়ায় কোন খবর চেপে রাখা উচিত হবেনা, এই বক্তব্য থেকে কৌশিক ভাই পোস্ট টি লিখেছেন।সাম্প্রদায়িক সংঘাতের খবর মিডিয়ার চেপে যাওয়া উচিত হবে না

বইমেলায় সামুর ব্লগারদের পোস্ট এবং কমেন্টের সঙ্কলন নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে "অপরবাস্তব" এর ৬ষ্ঠ পর্ব। গতবারের বিষয় ছিলো রম্য। বইটির মোড়ক উন্মোচন নিয়ে লিখেছেন ব্লগার রেজোয়ানা আপু। একুশে বই মেলায় সামহোয়্যার ইনের ব্লগারদের বই অপর বাস্তব-৬ এর মোড়ক উন্মোচন।

ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষা দিবস কে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়েছিলো বগ আড্ডা। ভ্যেনু ছিলো চিন মৈত্রি সম্মেলন কেন্দ্র। এই নিয়ে নোটিশবোর্ডের স্টিকি পোস্ট আজ ২৪শে ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার ২০১২ বাংলা ব্লগের একটি মিলনমেলায় ব্লগার বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি

প্রতিবছর বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের সেরা ব্লগার দের সন্মাননা দেয়া হয় জার্মানির ডয়েচে ভেলের পক্ষ থেকে। তুমুল বিতর্কিত এই অনুষ্ঠানের মনোনয়ন নিয়ে স্টিকি পোস্ট ডয়চে ভেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ব্লগ প্রতিযোগিতা ববস ২০১২ এ বাংলা ব্লগের মনোনয়ন ১৩ই মার্চ পর্যন্ত , এই পোস্ট টিও নোটিশবোর্ডের লেখা ।

প্রথমবার বিপিএল এর আয়োজন নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক এবং মিডিয়া গবেষক ব্লগার ফাহমিদুল হক ভাই। লেখাটি স্টিকি হয়েছে মার্চের প্রথম সপ্তাহে।
বিপিএল: মন্দার দেশে মহাক্রীড়া

এশিয়াকাপে বাংলাদেশের পাওয়া না পাওয়া নিয়ে লিখেছেন ব্লগার রেজা সিদ্দিক। প্রত্যাশার বিজয় না হলেও বাংলাদেশ হারে নি-- এটাই হোক চলার পথ , পোস্ট টি স্টিকি হয়েছিলো ২২শে মার্চ।


স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস নিয়ে মাহমুদা সোনিয়া আপুর বেশ ইনফরমেটিভ একটা পোস্ট,
স্বাধীনতা দিবসঃ “মুক্তির মন্দির সোপান তলে, কত প্রাণ হল বলিদান- লেখা আছে অশ্রুজলে...”


আমার অত্যন্ত প্রিয় ব্লগ নিক দিনমজুর। প্রায় প্রতিটা সোশ্যাল এবং পলিটিক্যাল ইস্যুতেই এই নিকের পিছনের তিনজন ভাইয়াকে এক্টিভ দেখা যায়। স্পেশালি কনকো-ফিলিপস চুক্তি, আড়িয়াল বিল ইস্যু থেকে শুরু করে প্রতিটা ইস্যুতেই তাদের চুলচেরা বিশ্লেষন পাওয়া যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের গ্যাস ব্লগ নিয়ে দিনমজুরের গবেষনামূলক স্টিকি পোস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামের গ্যাস ব্লক : চীন-মার্কিন কনসোর্টিয়ামের সাথে বাপেক্সের জয়েন্ট ভেঞ্চারের খসড়া চুড়ান্ত

যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে লেখা এস্কিমোর স্টিকি পোস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালকে স্থায়ী রূপ দিয়ে শেষ অপরাধী পর্যন্ত বিচার কাজ চলা নিশ্চিত করা হউক

সাময়িক অসুবিধার কারনে দুখ প্রকাশ করলো কতৃপক্ষ। সামহোয়্যার ইন...ব্লগ দেখতে সাময়িক সমস্যা হওয়া প্রসঙ্গে

ইনভায়রনমেন্টাল ডিজাস্টার নিয়ে লিখেছেন ব্লগার আহমেদ জি এস। কষ্টে শুকিয়ে যাওয়া এক সাগর

মানবিক আবেদন জানিয়ে নুরুজ্জামান লাবুর পোস্ট একজন হযরতের জন্য কী আমরা কিছু করতে পারি না?

পহেলা বৈশাখ নিয়ে চয়নের আরেকটি লেখা স্টিকি হয়েছিলো "পহেলা বৈশাখ এবং আমাদের প্রানের উৎসব" নামে। এ লেখাটির লিঙ্ক ও খুজে পাওয়া যায়নি।

গত বছরের সবচাইতে আলোচিত ঘটনাগুলোর মাঝে একটি হলো সিন্ডিকেটিং এবং নারী ব্লগারদের উত্তক্তকরন নিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠির কর্মকান্ড। এ ব্যাপারে অনেক তর্ক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। এর প্রতিবাদে লিখেছেন ব্লগার দূর্যোধন। ব্লগে নারী ব্লগারদের আক্রমন:প্রগতিশীল কিবোর্ডের আড়ালে মোল্লাতন্ত্র , নবীন ব্লগার পোস্ট টি এবং মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্য পড়লে জানতে পারবেন বিরাট এক ইতিহাস।


সাধারনত টেকি পোস্ট খুব কমই স্টিকি হয়। কিন্ত সময়পোযোগী পোস্ট হলে কেন হবেনা ? ফটোগ্রাফার ব্লগার জাহিদুল হাসান ভাইয়ের নিজে নিজেই আইপিএস বানিয়ে নেয়ার পোস্ট টি তাই দারুন হিট হয়েছিলো। মে মাসে প্রচন্ড গরমের মধ্যে এই পোস্ট টি যেন ঠান্ডা বাতাসের পরশ নিয়ে আসে।
লোডশেডিংকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে নিজেই বানিয়ে নিন মিনি আই পি এস!!


গেলো বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর এসেছে একের পর এক ঝড়। হয়েছে নানা আন্দোলন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অপসারনের দাবীতে লিখেছেন ব্লগার মোঃ নাজমুজ্জামান। ভিসি অপসারণের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর!!!!

ব্লগে সর্বাধিকবার পঠিত এবং সর্বাধিক কমেন্টপ্রাপ্ত স্টিকি পোস্ট
ঠিক এই মূহুর্তে আমি সামুর লক্ষাধিক ব্লগারের সাহায্য চাইছি, এখনই ... , অনলাইন মিডিয়ার শক্তি আবারো প্রমানিত হলো এই পোস্টের মধ্য দিয়ে। ব্লগার সর্বনাশার ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভ টিজিং এর প্রতিবাদ, তার উপর আক্রমন, ইউ ল্যাবের ভুমিকা , ব্লগারদের অংশগ্রহন নানা বিষয় উঠে এসেছে এই পোস্টে। সামুর সেরা ব্লগার ২০১২ এর নির্বাচিত ব্লগার ও হয়েছেন ব্লগার "সর্বনাশা"।

একই বিষয় নিয়ে আপডেট নোটিশবোর্ডের। ULAB কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসা সর্বশেষ বিবৃতি
ব্লগারদের তদন্ত কমিটির আরো আপডেট জানিয়ে লিখেছেন ব্লগার নাহিয়ান, ইভটীজিং প্রতিরোধ : ব্লগারদের আসন্ন মিটিং এবং তদন্তের আপডেট

ইউল্যাবের ইভ টিজিং ইস্যুতে ভার্সিটি কতৃপক্ষের ও তদন্ত কমিটির সেচ্ছাচারিতায় ক্ষুদ্ধ হয়ে লিখেছেন ব্লগার ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্য আশীফ এন্তাজ রবি ভাই, তদন্ত কমিটি থেকে আমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে পদত্যাগ করেছি


এভারেস্ট জয়ী প্রথম নারী কে অভিনন্দন জানিয়ে সামুর স্টিকি পোস্ট অভিনন্দন নিশাত মজুমদার, এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী...

সামুর নতুন ফিচারের ফিডব্যাক জানতে চেয়ে নোটিশবোর্ডের পোস্ট বাঁধ ভাঙার আওয়াজ এর নতুন ভার্সন এর প্রিভিউ রিলিজ ও ফিচার লিস্ট...

নতুন ফিচারে কিভাবে ছবি আপ করতে হয়, তাই নিয়ে লিখেছে আমাদের প্রিয় মডু শরৎ ভাই, নতুন পদ্ধতিতে ব্লগ পোষ্টে ছবি আপলোড

যুদ্ধপরাধ বিষয়ে ট্রাইবুনাল- ট্রাইবুনালে কি বিদেশী আইনজীবিরা অংশগ্রহন করতে পারবে? যদি না পারে, তবে কেন পারবে না? এই বিষয়ে লিখেছেন ব্লগার ওঙ্কার, ট্রাইবুনালে আসামী-পক্ষের বিদেশী আইনজবি নিয়োগ ঘিরে অপ-প্রচার উম্মোচন

গ্রামীন ব্যাঙ্ক এর কার্যক্রম অনেকদিন ধরেই টক অফ দ্যা টাউন। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারবেন তোমাদাচির লেখা এই পোস্ট এবং মন্তব্য প্রতিমন্তব্য থেকে। গ্রামীন ব্যাংকের সুদ - সামুর অর্থনীতিবিদগণের বক্তব্য চাই !!!

হুমায়ুন আজাদ স্যার কে নিয়ে লেখা রেজা ঘটকের পোস্ট ডক্টর হুমায়ূন আজাদকে বাংলাদেশ যথার্থ সম্মান দেয়নি ।।

মেডিকেল কলেজে ভর্তিপরীক্ষার সিস্টেম এবং তার ভবিষ্যত নিয়ে লিখেছেন ব্লগার ইনকগনিটো, ll--মেডিকেল ভর্তির কল্পকথা!!--ll

মেডিকেল ভর্তির বিতর্কিত প্রকৃয়া নিয়ে আরো লিখেছেন ব্লগার অরণ্যে রোদন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় ! এতোগুলো জীবন নিয়ে খেলবেন না। এতগুলো কণ্ঠের আকুতি শুনেও বধির হয়ে থাকবেন না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামীলিগের আদর্শিক অবস্থানের উপর লিখেছেন ব্লগার বিজয় মজুমদার, শব্দের বুলেটবিদ্ধ শেখ মুজিবুর রহমান ( যিনি আমাদের জাতির পিতা এবং যিনি বঙ্গবন্ধু)।

সামহয়ার ইন ব্লগ শুধুমাত্র পলিটিক্যাল বা সোশ্যাল ইস্যুতেই সোচ্চার নয়। মিডিয়া এবং কালচার নিয়ে স্টিকি হওয়া এই পোস্ট টি তাই প্রমান করে। ব্লগার মামুন৬৫৩ এর বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে লেখা , বাংলাদেশের সিনেমা : সর্বকালের সেরা দশ । ২য় পর্ব

গণমাধ্যম নিতীমালা নিয়ে ব্লগার ফিউশন ফাইভের শক্তিশালি একটি লেখা, ইন্টারনেটকে শেকল পরানোর এই সরকারি অপচেষ্টা রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে , সকল ব্লগারের এই পোস্ট টি পড়া অবশ্য কর্তব্য।

বাংলা ব্লগ জগতে সামু তার নজস্ব একটি যায়গা করে নিয়েছে। যা সরকার থেকে শুরু করে মুক্তযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির জন্য ভয়ের কারন। সেখান থেকেই সামুর বিরুদ্ধে হয়েছে নানা ষড়যন্ত্র। এই নিয়ে লিখেছে ব্লগার দূর্যোধন, সামহোয়্যার ইন ব্লগ বন্ধের দাবী: কার স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার আমরা?

গত বছরের সবচাইতে সমালোচিত ব্লগার দাড়িপাল্লার ধর্মীয় উস্কানিমূলক পোস্টের জবাবে নোটিশবোর্ডের ব্যাখ্যা, একটি সুস্থ গতিশীল ও দায়িত্বশীল ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বরাবরের মতই ব্লগারদের সহযোগীতা কামনা করছি

আবারো ফিফার পোস্ট, ইস্যু যখন পদ্মাসেতু, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের 'বিবৃতি-বোমা' : দুঃখিনী এই দেশ কতোভাবে আর অপমানিত হবে?

বাংলাদেশী পন্যের উপর ভারতের কপিরাইট নিয়ে লিখেছেন ব্লগার নিশাত, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ৬৬টি পণ্যের “দখল” নিয়েছে ভারত।কিভাবে? নিজে জানুন, অন্যকে জানান ও প্রতিবাদী হোন!


আবারো আসছে ব্লগারদের লেখা বই "অপরবাস্তব-৭, এবার অপরবাস্তব টিমের সাথে সাথে যুক্ত হয়েছেন ব্লগার আরজুপনি আপু। অপরবাস্তব নিয়ে তার দুটি স্টিকি পোস্ট,
♣ব্লগারদের বই "অপর বাস্তব" (২০০৭ থেকে ২০১২)♣

অপরবাস্তবের জন্য লেখা আহবান, এবারের বিষয় "হুমায়ুন আহমেদ" ।
♣ব্লগারদের বই অপরবাস্তব- ৭ এর জন্যে লেখা আহবান।♣


আমাদের সোনার ছেলে সাকিবের বিয়ের আগে আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অরুচিকর কিছু ফটোশপড ছবি। আবার সেই জিনিস শেয়ার ও করেছেন অনেকে। এর প্রতিবাদে ব্লগার মেহেদী লিখেছেন, সাকিবের ফটোশপ ছবি এবং আমাদের রুচি সমাচার


রুশান কে নিয়ে লেখা প্রথম স্টিকি পোস্ট, ব্লগার পথের পাচের পোস্ট , আজকের শিশু অধিকার দিবসে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে কি আমরা সাহায্যের হাত বাড়াতে পারি না???

