নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কংক্রিটের জঞ্জালে একজন সাধারণ মানুষ।

অগ্নিপাখি

প্রতিদিন হাজারো মানুষ হারিয়ে যায়, আমি সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষদেরই একজন। ভালবাসি বই পড়তে, বই সংগ্রহ করতে, স্ট্যাম্প জমাতে, ভালো মুভি দেখতে, মাঝে মাঝে লেখালেখি করতে, ভালবাসি কবিতা আর ভালবাসি একা একা পুরনো ঢাকায় ঘুরে বেড়াতে। হুমায়ুন আহমেদ আমার প্রিয় লেখক। এছাড়া অন্যান্য লেখকদের বইও ভালো লাগে। অন্যান্য লেখকদের মধ্যেঃ আহমদ ছফা, মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, নিমাই ভট্টাচার্য, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, জাহানারা ইমাম, সৈয়দ মুজতবা আলী, শহীদ জহির রায়হান, সত্যজিৎ রায়, তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ, সুনীল, সমরেশ , খূশবন্ত সিং, এলান পো, এরিখ মারিয়া রেমার্ক, মার্ক টোয়েন, ম্যাক্সিম গোর্কি, ভিক্টর হুগো, ফ্রাঞ্জ কাফকা এর লেখাও অনেক বেশী ভালো লাগে। মুক্তিযুদ্ধ আমার অন্যতম পছন্দের একটা বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা যে কোন বই পেলে কিনে পড়ি। ঘৃণা করি যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের। এইতো এই আমি।

অগ্নিপাখি › বিস্তারিত পোস্টঃ

ডোনাল্ড ট্রাম্প ঃ মার্কিন রাজনীতির নতুন ভাঁড়

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৪:৪০





অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় দিক হতেই বর্তমানে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী রাষ্ট্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে থাকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সম্পর্কের গতি প্রকৃতি এবং সেই সাথে আন্তঃরাষ্ট্রিক সম্পর্কের অনেক কিছুই নির্ভর করে এই নির্বাচনের উপর। ২০১৬ এর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচারনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা রাজ্যর পর রাজ্য চষে বেরিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচারনা। এই প্রচারনায় এখন মুসলিম, অভিবাসী ও নারীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশী ও মার্কিন ধনকুবের আবাসন ব্যাবসায়ি ডোনাল্ড ট্রাম্প।





“An awfully successful real estate mogul, an outrageously prosperous business magnate, a terribly popular TV host, a filthily rich golf enthusiast worth 4.5 billion, an unsavorily bigoted racist politician & an offensively foul mouthed orator- this is hardly the resume of a typical president of the USA. But Donald incessantly blowing his Trump-et has managed to claim pole position & sustainably so – for the grand old (Republican) party nomination for the 2016 polls.”
[Nizamuddin Ahmed, “Trumpeting for Votes”, The Daily Star]

ঠিক এভাবেই ট্রাম্প কে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশের এই কলামিস্ট। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য নির্বাচনী মনোনয়নের প্রচারনায় মেক্সিকান অভিবাসীদের খুনি ধর্ষক ও সন্ত্রাসী, মেক্সিকান অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধ করবার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকান সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ, সকল অভিবাসীদের (প্রায় ১১ মিলিয়ন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হতে বহিষ্কার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, সকল মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্র হতে বহিষ্কার করে ফেরত পাঠানো এবং অন্যান্য দেশ থেকে মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা (Total & Complete shutdown) , মসজিদের উপর নজরদারি, মুসলমান অভিবাসীদের নজরদারির জন্য পৃথক ডেটা বেইজ তৈরি করা এবং প্রচণ্ড নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রদান করে প্রগতিশীল মার্কিন নাগরিকদের কাছে তিনি যেমন অজনপ্রিয় ঠিক তেমনি অতি দক্ষিনপন্থি মার্কিনীদের কাছে তার জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আশংকার ব্যাপার।

“Donald Trump is shouting at the top of his voice publicly what they used to whisper privately.
Trumps xenophobic, racist & fascist utterances resonates perfectly with his base. The more outrageous his pronouncements, the higher are his pole numbers.”
[Fakhruddin Ahmed, “What Makes Donald Trump & his Supporters Tick?” , The Daily Star]

এই প্রচণ্ড বর্ণবাদী, নারী বিদ্বেষী, মুসলিম বিদ্বেষী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিরুদ্ধে মার্কিন রাজনীতিকেরা সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেন যখন তিনি সকল মুসলিম অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবার দাবি তোলেন। [......“Total and complete shutdown of Muslims entering the U.S until our country’s representatives can figure out what is going on?”]



