নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- মাহমুদুর রহমান।স্বপ্ন ছিল প্রেসিডেন্ট হব।স্বপ্ন দেখতে দেখতে নিজেই একটি স্বপ্ন রাজ্য গড়ে তুলি।আর বর্তমানে আমি সেই রাজ্যের প্রেসিডেন্ট।

মাহমুদুর রহমান

এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়, পাঠ্য যেসব পাতায় পাতায় শিখছি সে সব কৌতূহলে, নেই দ্বিধা লেশ মাত্র, বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।

মাহমুদুর রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আগের আমি ও এখনকার আমি।

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১৫


ব্যাপারটা বড় অদ্ভুত!সত্যি অদ্ভুত!
আজ থেকে আরও তিনমাস আগের কথা।মানুষজন আমাকে মূর্খ,বোকা,অপদার্থ,অসভ্য বলে চিনত।হুম, আমি সত্যি বলছি।

স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ জীবন পর্যন্ত আমার কোন বন্ধু আমাকে আপন করে নেয় নি।কোচিং ক্লাসে স্যারদের কাছে বড় অপমানিত হয়েছি স্কুল ও কলেজ জীবনে।আমার সাথে কেউ মিশতে চাইত না।এই সমাজে আমি ছিলাম বড় অসামাজিক।আমার কোন আত্মীয়ের বিয়ে,বা কোন অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেলে সেখানে যেতাম না।বাসায় কোন মেহমান আসলে,কোন বন্ধুর বন্ধুদের সাথে পরিচয় হতে গেলে আমাকে অপমানিত হতে হত।পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারতাম না আমি।বড় ভাইয়েরা আমাকে বড্ড অবহেলা করত কারন আমি তাঁদের কোয়ালিটির না।

(রানিং)বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় ভাইয়েরা আমাকে পাত্তাই দিত না।অনেক অচেনা সহপাঠী মেয়ে আমার পোশাক আশাক চলাফেরা দেখে কাছে আসত এবং মজার বিষয় হচ্ছে, মুহূর্তেই তাঁরা আবার ইউটার্ন নিয়ে নিত।স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়(রানিং) জীবনে সহপাঠীরা কি সুন্দর করে মেয়েদের সাথে মজা করত,ঠাট্টা করত,আমি কেবল চেয়ে থাকতাম তাঁদের দিকে। আর ভাবতাম সালার কিভাবে যে ওরা মেয়েদের সাথে কথা বলে,ইস আমিও যদি ওদের মত করে কথা বলতে পারতাম!চলতি পথে বা ক্লাসে কোন পরিচিত সহপাঠি ছেলে-মেয়েদের দেখা পেলে জিজ্ঞেস করতাম,"কেমন আছ?"।কিন্তু কোন উত্তর পেতাম না।তাঁরা এড়িয়ে যেত আমাকে।প্রায় চার বছর আগে অনেক সাধনা করার পর একটা মেয়ের সাথে রিলেশনে জড়িয়েছিলাম ঐ মেয়েটাও চলে গেছে আমাকে ছেড়ে।

আমার খুব খারাপ লাগত।খুবই খারাপ লাগত মানুষ যখন আমাকে অবহেলা করত।এমনকি আমার বাবা-মাও আমায় বোকা,অসভ্য বলত।আমি শুনতাম আর খুব কষ্ট পেতাম সেই সাথে সব সময় বড় একাকীত্ব বোধ করতাম।আমার জেনারেশনের যারা তাদের কেউ মনে হয় না এই পৃথিবীতে আমার চেয়ে বেশী দুঃখে ছিল।আমি ছিলাম পৃথিবীর সেরা দুঃখী।

আমার কেবল একটাই সমস্যা ছিল।আমি গুছিয়ে কথা বলতে পারতাম না,লাইন মত কথা বলতে পারতাম না।কারও মন খারাপ থাকলে সান্তনা দিতে গিয়ে উল্টা মেজাজ খারাপ করে দিতাম তাঁদের।মানুষের কথার মধ্যে সহমত প্রকাশ করতে গিয়ে অথবা নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে নিজেকে বোকা প্রমান করতাম আমি।অনেক সময় অযৌক্তিক কথা বলে তাঁদের আমি রাগিয়েও দিতাম।

মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল কবে পাব মুক্তি,কবে দেখা মিলবে আশার আলোর?এসব চিন্তা করে একদিন আমার এই দুর্বলতার কথা নিজের বন্ধুবান্ধবদের কাছে শেয়ার করলাম,কিছু বড়ভাইদের সাথে শেয়ার করলাম।তাদের কাছে জানতে চাইলাম,
"কোন কথার প্রেক্ষিতে কি বলতে হবে?একটা মানুষের সাথে পরিচয় হলে আমি কেবল সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করতাম কেমন আছেন?এরপর আর কিছু বলতে পারি না,পরিবেশের সাথে নিজেকে কিভাবে খাপ খাওয়াতে হবে জানি না"।
দয়া করে আমাকে কিছু টিপস দিন।"
ভেবেছিলাম তাঁরা আমাকে মুক্তির পথ দেখাবে।কিন্তু সেটা হয়নি।উল্টা আমার দুর্বলতার নাজায়েজ ফায়দা উঠিয়েছিল তাঁরা।আমাকে অপমান করেছে খোলা রাস্তায় সেই সাথে কাদিয়েও ছিল।

এই ঘটনার পর কারও কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করার সাহস হারিয়ে ফেলেছি।তারপর একটা চিন্তা মাথায় ঢুকলো, দেখি ইউটিউব দেখে যদি কিছু শেখা যায়!ইউটিউবে "সুন্দরভাবে কথা বলার উপায়" লিখে সার্চ দেয়া শুরু করলাম। অনেকগুলো "মোটিভেশন" ভিডিও দেখেছিলাম।শত শত ভিডিও মধ্যে কেবল একটি ভিডিও দেখে আমার কিছুটা সাহস আসলো।সেখানে কেবল একটি কথাই বারবার রিপিট করছিল,"আপনি কেন পারবেন না"এছাড়া কোন কথাই কাজের ছিলনা।

ফেসবুকে মানুষের কমেন্টগুলো দেখা শুরু করলাম তখন।মনে হল কমেন্টগুলো থেকে কথা শিখা যাবে কিন্তু একটা বিষয় হচ্ছে সেই কমেন্টগুলো ছিল বেশ অমার্জিত এবং অসুন্দর।একদিন এক বড় ভাইয়ের প্রোফাইলে নানান রকম মজার মজার পোষ্ট দেখতে পেলাম।আমি সেগুলো কপি পেস্ট মেরে নিজের ওয়ালে পোষ্ট দেয়া শুরু করলাম।
সকলে হাসির রিয়েক্ট দিত আমার কপি করা প্রতিটি পোষ্টে পোষ্টে।আমার বেশ ভালো লাগত।
একদিন ক্যাম্পাসে, এক বন্ধু আমাকে এসে জিজ্ঞেস করল,"
দোস্ত ফেসবুকে তোর পোষ্টগুলো কি নিজের নাকি কপি পেস্ট?
আমি বললাম,আরে নাহ।ওগুলো আমার নিজের। কি যে বলিস না!"
তাহলে তো ভালোই।

একসময় মনে হল নাহ এভাবে আর কত দিন মিথ্যার আশ্রয় নিব? অন্যের পোষ্ট চুরি করার কোন মানে হয় না।বাস্তবে এগুলো প্রয়োগ করতে না পারলে যে ভয়ানক অপমানিত হব!