রুশান কে নিয়ে লেখা অন্যান্য স্টিকিপোস্ট গুলো-

এস আর জনির লেখা রুশানের জন্য ভালোবাসা ... হাত বাড়িয়ে দিন

ব্লগার আরমানের লেখা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি... ( রুশানের জন্য একটি চিত্রকলা প্রদর্শনী'র প্রয়াস )

আপনাদের ধন্যবাদ ছোট্ট শিশু রুশানের জন্য মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায়।

গার্মেন্টস এ আগুন লাগার ঘটনায় ব্লগার রেজা ঘটকের অনুসন্ধানীমূলক পোস্ট , বাতাসে লাশের গন্ধ। পুড়ছে গরীব মানুষ। দেখো বাংলাদেশ।।

বদ্দারহাট ট্রাজেডি নিয়ে লেখা, লিখেছেন তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে। লেখাটির লিঙ্ক খুজে পাওয়া যায় নি।


প্রায় সব মানবিক ইস্যুতেই সরব দেখা যায় ব্লগার শিপু ভাইকে। এবারে লক্ষীপুরে শীতবস্ত্র বিতরন কর্মসূচি নিয়ে লিখেছেন শিপু ভাই। সফলভাবে এই আয়োজন করা হয়েছে।
সামহোয়্যারইন ব্লগারদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম'২০১২


সুপান্থদার লাইভ ব্লগিং, লাইভ ব্লগিং... হুমায়ুন আহমদের গ্রাম থেকে... চলছে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে হুমায়ূন আহমদের জন্ম উৎসব...


ইন্টারনেটে এক্সেসের সাতকাহন, ৩রা ডিসেম্বরের ইভেন্টস নিয়ে লিখেছেন ব্লগার শরৎ দা, ৩রা ডিসেম্বর, ইন্টারনেট ক্যু এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই ;(বিটিআরসির বক্তব্য:তৃতীয় আপডেট)

জাল ভোটার আইডি নিয়ে নাগরিক সাংবাদিকতার আরেক ধাপ, নিখেছেন ব্লগার দূর্যোধন, ছড়িয়ে পড়েছে জাল ভোটার আইডি ; নির্বাচন কমিশন দৃষ্টি দেবেন কি ?

১৯ শে ডিসেম্বর বাংলা ব্লগ দিবসের আয়োজন নিয়ে নোটিশবোর্ডের পোস্ট, আজ ১৯শে ডিসেম্বর, ২০১২, ৪র্থ বাংলা ব্লগ দিবস উদযাপনে স্বাগতম

যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুলানের আইন কানুন নিয়ে লিখেছেন ব্লগার গন্তব্যহীন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল ও আন্তর্জাতিক আইন - ভুমিকা ও জুরিসডিকশন

প্রতি বছর বিজয় দিবসে শোভাযাত্রার আয়োজন করে সামু। এই কার্যক্রম নিয়ে সামুর স্টিকি পোস্ট , ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের বিজয় র‍্যালীতে অংশ নেবার আহবান

যেভাবে পালিত হলো ৪র্থ বাংলা ব্লগ দিবস, উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হল, ১৯শে ডিসেম্বর ৪র্থ বাংলা ব্লগদিবস

হট ইস্যু ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের কথাপোকথন সঙ্ক্রান্ত ব্যাপারে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে লিখেছেন ব্লগার ওঙ্কার, ট্রাইবুনালের বিচারপতির তথ্যাদির অপরাধমূলক ‘হ্যাকিং’ সংক্রান্ত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তির প্রতি আহ্বান

এবং বছরের শেষ স্টিকি পোস্ট, টাঙ্গাইলে ঘটে যাওয়া ধর্ষনের প্রতিবাদে ব্লগার অপূর্নের লেখা, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া,নরপশুদের নিঃশ্বাসে বিষাক্ত সমগ্র বাংলাদেশ,বাঙালী প্রতিবাদী হও ।


যদি ভুলক্রমে কোন পোস্ট বাদ পড়ে যায় বা ভুল তথ্য থাকে, তাহলে দয়া করে কমেন্টের ঘরে জানিয়ে দিবেন। আমি মূল পোস্টে আপডেট করে দিবো। সবাইকে আবারো নতুন বছরের শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সবাই।

ধন্যবাদ।

----------------------------------------

এই পোস্ট টি উৎসর্গ থাকুক সামুর সকল নবীন ব্লগারদের। যাদের পদচারনায় মুখর থাকবে নতুন বছর ২০১৩।
এবং সেই সাথে ফিউশন ফাইভ কে, যার বিগত বছরের পোস্ট গুলো থেকে উৎসাহিত হয়ে এই পোস্টটির অবতারনা। <img src=" style="border:0;" />

]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29741016 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29741016 2013-01-01 18:41:53
দ্বিবর্ষপুর্তিতে ব্লগার ও সামুর মডু বরাবর খোলা চিঠি।



প্রিয় অথরিটি এবং সামুর সকল ব্লগার।



আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি, তবে মন টা একটু খারাপ। আজ আমার দ্বিবর্ষ্পূর্তি। দেখতে দেখতে হাটি হাটি পা পা করে, ব্লগে দুইটা বছর কাটিয়ে ফেললাম, সময় যে কখন চলে যায়, টের ও পাওয়া যায় না।

গতবার খুব ঘটা করে বর্ষপূর্তির পোস্ট দিয়েছিলাম, কিন্ত এইবার আর আগ্রহ পাচ্ছিনা । নাফিস ইফতেখারের পোস্টের ভাষ্য অনুযায়ি এইটা সিনিয়ার ব্লগার সিন্ড্রোম। এখন কেন যে পোস্ট ঘুরে ফিরে পড়তে ইচ্ছা করেনা। কমেন্ট করতেও ইচ্ছা করেনা কেন জানি। খালি ব্লগ টা ওপেন রেখে বেকুবের মত তাকিয়ে থাকি।


একটা কবিতা লিখেছিলাম অনেক আগে। সামুর প্রতি অভিমান করে। কবিতাটি তুলে দেয়ার লোভ সামলাতে পারছিনা। অনেক আগে লেখা হলেও কবিতাটি এখনের জন্যেও প্রযোজ্য।


"তোমরা হচ্ছ জামাত-ছাগু অল্প কজন মোটে,
তোমরা থাকো গদামের উপর দেখলে পালাও ছুটে,
তোমরা ভাদা, তোমরা পাদা, তোমরা বড়ই মন্দ
তোমরা হলে সামু ব্লগের বাল পোস্টের দ্বন্দ।
তোমরা হচ্ছ সুবিধাবাদি তোমরা ছদ্মবেশী
পোস্টে পোস্টে ক্যাচাল করে হাস মুর্খ হাসি,
তোমরা হচ্ছ আওয়ামিলীগ আর বিএনপিএর দালাল
ওদের দেয়া পয়সা নিয়ে পয়সা করছ হালাল।
তোমরা হচ্ছ আবাল ছাগু ঝামেলা সৃষ্টি করে
ব্লগখানিতে হাগিতে হাগিতে দুর্গন্ধে দাও ভরে,
কিছু আছে খামোখা শুধু ক্যাচাল করা নাস্তিক
কিছু আছে গালাগালি করে তারা কেমন আস্তিক ?
কিছু আছে বটে তালগাছবাদি, সুশীল আছে কিছু
ভাদা পাদা আর রাজাকারদের ছায়ার পিছু পিছু।
কিছু আছে ভাই মেয়ে দেখলেই পড়ে জিহবার লুল
তাদের আসলে সামহ্যইয়ার ইনে জায়গা দেয়াই ভুল,
রি-পোস্ট আর অনলাইন আয় সামুতে গিয়াছে ভরিয়া
কপি-পেস্টকেও ছেড়ে দেই কেন কান খুলে যান শুনিয়া।
তোমরা আসলে দূরে দূরে থাক আসতে দাওনা পাশে
তোমরা থাকো হিট যদি পাও সেই আশাতেই বসে,
ব্লগটাকে আজ দুর্বিষহ করছ লিখার তোড়ে
তোমাদের আজ রিমুভ করবো সবাই মিলে ধরে।

ভাবছেন এত কথা কেন বলতে হলো আমাকে ?
কি করবো বলেন, জানেনই তো, খুব ভালবাসি সামুকে।

সবশেষে বলি সামুকে আমরা সবাই ভালা পাই
তাই মডুরে বলি, মডারেশনে পূর্ন সচ্ছতা চাই।"


সামুর যারা প্রবীন ব্লগার তারা জানেন, সামুর গোল্ডেন
এইজ টা কতটা সুন্দর ছিলো। কিন্ত এখন, অসঙ্খ্য পোস্টের ভীড়ে হাতে গোনা কয়েকটা পাওয়া যায় পড়ার মত। এর পিছনে অবশ্যই কারন আছে। আছে অথরিটির উদাসীনতা,
আছে মাল্টিনিকের দৌরাত্ম। আছে ছাইয়া, লুল, রিপোস্ট, অনলাইনে আয়, স্পেমিং, ফ্লাডিং । আছে অসঙ্খ্য মেধাহীন ব্লগারের কপি পেস্ট কিংবা ১৮+ পোস্ট। বিনা কারনে ফেসবুক স্টাইলে দুই লাইনের পোস্টে আড্ডাবাজির মেলা। আছে জামাতি ছাগুদের প্রচারনা, আবার ট্যাগিং এর ভয়েও অনেক নবীন ব্লগার তাদের কথা বলতে পারেনা প্রান খুলে। কিন্ত সিনিয়ার ব্লগার বা সামু টিম কি ইনিশিয়েটিভ নিয়েছে ভালো ভালো পোস্টের প্রচারনার ব্যাপারে ?

তাদের ভালো পোস্ট যদি উইদাউট ডাউট প্রথম পারায় আসতো, কিংবা প্রবীন ব্লগার রা উৎসাহ দিত, আজাইরা পোস্ট গুলাকে সবাই মিলে বয়কট করতো, তাহলে কেন ভালো লেখা আসবেনা ? কেন ফিরে আসবেনা সামুর সুদিন ?


নতুন ভাল ভালো ব্লগারদের প্রমোট না করা এবং পুরাতন ব্লগারদের হারিয়ে যাওয়ার দায়ভার কিন্ত আমাদের উপর ও পড়ে।


সমস্ত আড্ডাবাজ ব্লগারদের কাছে অনুরোধ, আপ্নারা ২০০৭/০৮/০৯ এর পোস্টগুলা পরে দেখুন। দেখবেন হাই হ্যালো কেমন আছ ব্যাতিতও কত চমৎকার করে আলোচনা করা যায়, গঠন মূলক সমালোচনা করা যায়। আর এখন ক্যাচাল করেই কুল পাওয়া যায়না।

ইভেন আস্তিক নাস্তিক ক্যাচাল টা নিয়ে এখন আমি রিতিমত বিরক্ত। নাস্তিক পোস্ট মানেই এক ইসলাম ধর্মের প্রতি আঘাত দিয়ে পোস্ট, আস্তিক মানেই নাস্তিকদের প্রতি গালাগালির ঝড়। আচ্ছা, এইরকম গালাগালি যারা করতে পারেন, তারা কোন ধরনের মুসলমান ? আরো আছে তালগাছ বাদী, যাদের হাজারো আলোচনা সমালোচনা করেও কিছু বুঝানো যায় না। আছে সুশীল ব্লগার, আছে পাদা, ভাদা, আওইয়ামিলীগ, বিএনপি।


রাজাকারের বিরুদ্ধে বললে ভারতের পা-চাটা কুকুর, ভারতের বিরুদ্ধে বললে রাজাকার, ইসলামের একটা ত্রুটি বের করার সামান্য প্রচেষ্টা করলেও নাস্তিক, ইসলামের একটি ভালো দিক তুলে ধরা পোস্ট করলেও মৌলবাদী, বিএনপির বিরুদ্ধে বললে আওয়ামীপন্থি, আওয়ামী লিগ নিয়া কথা বললে বিএনপি'র
পোষা কুকুর, জামাতের পক্ষে বললে রাজাকার, বিপক্ষে বললে নিজেই রাজাকারদের টার্গেট, আমরা আম ব্লগার রা কই যাবো?




কিছু কঠিন কথা না বললেই নয়,


অনেক ভালো ভালো ব্লগার সামু থেকে বেরিয়ে গেছে কিংবা হারিয়ে গেছে। যদিও এটাই প্রকৃতির নিয়ম, তারপরেও এত তাড়াতাড়ি এটা হবার কথা ছিলো না। অনেকেই সামুর উপর বিরক্ত। আমি মাত্র দু বছর ধরে এই ব্লগে আছি, কারো সাথে কখনো আমার বিন্দুমাত্র ক্যাচাল ও হয়নি। তারপরেও আমার বিরক্ত ধরে গেছে। সামুতে পোস্টের কোয়ালিট এতটাই খারাপ হচ্ছে, যে প্রথম ৫ পাতা খুজলে দুইটা ভালো পোস্ট ও পাওয়া যায় না। পোস্ট ভালো হলে নির্বাচিততে আসেনা। অসঙ্খ্য ছাগু নিক ছাড়াও আরো নাআনবিধ সমস্যার কারনে সামু খুব বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। এবং এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চাইবে অন্যান্য পক্ষ। সেই পক্ষ অন্য কোন ব্লগ হোক, ফেসবুক এক্টিভিস্ট হোক অথবা ছাগুরাই হোক। কাজেই এই ২০১৩ সাল টা সামুর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন।

আমার মনে হয় সামুর একটা ফিক্সড ভিশন ঠিক করা দরকার। ঠিক এক বছর পর আমরা সামুকে কোথায় দেখতে চাই। সেই অনুযায়ি কিছু সিদ্ধান্তও নিতে হবে। বিজনেস এবং সোশাল ওয়েলফেয়ার বাই সোশাল মিডিয়া, দুইটারি সুবর্ন সুযোগ রয়েছে সামুর হাতে, যদি ২০১৩ সাল কে ঠিক মত কাজে লাগানো যায়। আমি আশাবাদী, বাংলা ব্লগস্ফিয়ার নতু মাত্রা যোগ করবে ইতিহাসে।

সামনে আসছে নির্বাচন। কাজেই সামুর উচিত এই সময়ে কিছু এফিশিয়েন্ট স্ট্রাটেজি গ্রহন করা। সামু যেহেতু বরাবরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশাসী, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের যে কোন শক্তি বা দল চাইবে সামুর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার। গত বছর টা যারা খেয়াল করে দে্খেছেন, নিশ্চই চোখে পড়েছে সামুর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা জন্য কত ধরনের এটেম্পট নেয়া হয়েছে।
এমন কি সামুকে বন্ধ করে দেয়ার ও হুমকি কি প্রদান করা হয়েছে। এই জন্যি সামুকে কৌশলি হবার এডভাইস দিলাম। এই অবস্থায় যদি সঠিক একটা সিন্ধান্ত দেয়, সামুর ক্রেডিবিলিটি ইনক্রিজ করার জন্য অথরিটি কাজ না শুরু করে দেয়, তবে আমার মনে হয় অচিরেই সামু একটা বড় বিপর্যয়ে পড়তে পারে।

