নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ফকির আবদুল মালেক

ফকির আবদুল মালেক

আমি এক উদাস ফকির তারা দানা তসবী গুনিপ্রাণীসম দেহ মাঝে মানুষ নামে স্বপ্ন বুনি

ফকির আবদুল মালেক › বিস্তারিত পোস্টঃ

অটোফেজি ও রোযা: একটি পর্যালোচনা

১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:১০

সাওম আরবি শব্দ সাওম অর্থ বিরত রাখা, বারন করা বা ফিরিয়া রাখা, সাওম এর বহু বচন সিয়াম, রোযা ফারসি শব্দ, পবিত্র কুরআনে সাওম ও সিয়াম বলে উল্লেখ রয়েছে। আমাদের দেশে ফারসি শব্দ রোযা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

রোযার উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আত্মিক পরিশুদ্ধি লাভ। ‘তাকওয়া’ অর্জনই হলো সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য।

তাকাওয়া আরবি শব্দ। এর অর্থ বাঁচা, মুক্তি ভয়ভীতি সতর্কতা ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষার আল্লাহর ভয়ে-ভীতি হয়ে আল্লাহ নির্দেশিত ও রাসূল (সা.) প্রদর্শিত পথে সতর্কতার সহিত জীবন যাপন করা। রমজানের রোযা পালনের উদ্দেশ্য হলো মানুষের পশু প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে নৈতিকতা বা আত্মিক উন্নতি সাধন করা।

শরীরিক উপকারের জন্য রোযা পালনের কথা কুরআান হাদিস থেকে প্রমাণিত নয়। যদিও বর্তমানে রোযা প্রসঙ্গে আলোচনায় অটোফেজি প্রসঙ্গ চলে আসছে। প্রথমে সিয়াম নিয়ে কুরআন আর হাদিছ থেকে কিছু আয়াত ও আলোচনা একত্রিত করছি, পরে অটোফেজি নিয়ে আলোচনায় আসব।

সূরা বাকারাহ’র ১৮৩তম আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (183)

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার।” (২: ১৮৩)

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি রোযা রেখে ও মিথ্যা কথা বলা, পরনিন্দা ও অন্যান্য পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারল না তার পানাহার পরিত্যাগ করা আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (সহীহ্ বুখারী)।

সিয়াম সাধনা হলো সত্যিকার অর্থে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি লাভের সাধনা। এ সন্তুষ্টি অর্জন করা তখনই সম্ভব যখন তার দেহ ও আত্মা হবে তাওকওয়ার রঙে রঙিন। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, রোযা আমারই জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।

আল্লামা আবু ওবায়েদের ব্যাখ্যায় বলেন,
রোযাকে বিশেষভাবে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করার কারণ, অন্যান্য ইবাদতে লোক দেখানোর সম্ভাবনা থাকে কিন্তু রোযাতে তা থাকে না, রোযা শুধু আল্লাহর জন্যই হয়।

ইমাম গাজ্জালী (রা.) বলেন, আখলাকে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে হলে প্রয়োজন মানুষের পশু প্রবৃত্তিকে পরিতথ্যাগ করে তাকওয়া তথা আহারে-ব্যবহারে চাল-চলনে কথাবার্তায় সতর্কতার সহিত জীবনযাপন করা।

রাসূল (সা.) বলেছেন, রোযা জান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ যতক্ষণ না সে ঢাল বিনষ্ট করে ফেলে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে বিনষ্ট হয় ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বলেন, মিথ্যা এবং পরনিন্দা দ্বারা, সিয়াম বিনষ্ট হয়।
(বোখারী, তিরমিযি)

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে পাশব প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে, যারা সত্যিকারের ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করেন; তাদের জন্য সুসংবাদ হলো: সকল নেক কাজই দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত সওয়াব বৃদ্ধি করা হয়। আর রোযা এর থেকে স্বতন্ত্র। এর প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দেবেন, তা হবে নিশ্চয়ই অফুরন্ত। (মুসলিম)