এর কয়েক মাস পর আমার মাথায় চাপল,আচ্ছা আমার তো ব্লগ আছে আমি সেখানে গিয়ে দেখিতো সেখানকার মানুষগুলো কেমন?
দেশে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ব্লগে একটা কবিতা লিখে পোষ্ট দিয়ে ফেললাম।সেখানে শুধুমাত্র একজন ব্যাক্তি কমেন্ট করেছিলেন।কমেন্ট পড়ে বেশ অবাক হলাম।প্রায় ৭ বছর ধরে ফেসবুক চালাই আজ পর্যন্ত এধরনের কমেন্ট নিজের পোষ্টে পাই নি বা অন্য কারও পোষ্টেও পড়িনি।
বলতে লজ্জা নাই,
আমি তার কথার প্রতি উত্তর দিয়েছিলাম আমার আপন ছোট ভাইয়ের সহায়তায়।তারপর তার প্রোফাইলে গেলাম,আর তার পোষ্টগুলো পড়া শুরু করলাম,তার লেখাগুলো পড়ে আমি বড্ড অবাক হয়ে গেলাম,বেশ সাজানো গোছানো লেখা।আরও বেশী অবাক হলাম অন্যান্য ব্লগারদের তার পোষ্টে করা মন্তব্যগুলো ও সেগুলোর প্রতি উত্তর দেয়া দেখে।আমি আস্তে আস্তে তাকে অনুসরন করা শুরু করলাম।তার কথাগুলো নিজের মধ্যে গাঁথা শুরু করলাম।তাকে অনুসরন করতে করতে মস্তিষ্কের মধ্যে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে আবদ্ধ থাকা হাজারো চিন্তা চেতনা,আবেগ-অনুভূতিগুলো উন্মুক্ত হতে শুরু করল।আমার এই বিরাট পরিবর্তন হয়েছে কেবল আল্লাহর সহায়তায় সেই ভাইটির মাধ্যমে।তিনি আমাকে চেনেন না আমিও তাকে চিনি না।কিন্তু তাকে আমি বস মানি।আমি সেই মানুষটার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।

এখন আমি আর আগের আমির মধ্যে কোটি কোটি গুন পার্থক্য আছে।এই পার্থক্য দশ হাজার পাতায় লিখেও শেষ করা যাবে না।তবে দু একটা না বললেই নয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত বন্ধু বান্ধবিগুলো এখন আমার সাথে মেপে কথা বলে।এমনকি সিনিওররাও।আমার সাথে তাঁরা যতই কথা বলছে ততই অবাক হচ্ছে।তাঁদের চোখ আর মুখাবয়ব দেখলেই সেটা বোঝা যায়।কোন বিষয়ে কোন ডিসিশন নিতে তাঁরা আমাকে একবার হলেও জিজ্ঞেস করে।আমার বিরুদ্ধে আমার বাবামায়েরও কোন অভিযোগ নেই এখন।শুধু একটি কথাই বলব,"কারও দুর্বলতা নিয়ে কখনো ঠাট্টা করা উচিৎ না,আজ আপনি হয়তো জ্ঞানী,বুদ্ধিমান কিন্তু কালকে যখন আপনার সন্তান দুনিয়াতে আসবে তখন সে আপনার মত গুনাবলি নিয়ে জন্মাবে এমন কোন কথা নেই।এই সমাজে আগের আমির মতই হাজার হাজার পাব্লিক আছে, আমাদের উচিৎ সেই মানুষগুলোকে মানুষ বলে গন্য করা,রাস্তার ধুলিকনা নয়।মানুষ মানুষের জন্য এটা যেমন সত্য, জ্ঞানী বোকাদের জন্য এটাও তদ্রুপ সত্য"।



মন্তব্য ২৭ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫১

আরোগ্য বলেছেন: জীবনে নানা ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এগিয়ে যান দুর্বার গতিতে।

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৯

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।দোয়া করবেন যেন সদা আরোগ্য থাকি।

২| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৭

বলেছেন: অনিন্দ্য ভালো লাগা

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৬

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: মন্তব্যে করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৩| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৪

সাইয়িদ রফিকুল হক বলেছেন: ভাবছিলাম, রম্য না আত্মজৈবনিক।
পরে দেখলাম, আত্মসমালোচনামূলক।

শুভকামনা আপনার জন্য।

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৯

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ।ভালো থাকবেন।

৪| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৬

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেছেন: জীবনের পথে পথে জীবনের রং বদলায়

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: এটাই নিয়ম।

৫| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:০১

আখেনাটেন বলেছেন: জীবনের বাঁক বদল অনেক সময় টুকরো কোনো ঘটনাতেও ঘটতে পারে।

ভালো লাগল লেখা। চমৎকার গোছানো। এভাবেই লিখতে থাকুন।

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:০৩

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: মন্তব্যে অনুপ্রাণিত।অনেক ধন্যবাদ।

৬| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০২

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: জীবনে চলতে গেলে মাঝে মাঝে এসব ফেস করতে হয়। তবে নিজের আত্মবিশ্বাস থাকলে সব ঠিক হয়ে যাবে...