টেকনিক্যালি বললে বলতে হয়, নটিফিকেশন সিস্টেম এবং চ্যাটবক্স এখন সময়ের দাবী। সে সাথে বাড়ানো হোক নিরপেক্ষ পোস্ট নির্বাচকের সঙ্খ্যা। সাধারন ব্লগাদের থেকেই বেছে বেয়া হোক তাদের। কারন সিলেক্টেড পোস্ট নিয়ে অনেক অনেক প্রশ্ন মানুষের। রিপোর্ট করলে বা টেক্সট করলে ইমিডিয়েট ফিডব্যাক জানান। কারো কিছু কর্মচারি রাখার চেষ্টা করুন, যারা সারাক্ষন অফিসিয়ালি ব্লগ মনিটর করবেন। আমার মনে নয় নামমাত্র সন্মানিতে অনেক ভালো ও নিরপেক্ষ ব্লগার রা খুশি হয়েই সামু ফ্যামিলিতে যুক্ত হতে চাইবে। তাদের কাজে লাগান। অন্যান্য নিউজ সাইটের সাথে জয়েন ভেঞ্চারে কাজ করেন। তাহলে খবরেও আপডেট পাবো। চালু করতে পারেন বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ ব্লগিং। সবচাইতে বড় কথা হলো- সামুকে তার নিজের মোরালিটি আর প্রিন্সিপালস এ ফিক্সড থাকতে হবে। হয়তো নির্বাচনের সময় গভমেন্ট বাধা দিতে পারে। তবে আমরা ব্লগাররাতো আছিই। প্রান থাকতে ব্লগ নিয়ে আন্দোলন করে যাবো।

কাজেই ব্লগ কে নাগরিক সাংবাদিকতার প্রথম প্লাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করুন। যদিও কমিউনিটি ব্লগ হিসেবে সামুতে সাহিত্যচর্চাকেও এপ্রিশিয়েট করা হয়। তবে সব মিলিয়েই আমাদের সামু।


বিশাস করুক আর না করুক, আমরা কয়েকজ ব্লগার সামুকে অনেক অনেক ভালোবাসি। আমাদের লেখক রুপে এক্সপোজড হবার পিছনে সামুর অবদান অনস্বীকার্য। তাই, কেউ যখন বলে সামু তো ছাগুর খোয়ার, নানা রকম ক্যাচাল, ব্যাক্তি আক্রমন আর ছাগুদের প্রচারনার কারনে সামুতে এখন আর ঢুক্তে ইচ্ছা করেনা।

এই কথাগুলো আমাদের ভিষনভাবে খারাপ একটা অনুভূতি দেয়।


আমরা ব্লগের প্রান। তাই নিজেদের বাচানোর জন্যে হলেও সামুকে নিট, ক্লীন এবং বাংলা ব্লগস্ফিয়ারের শ্রেষ্ঠ ব্লগ হিসেবে
প্রমান করার দায়িত্বও আমাদের ই।



শেষ কথা,


আপনার ফেসবুক, সোশাল নেটোয়ার্কিং সাইট, বা সামু ব্যাবহারে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, আপনি যখনি একটা কিছু লেখবেন, সেটা ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলো। কাজেই চেষ্টা করুন নিজের দেশ, জাতি, কালচার, কে রিপ্রেজেটেড করার। আপ্নারা কপনাও করতে পারবেন না, একজনমানুষ, একটা ল্যাপ্টপ, একটা ক্যামরা আর একটা ইন্টারনেট দিয়ে ১২ঘন্টার মধ্যে একটা দেশকে পরিচর্তন করে ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক গুলা ক্যু হয়ে গেছে এই অনলাইন এক্টিভিজমের মাধ্যমেই। কাজেই প্লিজ, ডোন্ট মিসইউজড দ্যা পাওয়ার। আই রিকোয়েস্ট। একটা কমিউনিটি ব্লগের ব্লগার হিসেবে আপনি যেমন অনেক পাওয়ারের অধিকারি, আপনার রেস্পন্সিবিলিটি তেমনি বেড়ে যাবে অনেক খানি।

যাস্ট বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরুন বাংলাদেশ কে। যার যা টেলেন্ট আছে তাই নিয়ে। ফেসবুকে কানেকশন বানান, ইউটিউবে ছেড়ে দিন। শেয়ার করুন সকল ভালো জিনিস। স্ট্রং একটা কমিউনিটী গড়ে তুলুন অনলাইনে।

সমাজ পরিবর্তনের জন্য আসলে সবার এক্টিভ পার্টিসিপেশন লাগেনা। অল্প কিছু খাটি মানুষ হলেই হয়। গ্রামে অনেকের নেটের এক্সেস নেই দেখে আপসেট হবার কারন নেই। এখন থ্রিজি পৌছে যাচ্ছে সবার ই গোরদোরে। তাছাড়া আমরা যারা এই নেট ইউজ করার প্রিভিলেজ টুকু পাচ্ছি, কেন আমরা ট্রাই করবো না ভালো কিছু করার। আমি হয়তো জানিও না, আমার ছোট একটা স্ট্যাটাস বা পোস্ট হয়ে উঠতে পারে দিন বদলের হাতিয়ার।

সামহ্যয়ার ইন ব্লগ আমাদের প্রানের যায়গা। আমরা সবাই এই প্লাটফর্ম টাকে ভালোবাসি। তাই একে পরিষ্কার পরিচ্ছন করে গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরি। সবার কাছে অনুরোধ, আপ্নারা আজাইরা পোস্ট এভয়েড করেন, ভালো পোস্ট কে সাপোর্ট করুন। ব্লগীয় ইন্টারেকশন তো থাকবেই, তবে তা সিন্ডিকেটিং এর দিকে যেন টার্ন না করে। ছাগুদের গদামের উপরে রাখুন। কোন গালাগালি না, যাস্ট ফিডব্যাক অপশনে গিয়ে রিপোর্ট করুন। সামু ভালো না হয়ে যাবে কোথায় ?

ব্লগারদের প্রতি আমার একটা অনুরোধ, ভার্চুয়ালি এক্টিভিজমের সাথে সাথে মাঠেও নেমে আসুন। দেখবেন, খুব কঠিন কিছু না। একটা রেভুলিউশন দরকার এখন আমাদের দেশে। এবং এই রেভুলিউশন করবে তরুন রা। তাই যেই সব তরুন ফেসবুক, ব্লগিং করেন, তারা চেষ্টা করুন সত্যি সত্যি ই গণজোয়ারে ভাসিয়ে দিতে। দেশের উন্নতি হবেই, কোন সন্দেহ নাই। এবং আমরা তরুনরাই তা করবো। আমরা গর্ব করে বল্বো, আমরা ফেসবুক জেনারেশন, আমরা ব্লগ জেনারেশন, "উই রুলজজ" , উই ক্যান চেঞ্জ দ্যা কান্ট্রি উইথ আওয়ার সোশাল মিডিয়া একটিভিজম। দরকার খালি আমাদের মন থেকে চাওয়ার। এন্ড, প্লিজ...ডু ইট...


আমার কিছু অভজ্ঞতা শেয়ার করি।

আমি প্রথম ছয় মাসে পোস্ট দিয়েছি মাত্র একটা। বুঝতেই পারছেন, আমার কনফিডেন্ট লেভেল সুবিধার না। ভয় পেতাম, এত সব বাঘা বাঘা ব্লগারদের মাঝে আমি কি লিখবো। আমি না জানি গল্প, না জানি কবিতা, সিনেমা পছন্দ করলেও সিনেমার হাই থটিক খোর আবার আমি না। তাহলে কি লিখতে পারবোনা ? আস্তে আস্তে ইনফরমেটিভ পোস্ট দেয়া শুরু করলাম। গোগল ঘেটে আমার আগ্রহের বিষয়গুলার উপর রিভিউ টাইপের পোস্ট লিখতাম । আমার আসলে কোন নির্দিষ্ট জনরা নাই। নানান সময় নানান কিছু নিয়ে লিখেছি। তবে এখন আমার লেখা অনেক টাই মিডিয়া কেন্দ্রিক। যেহেতু এই মিডিয়াতে আমি কাজ করি, এবং স্বপ্ন দেখি, তাই সবার সাথে আমার স্বপ্ন গুলা, আমার ভালো লাগা,অব্জারভেশন শেয়ার করার চেষ্টা করি। যারা আমাকে ফলো করেন, তারা নিশ্চই জানেন, আমি এডভার্টাইজিং এর প্রতি ভয়াবহ অবসেসড। তাই ইদানিংকার পোস্ট গুলা কেন এক ধাচের হয়ে যাচ্ছে। তারপরেও আপনাদের প্রবল পজেটিভ ফিডব্যাক আমাকে দারুন ভাবে নাড়া দেয়। আমি দু বছরে মোট ৭৮ টা পোস্ট করেছি এবং পার পোস্টে গড়ে প্রায় এক হাজার করে পাঠকদের হিট পেয়েছি। আমার মত নাদান ব্লগার কে আপ্নারা সাপোর্ট দিয়ে এসেছেন সব সময়, এই জন্য আমি ভীষন ভাবে কৃতজ্ঞ আপনাদের প্রতি। আপ্নারা আইসোলেটেড একজন তরুনকে সাহায্য করেছেন তার ট্র্যাক ফিরে পেতে। সামুর সমস্ত ব্লগার কে স্যালুট।







সকল ব্লগার কে আবারো ধন্যবাদ যারা আমাকে সবসময় সাপোর্ট দিয়েছেন। আমার কনফিডেন্ট লেভেল তৈরি করেছেন।





আপনাদের আদরের ও স্নেহের

ব্লগার তন্ময় ফেরদৌস।


---------------------------------------------------------


( সামনে আসছে, ফিরে দেখা ২০১২ এর এপিক পোস্ট, ইন্সপায়ার্ড বাই ফিফা) ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29739202 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29739202 2012-12-29 23:23:59
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার... (পর্ব ৭) - কমিউনিকেশনের ম্যাজিক <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />


আগের পর্ব (বিজ্ঞাপনের কিছু স্ট্রাটেজি )


বিজ্ঞাপনের খুব গুরুত্বপুর্ন একটা ব্যাপার হচ্ছে পারসুয়েশন। অন্য কেউ কিভাবে আপনাকে/ আপনার পন্যকে/ আপনার এড কে দেখছে, সেইটা। কাস্টোমার আপনার বিজ্ঞাপন যতটা এডপ্ট করতে পারবে, আপনার বিজ্ঞাপন ততটাই ইফেক্টিভ।

এডভার্টাইজিং শিখতে হলে আপনার অবশ্যই অন্যকে পারসুয়েশন করানোর ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনার কাস্টোমার কে দিয়ে আপনার ইয়েস বলিয়ে নিতে হবে। এড কিরকম বানাবেন তার আগে আপনাকে আপনার কাস্টোমারের মনস্তত্ব টা একটু বুঝতে হবে। আপনি যদি যায়গামত টোকা দিতে পারেন, তাহলে নিশ্চই আপনার এড সবাই দেখবে, এডের কপিটি মনে রাখবে। কিছুটা সাইকোলজিক্যালি আপনাকে এটা ঢুকিয়ে দিতে হবে সবার মাথায়।


আচ্ছা, তাহলে আজকের আলোচনার বিষয়, কমিউনিকেশন উইথ আদার্স। কিভাবে চমৎকার ভাবে অন্যদের সাথে আপনি কমিউনিকেশনের মাধ্যমে একটা কানেকশন তৈরি করবেন, সেইটার কিছু স্ট্রাটেজি আজকে আমরা শিখবো।



যেভাবে আপনি অন্যদের মনোযোগ ধরে রাখবেন, তাদের সাথে বেটার কমিউনিকেসনে আসবেন, তার কিছু পয়েন্ট সেটপ বাই স্টেপ বলি। প্রথমে আমরা কিছু শব্দ শিখবো, যেগুলো আপনি আপনার কথায় এবং এডের কপিতে ইউজ করবেন।



১. প্রথম শব্দটি হচ্ছে "বিকজ", মানে কারন।




আমাদের মানুষজাতির একটা কমন মনস্তত্ব হচ্ছে, আমরা সব কিছুই কজ এন্ড এফেক্ট রিলেশনশিপে দেখতে চাই। যে কোন কিছু। আজকে মন টা ভালো নাই, কারন তার সাথে দেখা হয়নি।
আজকে "চোরাবালি" মুভিটি দেখতে যাবো, বিকজ, চোরাবালির কথা অনেক শুনেছি। কিংবা আজকে সামুর স্টিকি পোস্ট ব্লগ ডে নিয়ে, কারন সামনে আসছে ব্লগ দিবস। আমরা আসলে এভাবেই চিন্তা করি। সব কিছুতে এফেক্টের সাথে সাথে কজটাও ভেবে নেই। আমরা একটা ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্য আরেকটা ঘটনা বিচার করি। হয়তো মুখে বলি না, বাট আমাদের অবচেতন মনে কারন টা ধরে নেয়। আপনি যদি বলেন,

"লাক্স ভালো সাবান, কারন এর গন্ধ সুন্দর, দামে কম"

তারমানে আমরা ইমিডিয়েট দুইটা জিনিস এটেটাইম দেখতে পাচ্ছি। লাক্স ভালো, কারন ??? কারন এক, এর গন্ধ সুন্দর, দুই, এর দাম কম। এ প্রশ্ন দুইটা হয়তো আপনার অবচেতন মনে এমনিতেই থাক্তো, আচ্ছা লাক্স কেন কিনবো ? আচ্ছা এর দাম কেমন ? আমি প্রথমেই লাক্সের বর্ননা আর দাম বলে দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ বন্ধ করে দিচ্ছি। বুঝা গেলো ?

আচ্ছা, আপনাদের ছোট বেলার কাহিনী মনে আছে , আমাদের বাবা মায়েরা কি করতো ?

