নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্পেস-টাইম

there is no problem in the heavens and earth ;) problem lies in three places... beneath, between and within the hells.

গোলাম দস্তগীর লিসানি

বুলি বলে শুনতে পাই, রূপ কেমন তা দেখি নাই, ভীষম ঘোর দেখি।। পোষা পাখি চিনলাম না, এ লজ্জা তো যাবে না, উপায় কী করি, আমি উপায় কী করি।।

গোলাম দস্তগীর লিসানি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমরা স্বয়ং রাসূল দ. কে মুশরিক বলছি না তো?

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৫৫

লম্বা লম্বা রেফারেন্স নয়। অতি সরল কথা। এখন বাংলাদেশে না হলেও কোটি মানুষ কিছু মানুষকে কবর পূজারী/মাজার পূজারী/নাল পূজারী/পীর পূজারী/ নাস্তিক/মুশরিক বলেন। কিছুদিন আগে গণজাগরণ ও হেফাজতের কালে কোটি বিশ্বাসী মুসলমানকে একাধারে নাস্তিক বলা হয়েছে। প্রত্যেকটা গ্রামে, প্রত্যেকটা শহরে, প্রত্যেকটা গলিতে মানুষ মানুষকে নাস্তিক বলেছে।



এতে ইসলাম ধর্মের দিক দিয়ে আপত্তি করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। যে কবরের পূজা করে, তাকে কবরের পূজারী বলাই যাবে। এভাবে, যে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তাকে নাস্তিক বলা যাবে। যে আল্লাহর সাথে অংশ সাব্যস্ত করে, তাকে মুশরিক বলাই যাবে! যে রাসূল দ.'র জুতার পূজা করে, তাকে নাল পূজারীও বলা যাবে। কোন সমস্যা নেই।



আপত্তিটা সম্পূর্ণ অন্য জায়গা থেকে উথলে ওঠে।



যেখানে সত্য দোষ আড়ালে বর্ণনা করলে, সেটা এতবড় পাপ হয়, যে নিজ মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া হয়! সেখানে মিথ্যা দোষ চাপালে তা হয় অপবাদ এবং ধর্মজ্ঞানসম্পণ্নরা এটাকে বলছেন গিবতের চেয়েও ভয়ানক পাপ। আর যদি সেই মিথ্যা দোষটা এমন হয়, যে একজন বিশ্বাসীকে মুশরিক বলা হল???



যে মাজার/পীর/রাসূল দ.'র জুতা মুবারক ইত্যকার পূজা করে না, যে শুধু লা শারিক আল্লাহর ইবাদাত করে, যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যে প্রতিমার পূজাও করে না এবং আল্লাহর গুণ ও জাতে শরিকও করে না, আল্লাহকে অমুখাপেক্ষীও জানে-

তাকে খুবই সাধারণ ধার্মিক একজন মানুষ মাজার পূজারী বলল, বা আল্লাহ'য় বিশ্বাসী একজনকে নাস্তিক বলল, যে এই দোষ চাপালো, সে সাথে সাথে কুফর করছে। কারণ, ইসলাম ধর্ম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দ. থেকে এসেছে। রাসূল দ. বলেছেন, মুশরিক নয় এমন একজন মানুষকে মুশরিক বলার সাথে সাথে যে বলবে সে কাফির হয়ে যাবে।



এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষকে মাজার পূজারী বলেন, যাকে বলছেন, তার কিছু খসে যাচ্ছে না...

সর্বনাশটা হচ্ছে আপনার, আপনি যখন বলবেন, অমুক মাজার পূজারী, সাথে সাথে আপনি কাফির হয়ে যাবেন। সেই ব্যক্তির কাছে মাফ চেয়ে মাফ না নিলে কাফির অবস্থায় মৃততুবরণ করবেন, কারণ আপনি মুখকে টয়লেট বানিয়েছেন। কাফির হাজার নামাজ পড়লেও তা ব্যায়াম সাব্যস্ত হয়। শিরক সবচে বড় যুলম। একজন নির্দোষ মানুষের উপর শিরকের মত সবচে বড় অপবাদ দিয়েছেন। রাসূল দ. বলেছেন, সামলাও যা দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী এবং দুই উরুর মধ্যবর্তী।



যে মুশরিক নয় এমন ব্যক্তিকে মাজার পূজারী বলল, তাকে খোলামেলা প্রশ্ন, কিয়ামাতের ময়দানে কাফির হিসাবে উঠতে কেমন লাগবে?



এর পরের প্রশ্নটা আরো মারাত্মক। 'মাজার পূজারী' এবং অন্যান্য টার্ম কার কাছ থেকে শিখেছেন? ফকির ফাক্রার কাছ থেকে নয়। আমরা জানি কোত্থেকে শিখেছেন। কোন্ কোন্ টিভির কোন্ কোন্ লেকচারারের কাছ থেকে। কোন্ কোন্ আন্দোলনের কোন্ কোন্ নেতাকর্মীর কাছ থেকে। কোন্ কোন্ মাদ্রাসার বিরাট বড় পরহেজগার মুরুব্বী আমলওয়ালা দ্বীনদার শিক্ষক-ইমাম-মুআজ্জিনের কাছ থেকে!



হায়, এই পরহেজগার মুরুব্বী আমলওয়ালা দ্বীনদার মোদাররেস-ইমাম-মুআজ্জিন-টিভি ভাষ্যকার-নেতা-কর্মী সবাই তিনটা ভয়ানক পাপের ভার নিচ্ছে, যা তারা বহন করতে পরকালেও পারবে না।



১. নিজে কাফির হচ্ছে।

২. হাজার হাজার, লক্ষ এমনকি কোটি মানুষকে কাফির বানাচ্ছে।

৩. কোটি মানুষকে মুশরিক বলছে ও বলাচ্ছে যাদের কাছ থেকে অবধারিতভাবেই তারা জীবনেও মাফ চাইতে পারবে না।



কাফির অর্থ যে জেনেশুনে ঢেকে ফেলে। কাফিরের আরেক অর্থ যে অস্বীকার করে। উচ্চতর কাফির সেই, যে জানার পর ঢেকে রাখে, জানার পর সেটা যে সত্য, তা বোঝে, এরপর আসাবিয়্যাহ্ বা দলবাজি করে অস্বীকার করে।



পৃথিবীতে কেউ মাজার পূজা, পীর পূজা, রাসূল দ.'র পবিত্র জুতার পূজা করে না। কোটি কোটি মাজারগামী বিশ্বাসী রয়েছেন। তাঁরা ইবাদাত শুধু আল্লাহর করেন। ইলাহ শুধু আল্লাহকে মানেন।



ল অভ ন্যাচারাল রিটার্ন বা রিভেঞ্জ নামে একটা কথা আছে না? খুবই কষ্ট হয় ওই লোকটার জন্য, যে আপন মূর্খতার দরুণ কাউকে পূজারী বলে নিজের সবকিছু শেষ করে দিল।



একটা মানুষকে যখন আমরা অন্যায়ভাবে শির্ককারী বলব, তখন সেই মানুষটার মনে কী পরিমাণ কষ্ট লাগতে পারে তার কি কোন হিসাব আছে? চোর না, এমন কাউকে চোর বললে এত কষ্ট লাগার কথা না। ডাকাত না, এমন কাউকে ডাকাত বললে এত কষ্ট লাগার কথা না। আল্লাহ এটা কতটুকু সহ্য করবেন?



আজকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পাশাপাশি লিখলে মুশরিক বলা হয়। বুখারিতে পাশাপাশি আছে। আল্লাহর নাম এবং রাসূলের নাম পাশাপাশি লেখাকে শিরক বলা হয়। রাসূল-উল্লাহ শব্দটাই তো আল্লাহ ও রাসূল দ.'র নাম পাশাপাশি লেখা। তাহলে কুরআন কি শিরকে পূর্ণ? অসম্ভব।



এমনকি হাজরে আসওয়াদে চুমু খেলে সেটাকেও শিরক বলা হয়। রাসূল দ. চুমু খেয়েছেন। উমার রা. চুম্বন করেছেন। চুম্বন করেছেন গত দেড় হাজার বছর ধরে সমর্থ্য সকল মুসলিম। এরা সবাই মুশরিক?



রাসূল দ.'র জুতা মুবারক দেখে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বললে মানুষ জান্নাতে চলে যাবে, এই বিশ্বাস আবু হুরাইরা রা.'র। এই বিশ্বাস ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মুসলিম শরীফ, প্রথম খন্ড, ১১৪ পৃ.-হাদীস নং ৫৪. অনুসারে। (এর আগে বুখারী বলেছিলাম, সেটা স্মরণের ত্রুটি। বুখারী আর মুসলিম শরীফের মর্যাদায় আদৌ তফাত নেই।) আর এই বিশ্বাসের নির্দেশ স্বয়ং রাসূল দ. দিয়েছেন। এই জুতা দেখে যদি কেউ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেই ফেলে, সে তো জান্নাতে চলে যাবে, যেহেতু রাসূল দ. ভুল বলেননি। কিন্তু ওই মানুষটাকে যে মুশরিক বলবে, তার হাল কী হবে?



সে তো আবু হুরাইরা রা. কে মুশরিক বলল।

ইমাম মুসলিমকে মুশরিক বলল।

এবং স্বয়ং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ দ. কে মুশরিক বলল!

মন্তব্য ৩১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫০

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: চমৎকার একটা পোস্ট ভ্রাতা +

ভালো থাকবেন ।

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩০

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আন্তরিক ধন্যবাদ অপূর্ব ভাই। আপনিও অনেক ভাল থাকবেন।

২| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ..
কাফির অর্থ যে জেনেশুনে ঢেকে ফেলে। কাফিরের আরেক অর্থ যে অস্বীকার করে। উচ্চতর কাফির সেই, যে জানার পর ঢেকে রাখে, জানার পর সেটা যে সত্য, তা বোঝে, এরপর আসাবিয়্যাহ্ বা দলবাজি করে অস্বীকার করে।

তারা বুঝে শুনেই মূর্খতার মাঝে যেন ডুবে থাকতে পছন্দ করে! অনেকটা আসক্ত নেশাখৌরদের মত.. জেনে শুনেও বুদ হয়ে থাকে...