হোয়াইট হাউজ তার বক্তব্যকে মার্কিন মূল্যবোধের বিরোধী এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী উল্লেখ করে এর কঠোর সমালোচনা করে। হোয়াইট হাউজ এর মুখপাত্র জস আরনস্ট বলেন-

“What Donald Trump said yesterday disqualifies him from serving as a President.”



বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা (যিনি নিজেও একজন অভিবাসী) সান বানার্দিনো হত্যাকাণ্ডের পর (যেখানে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলিম দম্পতি গুলি করে ১৪ জনকে হত্যা করে) জাতির উদ্দেশ্য দেয়া ভাষণে বলেন-

“We cannot turn against one another by letting this fight be defined as a war between America & Islam.... The (ISIL) are thugs and killers, part of a cult of death.... Majority of terrorist victims around the world are Muslims. If we are to succed in defeating terrorism- we must enlist Muslim communities as some of our strongest allies- rather than push them away through suspicion and hate.”



ওবামার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৬ নির্বাচনের ডেমোক্রাট মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন-

“Declaring war on Islam or demonizing Muslim Americans is not only counter to our values- It plays right in to the hand of terrorists.”

মার্কিন সিনেটর লিণ্ডসে গ্রাহাম – ডোনাল্ড ট্রাম্প এর তীব্র সমালোচনা করে বলেন-

“Do you know how you win this war? You side with people in the faith who reject this ideology which is ninety nine percent. And do you know how you make America great again? – Tell Donald Trump GO TO HELL.”
[ উল্লেখ্য “মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” – ট্রাম্প এর নির্বাচনী স্লোগান]

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি এর “মুসলিম লাইফ কো-অরডিনেটর শোয়াইব সুলতান এর বক্তব্য এইখানে প্রণিধানযোগ্য –

“ISIS is to Islam what Donald Trump is to American values ; a complete distortion of everything that we as a country & a society stand for. I think he is clearly disqualified himself from being the president of the U.S.”

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স এর নিহাদ আওয়াদ কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন-

“Donald Trump sounds more like a leader of a lynch mob than a great nation like ours.”

এই চরম বর্ণবাদী রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশী যখন আমেরিকান মুসলিমদের সনাক্ত করবার জন্য পৃথক আই. ডি এর কথা বলেন তখন মার্কিন মুসলিমরা এর অভিনব প্রতিবাদ জানায়।





















তবে অধিকাংশ বিশ্লেষকদের মতে এই ধরনের বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক, উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দক্ষিনপন্থিদের কাছে সাময়িক জনপ্রিয়তা পেলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কখনোই কাজ করবে না। অধিকাংশ মার্কিনীই তার বিভেদ সৃষ্টিকারী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য সমর্থন করে না।

“Americans vote for hope, not fear. Barack Obama’s campaign was based on hope. Bill Clinton launched his campaign in 1992 from Hope, Arkansas, his hometown. Donald Trump’s fear mongering may not work in the long term.”
[Fakhruddin Ahmed, “What Makes Donald Trump & his Supporters Tick?” The Daily Star]

তবে আশংকাও থেকে যায়। যদি ২০১৬ মার্কিন নির্বাচনের পূর্বে আরেকটি ৯/১১ বা সান বানার্দিনো এর মতো সন্ত্রাসী হামলা ঘটে যায় তবে পাশার দান উল্টেও যেতে পারে- আশা করি কখনোই সেইরকম কিছু হবে না। আর বহুল প্রতীক্ষিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত চলতে থাকুক ডোনাল্ড ট্রাম্প নামক ভাঁড়ের ভাঁড়ামি।

তথ্যসূত্রঃ
১. দি ডেইলি স্টার।
২. বি. বি. সি/ সি.এন.এন।
৩. অন্তরর্জাল এ প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ
১. গুগল ইমেইজেস।
২. দ্যা উইক।
৩. এ.টি.টি.এন।


মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৫:৪৫

এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল স্বর্ণা বলেছেন:
Donald Trump still leads the poll.