মা ছেলের কথাপোকথন
-তন্ময়, পড়তে বস। ভিডিও গেম রাখো।
আম্মু, আরেকটু প্লিজ, আরেকটা স্টেজ খেলি, তারপর।
-যাও বলছি।
-কেন আম্মু, খেলিনা আরেকটু । এখন পড়তে বসতে হবে কেনো ?
-বিকজ, আমি বলছি, তাই।

এবং তারপর আমি পড়তে বসে যেতাম।

আমি শিওর এরকম কমন ঘটনা আপনার জিবনে বহুবার ঘটেছে। এই কমন কনভারসেশনের মাদ্যে কিন্ত একটা ব্যাপার লক্ষনীয়, আম্মু বিকজ বলার সাথে সাথে পরিস্থিতিটা চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। আমি আর কথা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছিনা। আপনার কাস্টোমারো সুযোগ পাবেনা। মেবি আপনার বিকজ কথাটা, সরাসরি ব্যাবহার করার প্রয়োজন হবেনা, তবে আপনি কারন বলে দিয়ে বিকজ শব্দটি উহ্য রাখতে পারেন।

কাজেই কমিউনিকেশন এবং এডভার্টাইজিং কপির একটা বিশেষ শব্দ হচ্ছে "বিকজ" ।

আপনি যখনি বিকজ কথাটার উপর জোর দিবেন , তার আগের কথাটার প্রাধান্য বেড়ে যাবে। উদাহরন-

আপনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন দোকানে, দোকানীকে বললেন,
মে আই ক্যাট দ্যা লাইন প্লিজ, বিকজ আই নিড টু টেক দ্যা বাস।

৬০% ক্ষেত্রেই দোকানি বলবে, শিওর। (এইটা রিসার্চ থেকে পাওয়া)

অথচ দেখুন, অন্যরাও কিন্ত একই কারনে হয়তো লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তারপরেও দোকানি আপনার কথা শুনবে, কারন আপনি তাকে সাইকোলজিক্যালি ইনফ্লুয়েন্স করছেন। আবার দেখুন, পছন্দের মানুষ কে বললেন,

-আজকে আমার সাথে একটু দেখা করবা ? বিকজ, ইটস রিয়েলি ইম্পর্টেন্ট টু মি।

সে দেখা না করে পারবে ?

আমি একটা এডভার্টাইজিং এর কপি দেখেছিলাম, উপরে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের একটা ছবি। আর নিচে লেখা-

"বিকজ, ইটস ইম্মপর্টেন্ট ফর ইউ"

এর চেয়ে এফেক্টিভ, সুন্দর কোন কপি হতে পারে বলে মনে হয় না। কারন ছোট্ট একটা বাক্য দিয়ে আপনি তাকে ম্যাসেজ থ্রো করতে পারছেন, বুঝিয়ে দিচ্ছেন, তার জন্য এটা ইম্মপর্ট্যান্ট।

আপনার এডভার্টাইজিং এ বিকজ শব্দটি রাখার চেষ্টা করুন। বিকিজ না থাক্লেও চেষ্টা করুন, দর্শক যাতে বুঝে নেয় আপনার পন্য তার কিনা উচিৎ, বিকজ........





২. ওয়ার্ড অফ পারসুয়েশন এর ২য় শব্দটি হচ্ছে, "নাও" অর্থাৎ, এখনি।



আবার একটা কনভারসেশন দেখি মা ছেলের।

-মা, আমি একটু পাশের বাসায় খেল তে যাই ?
- না, এখন পড়ার সময়, পড়তে বস।
-যাইনা আম্মু, চলে আসবো তো তাড়াতাড়ি।
- উহু, এখন পড়ার সময়।
-আম্মু, শুন। আসলে বলতে চাচ্ছিলাম....
- বলেছিনা পড়তে বস, এক্ষুনি।
- আচ্ছা, যাচ্ছি।

আচ্ছা, তাহলে কি বুঝা গেলো কনভারসেশন থেকে ? নাও বা এক্ষুনি বলার পর আসলে বাচ্চাটির তর্ক করার কোন সুযোগ থাকছেনা। মা সন্তানের উপর এক ধরনের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে।
ঠিক আপ্নিও আপনার কাস্টোমারের উপর কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এই একটি শব্দের মাধ্যমে ।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনি যখন এডভার্টাইজিং এ "নাও" কথাটি ব্যাবহার করবেন, তখনো কনজিউমার রা ঠিক, একই রি অ্যাকশন দেখাবে। (রিসার্চ থেকে পাওয়া), তারমানে আপনি ছোট্ট একটি শব্দ দিয়ে তাদের ম্যানুপুলেট করতে পারছেন। অনেক সময় দেখবেন, বিজ্ঞাপনে এই কথাগুলো সচেতন ভাবেই ব্যাবহার করা হয়।

আপনাকে সব সময় যে হার্ড টোনে "নাও" বলতে হবে, তা কিন্ত নয়। সফট করে প্রিয় মানুষটিকে বলতে পারেন, "আমি তোমার বাসার নিচে, বারান্দায় আসো, এখুনি প্লিজ", অথবা টেক্সট করলেন, "একটু ফোন করবা জান, এখনি"।

দেখবেন, ফোন না করে যাবে কোথায়। আপনার আকুতি, অনুরোধ সময়ের সাথে সিনকর্নাইজ করে প্রকাশ পাচ্ছে মাত্র একটি শব্দের মাধ্যেমে।

এড এ কিছু

"বাটায় এখন ৬০% সেল, এখনি চলে আসুন "

"এক্ষুনি বেছে নিন আপনার পছন্দের প্লট" ইত্যাদি।






৩. তিন নম্বর ম্যাজিক ওয়ার্ড টি হচ্ছে, "ইমাজিন" অর্থাৎ কল্পনা করা।






বছর দশেক আগে আমেরিকার বেস্ট সেলিং কার হয়েছিলো "মার্কারি সেভয়" , তাদের স্লোগান টা ছিলো, "ইমাজিন ইওরসেলফ ইন মার্কারি, নাও" ।

হাও নাইস, তাইনা ? সেই বছর মার্কারি গাড়ির মার্কেট সেল বেড়ে গিয়েছিলো প্রায় ৩০% ।

তারমানে হচ্ছে, আমরা সব সময় যখন কোন লেখা পড়ি, বা কারো কাছ থেকে কিছু শুনি, আমারা মনে মনে জিনিস্টা কল্পনা করে নেই, ভিজুয়ালাইজ করার চেষ্টা করি। আমি শিওর, আপনি যদি আমাকে না চিনে থাকেন, তাহলে অবচেতন মনেই কল্পনা শুরু করে দিয়েছেন, এই পোস্টের লেখক মানুষ টা আসলে কেমন, সেকি এরকম ? কাটখোট্টা ? রসিক ? আসলে যে কারো লেখা পড়লেই আপনার এই কথাগুলো মনে আসবে। আপনি মনে মনে একটা শেপ কল্পনা করবেন। একটা গল্পের বই যখন আমরা পড়ি, তখন আমরা সেটা কল্পনায় দেখার চেষ্টা করি। আর যেই ফিল্ম মেকার রা এই জিনিস টা বেশী ভালো কল্পনা করতে পারবে, তার সিনেমাও তত বেশী নিখুত হবে।

ইমাজিন শব্দটি এত সুন্দর সাইকোজিক্যালি এফেক্ট করে, কারন হচ্ছে, আপনি আসলে আপনার কাস্টোমার কে কোন কিছু কিনতে বলছেন না, বা করতে বলছেন না ডিরেক্ট। আপনি শুধু বলছেন, কল্পনা করতে। একজন কাস্টোমারের রেজিস্ট্যান্ট করার যায়গাটা বন্ধ হয়ে যায়, যখন আপনি তাকে বলেন, ইমাজিন দিস প্রডাক্ট, অর দিস সার্ভিস ইউ আর গেটিং...সে তখন না চাইলেও একটা চিন্তায় পড়ে যায়। আসলেই, এই প্রডাক্ট টা আমার হাতে কেমন লাগবে ? অথবা এই সার্ভিস ব্যাবহার করলে তো খারাপ হয় না।

উদাহরন, "ইমাজিন ইওর সেলফ উইথ স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব"


প্রিয় মানুষ কে প্রপোজ করতে ভয় পাচ্ছেন ? কোন অসুবিধা নাই, জাস্ট বলেন- "জান,চিন্তা করতো, আমাদের একটা ছোট্ট সংসার হলে কেমন হত ?"

বিজ্ঞাপনেও আপনি ঠিক সেইম কথাগুলো ব্যাবহার করতে পারেন। যাতে দর্শক কে সরাসরি কিছু কল্পনা করতে না বললেও, সে যেন কল্পনা করতে বাধ্য হয়। এমন কিছু এলিমেন্ট দিয়ে দিন, যা তাকে কল্পনায় নিয়ে যাবে। দেখবেন, বিজ্ঞাপন টি অনেক ইফেক্টিভ।



৪. সবচাইতে চমৎকার দুটো ম্যাজিক ওয়ার্ড হচ্ছে, "প্লিজ" এবং "থ্যাঙ্ক ইউ"।







এই দুইটা শব্দ অনেক বহুল ব্যাবহাহৃত। তবে তাতে করে এই শব্দ গুলোর আবেদন একটুও কমেনা। আপনি যখন কাওকে "প্লিজ" বলে কোন বাক্য শুরু করবেন, সেই ব্যাক্তির সাথে আপনার একটা ফরমাল কিন্ত আন্তরিক রিলেশনশিপ তৈরি হবে। সেইম ব্যাপার থাঙ্কস এর বেলাতেও। আপনি যদি কাওকে বলেন, এই জিনিস টা করলে আমি অনেক থাঙ্কফুল থাকবো তোমার প্রতি, তাহলে দেখবেন সেন্ট পার্সেন্ট ক্ষত্রে সে কাজটা করছে। অর্থাৎ, কৃতজ্ঞতা স্বীকারের সাথে সাথে আপনার পরবর্তি কোন কিছু চাওয়ার পথ টা সহয হয়ে উঠছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমি যেই শব্দগুলো বলছি, সেগুলা কিন্ত পরিক্ষীত। আপনি কারো সাথে কথা বলার জন্য ব্যাবহার করেন, এডভার্টাইজিং এর জন্য
অথবা সেল করার জন্য, আপনি প্রত্যেকবার সেন্ট পারসেন্ট টাইম পজেটিভ ফিডব্যাক পাবেন। এমন কি যদি সেই পারসন টি জেনেওই থাকে আপনি
ইয়েস আদায় করে নেয়ার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন, তারপরেও।


৫. এবারের পয়েন্ট হচ্ছে, "নেইম" বা নাম। যার সাথে কমিউনিকেট করতে চাচ্ছেন, তার নাম।





পারসন'স নেইম, এইটা কিন্ত আবার একটু ট্রিকি ব্যাপার। আপনি যদি যার সাথে কমিউনিকেট করছেন, তার নাম অধিক ব্যাবহার করেন, তাহলে কিন্ত
ব্যাপার টা হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। মনে করেন ব্যাঙ্ক থেকে ক্রেডিট কার্ডের ব্যাপারে মি.হাসানের কাছে ফোন আসলো,

-হ্যালো, মি.হাসান, আমি সিটি ব্যাঙ্ক থেকে বলছি। আমরা আপনার জন্য একটা ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতের চাচ্ছি। আপনি এই ক্রেডিট কার্ড টি নিলে ,
আপনাকে আমাদের ব্যঙ্কের তরফ থেকে ৫% ডিস্কাউন্ট দেয়া হবে। মি.হাসান, ক্রেডিটের বিলিং টাইম ও আমরা
বাড়িয়েছি। আপনাকে ধন্যবাদ মি.হাসান।

দেখেন, একটু ওভার ইউজ হয়ে গেছে না হাসান নামটা ? মনে মনে একটা গ্রাফ চিন্তা করেন। প্রথম বার সেলস্ম্যান যখন
হাসান নামটি বললো, তখন হাসানের কাছে তার গ্রহন যোগ্যতার কার্ভ টা উপরের দিকে উঠা শুরু করেছে। মাঝে যখন ইউজ করলেন, তখন
কার্ভ টা নিচে নেমে গেলো। লাস্টে থাঙ্কস জানিয়ে নাম বলার পর, কার্ভ টা আবার উপরে উঠে গেলো। অর্থাৎ আপনি কারো সাথে কথা বলার শুরুতে
এবং শেষে নাম ইউজ করেন, তাহলে সর্বোচ্চ গ্রহনযোগ্যতা পাবে। কিন্ত যদি, তার চেয়ে বেশি বার ইউজ করেন, তাহলে কার্ভ টা
আবার নিচের দিকে বেকে যাবে, অর্থাৎ গ্রহনযোগ্যতা কমে যাবে। মজা না ?

