নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্পেস-টাইম

there is no problem in the heavens and earth ;) problem lies in three places... beneath, between and within the hells.

গোলাম দস্তগীর লিসানি

বুলি বলে শুনতে পাই, রূপ কেমন তা দেখি নাই, ভীষম ঘোর দেখি।। পোষা পাখি চিনলাম না, এ লজ্জা তো যাবে না, উপায় কী করি, আমি উপায় কী করি।।

গোলাম দস্তগীর লিসানি › বিস্তারিত পোস্টঃ

পহেলা বৈশাখ এবং চিরায়ত দ্বন্দ্ব

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:০৯

পয়লা বৈশাখ বাঙালির উৎসব। পয়লা বৈশাখ পালন করা যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে চিৎকার করার মূলে যে দর্শন থাকে তা হল, বাঙালি জাতিসত্ত্বা এবং মুসলিম জাতিসত্ত্বায় সংঘর্ষ আছে কিনা।



অর্থাৎ, মুসলিমের বাঙালি জাতিসত্ত্বা আছে কিনা।

আছে।



আল্লাহ বলেছেন, সরলভাবে বলছি, তোমাদেরকে আমি আলাদা আলাদা জাতি, গোত্র ও ভাষায় বিভক্ত করেছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো এবং পরস্পরকে চিহ্নিত করতে পারো এবং আল্লাহর পরিচয় এভাবে জানতে পারো।



রাসূল দ. জাতিসত্ত্বাকে/গোত্রসত্তাকে মূল্যায়ন করতেন এর প্রমাণ এভাবে পাই,



ওই গোত্রে তো বিয়ের সময় গায়িকা পাঠানো এবং গান করার (শালীন) প্রচলন রয়েছে, তারা কি কনের সাথে গায়িকা পাঠায়নি?



হে আল্লাহর রাসূল দ. আমরা গেয়ে নেচে আপনাকে পাবার খুশি পালন করতে চাই। এটা আমাদের গোত্রীয় প্রচলন। রাসূল দ. এই অনুমোদন অন্তত দুবার দুই গোত্রকে দিলেন।



রাসূল দ. মক্কা ছেড়ে যাবার সময় বললেন, হে আমার ওয়াতান (পিতৃভূমি), আমি তোমাকে ভালবাসি এবং তোমাকে ছেড়ে যেতে আমার কষ্ট হচ্ছে।



দুটি হাদিস প্রচলিত রয়েছে যার সনদ এই মুহূর্তে দিতে পারছি না আর তা হল, নিজভূমের ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ (মিনাল ঈমান)/ স্বদেশপ্রেম ঈমানের অর্ধাঙ্গ (নিফসুল ঈমান)।



বাংলা নববর্ষ পালন করা, অশ্লীলতা নেই এমন লোকজ ভাব-সংগীত আধ্যাত্মিক সংগীত গাওয়া, বাঙালি পোশাক পরিধান করে বাঙালিদের একত্র হওয়া, বাঙালি সাহিত্য-শিল্প-কলার চর্চা করা, পালাগান- মঞ্চায়ন করা, বাঙালিয়ানা বিষয়ে আলোচনা করা, একত্রে পান্তা ইলিশ খাওয়া বা বৈশাখি মেলায় গমন- এসবই অত্যন্ত সুন্দর একটা বিষয়।

ধর্মের আলোকে আমরা দেখি, এইসব পালনে বাঁধা নেই।

কিন্তু অশ্লীলতা সর্বক্ষেত্রে পরিহার্য। পূজা-পার্বণভিত্তিক কাজকর্ম হিন্দু সম্প্রদায়ের কাজ হতে পারে এবং তাতে মুসলিমের বলার কিছুই নেই, অংশগ্রহণ করা অনুচিত।



আর দেশাত্মপ্রেম যদি পরিণত হয় দেশান্ধতায়, জাতিপ্রেম যদি পরিণত হয় জাত্যাভিমানে, তাহলে তা হারাম এবং সম্পূর্ণরূপে খারাপ কাজ। যেমন, আমি বাঙালি এই কারণে হিন্দিভাষী মানেই অমানুষ। আমি বাংলাদেশি এই কারণে বার্মার মানুষ মানেই খারাপ- এই হল আসাবিয়্যাহ। হিটলারের আরিয়ানপ্রেম আসাবিয়্যাহ। ব্রিটিশরা যে অন্য ণৃগোষ্ঠীগুলোকে অ্যাবঅরিজিনি বলেছিল, যার অর্থ উপজাতি অর্থাৎ উপমানব অর্থাৎ অপূর্ণ মানব- এটা হল নিকৃষ্ট আসাবিয়্যাহ্।



পৃথিবীর সব মানুষ প্রজাতিগতভাবে এবং সম্মানের দিক দিয়ে এক জাতি। পৃথিবীর সকল মুসলিম ধর্ম সম্প্রদায়ের দিক দিয়ে এক জাতি। পৃথিবীর সমস্ত বাংলাভাষী ভাষাজাতীয়তার দিক দিয়ে এক জাতি এবং পৃথিবীর সকল বাংলাদেশী দেশভিত্তিক জাতীয়তায় এক জাতি।



নিজ জাতিকে ভালবাসা কর্তব্য, নিজ পরিবারকে ভালবাসা কর্তব্য, নিজ অঞ্চল এবং নিজ গোষ্ঠী-গোত্রকে ভালবাসা কর্তব্য। কিন্তু এর বাইরের সবাইকে প্রাপ্য সম্মান দিয়ে এবং ধর্মীয়/নৈতিক আবদ্ধতা বজায় রেখে।



এই সুযোগে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, এই সুযোগে কোন ধর্মকে হেয় করাও নয়। নিজের সীমানা চিনতে পারলে সবই সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে। এই কারণেই রাসূল দ. বলেছেন, আমি মধ্যপন্থী, আমার উম্মাহ ও মধ্যপন্থী। তিনি বিদায় হজ্বে বলেছেন, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, অতীতে অনেক জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।



ধর্ম এত হালকা নয়, যে পয়লা বৈশাখ পালন করলে ভেসে যাবে। আর যারটা এতই পাতলা, সে গিঁট দিয়ে রাখুক, নাহলে ভেসে যাক।



বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে। চাপটা ইলিশের উপর নয়, বরং সহাবস্থানের সমর্মীতার সম্প্রদায়-সম্প্রীতীর বৈশ্বিক উদারতার পাশাপাশি বাঙালিয়ানার উপরে, বাঙালির ঐতিহ্য আর আত্মবলিদানের ইতিহাসের উপরে বেশি থাক।

মন্তব্য ৬৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:১৫

সৌর কলঙ্কে পর্যবসিত বলেছেন: বুঝলাম। কিন্তু নববর্ষ পালন জায়েজ হলেও এখন পালনের যে "পন্থা" দেখা যায়, তাতে কি তা আর জায়েজ আছে ? এই পন্থাকে কি করে সারানো যায় ? এই পন্থা যে এখন আইকন হয়ে বসে আছে, :|| :|| :|| :||

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:২৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আসলে পয়লা বৈশাখ বলতে তো সেই বৈশাখী মেলা, লোকজ ভাবের গানের আসর, একটু বাঙালির পোশাক আর একটু ইলিশ পান্তায় বাঙালিয়ানার ছড়ড়া। সাথে হয়ত মাইকে কিছু আলাপ।

এখন যা হয়, তা হল, ভিড়ের কারণে যেতে পারি না। মনই টানে না। গত সাত বছরে কী হয়েছে বলতেও পারব না।

২| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:২৫

নাসরীন রহমান বলেছেন: বাংলা নব বর্ষ পালন করায় কোন অশ্লীলতা নেই। কিন্তু অশ্লীলতা সর্বক্ষেত্রে পরিহার্য।

পূজা-পার্বণভিত্তিক কাজকর্ম হিন্দু সম্প্রদায়ের কাজ হতে পারে এবং তাতে

মুসলিমের বলার কিছুই নেই, অংশগ্রহণ করা অনুচিত।

আপনি যথার্থ বলেছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বিষয়টিকে সুন্দরভাবে

উপস্থাপন করার জন্যে।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৩৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আপু আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা আসলে যেটা ধরি সেটাতেই গোঁড়া হয়ে যাই। গোঁড়ামি সব ক্ষেত্রেই বিপদ ডেকে আনে।

কথা নাই বার্তা নাই, বাংলা নববর্ষ পালন করা হারাম হয়ে গেল। বলেন দেখি এই কঠোরতা নিয়ে তো আমাদের রাসূল দ. আসেননি। তিনি সর্বক্ষেত্রে মধ্যপন্থী।

পৃথিবীর সৌন্দর্য হচ্ছে বৈচিত্রে। এইযে আমরা সাতশো কোটির মানুষ, আমরা যদি বৈচিত্রপূর্ণ না থাকি, আমাদের মধ্যে যদি বিভিন্নতা না থাকে, তাহলে তো রোবট হয়ে যাব।

৩| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:১৫

কষ্টবিলাসী বলেছেন: নিজভূমের ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ (মিনাল ঈমান)/ স্বদেশপ্রেম ঈমানের অর্ধাঙ্গ (নিফসুল ঈমান)

এটা হাদিসটা মিথ্যা। আপনি চাইলে আমি রেফারেন্স দেব।

একটু চিন্তা করুন, ইমানের সংজ্ঞা কি? ইমান আনা বলতে কি বোঝায়? ইমানের সংজ্ঞার সাথে কি দেশ বা মাতৃভূমির কথা উল্লেখ আছে?

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:২৬

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: এই হাদিসটা মিথ্যা, এই প্রমাণ দিবেন কিন্তু।

আপনাকে সহায়তা করি, মিথ্যা মানে হল জাল, জাল শব্দের আরবি হল মাওদু।

মাওদু হাদিস এর ক্ষেত্রে হাদিসের ইমামরা প্রমাণ সহকারে জানান। কোথায় আছে তা জানান, কারা বর্ণনাকারী, তা জানান। বর্ণনাকারীদের মধ্যে কে বর্ণনা করেছে, তা জানান এবং এটা যে মিথ্যা, এই প্রমাণ কারা কারা করেছে, তা জানান।

তখন একটা হাদিসকে মিথ্যা তথা মাওদু/মাওজু ধরা হয়।

এই কাজটা যদি করতে পারেন, আমার জন্য অনেক উপকার করা হয়। এবং কথাটা সত্যি। বাড়িয়ে বলছি না। দয়া করে প্রমাণ করুন যে কথাটা মিথ্যা্।

আর ঈমান বিষয়ে আসুন, আলাপ শুরু করা যাক। আপনি আগে বলুন। তারপর বলতেই থাকব। আছেই ঈমানটা, এটা নিয়ে যদি বলতে না পারি, মরে যাওয়া ভাল।

৪| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:২৩

নির্ঘুম লযাম্পোস্ট বলেছেন: হুব্বুল ওয়াতানি মিনাল ঈমান ঃ দেশপ্রেম ঈমানের অঙ।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:২৭

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: এই হাদিসটা মিথ্যা, এই প্রমাণ উপরে মন্তব্যকারী সহব্লগার দিবেন। অপেক্ষায় রয়েছি।

৫| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:১৭

মদন বলেছেন: +

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৭

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: থ্যাঙ্কু ভাই।

৬| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:২৯

আমিনুর রহমান বলেছেন:





আলোচনা - সমালোচনার মধ্যে দিয়েই ঠিক কোনটা বেড়িয়ে আসবে।

ধন্যবাদ লিসানী ভাই এমন একটা পোষ্টের জন্য।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আমিনুর রহমান ভাই আপনাকেও ধন্যবাদ।

অন্তত ধর্মালোচনার সুযোগ তো হচ্ছে, আসলেই সেটা কম কী!