অসাধারন একটা সত্যকে আলোয় আনায় শুকরিয়া।

ইয়াজিদী মিথ্যার পোষাকী ধারক বাহকরা এমনটা করবেই।! কারণ তারাতো জানে তাদের অন্তঃসার শূন্যতার কথা!

আহলে বাইয়াতের প্রতি প্রেম আর আনুগত্যের কথা তাদের চেয়ে বেশী কে জেনেছে?
অথচ জানার পরও স্রেফ ক্ষমতার লোভে তারা কুফরি করেছে- কাতিল হয়েছে!

তাদের জন্য লানত! তাদের অন্ধ অনুসারী আর অর্থের বিনিময়ে আহলে বাইতের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপনকারী! সকল কাফির ও রাসূল সাঃ কে মুশরিক দাবীকারী সকলের উপর!!!

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪১

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আহা, কত্তবড় কথা!

আহলে বাইয়াতের প্রতি প্রেম আর আনুগত্যের কথা তাদের চেয়ে বেশী কে জেনেছে?
অথচ জানার পরও স্রেফ ক্ষমতার লোভে তারা কুফরি করেছে- কাতিল হয়েছে!

তাদের জন্য লানত! তাদের অন্ধ অনুসারী আর অর্থের বিনিময়ে আহলে বাইতের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপনকারী!


এই লানত আল্লাহ বহুবার দিয়েছেন। কিছু করার নেই ভাই, মানুষ স্বাধীন, এই হল মানুষের দুর্দশার কারণ। যেহেতু সে নিজে নিজের দুর্দশা ডেকে আনে। মানুষ স্বাধীনতা বলেই জেনেশুনে অন্যায় হত্যা করে, নেশা করে, পরেরটা মেরে খায়। ঠিক তেমনি হয়েছে ধর্মে। যা খুশি যেভাবে খুশি।

ইতোমধ্যে ইসলামে এমন কোন সম্ভাব্য ম্যানিপুলেশন নেই, যা করা হয়ে যায়নি। এটা কি একটা মারাত্মক বিষয় নয়? মানুষের মন যতদিকে যেতে পারে, ততদিকে ছুটিয়ে নিয়ে গেছে মতবাদকে। অথচ আল্লাহ-রাসূল-আহলে বাইত-আসহাব মানা চালানোর পাশাপাশি আপন নির্দেশদাতাকে মানলেই সব হয়ে যেত।

৩| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:০৬

হাসান নাঈম বলেছেন: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন:

তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী। (সুরা বাকারা : ২১৪)

সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে{অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকতা, সাংস্কৃতি ইত্যাদি}, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।( সুরা বাকারা : ১১৭ )

যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।(সুরা আল মুলক : ২)

অতএব যার পাল্লা ভারী হবে,
সে সুখীজীবন যাপন করবে।
আর যার পাল্লা হালকা হবে,
তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।
( সুরা আল ক্বারিয়া : ৫-৮)

এই আয়াতগুলিতে যে চিত্রটি ফুটে ওঠে তাতে বুঝা যায় জান্নাতের কোন সহজ বা সংক্ষিপ্ত পথ নাই, এটা বরং পুরো জীবনকাল ধরে ক্রমাগত ভাল কাজের মাধ্যে তিলে তিলে গড়েতোলার বিষয়।

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:২৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: নাঈম ভাই সালাম। প্রতিটা কথা সম্পূর্ণ সত্যি। এটাকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী কেউ তো অস্বীকার করি না।

ঈমানের হিসাব হবে, কাজের (আমলের) হিসাব হবে।

কাজ বলতে সাধারণ মানুষ বোঝে নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত।
এও কাজ, অন্য সকল কল্যাণকর কাজও কাজ বা আমল। এটাও আপনি তুলে ধরেছেন।

জন্ম থেকে একেবারে মৃততু পর্যন্ত তিলে তিলে সর্বক্ষণ কল্যাণকর কাজে থাকতে হবে- এটাই তো আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব বা মনুষ্যত্ব বা খলিফাতুল্লাহর মৌলিক উদ্দেশ্য।

আর রাসূল দ.'র এই পবিত্র বাণী কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিকও নয়। পরস্পর পরিপূরক। অর্থাৎ, ঈমানটা ওইভাবে রাখলে জান্নাতে যাবেই, আর কাজ এভাবে না করলে জাহান্নামে যাবেই এবং অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আমরা পাই, ক্যাটাগরি অনুযায়ী আল্লাহ ক্ষমা করবেন, রাসূল দ. শাফাআত করবেন এবং রাসূল দ.'র অসংখ্য নিকটজন শাফাআত করবেন। বুখারী মুসলিম অনুযায়ী যারা শাফাআত পাবেন তারা 'বিগাইরি হিসাবিহি ওয়া আযাবিহি' মুক্তি পাবেন।

আসলে আমরা যে কোন একটা ক্ষেত্রে চোখ দিলে আংশিক দেখি। মূল দৃষ্টি হল এই সবকিছুর সম্মিলিত ফল।

বুখারী শরীফের একটা হাদীসের কথা শুনি (দুর্ভাগ্যক্রমে এটা আমার পড়া আছে কিনা মনে করতে পারছি না), আমল বা কর্ম দিয়ে কেউই জান্নাতে যেতে পারবে না।

কথাটা কেমন যেন লাগে না? অথচ এর মানে হল, সবারই কিছু না কিছু পাপ থাকবে এবং সেই পাপের কারণে তাকে ক্ষমা পেয়ে সরাসরি জান্নাতে যেতে হবে অথবা শাস্তি পেয়ে জান্নাতে যেতে হবে।

আর কর্মকে ক্ষমার প্রত্যাশার সাথে সর্বক্ষণ করে যাওয়াই প্রকৃত আবিদ/সালিহের পরিচয় বলতে পারি আমরা।

৪| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৫৩

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: আজকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পাশাপাশি লিখলে মুশরিক বলা হয়।

কে বলে, কোথায় বলে?? এমন মানুষ কই থাকে???

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩০

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: জহির ভাই, আমাদের দুর্ভাগ্য, আজকে আমরা এমন কথাও হরদম শুনি। আরবে শুনি, ইংরেজিতে শুনি, আগে বাংলায় শুনতাম টেকনিক করে। এখন সরাসরি শুনি।

এটা আরবের বর্তমান ক্ষমতাসীন সৌদ পরিবারের অফিশিয়াল মতবাদ সালাফিজম ছাড়া আর কেউ বলে কিনা তা জানি না। আর সালাফিজমের মধ্যে সবাই বলে কিনা, তাও বলতে পারি না। তবে সালাফিজমের মধ্যে অনেক অনেক মানুষ যে বলেন, তা নিশ্চিত।

শুধুই একটা উদাহরণ, তারেক মনোয়ার নামক একজন ভাষ্যকার বহুবার বহুভাবে সরাসরি এই কথা ক্যামেরার সামনে বলেছেন। ইউটিউবেও বারবার এসেছে।

৫| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০৫

যান্ত্রিক বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম ভাই।

কিছু প্রশ্ন,

১। যারা মাজারে যায়, তারা কেন যায়? (অধিকাংশের কথা বলুন)

২। আপনি মাজারে অর্থাৎ কোন বিশেষ ব্যক্তির কবর জিয়ারত না করে আপনার এলাকার কবরস্থান জিয়ারত করলে তাতে কি পার্থক্য সূচীত হয়?

৩। কারো কবর জিয়ারত করলে আল্লাহতা'লা খুশি বা অখুশি হন, এই মর্মে কোরআন বা হাদীসে কি কোন বর্ণনা আছে?

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০১

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ভাই। আশা করি খুবই ভাল আছেন।

১. আমি মনে করি মানুষ মাজারে যায় শুধু আল্লাহর রহমতের আধিক্যের জন্য। যেহেতু আল্লাহর প্রিয়জনের কাছে জীবিত বা বারজাখ অবস্থায়ও আল্লাহর অধিকতর রহমত নাজিল হতেই থাকে, এমনকি রিযকও নাজিল হয়, আর যেহেতু আল্লাহর অতি কাছের যাঁরা, তাঁরা কিয়ামাতে শাফাআতের অধিকারও পাবেন মহান রাব্বুল আলামীনের অপার করুণায় এবং শাফাআতও করবেন।

২. রহমতের আধিক্যের পার্থক্য। তবে যে কোন কবর জিয়ারতেই সুবিধা আছে। যেমন পরকালের কথা স্মরণ হওয়া, তার জন্য দোয়া করা, এই অবস্থার কথা মনে করে নিজে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ইত্যাদি।

৩. এত বিস্তৃত বিষয় যে, রীতিমত অস্বস্তি হচ্ছে। প্রথমত কুরআন সম্পূর্ণ পড়া থাকলেও তা মনে রাখা এবং টেনে আনা খুবই কঠিন। আর আমি আলাপের বিষয়ে কারো সহায়তা নেই না, কারণ এতে দেরি হয়। আর কুরআন-হাদীস বিষয়ে সার্চ করলে যে তেমন কিছু পাওয়া যায় না তাতো জানেনই। স্পেসিফিক বিষয়ে বলছি।

এলোমেলো কিছু মনে পড়ছে সেগুলো বলি, আসহাবে কাহাফের স্মরণে মানুষ মসজিদ তৈরি করেছিল এমন বর্ণণা কুরআনের। (রেফারেন্স কিন্তু দিতে পারব না এই অর্থে যে, অনেক খুজে পাওয়া তো যাবেই, কিন্তু এতটা অ্যফোর্ট দেয়া প্রায় অসম্ভব) রাসূল দ. বলেছেন, যে হজ করল অথচ আমার জিয়ারত করল না, সে আমার উপর যুলম করল। অন্যত্র তিনি দ. বলেছেন, আমার কবরের যিয়ারত যে করবে, সে আমারই যিয়ারত করবে। অন্যত্র তিনি দ. বলেছেন, যে আমার যিয়ারত করল, সে সত্যদর্শন করল। অন্যত্র তিনি দ. বলেছেন, যে আমার ভালবাসা নিয়ে আমার যিয়ারত করল তাকে শাফাআত করা আমার ভালবাসার কর্তব্য হয়ে গেল।

আল্লাহ আজ্জাওয়াজাল্লা বলেছেন, তোমরা আল্লাহর পথে প্রাণপাতকারীদের (শহীদ) মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, তোমরা তা বুঝতে পারো না, তাদের কাছে রিযক পর্যন্ত পৌছে থাকে।

হ্যা, শেষ আয়াতটা বাদে এগুলো সবই রাসূল দ. বিষয়ক এবং রাসূল দ.'র মত সৃষ্টি জগতে কেউই নেই।

রাসূল দ. নিয়মিত (ভুল না হয়ে থাকলে প্রতি সপ্তাহে) বদর শহীদদের যিয়ারতে যেতেন। বদর শহীদগণ প্রথমত আল্লাহর পথে প্রাণপাত করেছেন, তথা শহীদ। দ্বিতীয়ত ইসলামে তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবা শ্রেণীতে ধরা হয় এভাবে- ১. চার খলিফা ২. আশারায়ে মুবাশশারা ৩. বদরের শহীদ ৪. বদরের গাজী...

