নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন জেনারেল ব্লগারের নিজের সম্পর্কে বলার কিছু থাকে না ।

আবদুর রব শরীফ

যদি তোর লেখা পড়ে কেউ না হাসে তবে একলা হাসো রে!

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেউ নেই! তোর কেউ নেই!

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:১৫

পহেলা বৈশাখ বর্জন করেছিলাম কারণটা একটু পর বলছি,
.
হঠাৎ ফোন এলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় বন্ধু বশিরের সে দীর্ঘদিন আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে ছিলো বেকারত্বের হতাশা ক্ষোভ অভিমান বুকে নিয়ে!
.
অসাধারণ গল্প বলে বন্ধুটি,
.
গতকালকে তার বলা যে সাধারণ গল্পটি আমার অসাধারণ লেগেছিলো সেটি হলো এমন,
.
এক লোক আরেক লোকের পিছনে দৌড়াচ্ছে সামনের জন তার শার্ট চুরি করে নিয়ে গেছে বলে,
.
তার পেছনে আরেক লোক দৌড়াচ্ছে সে তার প্যান্ট চুরি করে নিয়ে গেছে বলে,
.
তারও পিছনে এক লোক দৌড়াচ্ছে তাকে তার পরের জন জিজ্ঞেস করলো, ভাই আপনি দৌড়াচ্ছেন কেনো?
.
সে উত্তর দিলো, আরে ভাই! লজ্জার কথা কি আর বলবো আমার শর্ট প্যান্ট নিয়ে গেছে বলে,
.
তারপর সে পাল্টা প্রশ্ন করলো, আপনি ভাই কেনো দৌড়াচ্ছেন? সে বললো, 'দূর ভাই! আমি দৌড়াচ্ছি চোরাইয়া আমার গা'য়ের মাপ নিয়ে গেছে বলে!'
.
সত্যি বলতে কি দুই হাজার সাত সাল থেকে গত পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত এমন কোন পহেলা বৈশাখ ছিলো না আমি সকালে বের হয়ে রাতে ফিরে আসিনি!
.
আমি এবারের পহেলা বৈশাখে বিকেল চারটায় দুইটা বন্ধুর ফোন পেয়ে বের হয়েছি বাসা থেকে!!!
.
কিসের বালের পহেলা বৈশাখ! প্রাণের বন্ধুদের ছাড়া! ওরা তো 'মনের মাপ' চুরি করে নিয়ে চলে গেছে!
.
চিরকাল ই আমি এতো আলসে যে বন্ধুদের ফোন পেলে তারপর শেইভ কিংবা জুতো পালিশ করে বের হয়!
.
আমার লাইফে বন্ধুদের যে গালি সবচেয়ে বেশী শুনেছি তা হলো, 'দূর শালা সবাই এসে গেছে তুই কই! হালার পো হালা তাড়াতাড়ি আয়'
.
রেডিসন ব্লু বলেন কিংবা হালের সাদিয়া কিচেনের শর্মা কোনটার স্বাদ বন্ধুদের সাথে ভাগ করে খাওয়া পাঁচ টাকার সিঙ্গারার মতো কখনো হবে না,
.
সদ্য ক্রয় করা প্রাইভেট কারের কাঁচ নামালে যখন পাশে বন্ধু নেই অনুভূতি আসে তখন ইহা শুধু ব্যস্ততার ডুবে যাওয়া জানালার ফাঁক দিয়ে দেখা এক বন্দী জীবন!
.
চাকরির সুবাধে অনেক বড় বড় টাকওয়ালাদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় তাদের সবার সেলারি রেঞ্জ কয়েক লাখ টাকা থেকে শুরু হলেও কেমন যেন প্রাণহীন!
.
গল্পের সুবাদে জেনেছি তাদের কেউ কেউ শাটলে গান গাইত! চুটিয়ে আড্ডা দিতো! সেই হাসিমুখ! অন্ধকারে হারিয়ে যায় একদিন!
.
অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পুরো একটা কর্পোরেট শাখার দায়িত্বে থাকা এক বড় ভাইকে যখন জিজ্ঞেস করেছিলাম, পঞ্চাশতম ফূর্তিতে চবিতে গিয়েছিলেন? দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলো, 'প্রতিদিন এতো সমস্যা দায়িত্ববোধ রেখে শেষ কবে যে কোথায় গিয়েছিলাম মনে নেই! এটা কোন জীবন হলো!'
.
জীবন থেকে দেখেছি যে যত বড় পজিশনে আছে তার ব্যস্ততা তত বেশী!
.
কোন একদিন হয়তো পহেলা বৈশাখে বন্ধুরা ফোন করে বলবে, দূর হালা! তুই কই? 'বন্ধু গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিংয়ে আছি'
.
বুক কেঁপে উঠবে! নিঃশ্বাস ঘন হবে! হৃদয়ে তোলপাড় করা অনুভূতি! হৃদয় আন্দোলিত হয়ে স্লোগান বের হবে! 'বালের মিটিং ফিটিং' এটা কোন জীবন হলো! সেই আওয়াজ কেউ শুনবে না!
.
সবাই শুনবে, 'করিম সাহেব আমি বুঝতেছি না আপনাদের এতো সুযোগ সুবিধা দেওয়ার পরও মার্কেটে কেনো আমরা লিডিং দিতে পারছি না!'
.
'স্যার পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমাদের যে ইভেন্টটা ছিলো ওটা নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিলাম? অনুমতি দিলে বলতাম.....!'
.
রাখেন আপনার পহেলা বৈশাখের ইভেন্ট আসেন সবাই এক সাথে পান্থা ইলিশ খাবো.... 'খাওয়ার ফাঁকে মুখ তুলে দেখি, কেউ নেই! কেউ নেই!'

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:২১

ক্স বলেছেন: ব্যস্ততার দরকার আছে। আপনার বাবা অবসর স্যাক্রিফাইস করেছিল বলে আপনি এখন সচ্ছলতার মুখ দেখতে পাচ্ছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.