নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাবনাহীন ভাবনাগুলো

মাহের ইসলাম

মাহের ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রথম প্রেম

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫১



বাবার বদলির সুবাদে এই স্কুলে নতুন ভর্তি হয়েছি।
এখনো কারো সাথে তেমন বন্ধুত্ব গড়ে উঠেনি। অবশ্য বন্ধুত্ব না হওয়ার পিছনে আমি নিজেই অনেকাংশে দায়ী।
একেতো অন্তর্মুখী আর স্বল্পভাষী, তার উপর পড়ালেখা বা খেলাধুলা কোন কিছুতেই তেমন ভালো নই। তাই, অন্যরা যখন ক্লাশের শুরুতে বা টিফিন পিরিয়ডে ছুটোছুটিতে মগ্ন থাকে, তখন স্কুলের বারান্দায় একা একা দাড়িয়ে দাড়িয়ে অন্যদের আনন্দ দেখে আরো বিষণ্ণ হওয়া ছাড়া কিছু করার নেই।
মাঝে মাঝে অবশ্য গল্পের বই নিয়ে ক্লাশ রুমের ভিতরেই বসে থাকি।

একই সরকারী কলোনিতে থাকার সুবাদে আর প্রতিদিন সকালে স্কুলবাসের জন্যে বাসস্টান্ডে অপেক্ষার মুহূর্তে কয়েকজন ক্লাসমেটের সাথে দু’একবার কথা হয়েছে। কিন্তু নিজেকে মধ্যমণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা তো দুরের কথা বরং তাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে এখনো আগন্তকই রয়ে গেছি।

কলোনির পাশেই থাকেন হরিপদ স্যার, অংকের শিক্ষক।
কলিগদের পরামর্শে, বাবা আমাকে হরিপদ স্যারের কাছে ব্যাচে প্রাইভেট পড়তে দিলেন।
ছেলে মেয়ে মিলিয়ে ৬ জন পড়ি।
বার্ষিক পরীক্ষার কয়েক মাস বাকী থাকতে একদিন আমাদের ব্যাচে জয়ীতা যোগ দিল।

আমার ক্লাশে অনেকগুলো মেয়ে আছে।
তাদের মধ্যে জয়ীতার আলাদা কোন বিশেষত্ব নেই।
বরং হালকা মোটা গড়নের বলে, ক্লাসমেটরা আড়ালে আবডালে বলে বেড়ায় যে, তার বাবা যে বড়লোক আর বাসায় যে খাবারের অভাব নেই, এটা তার স্বাস্থ্য দেখেই বোঝা যায়। তবে চোখের চপলতা আর সারল্যমাখা কথাবার্তার জন্যে ফর্সা গোলগাল চেহারার জয়ীতাকে আমার কাছে আকর্ষণীয়া মনে হয়। যদিও কোনদিন কথা হয়নি।

হরিপদ স্যারের ব্যাচে শুধুমাত্র আমি আর জয়িতা আমাদের স্কুলের। আর সবাই কলোনির স্কুলের, তাই তাদের মধ্যে একটা আলাদা সম্পর্ক শুরু থেকেই আছে। অন্যদিকে, আমাদের দুজনকে তারা খুব একটা আপন করে নিতে পারেনি। সে কারণেই হোক বা সৌজন্যবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই হোক দু’জনের মধ্যে টুকটাক কথাবার্তা শুরু হল। যার বেশিরভাগই লেখাপড়া সংক্রান্ত এবং নিতান্তই প্রয়োজনীয় বলা যেতে পারে। পড়ালেখার বাইরে বলার মত আমি নিজে কিছু খুঁজে বের করতে পারি না, আর সে বললেও আমি তেমন একটা স্বাচ্ছন্দ্যে গল্প করতে পারি না।

বিকেলে জানালা দিয়ে অন্য ছেলেদের খেলতে দেখি, কিন্তু আমি বাসা থেকে বের হই না। বরং গল্পের বই পড়ি।
প্রায়ই জয়ীতাকে বান্ধবীদের সাথে কলোনির রাস্তায় হাটতে দেখি। মাঝে মাঝে অন্য মেয়েদের সাথে মেয়েলী খেলা খেলে। তবে বেশিরভাগই দিনেই অন্য মেয়েদের মতই ছোট ছোট দলে হাটাহাটি করে, না হয় গল্পগুজব করে।

এক শনিবার, ছুটির দিন, প্রচন্ড গরমের মধ্যে বাসার কলিং বেল বেজে উঠে।
মা দরজা খুলে, কিছু ফটোকপি করা কাগজ হাতে জয়িতাকে দেখে অবাক হয়।
নিজের পরিচয় দিয়ে জয়িতা জানায় যে, সামনে পরীক্ষা তাই সে আমার জন্যে অংকের সাজেশন নিয়ে এসেছে।

রুমের ভিতর থেকেই মায়ের অবাক হওয়া গলা শুনতে পাই,
- সাজিদ, তোমার ফ্রেন্ড জয়িতা এসেছে।