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:২০

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: আমি এক যুগেরও বেশী সময় ধরে ফেস করেছি।আর আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই পরিবর্তন আনতে পেরেছি।
মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

৭| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫৬

Kishor Mainu বলেছেন: আমাকে যখন কেউ অপমান করে বা কথা শোনায়, বা কোন কারণে আমি কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলি তখন আমি আয়নার সামনে গিয়ে নিজের সাথেই নিজে কথা বলি। নিজে প্রশ্ন করি, নিজে উত্তর দেই, নিজেকে নিজে উৎসাহ দেই। আয়না সামনে গিয়ে I'm the best, I'm genius, I'll do it লাইনগুলো বারবার আউড়াই। শুনতে হয়তো অদ্ভুদ শোনাবে। বাট সত্যি এটা আমার অনেক কাজে লাগে।

মানুষের কাজই সমালোচনা করা। তারা করবেই। তাতে আমার কিছুই আসে যায় না। আমি স্রেফ এক্টাই চেস্টা করি, নিজের কাছে নিজে জবাবদিহিতা করতে গিয়ে যেন কখনো আমাকে আটকাতে না হয়। আয়নার সামনে I'm the best বলতে যেন আমার সংকোচ না হয়।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:১৩

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: গুড।ভেরী গুড।

৮| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:৫৫

টণ্ডল বেগ বলেছেন: ভাই আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। আপনি যে পয়েন্ট গুলো নিয়ে কথা বলেছেন তার প্রায় সবগুলোই আমার সাথে ঘটে। আমি কারো সাথে মিশতে পারি না, বন্ধুরা প্রয়োজন ছাড়া মিশতে চাই না। বন্ধুদের মধ্যে কথা বললে তারা না শোনার ভান করে। যদিও কিছু বলি সেটা কেমন বোকা টাইপের হয়ে যায়। কারো সাথে বেশি কথা বলতে পারি না, সামনাসামনি বা মোবাইলে কথা বললে কেমন আছেন বলার পর আর কি বলবো বুঝতে পারি না। আমিও চাই বন্ধুদের মধ্যে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে।যাতে তারা যা যে কেউ আমার কথা ফেলিয়ে দিতে না পারে। এজন্য আপনার সাহায্য চাই।দয়া করে একটু বলবেন কি করলে আমি ভালো একটা অ্যাটিটিউড গঠন করতে পারি। উত্তর করলে উপকৃত হব। ধন্যবাদ

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৪

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: প্রথম বিষয় হছে আপনি যখন একটা মানুষের সাথে কথা বলতে যাবেন,
আপনার চেহারার ভঙ্গি ঠিক রাখতে হবে।যেমন হাসি।হাসিমানে শব্দ করে হাসা তা নয়।নিশব্দ হাসি বলতে যেটাকে বোঝায় ,সেটাকে আমরা সেটাকে মৃদু হাসিও বলতে পারি।চেহারায় হাসি রেখে কথা বলার মাধ্যমে আপনি যে কোন মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে পারবেন।

যেমন ধরুন আপনি কোথাও যাচ্ছেন বা দাঁড়িয়ে আছেন,এমন সময় দেখলেন আপনার পরিচিত কেউ আপনার সামনে দিয়ে যাচ্ছে।
হাসিমুখে প্রথমে তাকে সালাম দিবেন, সেই সাথে তার মুখমন্ডলের দিকে তাকাবেন।একটা মানুষ আপনার সাথে কথা বলতে আগ্রহী কিনা সেটা তার চেহারার দিকে তাকালেই বোঝা যায় বিশেষ করে চোখের দিকে তাকালে অটো বোঝা যায়।
জিজ্ঞেস করবেন,"কোথাও যাচ্ছেনতাড়া আছে কোথাও"
যদি বলে "হ্যা"।তাকে আর ধরে রাখবেন না।"ঠিক আছে ভাই,ভালো থাকবেন" বলে বিদায় দিয়ে দিবেন।

