নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজের সম্পর্কে লেখার মত এমন স্পেশাল কিছু এখনও অর্জন করতে পারি নি। ভালো থাকুন সবাই,আর ভালো রাখুন চারপাশের সবাইকে।

আদিল ইবনে সোলায়মান

আদিল ইবনে সোলায়মান › বিস্তারিত পোস্টঃ

খুন ও তার পেছনের গল্প

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪


আজ থেকে প্রায় দু’শ বছর আগেকার কথা। ব্রিটেনে তখন চলছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দারুণ এক সময়। নানা রকম গবেষণা প্রতিনিয়ত গবেষকদের কাছে সম্ভাবনার নানা দুয়ার খুলে দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও একটি সমস্যা থেকেই গেলো। আর তা হলো আইনসম্মত মৃতদেহের অভাব। যতই দিন যাচ্ছিলো, মৃতদেহ পাওয়া ততই দুষ্কর হয়ে উঠছিলো। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উৎস ছিলো অপরাধীদের মৃতদেহ, যা কিনা মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরের পর মেডিকেল স্কুলগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হতো। কিন্তু দিন দিন এ উৎস থেকে আগত দেহের সংখ্যাও কমে যেতে লাগলো। ফলে ডাক্তাররাও মরিয়া হয়ে উঠলেন (দয়া করে ডাক্তারদের দোষ দিতে যাবেন না)। শিক্ষার্থীদেরকে অ্যানাটমিক্যাল ডিসেকশন সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান দেওয়ার জন্য দরকারী মৃতদেহ সংগ্রহে তারা যেকোনো পথ বেছে নেওয়ার কথা চিন্তা করতে লাগলেন। আর তাদের এ চিন্তাই পরবর্তীতে জন্ম দেয় এমন একগুচ্ছ খুনের ঘটনার যা এতদিন পরেও যে কাউকে রোমাঞ্চিত করে তুলতে পারবে অনায়াসেই…

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো যাক। এক ধাক্কায় চলুন যাওয়া যাক ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে। সেই বছরেরই কোনো এক সময়ে উইলিয়াম বার্ক উত্তর আয়ারল্যান্ডের আর্নি শহর ছেড়ে ভাগ্যান্বেষণে পাড়ি জমান স্কটল্যান্ডে, কাজ করতে থাকেন ইউনিয়ন ক্যানালে একজন নেভিগেশনাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। এখানেই তার পরিচয় হয় হেলেন ম্যাকডোগালের সাথে, পরবর্তীতে তাদের এ সম্পর্কটি বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়।



উইলিয়াম বার্ক

কাছাকাছি সময়ে উইলিয়াম হেয়ার নামক অপর আরেক ব্যক্তিও একই উদ্দেশ্যে চলে আসেন স্কটল্যান্ডে, কাজ শুরু করেন ইউনিয়ন ক্যানালের একজন শ্রমিক হিসেবে। এখানে এসে তার পরিচয় হয় লোগ নামের এক লোকের সাথে, যিনি কিনা রাস্তার ভিক্ষুক আর যাযাবরদের জন্য একটি লজিং হাউজ খুলে বসেছিলেন। ১৮২৬ সালে লোগ মারা গেলে হেয়ার তার বিধবা স্ত্রী মার্গারেট লেয়ার্ডকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে মার্গারেট দেখতে থাকেন লজিং হাউজের ব্যবসা, আর হেয়ার কাজ করতে থাকেন ক্যানালেই।



উইলিয়াম হেয়ার

বিধাতার কী অদ্ভুত খেলা! দুজন মানুষ বাইরে থেকে এসে ঘাঁটি গাড়লো স্কটল্যান্ডে, কিন্তু এদের কেউই চিনতো না অপরজনকে। আর পরবর্তীতে এ দুজনই একজন আরেকজনকে এতটা ভালোভাবে চিনেছিলো, যা ইতিহাসের পাতায় শোকের কালো অক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।



পেছন দিক থেকে বার্কের বাড়িটি দেখতে এমনই ছিলো





হেয়ারের লজিং হাউজ

নিয়তির খেল

১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বার্ক এবং হেলেন কাকতালীয়ভাবে হেয়ারের বাসার কাছাকাছি এক জায়গায় এসে ওঠেন। প্রতিবেশী হিসেবে অল্প কিছুদিনের মাঝেই দুই পরিবারের ভেতর চমৎকার এক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হেয়ার এবং বার্ক একে অপরের বেশ ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন।