৭| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:২৪

মুদ্‌দাকির বলেছেন:

so called মঙ্গল শোভাযাত্রাকে কিভাবে দেখেন ??

বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট আকৃতির বা স্বাভাবিক আকৃতির তৈরি করা জীবজন্তু বা পাখির মডেল গুলোনিয়ে মিছিল করাকে কিভাবে দেখেন??

বৌমেলা বা ঘোড়া মেলায় কি নির্দিধায় অংশ নেয়া যাবে??

সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পূজাকি এই দিনের উৎসব গুলোর মূল ভিত্তি নয়??

সনাতন ধর্মের লোকদের অনুকরনে সাদা-লাল শাড়ি পড়ে রাস্তায় বের হবার রিতিটা কি আমরা নির্দিধায় গ্রহন করতে পারি??

নারী-পুরুষের এই ধরনের গ্যাদারিং সম্পর্কে ইসলাম কি বলে??

অতিরিক্ত দামে ইলিশ-পান্তা খাবার ব্যাপারটা কিভাবে দেখেন ?? (বাসায় খেলেওত হয়!!)

বাঙ্গালির আত্ন পরিচয়ের জন্য কি এখন যে রূপে পহেলা বৈশাখ পালিত হচ্ছে তা পালন করা জরুরী??

রাসূল সাঃ যা কিছুর অনুমদন দিয়েছেন তাতে করে রমনা বটমূলের গানের অনুষ্টান ও গ্যাদারিং এবং মঙ্গল শোভা যাত্রার গ্যাদারিং বৈধ হয় কিনা ??

পহেলা বৈশাখ এই ভাবে পালন করা কি এই দেশে ইসলাম আসারচেয়ে প্রাচীন কিনা ??

ইসলামিক পহেলা বৈশাখ হলে খুব ভালো হত!! এ্যাট লিস্ট অনৈসলামিক ব্যাপার-সেপার গুলা না থাকলেই হত!!! পহেলা বৈশাখ আমার বাড়িতে যে পালন হয় না তা না , তবে তা একেবারেই যে রূপটা অন্যরা রাস্তায় পালন করে তা না!!! :) :) :) :) :) :) :)

আমরা বাড়িতে পহেলা বৈশাখ, পহেলা মুহাররাম, পহেলা জানুয়ারী সবই সেলিব্রেটেড কোনটা দিয়েযে আমাদের বছর শুরু হয় আল্লাহই যানেন।!!

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৭

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: দারুণ বিষয় বলেছেন মুদ্দাকির ভাই।

তাহলে আলাপ হোক, হতেই থাকুক।

so called মঙ্গল শোভাযাত্রাকে কিভাবে দেখেন ??

বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট আকৃতির বা স্বাভাবিক আকৃতির তৈরি করা জীবজন্তু বা পাখির মডেল গুলোনিয়ে মিছিল করাকে কিভাবে দেখেন??


আমি আসলে মঙ্গল শোভাযাত্রার সংজ্ঞাটা জানি না। কখনো অংশ নিইনি, এ কারণেই জানি না। ধরে নিচ্ছি মডেলগুলো নিয়ে মিছিল যেটা হয় সেটাই মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বিশাল মডেল বা প্রতিকৃতি তৈরি করে সেটার শোভাযাত্রা নিয়মে পরিণত করাটা পৌত্তলিকতা যদি নাও হয়, পৌত্তলিকতার রীতি তো অবশ্যই। এই রীতি প্রাচীণ মিসরীয়দের মধ্যে ছিল, প্রাচীণ রোমকদের মধ্যে, গ্রীকদের মধ্যে ছিল, ভারতবর্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাইরা এমন করেন রথযাত্রায়- কিন্তু এ কাজটা যেহেতু একটা রীতিতে পরিণত হচ্ছে, এবং এর মধ্যে কিছু কিছু প্রতীকতাবাদ বা সিম্বলিজম চূড়ান্তে কিছু পৌত্তলিক/ কাল্টভিত্তিক সিম্বলিজমের সাথে মিলে যাচ্ছে তাই কোনক্রমেই সচেতনভাবে একজন মুসলিমের এতে অংশ নেয়া উচিত নয় বলে মনে করি।

কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়াসাল্লাম সাবধানে পৌত্তলিকতা ও আন্তধর্মীয় রীতির সংমিশ্রণ থেকে আমাদের সতর্ক করেছেন বারবার।

এই বিষয়টাকে ভাষ্করদের একটা প্রজেক্ট হিসাবে দেখলে সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখায়। পথে একটা বাঘের ভাষ্কর্য দেখলে আমাদের ভাললাগে। রাষ্ট্রীয় প্রতীকের কথা মনে পড়ে। পাখি দেখলে গ্রামবাংলার মাটির পুতুলের কথা মনে পড়ে যা বাচ্চাদের জন্য বৈধ। মডেলগুলোও সেই আলোকে।

কিন্তু একবার দুবারের জায়গায় রীতিতে পরিণত হলে ধর্মনিষেধের পথে এগিয়ে যেতে হয়।

চলছে চলুক, আমি নিজে এমন শোভাযাত্রায় কখনো অংশ নিতে রাজি নই।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৩

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: বৌমেলা বা ঘোড়া মেলায় কি নির্দিধায় অংশ নেয়া যাবে??

ভাই বৌমেলা বা ঘোড়া মেলা কোনটার সাথেই আমি পরিচিত নই। নিজেকে বোকা বোকা লাগছে।

সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পূজাকি এই দিনের উৎসব গুলোর মূল ভিত্তি নয়??

না তো! সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মাসেই পূজা পার্বণ রয়েছে। তার সাথে তো নয়, বরং আকবরের বাংলা সন প্রচলনের সাথেই এর মিল। আর যেহেতু বাংলা সন, তাই তা হিন্দু মুসলিম সবার। আর সনটা তো ফসলী সন।

এর আগে প্রচলিত ছিল শকাব্দ। ওই শকাব্দও আমাদেরই ঐতিহ্য। স্থানের ঐতিহ্য স্থানিক, ধর্মের ঐতিহ্য ধার্মিক। ধর্মের ঐতিহ্য মিশ্রণ দূষণীয়, স্থানের স্বাতন্ত্র্য তো ভাল।

আর এই সময়ে কাকতালীয়ভাবে মিলেই যেতে পারে সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পূজার সময়। সেটা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য আরো আনন্দের বিষয়।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৩

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: সনাতন ধর্মের লোকদের অনুকরনে সাদা-লাল শাড়ি পড়ে রাস্তায় বের হবার রিতিটা কি আমরা নির্দিধায় গ্রহন করতে পারি??

আমার পরিবারের মেয়েদের কথাই বলি।
তারা সাধারণত দু-তিন বছরে একবার বের হয়। তাতে তারা হিজাব পরে থাকে এবং ভিড় এড়িয়ে যায়।

বাসায় মা কে দেখেছি লাল-সাদা বা বাসন্তী রঙ পরিধান করতে।

একটা মেয়ে যদি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে শালীনভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তার লাল-সাদা পোশাকে বের হওয়াটা সৌন্দর্যপূর্ণ বিষয়। আসলে শালীনতার এই সংজ্ঞা তো আমরা নির্ধারণ করি না, মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দ. নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

লাল-সাদাটা'ও মনে হয় না কোন সম্প্রদায়ের পোশাক। শাড়িতো আমাদের স্থানিক পোশাক, ভৌগোলিক। লাল-সাদাটাকে, এই একটা দিনের জন্য দেখলে বরং জাতিগত পোশাকই লাগে।

আমার বোন হিজাব ছাড়া বের হলে একটা ধমক অবশ্যই দিব। কারণ তার উপর আমার অধিকার চলে। তারচে বড় কথা, সে বের হবে না। বা আমার স্ত্রী।

কিন্তু বসন্তের দিনে, বা পহেলা বৈশাখে একজন বাঙালি নারীকে এই পোশাকে আমার কাছে শ্রদ্ধা জাগে।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৩

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: নারী-পুরুষের এই ধরনের গ্যাদারিং সম্পর্কে ইসলাম কি বলে??

নারী পুরুষের এমন সম্মিলন, যাতে শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে যাওয়া যায় না, তাকে ইসলাম মুসলিমদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করে।

আমিও নিজের জীবনে তাই পালন করি।

অতিরিক্ত দামে ইলিশ-পান্তা খাবার ব্যাপারটা কিভাবে দেখেন ?? (বাসায় খেলেওত হয়!!)

পয়লা বৈশাখের পান্তা ইলিশ আমার খুবই পছন্দের। রীতিমত ফ্যাসিনেশন। তবে মেলায় গিয়ে যে খেতেই হবে, তা থেকে ক্ষান্ত দিয়েছি বহু বছর হল, স্রেফ দামের জন্য। বরং বাসায় খেতে পারলে কৃতজ্ঞতা। খেতে না পারলে আরো কৃতজ্ঞতা, অন্য কেউ তো পারল!

বাঙ্গালির আত্ন পরিচয়ের জন্য কি এখন যে রূপে পহেলা বৈশাখ পালিত হচ্ছে তা পালন করা জরুরী??

আসলে পালন করাতো মোটেও জরুরি নয়। স্বত:স্ফূর্ততায় যুক্ত হওয়া আরকী। তবে আপনি যে সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন এবং তার মধ্যে যেগুলোতে সায় জানাচ্ছি সেগুলোতে তো যুক্তই হই না আজ বহু বছর, এবং তা ধর্মের কারণেই।

রাসূল সাঃ যা কিছুর অনুমদন দিয়েছেন তাতে করে রমনা বটমূলের গানের অনুষ্টান ও গ্যাদারিং এবং মঙ্গল শোভা যাত্রার গ্যাদারিং বৈধ হয় কিনা ??

আমার মনে হয় রমনার বটমূলের গানের অনুষ্ঠান বৈধ হয়। এটা আমি অনুভব করি। এর প্রমাণ অনুভব করি। গানগুলো শুভ, শুদ্ধ, মার্জিত এবং ভাল। বাউল, ভাটিয়ারি, রবীন্দ্র, নজরুল, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি। তবে তাতে যে ভিড়টা হয়, সেই ভিড়টা এড়িয়ে যাবার প্রেরণাও অনুভব করি।

যেমন, এই ধরনের অনুষ্ঠানে যদি আমার ভিতরে 'মাইয়া দেখতে যাই' টাইপের প্রেরণা থাকে, তাহলে আল্লাহর পানাহ্ চাই।

পহেলা বৈশাখ এই ভাবে পালন করা কি এই দেশে ইসলাম আসারচেয়ে প্রাচীন কিনা ??

অবশ্যই না। কিন্তু এই বাংলার মানুষের সবটুকুকে আমরা একটা দিনে স্মরণ করি, এইতো।

আমরা বাড়িতে পহেলা বৈশাখ, পহেলা মুহাররাম, পহেলা জানুয়ারী সবই সেলিব্রেটেড কোনটা দিয়েযে আমাদের বছর শুরু হয় আল্লাহই যানেন।!!