আর যদি তাড়া না থাকে,সে অবশ্যই কথা বলতে আগ্রহ দেখাবে।সেটা আপনাকে বুঝে নিতে হবে।
তাকে জিজ্ঞেস করুন,
"কেমন আছেন, দিনকাল কেমন যাচ্ছে?"
হয়তো বলবে ভাল।
আপনার উত্তর হবে," শুনে খুব ভালো লাগলো"।
সে আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে আপনার দিনকাল কেমন যাচ্ছে?
আপনি আপনার উত্তর দিবেন।
নানান রকম বিষয় আছে আলোচনা করার মত কথা বলার মত সেজন্য মানুষ বুঝে কথা বলুন।

সে যদি আপনার সহপাঠী হয়ে থাকে,পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করুন।কোন বিষয়ে হেল্প লাগলে,সে বিষয়ে নিজের আগ্রহ দেখান।ভালো ভালো উপদেশ দিন।

লোকটি আপনার সিনিওর হলে,সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করবেন কেমন আছেন? বলবে ভালো।আপনাকে জিজ্ঞেস করলে আপনি উত্তর দিবেন।এর বেশী কিছু বলার প্রয়োজন নেই।তার কোন কিছুর প্রয়োজন হলে সেই আপনার কাছে এসে ধরা দিবে।
সিনিওরদের সাথে আগবাড়িয়ে কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

আরেকটা বিষয় দেখতে হবে, আপনি অযথাই তাকে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছেন কিন্তু সে আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করছে না তাহলে তার সাথে কথা বলার কোন মানে নেই।সেখান থেকে আস্তে করে কেটে পড়ুন।

এই গেল এক কথা এবার অন্যটা বলি,

মনে করুন আপনার পরিচিত দুজন মানুষ কথা বলছে একে অপরের সাথে।আপনি সেটা দূর থেকে দেখছেন।মন চাইছে তাঁদের সাথে গিয়ে কথা বলবার।কিন্তু যাবেন না।হয় তো তাঁরা কোন পার্সোনাল বিষয়েও কথা বলে থাকতে পারেন।আর অন্যের পার্সোনাল বিষয়ে জানতে চাওয়ার আপনার কোন প্রয়োজন নেই।তাঁদের কথা শেষে হলে কথা বলুন।

আবার মনে করেন আপনি একদল বন্ধুদের সাথে বা সিনিওর দের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন,প্রথমে মনযোগ দিয়ে শুনবেন তাঁরা কি বলছে,কি বিষয়ে আলোচনা করছে।সেই আলোচনার মধ্যে আপনাকে যদি সুযোগ দেয়া হয়,আপনি সেই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে নিজের মতামত ব্যক্ত করুন, সাবলীল ভাষায়।এতে তাঁরা আপনার প্রতি আগ্রহ দেখাবে।কেউ কোন ভালো কথা বললে সেখানে প্রশংসামূলক মন্তব্য করুন।

আলোচনার মধ্যে কখনো বাম হাত ঢুকাতে যাবেন না,কথা বলার ইচ্ছা জাগতে পারে কিন্তু ইচ্ছাকে দাবিয়ে দিন।কারও কোন কথার সাথে আপনি একমত না হলে,বলবেন আপনার সাথে আমি একমত না কিন্তু তর্কে যাব না কারন তর্ক করা ভাল না।কোন বিষয়ে কথা বলার আগে সেই বিষয়ে আপনার যথেষ্ট ধারনা আছে কিনা চিন্তা করে দেখবেন।যদি না থাকে,তাহলে বলবেন এই বিষয়ে আমি অজ্ঞ।ধারনা না থাকলে সেই বিষয়ে কথা বলতে গেলে মানুষ আপনাকে বোকা বলবেই।

তাড়াহুড়ো করে কথা বলতে যাবেন না তাহলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে।মুখে কথা বেজেও যেতে পারে।নরমালি কথা বলুন।