রোজা বা সিয়াম সাধনা আল্লাহর অন্যতম বিধান যা শুধু ইসলামের বিধান নয়, পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতেও রোযার বিধান ছিল।
যারা একমাস ধরে দিনের বেলায় সব ধরনের খাদ্য-দ্রব্য ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে দূরে থাকে, তারা অন্যের ধন-সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের লোভ-লালসাকে দমন করতে সক্ষমতা লাভ করে। রোজা মানুষকে উদার হতে শেখায়। যারা একমাস ধরে ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করে তারা ক্ষুধার্তদের কষ্ট বুঝতে পারে এবং তাদের সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে ও সহানুভূতিশীল হয়। রোজা গুনাহ বা পাপ বর্জনের পরিবেশ সৃষ্টি করে। বেশীরভাগ পাপ পেটপূজা ও ইন্দ্রিয় পরায়ণতা থেকেই জন্ম নেয়। রোজা এই দুই প্রবৃত্তিকে দমনে রেখে সমাজে দুর্নীতি ও পাপ হ্রাস করে এবং খোদাভীরুতা বা পরহেজগারিতা বাড়ায়।

কুরআন-হাদিসের এসব আলোচনা থেকে বুঝা যায়, রোযার মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া, পরহেজগারী অবলম্বন করা, পাপ বর্জনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

রমজানে কুরআন নাযিল হয়েছে, এ মাসে শবে কদরের রাত্রি রয়েছে ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা করা যেতে পারে। আমি একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনায় যেতে চাইছি।

সুরা বাকারার ১৮৪নং আয়াতটি উদ্ধৃতি করলাম।

أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (184)
“রোজা নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য ফরজ। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় ওই সংখ্যক রোজা রাখতে হবে। রোজা যাদের জন্য কষ্টদায়ক যেমন অতি বৃদ্ধদের জন্য, তারা অবশ্যই একজন অভাবগ্রস্তকে অন্নদান করবে।”
যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি সৎ কাজ করে, তা তার জন্য বেশী কল্যাণকর হয়। যদি তোমরা উপলব্ধি করতে, তবে বুঝতে রোজা রাখাই তোমাদের জন্য বেশী কল্যাণকর। (২: ১৮৪)

এই আয়াতে একটি বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, যদি আমাদের উপলব্ধিতে আসে তবে আমরা বুঝতে পারব রোজা আমাদের জন্য কল্যাণকর।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জাপানের বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি নিয়ে এলো মানবজাতীর মানসপটে এক নতুন উপলব্ধি যার নাম অটোফেজি।

প্রাণীকোষ কীভাবে নিজের উপাদানকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে, এই গবেষণার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রথম দিনে সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী হিসেবে ওহশোমির নাম ঘোষণা করলো। পুরস্কার হিসেবে তিনি ৮ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার বা ৯ লাখ ৩৬ হাজার ডলার পাবেন।

নোবেল কমিটির মতে, ইয়োশিনোরির গবেষণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, ক্যান্সার থেকে শুরু করে পারকিনসন্স পর্যন্ত রোগগুলোর ক্ষেত্রে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হয় তা বুঝতে তার গবেষণাটি সহায়তা করে।
সূত্র : বিবিসি

Autophagy কি? এবার তা বলি।

Autophagy শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ। Auto অর্থ নিজে নিজে, এবং Phagy অর্থ খাওয়া। সুতরাং, অটোফেজি মানে নিজে নিজেকে খাওয়া।

না, মেডিক্যাল সাইন্স নিজের গোস্ত নিজেকে খেতে বলে না। শরীরের কোষগুলো বাহির থেকে কোনো খাবার না পেয়ে নিজেই যখন নিজের অসুস্থ কোষগুলো খেতে শুরু করে, তখন মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় তাকে অটোফেজি বলা হয়।আরেকটু সহজভাবে বলি।
আমাদের ঘরে যেমন ডাস্টবিন থাকে, অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন রিসাইকেল বিন থাকে, তেমনি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের মাঝেও একটি করে ডাস্টবিন আছে। সারা বছর শরীরের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে, ডাস্টবিন পরিষ্কার করার সময় পায় না। ফলে কোষগুলোতে অনেক আবর্জনা ও ময়লা জমে যায়।

শরীরের কোষগুলো যদি নিয়মিত তাদের ডাস্টবিন পরিষ্কার করতে না পারে, তাহলে কোষগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে শরীরে বিভিন্ন প্রকারের রোগের উৎপন্ন করে। ক্যান্সার বা ডায়াবেটিসের মত অনেক বড় বড় রোগের শুরু হয় এখান থেকেই।

মানুষ যখন খালি পেটে থাকে, তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা তো আর আমাদের মত অলস হয়ে বসে থাকে না, তাই প্রতিটি কোষ তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে। কোষগুলোর আমাদের মত আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে। মেডিক্যাল সাইন্সে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোফেজি।