একই বছরের ২৯ নভেম্বর হেয়ারের বাড়িতে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক স্বাভাবিকভাবেই মারা যান। হেয়ার তার কাছে ৪ পাউন্ড পেতেন। এ অর্থ উদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেন তিনি। তাই দুই বন্ধু মিলে এক পরিকল্পনা ঠিক করলো। পরিকল্পনা মোতাবেক তারা লোকটির কফিন গাছের বাকল দিয়ে এমনভাবে পূর্ণ করে দিলেন যাতে কেউ সন্দেহ না করে। এরপর তারা গেলেন এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে এ মৃতদেহটি বিক্রির জন্য গোপনে খদ্দের খুঁজতে লাগলেন তারা, অবশেষে পেয়েও গেলেন। ডাক্তার রবার্ট নক্সের এক সহকারীর কাছে দেহটি ৭.১০ পাউন্ডে বেঁচে দিলেন তারা। লাভ হলো ৩.১০ পাউন্ড।





ডাক্তার রবার্ট নক্স

রবার্ট নক্সের নাম যখন আসলো, তাহলে সংক্ষেপে তার একটু পরিচয় দেয়া যাক। তিনি ছিলেন একজন স্কটিশ অ্যানাটোমিস্ট, জুওলজিস্ট, এথনোলোজিস্ট এবং ডাক্তার। সেই সময়ে তিনি ছিলেন অ্যানাটমির উপরে ব্রিটেনের সবচেয়ে বিখ্যাত লেকচারার। কিন্তু সেসব এখন অতীত। ইতিহাস তাকে এখন বেশি মনে রেখেছে বার্ক আর হেয়ারের সাথে তার পরবর্তী দিনগুলোর জন্য।

যা-ই হোক, মূল কাহিনীতে আবার ফিরে আসা যাক। দুই বন্ধু যখন দেখলো যে, ৪ পাউন্ড পেতে গিয়ে লাভ হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ, তখন তাদের মাথায় আসলো অন্য এক চিন্তা, “আচ্ছা, মৃতদেহের ব্যবসা করলে কেমন হয়? বিনিয়োগ কম, আবার লাভও ভালোই। ঠিক আছে, তা নাহয় করা গেলো। কিন্তু মৃতদেহ আসবে কোথা থেকে? কেন? আমরা খুন করবো!”

বলা বাহুল্য, পাওনা টাকা আদায় করা যে তাদের এ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে তা বোধহয় তারা নিজেরাও কল্পনা করতে পারে নি।

কিলিং মিশন

তাদের প্রথম শিকার ছিলেন হেয়ারের বাড়ির এক ভাড়াটে, নাম জোসেফ, পেশায় যিনি ছিলেন মিলের মালিক। তারা জোসেফকে অতিরিক্ত মদ খাইয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন! ঠান্ডা মাথায় সম্পন্ন হওয়া একটি খুন।

দ্বিতীয় খুনটি সম্পন্ন হয় এর কিছুদিন পর। কোনো ভাড়াটে না পেয়ে এবার তারা পথচারীদের দিকে মনোযোগ দেন। ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাবিগেইল সিম্পসন নামের এক বৃদ্ধা তার বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তার দেখা হয় বার্ক এবং হেয়ারের সাথে। ততক্ষণে রাত হয়ে গিয়েছিলো। তাই দুই বন্ধুর অনুরোধে তিনি তাদের বাড়িতে রাতটুকু কাটাতে সম্মত হন। ইশ! যদি তিনি তখনও জানতে পারতেন তার ভাগ্যে সেই রাত্রে কী ঘটতে যাচ্ছে। এবারও আগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। অতিরিক্ত মদ পান করিয়ে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় অ্যাবিগেইলকে। এবার তারা আয় করে ফেলেন একেবারে ১০ পাউন্ড!