একই বছর, তিনটা তিনভাবে শুরু করি আরকী! আরবী বছরের সময় আরবী সনের চেতনার সাথে একাত্মতা, বাংলায় বাঙালিয়ানার সাথে, আর ইংরেজিতে কাজকর্মের বছর হিসাবে এবং আন্তর্জাতিকতার সাথে।

৮| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:২৮

কষ্টবিলাসী বলেছেন: জাল হাদিসের ব্যাপারে এখানে দেখুন

ইমান বলতে আমি বুঝি; কালেমা পড়া, মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা, এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এর বেশি আমি জানি না।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১১

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই এখানে এই হাদিস বিষয়ে শুধু দুজন ধর্মতত্ত্ববিদের নাম পেলাম। আমি ধর্ম নিয়ে একটু পড়ালেখা করি, তাই আমার প্রয়োজন আরো একটু গভীর বিশ্লেষণ। অর্থাৎ, তারা কী বলেছেন, সেটাও প্রয়োজন এবং তাদের তাত্ত্বিক পরিচয়টাও প্রয়োজন।

একটা কথা খেয়াল করতে হবে, কোন হাদিসকে তখনি আমরা জাল হাদিস বলতে পারি, যখন হাদিস বিশারদদের কেউ সেটাকে যথেষ্ট পরিমাণে প্রমাণ করতে পারছেন যে এটা বানানো কথা।

আল্লাহ বলছেন, এই রাসূল দ. নিজের প্রবৃত্তি থেকে কিছুই বলেন না। তিনি যা বলেন তা সরাসরি ওয়াহয়ি।

এখন, আমরা যদি জাল হাদিসের জুজুর কারণে 'সহীহ্' হাদিস ছাড়া বাকি সকল হাদিসকে জাল বলি, তাহলে আমরা নি:সন্দেহে কাফির। যে আমাদের জেনেশুনে কাফির বলবে না, সেও কাফির।

কারণ, 'সহিহ' শব্দের মানে হচ্ছে শুদ্ধ। কিন্তু হাদিসের গ্রামারে সহিহ মানে শুদ্ধ নয়। হাদিসের গ্রামারে সহিহ মানে সন্দেহাতীতভাবে বর্ণনাকারীর দিক দিয়েও শুদ্ধ।

যে ইমাম বুখারির উপরে আমাদের হাদিসশাস্ত্র দাঁড়িয়ে আছে, সেই ইমাম বুখারিকে আমাদের হাদিসের নির্দেশক হিসাবে মানতেই হবে। নাহলে আমরা মুনাফিক।

ইমাম বুখারি বলেন, গ্রহণযোগ্য হাদীস তিনপ্রকার, তিনি প্রথম প্রকার হিসাবে নির্দেশিত করেন সহিহকে, তৃতীয় প্রকার হিসাবে নির্দেশিত করেন দ্বইফ হাদিসকে।

সহিহ ও দ্বইফের বাইরেও, হাসান ও গারীব হাদীস সম্পূর্ণরূপে সহীহ হাদীস। দ্বইফ হাদিসের বেলায় আমরা সংজ্ঞাতে নিশ্চিত হতে পারি না যে, তা সহিহ কিনা।

কিন্তু যখনি হাদিসের কোন সর্বাংশে গণ্য ইমাম তা লিপিবদ্ধ করেন, আমরা জানতে পারি, সেটা সহিহ হাদিস।

এভাবে দ্বঈফ হাদিস গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৭

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: পরের মন্তব্যটা দ্বিতীয়বার লিখছি। হারিয়েছি। যাক। এবার একটু সংক্ষেপে লিখব।

ইমাম আবু হানিফা রা. যে ধর্মদর্শন, ধর্মনির্দেশনা এবং ধর্মপালনের পথ দেখিয়েছেন, সেসবই পরিপূর্ণ শুদ্ধ এই অর্থে সহীহ।

কারণ? তিনি সাতাশজন সাহাবী রা.'র কাছ থেকে চোখে দেখে এবং প্রশ্ন করে নামাজ পড়তে, যাকাত-হজ্ব-রোজা-বিয়ে-দাফনের বিষয় শিখেছেন।

একইভাবে শিখেছেন সাড়ে তিন হাজার ধার্মিক এবং সাবধান তাবিয়ির কাছ থেকে। এই সাড়ে তিন হাজার তাবিয়ির অনেকে শত শত সাহাবির ছাত্র। অনেকে হাজার হাজার সাহাবির ছাত্র। আর সেই সাহাবীরা সরাসরি রাসূল দ.'র কাছে দেখে শিখেছেন।

এখন, সেই হাদিসগুলো সংগৃহীত হতে গিয়ে হয়ে গেল দ্বঈফ। কারণ কী? কারণ আর কিছুই নয়। ইমামগণ তার কাছ থেকেও হাদিস গ্রহণ করবেন না সহীহ সূত্রে, যাকে কখনো হাটতে হাটতে বুট খেতে দেখা গেছে। এবং এই যে বর্ণনাকারীদের লাইন, তা কয়েক প্রজন্ম পেরিয়ে গেছে এবং অন্তত এক থেকে দুশ বছর পেরিয়ে গেছে।

এখন, এই হাজার হাজার বোঝা যাচ্ছে এমন দ্বঈফ হাদীসগুলো তো রাসূল দ.'র সহিহ বাণী। এবং তা যে রাসূল দ.'র সহীহ বাণী তার প্রমাণ তো স্বয়ং তাবিয়ি আবু হানিফা রা.!

রাসূল দ. বলেছেন, তাঁর প্রজন্ম, তার পরের প্রজন্ম এবং তার পরের প্রজন্ম। এরা নির্ভরযোগ্য।

আর রাসূল দ.'র পরের প্রজন্মের একজন তাবিয়ি যার সততা ও ধার্মিকতা প্রশ্নাতীত, এবং যার শিক্ষকের সংখ্যা ও শিক্ষকগণের ধার্মিকতাও প্রশ্নাতীত, তার গ্রহণ করা আমলগুলোও তখন প্রশ্নাতীত এবং সেই হাদিসগুলোও প্রশ্নাতীত অথচ সামান্য বর্ণনাকারীর কারণে, দেড়শো দুইশো বছরের তফাতে সেগুলো হয়ে গেল দঈফ।

দঈফ হাদীস, এই দঈফগুলোর মধ্যে যেগুলো ইমামগণ কর্তৃক গৃহীত, তা অস্বীকার করা তাই রাসূল দ.'র বাণী অস্বীকার করা। এবং রাসূল দ.'র বাণী অস্বীকার করা কাট্টা কুফরি।

৯| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:৪২

রাজা খায় গাজা বলেছেন: লেখায় কোন ধরনের গ্যাদারিং না থাকায় ভাল লাগলো... খুব ভাল লাগলো.....

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৯

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই। আসলে আমি স্ট্যাটাস লিখছিলাম। পরে দেখি একটু বড় হল। দিলাম পোস্ট করে। নাহলে দেখতেন শুধু শুধু বিরাট হয়ে যেত... :)

১০| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৪

অলওয়েজ ড্রিম বলেছেন: আলোচনা জমে উঠেছে। চলতে থাকুক। আবার এসে দেখে যাব।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩২

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আপনার মন্তব্যটার পর আলাপ আরো ডিটেইলসে করছি ভাই :)

১১| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪২

হঠাৎ ধুমকেতু বলেছেন: লেখাটা পড়তে চমৎকার লাগল।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫২

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই। মন্তব্যটাও একটা তরতাজা অনুভূতি এনে দিল।

১২| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: নববর্ষের শুভেচ্ছা।

প্রাঞ্জল লিখেছেন। যদিও শৌভা যাত্রার বিষয়টা আরও ডিটেইলসে এলে অনেকের অনেক প্রশ্নোত্তর মিটে যেত।

আর মুদাক্কির ভাইয়ের প্রশ্নত্তোরও ভাল লাগল।

সত্যি বলতে কি- আমার যা মনে হয় ইসলামি কালচারটাকে বিকশিতই হতে দেওয়া হয়নি। বা এ নিয়ে গবেষনাও হয়নি। পলে সকল ক্ষেত্রেই আমরা শংকিত থাকি। আর শংকিত মনে কোন উত্ম জিনিষের বিকাম কি ভাবে হবে?

নিজের কথাই বলি- একসময় মঞ্চ নাটক করতে গিয়ে এই দ্বীধা কুড়ে কুড়ে খেত। একদিন এমনি নাটকের চূড়ান্ত প্রদর্শনীতে ৩ ওয়াক্ত নামাজ বাদ হয়ে গেল!
মনের পীড়ন আর এক দিকে সামাজিক বাস্বতাতায় নাটকের প্রয়োজণীয়তা সকল দোলাদলে আল্লাহর কাছে কেঁদে কেটে পথ নির্দেশ চাইলাম। হয় ওটা নয় ওটা টাইপ।

স্বপ্নে পরিস্কার নির্দেশ এল।
আমি বসে আছি। একটা বাঘ এসে আমার বা হাতের কব্জিতে কাড় দিল। আমি ভয়ে চিৎকার করছি।
কাট।
একজন এসে আমাকে পেছন থেকে তুলে ধরলেন। বল্লেন অজু কর। অজু করলাম। বল্লেন নামাজ আদায় কর। নামাজ আদায় করলাম।
সালাম ফেরাতেই দেখি সেই বাঘ।
আবার আসছে।
আমি ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি!
পেছন থেকে তিনি নির্ভয় হবার মতো করে পেচে ধরলেন। বাঘটা এলো কামড় দিল। কিন্তু কোন ব্যাথা নেই। যেন আয়রন আইসুলেসন।
তিনি বল্লেন নামাজ ঠিক রেখে বাকী সব কাজ করতে পার।
আমি প্রশ্ন করলাম আপনি কে? কোত্থেকে এসেছেন?
আমি উপর থেকে এসেছি- বলতে বলতে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন।

এরপর। আমার বিশ্বাসে যে সুতীব্রতা তাকি একজন সাধারন প্রচলিত বিম্বাসে বিশ্বাসী পাবে?
এরপর আমরা নাটকে মেকাপ নেবার আগে অজু করে নিতাম। !!