এঁরা তো নি:সন্দেহে জান্নাতী। এঁদের জন্য ক্ষমা চাইবার কিছু নেই, যদি ইসলাম সত্যধর্ম হয়ে থাকে, কুরআন সঠিক হয়ে থাকে এবং রাসূল দ. সঠিক বলে থাকেন আর তা তো সঠিকই।

এঁদের দেখে নিজের পরকালের কথা মনে করার রাসূল দ.'র দায় নেই। যেহেতু রাসূল দ.'র পূর্বাপর কোন পাপ নেই। তাও যদি নিজের পরকালের কথা মনে করার বিষয় হয়, স্পেসিফিকভাবে বদর শহীদদের কাছে নিয়মিত যাবার কিছু নেই।

আল্লাহর প্রিয়জনের যিয়ারাতে কোন ধরনের সুবিধা ছাড়াও যাবার নিদর্শন আমরা এ থেকেও পাই।

৬| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৪৯

খাটাস বলেছেন: লিসানি ভাই ইসলামের নানা গোত্রের নানা কাজ আছে, যেগুলো দেখলে নিজের কাছেই খুব অদ্ভুত লাগে। এর কারন সম্ভবত নিজেদের পারিবারিক ধর্ম শিক্ষার ভিন্ন বলে। সেদিন শিয়াদের কাজ কারবার দেখলাম। খুব অসহায় লাগল মানসিক ভাবে।
ধর্ম নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতে সম্ভবত আল্লাহ পাক এজন্যই নিষেধ করছেন।

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কোন সুযোগ নেই। বাড়াবাড়ি সর্বক্ষেত্রেই ধ্বংস নিয়ে আসে, অথবা বিপদ নিয়ে আসে।

শিয়া সম্প্রদায়ের এই কাজগুলোকে ইসলামের দৃষ্টিতে বা শরিয়াহ্'র দৃষ্টিতে কোনভাবেই পথে ধরা যায় না। কিন্তু তাদের এই কাজগুলো একেবারে আজগুবি নয়। বরং একটা প্রতিক্রিয়া, একটা কনসিকোয়েন্স। তাদের এই কাজগুলো নিজে করতে পারি না, তা নিয়মও নয়, কিন্তু এটাকে অশ্রদ্ধার চোখেও দেখতে পারি না। এর পেছনের যন্ত্রণাটা অনুভব করার পর থেকেই বলতে পারেন।

আর বাচ্চারা যে কোন কিছুতেই আনন্দ করে। এটা বাজে।

সাধারণ মানুষ অনেক কিছুই বোঝে না, হরদম অনেকেই মাজার নিয়েও ভুল করছে। আর ব্যবসা যে করছে, এটা অস্বীকার করবে কে? এগুলো যে কোন ক্ষেত্রেই ব্যবসা করতো, এটা তাদের কপাল। এসবই সত্য কথা।

৭| ১১ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৪

হাসান নাঈম বলেছেন:
যেকোন ধর্মের অন্যতম প্রধান দুটি দিক দেখা যায় - ১. কর্মবাদ এবং ২. ভক্তিবাদ।

প্রায় সকল ধর্মের অন্যতম মুল বক্তব্য হচ্ছে মানুষকে মৃত্যুপরবর্তী জীবনে মুক্তি দেয়া। এই বিষয়ে এই দু্ইটি ধারার মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়।

কর্মবাদ বলে প্রত্যেক ব্যাক্তি তার কর্মের জন্য ব্যাক্তিগত ভাবে দ্বায়ী। পরকালীন জীবনের পরিনতি শুধুমাত্র তার কর্মের উপরই নির্ভরশীল। শুধুমাত্র সৎকর্ম উপস্থাপন ছাড়া মুক্তির পথ নাই।

অন্যদিকে ভক্তিবাদের মুল কথা হচ্ছে কোন একজন ব্যাক্তির প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস রাখাই পরকালিন মুক্তির জন্য যথেস্ট। সেই বিশেষ ব্যাক্তিটি তার উচ্চতর আধ্যাত্মিক যোগ্যতার মাধ্যমে তার প্রতি বিশ্বস্ত ব্যাক্তিদের মুক্তির ব্যাবস্থা করবেন।

কর্মবাদের চরমপন্থী রূপ দেখা যায় বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে যেখানে ইশ্বরে বিশ্বাসের কোন প্রয়োজনই নাই। মুক্তি, নির্বান বা বৌদ্ধত্ব লাভের জন্য কর্মই একমাত্র পথ।

আর ভক্তিবাদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায় সনাতন বা হিন্দু ধর্মে। এরা বিশ্বাস করে ভগবান সয়ং পৃথিবীতে আসেন অবতার হিসেবে। তাই সেই অবতারের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা রাখা বা তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকাই যথেস্ট। তিনিই মুক্তির ব্যাবস্থা করে দেবেন।

ইসলাম হচ্ছে মধ্যপন্থী বিধান। এখানে এই দুটি ধারার মধ্যে সমন্ময় করা হয়েছে এ'ভাবে যে মুক্তির পথ হল 'বিশ্বাসের সাথে সৎকর্ম সম্পাদন'। এখানে বলা হয় নাই যে নবী(স.), আহলে বাইত, ওলী আউলিয়াগন বা অন্যান্য উচ্চতর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব কোন প্রকার সুপারিশ করতেই পারবেন না শুধুমাত্র কর্মের ভিত্তিতেই ফয়সালা হবে, আবার এটাও বলা হয় নাই যে শুধুমাত্র সুপারিশ, ভক্তি, বিশ্বাসই যথেস্ট, কর্মের কোনই প্রয়োজন নাই।

সমস্যাটা হয়েছে এ'খানে যে আমরা এই দুটি দিকের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারি না। ইসলামের এক একটা দল বা ধারা এক একটা দিকে বেশী গুরুত্ব দেয়। তাতেও সমস্যা নাই - যদি না কোন একটা ধারা নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করা হয়।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে কোরআন যতটুকু পড়েছি তাতে আমার মনে হয়েছে বিশ্বাসের সাথে সৎ কর্ম করার বিষয়টিতে কর্মের উপর একটু বেশী জোর দেয়া হয়েছে্। বাস্তব কর্মের মাধ্যমে বিশ্বাসকে প্রমানের বিষয়টি বিভিন্নভাবে এসেছে - আগের কমেন্টে দেয়া কোআনের আয়াতগুলিতেও তাই বলা হয়েছে। আর সুপারিশের কথা যতটুকু আছে সেটাও একেবারে কর্মহীন নয় - বরং যারা কর্মে উত্তম তারাই সুপারিশ পাবে।

কোন এক ওয়াজে একটা হাদীস শুনেছিলাম যার বক্তব্য ছিল এ'রমক। হযরত আয়শা (রা.) একবার রাসুল(স.)কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, কেয়ামত পর্যন্ত এত লক্ষ কোটি মানুষ দুনিয়াতে আসবে আপনি তাদের মধ্য থেকে বেছে বেছে কিভাবে সুপারিশ করবেন? তিনি বলেছিলেন যদি একপাল ঘোড়ার মধ্যে কিছু ঘোড়ার মাথা শাদা রংএর হয় তাহলে সেগুলি চিনে নেয়া কি খুব কঠিন? উম্মতে মোহাম্মদীর মধ্যে যারা ঈমানের সাথে সৎকর্ম করবে তাদের চেহারা ঐরকম উজ্জল হবে এবং আমি তাদের চিনে চিনে সুপারিশ করব।

এই হাদীস থেকে বুঝা যায় রাসুল(স.), আহলে বাইত এবং অন্যান্য যারাই সুপারিশের সুযোগ পাবেন তারা কেউ শুধুমাত্র তাদের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা বা আত্মীয়তার ভিত্তিতে নয় বরং বিশ্বাসের সাথে সৎকর্মে নিয়োজিতদেরই কেবল সুপারিশ করবেন।

আর ভক্তিবাদের পথে অগ্রসর হতে গিয়ে যখন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায় তখন সেটা আর ধর্মের সীমানায়ই থাকে না। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি মানুষ এই পথে চলতে গিয়ে বহু অযৌক্তিক অগ্রহনযোগ্য কাজ করে। চট্টগ্রামের বায়জিদবোস্তামীর মাজারে দেখেছি মানুষ একটা মরা গাছের ডালে সুতা বেধে দিচ্ছে আর ভাবছে এর ফলে তার মনের আশা পুরোন হবে। পুকুরের কচ্ছপগুলির মাথা ধোয়া পানি বোতলে করে নিয়ে যচ্ছে - রোগিকে খাওয়ালে রোগমুক্তি হবে এই আশায়। খোজ নিলে এ'ধরনের বহু কর্মকান্ড মাজার কেন্দ্রিক ভক্তিবাদীদের মধ্যে দেখা যাবে। তাই ভক্তিবাদের পথে চলা অনেক বেশী বিপজ্জনক - তার চেয়ে কর্মবাদের দিকে একটু বেশী ঝুকে থাকা অনেকটাই নিরাপদ ( শুধু রাসুল(স.) আহলেবাইত বা আধ্যাত্মিক গুরুজনের কার প্রতি অশ্রদ্ধা না দেখালেই হল )। কর্মে ভাল হলে রাসুলের(স.) সুপারিশ পাওয়ার আশা যতটা করা যায়, কর্মে ভাল না হয়ে শুধুমাত্র ভক্তি শ্রদ্ধার মাধ্যমে তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:০০