সেই বসন্তেই আরো দুটি খুন করা হয়। মার্গারেট তাদেরকে বাসায় দাওয়াত দিয়েছিলেন। তারপর আগের মতোই তাদের মাত্রাতিরিক্ত মদ পান করানো হয়। হেয়ার বাসায় এসে পরবর্তী ধাপটুকু সম্পন্ন করেন।

পরবর্তী খুনটিও করা হয় একই উপায়ে। পরিবর্তন শুধু একটিই। এবার খুনটি করেছিলেন বার্ক। পরবর্তীতে বার্ক ম্যারি প্যাটারসন নামক এক মহিলাকে হত্যা করেন। বার্কের পরবর্তী শিকার ছিলেন তার পরিচিত এক মহিলা, নাম এফি। তিনি বিভিন্ন আস্তাকুঁড় থেকে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এফি বিভিন্ন সময় কুড়িয়ে পাওয়া চামড়ার টুকরা বার্কের কাছে বিক্রি করতেন। এগুলো বার্কের মুচিগিরিতে সাহায্য করতো। কিন্তু এই এফিকেও বার্কের শিকারে পরিণত হওয়া লাগে। এফিকে বিক্রি করে আবারো ১০ পাউন্ড লাভ করেন বার্ক।

এরপরের খুনও হয় এই বার্কের হাতে। এবার বার্ক এক মাতাল মহিলাকে বাঁচান পুলিশের হাত থেকে এই বলে যে, তিনি তাকে চেনেন আর তিনি তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে পারবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েক ঘন্টা পর এই মহিলার স্থান হয় একটি ল্যাবরেটরিতে।

পরবর্তী দুই শিকার ছিলেন এক বৃদ্ধা এবং তার মূক নাতি। বৃদ্ধাকে অতিরিক্ত পেইনকিলার খাইয়ে খুন করা হয়। নাতিকে খুন করার কাজটি করেন হেয়ার। তিনি তাকে লম্বা করে শুইয়ে দিয়ে আঘাত করে তার মেরুদন্ড ভেঙে ফেলেন! এবার মোট উপার্জন হয় ১৬ পাউন্ড। পরবর্তীতে জবানবন্দিতে হেয়ার জানিয়েছিলেন যে, খুনের সময় ছেলেটির অভিব্যাক্তি তাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়াতো।

একাদশ এবং দ্বাদশ খুনের পেছনে আবারো সেই বার্ক। এবারের খুন হওয়া দুজনই তার পূর্বপরিচিত। একজন মিসেস হোস্টলার, অপরজন ছিলেন তার স্ত্রীর আত্মীয় যার নাম অ্যান ডোগাল।

ত্রয়োদশ শিকার হেয়ারের। এবারের দুর্ভাগার নাম ম্যারি হ্যালডেন যিনি আগে হেয়ারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি এক রাতের জন্য হেয়ারের আস্তাবলে থাকতে চেয়েছিলেন। আফসোস! তিনি জানতে পারেননি যে, এটিই তার জীবনের শেষ রাত হতে যাচ্ছে। কিছুদিন পর ম্যারির মেয়ে পেগি হ্যালডেন তার মাকে খুঁজতে এলে দুই বন্ধু মিলে তাকেও শেষ করে দেয়। সম্পন্ন হলো চতুর্দশতম খুন।

মানিকজোড়ের পরবর্তী শিকার ছিলো এডিনবার্গের এক পরিচিত মুখ; জেমস উইলসন নামে মানসিকভাবে অসুস্থ, খোঁড়া এক যুবক। সবাই তাকে ‘বোকা জেমি’ নামেই চিনতো। ছেলেটিকে খুন করতে তারা দুজনই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ধরা পড়ার পর অবশ্য তারা একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে ব্যস্ত ছিলেন। উইলসন নিখোঁজের পরই তার মা তাকে খোঁজা শুরু করেন। পরেরদিন সকালে ডাক্তার নক্স যখন তার ছাত্রদের সামনে ডিসেকশন করতে বসলেন, তখন বেশ কয়েকজন উইলসনকে চিনে ফেলে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে নক্স দেহটিকে কেটে ফেলেন। ফলে উইলসনকে শনাক্ত করার আর কোনো উপায়ই রইলো না।





জেমস উইলসন

ষোড়শ এবং সর্বশেষ শিকার ছিলেন মিসেস মেরি ডোশার্টি। বার্ক তাকে এ কথা বলে বাড়িতে নিয়ে আসেন যে, তারা দুঃসম্পর্কের আত্মীয় হন। বাড়িতে আনার পরপরই অবশ্য মেরিকে খুন করতে পারেন নি তিনি, কারণ তখন তাদের ঘরে অন্য দুই ভাড়াটে জেমস এবং অ্যান গ্রে ছিলেন। গ্রেরা চলে যাওয়ার পর খুনটি করা হয়। প্রতিবেশীরা পরে জানান যে, রাতে তারা বার্কের বাড়ি থেকে ধ্বস্তাধস্তির শব্দ এবং এক মহিলাকে চিৎকার করে উঠতে শুনেছিলেন।