তো যে প্রসংগে এই বর্ণনা- আমাদের সংস্কৃতির রুপরেখা, সংজ্ঞাই যেন নির্ধারিত হয়নি। আর তারউপরে চর্চার মাধ্যমে একে সামাজিক রুপদানতো বহুদূরে। তাই আজো এত প্রশ্ন। আজো এত দ্বীধা।

আমাদের মুক্তির জন্যই আমাদের এই বিষয়গুলোতে যদি বিজ্ঞরা নজর দিতেন জাতি হিসেবে আমরা উপকৃত হতাম।

সরি, অনেক লম্বা কাহিনী বলে ফেল্লাম।

আবারও নববর্সের শুভেচ্ছা।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:০০

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই নববর্ষের শুভেচ্ছা। কেমন আছেন আপনি? আশা করি খুবই ভাল।

আমিতো শোভাযাত্রার বিষয়টা আনিনি, কারণ সবাই স্বত:স্ফূর্তভাবেই বিষয়টা উপলব্ধি করবেন বলে ভেবেছি।

আসলে এক ভাই ইনবক্স করলেন, নববর্ষ বিষয়ে কিছু বলতে হবে। বলাটা একটু ডিটেইল হয়ে যাবে, তখন তা স্ট্যাটাস আকারে দিলাম ফেবুতে। পরে একটু বড় হওয়ায় দিলাম ব্লগে।

এই কারণেই।

আর অশ্লীলতার সম্ভাবনা এবং ধর্মীয় রীতির মিশ্রণের সম্ভাবনা থেকে তো আমাদের দূরে থাকতেই হবে।

মুদ্দাকির ভাইয়ের সাথে একেকটা কমেন্টে আলাপ করতে পারাও আমার কাছে ভাগ্যের ব্যাপার লাগে। ভাল লাগে।

ইসলামিক কালচার তো একটা দারুণ বিষয়। এখানে সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলাদা কালচার খুব কমই আছে, বরং তা বৈশ্বিক। কারণ ইসলাম বৈশ্বিক ও মহাজাগতিক কালচার।

খ্রিস্টানরা যেটা করেছেন, প্রতিটা লোকাল কালচারকে প্রথমে অ্যাবজর্ব করেছেন, তারপর অ্যাক্সপান্ড করেছেন, সবশেষে পরিপূর্ণভাবে দখল করেছেন, মুসলিমরা সেটা করে না দেখেই বরং ভাললাগে। ওইভাবে কালচারকে নিজের করে নেয়ার মধ্যে কেমন যেন একটা প্রবঞ্চনার সুর।

আমরা কিন্তু ধর্ম বিষয়ে জুজুর ভয়ে ভীত থাকি বেশি। ধর্ম এমন কোন কঠিন বিষয় নয়। রাসূল দ. মধ্যপন্থী, রাসূল দ. বাড়াবাড়ি করতে মানা করেছেন- এই বিষয়টাই তো যথেষ্ট।

ধর্ম বা ইসলাম একটা সহজ স্বত:স্ফূর্ত বিষয়।
আল্লাহ বলছেন, তিনি তোমাদের সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু দেন না।

অর্থাৎ, সরলভাবে আমাদের ভিতরে যা প্রবেশ করবে, তাই দেয়া হয়েছে। আমরাই সেটাকে কঠিন ও জটিল করেছি। বিভক্ত এবং দ্বিধাগ্রস্ত করেছি।

ভৃগুভাই, স্বপ্নের কথাটা শুনে অসম্ভব ভাল লাগল। আসলেই তো, কোন অবস্থাতেই নামাজ ছাড়ার কোন বায়নাক্কা নেই, কিন্তু সেই নির্দেশনা যদি আমরা পেয়েই যাই, তা আরো বিশাল বিষয় হয়ে সামনে আসে।

এবারের নববর্ষটা আপনার পরিবারের সাথে অমলিন হাসির হয়ে থাক ভাই। দোয়া করবেন আমার ও আমার পরিবারের জন্যও।

১৩| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৫

কষ্টবিলাসী বলেছেন: আপনি ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা করেন, শুনে ভালো লাগলো। এই জন্য আপনার দায়িত্বও বেশি। মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করবেন না দয়া করে।

হাদিসের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। হাদিসটি একদিকে জইফ, আবার আমার সন্দেহও হয়েছে। কাজেই এই জইফ হাদিসটি আমি মানবো কেন? সমাজের একটা অংশের প্রতি ঝোঁকের জন্য আপনি ঐ হাদিসটি মানতে বলছেন, আল্লাহ্‌র ভয়ে নয়।

ইমানের ব্যাপারে আপনি আলোচনা করেননি। তবে, আপনি আলোচনা বেশি বাড়ালে আমার সাধ্য নাই। আমি সাধারণ মুসলমান, ধর্মের ব্যাপারে যেহেতু পড়ালেখা নাই তাই সহজ এবং ছোট ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:০৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা করি শুধু এই কারণেই যে, এটা আমার উপর অবশ্যকর্তব্য। আপনি আমিতো একই রকম মানুষ। আপনার আমার দায়িত্বও একই রকম।

ভুল পথে মানুষকে পরিচালিত করার কোন সুযোগই নেই, যদিনা আল্লাহ আমাকেই বিপথগামী করে দেন আমার কোন ভুলের দোষে। তার পানাহ।

হাদিসের বিষয়ে এই বক্তব্য আমার নয়, এই বক্তব্য ইমাম বুখারী রা.'র। এবং তা ইমাম মুসলিম রা.'রও। আমি যতদূর জানি, ভারতবর্ষের অবিসংবাদিত মুহাদ্দিস আবদুল হক্ব মুহাদ্দিস দেহলভী রা.'র বইগুলোতেও তাই পাওয়া যায়। এবং অবশ্য অবশ্যই মুল্লা আলী ক্বারী রা.'র। এর অধিক নামের প্রয়োজন পড়ে কি?

হাদিস জইফ হলে সেটা হাদিসের দোষ নয়, সেটা বর্ণনাক্রমের দোষ। জইফ হাদিসগুলোর মধ্যে যেগুলো হাদিসের প্রসিদ্ধ ইমামগণ গ্রহণ করেছেন, সেগুলো সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য।
অস্বীকার করলে অস্বীকার করা হবে, যা রাসূল দ.'র বাণী অস্বীকার করা। আর তাই আরবিতে অন্য শব্দ হিসাবে অভিহিত।

আপনি কি আপনার জবাবের দ্বিতীয় অংশটা পড়েছেন?

জঈফ হাদিস মানবেন যদি তা হাদিসের ইমামগণ মেনে থাকেন। এবং তা আল্লাহ ও তার রাসূল দ. এবং ইসলামের খাতিরে। সমাজের কোন অংশ টংশের খাতিরে নয়।

আর আপনি যদি জইফ হাদিসকে জাল হাদিস বলেন, যার অর্থ মাওদু, তাহলে কী হবে সেটা আপনি আশা করি ভাল জানেন। কারণ আমার কিছুই হবে না, যা হবার আপনারই হবে।

ইমানের বিষয়ে আলোচনা করিনি কারণ, এর সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে আপনার সাথে মনে হয় না কোন মতভেদ আছে।

গভীরে গিয়ে মতভেদ শুরু হবে এবং তা অনেক ডিটেইলে হবে।


যেমন, আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়, তিনি ছাড়া সর্বমান্য উপাস্য আর কেউ নেই এটা ঈমানের শুরু এবং পবিত্রতাও ঈমানের অঙ্গ আর ঈমানের সবচে ক্ষুদ্র অংশ হচ্ছে, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো।

এই বিষয়ে মতভেদ তো নেই।
কিন্তু যে বিষয়ে শুরু হবে, তা বহুল আলোচনার দাবিদার।

১৪| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:৩৫

মুদ্‌দাকির বলেছেন:

আমি কিন্তু আগেই বলেছি পহেলা বৈশাখের খুশিতে আমার কোন সমস্যা নাই। আমি নিজেও ঐদিন খুশিই থাকি। অন্যদের সাথে পার্থক্য হচ্ছে অন্যেরা পান্তা ইলিশখান, আর সাধারনত আমার মা রান্না করেন মোরগ পোলাও!!! আর সবার মত ঐ দিন আমারো ছুটির দিন সব সময়, আর তাই খুশির দিনও সব সময়!!!!

আপনি বললেন "চলছে চলুক, আমি নিজে এমন শোভাযাত্রায় কখনো অংশ নিতে রাজি নই"

আর আমি বা যারা প্রতিবাদ করেন তারা সাধারনত বলতে চান, আমিও অংশ গ্রহন করিনা এই শোভা যাত্রায়, দয়াকরে আপনারাও করবেন না, আর কোন মুসলমান ভাই যেন যোগদান না করেন। ব্যাস পার্থক্য এটাই!!!

চোখ বন্ধ করে চিন্তা করলে দেখবেন আচার অনুষ্ঠান গুলো যে ভাবে পালন করা হয় সে গুলো আর ধর্মিয় ভাবে নিরপেক্ষ বলা যায় না!!

আর সনাতন ধর্মের লোকেরা বহু আগে থেকেই ঐ দিনে তাদের ধর্মিয় আচার পালন করতেন!! শুধুতো বাংলা না, ভারতের অন্যান্য যায়গাতেও পালন করা হয় এই দিন। আকবর মাতবরি করতে যেয়ে ভালোখারাপ দুটাই করেছেন। খারাপ কাজ গুলো সবসময়ই বর্জনিয়। কোন এক নির্দিষ্ট ধর্মিয় দিনে না করে উনি বিষয়টা একদিন আগে পরে ফিক্স করলেও পারতেন!!!


বাঙালি সব মেয়েরই হয়ত এই বিশেষ রং কম্বিনেশনের শাড়ি আছে, এই শাড়ি পড়াতে কোন সমস্যা নাই, কিন্তু ঐবিশেষ দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বিবের অনুকরনে পড়াতে সমস্যা আছে। আর তাঁরা যতদূর জানি পূজা উপলক্ষেই ঐ দিন এই রং পড়েন। এই ধরনের অনুকরন ইসলামে গ্রহন যোগ্য না!!! খুব সম্ববত দূর্গা পূজার নবমীর দিনও তাঁরা এই রূপ কাপড় ই পড়েন।

আপনি যদি কষ্ট করে এবার টি এস সি এলাকায় পহেলা বৈশাখ তারিখে দিনের যেকোন সময় আসেন, বোধ করি আপনি নির্দিধায় গ্যাদারিং বিরোধি পোষ্ট লিখবেন। আমি নিশ্চিত!

পহেলা বৈশাখের নামে যে ধরনের উৎসব ঢাকাতে হয় সে ধরনের উৎসবে ১০০% মানুষের স্বতঃস্ফুর্ততা কখনই আসবে বলে মনে করি না!!! (provided যে ১০০% সনাতন ধর্মের না)


i cannot speak for everyone but i really think a bangali who is a muslim should not be a part of this kind of celebration & i believe these are not required to be a bangali.



চিন্তা ভাবনায় আপনি আমার চেয়ে অনেক উন্নত। কারন বোধ করি জ্ঞান আর প্রজ্ঞা দুটাতেই আপনি আমারচেয়ে অনেক উপরে। (লেখা পড়ে যা বুঝি) চাইলে লিখেই অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে পারবেন। খালি চাইতে হবে, আর কিছু না। যেখানে আপনি যেতে পছন্দ করছেন না, কেন চাইছেন না যে অন্য ১০ জন মুসলমান ও সেখানে না যাক???!!


সব শেষে বলি, এই যে গানটা

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো...

যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো...

মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো...


এই গানে অনেক গুলো আশা আছে অনেক গুলো প্রার্থনা আছে, এগুলো কি আমরা আল্লাহের কাছে করছি ????