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ঈমান (ভালবাসা, আনুগত্য, সম্মান, শ্রদ্ধা, আদব) ও আমল (ভাল কাজ, কল্যাণকর কাজ) বিষয়ক:

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কেউ যদি অনেক অনেক ভাল কাজ করেন এবং ঈমান আনয়ন না করেন, তবে তার এই ভাল কাজগুলো মুক্তির পথে কোন কাজে আসবে না।

বরং এই ভাল কাজগুলোর বিনিময় তিনি পৃথিবীতেই পেয়ে যাবেন।

রাসূল দ. ও আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা কর্মের সাথে তুলনীয় কোন বিষয় নয়। কেননা, কর্ম যতই ভাল হোক, এই শর্ত পূর্ণ না হলে কেউ বিশ্বাসী বা ঈমানদার হিসাবে বিবেচিতই হবে না-

কুরআন অনুযায়ী, আল্লাহ-রাসূল ও ইসলামের পথে প্রচেষ্টাকে সর্বাধিক ভাল না বাসলে ও গুরুত্ব না দিলে কেউ হিসাবেই পড়বে না।

আবার কুরআন অনুযায়ী, নুবুয়্যতের হক আদায় করা আহলে বাইতকে মুআদ্দাতের মাধ্যমেই শুধু হতে পারে। অর্থাৎ নুবুয়তের অধীনতায় থাকা আহলে বাইতের মুআদ্দাতেই রয়েছে।

উমার রা. কে উদ্দেশ্য করে রাসূল দ.'র সেই বিখ্যাত হাদীস, হে উমার রা. যে পর্যন্ত আপনি আপন সত্ত্বা, পরিবার, সন্তান সন্ততি, সম্পদ, এমনকি পুরো সৃষ্টি জগত থেকে আমাকে বেশি ভাল বাসতে না পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মুমিন হিসাবে পরিগণিত হবেন না।

হাদীসে মুবারাকাটি প্রায় সকল হাদীস গ্রন্থের কিতাবুল ঈমানে রয়েছে।

প্রথমত, নীতি তৈরি না হলে কখনোই কর্ম পূর্ণ সুন্দর হবে না। তাই আমরা দেখি, ইসলামের বাইরে অনেকে অনেক ভাল ভাল কাজ করেন, কিন্তু কেউ হয়ত শারীরিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করেন না আবার কেউ আসক্ত থাকেন। শারীরিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করাই হল মানুষ ও পশুর মধ্যে তফাত। আবার আসক্তি থেকে মুক্ত থাকাও একার্থে মানুষ ও পশুর মধ্যে তফাত কেননা আসক্ত অবস্থায় মানুষ পশু থেকে ভিন্ন নয়। একইভাবে ইসলামের জাতির ভিতরে আমরা দেখি, এই নীতি তৈরি না হওয়ার কারণেই আত্মঘাতী বোমা হামলা বা সিভিলিয়ান হত্যা - অথচ যারা এই আত্মঘাতী বোমা হামলা বা সিভিলিয়ান হত্যা করছেন তাদের মধ্যে অনেকে হয়ত অন্যেরটা মেরেও খাচ্ছেন না, সুদও নেন না, ঘুষও খান না, শারীরিক সম্পর্কের পবিত্রতাও রক্ষা করেন আর নেশাও করেন না ।

এবং এই কারণেই কর্মের আগে নীতি মূল। আর নীতিটাই হচ্ছে ঈমান। পরিপূর্ণ ঈমান। তাই যৌক্তিক দিক থেকেও আমরা দেখতে পাই ঈমানের পূর্ণ ক্রাইটেরিয়া জানা ও তাতে অংশ নেয়ার পরই কর্ম সঠিক হতে পারে। হাজার সঠিক কর্ম হলেও না নেশা সঠিক কর্ম না পাইকারি না জেনেই সিভিলিয়ান হত্যা করা সঠিক কর্ম।

এই নীতি বা ঈমানের মূল বিষয়েরও ট্রেনিং খুবই প্রয়োজন। এই প্রশিক্ষণ না থাকলে আমরা ঈমানের এই মূল বিষয়গুলোর গুরুত্ব এবং এর আলোকে কর্মকে কখনোই বাস্তবায়ন করতে পারব না।

মানুষ আলটিমেটলি অবশ্যই শ্রেণীবদ্ধ। যে বলছে, আমি কোন শ্রেণীবদ্ধ না, সে অশ্রেণীবদ্ধতার নাম করে হয় ইবনে তাইমিয়াকে অনুসরণ করছে, নাহয় আবুল আলা মওদুদীকে, নাহয় আইএসকে, নাহয় জাকির নায়িককে। যখন কেউ বারবার এদের কারো নীতিতে চলবে, এদের কারো কথা বলবে, বা এদের রেফারেন্স দেখবে বা এদের থেকে তথ্য নিবে- তখন নিজের অজান্তেই নিজেকে শ্রেণীবদ্ধ করে ফেলছে। কিন্তু শ্রেণীবদ্ধতা অস্বীকার করেও শ্রেণীবদ্ধ হওয়াতে তার যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তা হল, এই শ্রেণী-অস্বীকারের মাধ্যমে মূলত পূর্বতন মৌলিক সবাইকে অস্বীকার করার সুযোগ তৈরি হয়ে যাচ্ছে এবং ফলত: ইসলামের ঈমানি অংশটাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করার সুযোগ রয়ে যাচ্ছে।

আর প্রশিক্ষণ একটা দলগত বিষয়। এই প্রশিক্ষণ যে সামরিক ট্রেনিং তা নয়। এর মানে হচ্ছে, হানাফীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে হানাফীদের নিয়ম নিয়মিত পড়া ও চর্চা করার মাধ্যমে রাসূল দ.'র সঠিক ঈমানে দাখিল হওয়া। বা শাফিয়ি বা মালিকি বা হাম্বলি। আবার তরিক্বাহর দিক থেকে বলতে গেলে ক্বাদরী চিশতি নক্সবন্দী মুজাদ্দিদি।

কারণ, এইভাবে শ্রেণীবদ্ধ থাকার ফলেই সঠিকের প্রশিক্ষণ সম্ভব। আর ভিতরে প্রশিক্ষণের মত করে ঈমানকে ঢোকাতে না পারলে বিষয়গুলো প্রথমেই অস্পষ্ট রয়ে যায়। আমরা তখন নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ করি, যাকাতও দেই- কিন্তু কালিমা নিয়ে তর্ক করি। কালিমা কী, তাই জানি না। ঈমান কী, তাই জানি না। রাসূল দ. কে কতটুকু ভালবাসতে হবে, কীভাবে ভালবাসতে হবে, এই ভালবাসা কীভাবে অর্জিত হবে, সেই পরিবেশ আমরা কখনো পাইনি বলেই ঈমানকে গৌণ এবং কর্মকে মূখ্য মনে করে বসে থাকি।

যখনি কেউ নূনতম অপূর্ণ ঈমান তথা ঈমান হীনতায় কাজ করবে, তখনি তার নামাজ পরিণত হবে ব্যায়ামে- শুধু শারীরিক লাভ, রোজা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ এর প্রতিদান দেবেন তা না থেকে হয়ে যাবে শরীর শুদ্ধি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ, হজ্ব হয়ে পড়বে সফর, যাকাত হয়ে পড়বে মানবিক দান। অবশ্যই এই সুবিধাগুলো বাস্তব, কিন্তু এর একটা ঈমানী অর্থ আছে, সেটা আর থাকবে না।

আর সঠিক পরিবেশ ও চর্চাই পারে রাসূল দ.'র প্রকৃত ভালবাসা'র পরিচয় জানা ও তার প্রয়োগ নিজের ভিতরে স্থাপন করা। সেই পরিবেশ, যে পরিবেশে মানুষ রাসূল দ.'র প্রকৃত ভালবাসা ধারণ করে, তাকে সবকিছু থেকে বেশি ভালবাসে এবং এই ভালবাসাটাকে এমনভাবে বহন করে যে, তার ঈমান বিষয়ক ভুল হয় না।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:১২

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: আহলে বাইত বিষয়ক অশ্রদ্ধা না রাখা/পরিপূর্ণ আনুগত্য রাখা নিয়ে এক বড় ভাই অনেক কষ্ট করে লিখেছেন-

“যেকোন ধর্মের অন্যতম প্রধান দুটি দিক দেখা যায় - ১. কর্মবাদ এবং ২. ভক্তিবাদ।”

আমার বক্তব্য: কথাটা ঠিক নয়। কেননা, যে ধর্মটির অনুসারী পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি - সেই খৃষ্ট ধর্মে কর্মবাদ প্রধানতম দিক নয়, বরং গৌণ দিক। এ ধর্ম মতে, যিশুখৃষ্ট তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে মানব জাতির পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে গেছেন। কাজেই, তাঁকে ত্রাণকর্তা হিসেবে মেনে নিলেই পাপমুক্তি হবে। এ ধর্ম আমল বা কর্মের বদলে বিশ্বাসে ও আইনের (বিধি-বিধানের) বদলে নৈতিকতায় বেশি গুরুত্ব দেয়।

''ভক্তিবাদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায় সনাতন বা হিন্দু ধর্মে।”