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:২১

অগ্নিপাখি বলেছেন: The more outrageous his pronouncements, the higher are his pole numbers.”
[Fakhruddin Ahmed, “What Makes Donald Trump & his Supporters Tick?” , The Daily Star]

২| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:৪১

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: ভাড়ামী করলেও কিন্তু ওর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে, বিষয়টা শংকা জাগায় মনে।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:২১

অগ্নিপাখি বলেছেন: িষয়টি আসলেই শঙ্কাজনক।

৩| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:৪৯

উরনচণ্ডী বলেছেন: গোড়া স্বেতাঙ্গদের কাছে ট্রাম্প জনপ্রিয় হলেও তারা কিন্তু টোটাল ভোটারদের একটি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। এরা ওবামার ১ম নির্বাচনের সময়ও বিরোধিতা করেছিল।কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। এবারও হয়ত তাই হবে।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:২৩

অগ্নিপাখি বলেছেন: ট্রাম্প যা আবর্জনা বলে বেড়াচ্ছেন তা সম্পূর্ণ মার্কিন মূল্যবোধের বিরোধী। আমেরিকাকে বলা হয় অভিবাসীদের দেশ। শেষ বিচারে এই সব উস্কানিমূলক ভাষণ কোনও কাজ করবে না।

৪| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০০

পিচ্চি হুজুর বলেছেন: গোড়া স্বেতাংগ বলতে কিছু নাই, সব রসুনের এক গোয়া। ট্রাম্প মুখে বলে আর বাকীরা বলে না। টুইট ফুইট ত ওই মাইনরিটিরাই করতেছে; সাদারা ঠিকই তালিয়া বাজাইতেছে। ট্রাম্প ঠিক ঘোড়ার পিছনেই বাজী লাগাইছে।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:২৬

অগ্নিপাখি বলেছেন: অনেকেই কিন্তু তার হেইট স্পিচ এর বিরোধিতা করেছেন। অনেক শেতাঙ্গ মার্কিনীই তাকে স্রেফ পাগল আর বিভেদ সৃষ্টিকারী মনে করে। তবে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হবে তা বরাবরই নির্ভর করে প্রভাবশালী জিউঈশ লবি এর উপর।

৫| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৪০

মোটা ফ্রেমের চশমা বলেছেন: আমেরিকানরা শেষমেষ এই পাগলকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে যে নির্বাচিত করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাথায় ঘিলু থাকলে আল গোরই হত প্রেসিডেন্ট বুশের জায়গায়।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:২৮

অগ্নিপাখি বলেছেন: "আমেরিকানরা শেষমেষ এই পাগলকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে যে নির্বাচিত করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।" আশংকা থেকেই যায়। তবে এই বর্ণবাদী আর জঘন্য লোক যদি রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়ে যায় আর সব হিসেব নিকেশ উল্টে পাল্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যায়- তবে দুর্গতি আছে সবার।

৬| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:৪১

মোটা ফ্রেমের চশমা বলেছেন: প্রচারেই প্রসার- এই নীতি যে ট্রাম্প অনুসরণ করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর ট্রাম্পের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে শক্ত কাউকে দেখা যায়নি এখনো। সুতরাং দুর্গতি যে আসন্ন সেটা সহজেই বলা যায়।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:৩৮

অগ্নিপাখি বলেছেন: দেখা যাক শেষ বিচারে কোনটির জয় হয়- মার্কিন মূল্যবোধ নাকি ট্রাম্পের বর্ণবাদী ও বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রচার ও প্রচারনা।
টাইম উইল সে এভ্রিথিং।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.