নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্পেস-টাইম

there is no problem in the heavens and earth ;) problem lies in three places... beneath, between and within the hells.

গোলাম দস্তগীর লিসানি

বুলি বলে শুনতে পাই, রূপ কেমন তা দেখি নাই, ভীষম ঘোর দেখি।। পোষা পাখি চিনলাম না, এ লজ্জা তো যাবে না, উপায় কী করি, আমি উপায় কী করি।।

গোলাম দস্তগীর লিসানি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আত্মশক্তি রয়েই যাবে

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২৭

একজন উচ্চস্তরের জামাত সমর্থক সংস্কৃতিকর্মী এবং সাহিত্যবোদ্ধার কথা-



*জামাত একাত্তরে রাজাকারি করেছিল, এছাড়া জামাতের আর কোন্ জিনিসটা খারাপ দেখাতে পারবেন?



প্রশ্নটা হুবহু এইরকম,



*আপনার মা কে ৯ মাস ধরে নির্যাতন করেছে, এই ছাড়া রাজাকার সাহেবদের আর কোন্ জিনিসটা খারাপ দেখাতে পারবেন?



বিষয় হল, জামাতি, তা সে যত বড় সংস্কৃতির ধারক বাহক হোক, যত বড় শিল্পী/সাহিত্যিক/পৃষ্ঠপোষক হোক, তাদের সবার কাছে নয় মাস ধরে দেশকে নির্যাতন করা বা নয় মাস ধরে মাকে নির্যাতন করার পরও জামাতির আরো ত্রুটি অণ্বেষণের প্রয়োজন পড়ে। এরই নাম জামাতি।



আর মূর্খদের দিয়ে কাজ করানো কত সহজ, তাদের উদ্বেলিত করা, তাদের দিয়ে যা খুশি করানো কত সহজ, তা যদি বাংলাদেশ এখনো দেখে না থাকে, সারা দেশে জামাতের জনসংযোগ চলছে দুই পদ্ধতিতে-



১. মসজিদের ভিতরে। এবাদাত। যে মসজিদ মানুষ জান্নাতে ঘর বানানোর আসায় দান করেছিল। তা দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত। মসজিদ ও আল্লাহকে সামনে রেখে ক্ষমতার পূজা। মসজিদ কমিটি আছে, মসজিদ কমিটির লোক জানে রাজাকাররা কী, কিন্তু মসজিদে মানুষকে কিছু সময় অবস্থান করতে দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয়ার অধিকার তাদের নেই।

২. গ্রামীণ আশীর্বাদে জর্জরিত গ্রাম্য মহিলাদের ঘরে। এমন মহিলাদের ঘরে, যারা সামান্য সচ্ছলতার লোভে পায়ের তলা পর্যন্ত সাপ্তাহিক ঋণে ডোবা। যাদের একূল ওকূল দুকূলই আর্থিক ও সামাজিক সম্মানের দিক দিয়ে গেছে। তারা এখন হাসিমুখে ইসলামি ব্যাঙ্ক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের ঘরে বসতে দেয়। জানে, তারা রাজাকার, জানে, তারা সাপ। কিন্তু সাপ তো পয়সা দিচ্ছে! পয়সার নাম- ক্ষুদ্রঋণ তথা পেটপূজা। সেই পয়সায় ক্ষুদ্রঋণ, যে পয়সাটা ইসলামি ব্যাঙ্ক সুদ হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে পায়।



এবং এই উভয়বিধ কাজের সময় মানুষকে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে বই। এমন একটা বইয়ের কথা বলি, শিবিরের এমন একটা বইতে আটবার শিরোনাম লেখা হয়েছে, 'মাওলানা মওদুদী'র তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে এততম সফর'। প্রায় দুইশ পৃষ্ঠার বইতে মাত্র একবার বাংলাদেশ উচ্চারণ করা হয়েছে। এবং 'পূর্ব পাকিস্তান' ও 'তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান' শব্দটা লেখা হয়েছে ত্রিশবারের উপরে। সম্পূর্ণ বই পড়ার পর বলছি।



এই পূর্ব পাকিস্তান সম্প্রদায় বড় হচ্ছে। বাংলাদেশের দুধকলায় এখনো টান না পড়ে থাকলে ভবিষ্যতে পড়বে। এই জামাতি সম্প্রদায়কে যখন সুযোগ দেয়া হবে, তখন পরবর্তী ত্রুটি দেখার আশা ছাড়া আর কোনও আশায় বুক বাঁধা সম্ভব না।



আর একটা দেশ, একটা জাতি, একটা ভাষাগোষ্ঠী যখন নিজের মায়ের গণধর্ষণের সোজাসাপ্টা জবাব স্বাধীন হয়ে যৌবনে পদার্পণ করেও (৪২+) করতে পারবে না, তখন নিশ্চিত, সে বৃদ্ধ হয়ে মরে যাবে, কিন্তু কোমর উচু করে দাঁড়াতে কোনদিন পারবে না।