শুধু ভক্তি দিয়ে হিন্দুত্ব রক্ষা হয় না এবং কারো হিন্দুত্ব টুটে গেলে ভক্তি দিয়ে তা পুনরুদ্ধারও করা যায় না, বরং হিন্দুরা প্রায়ই বলে থাকে যে, হিন্দু ধর্মে বের হওয়ার রাস্তা আছে; কিন্তু ঢোকার রাস্তা নেই! বরং ভক্তিবাদের ব্যাপক গুরুত্ব খৃষ্ট ধর্মে রয়েছে। এ ধর্মের মূল কথাই হচ্ছে, খৃষ্টভক্তিই মুক্তির একমাত্র পথ।

“ইসলাম হচ্ছে মধ্যপন্থী বিধান। এখানে এই দুটি ধারার মধ্যে সমন্ময় করা হয়েছে এ'ভাবে যে মুক্তির পথ হল 'বিশ্বাসের সাথে সৎকর্ম সম্পাদন'। এখানে বলা হয় নাই যে নবী(স.), আহলে বাইত, ওলী আউলিয়াগন বা অন্যান্য উচ্চতর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব কোন প্রকার সুপারিশ করতেই পারবেন না শুধুমাত্র কর্মের ভিত্তিতেই ফয়সালা হবে, আবার এটাও বলা হয় নাই যে শুধুমাত্র সুপারিশ, ভক্তি, বিশ্বাসই যথেস্ট, কর্মের কোনই প্রয়োজন নাই।”

সঠিক কথা হচ্ছে, ইসলাম ধর্মের বিধান ইহুদি ও খৃষ্ট ধর্মের বিধানের মাঝামাঝি। ইহুদি ধর্মের বিধান খুবই কড়া। অন্যদিকে, খৃষ্টধর্মে বিধানের তেমন গুরুত্ব নেই। কিন্তু ইসলামে বিধানের অবস্থান এ দু’টি ধর্মের মাঝামাঝি, অর্থাৎ কড়াকাড়িও নয়, আবার ঢিলেঢালাও নয়। এ ধর্মে আমলবিহীন ঈমান, অর্থাৎ কর্মহীন বিশ্বাস দুর্বল এবং ঈমানবিহীন আমল, অর্থাৎ বিশ্বাসহীন কর্ম নিষ্ফল। এ ধর্মে শাফায়াত বা সুপারিশের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, শাফায়াত ঈমানদার গুণাহগারদের জন্যেই। যাদের গুণাহ নেই - তাদের শাফায়াতের দরকারও নেই। আর বেগুণাহ মুসলিমের (মানুষ ও জ্বীন) চেয়ে গুণাহগার মুসলিমের সংখ্যা ৯৯% এর বেশি। এরাই শাফায়াতের মুখাপেক্ষী এবং শাফায়াত পাবেও! যেমন- নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আমার উম্মতের মহাপাপীদের (কবীরা গুণাহগারদের) জন্যেই আমার শাফায়াত রয়েছে! (মিশকাত:৫৩৫৯, আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:১৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: (কন্টিনিউড- কুরআন বিষয়ক)

“আমি ব্যাক্তিগতভাবে কোরআন যতটুকু পড়েছি তাতে আমার মনে হয়েছে বিশ্বাসের সাথে সৎ কর্ম করার বিষয়টিতে কর্মের উপর একটু বেশী জোর দেয়া হয়েছে্। বাস্তব কর্মের মাধ্যমে বিশ্বাসকে প্রমানের বিষয়টি বিভিন্নভাবে এসেছে - আগের কমেন্টে দেয়া কোআনের আয়াতগুলিতেও তাই বলা হয়েছে। আর সুপারিশের কথা যতটুকু আছে সেটাও একেবারে কর্মহীন নয় - বরং যারা কর্মে উত্তম তারাই সুপারিশ পাবে।”

ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে, ৫টি। এর মাঝে প্রথমটিই হচ্ছে, ঈমান বা বিশ্বাস - যা পরিষ্কারভাবেই হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং হাদীছ শরীফ, তাফসীর, শানে নুযুল, ফিকাহ ইত্যাদি এড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আল-কুরআন বুঝতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯%।

ঈমান বা বিশ্বাস হচ্ছে, সংখ্যার মতো এবং আমল বা কর্ম হচ্ছে, শূণ্যের মতো। সংখ্যা ছাড়া যেমনি শূণ্য মূল্যহীন - তেমনি, ঈমান ছাড়া আমলও ভিত্তিহীন। সংখ্যার ডান পাশে শূণ্য বসালে যেমনি এর মূল্য বেড়ে যায় - তেমনি, ঈমান থাকলে আমলও ফলপ্রসূ হয় এবং ঈমানের শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। কাজেই, শাফায়াত পেতে আমল নয়, বরং ঈমানই মুখ্য। এর সমর্থনে উপরে একটি হাদীছ শরীফ পেশ করেছি। আরেকটি পেশ করছি,

নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: রোজ কিয়ামতে আমার শাফায়াত পেতে মানুষের মাঝে সবচেয়ে ভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি - যে মনপ্রাণ উজাড় করে নিষ্ঠার সঙ্গে লা ইলাহা ইল্লাহ পড়েছে। (মিশকাত:৫৩৩৭ ও বুখারী)

লক্ষণীয়, উল্লিখিত হাদীছ শরীফে আমলের কোনো উল্লেখ নেই। আর ঐ ব্যক্তিই মনপ্রায় উজাড় করে নিষ্ঠার সঙ্গে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে পারে - যে নবীজীর নবুয়ত ও রিসালাতে পুরোপুরি বিশ্বাসী বা আস্থাবান। কেননা, তিনি হচ্ছেন, সৃষ্টিকুলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর সবচেয়ে বড় ও সফল দাওয়াতদাতা।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:১৬

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: (কন্টিনিউড, আহলে বাইত বিষয়ক)

“... তাই ভক্তিবাদের পথে চলা অনেক বেশী বিপজ্জনক - তার চেয়ে কর্মবাদের দিকে একটু বেশী ঝুকে থাকা অনেকটাই নিরাপদ (শুধু রাসুল(স.) আহলেবাইত বা আধ্যাত্মিক গুরুজনের কার প্রতি অশ্রদ্ধা না দেখালেই হল)। কর্মে ভাল হলে রাসুলের(স.) সুপারিশ পাওয়ার আশা যতটা করা যায়, কর্মে ভাল না হয়ে শুধুমাত্র ভক্তি শ্রদ্ধার মাধ্যমে তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”

আহলে বাইতের (রাদ্বিআল্লাহুতা’লা ’আনহুম) প্রতি শুধু অশ্রদ্ধা না দেখানোটই যথেষ্ট নয়, বরং তাঁদের ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক ও অন্যতম মাপকাঠি। যেমন-

(০১) হযরত জাবির (রাদ্বিআল্লাহুতা’লা ’আনহুমা) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখলাম যে, তিনি (বিদায়) হজ্জ্বে আরাফাতের দিনে তাঁর “কাসওয়া” নামক উটে চড়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। আমি শুনেছি যে, তিনি ফরমালেন: “হে মানব জাতি, আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি যে, তোমরা তা আঁকড়ে থাকলে কখনো গোমরাহ হবে না। আর তা হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব ও আমার বংশধর তথা আমার আহলে বাইত।” (মেশকাত:৫৮৯২ ও তিরমিযী)

(০২) আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: “আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি যে, তোমরা তা শক্ত করে ধরে রাখলে, আমার পরে, তোমরা কখনো গোমরাহ হবে না। এর মাঝে একটি অপরটির চেয়ে গুরুত্বপূণ। একটি হচ্ছে, আল্লাহ কিতাব। সেটা আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা রশির মতো! আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আমার বংশধর তথা আমার আহলে বাইত। এ দু’টি (আল-কুরআন ও আহলে বাইত) কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। অবশেষে হাউজে কাওছারে আমার সঙ্গে মিলিত হবে। কাজেই, তোমরা এদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছো - তার প্রতি বিশেষ নজর রাখবে।” (মেশকাত:৫৮৯৩ ও তিরমিযী)

(০৩) (হযরত) ঝাইদ ইবনে আরকাম (রাদ্বিআল্লাহুতা'লা 'আনহু) বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহুতা'লা 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত) আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাঈন (রাদ্বিআল্লাহুতা'লা 'আনহুম) সম্পর্কে ফরমান: যে ওদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে - আমি তার শত্রু। আর যে ওদের সঙ্গে আপোষ করেছে - আমি তার মিত্র। (মিশকাত:৫৮৯৪ ও তিরমিযী)

(০৪) আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: “তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো। কেননা, তিনি তোমাদেরকে আহারের মাধ্যমে নিয়ামত দান করে থাকেন। আর আমাকে ভালোবাসো। কেননা, আমি হচ্ছি, আল্লাহর ভালোবাসা। আর আমার মুহব্বতে আমার আহলে বাইতে ভালোবাসো।” (মেশকাত:৫৯২২ ও তিরমিযী)

(০৫) হযরত আবূ যর গিফারী (রাদ্বিআল্লাহুতা'লা 'আনহু) বর্ণণা করেন, তিনি কা’বা শরীফের দরজা ধরে বললেন, আমি নবীজীকে (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি যে, সাবধান! আমার আহলে বাইত হচ্ছে, (হযরত) নূহের (’আলাইহিস সালাম) নৌকার মতো। যে তাতে চড়বে - সে রক্ষা পাবে। আর যে তার পেছনে পড়ে থাকবে - সে ধ্বংস হবে। (মেশকাত:৫৯২৩ ও মুসনাদে আহমাদ)

(০৬) একবার আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান ও হুসাঈনের হাত ধরে ফরমালেন: যে কেউ আমাকে ভালোবাসবে, এ দু’জনকে ভালোবাসবে এবং এদের বাবা আলী ও মা ফাতেমাকে ভালোবাসবে - সে রোজ কিয়ামতে আমাদের সঙ্গে একই জায়গায় থাকবে। (মুসানাদে আহমাদ)