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১০:০৭

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই দ্বীনের বিষয়ে আমরা অনেক বেশি যেটাকে বলে রিগিড হয়ে গেছি। আমার ব্যবহারিক জীবনের কিছু বিষয় তাহলে বলতে হয়, আমি প্রায় কখনোই টেলিভিশন দেখি না, এফএম রেডিও শুনি না, যেহেতু সব সংবাদমাধ্যমই বায়াসড, প্রায় কোন সংবাদমাধ্যমই নিয়ম করে দেখি না তা যে পত্রিকাই হোক না কেন, প্রায় কখনোই মোবাইল ফোন ব্যবহার করি না বর্তমানে, পাঁচ বছর কখনোই মিউজিক শুনিনি এবং গত দু বছর যখনি মিউজিক শুনি সেটার সাথে মূলানুগ চেতনাকে ট্যাগ করে নেই যেমন, দূরি (ইয়া রাসূলাল্লাহ দ.) সাহি যায়ে না।

অবশ্যই হিন্দি মুভি দেখি, ইংলিশ মুভি দেখি, টরেন্ট সাইট থেকে ডাউনলোড করি, ডকুমেন্টারি দেখি, ইউটিউব ওপেন করি, ফেসবুকে বিচরণ করি। তবে তা এমনভাবে, যা নিজের হাতে থাকে। অর্থাৎ, মুভি কম্পিউটারেই দেখব, যাতে অশ্লীলতাকে আমি বাইপাস করতে পারি। রক্তমাংসের মানুষ, কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তে অশ্লীলতাকে পাশে রেখেই অশ্লীলতাকে পাশ কাটাই। অপপ্রচারকে পাশে রেখেই অপপ্রচারকে পাশ কাটাই। অধর্মকে পাশে রেখেই অধর্মকে পাশ কাটাই। অনৈতিকতাও।

আমার এই চেতনাটা মানুষের কাছে প্রকাশ করলে সেটা স্রেফ পাগলামি হবে। এবং সচেতনভাবেই তা জানি।

পাপ মঙ্গলযাত্রায় নয়, পাপ মঙ্গলযাত্রার সংমিশ্রণে।

আমি একজন মানুষকে কখনোই টিভি দেখতে, রেডিও শুনতে, পত্রিকা পড়তে, টরেন্ট সাইটে যেতে, ইউটিউবে যেতে, ফেসবুকে যেতে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করতে পারি না। বৈশাখ সম্মিলনীও তো তাই।

আর যখন আমি এ বিষয়গুলোতে থাকব, তখন শুধু অশ্লীলতা, আন্তধর্মীয় রীতি সংমিশ্রণ, অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকব। এই তিনটা বিষয় তাই সবাইকে বলব।

খেয়াল করুন ভাই, কারো মন যদি না পাল্টায়, তার এইসব কি দূর করা সম্ভব? আজকে বৈশাখ সম্মিলনীকে যদি অশ্লীলতার কথা বলে দূরে রাখি, একটা ছেলে বা মেয়েকে কি আমরা কিছুতেই চ্যাটিং থেকে, স্কাইপ থেকে, ওয়েবসাইট থেকে, মোবাইল ফোন থেকে, এফএম রেডিও থেকে দূরে রাখতে পারব? যদি তাও পারি, বায়াসড পত্রিকা থেকে দূরে রাখতে পারব? যদি তাও পারি, তার মনের কু-ভাবনা থেকে কি দূরে রাখতে পারব?

অথচ মূল পাপ, সকল পাপের জননী হল মনের কু ভাবনা।
এইটাই দূরে রাখার মূল পয়েন্ট। তাই প্রতিনিয়ত শুধু এই বিষয়টা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছি।

মনের কু ভাবনা তো শুধু যৌনতা নয়, বরং শারীরিকতা হল মনের সু বা কু যে কোনটার একটা স্বাভাবিক প্রকাশ, শুধু প্রকাশে হয়ে পড়ে সু বা কু। আর শারীরিকতার বাইরেও মনের কু'র অসংখ্য অলিগলি রয়েছে। মিথ্যা সবচে বড়। এরপাশে হিংসা, দ্বেষ, অহমিকা (নিজ/পরিবার/সমাজ/ক্লাস/ভাষা/দেশ যা নিয়েই হোক না কেন), স্বার্থপরতা, অন্যের যে কোন অধিকার নষ্ট করা, এইসব অগুণতি চোরাগলি।

এইসব চোরাগলি থেকে মুক্তি পাবার পর চলে আসে অজান্তে ভুলগুলো, যেমন ঠিক হওয়ার অহমিকা, সৎ হওয়ার অহমিকা, সঠিক মতবাদ বা ধর্মের অহমিকা, মানুষকে দেখিয়ে ভাল কাজ করা বা রিয়া, অন্যকে যথাযথভাবে মুক্তদৃষ্টিতে দেখতে না পারার অসম্ভব একটা লিমিটেশন।

এই শেষ লিমিটেশনটা নিয়ে এবং অহমিকা ও রিয়া নিয়ে আমি বেশি ভাবিত।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১১:১১

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: মানে, চলছে চলুক মানে এই না, যে সবাই করুক।

কিন্তু প্রচন্ড প্রতাপ নিয়ে এটার বিরোধীতা করে লিখব, তার কড়া কার্যকারণ তো থাকছে না।

অবশ্যই এই সাবধানবাণীটা উচ্চারণ করব। আপনি যখন বললেন, তখনই উপলব্ধিতে এল, এটাও আমার দায়িত্ব হয়ে গেল বলা। অন্তত প্যাগানিজমের সাথে মিল সম্পণ্ন শোভাযাত্রা আর ভিড় থেকে নিজেকে দূরে রাখা কর্তব্য।

এটাতে পূজা তো হচ্ছে না, পোশাকের কোডে অশ্লীলতা নেই যদি না ব্যক্তিগত পর্যায়ে হয়ে থাকে, অন্য সংস্কৃতি হামলে পড়ছে না। এটা যে আমাদেরই সংস্কৃতি। এই পোশাক যে আমাদেরই, এই আবহ তো আমাদেরই।

তবে ধর্মরীতি সংমিশ্রণের সম্ভাবনা এবং অশ্লীলতার সম্ভাবনার বিষয়টা রদ করা ব্যক্তিপর্যায়ে জরুরি। সেটা সেই ভাবনা থেকেই দূরে রাখতে হবে।

আজকে ইসলামের প্রতিটা বিষয় এত কঠিনভাবে আমরা দেখি, দেখতে বাধ্য হই সার্বিক প্রচারযন্ত্রে যে, সেটার প্রভাব অশুভ।

অথচ এই অতি অনঢ়তার বাইরেও পথ আছে, শুধু এটুকুই বলার ছিল। ইসলামের উদারতার বিষয়গুলো আজকে একেবারেই ঢাকা পড়ে গেছে।

কমবেশি যারাই ইসলামের ধ্বজ্বা ধারণ করে তারাই একটা কাঠিন্য, একটা অনুদারতা বহন করে।

সূফিবাদী একটা মতের (যাদের মত আমার হিসাবে পরিপূর্ণ ঠিক আছে। ধর্মমত অর্থাৎ ঈমান, আক্বাঈদ ও আমল) একজন কালকে কমেন্ট করলেন, ফেবুতে, যারা পয়লা বৈশাখ পালন করবে, তারা সবাই মুশরিক ও কাফের হয়ে যাবে।

এই অতিকাঠিন্য তো ইসলাম নয়।

একটা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে দেখতে এই কাঠিন্য চলে এসেছে। আমরা যারা সূফিতত্ত্বের বিশ্বাসী, তাদের একটা বিশ্বাস, রাসূল দ. চাইলে উম্মতকে ঘুমে দেখা দিতে পারেন। এবং রাসূল দ. কে যে যে অবস্থাতেই দেখুক না কেন, সে সত্য দেখেছে। এর বিষয়ে হাদিসও আছে, যে আমাকে দেখল, সে সত্যই দেখল। এবং আছে, যে আমার জিয়ারতে আসবে, তার জন্য সুপারিশ করা আমার উপর ভালবাসার কর্তব্য হয়ে পড়বে। যে আমার কবরের জিয়ারতেও আসবে, তার জন্যও আমার সুপারিশ করা কর্তব্য হয়ে পড়েছে। তো, এরা বলেন, ওই লোক মুষ্ঠিভরে দাঁড়ি রাখেনি, তার নামাজ প্রায়শই কাজা হয়। যেহেতু রাসূল দ. কে কেউ স্বপ্নে ভুল দেখতে পারেনি, আর ওই বে-আমল লোক যেহেতু বলছে রাসূল দ. কে দেখেছে, সে ভুল দেখেনি, বরং সে মিথ্যা বলছে।

অর্থাৎ, আল্লাহর রাসূল কার উপরে দয়া করবেন, কার উপরে করবেন না, সেই ফর্মুলা তাদের হাতে।

কে মিথ্যাবাদী, কে মিথ্যাবাদী না, সেই ফর্মুলাও তাদের হাতে। রোবটের মত বসিয়ে দিচ্ছে।

আমরা যে পর্যন্ত দ্বীনকে কাঠিন্যের রূপে অনুভব করতে থাকব, সেই পর্যন্ত প্রতিটা বিষয় আমাদের কাছে অধিকতর কঠিন রূপে আসবে।
এবং স্বয়ং দ্বীন আমাদের উপর বোঝা হয়ে পড়বে। কারণ আমরা মানুষ, আর এই অতি কাঠিন্য আমরা বহন করতে পারছি না।

এইযে জীবনভর জেনে এসেছি, গান হারাম।
গানকে হারাম জেনে গান শুনেছি। মিউজিক। পাপবোধে দগ্ধ হয়েছি।

অথচ মিউজিক শালীন ও এর পারিপার্শ্বিক সবকিছু শালীন হলে তা হালাল এবং ক্ষেত্রবিশেষে সওয়াবের কাজ এবং আরো ক্ষেত্রবিশেষে সুন্নাহ, তা বোঝার পর আমি মিউজিক থেকে পাঁচ-ছয় বছর পরিপূর্ণরূপে মাহরুম ছিলাম।

এখন দেড় দুই বছর যাবত মাসে বার কয়েক মিউজিক শুনি এবং তা ইবাদাতে পরিণত হয়।

জীবনের প্রথম পর্যায়টা সকল ইহুদিকে তীব্র ঘৃণা করতাম। তারো আগে সকল ইহুদি এবং খ্রিস্টানকে তীব্র ঘৃণা করতাম। এবং শেষদিকে ইসলামে আমার জানা অনুসারে যারা 'পথভ্রষ্ট' তাদেরও ঘৃণা করতাম। এই ছ মাস আগে ঘৃণা করতাম প্রকৃত শয়তান পূজারীদের।

কিন্তু এখন আমি জানি, নাম-বাহ্যিক কর্মে ইহুদি-খ্রিস্টান-হিন্দু-মুসলিম কিন্তু আল্লাহর কাছে তাদের অনেকেই মুমিন হিসাবে উঠবেন।

আর আমি আমলদার তো নই, নি:সন্দেহে পরিপূর্ণ না হলেও নূনতম ঈমানদার, কিন্তু নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবিত। কী জবাব দিব, কী কাজ করেছি।

আজকে আমরা ধর্মকে এতদূর কঠিন করে ফেলেছি যে, হিন্দুর বাসে উঠব না, কিন্তু এডিসনের আবিষ্কার করা লাইট জ্বালাবো।

একজন ভিন্নধর্মী, ভিন্নমতাবলম্বীকে যদি আমরা আর্থিক বা সামাজিকভাবে বয়কট করি, তারা ইসলামকে কী শিখবে? একজন ভিন্নধর্মাবলম্বীর সাথে যদি বসে খেতে অস্বস্তিবোধ করি, তাকে দাওয়াত না করি, তার সাথে অকারণে সময় ব্যয় না করি, তাহলে ধর্মটা কোথায় রইল?

