নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

মি. বিকেল

আমি মোঃ মেহেদি হাসান, কলম নাম মি. বিকেল।

মি. বিকেল › বিস্তারিত পোস্টঃ

চলুন ভিন্ন ধাঁচের কিছু মুভি দেখে আসি

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৪৯




১. A Hard Day: ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া একশন থ্রিলার ঘরানার এই কোরিয়ান মুভিটির সাথে মাত্র পরিচয় ঘটলো। গল্পের প্রোটাগনিস্ট হচ্ছেন, লি সান-কিউন। তিনি একজন Homicide Detective, যাদের কাজ হচ্ছে হত্যা, খুনি, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং পোটেনশিয়াল খুনিদের খুঁজে বের করা।

মুভিটি আরো দশটা গোয়েন্দা মুভির মত নয় আর এখানেই হয়তো ভাললাগা। গল্পের শুরুতেই একটি কার এক্সিডেন্ট ঘটতে দেখা যায়। তারপর গল্পটি ক্রমান্বয়ে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার দিকে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। একজন গোয়েন্দা কোনভাবেই স্রষ্টা নন। তারও পরিবার আছে এবং তাকেও আইন-কানুনের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হয়। শুধু কিছু ক্ষমতা থাকলে কোনো অঙ্কে আইনকে তোয়াক্কা করা অন্তত এই কোরিয়ান মুভিতে দেখানো হয়নি। তবে আবার সেই আইনকে ব্যবহার করে নিজেকে যখন তীব্র ভাবে লি বাঁচাতে চেয়েছেন সেখানে উদ্দেশ্য হিসেবে আমার চোখে শুধু পরিবার ছিলো।

কিন্তু এক্সিডেন্টের জাস্টিস তো আর এভাবে হতে পারে না, তাই পরিচালক লি এর এক্সিডেন্টের জাস্টিফাই করবেন কীভাবে?

হঠাৎ ড্রাগ-মাফিয়ার সাথে পরিচয় এবং IAD এর রিপোর্ট ডিসমিস করে দেওয়া। প্রাঙ্ক কল এবং বন্ধুর মৃত্যু। পরিবারে থাকা স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আতঙ্ক দর্শকদের বাধ্য করবে শেষ অবধি দেখার জন্য।

তবে কি তিনি শেষমেশ নিজেকে বাঁচাতে পারবেন তো? তার পরিবার তা থেকে রক্ষা পাবে তো? অথবা তার বন্ধুর সাথে কী ঘটবে? না কি সব ছেড়ে ছুড়ে স্ত্রীর সাথে ভ্রাম্যমাণ খাবারের গাড়ি নিয়ে নেমে পড়বেন শহরের রাস্তায়? আর Private Piggy Bank কী? বিশদ অর্থে?

এই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য অবশ্যই আপনাকে মুভিটি দেখতে হবে।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ০৮/১০

২. Serious Men: নেটফ্লিক্স এর ব্যানারে এবং নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী অভিনীত ২০২০ সালের এই মুভিটি অবশ্যই আন্ডাররেটেড বলতে হয়।

কমেডি ও ড্রামা ঘরানার এই মুভিটি দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে নওয়াজের স্যাটায়ারিক বচনভঙ্গি আপনাকে হাসতে একরকম বাধ্য করবে। সিরিয়াস ম্যানের মধ্যে সিরিয়াসনেস নেই মনে হলেও শেষে গিয়ে ঠিকই সেটা ধরা পড়বে।

মুভিটির প্লট নির্মিত হয়েছে একজন স্পেশ্যাল চাইল্ডকে কেন্দ্র করে ভিন্ন অর্থে একজন জিনিয়াস ছেলে কে কেন্দ্র করে(নওয়াজের ছেলে)। বাবা হিসেবে নওয়াজ এবং একজন সাইন্টিস্টের পি.এ হিসেবে নওয়াজ যেন দুটোই আলাদা সত্তা। মুশকিল হলো, মুভিটিতে একই সাথে বহু ডার্ক থিম একসাথে টানা হয়েছে। সেসবের মধ্যে বিশেষ করে উপনেশবাদ, পুঁজিবাদ, বাটার ফ্লাই ইফেক্ট, স্নোবল ইফেক্ট, ভারতীয় সংস্কৃতি, রাজনীতির নোংরা খেলা এবং শ্রেনী বৈষম্য অন্যতম। এমনকি ব্রিটিশদেরও ছাড় দেয়া হয়নি। ফলে যেটা ঘটেছে তা হলো, মুভিটি কিছুটা হলেও কন্ট্রোভার্সি ক্রিয়েট করেছে।