কোন বন্ধু নেই বলে বাসায় কখনই কেউ আসেনি, আমার সাথে দেখা করতে।
আজ একজন এসেছে, তার উপর মেয়ে বন্ধু। মায়ের গলায় স্বরে আশ্চর্য হওয়ার পুরো আলামত স্পষ্ট।
আমি নিজেও কম অবাক হইনি।

স্বাভাবিকভাবেই ড্রইংরুমে গিয়ে জয়িতার কাছ থেকে পৃষ্ঠাগুলো নিয়ে আর কথা বাড়াতে পারি না।
জয়িতাও চলে যায়, শুধু বলে যায় যে,
- ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট অংকগুলোতে তিন স্টার দিয়ে মার্ক করা আছে। আর, প্রতিটা পৃষ্ঠা যেন আমি এখনই মনযোগ দিয়ে দেখে নেই।

জয়িতা চলে গেলে, নিজের রুমে গিয়ে কাগজগুলো উল্টাতে থাকি।
বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করি, অংকের সাজেশনের মধ্যেই ভিতরে দুই পৃষ্ঠার এক প্রেমপত্র। বুকের ভিতরে কাপন ধরে যায়, তাড়াতাড়ি দরজার দিকে তাকাই, কেউ দেখে ফেলল কিনা! ভালোবাসা আর আবেগ মাখানো লাইনগুলোর কিছু কিছু অস্টম শ্রেণীর কোন ছাত্রীর লেখার মত মনে না হলেও আমার হৃদয় ছুয়ে যায়। পেটের ভিতরে এক অজানা অনুভূতি আর মনের মধ্যে অনেক ছন্দ চলে আসে।

চিঠির শেষের দিকে লেখা, আমি যদি তাকে ভালোবাসি তাহলে যেন আজ বিকেলে কলোনির পানির পাম্পের পাশে তার সাথে দেখা করতে যাই।

দুপুরে পেট ভরে ভাত খেয়ে গরম লাগছিল বলে ফ্যানের নিচে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম বিকেল হতে এত দেরী হচ্ছে কেন!
বিকেলে কি বলব তার সাথে দেখা হলে? ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, মনে নেই।

পরের দিন স্কুলে যাওয়ার সময় বাসস্টান্ডে আমাকে দেখেও না দেখার ভান করলো, জয়ীতা।
সবার সামনে কিছু বলতেও পারছিলাম না। ক্লাশেও এমন ভাব করল, যেন আমাকে সে চিনেই না।
সারাদিন সুযোগ খুঁজলাম, তার সাথে একলা কথা বলার জন্যে, কিন্তু সে কোন সুযোগ দিল না।

বুঝতে বাকী রইল না – আমার জীবনের প্রথম প্রেম অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, কৈশোরের এক দুপুরের ঘুমের কারণে পরবর্তীতে জীবনে অনেকগুলো নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে।

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:০১

ওমেরা বলেছেন: আহারে ——- ।

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:০৫

মাহের ইসলাম বলেছেন: ভাই, কি আর বলব, এখনো বুকের ভিতরে মোচড় দিয়ে উঠে।
সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:০৭

ওমেরা বলেছেন: আচ্ছা আমার নাম দেখে কি ভাই মনে হয়?

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:১৬

মাহের ইসলাম বলেছেন:
আমার তো এমনটাই মনে হয়েছিল।

আপনি বোধ হয়, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি এর আগে হননি।
বা এমন শকড হওয়ারও দুর্ভাগ্য হয়নি।

আমি দুঃখিত। এখন জেনে নিলাম।
আর, ভুল হবে না, ওমেরা আপু।

৩| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:২৯

যাযাবর চখা বলেছেন: বড়ই দুখের কাহিনী।

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:৩৪

মাহের ইসলাম বলেছেন:
কেন যে সেদিন ঘুমাইছিলাম !!
সমবেদনার জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৪| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:৩৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুনে কষ্ট পেলাম।

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:৩৬

মাহের ইসলাম বলেছেন:
সমবেদনার জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আপনাকে পাশে পেয়ে ভালো লাগলো।
ভালো থাকবেন।

৫| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:৩৬

রাকু হাসান বলেছেন: খারাপ লাগলো । জয়ীতা পরে এমন না করলেও পারতো্

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:৩৯

মাহের ইসলাম বলেছেন:
এই মন্তব্যের সঠিক প্রতিউত্তর সম্ভবত শুধুমাত্র মেয়েরাই দিতে পারবে।

আমি আপনার সাথে শতভাগ একমত। ভুল করলে সুযোগ দেয়া যেতেই পারে।
কেন কোন চান্স দেয়া হয় নি, আমি জানি না।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৬| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:২২

মোঃ জিদান খান (অয়ন) বলেছেন: ঘুমই প্রথম প্রেমের বিনাশ ঘটিয়ে ফেললো!!!
ব্লগটি ঘুরে আসার নিমন্ত্রণ রইলো।

২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:০৮

মাহের ইসলাম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
শুভ কামনা রইল।

৭| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:৫১

রাকু হাসান বলেছেন: সেটাই প্রশ্ন.।ভুলটি তো ইচ্ছাকৃত আর নয় । অন্তত আপনার পক্ষে আপনার বক্তব্য কি শুনা উচিত ছিল ।

২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:০৯

মাহের ইসলাম বলেছেন:
আমিও তাই মনে করি।
কেন যে কোন সুযোগ দেয়া হল না !!
নারীর মন বলে কথা।

৮| ২২ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:০৯

সিগন্যাস বলেছেন: আপনিতো জিনিয়াস।পরে জয়িতার সাথে কথা বলেন নি কেন?