সাহিত্য সাহিত্যই। বৈশাখ কোন দেবতা নয়। তার কাছে চাওয়াটাও তো ঠিক প্রার্থণারূপী চাওয়া নয়। এইযে দ্বৈততা, এই যে কাঠিন্য, এটাই আমাদের নিয়ে যাচ্ছে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া থেকে দূরে, দঈফ হাদিস গ্রহণ করা থেকে দূরে, এমনকি কবর জিয়ারত থেকে যে দূরে নিয়ে যাচ্ছে তাই নয়, কবর জিয়ারতকে বাজে হিসাবে প্রতিপণ্ন করাচ্ছে।

আসলে আমার রাসূল কী করলেন, আর আমরা তারই দ্বীনকে কীভাবে গ্রহণ করছি?

আমার রাসূল মসজিদে নববীতে খ্রিস্টানদের প্রার্থণা করতে দিলেন। আমরা তা দেই না। তারপরে আমরা আরো কঠিন হয়েছি।

এ বিষয়েই রাসূল দ. উমার রা. কে উদ্দেশ্য করে বলেন,

এই ব্যক্তিরা এত বেশি কুরআন পড়বে, যে হে উমার রা.! স্বয়ং আপনি ও আপনারাও তত পরিমাণ পড়েন না।
এরা এই পরিমাণ নামাজ পড়বে যে আপনারা তাতে লজ্জাবোধ করবেন।
তাদের রোজা হবে অনেক বেশি পরিমাণে।

এই তিলাওয়াত কন্ঠ থেকে নিচে নামবে না, অর্থাৎ কুরআন তারা হৃদয়ে অনুভব করবে না।

কিন্তু তীর বেরিয়ে গিয়ে একটা পশুকে বিদ্ধ করে ফেললে যেমন আর তা ফেরানো যায় না, তাদের ঈমান তেমন করেই বেরিয়ে গেছে এবং বিদ্ধ করেছে তাদের সর্বশেষ গন্তব্যে।

অন্যত্র তিনি বলেন, একদল মানুষ কুরআন পাঠ করতে করতে চেহারা অত্যন্ত উজ্জ্বল করে ফেলবে। এরপর তলোয়ার নিয়ে প্রতিবেশীকে মুশরিক বলে কতল করতে উদ্যত হবে।
যারা কতল করতে উদ্যত হচ্ছে তারাই মুশরিক।

একেবারে সব ছেড়ে দেয়া তাই ইসলাম নয়। আবার অতি কঠিনভাবে সবকিছু ইন্টারপ্রেট করাও নয়। এই কারণেই সেই গাইডলাইন, আমি মধ্যপন্থী আমার উম্মাহ মধ্যপন্থী।

আমাদের ভিতর থেকে যেটা উঠে গেছে সেটা হল রুহানিয়াত। উমার রা. বলছেন, ইয়া সারিয়া, আল জাবাল। হে সারিয়া, পাহাড়ের ওপাশে দেখো। বলছেন মদীনায়, সারিয়া রা. যুদ্ধক্ষেত্রে বহুদূরে।

তাই উমার রা. লিখে দেন, হে নীলনদ, যদি আল্লাহর হুকুমে প্রবাহিত হও, তো এই হল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দ.'র সম্মানিত খলিফার চিঠি। প্রবাহিত হও। নীলনদও প্রবাহিত হয়।

আমরা উমার রা.'র সমান নই এবং কোনদিন হতে পারব না। কিন্তু এই হুকুম দেয়ার অধিকার আমাদেরও আছে, আমরা জানি না। আল্লাহ সবকিছু আমাদের মানুষদের জন্যই তৈরি করেছেন, সেবার জন্য। অথচ সবকিছুর উপরে আমাদের হুকুমত চলে না।

হুকুমত তো পরের কথা, আমরা পুঁথি ঘেঁটে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক তা নির্ধারণ করি। অথচ স্বয়ং ইমাম বুখারি, যার উপরে আমাদের ধর্ম টিকে আছে (অবশ্যই, খেয়াল করে দেখুন, তার উপরেই) তিনিও এত জটিলভাবে হাদীস বিশ্লেষণ করার পরও শেষ পর্যায়ে রাসূল দ.'র উদ্দেশ্যে মোরাকাবায় বসতেন এবং চোখ বন্ধ করে রাসূল দ.'র কাছ থেকে কনফার্মেশন নিয়ে তারপর সেটাকে বুখারি শরীফে লিপিবদ্ধ করতেন।

সেই বুখারীকে আমরা গ্রহণ করছি, কিন্তু বুখারীর রুহানিয়াতকে দূরে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছি। এভাবে বস্তুগত এবং আমলগত মুসলিম হয়ে যাচ্ছি। অথচ হবার কথা ছিল রুহানিয়াতে সত্যপথনির্দেশিত এবং আমলগত মুসলিম।

আজকে পদচুম্বন করা শিরক। অথচ রাসূল দ. ইচ্ছা হলে পদচুম্বন করতে দিতেন। ইমাম বুখারী রা. নিজে অনুমতি নিয়ে তার শিক্ষকের পদচুম্বন (কদমবুসি) করেছেন। ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারির অনুমতি নিয়ে পদচুম্বন করেছেন। ইসলামকে আমরা নবী থেকে, নবীর পথে যারা আমাদের নিয়ে গেছে, স্বয়ং তাদের থেকেও কত কত দূরে নিক্ষেপ করেছি!

আজকে আমরা ভুলে গেছি, রাসূল দ.'র জুতা দেখে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললেই জান্নাত নিশ্চিত। আর সেটা ইমাম বুখারী কিতাবুল ঈমানে লিপিবদ্ধ করেছেন।

কেন এমনটা হল? কারণ যারা এই রীতি পরিবর্তনের অগ্রগামী তাদের রুহানিয়াত নেই। তারা কুরআন পড়ে, কিন্তু বোঝে না, কারণ হৃদয়ে তাদের গাইডেন্স নেই। হাদিস পড়ে, কিন্তু বোঝে না, ফলে দঈফ বলে, জাল বলে দূরে সরিয়ে দেয়। আরে প্রত্যেক মানুষই এত ক্ষমতাসম্পণ্ন যে, সে চোখ বন্ধ করবে আর বলে দিবে কোন হাদিস সহিহ আর কোন হাদিস জাল।

বস্তুগত মুসলিমের আমলের সাথে তাই রুহানিয়াতসমৃদ্ধ মুসলিমের আমলের তফাত হয়ে পড়ে। এরপর আমরা রুহানিয়াত সমৃদ্ধ মুসলিমের আমলের উপরও খড়গহস্ত হই।

১৫| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:৩৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন:
গভীরে গিয়ে মতভেদ শুরু হবে এবং তা অনেক ডিটেইলে হবে।

কিন্তু যে বিষয়ে শুরু হবে, তা বহুল আলোচনার দাবিদার। =p~ =p~ =p~

এই দু'লাইনের দ্যোতনা কত গভীর, তমনে করেই হাসলাম।

আপনি কেমন আছেন? ধন্যবাদ এই অধমকে স্মরনে রেখেছেন বলে।

বিসমিল্লায় গলদ বলে যে কথাটা আছে- আক্ষরিক যেন আমাদের বিশ্বাসী সমাজের মাঝে তা মিশে আছে। শুরুতেই যে না জানা দিয়ে, যে বিলগাইবে ইয়াকিনের ভাসা ভাসা যাত্রায় পথ চলা শুরু হয়- তা আর ইলমুল ইয়াকিনে পৌছে না। কারো পৌছে তো আয়নার ইয়াকিনের সাধনা সযতনে এড়িয়ে চলে- হাক্কুল ইযাকিনে তো... ওর বাবা, ওটা কি দরকার??????

মধূ খাবে অথচ চাক চিনতে রাজি না! মধু আহরন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে রাজি না। মৌ মাছির রহস্য সম্পর্কে জানতে রাজি না! মধূ আহরনের সময় জ্ঞান ছাড়াই চাক কেটে শুধু মোম নিয়ে বসে একদল!!!! ব্যস চলছে!!!

আল্লাহ রহম করুন আমাদের উপর। সবাইকে প্রকৃত সত্য সঠিক জ্ঞানে তৃষ্ণা দিন। তা নিবারনের উপায় দিন। তা দিয়ে অর্জিত জ্ঞান দিয়ে নিজের এবং সমাজের সকলের কল্যানের উপায় করে দিন। আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের তার প্রিয়তমদের তালিকাভুক্ত করুন।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:১৬

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: মধূ খাবে অথচ চাক চিনতে রাজি না! মধু আহরন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে রাজি না। মৌ মাছির রহস্য সম্পর্কে জানতে রাজি না! মধূ আহরনের সময় জ্ঞান ছাড়াই চাক কেটে শুধু মোম নিয়ে বসে একদল!!!! ব্যস চলছে!!!

ব্লগে জয়েন করার প্রথম মাসে সেইযে আপনার বিষয়ে সচেতন হয়েছি, এখনো তা আছে। কী কারণে, বলব না। আপনি ঠিকই বুঝেছেন।

কী একটা কথা বললেন! এই ভুলভরা ভারেই আমরা অস্থির। ধর্মকে ভেঙেচুরে একেবারে পাল্টে দিয়েছি।

খোলস আছে, ভিতরটায় কিছু নেই।

মালিকুল মুলকের ক্ষমতা তো অসীম। তাঁর ব্যাপ্তি অপার। ভালবাসা আর ক্ষমাও। তিনি নাহয় ক্ষমার মধ্য দিয়েই আমাদের কবুল করে নিন।

ভাই কেন্দ্রে যানতো? নিজের নবায়নের জন্য কেন্দ্রের পরিধি ধরে ঘোরাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করি, বরং মনে হয় কেন্দ্রে প্রবেশ না করলে অনেক অনেক ময়লা জমে যায় বারবার।

আইনুল ইয়াকিনের দরজাতেই চক্কর কাটার সামর্থ্য রাখি না। বারবার পিছলে ইলমুল ইয়াকিন থেকেও নিচে চলে যাই। তারপর শুধু ঘুরপাক আর ঘুরপাক। পুরনো ভুল বারবার করা। যা করণীয় তাই করতে না পারা। হাক্কুল ইয়াকিনের নামই শুধু শুনলাম, আজকে উনিশ বছর, সন্ধান পেলাম না।

তারতো দয়ার শেষ নেই। ক্ষমা করলে, দয়া করলে, দান করলে হয়ত এই জীবনে হয়ে যাবে।

আবারো এই বিষয়ে দোয়া কামনা করছি।

১৬| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:৪৪

চুক্কা বাঙ্গী বলেছেন: বৈশাখ মাসটা সবার এত আনন্দময় কেন মনে হয় সেটাও আমার মাথায় ঢুকেনা। ভয়ানক গরম। গুমোট আবহাওয়া। এরচেয়ে বরং শীতকাল ভাল। শাক-শব্জীর সিজন। টমেটো দিয়ে বাজার লাল হয়ে যায়। গোস্তের সাথে টমেটোর সালাদ মাখায় খেলে খাবারের স্বাদ অনেক বেড়ে যায়। অন্তত আমার কাছে পান্তা ইলিশের চেয়ে এই আইটেম ভাল মনে হয়। পান্তা খেলে ঝিমানী আসে।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: হাহাহা ভাই , আপনি আসলেই চুক্কা বাঙ্গী। তবে নিরস না, সরস।