(০৭) আল্লাহর রাসূল (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: কোনো বান্দা ততোক্ষণ ঈমানদার হতে পারবে না - যতোক্ষণ আমি তার জীবনের চেয়ে প্রিয়, আমার বংশধর তার বংশধরের চেয়ে প্রিয়, আমার পরিবার তার পরিবারের চেয়ে প্রিয় এবং আমার অস্তিত্ব তার অস্তিত্বের চেয়ে প্রিয় না হবে। (আল্লামা ইউসূফ নাবহানীর প্রণীত আশ-শরফুল মুয়ায়্যিদ)

(০৮) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: (আকাশের) তারকা দুনিয়াবাসীদের জন্যে নিরাপত্তা (বিপদে পথপ্রদর্শক)। আর আমার আহলে বাইত আমার উম্মতের মতবিরোধের ব্যাপারে নিরাপত্তা। কোনো সম্প্রদায় যদি তাদের (আহলে বাইতের) সঙ্গে মতবিরোধ করে - তাহলে, তারা এমন মতবিরোধে পড়বে যে, (অবশেষে) তারা ইবলিশের দলে পরিণত হবে। (খাসাইসুল কুবরা)

(০৯) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: তোমরা আমার আহলে বাইতকে এভাবে সম্মান করবে - যেভাবে তোমাদের শরীরের মাঝে মাথার অবস্থানের রয়েছে; আবার মাথার মাঝে দু’ চোখের অবস্থান রয়েছে (সেভাবে)। আর মাথাতো চোখ ছাড়া হেদায়েত পাবে না। (আশ-শরফুল মুয়ায়্যিদ ও আলে রাসূল)

(১০) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: রোজ কিয়ামতে চার ব্যক্তিকে আমি শাফায়ত করবো: যে আমার আহলে বাইত ও বংশধরকে সম্মান করবে, যে আমার আহলে বাইতের বংশধরের অভাব পূরণ করে দেবে, যে আমার আওলাদের মাঝে কেউ অস্থির হয়ে পড়লে - তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করবে এবং যে আমার আওলাদের প্রতি কথায়, কাজে, মনে ও প্রাণে মুহব্বত রাখে। (সাওয়ায়েকে মুহরিকা)

(১১) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আমি ও আমার আহলে বাইত জান্নাতের একটি গাছের মতো - যার শাখা-প্রশাখা ধর্মের ভেতরে রয়েছে। সুতরাং যারা ধর্ম আঁকড়ে থাকবে - তারা তাদের প্রভু পর্যন্ত পৌঁছার পথ করে নেবে। (যাখাইরুল উকবা)

(১২) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: তোমাদের মাঝে পুলসেরাতে সেই অটল থাকবে - যে আমার আহলে বাইত ও সাহাবীদের ভালোবাসে। (সাওয়ায়েকে মুহরিকা)

(১৩) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আমরা আহলে বাইত। আমাদের সঙ্গে কাউকে তুলনা করা যাবে না। (যাখাইরুল উকবা)

(১৪) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: তোমরা তোমাদের সন্তানদের তিনটি কথা শেখাও; তোমাদের নবীকে ভালোবাসা, আহলে বাইতকে ভালোবাসা এবং আল-কুরআন ও আল-হাদীছ পড়া।

(১৫) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আলে মুহাম্মাদের প্রতি একদিনের ভালোবাসা এক বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। আর এ ভালোবাসা নিয়ে যে মারা যাবে - সে জান্নাতি। (নূরুল আবসার, সাওয়ায়েকে মুহরিকা, আলে রাসুল ইত্যাদি)

(১৬) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: যে আলে মুহাম্মাদের ভালোবাসা নিয়ে মারা গেলো - সে শহীদের মৃত্যু লাভ করলো। আর যে মুহাম্মাদের ভালোবাসা নিয়ে মারা গেলো - সে বেগুণাহ অবস্থায় মারা গেলো।

(১৭) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: যে আলে মুহাম্মাদের ভালোবাসা নিয়ে মারা যাবে - সে পরিপূর্ণ ঈমান নিয়েই মারা যাবে।

(১৮) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: যে আলে মুহাম্মাদের ভালোবাসা নিয়ে মারা যাবে - তাকে মালাকুল মউত ও মুনকার-নাকীর জান্নাতের সুখবর দেবে।

(১৯) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: যে আলে মুহাম্মাদের ভালোবাসা নিয়ে মারা যাবে - আল্লাহ তার কবরকে ফেরেশতাদের মাজার (জিয়ারতগাহ) বানিয়ে দেবেন। (উল্লিখিত হাদীছ শরীফগুলো তাফসীরে কবীর, তাফসীরে রূহুল বয়ান, তাফসীরে ইবনে আরাবী, কাশশাফ, আশ-শরফুল মুয়ায়্যিদ, নুজহাতুল মাযালিস ইত্যাদি)

(২০) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: কেউ আহলে বাইতে রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে মারা গেলে, রোজ কিয়ামতে যখন সে উপস্থিত হবে - তখন তার দু’ চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে “আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত।” (প্রাগুক্ত)

(২১) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আহলে বাইতে রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে যারা মারা যাবে - তাদের মরণ কুফরি অবস্থায় হবে।

(২২) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: যে ব্যক্তি রুকুনে ইয়ামানী ও মাকামে ইব্রাহীমের মাঝে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, রোজাও রাখে; কিন্তু মনে মনে আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ রাখে - সে জাহান্নামে যাবে। (আশ-শরফুল মুয়ায়্যিদ, যাখাইরুল উকবা, সাওয়ায়েকে মুহরিকা ও খাসাইসুল কুবরা)

(২৩) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: তোমার চলার পথে সূর্যের আলোকে অনুসরণ করে থাকো এবং সূর্য অস্ত গেলে রাতে চাঁদের আলোর অনুসরণ করে থাকো। আর চাঁদ অস্ত গেলে শুকতারার অনুসরণ করে থাকো। আর শুকতারা অস্ত গেলে দু’ ফরক্বদ তথা পূর্ব ও পশ্চিমের দু’ তারকাকে অনুসরণ করো। তিনি ফরমান: সূর্য হচ্ছি, আমি; চাঁদ হচ্ছে, আলী; শুকতারা হচ্ছে, ফাতেমা; আর দু’ ফরক্বদ হচ্ছে, হাসান ও হুসাঈন। (রাওয়াইয়ুল মুস্তাফা)

(২৪) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আহলে বাইতের প্রতি যে বিদ্বেষ রাখে - সে মুনাফিক। (সাওয়ায়েকে মুহরিকা ও আলে রাসূল)

(২৫) নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: যতোক্ষণ মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের প্রতি দরূদ পেশ করা না হবে - ততোক্ষণ প্রত্যেক দোয়া ঝুলে থাকবে। (ফয়জুল কাদীর ও আলে রাসূল)

আরো অনেক রয়েছে। সুতরাং আহলে বাইতের (রিদ্বওয়ানুল্লাহিতা’লা ’আলাইহিম) প্রতি শুধু অশ্রদ্ধা না দেখানোটাই যথেষ্ট নয়, বরং তাঁদের যথাযথভাবে ভালোবাসতে হবে। ধন্যবাদ।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:২৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: সুপারিশ করার আশা করা বিষয়ক-

"কর্মে ভাল হলে রাসুলের(স.) সুপারিশ পাওয়ার আশা যতটা করা যায়, কর্মে ভাল না হয়ে শুধুমাত্র ভক্তি শ্রদ্ধার মাধ্যমে তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।"

আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হয়ো না।- কুরআন।

নবীজী (সল্লাল্লাহুতা’লা ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরমান: আমার উম্মতের মহাপাপীদের (কবীরা গুণাহগারদের) জন্যেই আমার শাফায়াত রয়েছে! (মিশকাত:৫৩৫৯, আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)

যেহেতু চূড়ান্ত পর্যায়ের ভালবাসা (মুহাব্বাত) ও শ্রদ্ধা (আদব) ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ- শুধু ভালবাসা ও আদবের মাধ্যমে নিশ্চই কেউ ভাল, আদর্শ ও পরকালে পারফেক্ট মুসলিম হবে না। কিন্তু মুসলিম অবশ্যই হবে।

অন্যদিকে, ভাল কাজ যেহেতু আমলের অন্তর্ভুক্ত, ভাল কাজ করলে কেউ ভাল মানুষ অবশ্যই হবে, কিন্তু নিশ্চই মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

অর্থাৎ, ঈমানের যে যে শর্ত পূর্ণ করতে না পারলে মুসলিম সম্প্রদায় থেকে বেরিয়ে যাবার কথা এসেছে- সেই সেই শর্ত পূর্ণ করতে না পারলে কেউ মুসলিম নয়। আর সেই শর্তসমূহের মধ্যে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা অন্যতম।

আর যে কাজ ভাল করতে পারবে না, সে পাপী। পাপী কোন আদর্শ ব্যক্তি নয়। বরং তাদেরকে ইসলামে ফাসিক বলা হয়। তিনি মুমিন হতে পারেন। ফাসিককে আদর্শ ধরার কিছু নেই। ফাসিক ফরজ ওয়াজিব সুন্নাতে মুআক্কাদাহ তরক করবে আর তার পক্ষ নিয়ে আমরা কথা বলব তাও নয়। কিন্তু ঈমানের পরিপূর্ণতা একেবারেই অপরিহার্য।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: হুযুর দ.'র প্রতি যথাযথ আদব তথা ভক্তি যে ঈমানের মৌলিক অপূরণীয় শর্ত, তা কুরআনে পাই- ৪৮:৯, ৪৯:২, ৪৯:১, ৩৩:৫৩, ২৪:৬৩, ৪:৬৫, ৩৩:৩৬, ৭:১৫৭, ৫:১২, ৮:২৪ এই আয়াতগুলোতে।

হুযুর দ.'র প্রতি বেআদবি যে সরাসরি কুফর তা কুরআনের এই আয়াতগুলোতে পাই- ২:১০৪, ৪৯:২, ৯:৬৬, ৯:৬১, ৩৩:৫৭, ৩৮:৭৭।