আপনি বেশিবার নাম ধরে ডাক্লে, আপনার অডিয়েন্স বেশিমাত্রায় ম্যানুপুলেটেড ফিল করবে, এমন কি যেখানে ম্যানুপুলেটেড হবার নয়, সেখানেও।
কাজেই সেল অপরচুনিটি কমে যাবে।


৬. নাম সম্পর্কে শিওর হন। বানান, এবং উচ্চারন।





আচ্ছা, আপনার নাম মনে করেন, মাহদী আহমেদ। এখন আপনার কাছে একটা অফিসিয়াল চিঠি আসলো
"মি. মেহেদি হাসান।" আপনার কেমন লাগবে ? আমার কিন্ত ভালো লাগবে না। নিজের নামের বানান ভুল কেউই
পছন্দ করেনা। আমাদের সাইকোলজি বলে, আমরা নিজের নাম টা বার বার লেখার হরফে দেখতে চাই। ইন্টারন্যাশ্নাল ট্রিপের ব্যাপারে
কিন্ত আরো বেশি সতর্ক থাকা দরকার। কারন এক এক দেশের এক্সেন্টের কারনে নাম কিন্ত অনেক চেঞ্জ হয়ে যায়।
যুবরাজ হয়ে যায় ইউভ্রাজ, মিশেল হয়ে যায় মার্শাল ইত্যাদি।

আমার অনেক গুলা ফ্রেন্ড আছে তুর্কি। তাদের একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, তারা সি কে উচ্চারন করে জে। মানে যার নাম আতমাজা, তার নাম লেখতে
হয় আতমাজা। যার নাম জামাল, তার নাম লেখতে হয় চামাল। এখন আমার ফ্রেন্ডের নাম লেখা ছিলো চেমেলেট্টিন সিসেক। তার নাম হয়ে গেছে জামালুদ্দিন শেখ।
তবে আমি তার নাম শোনার পর, তাকে বলেছিলাম, তোমার নাম টা আমাকে শেখাও, ইজ ইট চেমেলেট ?
সে বললো, না, জেমেলেট। আমি আবারো ভুল করলাম। পরে বললাম, আই মাস্ট লার্ন ইউর নেইম।
এর পর থেকে আমি তাকে ঠিক নামে ডাক্তাম। তো এই ব্যাপার টা কিন্ত তুর্কি ফ্রেন্ড টার কাছে আমার গ্রহনযোগ্যতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলো।
ভার্সিটির শেষ দিন পর্যন্ত আমরা খুব ভালো ফ্রেন্ড ছিলাম।
যখন আপনি কারো নাম ঠিকভাবে বলবেন, আপনার প্রতি সেই মানুষটার রেস্পেক্ট লেভেল বেড়ে যায়।



সবার লাসেটে যেই টেকনিক টা বলবো, তা হলো কন্ট্রোল।


মানুষ সবসময়ি কন্ট্রোল্ড একটা সিস্টেম মেইন্টেইন করে। সে সাবকনশাস্লি কন্ট্রোলে থাকতে এবং কন্ট্রোলে রাখতে
পছন্দ করে। এটা কিন্ত মিজার একটা ব্যাপার। দেখবেন, সবাই চায়, সব কিছু তার ইচ্ছা মতই হোক। ইভনে কন্ট্রোল
শব্দটাও পারসুয়েটিভ। আপনি যখন কাওকে বলবেন,
"ইউ আর ইন কন্ট্রোল হিয়ার" বা "ইউ আর ইন চার্য হিয়ার" ।

কথাটার মধ্য দিয়ে তার কতৃত্বটাকে দেখানো হলো। মানুষ সবসময়ি কত্তৃত্বে থাকতে পছন্দ করে।
কাজেই আপনি যদি এডের মাধ্যমে তার লিডিং এর যায়গাটা দেখ্যে দিতে পারেন, আপনার কথায় সে
প্রভাবিত হবে। যেমন একটা গাড়ির বিজ্ঞাপন হতে পারে,

"হোন্ডা সিআরভি- হুইচ ইউ ক্যান কন্ট্রোল" ।

দারুন হবে না ??


তো এখনি নিজের কথাবার্তায় এই ব্যাপারগুলা প্রাক্টিস শুরু করে দিন। যত বিজ্ঞাপন দেখবেন, চেষ্টা করুন বের করার, কিভাবে
তারা আপনাকে ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করছে। আর সাথে থাকুন , পরের পর্বের জন্য।

ধন্যবাদ।


আগের পোস্ট গুলোর লিঙ্ক

পর্ব ১

পর্ব ২

পর্ব ৩

]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29736816 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29736816 2012-12-25 20:27:33
ফ্রেমবন্দী ৪র্থ বাংলা ব্লগ দিবস...ঢাকা অনুষ্ঠানের এ টু যেড।


( ছবির সঙ্খ্যা বেশি হবার কারনে স্লো নেটে অনেকের সমস্যা হতে পারে। তাই মিনিমাম রেজুলেশন রাখলাম । আর কমেন্টে আপলোড করছি বাকি ছবিগুলো ) <img src=" style="border:0;" />


গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে পালিত হলো ৪র্থ বাংলা ব্লগ দিবস। সম্মিলিত ব্লগ ডে তে 'স্যামহয়ার ইন ব্লগ' ছাড়াও 'ডাঙ্গুলি' এবং 'শব্দনীড়' নামে দুটি ব্লগ অংশগ্রহন করলেও, সামুর ব্লগারদের এবং আয়োজকদের কলকাকলীতে মুখর ছিলো অনুষ্ঠান। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে নির্ধারিত স্কেজিউলের পরে অনুষ্ঠান শুরু হলেও শরৎদার চমৎকার সঞ্চালনা, অন্যান্য ব্লগারদের পার্টিসিপেশন এবং সেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় অনুষ্ঠান সফল হয়েছে বলা যায়। ট্যেকনিকাল কিছু ত্রুটি থাকলেও আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সর্বোচ্চ।

সম্পুর্ন অনুষ্ঠান টি স্থিরচিত্রে ধারন করে রাখার চেষ্টা করেছি। আশা করছি যারা মিস করেছেন লাইভ অথবা স্ট্রিমিং এ, তারা একটা পুর্নাংগ ধারনা পাবেন।


অনুষ্ঠান ৫টা বাজে শুরু হবার কথা থাকলেও মূলত জিরো পয়েন্টে গন্ডগোল এবং জানযটের কারনে সাড়ে ৬ টার দিকে শুরু হয়। দু চারজন ব্লগার আসতে শুরু করেন ৫টার দিকেই।




সেচ্ছাসেবক রা কথা বলছেন সেটআপ নিয়ে।




৪র্থ বাংলা ব্লগ দিবসের ব্যানার।




লাইভ ব্লগিং এর জন্য রেডি হচ্ছেন ব্লগার ঘুড্ডির পাইলট এবং নবিতা রিফু। ইতিমধ্যে কম্পিউটার জগৎ থেকে চলে এসেছে টেকি সাপোর্ট। সম্পুর্ন অনুষ্ঠান লাইভ স্ট্রিমিং এর ব্যাবস্থা করেছেন তারা। তবে বাংলা লায়নের অসাধারন নেটোয়ার্কের কারনে ব্যাবস্থা খুব একটা সুবিধার হয়নি। এই নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে রাইসুল সাগর সহ অন্যান্যদের।




রক্তদান কর্মসূচির দায়িত্ব পালন করেছেন কোয়ান্টাম ।




প্রথম রক্তদানকারী ব্লগার।




ইতিমধ্যে রেডি হয়ে গেছে ডায়েস, সাজানো হয়েছে বিশেষ অতিথীদের টেবিল।






অতিথী ব্লগাররা আসতে শুরু করেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে কালা মনের ধলা মানুষ, কালপুরুষদা সহ আরো অনেক কে।




আসন গ্রহন করেছেন অতিথীরা।




ইতিমধ্যে ব্রিফিং দেয়া হয়েছে প্রথম আলোর সাংবাদিকদের ও প্রথম আলো ব্লগের রিপোর্টারদের। সেট করা হয়েছে ভিডিও ক্যামেরা।





সঞ্চালনার দায়িত্ব পালোন করেন ব্লগার এবং আমাদের প্রিয় মডু অন্যমনষ্ক শরৎ ভাই।





বিজয়ের রঙ ধরে রেখে লাল সবুজে রাঙ্গাতে এলেন পনিপু।




একজন ব্লগার ও মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জনাব আক্কু চৌধুরী।




চলছে ব্লগার পরিচয় পর্ব।










পুরাতন ব্লগারদের তুলনায় নতুন ব্লগারদের অংশগ্রহন ছিলো বেশি। নারী ব্লগারদের পার্টিসিপেশন টেন পারসেন্ট।

নবীন ব্লগার লক্ষিপ্যাচা । (চন্দ্রবিন্দু লিখতে পারিনা <img src=" style="border:0;" /> )




ব্লগার প্রিতী ওয়ারেছা।



ব্লগ গবেষক রেজা ভাই, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে গবেষনা করছেন।



ব্লগার শিপু ভাই।




আসলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যার।




আসলেন বিশেষ অতিথী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ের সহযোগী অদ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক। তিনি একজন মিডিয়া গবেষক এবং ব্লফার ও বটে।




আসলেন গতবারের সেরা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন। সাথে এসেছিলেন কবি আখতারুজ্জামান আজাদ এবং হুমায়ুন আজাদ স্যারের ছেলে অনন্য আজাদ।




ব্লগার শিপু ভাই এবং গতবারের বিজয়ী ব্লগার জাহাজী পোলা।




আসন গ্রহণ করছেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।




বকতব্য রাখছেন ড. আনিসুজ্জামান স্যার, ড. ফাহমিদুল হক স্যার ।






বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন অভিজ্ঞ ব্লগারেরা। ব্লগার আরজুপনি, ফাহমিদুল হক, রেজা ভাই, রাসেল ভাই, কৌশিক ভাই।










অবশেষে হাজির হলেন ব্লগ মাতা জানা, আরিল্ড, সাথে এলো তাদের এঞ্জেল কিন্নরী, দেবরা আপু, তানজিলা আপু, ফারা আপু।










জানা আপুর শুভেচ্ছা বক্তব্য। দেরী হবার কারন ব্যাখ্যা করলেন তিনি।




শুরু হলো রম্য বিতর্ক- মডু বনাম ব্লগারস। বেশ উপভোগ করেছেন দর্শকগণ। অংশগ্রহন করেছিলেন কাল্পনিক ভালোবাসা এজ মডু, এ্যাপোলো৯০ , শরৎদা এড হোস্ট, রাইসুল সাগর, ঘুড্ডির পাইলট, এস আর জনি।









উপভোগ্যতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো রম্য বিতর্ক।







সেরা ব্লগার এবার নির্বাচিত করা হয়েছে একটু ভিন্ন ভাবে।

নাগরিক সাংবাদিকতায় ব্লগে অবদান স্বরুপ শ্রেষ্ঠ ব্লগার হলেন ব্লগার সর্বনাশা। তিনি ইভ টিজিং ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন। তার একটি পোস্টে মন্তব্যের সঙ্খ্যা ছিলো প্রায় ৫৪০০

সবচাইতে বেশী পোস্টদাতার পুরস্কারটি পেলেন সািকল খান হবে

সবচাইতে বেশি কমেন্টকারি চেয়ারম্যান ০০৭

সবচাইতে বেশি পোস্ট শেয়ারকারি কুপমন্ডুপ

আর...কোন টা বাদ পড়লে কেউ একটু আপডেট করে দেন।


সেচ্ছাসেবক টিম লিডার ছিলেন শরৎদা, ছিলো নবিতা রিফু, ঘুড্ডির পাইলট, রাইসুল সাগর, একজন আরমান, এস আর জনি, আপোলো৯০, রুমী, মোমিন, কাল্পনিক ভালোবাসা, তামিম সহ আরো অনেকে। সাথে ছিলাম আমি তন্ময় ফেরদৌস।


বাকি ছবি গুলা আপলোড করছি কমেন্টের ঘরে। এখনো মূল আকর্ষন বাকি কিন্ত। আপলোড করার বাকি আছে সামু ব্লগের স্রষ্ঠাদের ছবি। কষ্ট করে যারা অনুষ্ঠান টি আয়োজন করেছেন, সেই সেচ্ছাসেবকদের ছবি।



ফটোগ্রাফারদের একটা বিপদ আছে। তাদের নিজেদের ছবি তলার কেউ থাকেনা। তবে আমার একটা ছবি তুলে দিয়েছে ব্লগার তামীম। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।






]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29733792 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29733792 2012-12-20 16:54:47
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার... (পর্ব ৬) - কিছু মজার স্ট্রাটেজি <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" />



বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটলের "এরিস্টটল'স আপেল" নামে একটি থিওরী আছে। ইথোস, লোগোস আর প্যাথোসের ব্যাপার স্যাপার। জানা আছে আপনাদের ? না থাকলেও সমস্যা নাই। এখন জানবেন।




বিজ্ঞাপনের সবচাইতে জরুরি ব্যাপার হচ্ছে, আপনি যাদের জন্য বিজ্ঞাপন বানাচ্ছেন, তাদের সাথে একটা কানেকশন তৈরি করা। আপনার বানানো এডের সাথে যারা দেখছে তারা নিজেদের রিলেট করতে পারছে কিনা। কারন এডে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কানেক্টেড হয়ে গেলে পন্যটির প্রতি তার একটা আগ্রহ তৈরি হবে। একটা এরাউজাল ফিলিং তৈরি হবে সেটা কিনার জন্য, কিংবা ব্যাবহারের জন্য।


টেলিটকের নতুন এড নিশ্চই দেখেছেন। সেই যে, বোবা মেয়েটি। আহারে, ভাই ফোন করেছে বিদেশ থেকে। কিন্ত কিভাবে সে কথা বলবে ? সে তো কথা বলতে পারেনা। কিন্ত সমস্যার সমাধানে চলে এসেছে টেলিটক। এর থ্রিজি সুবিধার মাধ্যমে মেয়েটি তার ভাইয়ের সাথে ভিডিও কল করে।

ফেসবুক থেকে দেখে নিতে পারেন এডভার্টাইজ টি

অমিতাভ রেজার বানানো এই এড টি ভিউয়ারস দের একেবারে সিম্পেথির যায়গাটায় টোকা দিয়েছে। অবচেতন মনে নিজেকে সেই যায়গাটায় অনেকেই কল্পনা করে। মেয়েটার দুখটা বুঝতে পারে, খুশিটা অনুভব করে। কাজেই এখানেই এড টি স্বার্থক।

( জানিয়ে রাখি, এড টি বানিয়েছে অগিলভি এজেন্সি। অগিলভি বিশ্বের সবচাইতে বিখ্যাত এড ফার্ম গুলোর মাঝে একটি। তাদের গোটা পৃথিবীতে ৪৫০ টি ব্রাঞ্চ আছে। অমিতাভ রেজার সাথে একটা কন্ট্রাক্ট হয়েছে বিধায় ধরে নেয়া যায় থ্রিজির পরের ক্যাম্পেইনগুলোও অমিতাভ সাহেব ই বানাবেন )


যাই হোক টেলিটক এর এড টা নিয়ে এত কথা বলার কারন হচ্ছে, এডের মাঝে ইমোশন তৈরির ব্যাপারটা বুঝানোর জন্য। তবে শুধুমাত্র ইমোশন দিয়েই তো আর এড হয় না। আছে আরো কিছু স্ট্রাটেজি। এরকম কিছু স্ট্রাটেজি নিয়েই আজকের পর্ব।


আচ্ছা, যেহেতু ইমোশন দিয়ে শুরু করেছিলাম তাহলে ইমোশন নিয়েই বলি। ভিডিও দেখানো গেলে ভালো হত, তবে যেহেতু ইউটিউব বন্ধ তাই প্রেস এডই দেখি আসুন।