আমার সবচে ফেভারেট মাস হল আষাঢ়-শ্রাবণ। তাও গ্রামের, শহরের নয়। সব তলাবে। পানি আর পানি। বৃষ্টি আর বৃষ্টি। ঘাঙর ঘাঙ। গোসল গোসল গোসল।

প্রিয় খাবার আগে ছিল মুরগির রোস্ট/ফ্রাই/কাচ্চি, ইলিশ এর চোদ্দ ধরনের (আক্ষরিক) তরকারি, আর চিংড়ির পাচ সাত পদ। এখন সবার আগে ইলিশ।

নরমাল রান্নার চেয়ে ভাজা প্রিয়।

পান্তা আমার প্রিয়, কিন্তু পয়লা বৈশাখে না।
আষাঢ় শ্রাবণে। দেখবেন, কালকে পান্তা খেয়ে আইসিডিডিআরবি'র সামনে হাজারো লাইন হয়ে যাবে।

১৭| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:০৭

বঙ্গভূমির রঙ্গমেলায় বলেছেন: বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে

সু ন্দর লিখেছেন।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৩

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: শুভ নববর্ষ ভাই।

আশা করি এদিনটা ভাল কাটবে এবং এদিন ভাল কাটার সময় মনে থাকবে, সারাটা বছর যেন ভাল কাটে।

১৮| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:৫৩

জোবায়েদ-অর-রশিদ বলেছেন:
অশ্লীলতা সর্বক্ষেত্রে পরিহার্য

বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা ...

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৪

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: চমৎকার ভাই। অসাধারণ।

অশ্লীলতা সর্বক্ষেত্রে পরিহার্য

আপনাকেও বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা ...

১৯| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:৪৫

ওয়্যারউলফ বলেছেন: আপনার লিখাটা ভালই লাগলো তবে সবকিছুকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষন করা মনে হয় সঠিক নয়।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৬

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাল লেগেছে জেনে তৃপ্তি হচ্ছে ভাই।

সবকিছু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এম্নিতে সবার জন্য বিশ্লেষণ করি না।

কিন্তু যে ভাই ইনবক্স করে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণটাই জানতে চেয়েছিলেন। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রায় সবকিছুই বিশ্লেষণ করি- অন্তত নিজের জন্য।

নাহলে প্রবঞ্চক মনে হয় নিজেকে।

২০| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ ভোর ৫:৫৬

সানড্যান্স বলেছেন: কিছু বলব না। আপনার বুঝ সবাই বুঝবে না, সবার সেই ম্যাচিওরিটি নাই।ভাল থাকুন।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আমারই কত ভুল বোঝা, সেসব নিয়ে চিন্তিত থাকি। আসলে ম্যাচিউরিটি তো না, আমার ধারণা, এসব নিয়ে ভাবি বলেই একটু পথ বেরোয়।

সব সময় ভাল থাকুন সানড্যান্স ভাই।

২১| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৮:১৭

মামুন রশিদ বলেছেন: চমৎকার সময়োপযোগী একটা পোস্ট । এই একবিংশ শতাব্দিতে এসেও মূর্খ কাঠমোল্লারা অজ্ঞানতার প্রচার করে । ধর্মের নাম নিয়ে যা খুশি ফতোয়া বানায়, স্থানীয় সংস্কৃতি আর কৃষ্টিকে শুধু শুধু ধর্মের বিপরীতে দাড় করিয়ে দেয় । অদ্ভুত উটের পিঠে আজও চলেছে স্বদেশ ।


বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা ভাই ।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:৫১

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: স্থানীয় সংস্কৃতি আর কৃষ্টিকে শুধু শুধু ধর্মের বিপরীতে দাড় করিয়ে দেয় ।

ভাই এই একটা চেতনার জন্যই লেখা। আমরা আর কত দূরে থাকব? এমন হত যে দূরে থাকাই বাধ্যবাধকতা, থাকতাম। আর কত নিজেদের মধ্যে ভুলভ্রান্তি বলে বেড়াব।

বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা আপনাকেও। আশা করি সবাইকে নিয়ে অনেক ভাল কাটবে দিনটা মামুন ভাই।

২২| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:১২

মুদ্‌দাকির বলেছেন:

লিসানি ভাই বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা থাকল!

আমি সাধারন মুসলমান জ্ঞান নিতান্তই সীমিত! কুরয়ান পড়ার আর বোঝার চেষ্টাই শুধু করি! হয়ত এই জগতে আমি এখন ক্লাস ওয়ান অথবা টু! এখনও বেসিক কমপ্লিট হয় নাই, "দূরি সাহি যায়ে না" এর সাথে রাসূল সাঃ এর কথা মনে করা আমার জন্য এখনও খুব ডিফিকাল্ট, তবে হা আপনার ফিলিংস অনুভব করতে পারছি। আপনাকে একটু বিরক্ত করে ফেলেছি হয়ত। ডিরেইল্ড কোন কিছু বললে ক্ষমা করবেন।

কিছু প্রতিবাদ করতেই হয় কারন সব সময়ই পৌত্তলিকতার ব্যাপার গুলো আবেগ, ভালোবাসা আর সামান্য সামান্য ভুল থেকেই শুরু হয়েছে বলে জানি। আর তা না হলে কি আসে যায় কেউ কাগজের তৈরি সুন্দর কতগুলা বস্তু নিয়ে ঘন্টা দুই আনন্দ মিছিল করলে, আর কিই বা এসে যায় নারী-পুরুষ পরষ্পরের সৌন্দর্য সম্মতি পূর্বক এবং নির্দিধায় উপভোগ করলে??

ইসলাম মধ্যম পন্থার ধর্ম একেবারে ছোট বেলা থেকেই এই ব্যাপারটা মাথায় ঢুকে গেছে, এজন্য মুসলিম সমাজের প্রচলিত অনেক কিছুই মাথায় ঢুকে না, মনে হয় এমনতো হবার কথা ছিলনা!! এ্যবারেন্ট অনেক কিছু চিন্তা করি, তবে ভালোই বুঝি যে সাবাইকে বুঝাতে সক্ষম হবনা, তাই মনের ব্যাপার মনেই থাকে, হিসাবতো আল্লাহকেই দিব, আমার চেষ্টা শুধু আল্লাহের দলে থাকা, যেই দলের কথা আল্লাহ কুরয়ানে বলেছেন। আর কোন দল চিনি না, চেনার দরকার আছে বলেও মনে করি না!!

লিসানি ভাই আবারো বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা থাকল!!!! !:#P !:#P !:#P !:#P !:#P !:#P

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:০৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই আপনি, আর মেলবোর্ন, উদাসী, কুনোব্যাঙ, ঘুড্ডির পাইলট, বিদ্রোহী ভৃগু, জেনো, ভারসাম্য, ফারজুল আরেফিন, জ্বিন কফিল সহ আরো কয়েকজনের সাথে কথা বলতে পারলেই মনে হয় অনেক কিছু হল।

সত্যি, আপনারা কয়েকজন না থাকলে ব্লগে এখনো থাকতাম কিনা, সন্দেহ আছে। মনটাকে খুলে একটু কথা বলা, একটু কথা শোনার জন্যই। একজন ধর্মসেচতন কবি জেনোকে পেয়ে তৃপ্ত, একজন ধর্মসচেতন বিজ্ঞানী ম্যাভেরিক- উদাসীস্বপ্নকে পেয়ে তৃপ্ত, ধর্মসচেতন আঁকিয়ে অ্যাক্টিভিস্ট ঘুপাভাই বা আপনি, একজন ফিজিশিয়ান যিনি ধর্মসচেতন। এটা আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেক বড় পাওয়া।

ডিরেইল্ড কিছুই না। অন্তত আমার বিশ্বাস।

কিছু প্রতিবাদ করতেই হয় কারন সব সময়ই পৌত্তলিকতার ব্যাপার গুলো আবেগ, ভালোবাসা আর সামান্য সামান্য ভুল থেকেই শুরু হয়েছে বলে জানি।

একেবারে শতভাগ একমত।

আসলেই। মত বা দল সেই একটাই। তা থেকে উপদলের উৎপত্তি। কুরআন-হাদীস এবং সত্যপন্থী অধিকার সম্বলিত নিজেদের মধ্যে উপস্থিত ও অতীতে গত হওয়া নির্দেশদাতা, এই তিন থাকলেই ধর্ম থাকল।

শাইখ হামজা ইউসূফ সাহেবের মতের সাথে আমি ৯৭% একমত। অসাধারণ এক মানুষ। ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার খ্রিস্টান গায়ক, হয়েছেন ইসলাম প্রচারক ও ব্যাখ্যাকার। তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। অনেক অজানা বিষয় তাঁর লেকচারগুলো থেকে জেনেছি।

তিনি কুরআন বোঝার যে নতুন সংজ্ঞা (আসলে ১,৪০০ বছরের পুরনো সংজ্ঞা) দিয়েছেন, তার আলোকে আমার বোঝার জগতই উল্টে গেছে।

বর্তমানে জীবিত আরো একজনের ভিডিও অডিও থেকে খুবই শিখি। তিনিও বাংলাদেশের নন।

এখন কুরআন বলতে আমি বুঝি কুরআন ও সুন্নাহ এবং কুরআন ও সুন্নাহর গত ১,৪০০ বছর ধরে সত্যিকার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাদানকারী- এই তিনকে।

কুরআনের কতকিছু ভুল বুঝতাম এবং ভুল বোঝার সম্ভাবনা ছিল, তা সুন্নাহ আর গত সময় এবং বর্তমান সময়ের নির্দেশদাতাদের কারণে সঠিক অর্থসহ বইছে।

একেই তো আল্লাহ বলেছেন আল্লাহর রজ্জু। তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে আকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। এই ধারাবাহিকতাই তো সেটা।

আসলে আমি এবং সারা পৃথিবীর মানুষ এতই ক্ষুদ্র এবং ভুল করার সম্ভাবনাময় যে, আমরা শুধু কুরআন থেকে কখনোই হিদাআত পাব না যদি না আল্লাহ যাদের মানতে বাধ্য করেছেন তাদের মানার মাধ্যমে তাদের নির্দেশিত পথে কুরআনের অর্থগুলো ধরতে পারতাম।

আর তাদের কথাই তো আমাদের কথা। নিজের মত আয়াত বুঝে নেয়া , সেটাও ভাল, তাও শেষে।

ভাই নববর্ষের শুভেচ্ছা। আমি কিন্তু বিতর্ক করিনি। কথা বলতে গিয়ে কঠিনও হয়ে যায়, মানবিক দুর্বলতা। আপনি মন খারাপ করলে উল্টা আমার খুবই খারাপ লাগবে। :) !:#P

২৩| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:২৯

পরিবেশক বলেছেন: "ওই গোত্রে তো বিয়ের সময় গায়িকা পাঠানো এবং গান করার (শালীন) প্রচলন রয়েছে, তারা কি কনের সাথে গায়িকা পাঠায়নি?