মিসেস মেরি ডোশার্টি

পরদিন সকালে অ্যান গ্রে বার্কের বাড়িতে আসেন। কারণ গত রাতে তিনি তার মোজা ফেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বার্ক তাকে ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় তার সন্দেহ হয়। পরে বার্কের অনুপস্থিতিতে তার ঘর চেক করে তারা ডোশার্টির মৃতদেহ খুঁজে পান। সাথে সাথেই তারা পুলিশকে খবর দেন। এর আগে অবশ্য ম্যাকডোগাল ১০ পাউন্ড ঘুষ দিয়ে তাদের নিবৃত্ত করতে চেয়েছিলেন। পুলিশ আসার আগেই বার্ক এবং হেয়ার মৃতদেহটি সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। কিন্তু সমস্যা হয় তাদের কথাবার্তায়। কারণ একদিকে বার্ক বলেন যে, মিসেস ডোশার্টি চলে গেছেন সকাল সাতটায়। অন্যদিকে ম্যাকডোগালের মতে ডোশার্টি চলে যান গত সন্ধ্যায়। এই তো! পুলিশ তো এই অমিলই খুঁজছিলো। তাদের দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়। এরপর ধরা হয় হেয়ার আর তার স্ত্রীকে। পরবর্তীতে নক্সের ডিসেকটিং রুম থেকে ডোশার্টির মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়।

বিচার

বার্ক এবং হেয়ার দুজনকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। তাদের কেউই দোষ স্বীকার করছিলেন না। এদিকে আদালতের হাতেও এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ ছিলো না যা দিয়ে দুজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা যায়। তো এ দুজনের মাঝে বার্ক ছিলেন বেশ ধূর্ত প্রকৃতির। সেই তুলনায় হেয়ার ছিলেন নিতান্তই গোবেচারা। তাই হেয়ারের কাছে প্রস্তাব রাখা হয় যদি তিনি বার্কের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেন, তাহলে তাকে মুক্তি দেয়া হবে। হেয়ার তা করেনও। ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ বলে কথা।

বার্ক ও ম্যাকডোগালের বিরুদ্ধে মেরি প্যাটারসন, জেমস উইলসন ও মিসেস ডোশার্টিকে খুনের অভিযোগ আনা হয়। এর মাঝে শেষেরটির জন্য তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। বাকি দুই বিষয়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শুনানি স্থগিত করা হয়। বার্কের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিলো- “You now stand convicted, by the verdict of a most respectable jury of your country, of the atrocious murder charged against you in this indictment … your sentence shall be put in execution in the usual way, but accompanied with the statutory attendant of the punishment of the crime of murder, viz.- that your body should be publicly dissected and anatomized. And I trust, that if it is ever customary to preserve skeletons, yours will be preserved, in order that posterity may keep in remembrance of your atrocious crimes”।

পরেরদিন শুধুমাত্র এ বিচারের ঘটনাটি কভার করায় Edinburg Evening Courant পত্রিকাটি ৮,০০০ অতিরিক্ত কপি বিক্রি হয়েছিলো।





বার্কের মৃত্যুদণ্ডে সমবেত জনতা

অবশেষে ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি সকাল সোয়া আটটায় প্রায় ২০,০০০-২৫,০০০ মানুষের সামনে বার্কের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। পরদিন এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের সামনেই তার দেহটি কাটা হয়। তাকে কাটার সময় প্রফেসর অ্যালেক্সান্ডার মনরো তার কুইলটিকে বার্কের রক্তে চুবিয়ে লেখেন, “This is written with the blood of Wm Burke, who was hanged at Edinburgh. This blood was taken from his head”।





বার্কের কঙ্কাল



বার্কের চামড়া দিয়ে বানানো কলিং-কার্ড কেস

বার্কের কঙ্কাল এখন এডিনবার্গ মেডিক্যাল স্কুলের অ্যানাটমি মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য রাখা আছে। তার ডেথ মাস্ক এবং শরীরের চামড়া শুকিয়ে বানানো বইটি সার্জনস হল মিউজিয়ামে রাখা আছে।