জাস্ট এ জিনিসটা আবিষ্কার করেই জাপানের ওশিনরি ওসুমি (Yoshinori Ohsumi) ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কারটা নিয়ে গেল।

স্পষ্টত মুসলমানরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘সিয়াম’। খ্রিস্টানরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং’। হিন্দু বা বৌদ্ধরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘উপবাস’। বিপ্লবীরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘অনশন’। আর, মেডিক্যাল সাইন্স রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘অটোফেজি’।

সিয়াম বা ফাস্টিং, উপবাস, অনসন যে নামে বা পদ্ধতিতে পালন করা হোক না কেন অটোফেজি মানুষের উপলব্ধি আসার পর আধুনিক মানুষ রোজাকে অধিকতর কল্যাণকর হিসাবে বুঝতে পারছে।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:১৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


রোযা সম্পর্কে হযরত মোহাম্মদ ( স: ) যা শিখায়েছেন, তার থেকে নতুন কিছু আপনি যোগ করেছেন?

২| ১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:১৭

চাঁদগাজী বলেছেন:

"রাসূল (সা.) বলেছেন, রোযা জান্নাম থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ যতক্ষণ না সে ঢাল বিনষ্ট করে ফেলে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে বিনষ্ট হয় ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বলেন, মিথ্যা এবং পরনিন্দা দ্বারা, সিয়াম বিনষ্ট হয়।
(বোখারী, তিরমিযি) "

-আপনি রোযার সময় কি মিথ্যা কথা বলেন?

৩| ১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:২৪

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: আমি নতুন কিছু যোগ করিনি।

আমি রোযার সময় মিথ্যা ত্যাগ করার চেষ্টা করি।

পোষ্টে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

৪| ১০ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:৫৭

মেমননীয় বলেছেন: মেডিক্যাল সাইন্স রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘অটোফেজি’?

রোজা না রাখলে অটোফেগি হবে না?
(উচ্চারন অটোফেগি, অটোফেজি না)।

অটোফেগি বা এপোপটোসিস দেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

রোজা রাখলে এপোপটোসিস কি বেশী হয়?
কি ভাবে, মেকানিজম কি?

১১ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:১২

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: মানুষ যখন খালি পেটে থাকে, তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা তো আর আমাদের মত অলস হয়ে বসে থাকে না, তাই প্রতিটি কোষ তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে। কোষগুলোর আমাদের মত আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে। মেডিক্যাল সাইন্সে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোফেজি।



আমার তথ্যটি কি ভুল? হয়ত আমাকে আরও সময় দিতে হবে এ বিষয়ে। ধন্যবাদ আপনাকে।

৫| ১০ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩০

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ধন্যবাদ

সিয়াম আরও অনাবিস্কৃত কত বেশি উপায়ে দেহ এবং আত্মার কাজে লাগে সময়ান্তরে হয়তো আরও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিপক্কতায় উদ্ভাসীত হবে।
+++

১১ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:১৬

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: হয়ত তাই। কিন্তু সিয়ামের মুল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। প্রকৃত মুমিন সে দিকেই খেয়াল রাখে।

আল্লাহ আমাদেরকেও কবুল করুন। আমিন।

৬| ১০ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:০৭

এস এম মামুন অর রশীদ বলেছেন: @মেমননীয়, Autophagy শব্দের উচ্চারণ ঠিকই আছে, g এখানে মৃদু উচ্চারিত হবে। বিশেষণ, অর্থাৎ autophagous-এর ক্ষেত্রে g হবে কঠিন: অটোফ্যাগাস।

১১ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:১৭

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৭| ১২ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:২৫

গড়ল বলেছেন: রোযাতে কি আমরা না খেয়ে থাকি নাকি? যা করি তা হচ্ছে খাওয়ার সাইকেলটা উল্টো করে দেই। অতএব এটা অটোফেজী হল?

১৩ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৩২

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: সাইকেল উল্টো করে দেয়ার কারণে দিনের বেলায় আমরা দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকি।
আর মানুষ যখন খালি পেটে থাকে, তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা তো আর আমাদের মত অলস হয়ে বসে থাকে না, তাই প্রতিটি কোষ তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে। কোষগুলোর আমাদের মত আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে। মেডিক্যাল সাইন্সে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোফেজি।

আমার জানাটা ঠিক নয় কি?