নাইকির সোশ্যাল এড এগেইনস্ট চাইল্ড এবিউজমেন্ট



ছেলেটাকে দেখলেই মন টা খারাপ হয়ে যায় না ? এইটা নাইকির একটি বিজ্ঞাপন। তারা সাধারনত বলে, "জাস্ট ডু ইট", কিন্ত দেখুন এখানে কি চমৎকার ভাবে ডিমার্কেটিং করছে নিজেদের কপির উপর- "জাস্ট ডোন্ট ডু ইট" (আগের পর্ব থেকে নিশ্চই ধারনা পেয়েছিলেন ডিমার্কেটিং আর কপিরাইটিং এর উপর) ।


আরেকটা এড দেখুন। এই এড টা বানিয়েছিলাম স্টপ চাইল্ড লেবার ক্যাম্পেইনের জন্য।



শ্রমের খাচায় বন্দী শিশু



এবার ছেলেটার যায়গায় নিজেকে কল্পনা করুন। আপনি কি চান এইরকম ভাবে লোহার শিকের পিছনে বন্দী থাকতে ? চান না। আপনার এই কমন সাইকোলজিটাকেই কাজে লাগানো হয়েছে এড গুলিতে। অর্থাৎ এমন সব ভিজুয়াল ইউজ করা হয়েছে যেটা দেখলে আপনার মনে হবে, আরে, আমিওতো এই যায়গায় থাকতে পারতাম। সচেতনতা আপনার মাঝে আগে থেকেই ছিলো, এডভার্টাইজিং জাস্ট আপনার ভিতরের অনুভুতিটাকে একটু নাড়িয়ে দিচ্ছে।

পজেটিভ এড দেখাই। আগেরবার ডিজুসের এড দেখিয়েছিলাম। এবারো সেইম এড দেখা যাক। যাতে আগের পোস্টের সাথে রিলেট করতে পারবেন।



ডিজুস- হারিয়ে যাও



আমি শিওর, যে কোন তরুনের এমন একটা ইচ্ছা থাকে, মাইক হাতে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে হারিয়ে যেতে। হারিয়ে যেতে সুরের মাঝে। এমন কি রবীবাবুও বলেছিলেন, আজ কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা মনে মনে।
মনে মনে হারিয়ে যেতে আপনারো বাধা নেই। আর আপনার মনের এই সুপ্ত ইচ্ছাটার ভিজুয়াল ই হলো ডিজুসের হারিয়ে যাও এড টি। কপিটিও কিন্ত তাই, দেখুন।


কাজেই এডভার্টাইজ তৈরিতে ইমোশনের একটা বিরাট ভুমিকা আছে। এবং এই ইমোশন ব্যাপারটাকেই জনাব এরিস্টটল বলেছেন "প্যাথোস" , যার অর্থ হলো ইমোশনাল আপিল।


আরো দু একটি এড দেখি চলুন।




"হিউম্যান রাইটস নিয়ে এড "




জিনস এর এড, ইচ্ছা করেনা গার্লফ্রেন্ডের সাথে এভাবে শুয়ে থাকতে ?


তারমানে বুঝা গেলো ইমোশন কে দু ভাবেই ব্যাবহার করা যায়। এরাউজাল ফিলিং এর জন্য, যাতে আপনারো ইচ্ছা করবে এমন করতে, আবার ডিক্রিজিং ফিলিং, অর্থাৎ আপনার ইচ্ছা করবেনা অমন টি করতে। সাধারনত ডিমার্কেটিং এর ক্ষেত্রে নেগেটিভ ইমোশন ইউজ করা হয়।

আরেকটা ব্যাপার বলে রাখি, ইমোশন ইউজের সবচাইতে ভালো ক্ষেত্র হলো সোশ্যাল এড। নন কমার্শিয়াল এড ও বলতে পারেন।


এই হচ্ছে প্রথম স্ট্রাটেজি। এবার আসুন স্টেপ টু তে।







এবার কথা বলবো "ইথোস" নিয়ে।

আচ্ছা বলেন তো, পেপসি বা নাইকির বিজ্ঞাপনে সেলিব্রেটিদের কেন আনা হয় ? আচ্ছা, আগে একটা এড দেখি তাহলে।



পেপসির বিজ্ঞাপন



কাদের দেখছেন এডে ? বাংলাদেশের ত্রিরত্ন। মাশরাফি, তামিম, সাকিব। আচ্ছা, আরো তো কোটি কোটি মানুষ আছে। তাহলে এদের কেন এডে দেখানো হচ্ছে ? আপনাকে আমাকে কেন দেখানো হচ্ছেনা ? প্রশ্ন জাগেনা মনে ?

কারন এরা হচ্ছে এমন মানুষ, যাদের খেলার সময় সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ নিশ্বাস বন্ধ করে থাকে, হাত তুলে দোয়া করে তাদের ভালো পারফরমেন্সের উপর। অর্থাৎ, সাধারন মানুষের উপর তাদের একটা ইমপ্যাক্ট আছে। একটা অথরিটি আপিল আছে। আমি আপনি টিভিতে কিছু বললে কেউ ফিরেও তাকাবেনা। কিন্ত সাকিব আল হাসান যদি বলে, একটু চেক করে দেখুন তো, আপনার চুলাটা জালানো থাকলে নিভিয়ে দিন। আপনি অবশ্যই একবার হলেও চুলাটা দেখে আসবেন। আপনার অবচেতন মন থেকেই আপনি ঘুরে আসবেন কিচেনে। কারন হচ্ছে আপনার মনের উপর সাকিবের প্রভাব। ক্রিকেটের সাথে পেপসির সম্পর্ক আছে বলেই তারা এখানে তিনজন বেস্ট ক্রিকেটার কে ইউজ করেছে। যদি এটা হতো ব্যাঙ্কের বিজ্ঞাপন, তারা কাস্ট করতো ড. ইউনুস কে। ঠিক একই কারনে প্রাইড শাড়ির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় মৌসুমিকে। নাইকির বিজ্ঞাপনে দেখা যায় ডেভিড বেকহাম কে। অর্থাৎ যেই পন্যের বিজ্ঞাপন, সেই পন্যের বেস্ট রিলায়েবল পারসনকেই হাজির করা হয়।


এবং ইহাই হচ্ছে এরিস্টটল সাহেবের "ইথোস", যার মানে হচ্ছে আপিল অফ অথরিটি, ক্রেডিবেলিটি। বুঝা গেলো ?


এ কারনেই পেপসোডেন্ট এর এডে দেখা যায় একজন ডাক্তার এসে নানান বয়ান দিচ্ছে। কারন ডাক্তারি এপ্রন দেখলেই আমাদের বিশ্বাস করার একটা প্রবনতা চলে আসে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারা যা বলে সব সত্যি।

চলেন তাহলে আরো কিছু এড দেখে আসি "প্যাথোস" মুলক।




পুমার বিজ্ঞাপনে মেসি





বর্তমানের হার্টথ্রব জয়া সাবানের বিজ্ঞাপনে



আপনি একজন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে যখন কোন রিস্ক নিতে চাবেন না, তখনি চলে আসবে "প্যাথস" এর ব্যাবহার। যেমন টা করে লাক্স। অলটাইম পপুলার সেলিব্রেটিদের দিয়ে তারা এড করে আসছে। যখন যে হিট, তখন সে। আগে ছিলো ঐশ্বরিয়া, এখন ক্যাটরিনা। কোন রিস্ক নাই। পন্য বিক্রি হবেই।




লাক্সের বিজ্ঞাপনে ক্যাট



আচ্ছা, এবার আসি এরিস্টটলের ট্রায়াঙ্গেলের তৃতীয় কোনায়। অর্থাৎ আরেকটা স্ট্রাটেজি।


আপনি ইমোশন ব্যাবহার করলেন, সেলিব্রেটি ব্যাবহার করলেন- কিন্ত আপনার পন্যই যদি হয় দুই নাম্বার, তাহলে ? পুরাই ধরা। পাবলিক হয়তো প্রথমবার কিনবে, কিন্ত তারপর আর সেল বাড়বেনা। তাহলে কি করা ? যেটা করা যায়, সেইটা হচ্ছে লজিক দিয়ে কাস্টোমার কে বুঝানো, আপনি যেই পন্য টি ব্যাবহার করছেন, তা আসলেই ভালো।


আবার উদাহরন দেই। ক্লিয়ার শ্যাম্পু- "এখন যেডপিটিও সমৃদ্ধ" দেখেছেন এড টা ? বলতে পারবেন যেডপিটিও কি জিনিস ? হে হে, আসলে এইটা কি জিনিস একমাত্র ক্লিয়ার কোম্পানিই হয়তো বলতে পারবে। <img src=" style="border:0;" />

বিএসআরএম সিমেন্ট- "এখন বুয়েট কতৃক পরীক্ষিত" , কিংবা ধরেন, হরলিক্স এ আছে- "এত পার্সেন্ট ক্যালরি, যা আপনার শিশুকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে"


অথবা মনে করেন, রক্সি পেইন্ট- "সেই ১৯৫৩ সাল থেকে

বা লাইফবয়-
"অন্যান্য সাবানের চাইতে দেয় বেশি সুরক্ষা, এখন ৯৯% জীবানুমুক্ত করে" ,

আরো ভুরু ভুরি উদাহরন দেয়া যায়।

এরোমেটিক-" ১০০ ভাগ হালাল সাবান" ।


এইটা মনে হয় সবচাইতে ইফেক্টিভ কপিরাইটিং সম্বলিত বিজ্ঞাপন। জানেন, এই এডের পর লাক্সের মাথায় বাড়ি পড়সিলো ? সব পাবলিক দৌড়াইসে হালাল সাবান কিনার জন্য। হা হা, মার্কেট শেয়ার ৩০০% পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিলো এই এক বিজ্ঞাপনে। এসিয়াটিক এর রিজিয়ন অফিসার ছিলেন এক অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রলোক। তিনিতো রিতিমত আলী জাকের কে বলে বসলেন, আমরাও কি হালাল লাক্সের বিজ্ঞাপন দিবো ? হে হে (সে এক অন্য ইতিহাস। আরেকদিন বলবোনে। <img src=" style="border:0;" />

এই যে এতগুলা পন্যের কপিরাইটিং বললাম, কোন মিল পাচ্ছেন আপনারা ?

রাইট । এরা প্রত্যেকেই তাদের কপিরাইটিং এ এমন কিছু কথা বলছে, যা আপনার যুক্তিকে টোকা দিবে। অনেক টা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট বা টেস্টিমনিয়াল এর মত। আমার পন্যটি কিনুন, সরাসরি না বলে তারা বলতে চাইছে, কেন পন্য টি কিবেন। আপনাকে ঘুরিয়ে খেতে বলা হচ্ছে। এমন কি অনেক সময় দেখা যায় একটি ব্রান্ড অন্য ব্রান্ডের সাথে নিজেদের তুলনাও দেখায়। যেমন- লাইফবয় এবং সাধারন সাবান। হুইল পাউডার এবং অন্য ডিটার্জেন্ট। আসলে তারা আপনাকে বুঝাতে চাচ্ছে, আপনি কেন বেস্ট জিনিস টা কিনবেন না ? কোন যুক্তিতে কিনবেন না ?


ইহাকেই এরিস্টটল সাহেব বলেছেন "লোগোস" , অর্থাৎ লজিক।


যেইটা দিয়ে আপনি বিজ্ঞাপনের চটকদারিতা ছাড়াও বিশ্বাস করার মত কিছু একটা পাচ্ছেন। আপনার ইচ্ছা হলে আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, তাদের কথা সত্যি কিনা। তবে আসলেই কি কেউ পরীক্ষা করে ?



এরোমেটিক হালাল সাবান



হরলিক্স এর বিজ্ঞাপন। দেখেন কত্ত তথ্য।


তো যেই এড এই তিনটা জিনিসের সমন্বয়ে তৈরি হবে, সেইটা হিট এবং এফেক্টিভ হতে বাধ্য। তবে সব এড ই যে এই ফর্মুলা মেনে চলবে তা না। যে কোন একটা নিয়েও কাজ করা যায়। আবার অন্য স্ট্রাটেজিও ব্যাবহার করা যায়। সেগুলা নিয়ে নাহয় আরেকদিন আলোচনা করা যাবে।






একটা ব্যাপার মাথায় ঢুকিয়ে নিন, আপনি কোন ভাবেই আপনার কনজিউমার কে মিথ্যা কোন তথ্য দিতে পারবেন না। ধরা খাইলে স্যু করে দিতে পারবে যে কেউ। এমন কি চ্যালেঞ্জ করার ও অধিকার রাখে সবাই। এ কারনেই বিজ্ঞাপনের কিছু ল এবং এথিক্স ফিক্সড করা আছে। তবে কে কতটুকু মানে তা প্রশ্নবিদ্ধ।



আগের পোস্ট দিয়েছিলাম কপিরাইটিং নিয়ে। এই পোস্ট টা তার ফলো আপ করার কথা ছিলো। কিন্ত কই থেকে কই চলে গেলাম। তবে এই পোস্টেও কপিরাইটিং এর কিছু জিনিস নিশ্চই পেয়েছেন। আর ইন্টারেস্টিং কিছু জিনিস জানা হলো, মন্দ কি ?


সাথেই থাকুন। সামনে আসছে আরো মজার মজার সব পর্ব।


আগের পর্বগুলোর লিঙ্ক -


[link|http://www.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29729405|বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার... (পর্ব ৫) [কপিরাইটিং]]

বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার- পর্ব ৪ ( সেক্স এন্ড এডভার্টাইজিং ) ১৮+

বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার... (পর্ব ৩) এড এজেন্সি

বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার - পর্ব ২ (এডের কিছু বেসিক স্ট্রাটেজি)

বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার পর্ব ১ - ব্রান্ডিং এন্ড এডভার্টাইজিং





--------------------------------------------------


পোস্ট উৎসর্গ করলাম, সিনেমা পিপলস এর তিন গুরু অন্তর রায় দাদা, মাস্টার মাহদী এবং লেখাজোকা শামিম ভাই কে। তারা সিনেমা পিপলের পিছনে প্রচন্ড খাটছেন নতুন প্রজন্মের কিছু ফিল্ম মেকার তৈরি করার জন্য। তাই তাদের জন্য ছোট্ট এই উপহার। <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29732033 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29732033 2012-12-17 22:57:09
আসুন, বুকের মাঝে ধারন করি লাল সবুজের কিছু অসাধারন ছবি...

