নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

মি. বিকেল

আমি মোঃ মেহেদি হাসান, কলম নাম মি. বিকেল।

মি. বিকেল › বিস্তারিত পোস্টঃ

দত্ত পরিবার (পর্ব – ০৪)

১০ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৭



কোনরকম আমার শরীরের উপর পড়ে থাকা লাশটাকে সরিয়ে নিলাম। এরপর অনাবৃত শরীরটাকে আবৃত করে দরজার সামনে দাঁড়াতেই দেখলাম স্নেহা দত্ত কে। আমি দেখেই হকচকিয়ে গেলাম। একটু আগেই আমি তাকে খুন করেছি। স্নেহা দত্ত ঘাবড়ে গেলো আমাকে দেখে।

- আপনি ঠিক আছেন তো? কার সাথে যেন একা একা কথা বলছিলেন?
- মানে? একটু আগে তো তুমি-ই এখানে ছিলে স্নেহা!
- আমি সন্ধ্যায় আপনার রুমে আসি না। আপনার ভুল হচ্ছে মি. হাসান।
- তাহলে ঐ লাশটা কার? আর আমার এই হাত ভর্তি রক্ত?

হাতদুটো জোড়া পেতে স্নেহা কে দেখালাম। কিন্তু স্নেহার চোখেমুখে কোন বিস্ময় নেই। একটুবাদে স্নেহা বললো, “আপনি কি কিছু খেয়েছেন? ভুল বকছেন আপনি... ওখানে কোন লাশ নেই। আর আপনার হাতেও কোন রক্ত নেই”। পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখলাম বিছানা শূন্য। সেখানে কোন লাশ নেই। আর আমার হাতেও নেই একবিন্দু রক্ত।

এবার সত্যিই ধাতস্ত হতে অনেক সময় লাগলো আমার। এই বাড়ি থেকে প্রায় বেশ কিছু গজ দূরে একটা চায়ের টং দোকান আছে। হাঁপাতে হাঁপাতে সেখানে উপস্থিত হলাম। এক কাপ চা আর সাথে সিগারেট খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। এই সব যা কিছুই আমার সাথে ঘটছে সেসব একটু রিভিশন দিয়ে নেওয়া দরকার।

- মামা, এক কাপ র’চা দিন তো? আর হ্যাঁ, সাথে একটা সিগারেট দিবেন?
- কিন্তু দাদা, এমন ঘামছেন কেন? কি হয়েছে বলুন দেখি?
- আরেহ্, তেমন কিছুই নয়। মিসেস দত্ত, চিনো তো না কি?
- পুরো নাম কি দাদা?
- মিসেস স্মৃতি দত্ত! তুমি তাকে চিনো না?
- দাদা, আপনার সাথে কি কিছু ঘটেছে? মেয়েলী ব্যাপার-স্যাপার?
- নাহ্, আর ঘটলেও বা কি! তুমি কি উনাকে চিনো?
- আপনি গত কয়েক মাস এই রাজবাড়ীতেই আছেন। এই রাজবাড়ী সম্পর্কে আপনাকে কিছু জানানো উচিত বলে মনে করছি। অবশ্য যদি কিছু না মনে করেন তবে।
- কী?
- দাদা? এখানে কেউ থাকেন না। ’৭১ এর পর থেকে এই রাজবাড়ী শূন্য পড়ে রয়েছে। আর মিস্টার এবং মিসেস দত্ত কে সে সময় পাকবাহিনী গুলি করে হত্যা করে।
- মহাবিপদ, মিসেস দত্ত ও তার মেয়ে এখানে এখনো থাকেন। আর কি সব বকছো! পাকবাহিনী ওনাদের কেন গুলি করে হত্যা করলো?
- যতদূর জানি দাদা, দত্ত সাহেব জমিদার ছিলেন। অনেক প্রভাব ছিলো তাঁর। যুদ্ধের সময় তিনি বেশ কিছু মুক্তিসেনাদের এখানে আশ্রয় দিয়েছিলেন। আর তার মাশুল এভাবেই গুণতে হয়েছিলো পুরো পরিবারকে।
- আর স্নেহা দত্ত? তাকেও নিশ্চয় গুলি করে মারা হয়? আর আমি ভূতের সাথে বাস করছি এই তোমার যুক্তি?
- দাদা, রেগে যাবেন না। স্নেহা দত্তের সাথে যা হয়েছিলো সেটা আরো ভয়াবহ। পাকবাহিনী স্নেহা দত্তকে ধর্ষণ করেছিলো। এবং সবার সামনে ওনাকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়।
- তোমার এসব বক্তিতা শেষ হয়েছে? শেষ হলে ঐ কোণাটায় এক কাপ র’চা আর একটা সিগারেট দিয়ে ধন্য করবে আশা করি।

চা-ওয়ালার এমন অদ্ভূত কিছু বর্ণনা শুনে প্রথম দিকে তা হজম করতেও মুশকিল হচ্ছিলো। এখন আরো দুটো সিগারেট বেশি লাগবে। আস্ত মানুষদের হত্যা আবার ধর্ষণ করার মত নৃশংস কথাগুলো কানে বাজতে আরম্ভ করলো।

একটু বাদেই টের পেলাম স্নেহা দত্ত আমার পাশেই বসে আছেন,

- অনেক হয়েছে, এসব বাসায় বসেও করা যায়। দত্ত পরিবারের নাম নষ্ট করবেন না আশা করি।
- যেতে বলছো? অন্যদিকে চা-ওয়ালা বলছে এখানে কেউ থাকেই না। তবে কি আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। না কি তুমি সিজোফ্রেনিয়ার ভূত?
- সেসব নিয়ে তর্ক বাড়িতে গিয়েও করা যায় তো। এখন উঠি?

কথা না বাড়িয়ে স্নেহাকে সায় দিলাম। স্নেহার হাতে আগের দিনের এক হারিকেন আছে। তখন আমরা প্রায় দত্ত বাড়ির আঙিনায়। হঠাৎ ঝড়ো বাতাস উঠলো। আশেপাশে কেউ নেই। চারদিকে গাছপালা ভেঙ্গে পড়লো বুঝি অবস্থা। বাতাসের ঝাপটায় দৃষ্টি সরু হয়ে আসতেছে। সামনে কিছু দেখা যাচ্ছে না ঠিকমত। কিন্তু লক্ষ্য করবার মত বিষয় হচ্ছে- হারিকেনের আলো নিভে যাওয়া তো দূরের কথা, কেরোসিনের আগুনে জ্বলা সলতে একবিন্দুও এদিক-ওদিক নড়ছে না।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার এই ধারাবাহিকের সময়কাল টা ধরতে পারছি না।

২২ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৩

মি. বিকেল বলেছেন: প্লট প্রস্তুত আছে, কিন্তু পর্ব সংখ্যা দীর্ঘ হতে যাচ্ছে...

তাই ধৈর্য্য ধরার জন্য অনুরোধ করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.