বার্কের ডেথ মাস্ক এবং হেয়ারের লাইফ মাস্ক

মৃত্যুর আগে বার্ক দুটো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে গেছেন। একটি অফিসিয়াল জুডিসিয়াল কনফেসন, অপরটি Edinburg Evening Courant পত্রিকার কাছে। জেলে থাকা অবস্থায় তিনি মিসেস ডোশার্টিকে খুনের জন্য যে ৫ পাউন্ড ডাক্তার নক্সের কাছ থেকে পেতেন তা আদৌ পাওয়া যাবে কিনা জানতে চান। তাহলে সেই অর্থ দিয়ে নতুন কাপড় কিনে সেটি পড়ে মৃত্যুর দিন জনতার সামনে উপস্থিত হতেন তিনি।

পরিশিষ্ট

বাড়ি ফিরে আসেন মিসেস ম্যাকডোগাল। পরদিন সন্ধ্যায় মদ কিনতে বের হলে উত্তেজিত জনতার আক্রমণের শিকার হন তিনি। পরে পুলিস এসে তাকে উদ্ধার করে। তাকে ওয়েস্ট পোর্ট পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তেজিত জনতা সেখানেও অবরোধ দেয়। পরে পুরুষের বেশ ধারণ করে পেছনের জানালা দিয়ে পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে যান তিনি। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে অস্ট্রেলিয়াতে মারা যান তিনি।

মিসেস হেয়ারও একইভাবে জনতার ক্রোধের মুখে পড়ে পুলিশের সহায়তায় পালাতে সক্ষম হন। এরপরও এ অভিশাপ তার পিছু ছাড়েনি। পরবর্তীতে আরো কয়েকবার একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তিনি। শেষে পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে একটি জাহাজে করে যাত্রা করেন তিনি।

হেয়ার মুক্তি পান ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে। মুক্তির পরপরই মেইলকোচে চড়ে ডামফ্রিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। এক স্টপেজে তার একজনের সাথে দেখা হয়ে যায় যিনি কিনা এ মামলায় জেমস উইলসনের পরিবারের পক্ষের উকিল ছিলেন। হেয়ারের ডামফ্রিসে পৌছানোর খবর বাতাসের বেগে সব দিকে ছড়িয়ে যায়। তিনি রাতে যে হোটেলে ছিলেন, প্রায় ৮,০০০ মানুষ সেখানে এসে জড়ো হয়। পরে পুলিশ এসে একটি ডিকয় কোচের ব্যবস্থা করে জনতার মনোযোগ সেদিকে সরিয়ে দেয়। হেয়ার পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসলে পুলিশ তাকে শহরের টোলবুথের ওখানে নিয়ে যায়। জনতা খবর পেয়ে সেই বিল্ডিংও ঘিরে ফেলে। পাথর ছুঁড়ে দরজা-জানালা ভেঙে ফেলে। সকালে শেরিফ অফিসার এবং মিলিশিয়া গার্ডের সহায়তায় হেয়ারকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। তার মৃত্যু কীভাবে বা কোথায় হয়েছিলো সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। অবশ্য সেটাই তো স্বাভাবিক, তাই না?

ডাক্তার নক্স কিন্তু তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একেবারেই চুপ ছিলেন। যদিও একটি তদন্ত কমিটি তাকে এই অপরাধ থেকে মুক্তি দেয়, তবুও এডিনবার্গের জনগণের কাছে তিনি ঠিকই একজন ভিলেন ছিলেন। তাই একদিন উত্তেজিত জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করে, জানালায় পাথর ছুঁড়ে মারে এবং তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পুলিস যখন উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যস্ত ছিলো তখন তিনি মিলিটারির ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং তলোয়ার, পিস্তল ও ছোরা নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। তার মৃত্যু হয় ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে।

বিঃদ্রঃ লেখা ও ছবির সূত্র ➤➤➤➤ ইন্টারনেট।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:০৭

রাজীব নুর বলেছেন: বেশ ভালো লেখা।
জোড়া তালি দিয়ে খুব সুন্দর হয়েছে।
পড়তে ভালো লেগেছে।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৯:০৯

আদিল ইবনে সোলায়মান বলেছেন: ধন্যিবাদ @রাজিব নুর

২| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ১০:০২

মোঃ ফখরুল ইসলাম ফখরুল বলেছেন: ওয়াও :#)

২১ শে অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৪

আদিল ইবনে সোলায়মান বলেছেন: হুমমমমম

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.