৮| ১৩ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৫

গড়ল বলেছেন: আপনার জানাটা পুরোপুরি ঠিক না, কারণ অটোফেজীতে যে পরিস্থিতিতে সেল তার নিজেকে খাওয়া শুরু করে সেটা ২৪ ঘন্টাতো দুরের কথা ৭২ ঘন্টায়ও না খেয়ে থাকলে শুরু হবে না যদি তার শরীরে পর্যাপ্ত ফ্যাট ও পুষ্টি মজুদ থাকে। আমি BKSPতে Sports Science এ Post Graduate Diploma করেছি এবং BSc.তে Biochemistry সাবজেক্টি ছিল। অতএব Physiologyতে ডীপ নলেজ না থাকলেও অটোফেজী বুঝার মত ধারণা আছে। মানুষের শরীরে মানে যারা সবসময় ভাল খাদ্য গ্রহণ করে বা আমরা প্রায় সবসময়ই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহন করে থাকি। অতএব আমাদের শরীরে সবসময়ই অতিরিক্ত ফ্যাট ও পুষ্টি জমা থাকে। কোন খাদ্য ছাড়া কম বেশী সাত দিন শুধু পানি খেয়ে কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব। শরীরের প্রথমেই শুরু হয় ফ্যাট বার্নিং শক্তি যোগানোর জন্য। আবার অ্যাক্টিভিটির উপরও নির্ভর করে যেমন অ্যারোবিক না অ্যানারোবিক। অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটির জন্য শুধু ফ্যাটই যথেষ্ট। অ্যানারোবিক অ্যাক্টিভিটির জন্য প্রোটিন এ্যানার্জী দরকার হয়। এভাবে সব এ্যানার্জী শেষ হওয়ার পরই কেবল শরীরের সেলগুলো তার নিজের প্রোটিন ব্যাবহার করতে শুরু করে এবং শেষ পর্যায় নিজেকেই খাওয়া শুরু করে এবং সেটা একটা জটিল বিপাকীয় প্রক্রিয়া কিন্তু এর জন্যও পানি একটা অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। শরীরে পর্যাপ্ত পানি ও ইলেক্ট্রলাইট না থাকলে সেটা সম্ভব না। অতএব রোযা সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে না বড়ংচ পানির শুন্যতা হলে সকল বিপাকীয় ক্রীয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ব্যাপারটা এত সহজে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না।

১৩ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:০৬

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: নিচে লেখাটি ও আরও কিছু লেখা আমার লেখার তথ্য সূত্র। লেখকের নাম খুজে পেলাম না, তবে লেখা আছে লেখক : অটোফেজি গবেষক, শিজুওকা ইউনিভার্সিটি, জাপান।
আপনি যেহেতু এব্যাপারে কিছুটা হলেও অভিজ্ঞ আাশা করি আপনি নিচের লেখাটি বিশ্লেষণ করবেন। ধন্যবাদ।


আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত প্রোটিন তৈরি বা সংশ্লেষ হয় এবং এ তৈরি হওয়া প্রোটিনের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য তার (প্রোটিনের) গঠনটি অ্যামিনো এসিড দ্বারা ত্রিমাত্রিক হতে হয়। যদি ত্রিমাত্রিক গঠন না হয় তবে প্রোটিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে এবং নানা রোগের সৃষ্টি করবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ প্রোটিন সঠিকভাবে সংশ্লেষ হতে পারে না। ফলে এদের ধ্বংস করা, শরীর থেকে বের করে দেয়া কিংবা অন্য উপায়ে কাজে লাগানো জরুরি। কেননা শরীরে এরা থাকলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হবে। চিন্তা করার কিছু নেই, আপনার দেহের অটোফেজি প্রক্রিয়া এ ক্ষতিকারক প্রোটিনকে ধ্বংস করে বা কাজে লাগায়।
আমাদের দেহের কোষ বড় ধরনের প্রোটিনকে অটোফেজি প্রক্রিয়ায় ‘অঁঃড়ঢ়যধমড়ংড়সব’ তৈরি করে বা ব্যাগে ভরে এনে ভেঙে ব্যবহার করে। আর এটার ক্রিয়া-কৌশল বিশ্ববাসীকে জানাতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি। তিনি দেখিয়েছেন লাইসোজোম (কোষের অভ্যন্তরে সাইটোপ্লাজমের সাইটোসলের এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ) শুধু আমাদের ডাস্টবিন নয়, আমাদের দেহ এটা থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রক্রিয়াজাত করে। অর্থাৎ এটা ডবল কাজ করেÑ একদিকে কোষ তার নিজ আবর্জনামুক্ত করে, অপরদিকে সেই আবর্জনাকে আবার প্রক্রিয়াজাত (জবপুপষরহম) করে আবার শরীরের নানাবিধ কাজে লাগায়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যেভাবে বাসার ময়লা চিহ্নিত করে ঝাড়– দিয়ে একত্র করে ফেলি এবং পরে সেগুলো একটি ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ব্যাগের মুখটি ভালো করে এঁটে দিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিই, কোষও ঠিক একই পদ্ধতিতে কাজ করে।
যখন শরীরে খাবারের সংকট তৈরি হয়, তখন অটোফেজি প্রক্রিয়াটি চালু হয়। আপনার বাসায় অনেক ভালো টাটকা খাবার থাকতে আপনি নিশ্চয়ই পুরনো খাবার খাবেন না! শরীরের ক্ষেত্রে তা-ই। আপনি যদি কোনো পুরনো যন্ত্র বদলে নিতে চান, তবে তাকে উপবাসে ফেলতে হবে। ইউরোপে ইদানীং উপবাসে থাকার হিড়িক পড়েছে। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ‘গবফরপধষ ভধংঃরহম’, সাধারণত রাতের খাবারের পর সকালের নাশদাটা বাদ দিয়ে একেবারে দুপুরে খেতে বলা হয়। এ ধরনের চেতনা সৃষ্টির পেছনে ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত একটি বই প্রভাব বিস্তার করেছে। বইটি হচ্ছে প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুট লুটজানারের ঞযব ংবপৎবঃ ড়ভ ংঁপপবংংভঁষ ভধংঃরহম. অর্থাৎ উপবাসের গোপন রহস্য বইটিতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করে নিরোগ, দীর্ঘজীবী কর্মক্ষম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কতিপয় দিন উপবাসের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।








আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত প্রোটিন তৈরি বা সংশ্লেষ হয় এবং এ তৈরি হওয়া প্রোটিনের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য তার (প্রোটিনের) গঠনটি অ্যামিনো এসিড দ্বারা ত্রিমাত্রিক হতে হয়। যদি ত্রিমাত্রিক গঠন না হয় তবে প্রোটিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে এবং নানা রোগের সৃষ্টি করবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ প্রোটিন সঠিকভাবে সংশ্লেষ হতে পারে না। ফলে এদের ধ্বংস করা, শরীর থেকে বের করে দেয়া কিংবা অন্য উপায়ে কাজে লাগানো জরুরি। কেননা শরীরে এরা থাকলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হবে। চিন্তা করার কিছু নেই, আপনার দেহের অটোফেজি প্রক্রিয়া এ ক্ষতিকারক প্রোটিনকে ধ্বংস করে বা কাজে লাগায়।
আমাদের দেহের কোষ বড় ধরনের প্রোটিনকে অটোফেজি প্রক্রিয়ায় ‘অঁঃড়ঢ়যধমড়ংড়সব’ তৈরি করে বা ব্যাগে ভরে এনে ভেঙে ব্যবহার করে। আর এটার ক্রিয়া-কৌশল বিশ্ববাসীকে জানাতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি। তিনি দেখিয়েছেন লাইসোজোম (কোষের অভ্যন্তরে সাইটোপ্লাজমের সাইটোসলের এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ) শুধু আমাদের ডাস্টবিন নয়, আমাদের দেহ এটা থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রক্রিয়াজাত করে। অর্থাৎ এটা ডবল কাজ করেÑ একদিকে কোষ তার নিজ আবর্জনামুক্ত করে, অপরদিকে সেই আবর্জনাকে আবার প্রক্রিয়াজাত (জবপুপষরহম) করে আবার শরীরের নানাবিধ কাজে লাগায়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যেভাবে বাসার ময়লা চিহ্নিত করে ঝাড়– দিয়ে একত্র করে ফেলি এবং পরে সেগুলো একটি ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ব্যাগের মুখটি ভালো করে এঁটে দিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিই, কোষও ঠিক একই পদ্ধতিতে কাজ করে।
যখন শরীরে খাবারের সংকট তৈরি হয়, তখন অটোফেজি প্রক্রিয়াটি চালু হয়। আপনার বাসায় অনেক ভালো টাটকা খাবার থাকতে আপনি নিশ্চয়ই পুরনো খাবার খাবেন না! শরীরের ক্ষেত্রে তা-ই। আপনি যদি কোনো পুরনো যন্ত্র বদলে নিতে চান, তবে তাকে উপবাসে ফেলতে হবে। ইউরোপে ইদানীং উপবাসে থাকার হিড়িক পড়েছে। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ‘গবফরপধষ ভধংঃরহম’, সাধারণত রাতের খাবারের পর সকালের নাশদাটা বাদ দিয়ে একেবারে দুপুরে খেতে বলা হয়। এ ধরনের চেতনা সৃষ্টির পেছনে ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত একটি বই প্রভাব বিস্তার করেছে। বইটি হচ্ছে প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুট লুটজানারের ঞযব ংবপৎবঃ ড়ভ ংঁপপবংংভঁষ ভধংঃরহম. অর্থাৎ উপবাসের গোপন রহস্য বইটিতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করে নিরোগ, দীর্ঘজীবী কর্মক্ষম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কতিপয় দিন উপবাসের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