হুযুর দ.'র সাথে সম্পর্ক যাদের আছে, বা যে বস্তু সমূহের সাথে আছে, বা যে স্থান সমূহের সাথে আছে তাদের ও সেসকলের প্রতি আদব বা ভক্তি বিষয়ে কুরআনের এই এই আয়াত থেকে আমরা পাই যে, সেই ব্যক্তিরা ও সেই স্থান-বস্তু সবই মহান- ১৫:৭২, ৯০:১, ৯৫:৩, ৯৩:১-২, ৩:১১০, ২:১৪৩, ৩৩:৩২।

এছাড়াও আহলে বাইত বিষয়ে আমাদের কী বিশ্বাস রাখতে হবে এবং তাদের গুরুত্ব ও মর্যাদা বিষয়ে কুরআনে এমনিভাবে উল্লেখ্য অন্তত ১৯ টি আয়াত পাই।

সাহাবায়ে কিরাম রা.'র সর্ব্বোচ্চ সম্মান মর্যাদা বিষয়ক অন্তত ২৫ টি আয়াত রয়েছে।

চার খলিফা, তাঁদের খিলাফাত বিষয়ক অন্তত ৩৫ টি আয়াত রয়েছে।

আল্লাহর প্রিয়জন তথা নবীগণ-সিদ্দিকগণ-শুহাদা-সালিহ মোদ্দা কথা ওয়ালীদের মর্যাদা সম্পর্কে অন্তত ১৩০ টি আয়াত পেলাম যার মধ্যে এই বিষয়গুলো রয়েছে-

* তাঁরা মর্যাদাবান।
* তাঁদের অলৌকিক ক্ষমতা ও আল্লাহ প্রদত্ত বহুবিধ সক্ষমতা সত্য।
* তাঁদের তারাররুক সমস্যা থেকে মুক্তি দান করে।
* তাঁরা মুমিনদের সহায়তাকারী।
* তাঁরা মৃত হলেও শোনেন। মৃতরাও শোনে।
* তাঁরা মৃততুর পরও সহায়তা করেন।
* তাঁরা দূর থেকে শোনেন, দেখেন ও সাহায্য করেন।
* সমস্যার সমাধান দেন ও দান করেন।
* তাঁদের নৈকট্যে দোয়া অধিক কবুল হয়।
* তাঁদের সাথে সম্পর্কযুক্ত স্থান তথা রওজা, মাজার, জন্মস্থান, অবস্থানের জায়গা ইত্যকার স্থানের প্রতি আদব তথা ভক্তি প্রদর্শন করতে হবে।
* তাঁদের স্মৃতি রক্ষা করা ও স্মৃতি স্মারক প্রতিষ্ঠা করা উত্তম।
* ইমামগণের তাক্বলীদ তথা অনুসরণ জরুরী।
* মৃতদেরকেও আহ্বান করার উপায় রয়েছে।
* তাঁদের মাধ্যমে মন্দরাও দয়াপ্রাপ্ত হন।
* তাঁরা মুমিনদের জন্য সুপারিশ করেন।
* তাঁদেরকে অত্যন্ত সম্মানসূচক শব্দ ও অভিভাবক হিসাবে সাব্যস্ত করা উচিত।
* তাঁদের জন্য ইসাল ই সওয়াব পালন করা তথা ওরস সহ অন্যান্য সম্মানসূচক কুরআন-হাদীস পাঠ ও যিকর মিলাদ ইত্যাদি অনুষ্ঠান করা বাস্তব।
* তাঁদের জন্ম বৃত্তান্ত তথা মিলাদ শরীফ আলোচনা করা স্বয়ং আল্লাহর সুন্নাহ বা কর্ম।
* তাঁদের কল্যাণে পাপীরাও আযাব থেকে বেঁচে থাকে।
* তাঁদের ওয়াসীলা বা মাধ্যম গ্রহণ করা জরুরি।
* মৃততু তাঁদের জন্য নয়। (৭ টি আয়াত) [অবশ্যই রুহ কবজ হবে। এই অর্থে মৃততু রয়েছে।]
* তাঁদের দোয়ায় বন্ধ্যা ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সন্তান লাভ করেন। এমনকি পুত্রসন্তান চাইলে তাও লাভ করতে পারেন।
* তাঁদের অধীনতা বা বাইয়াত গ্রহণ করা বা মুরীদ হওয়া জরুরি। কিয়ামতে যার যার ইমামের সাথে তার তার অবস্থান হবে।
* আল্লাহর বিশেষ নির্দেশগত বিষয় কোন কোন মহান বান্দা তথা তাঁদের কারো কারো উপরও ন্যস্ত রয়েছে।
* তাঁরা আল্লাহর রাজ্যের প্রতিনিধিত্বশীলতায় মালিক ও তাতে ক্ষমতা প্রয়োগকারী।
* তাঁদের কারো কারো দোয়ায় মৃত পর্যন্ত জীবিত হতে পারে।

এই প্রতিটা আয়াতের রেফারেন্স রয়েছে। এই প্রতিটা আয়াতের নাম্বার উপরেরগুলোর মত করেই রয়েছে।

এইসব কোনই সিক্রেট নয়। এইসব নির্দেশনা কুরআনে আমরা প্রতিনিয়ত পড়ি। তারপর হাদীসেও প্রতিনিয়ত পড়ি। তারপর ইতিহাসেও প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। অর্থও বুঝি। কিন্তু গায়ে মাখি না। এরপর আমরা কেন যেন এত মহান বিষয় অস্বীকার করি।

দিনে দিনে ইসলামকে আমরা একটা ধর্ম থেকে রীতিমত শুধুমাত্র একটা কোড অভ লাইফ বা শুধুই জীবনের পূর্ণ বিধানে পরিণত করেছি। আর এই জীবন বিধান কে এনেছেন? আমরা ধরেই নিয়েছি আমাদের মত একজন সাধারণ মানুষ আরবে বিধানটা এনেছেন। তিনি যেভাবে যা করেছেন, তিনিও সাধারণ আমরাও সাধারণ এবং আমরাও তাই করে যাব, এতেই শক্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইসলাম অবশ্যই পূর্ণ জীবন বিধান। কিন্তু ইসলাম শুধু পূর্ণ জীবন বিধান নয়, বরং আরো অনেক অনেক কিছু। ইসলাম যদি শুধু পূর্ণ জীবন বিধানই হতো, তাহলে এটা কার্ল মার্ক্সস এর সমাজতন্ত্রবাদের মত অথবা বর্তমান বৌদ্ধ ধর্মের মত সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিকতা রহিত হতো।

মজার ব্যাপার হল, আমরা ইসলামকে জীবন বিধান জীবন বিধান বলতে বলতে এর আধ্যাত্মিকতা এর 'অলৌকিকতা' অর্থাৎ সৃষ্টি জগতে চিরকাল বিরাজিত আল্লাহর এবং তাঁর প্রিয়জনদের সক্ষমতাকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করিনি, প্রশ্নবিদ্ধ করতে করতে এক পর্যায়ে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করাও শুরু করে দিয়েছি।

আমরা এটা ভুলে গিয়েছি, যে আধ্যাত্মিকতা রহিত হয়ে গেলে আল্লাহরও দরকার নেই, রাসূল দ.'রও দরকার নেই, পূর্ববর্তী নবীগণ ও মহান ইমাম ওয়ালীগণেরও দরকার নেই, কিয়ামাত জান্নাত জাহান্নাম হাশর বিচার ন্যায় এসবেরও কোন দরকার নেই। কারণ এসবই পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিকতা। এসবেই খোদায়ি শক্তির অমিত প্রকাশ প্রতিনিয়ত। পৃথিবীতে থাকার জন্য এক পর্যায়ে আমরা হাদীসও অস্বীকার করে বসে রইলাম। শুধু কুরআন। আর কুরআনের এই নির্দেশনাও না মেনে শুধু কিছু যুদ্ধ আর দেশ গঠনের আয়াতের উপর মনোযোগ দিলাম। ফলশ্রুতিতে এমন অবস্থা হল, এখন আর আমাদের যেন কুরআনেরও প্রয়োজন নেই।

এইভাবে, ইসলাম যদিও পূর্ণ জীবন বিধান, কিন্তু শুধুই পূর্ণ জীবন বিধান মনে করার মাধ্যমে পুরো ইসলামকেই আমরা বাইপাস করে সার্জারি করে দিলাম।

আধ্যাত্মিকতার এই চর্চা এম্নি হারিয়ে যায়নি। পানি খাদ ধরেই বয়ে যায়। আমরা যারা আধ্যাত্মিকতা থেকে সরে গেছি, তারা সরে গেছি কাদের কারণে? যারা আমাদের 'বস্তুবাদী ইসলাম' শেখায়, তাদের কারণে। সেই পূর্বতন মানুষগুলো কখনোই ইসলামের আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া নিজ জীবনে পায়নি। তাদের পূর্বতনরাও পায়নি। এভাবে যে খাদ তৈরি হয়েছে, সেই খাদে পরবর্তীতে যত পানি (নতুন মানুষ, আপনি আমি) প্রবাহিত হবে ও হয়েছে, তারা সবাই আধ্যাত্মিকতার বিন্দুমাত্র অনুভব করিনি।

আর মানুষের স্বভাবই হল, সবকিছুকে নিজের লেভেলে নামিয়ে নিয়ে যায়। খুব কম মানুষই উপরে ওঠার চেষ্টা করে। উপরের স্তরকে চিনে সেটার সমালোচনা না করে সেই স্তরে নিজেকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। আর যে স্তরে যাওয়া যাবে না, সেই স্তরকে সম্মান জানায়।

বলছি নবী দ. গণের কথা, আহলে বাইত রা. ও সাহাবা রা. গণের কথা। তাদের স্তরে আমরা কোনদিক দিয়েই কখনো যেতে পারব না, এই কারণে আমরা উল্টা তাদের নামিয়ে আনি।

আর ইমাম, ওয়ালী, মুর্শিদ, পথপ্রদর্শক উলিল আমরের পর্যায়ে যদিও আমরা চাইলেই যেতে পারি, কিন্তু তাদের বিশ্বাসের সাথে আমাদের বিশ্বাসে টক্কর লাগে, তাদের আধ্যাত্মিকতার সাথে আমাদের বস্তুবাদী ধর্মের টক্কর লাগে এবং ফলশ্রুতিতে আমরা তাদের শুধু আমাদের স্তরে নামিয়ে এনে ক্ষান্ত হই না, বরং আমাদের চেয়েও নিচের স্তরের সাব্যস্ত করি।