ফেসবুকে অনেক ফ্রেন্ডদের কাছ থেকে পেলাম অনেক চমৎকার সব ছবি। পতাকার ছবি, মানচিত্রের ছবি, বাংলার ছবি, বাংলাদেশের ছবি। সর্বপরি লাল সবুজের ছবি। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। সেখান থেকে কিছু ইমেজ সিলেক্ট করলাম। ভালো লাগলে নিজের প্রোফাইল পিক বা কাভার ফটো হিসেবে ব্যাবহার করতে পারেন। সব ডিজাইনার বা ফটোগ্রাফারদের নাম জানিনা বিধায় সবাইকে গণহারে কার্টেসি দিচ্ছি। অসঙ্খ্য ধন্যবাদ আপনাদের।























































































































সবাইকে আবারো ধন্যবাদ এবং বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। শুভেচ্ছা বিজয় জয়ন্তীর।
]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29731495 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29731495 2012-12-17 00:30:24
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার... (পর্ব ৫) <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> [কপিরাইটিং]



" যদি ভালো একটি এড তৈরি করতে চান, তবে সবার আগে নিশ্চিত করুন একটি ভালো কপিরাইটিং" - জন ক্যাপলেস।



লেখালেখির বাপারে আমার ধৈর্য্য একেবারেই নেই। আমি অস্থির প্রকৃতির মানুষ। তবে এডভার্টাইজিং এর উপর সিরিজ পোস্ট টি কন্টিনিউ করছি বেশ কদিন ধরেই। এর পিছনে পূর্ন ক্রেডিট হচ্ছে আপনাদের, মানে পাঠকদের। অসঙ্খ্য পজেটিভ ফিডব্যাক পাচ্ছি ফোনে, ফেবুতে, মেইলে। প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাদের।


তো অনেকেই ইনবক্সে প্রশ্ন করেছেন বিজ্ঞাপনে কপিরাইটিং বিষয়টি নিয়ে। তাই আজকের আলোচনা কপিরাইটিং নিয়েই।

"কপিরাইটিং" টার্ম টি যারা জানেন না, তাদের ভয় পাওয়ার কিছুই নাই। বরাবরের মতই কিতাবী ভাষায় না গিয়ে আমি উদাহরন দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করবো।

প্রথম কথা, বিজ্ঞাপনে কপিরাইটিং টা কি জিনিস ? এটা কি ফটোকপি টাইপের কিছু ? হে হে, মোটেই না.... <img src=" style="border:0;" /> এইটাকে আবার কেউ ইন্টেলেকচুয়াল কপিরাইটের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না যেন। বানান টা হচ্ছে COPYWRITING...




এক্ষেত্রে কপি মানে হচ্ছে লেখা, স্ক্রিপ্ট। আপনারা বিভিন্ন এডে ছবির (ভিজুয়ালের) সাথে যে কথাগুলো পড়েন বা দেখেন তাই হচ্ছে কপি। সেটা যে কোন কিছুই হতে পারে। একেবারে ট্যাগ লাইন বা হেড লাইন থেকে শুরু করে যে কোন আকর্ষনীয় বার্তা বা ইনফরমেশন। আর যিনি এ কাজটি করেন, তিনি হচ্ছেন কপিরাইটার। সিনেমার ক্ষেত্রে অনেকটা স্ক্রিপ্ট রাইটারের মত। একটি কপি তার কাস্টোমার কে এডের ছবির সাথে রিলেট করতে সাহায্য করে। বিলবোর্ড, খবরের কাগজের এড (প্রেস এড) বা লিফলেট এ পন্যের যে ছবি দেয়া হয়, তা আপনাকে ভিজুয়ালাইজ করতে সাহায্য করবে। আর কপি আপনাকে ইনফরমেশন দিয়ে ম্যাসেজ টা মাথায় ঢুকিয়ে দিবে। এক্টি শক্তিশালি কপি, সবসময়ি ইফেক্টিভ। ইমেজ আপনাকে পন্যটির আউটলুক দেখাবে, কপি দেখাবে ইনার স্ট্রেন্থ।

আসি বাস্তব উদাহরনে।

মনে করুন আপনি একটি প্রডাক্টের এড দিবেন। প্রডাক্ট হচ্ছে "ডিজুস", গ্রামীনফোনের একটি স্পেশাল প্যাকেজ। ডিজুসের ট্যাগ লাইন টা আপনাদের মনে আছে ? মনে করিয়ে দিচ্ছি।




"বন্ধু, আড্ডা, গান, এখানেই- ডিজুস"


এই লাইন টা থেকে কি বুঝা যায় ? ডিজুস হচ্ছে এমন একটা প্রোডাক্ট যেটা ফোকাস করবে বন্ধুক্ত, আড্ডাবাজী, মিউজিক। এখান থেকেই বুঝা যায় ডিজুসের টার্গেট কাস্টোমার হচ্ছে তরুন সমাজ। যারা মিউজিক, আড্ডা, আর বন্ধুক্তের প্রতিনিধিত্ব করছে। খেয়াল করে দেখুন, ডিজুসের সকল এডেই কিন্ত এই ব্যাপারগুলাই হাইলাইট করে। যেমন- "তুমি কি সাড়া দিবে" এড টির থিম কি ? "মোরা ঝরনার মত উচ্ছল" কিংবা "লীল আকাশের নিচে আমি কি সুখ খুজে পাই ?" সবি একই থীমের উপর। ব্যপারটা বুঝা গেছে ? অর্থাৎ প্রথম কপিটার উপরেই কিন্ত পরের সমস্ত এড তৈরি হচ্ছে।



আবার মনে করুন, "যেখানে দিন বদলের চেষ্টা, সেখানেই বাংলালিঙ্ক "।

খেয়াল করার চেষ্ট করুন, বাংলালিঙ্কের সকল এডেই কিন্ত পরিবর্তন বা দিন বদল ব্যাপারটিকে হাইলাইট করা হয়।





"জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে-রবি"

কি বুঝা যায় ? বুঝা যায় রবি বিশ্বাস করে আপনার ভিতরের শক্তিকে। রবি যখন তাদের ব্যান্ড আইডেন্টিটি চেঞ্জ করে একটেল থেকে রবি এক্সিয়াটা হয়,তখনকার টিভিসি গুলার কথা খেয়াল করুন। একজন মধ্যবয়ষ্ক লোক গিটার শেখা চেষ্টা করেন। একবার, দুইবার, তিনার, একসময় তিনি সফল হল এবং স্ত্রীকে বাজিয়ে শুনান গিটার। তার মানে প্রতিভা মানেনি বয়সের বাধা। রবি বিশ্বাস করে সেই প্রতিভাকে।

অর্থাৎ একটি কপিরাইটিং আপনার প্রডাক্ট/সার্ভিস কিংবা কোম্পানির কর্পোরেট আইডেন্টিটিকে কাস্টোমারের কাছে ইস্টাব্লিশ করার জন্য বিরাট ভুমিকা রাখে। আপনার কোম্পানির মিশন, ভিশন পারপাস যা, কপিতেও ঠিক তাই ফুটে উঠবে।


অফ টপিকঃ নিজের ঢোল একটু নিজেই পিটাই <img src=" style="border:0;" />, বলার লোভ সামলাতে পারছিনা, রবির জন্য আমি ছোট্ট একটা ভিডিও বানিয়েছিলাম তাদের স্লোগান "জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে" এই থীমের উপর। বেস্ট জুরি এওয়ার্ড পেয়েছিলাম। তবে রবি আইডিয়ার কপিরাইট কিনে রাখে আমার কাছ থেকে।




মজার মজার কিছু কপি রাইটিং এর ব্যাপারে বলি।

"ক্যামেল" নামে একটা সিগেরেটের বিজ্ঞাপনের কপি ছিলো এরকম- "স্মোকিং ইজ হার্মফুল, ইফ ইউ স্মোক ক্যামেল"

মজা না ? যেহেতু বিজ্ঞাপন নিতিমালা অনুযায়ী সিগেরেট হার্ম্ফুল কথাটা থাকতে হবে, তাই তারা চমৎকার ক্রিয়েটিভ এই কপিটি বিজ্ঞাপনে দেয়। তারা কিন্ত স্মোকিং হার্মফুল এটাঅ বললো, আবার ক্যামেল বেস্ট সিগেরেট এটাও ইঙ্গিতে বুঝালো।




উপরের কপি টি দেখুন, - " টু নো মোর এবাউট ল্যাং ক্যান্সার, কিপ স্মোকিং"



আবার রম্য প্রত্রিকা উন্মাদের একটা স্টিকার আছে আমার কাছে। সেখানে লেখা-

"সিগ্রেট খাইয়া মারা যান
ভাতের উপর চাপ কমান"।




এই ধরনের এড ব্যাবহার করা হয় ডিমার্কেটিং এর ক্ষেত্রে। ডি মার্কেটিং মানে লেস কঞ্জাম্পশন। মানে কোন কিছু করতে বলা বা কিনতে বলার বদলে উল্টাটা বলা। অর্থাৎ এটা কিনবেন না, এটা ব্যাবহার করবেন না ইত্যাদি। ক্যামেল সিগেরেটের কপিটা কিন্তু ডিমার্কেটিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং এর একটা চমৎকার উদাহরন।

আর একটা ব্যাপারও কিন্ত। বুঝা যাচ্ছে, কমার্শিয়াল প্রোডাক্টের বেলায় কপি হচ্ছে অনেকটাই ইনফরমেটিভ এবং ডিরেক্ট। এটা কিনুন, ওটা ব্যাবহার করুন ইত্যাদি। তবে নন কমার্শিয়াল, সোশ্যাল বা ডিমার্কেটিং এর বেলায় আপনার কপিতে ক্রিয়েটিভিটি ঢেলে দিতে পারেন। যত সুন্দর ভাবে আপনি মানুষের চিন্তায় একটা ম্যাসেজ থ্রো করতে পারবেন, তত বেশী ইফিশিয়েন্ট হবে এড টি। আর সোশ্যাল এডে যেহেতু প্রোডাক্টের ব্যাপার নাই, ম্যাসেজটাই আসল।

ধরুন আপনি এমন ভাবে চাইল্ড লেবারের উপর একটা কপি বানালেন, যা মনে দাগ কেটে যায়। তখন কেউ একজন এড টা দেখার পর সাবকনশাসলিই শিশুদের উপর এবিউজ করতে পারবেনা।

যদি কপি সর্বস্ব এড হয়, তাহলে কপিটি হতে খুবি শক্তিশালী, আর যদি সাথে ভিজুয়াল থাকে, তাহলে কপি হতে হবে এমন তা যেন ভিজুয়ালের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ন হয়। কপিরাইটিং স্ট্রাটেজি নিয়ে বিস্তারিত পরের পোস্টে বলবো, তবে এখন অন্তত একটা জিনিস মাথায় রাখেন। কপি চেষ্টা করবেন সিম্পল, ছোট, সাবলিল, সহয করতে। চেষ্টা করবেন ইমোশনালি টার্গেট কাস্টোমার কে টাচ করতে। মনে রাখবেন, আপনার টার্গেট কাস্টোমার আপনার কাছ থেকে কিছু একটা চাচ্ছে, সে জন্যেই সে এড টা দেখে। আপনার কাজ হলো প্রপার ভিজুয়াল আর কপির মাধ্যমে তার চাওয়াতা পূর্ন করা। তার মাঝে একটা ডিমান্ড সৃষ্টি করা, যাতে সে নিজে থেকেই বলে, এই প্রোডাক্ট টা আমার লাগবেই।


আসুন তাহলে দেখে নেই চমৎকার কিছু কপিরাইটিং সমৃদ্ধ এডভার্টাইজ।




এনোনিমাস এর পোস্টার । নাড়া দেয় না বিদ্রোহী মনে ?



বিশ্বাস করুন, পরিবর্তন আসবেই










এড ফার্মে কপিরাইটার এর কাজটা একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। একজন সিনিয়ার কপিরাইটার এর আন্ডারে থাকে জুনিয়র কপিরাইটার, ট্রান্সলেটর ইত্যাদি। ক্লায়েন্ট যখন একটা এড তৈরির জন্য এড এজেন্সিতে আসে, তখন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মূল প্ল্যান টা নিয়ে কপিরাইটার এবং আর্ট ডিরেক্টরের সাথে বসেন। কপি রাইটার টোটাল ব্যাপারটা লিখে ফেলেন, ইনক্লুডিং ডায়ালগ, স্ক্রিপ্ট, স্লোগান, হেডলাইন এবং ইনফো। আর আর্ট ডিরেক্টর সেটার আলোকে ডিজাইন বা ইমেজ রেডি করেন। কাজেই কপিরাইটার আর আর্ট ডিরেক্টরের আন্ডার্স্ট্যান্ডিং টা ভালো হয়া জরুরী।


যাদের গল্প, কবিতা বা লেখালেখির হাত ভালো, তারা কিন্ত সিরিয়াস লি এড ফফার্মগুলোতে কপিরাইটার হিসেবে জয়েন করতে পারে। আরেকটা ব্যাপার জানিয়ে রাখি, কপিরাইটার এবগ আর্ট ডিরেক্টরের ডেজিগনেশন কিন্ত সমান। অর্থাৎ একজন আর্ট ডিরেক্টর যদি ৫০০০০ টাকা বেতন পায়, সিনিয়ার কপিরাইটার ও তাই পাবে। সো বসে আছেন কেন ? লেগে পড়ুন এখুনি।

এখন বসে না থেকে একটা কাজ করতে পারেন। একটা ছোট্ট হোম ওয়ার্ক দেই। আপনার যেই সকল এড এর স্লোগান বা কপিরাইটিং ভালো লেগেছে, সেইগুলার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। সাথে প্রোডাক্টের নামটাও লিখবেন। চিন্তা করে বের করুন, কেন এই কপিটি আপনাকে আকর্ষন করলো। অনেক কিছুই ক্লিয়ার হয়ে জাবে তখন।

আর আমি বিশ্বাস করি ব্লগার মাত্রই ক্রিয়েটিভ। তাহলে আসুন সবাই মিলে স্টপ চাইল্ড লেবার এর এডের একটি কপি তৈরির চেষ্টা করি। বাংলা ইংলিশ যেকোন ভাষাতেই হতে পারে। সবাই যদি সহোজগিতা করেন, তাহলে বেস্ট কপিগুলার সাথে ভিজুয়াল এড করে কিছু পোস্টার বানিয়ে ফেলবো আমরা সবাই মিলে। ফ্রি টাইম টা না হয় একটু চিন্তা ভাবনা করেই কাটালেন। লস কি, একটা কিছু তো শিখলেন।