২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:১০

মাহের ইসলাম বলেছেন:
আমাকে কোন সুযোগ দেয়া হয়নি, ভাই।
চেষ্টা আর ইচ্ছে দুই’ই ছিল। পারি নাই।

সময় নিয়ে পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।

৯| ২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৮:৩৩

কাইকর বলেছেন: ভাল লিখেছেন

২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:১১

মাহের ইসলাম বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
শুভ কামনা রইল।

১০| ২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:১০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বাল্য প্রেম!!! তাও আবার অনেকটা না চাইতেই। তবে আজ হয়তো অঙ্কুরেই বিনাশ বললেন মাহের ভাই থুরি সাজিদ ভাই তবে চমক তো থাকবেই। আরে অষ্টম শ্রেণি মানে তো একটু ভয়, শিহরণ, এসবতো থাকবেই।

শুভ কামনা রইল।


২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:১৪

মাহের ইসলাম বলেছেন:
শুভ সকাল।
আপনাকে দেখে ভালো লাগল।

কিছু বুঝে উঠার আগেই তো সব হারিয়ে ফেলেছি !!

১১| ২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: এক দিনের বৈকালিক ঘুম কেড়ে নিয়ে গেল অনেক রাতের সুখনিদ্রা!
যে ভাবনাটা ভাবতে ভাবতে এমন অসময়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত কি ভেবে ভেবে খুঁজে পেয়েছিলেন, দেখা হলে তার সাথে ঠিক কি কথা বলবেন? হয়তো মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা পলায়নী মনোবৃত্তিই আপনাকে সেই সময়ে অবচেতনে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল।

২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:২৭

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনার প্রথম লাইনটা আমার পছন্দ হয়েছে। এই বক্তব্যটাই আমি লিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। অথচ, আপনি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

কি বলব, সেটা মনের মধ্যে ছিল।
পরেও অনেক দিন রিহারসেল করেছি, কি বলে ভুল ভাঙ্গাবো।
তবে, কোন দিন ও আর সুযোগ আসেনি।

আমি আপনার সাথে একমত যে, আমার ব্যক্তিগত চারিত্রিক বৈশিস্ট্য আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল।

১২| ২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: ছবিটা সুন্দর ও যথার্থ হয়েছে।

২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:২৮

মাহের ইসলাম বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ।

গুগল আপু’র কাছ থেকে নিয়েছি।

১৩| ২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৩৪

লাবণ্য ২ বলেছেন: দুঃখের কাহিনী।

২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৩১

মাহের ইসলাম বলেছেন:
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
সহমত।
তবে, আমার জন্য মর্মান্তিক কাহিনী।

১৪| ২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০১

রাজীব নুর বলেছেন: যারা ভালোবেসে বিয়ে করে তাদের ক'জন শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ধরে রাখতে পারে?

২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৩৩

মাহের ইসলাম বলেছেন:
রাজীব ভাই, আপনাকে দেখে খুব খুশী হয়েছি।

আমার জানামতে, বেশির ভাগই ভালোবাসা ধরে রাখতে পারে না। তবে, সমাজ আর সন্তানের কথা ভেবে ত্যাগ স্বীকার করে এবং মানিয়ে চলার চেষ্টা করে। তাই, তাদের জীবনে ভালবাসার অনুপস্থিতি বাকিদের চোখের আড়ালে রয়ে যায়।

১৫| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:২০

ঢাকার লোক বলেছেন: একটু পরে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে যাবেন, "পেটের ভিতর অজানা অনুভূতি"! তখনও যখন ঘুমাতে পেরেছেন , আমার তো মনে হয় সে "প্রেম" অবহেলা করে জয়তী খুব বড় ভুল করেনি !

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১৪

মাহের ইসলাম বলেছেন:
ভাই, আপনাকে দোষ দেব না।
সবাই একই কথা বলবে, আমি জানি।

কিন্তু পেট ভরে ভাত খেয়ে মনে সুখ নিয়ে ফ্যানের নিচে শুইলে যে ঘুম থামাইতে পারি না ?
কে যেন বলেছিল, সুখী মানুষ সহজেই ঘুমিয়ে পড়ে (ঘুমের ট্যাবলেট কিনতে হয় না)

১৬| ৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:০২

শামচুল হক বলেছেন: ঘুমের কারণেই সব শেষ হলো। ঘুমের নেশা তো কম না আপনার।

৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:১২

মাহের ইসলাম বলেছেন: জী ভাই, নেশাটা এখনো আছে।
ঘুমের আরেকটা গল্প লেখার ইচ্ছে আছে।

সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.