হে আল্লাহর রাসূল দ. আমরা গেয়ে নেচে আপনাকে পাবার খুশি পালন করতে চাই। এটা আমাদের গোত্রীয় প্রচলন। রাসূল দ. এই অনুমোদন অন্তত দুবার দুই গোত্রকে দিলেন"

দয়া করে Reference উল্লেখ করবেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: বুখারী শরীফ। মুসলিম শরীফ। আমাদের সবারই পড়ার কথা। আমাদের সবার উপরই পড়াটা ফরজ। আমি কিছুটা পড়েছি ভাই।

২৪| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:০৬

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: বুলি বলে শুনতে পাই, রূপ কেমন তা দেখি নাই, ভীষম ঘোর দেখি।। পোষা পাখি চিনলাম না, এ লজ্জা তো যাবে না, উপায় কী করি, আমি উপায় কী করি।।

আপনার প্রোফাইলের লেখাগুলো আবার মন দিয়ে পড়লাম। আর মনে আসলো কটি লাইন....

লিসানি চিনেনা লিসানীরে-
উপায় খুজে মরে
কেন? চায়না নিজের ঘরে
আয়না মহলেতে সেইতো বসে আপ-স্বরুপে।। :)


আপনার জন্য একটা গানের কথা মনে পড়ল।

দেখবি খোদার মহান ছবি
চর্ম চক্ষের পর্দা খোল
মন ভাবের দেশে চলোরে
মন ভাবের দেশে চল।।

দেখবি খোদার রং সুরত
অবিকল তোমারই মত
তোমার সংগে চলাচল
করে অবিরত,
এরে দেখলেই তারে মিলে
আর কারে আর খুজবি বল.....

এই গানটা শুনেছেন কি?

লালন সাইজির সহজ ব্যাখ্যা ধরতে পারলে অনেক কিছু আরও সহজ হয়ে যাবে..

অট: পুরা বিষয়ের বাইরে তবু প্রোফাইলের লেখা পড়ে মনে আসলো-তাই এখানেই উগলে দিলাম ;) উনিশ বছর অনেক সময়, আবার মহাকালে কিছূই না; আপনি এগিয়ে যান, নিশ্চয়ই মঞ্জিল সন্নিকটে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সংগী।
প্রশংসা না করে গালি দেবেন! তাতে পাপ কাটে:) প্রশংসায় কি তা হয়?




১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:১২

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আমি গালি দিলে আপনার পাপ কাটবে। আপনি তো তা থৈ থৈ। কিন্তু আমার অ্যাকাউন্ট যে ওইটা দিয়ে রিফিল হবে সেই খবর আছে? এতদিনেও ভাইব্রাদারের ভাল চাইলেন না ভৃগুভাই। ক্যাম্নেকি।

আর আমরা কি এত পাপপূণ্য নিয়ে ভাবি? ওই একপাটি জুতার দিকে চেয়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে দিয়েছি তো শেষ। রাব্বুল ইজ্জাত ক্ষমাশীল। তার রহমানুর রহিম নামে তরী ভাসিয়ে দিয়েছি। এখন পরের বারাভাতে ছাই না দিলেই হল।

যে জান্নাত চায় সে জান্নাত নিলেই হল, আমরা তো অন্য কারো মুখদর্শনের প্রত্যাশী।

'আর তারা, যারা আপন রবের মুখ (যেভাবে তার ক্ষেত্রে শোভা পায়) দর্শনের অপেক্ষায় রত।'

আমি নিজেরে চিনলে তো ভাই হইছিল। বগল বাজাইতাম খালি। এইযে দেখেন না, এত বকর বকর করি, অথচ নিজেকে চিনলে তো-

ঝিনুকে মুক্তো হলে সেই ঝিনুক আর মুখ খোলে না।

আমার মাথায় ভাই কয়েকটা লাইন টক্কর মারছে আজকে। সেগুলো আপনার সাথে একটু শেয়ার করি-

ভুবনও মোহনও রূপ,
দেখতে চমৎকার।
'তাহার' রূপেরই বাহার,
হে 'তাহার' রূপেরই বাহার!

---
প্রতি পথে প্রতিপদে তোমাকেই দেখি
একা একা এই পথচলা আর তো শেষ হয় না।

তোমার এই নিরবতা অসহ্য পর্যায়ে পৌছে গেছে
একটু শব্দ করেই নাহয় শান্তিটুকু দিয়ে যাও।
---

আজকে 'তাকে' ভয়ংকর মিস করছি। আর্থিক সামর্থ্য থাকলে অবশ্য অবশ্যই চলে যেতাম। আমি নিজেই অসঙ্গত। তাই সঙ্গতি নাই।

---

আজকের কয়েকটা ইনবক্স। এক ভাইয়ের সাথে-

গোলামের বৈশিষ্ট্য এই যে সে মালিককে চেনে না। সে জানে, তার মালিক বড়। আর কিছু বোঝে না। মালিক কোথায় যায়, কী করে, কেমন মানুষ, তা উপলব্ধি করার সামর্থ্য রাখে না।
গোলামি তো এই, মালিক বলবে, ঘর ঝাড়ু দে। গোলাম ঘর ঝাড়ু দিবে। গোলাম জানে না, সেখানে মালিকের বন্ধু আসবে সেজন্য, নাকি ঘর নোংরা সেজন্য, নাকি আজকে বিশেষ দিন সেজন্য।
এইখানেই শেষ। তাতেই শুরু, তাতেই শেষ। তিনিই শুরুতে, তিনিই মধ্যে, তিনিই শেষে।

ধূরো, আপনার লগে কি ফেবু লিংক নাই? ক্যাম্নেকি? এইসব আলাপ তো ইনবক্সের।

২৫| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:৪৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: মেলবোর্ন ভাইয়ের এই পোস্টটাও অসাম ছিল।
গত বছরের।

Click This Link

২৬| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১২:৫৭

তাসজিদ বলেছেন: ধর্ম এত হালকা নয়, যে পয়লা বৈশাখ পালন করলে ভেসে যাবে। আর যারটা এতই পাতলা, সে গিঁট দিয়ে রাখুক, নাহলে ভেসে যাক।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১১:২৯

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ধন্যবাদ তাসজিদ ভাই। আশা করি অনেক অনেক ভাল আছেন।

২৭| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:০৬

ফুলঝুরি বলেছেন: ইমান বলতে আমি বুঝি; কালেমা পড়া, মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা, এবং সে অনুযায়ী আমল করা । @কষ্ট বিলাসী আপনার কি মনে হয় শুধু কালেমা পড়লেই আর বিশ্বাস করলেই মুসলিম হওয়া যায় ? আমার দেখা এমন অনেক মুসলিম আছে যারা এগুলোর সবি করে তবু তারা পাপ কাজ করে । আবার এই নামে মাত্র মুসলিম গুলো নিজে যা মানেনা সেগুল অন্যকে করতে বলে শুধু মাত্র ইমেজ টা ভালো রাখার জন্য ।বৈশাখ নিয়ে এতো প্যাচাল যারা পারতেছে খোঁজ নিলে দেখা যাবে এইসব মুসলিম গুলা ঠিকি সুভেচ্ছা আদান প্রদান করতেছে । ইসলাম এতো সহজ না আর মুসলিম হওয়া এতো সহজ না ।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৪০

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই, আপনার এই কমেন্টটা পরিপূর্ণ। এই কথাগুলো এত সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখেছেন যে, জবাবিতে কী লিখব তা ভেবে পাচ্ছিলাম না।

এই কথাগুলো এভাবে বলতে পারি না। সত্যিকার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানুন।

২৮| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:৩১

নিয়েল হিমু বলেছেন: :)

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৩৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: কী কইতাম ভাই! :)

২৯| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৫৮

অপরিপক্ক বলেছেন: shudhu bukhari muslim bolle hoy na. hadis number n publications name lagbe.

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৩৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আনন্দিত হলাম। আমি বিতর্ক করতে বসিনি যে, চশমা লাগিয়ে নাম্বার ঘাঁটব। আর নাম্বার ঘাঁটলে আপনি কখনো তা খুলে দেখবেন না। ধর্মকে দেয়ার মত ওই পরিমাণ সময় আপনার থাকলে ইতোমধ্যে এসব জানা থাকতো।

একটা পৃষ্ঠা নাম্বার আপনার বিশ্বাস নিয়ে আসবে? একটা সংখ্যা আপনার বিশ্বাসকে বদলে দিবে, আমার মনে হয় না।

আমি সচেতনভাবে সংখ্যা এড়াই। সংখ্যার উপর ঈমান নির্ভর করে না।

৩০| ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৮

অপরিপক্ক বলেছেন: দুঃখিত। আপনি বলেছেন একজনকে হাদীস টা যে যয়ীফ, তার দলিল দিতে, এটা ঠিক নয়। বড়ং যে হাদীস উল্লেখ করবে তার দায়িত্ত সঠিক দলিল দেয়া। খালি সংবিধানের এত ধারা, এটা বলেই পার পাওয়া যাবেনা। অনুচ্ছেদ নাম্বার লাগবে। আমরা জানি, বুখারী মুসলিম এ এমন হাদীস নাই।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৮:৫৯

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আপনি যেটা বলছেন, সেটাকে মুনাজারা/বাহাস/বিতর্ক বলে।

আমি এখানে মুনাজারা, বাহাস, বিতর্ক করতে আসিনি।

বুখারী, মুসলিম এ কেমন হাদিস নেই? পড়েছেন ভাই? পুরোটা? আমি বুখারী ও মুসলিমেই পেয়েছি।


একটা বিষয় না, আপনারা বোঝেন না। আমি গালগপ্পো করব, কোন অসুবিধা নেই। এইটিন প্লাস পোস্ট দিব, তাতেও আপনাদের কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু আল্লাহর রাসূল দ.'র একটা বাণী দিতে হলে আপনাদের পৃষ্ঠা নাম্বার হাদীস নাম্বার দিতে হবে!

আমরা তো ভাই ফোনবুক না। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে সংখ্যার কোন মূল্য নেই, কথাটার মূল্য আছে।

সংখ্যা আপনার কোন উপকার করতে পারবে না, আর আপনি একটা চ্যালেঞ্জ করবেন, মাত্র তিন মিনিটে মন্তব্য শেষ করবেন, আমাকে এই তিনটা হাদীস বের করতে কমপক্ষে দশ ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হবে। এই সময়টা ব্যয় করে যখন আপনাকে হাদীস নাম্বার দিব, আপনি আর মন্তব্যই করবেন না পাল্টা।

কারণ, অতি কমন হাদিস আমরা জানি না।

লাভটা কী হল? ওই দশ ঘন্টা না উল্টে আমি আরো একশো হাদীস ঠান্ডা মাথায় পড়তে পারি অথবা বিশটা হাদিস শেয়ার করতে পারি মানুষের সাথে।

বলেই দিলাম, বুখারী মুসলিমে দেখুন। কিছু দায়িত্ব তো আপনার উপরও বর্তায়, তাই না?

আপনি, একটা হাদীসও কি সনদ সহ, সংখ্যা সহ বলতে পারবেন? মাত্র একটা হাদিস, না দেখে? পারলে আপনার জন্য বারো রাকাত নফল নামাজ সাদাকা করব।

আশা করি কথাটা বুঝতে পারছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.