এবং যদি জিনিয়াস ছেলেটাকে বিবেচনায় রাখাও হয় তবে তা যেন এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন মুভিটির পরিচালক। যারা আন্ডার-প্রিভিলেজড্ তারাও কী একদিন উপর মহলে যেতে পারবে? just for the sake of science?

আর এই স্পেশ্যাল চাইল্ড হবার-ই চ্যান্স কতটুকু? কত হাজারে বা কত লক্ষে একজন স্পেশ্যাল চাইল্ড পৃথিবীতে এসে থাকে? না কি এই দাবী মিথ্যে?

ভয়ানক সব ডার্ক থিম এবং চমৎকার স্যাটায়ারিক কথপোকথনের জন্য হলেও এই মুভিটি একবার দেখা যেতেই পারে।

ব্যক্তিগত রেটিং ০৮/১০

৩. Anjaam Parhiraa: ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া মালায়লাম এই মুভিটিকে এই তালিকার শীর্ষে রাখা যেতে পারে।

ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার এই দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের মুভিটির প্লট নির্মিত হয়েছে একজন সাইকো-কিলারকে কেন্দ্র করে। যিনি কিনা একের পর এক পুলিশকে খুন করে যাচ্ছেন অভিনব পন্থায়।

আপনি একবার ভাবুন তো! যে পুলিশ আপনাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন সেই পুলিশ-ই হামলার শিকার হচ্ছেন এবং তাদেরই নিরাপত্তা নেই। তাহলে ব্যাপারটা কেমন ভয়ানক হবে?

মোটামুটি Ratsaan মুভিটির পর মলিউডে এই মুভিটি থাকবে আশা করি। মুভিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজু মেনন। অসাধারণ জাদু ছিলো উনার অভিনয়ে। এই গল্পে উনি একজন সাইকিয়াট্রিস্ট, যিনি কিনা পি.এচ.ডি ডিগ্রী লাভের জন্য রিসার্চ করছেন। আর এ জন্যই তিনি খুনীদের সাথে কথা বলছেন। কেন তারা মানুষ হয়েও অন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলছেন? এতে কীভাবে তৃপ্তি পেতে পারে কেউ?

একসময় ভয়ংকর এক জালে ফেঁসে যান তিনি নিজেও। কারণ, তিনি কেন? কেউ -ই হয়তো চিন্তাও করেনি এমন অস্বাভাবিক এবং অভিনব কায়দায় তাও আবার পুলিশ বাহিনীর উপর হামলা শুরু হবে।

যে পুলিশ উনাকে রিসার্চ করতে সাহায্য করছিলেন সে পুলিশ-ই তখন বিপদে। এমনকি প্রতিটা খুনের পর সেখানে জাস্টিস প্রদান করে এমন এক দেবীর মূর্তি রাখা হচ্ছে।

কিন্তু কীসের সেই জাস্টিস? কেন এই তিক্ততা পুলিশদের উপর? খুনীর মুটিভ কি? গল্পের প্রোটাগনিস্ট প্রথম দিকে যে লেখকের বই উনার ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের পড়তে রেকোমেন্ড করলেন তিনি-ই কি সেই নাটেরগুরু?

জানতে হলে, দেখতে হবে। তবে আর দেরি কীসের!

ব্যক্তিগত রেটিং ০৯/১০

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:০১

রাজীব নুর বলেছেন: ৩ নং মালায়লাম মুভিটা কি হিন্দি ডাব আছে?

২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:৩৮

মি. বিকেল বলেছেন: না, এখন অবধি নেই

ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.