ব্লগারদের পোষ্ট মনযোগ দিয়ে পড়ুন,কমেন্ট পড়ুন,প্রতি মন্তব্যগুলো পড়ুন,আর মন্তব্য করুন নিজের করা এবং অন্যের করা মন্তব্যগুলো যাচাই করুন কারন এখানেই শতকরা ৮০ ভাগ শিখার আছে।এগুলো নিজের মধ্যে ভালোভাবে গাঁথতে পারলে আপনি অচিরেই এই সমস্যা গুলো কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

আমার এই কথাগুলো কেবল মোটিভেশন স্পিচ যা একটি লাঠির মত,সম্পূর্ণ পাহাড় বেয়ে আপনাকেই উঠতে হবে।

ধন্যবাদ।


৯| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৩:৫৫

টণ্ডল বেগ বলেছেন: ভাই আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। আপনি যে পয়েন্ট গুলো নিয়ে কথা বলেছেন তার প্রায় সবগুলোই আমার সাথে ঘটে। আমি কারো সাথে মিশতে পারি না, বন্ধুরা প্রয়োজন ছাড়া মিশতে চাই না। বন্ধুদের মধ্যে কথা বললে তারা না শোনার ভান করে। যদিও কিছু বলি সেটা কেমন বোকা টাইপের হয়ে যায়। কারো সাথে বেশি কথা বলতে পারি না, সামনাসামনি বা মোবাইলে কথা বললে কেমন আছেন বলার পর আর কি বলবো বুঝতে পারি না। আমিও চাই বন্ধুদের মধ্যে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে।যাতে তারা যা যে কেউ আমার কথা ফেলিয়ে দিতে না পারে। এজন্য আপনার সাহায্য চাই।দয়া করে একটু বলবেন কি করলে আমি ভালো একটা অ্যাটিটিউড গঠন করতে পারি। উত্তর করলে উপকৃত হব। ধন্যবাদ

১০| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:০১

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
Enjoy your life ড. আব্দুর রহমান আরিফীর লেখা একটি বই। পড়লে আরো ব্যতিক্রম কিছু জানতে পারবেন ;)

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৬

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: বইটি সাজেস্ট করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১১| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৩৮

ফারিহা হোসেন প্রভা বলেছেন: আমরা সবাই একদিন চেইঞ্জ হয়ে যাব, জীবনের ধাপগুলো যত পার হতে থাকি ঠিক প্রতিটি ধাপে আমরা এক একটা শিক্ষা গ্রহণ করি এবং নিজেকে শুধরিয়ে নিয়ে পরিবর্তন হয়ে যাই। :(

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৯

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: স্বপ্ন সুদূরের পথে জীবন বড়ই নিষ্ঠুর, জীবনের বাঁকেবাঁকে রং বদলায়।

১২| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০৯

হাবিব স্যার বলেছেন:



আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেছেন: জীবনের পথে পথে জীবনের রং বদলায়

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৫

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: জী।

১৩| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৬

টণ্ডল বেগ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই, খুবই ভালো লাগলো। আসলে বেসিক নলেজ টা আছে কিন্তু জ্ঞান টা এখনো পরিপক্ক হয়নি।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৬

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: আপনার জন্য নিরন্তর শুভেচ্ছা।

১৪| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৯

নজসু বলেছেন:


কেউ কেউ থাকে যারা সবার সাথে সহজভাবে মিশতে পারে না।
তাই বলে, আমি সেটাকে অসামাজিক বলা সমর্থণ করবো না।
স্বভাবসুলভতা বলে একটা কথা আছে।
বরং আশেপাশের মানুষদের বোঝা উচিত এটা তার স্বভাবসুলভ।
অবজ্ঞা করা, নেতিবাচক কথা বলা অত্যন্ত অন্যায় হবে।
আপনার যেমন পরিবর্তণ হয়েছে, হয়তো ঘরকুনো অন্যদেরও এভাবে একদিন না একদিন পরিবর্তণ ঘটবে।

পোষ্টের শেষের কথাগুলো ভালো লাগলো।
স্বভাব-অভ্যাস যেমনই হোক না কেন মানুষকে মানুষ বলেই গণ্য করা।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৫

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: সুন্দর মন্তব্য করেছেন।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.