আমাদের আশা শুধু অন্যত্র। সারা বাংলাদেশের সব শিশু পূর্ব পাকিস্তান প্রজন্ম হবে না। সব শিশুর মা ক্ষুদ্রঋণে জর্জরিত নয়, আর হলেও তাদের সবাই ঘরে সাপ ঢুকতে দিবে না। বাংলাদেশের সব শিশুর বাবা চাচা যদি নামাজিও হয়ে যায়, তারা পবিত্র মসজিদে নামাজের আগে পরে কখনোই কালসাপের সাথে বসবে না। বরং বুক ফুলিয়ে পাশ কাটিয়ে যাবে।



এবং এটাই হবে। জাতিগতভাবে আমরা পারিনি এক হয়ে দৃঢ় থাকতে। কিন্তু প্রজন্মান্তরে আত্মশক্তি রয়েই যাবে। সেটা যখনি মাথা তুলবে, ততবার, তখনি সাপ মাথা লুকানোর গর্ত পাবে না।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৪২

পরিশেষের অপেক্ষায় বলেছেন: অবিশ্বাস্য রকমের ভালো লিখেছেন।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০৭

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ভাই। আসলে বাংলাদেশে এদের অস্তিত্বের সাথে পৃথিবীতে ইহুদিদের অস্তিত্বের প্রবল মিল। উভয়ে অত্যন্ত স্বল্পসংখ্যক হলে কী হবে, প্রচন্ড সংগঠিত এবং অত্যন্ত পরিকল্পনামাফিক কাজ করে।

২| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:২৮

খাটাস বলেছেন: শুধু পেট পুজার খাতিরে নয় লিসানি ভাই। গ্রামাঞ্চলে বসবাস কারি আমার অতি দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয় জামুতি সাইদি রে চান্দে দেখিয়া লাঠি দিয়া পুলিশ পেটাইছিল। আজ ছয় টা মামলা খাইয়া জেলে। এদের কে আমি নিজে ও জানি যে জামাতে ইসলামের আদর্শ গেলাতে পারলে ও ইসলামের আদর্শ বোঝান সম্ভব নয়। দেখা যাক, নতুন প্রজন্ম কি করে।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৪৩

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: প্রিয় ভাই, সমস্যাটাই তো এইখানে। নতুন প্রজন্ম খুব একটা নৈতিক হয়ে যে গড়ে উঠবে, তাও না। এর কারণ হল, পরবর্তী প্রজন্মের আরেক নাম, উন্নততর জীবনধারার প্রজন্ম। ব্রিটিশ আমেরিকান মুসলিম কমুনিটি বা অ্যারাবিয়ান মুসলিম কমুনিটি দেখলে আমরা সেই আশার আলো পাই না। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের মত একটা মহত্তম ঘটনা আমাদের ভিতর তীব্র নৈতিকতা জন্ম দিতে পারেনি।

এই নৈতিকতার অভাব কি মানুষকে ধর্মের দিকে ঠেলবে না? আর ধর্ম বলতে মানুষ চোখের সামনে তো মাত্র দুটা বিষয়ই দেখে, মসজিদে ও ঘরে ঘরে আসা তাবলিগ জামাত এবং জামাতে ইসলাম।

বাইচান্স জামাতে ইসলামের দিকে গেলে আর ইসলাম থাকবে না, শুধু সংঘ (জামাত) টুকু থাকবে।

পুলিশের ছয় মামলা খাওয়া লোকটাকে আপনি নিশ্চিত ধরে নিতে পারেন, সে জিহাদ করছে ভাবছে।

৩| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মওদুদীবাদ এতটাই ভয়ংকর মাঝে মিশে গেছে- আমজনতার ইসলামের প্রতি অতি ভক্তি এবং ভয়ের সুযোগে!!!! বলার বাইরে...

দাড়ি টুপি ওয়ালা সুভাষ দত্ত কে যেমন সালাম দেবার লোকের অভাব নেই.. তেমনি সাধারন লোকদেরই মাথা ওয়াশ করে দিচ্ছে ঐ মোদুদী ওহাবী গং!!!!!

তবে আশার সাথে একমত এবং অবশ্যই দৃঢ়তার সাথে।

অট: মাওলানা ফারুকীর পোষ্টে অনেক কমেন্টে উত্তর অপেক্ষমান

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৪৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: এটাকেই বলে আয়রনি। যে বাংলাদেশে তাদের শক্তি সবচে কম থাকার কথা ছিল, সে বাংলাদেশে অবস্থান হিসাবে, বিস্তার হিসাবে তাদের শক্তি সবচে বেশি সম্ভবত। এর কারণ, তারা একাত্তর থেকে যে তীব্র প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলছে, এরই প্রতিফলন।

আর তাদের মৌদুদিবাদ মানেই তো উন্মাদনা। ব্যাখ্যার একটা লিমিট আছে, একটা ধরণ আছে। একটা প্রক্রিয়া আছে। সব ছাড়িয়ে গেছে তার অপব্যাখ্যা আর অতিব্যাখ্যার ধারা।

আশার আলো আমাদের নিজহাতে জ্বেলে রেখে দিতে হবে। আর কেউ কি আসবে জ্বালতে?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.