কিভাবে কপিরাইটিং কে আকর্ষনীয় করবেন, বা অডিয়েন্সের এট্রাকশন কিভাবে তৈরি করবেন, এটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার সৃষ্টীশীলতার উপরে। তবে কিছু টেকনিক ও আছে। সেই ব্যাপারে আলোচনা করবো পরের পোস্টে।

সবাইকে ধন্যবাদ, পরবর্তি পর্বের জন্য সাথেই থাকুন

১ম পর্বঃ ব্র্যান্ডিং এবং এডভার্টাইজিং কি জিনিস

২য় পর্বঃ বিজ্ঞাপনের কিছু কমন স্ট্রাটেজি, মার্কেটিং মিক্স

৩য় পর্বঃ এড এজেন্সি- কি, কেন, কিভাবে

৪র্থ পর্বঃ সেক্স ইন এডভার্টাইজিং




--------------------------------------------


পোস্ট টি উৎসর্গ করলাম আমাদের সবার প্রিয় ব্লগার নস্টালজিক কে। রানা ভাই, আমাদের ইনসমনিয়াক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাহেব। আমার দেখা অসাধারন একজন মানুষ এবং চমৎকার লিরিসিস্ট। তবে তার যেই পরিচয় টা অনেকেই জানেন না, তা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশের ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট এড এজেন্সি "গ্রে"র কপিরাইটার ছিলেন। আশা করি তাকে উৎসর্গ করে কপিরাইটিং এর লেখাটার ভুলগুলি তিনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29729405 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29729405 2012-12-13 23:16:44
বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার- পর্ব ৪ ( সেক্স এন্ড এডভার্টাইজিং ) ১৮+ <img src="http://cdn1.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_18.gif" width="23" height="22" alt=":|" style="border:0;" />
পরের পর্বের লিঙ্ক - এডভার্টাইজিং এর গুষ্টি উদ্ধার (পর্ব ৫) , লেখাটা কেন নির্বাচিততে এলোনা বুঝলাম না। এই পর্বটা পড়ে পরের পর্বের উপরেও একটু চোখ বুলিয়ে নিয়েন সবাই

-------------------


এডভার্টাইজিং এর পরবর্তি পর্বটা অনেক দিন ধরেই ঝুলে ছিলো। তাই দিয়ে দিলাম আজকে। আগের পর্বগুলোর লেসনগুলো নিশ্চই মনে আছে ? এই পর্বটিও বেশ মজার হবে। তবে আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় টা বাংলাদেশের এডভার্টাইজিং এর জন্য কিছুটা সেনসেটিভ। বিষয় টি হচ্ছে-

এডভার্টাইজিং এন্ড সেক্স।


সেক্স কি আসলেই এডভার্টাইজিং এর একটা গুরুত্বপুর্ন অংশ ? একটি পন্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সেক্স কে কিভাবে কাজে লাগানো যায়, বা কাজে লাগানো হয়।

ইন্টারেস্টিং টপিক, বলা যায় এটা একটা সাইকোলজিকাল ব্যাপার। মার্কেটিং এ কনজিউমার বিহেভিয়ারের একটি গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার ।

চলে আসি মূল কথায়।

প্রথমেই একটা প্রশ্ন করি, আপনার কি মনে হয় ? "ডাজ সেক্স সেল ? " সেক্স কি পন্য বিক্রয়ে ভুমিকা রাখতে পারে ? এখানে সেক্স বলতে সেক্স আপিল সমৃদ্ধ টিভিসি বা বিলবোর্ড, পোস্টারে সেক্সুয়াল পিকচার, ভিজুয়াল কে বুঝানো হয়েছে। প্রশ্নটি আসার কারন আছে। এডভার্টাইজিং এ সেক্স কে ব্যাবহার করা হয় সেন্ট পার্সেন্ট ক্ষেত্রে।

চিন্তা করতে করতে আসুন কিছু প্রেস এন্ড প্রিন্ট এড দেখি। সবগুলা এড ই বিয়ারের, এবং প্রতিটিতেই সেক্সচুয়ালিটিকে ব্যাবহার করা হয়েছে।







এডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে সবসময় আপনার কনজিউমারের ইমোশন এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাথায় রাখতে হবে কোন ব্যাপারটায় আপনার টার্গেট কাস্টোমার ইমোশনালি কানেক্টেড হবে। ইমোশন/ ফিলিং গুরুত্বপুর্ন। তাহলে হোয়াট এবাউট দ্যা ইমোশন অফ এরাউজাল ?


এমন অনেক পন্যই আছে, যেগুলোতে কনভিনসিং কোন ফ্যাক্টস নেই। অর্থাৎ, পন্যটা আপনাকে কিনার জন্য কনভিন্স করতে পারছেনা, যে কারনেই হোক। আপনার মনে দ্বিধা আছে, প্রোডাক্ট টি কিনবেন নাকি কিনবেন না। ইটস অল এবাউট টেস্ট। আপনার টেস্টের সাথে পন্য টি যাচ্ছেনা। একটা পন্যের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিন্ত আপনি টেস্ট যাচাই করতে পারছেন না। একবার অন্তত ব্যাবহার করে তারপর আপনি ডিসিশন নিবেন। এবং এই টেস্ট টাই হচ্ছে ফিলিং। একটু আগেই বলেছি, ফিলিং খুব ইম্পর্টেন্ট, এন্ড টেস্ট ইজ কাইন্ড অফ ফিলিং।


যেহেতু বিয়ারের ছবি দিয়েছি, তাই বিয়ার দিয়েই উদাহরন দেই।


মনে করুন আপনার একজন বন্ধু আপনাকে হ্যানিকেন নামে এক্ট বিয়ারের কথা বললো। আপনি আগে কখনো এই হ্যানিকেন ব্রান্ডের বিয়ার টেস্ট করেন নি। এখন "হ্যানিকেন" এর ছবি বা এড দেখে বা ফ্রেন্ডের কাছ থেকে খেয়ে আপনার মনে দু ধরনের কনসিডারেশন আসতে পারে। আপনি ভালো খারাপ দুধরনের এপ্রোচ ই দেখাতে পারেন। এক, আপনার কাছে মনে হতে পারে বিয়ারটা ভালো তো। খাওয়া যায়। অথবা মনে হতে পারে, বিয়ারটা দেখে খুব একটা ভালো লাগলো না। মেবি আপনার মনে হয়েছে ইটস টোটালি স্মোকি ফর ইউ। অর দিস ইস ঠু এক্সপেন্সিভ। অর্থাৎ পন্য টি কিনার প্রতি একটা রেসিসট্যান্স তৈরি হয়েছে।


এবং এখানেই চলে আসে সেক্স, ইমোশন বা এরাউজাল ফিলিং।


বলছি কিভাবে। আপনার যদি পন্যটার প্রতি ব্যাড এপ্রোচ থাকে, তাহলে সেক্সচুয়ালিট আপনাকে ডিস্ট্র্যাক করে দিবে। আপনাকে এরাউজ করবে পন্য টি কিনার প্রতি। সেক্সি এড আপনার সেই রেসিস্ট্যান্স কে ভেঙ্গে দিতে পুশ করবে।

এটা বেশ দ্বান্দিকএকটা অবস্থা। এক দিকে আপনি পন্যটি কিনবেন না বলে স্থির করেছেন, অন্যদিকে পন্যের এডের দিকে আপনি এট্র্যাক্টেড হচ্ছেন। আপনার কনজিউমার বিহেভিয়ার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই অবস্থা টি বেশ কনফিউজিং। এই রকম ডিস্ট্রাক্টেড পরিস্থিতিতে যে কোন ক্লিশে বা পুশ ফ্যাক্টর যাদুর মত কাজ করে।


উদাহরন দেয়া যাক। নিচের ছবিটি দেখুন। "হ্যানিকেন" বিয়ারের সাদামাঠা একটি এড।



এবার একই বিয়ারের এই এড টি দেখুন। এখানে কিন্ত চলে এসেছে সেক্সুয়ালিটি।




কি বুঝলেন ? প্রথম ছবিটা একটা সিম্পল ছবি। সবুজ কালার আর সিমপ্লিসিটির জন্য এই এডটায় আপনি ফিলিং খুজে পাবেন, বাট নো সেক্স। পরের ছবিটা দেখুন। সেইম বিয়ার, সেইম কালার, সেইম টোন, কিন্ত সাথে আছে একটি হট মেয়ে। এই হট মেয়েটাই কাজ করবে ক্লিশে বা পুশ ফ্যাক্টর হিসেবে। শুধু মাত্র সেক্স আসার কারনে প্রথম এডের চেয়ে ২য় এড টা আপনি বেশি দেখবেন। রাস্তায় এই বিলবোর্ড চোখে পড়লেই থমকে দাড়াবেন। সুশীল টাইপের কেউ হলে গালিও দিতে পারেন। তবে ফ্যাক্টস হচ্ছে, এড টি আপনার নজর ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।


মহাখালিতে "আড়ং" এর একটি বিল্বোর্ড আছে। পিছন দিক অনেকটা খোলা এমন ব্লাউজ পরিহিত এক মেয়ের ছবি। ঐ সিগনালে নাকি গাড়ির জ্যাম লেগে থাকে কারন ড্রাইভার রা ঐ ছবি থেকে চোখ সরাতে পারেনা। <img src=" style="border:0;" /> মানে হচ্ছে, ভালো বা খারাপ যাই হোক, আড়ং এর এড টি স্বার্থক।


ঠিক একইভাবে বিয়ারের ২য় এড টিও।


এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিয়ারটি কি আসলেই বিক্রি হবে ? বা আড়ং এর সেই শাড়িটি কি আদৌ বিক্রি হচ্ছে একর্ডিং টু এড ?


এবার তাহলে আরেকটি ছবি দেখাই। কিছু টা পরিসঙ্খান ও দেখা যাতে পারে।






পরিসঙ্খ্যান বলে, প্রথম নজরে ৩০ % মানুষ মেয়েটির বুকের দিকে তাকাবে। এবং মেয়ে কনজিউমার দের মধ্যে ১৪ % তাকাবে মেয়ের বুকের দিকে, কিন্ত ৩০ % তাকাবে, মেয়েটির মুখের দিকে। অর্থাৎ মেয়েটি কি পরে আছে, তা দেখবে। মেয়েটি যদি প্রোডাক্ট টি না পরে হাতে রাখতো, তাহলে ফিমেইল দর্শক রা প্রথমে তাকাবে মেয়ের মুখের দিকে, সেকন্ডে তাকাবে মেয়েটি কোন দিকে চেয়ে আছে সেদিকে, অর্থাৎ প্রোডাক্টের দিকে। মাত্র ১১% দর্শক তাকাবে হেডলাইন বা পন্যটির নামের দিকে। কি লেখা আছে, তার দিকে তাকাবে ৪ % মানুষ। লোগো দখেবে শতকরা ৫ জন।


তার মানে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষ ই এড থেকে ম্যাসেজ টা নেয়ার আগেই ডিসট্রাক্টেড হয়ে যাবে সেক্সি মেয়েটিকে দেখে। এবং শুধু মাত্র সেক্সি এড হলেই হবেনা, সেক্সের সাথে সাথে প্রোডাক্ট প্লেসমেন্টের দিকেও নজর দিতে হবে। ভিজুয়াল এমন ভাবে বানাতে হবে যেন, মেয়েটির দিকেও চোখ পড়ে, আবার ফিমেইল কাস্টোমার ধরে রাখার জন্য মেয়েটির হাতে বা প্রোডাক্টের দিকে তাকিয়ে থাকার ছবি দিতে হবে। ড্রেসআপ এবং এটিচিউড যেন এমন হয়, মেয়েরাও সেটাকে ফলো করার সুযোগ পায়।



একটা জরীপ আপনাদের মাঝেই চালানো যেতে পারে। মনে করে দেখুন তো, কোন ব্রান্ড টি আপনার বেশি মনে থাকবে ? সেক্সুয়াল এডের ব্রান্ড টি, নাকি নন সেক্সুয়াল এডের ব্রান্ড টি ?


দেখা যায় ২৫% কাস্টোমার সেক্সি এডের ব্রান্ড টি কিনতে চায়। কিন্ত ছেলে কাস্টোমার রা ব্রান্ডটির নাম মনে রাখতে পারেনা। অর্থাৎ রিকল করতে পারেনা। বিকজ দে আর মোর ডিসট্রাক্টেড বাই সেক্স। কিন্ত মজার ব্যাপার হচ্ছে সেইম ফর গার্লজ ইটস ভাইস ভার্সা। মেয়েরাও সেক্সি এড টা বেশি রিকল করতে পারে এবং বেশি কিনতে চায় ।যেই কারনে পুরুষেরা এড টি মনে রাখবে, সেই একই কারনে মেয়েরাও পুষদের এট্রাক্ট করার জন্য পন্য টি কিনবে।


তাহলে সারকথা দাড়াচ্ছে, সেক্স কনজিউমার দের ব্রান্ড টি কিনার ব্যাপারে হেল্প করে, কিন্ত ব্রান্ড টি মনে রাখার ব্যাপারে সমস্যা করতে পারে। সো এড হতে হবে একই সাথে সামাঞ্জস্যপুর্ন, সুন্দর, এবং এট্রাক্টিভ। কাজেই সো মাচ সেস্কুয়ালিটি ক্যান মেক মোর ডিস্ট্রাকশন এন্ড এট দা সেইম টাইম মোর সেল (সব পন্যের বেলায় আবার না) ।


আজ এ পর্যন্তই থাক। পরের পর্বে এডভার্টাইজিং এর অন্য কোন মজার স্ট্রাটেজি নিয়ে আলোচনা করবো।

সবাই ভালো থাকুন। আগের পোস্ট গুলোর ও লিঙ্ক দিয়ে দিলাম। পড়লে নিশ্চই উপকৃত হবেন। <img src=" style="border:0;" />


বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার, পর্ব ১ ( এডভার্টাইজিং এবং ব্রান্ডিং কি )

বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার -২ ( এডভার্টাইজিং এর কমন কিছু স্ট্রাটেজি)

বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার-৩ ( এড এজেন্সি কি জিনিস, কিভাবে কাজ করে) ]]>
http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29729252 http://m.somewhereinblog.net/blog/bunomanush/29729252 2012-12-13 20:06:42