৯| ১৩ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৪২

গড়ল বলেছেন: আপনি সঠিক কথাই বলেছেন এ ব্যাপারে আমি কোন সন্দেহ পোষণ করছি না। আমি শুধু বলছে যে কখন অটোফেজী শুরু হবে। সেটা একদিন বা দুদিনের উপবাসে হবে না আমি নিশ্চিৎ। যারা বলছে যে এক বেলা না খেলেই হবে তারা না বুঝেই বলছে। আপনি কখন আপনার বাসার ডাস্টবিন থেকে পচা খাবার খাবেন? খাদ্য সংগ্রহের সবরকম চেষ্টা বিফলে যাওয়ার পরেইতো নাকি? আর একটা জিনিষ হল পানি ছাড়া কোন বিপাকীয় ক্রীয়াই কাজ করবে না আর রোযাতে পানি খাওয়া নিষেধ। ইওশিনোরি ওসুমি কিন্তু বলে নাই যে একবেলা না খেলেই অটোফেজী শুরু হয়ে যাবে। আমি নবেল কমিটির অফিসিয়াল সাইট থেকে লিংক দিলাম নিচে এবং একটা অংশ কোট করলাম।

"Thanks to Ohsumi and others following in his footsteps, we now know that autophagy controls important physiological functions where cellular components need to be degraded and recycled. Autophagy can rapidly provide fuel for energy and building blocks for renewal of cellular components, and is therefore essential for the cellular response to starvation and other types of stress."
The Nobel Prize in Physiology or Medicine 2016 - Yoshinori Ohsumi

এখানে পরিষ্কার বলা আছে Starvation, Fasting না কিন্তু। মানে হচ্ছে দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকা, উপবাস না।

১৩ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৩

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: and is therefore essential for the cellular response to starvation and other types of stress."


starvation শব্দের বাংলায় বেশ কিছু শব্দ পাওয়া যায়। অনাহার, ক্ষিধে, উপবাস, অনশন, নিরাহার ইত্যাদি।

এ সকল শব্দগুলির কিছু আমার পোষ্টে এসেছে।

স্পষ্টত মুসলমানরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘সিয়াম’। খ্রিস্টানরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং’। হিন্দু বা বৌদ্ধরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘উপবাস’। বিপ্লবীরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘অনশন’। আর, মেডিক্যাল সাইন্স রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ‘অটোফেজি’।

সিয়াম বা ফাস্টিং, উপবাস, অনসন যে নামে বা পদ্ধতিতে পালন করা হোক না কেন অটোফেজি মানুষের উপলব্ধি আসার পর আধুনিক মানুষ রোজাকে অধিকতর কল্যাণকর হিসাবে বুঝতে পারছে।


আমি বোধ হয় খুব ভুল বা গোজামিল দেইনি।

১০| ১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:০৮

প্রামানিক বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট। ধন্যবাদ

১১| ১৪ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৪৯

গড়ল বলেছেন: Starvation is a severe deficiency in caloric energy intake needed to maintain an organism's life. It is the most extreme form of malnutrition. In humans, prolonged starvation can cause permanent organ damage[1] and eventually, death. The term inanition refers to the symptoms and effects of starvation. Starvation may also be used as a means of torture or execution.

https://en.wikipedia.org/wiki/Starvation

১২| ১৪ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৪

ফকির আবদুল মালেক বলেছেন: @ প্রামানিক

ধন্যবাদ প্রিয় কবি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.