আমাদের কাজ শুধু পৌছে দেয়া। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগুম মুবিন। আমাদের কাজ শুধু খুবই স্পষ্টভাবে পৌছে দেয়া। গ্রহণ ও বর্জনের স্বাধীনতা মানুষের, যেহেতু সে নিজের জবাব নিজে দিবে। কখনো ব্যক্তিগভাবে জবাব দিবে, কখনো সাংগঠনিকভাবে জবাব দিবে।

৮| ১১ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:১৩

খাটাস বলেছেন: লিসানি ভাই, শিয়াদের নিয়ে কিছু টা জানার ইচ্ছা আছে।
ভাল কোন বই বা লিঙ্ক দিলে খুব উপকার হয়।

১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:১৭

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই শিয়াদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কিত একটা ছোট পোস্ট লিখেছিলাম-

http://www.somewhereinblog.net/blog/Qadri/29960010

আর শিয়া মতবাদ বিষয়ে যেহেতু শুধু নেগেটিভই বলতে পারি বা নেগেটিভ সোর্সই দিতে পারি... এরচে ভাল হয় অসাধারণ একটা টিভি ডিবেট দেখলে।

ড. তাহির উল ক্বাদরী পাঁচ-ছয়টা ভাষায় ছয় হাজারেরও বেশি লেকচার দিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাহফিল পর্যন্ত। তাঁর বইয়ের সংখ্যা হাজারখানেক। তাঁকে অনেকে শিয়াপন্থী বলত। কিন্তু তিনি শিয়া নন, বরং সুন্নি স্কলারদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। তিনি একবার শিয়া উলামাদের সাথে ত্রিশ দিনেরও বেশি সময় ধরে বিতর্ক করেছিলেন ইসলাম বিষয়ে, চার খলিফা বিষয়ে এবং আহলে বাইত বিষয়ে। মূলত শিয়া মতবাদের সবকিছু এই বিতর্ক সবচে গভীরে গেছে এবং সবচে গভীরের বিষয়গুলো অতি স্পষ্ট উঠে এসেছে। ভাষাটা আনইউজুয়াল হলেও যদি শুনতে পারেন, একেবারে স্পষ্ট হয়ে যাবে শিয়া বিষয়ক ধারণাগুলো। এটাকে বলা হয় দ্য গ্রেট ডিবেট।

http://www.youtube.com/watch?v=_Ct9O8HvhJQ

৯| ১১ ই নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৭

যান্ত্রিক বলেছেন: @হাসান নাইম ভাই, আসসালামু আলাইকুম। আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৯

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: হুযুর দ.'র প্রতি যথাযথ আদব তথা ভক্তি যে ঈমানের মৌলিক অপূরণীয় শর্ত, তা কুরআনে পাই- ৪৮:৯, ৪৯:২, ৪৯:১, ৩৩:৫৩, ২৪:৬৩, ৪:৬৫, ৩৩:৩৬, ৭:১৫৭, ৫:১২, ৮:২৪ এই আয়াতগুলোতে।

হুযুর দ.'র প্রতি বেআদবি যে সরাসরি কুফর তা কুরআনের এই আয়াতগুলোতে পাই- ২:১০৪, ৪৯:২, ৯:৬৬, ৯:৬১, ৩৩:৫৭, ৩৮:৭৭।

হুযুর দ.'র সাথে সম্পর্ক যাদের আছে, বা যে বস্তু সমূহের সাথে আছে, বা যে স্থান সমূহের সাথে আছে তাদের ও সেসকলের প্রতি আদব বা ভক্তি বিষয়ে কুরআনের এই এই আয়াত থেকে আমরা পাই যে, সেই ব্যক্তিরা ও সেই স্থান-বস্তু সবই মহান- ১৫:৭২, ৯০:১, ৯৫:৩, ৯৩:১-২, ৩:১১০, ২:১৪৩, ৩৩:৩২।

এছাড়াও আহলে বাইত বিষয়ে আমাদের কী বিশ্বাস রাখতে হবে এবং তাদের গুরুত্ব ও মর্যাদা বিষয়ে কুরআনে এমনিভাবে উল্লেখ্য অন্তত ১৯ টি আয়াত পাই।

সাহাবায়ে কিরাম রা.'র সর্ব্বোচ্চ সম্মান মর্যাদা বিষয়ক অন্তত ২৫ টি আয়াত রয়েছে।

চার খলিফা, তাঁদের খিলাফাত বিষয়ক অন্তত ৩৫ টি আয়াত রয়েছে।

আল্লাহর প্রিয়জন তথা নবীগণ-সিদ্দিকগণ-শুহাদা-সালিহ মোদ্দা কথা ওয়ালীদের মর্যাদা সম্পর্কে অন্তত ১৩০ টি আয়াত পেলাম যার মধ্যে এই বিষয়গুলো রয়েছে-

* তাঁরা মর্যাদাবান।
* তাঁদের অলৌকিক ক্ষমতা ও আল্লাহ প্রদত্ত বহুবিধ সক্ষমতা সত্য।
* তাঁদের তারাররুক সমস্যা থেকে মুক্তি দান করে।
* তাঁরা মুমিনদের সহায়তাকারী।
* তাঁরা মৃত হলেও শোনেন। মৃতরাও শোনে।
* তাঁরা মৃততুর পরও সহায়তা করেন।
* তাঁরা দূর থেকে শোনেন, দেখেন ও সাহায্য করেন।
* সমস্যার সমাধান দেন ও দান করেন।
* তাঁদের নৈকট্যে দোয়া অধিক কবুল হয়।
* তাঁদের সাথে সম্পর্কযুক্ত স্থান তথা রওজা, মাজার, জন্মস্থান, অবস্থানের জায়গা ইত্যকার স্থানের প্রতি আদব তথা ভক্তি প্রদর্শন করতে হবে।
* তাঁদের স্মৃতি রক্ষা করা ও স্মৃতি স্মারক প্রতিষ্ঠা করা উত্তম।
* ইমামগণের তাক্বলীদ তথা অনুসরণ জরুরী।
* মৃতদেরকেও আহ্বান করার উপায় রয়েছে।
* তাঁদের মাধ্যমে মন্দরাও দয়াপ্রাপ্ত হন।
* তাঁরা মুমিনদের জন্য সুপারিশ করেন।
* তাঁদেরকে অত্যন্ত সম্মানসূচক শব্দ ও অভিভাবক হিসাবে সাব্যস্ত করা উচিত।
* তাঁদের জন্য ইসাল ই সওয়াব পালন করা তথা ওরস সহ অন্যান্য সম্মানসূচক কুরআন-হাদীস পাঠ ও যিকর মিলাদ ইত্যাদি অনুষ্ঠান করা বাস্তব।
* তাঁদের জন্ম বৃত্তান্ত তথা মিলাদ শরীফ আলোচনা করা স্বয়ং আল্লাহর সুন্নাহ বা কর্ম।
* তাঁদের কল্যাণে পাপীরাও আযাব থেকে বেঁচে থাকে।
* তাঁদের ওয়াসীলা বা মাধ্যম গ্রহণ করা জরুরি।
* মৃততু তাঁদের জন্য নয়। (৭ টি আয়াত) [অবশ্যই রুহ কবজ হবে। এই অর্থে মৃততু রয়েছে।]
* তাঁদের দোয়ায় বন্ধ্যা ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সন্তান লাভ করেন। এমনকি পুত্রসন্তান চাইলে তাও লাভ করতে পারেন।
* তাঁদের অধীনতা বা বাইয়াত গ্রহণ করা বা মুরীদ হওয়া জরুরি। কিয়ামতে যার যার ইমামের সাথে তার তার অবস্থান হবে।
* আল্লাহর বিশেষ নির্দেশগত বিষয় কোন কোন মহান বান্দা তথা তাঁদের কারো কারো উপরও ন্যস্ত রয়েছে।
* তাঁরা আল্লাহর রাজ্যের প্রতিনিধিত্বশীলতায় মালিক ও তাতে ক্ষমতা প্রয়োগকারী।
* তাঁদের কারো কারো দোয়ায় মৃত পর্যন্ত জীবিত হতে পারে।

এই প্রতিটা আয়াতের রেফারেন্স রয়েছে। এই প্রতিটা আয়াতের নাম্বার উপরেরগুলোর মত করেই রয়েছে।

এইসব কোনই সিক্রেট নয়। এইসব নির্দেশনা কুরআনে আমরা প্রতিনিয়ত পড়ি। তারপর হাদীসেও প্রতিনিয়ত পড়ি। তারপর ইতিহাসেও প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। অর্থও বুঝি। কিন্তু গায়ে মাখি না। এরপর আমরা কেন যেন এত মহান বিষয় অস্বীকার করি।

দিনে দিনে ইসলামকে আমরা একটা ধর্ম থেকে রীতিমত শুধুমাত্র একটা কোড অভ লাইফ বা শুধুই জীবনের পূর্ণ বিধানে পরিণত করেছি। আর এই জীবন বিধান কে এনেছেন? আমরা ধরেই নিয়েছি আমাদের মত একজন সাধারণ মানুষ আরবে বিধানটা এনেছেন। তিনি যেভাবে যা করেছেন, তিনিও সাধারণ আমরাও সাধারণ এবং আমরাও তাই করে যাব, এতেই শক্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইসলাম অবশ্যই পূর্ণ জীবন বিধান। কিন্তু ইসলাম শুধু পূর্ণ জীবন বিধান নয়, বরং আরো অনেক অনেক কিছু। ইসলাম যদি শুধু পূর্ণ জীবন বিধানই হতো, তাহলে এটা কার্ল মার্ক্সস এর সমাজতন্ত্রবাদের মত অথবা বর্তমান বৌদ্ধ ধর্মের মত সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিকতা রহিত হতো।

মজার ব্যাপার হল, আমরা ইসলামকে জীবন বিধান জীবন বিধান বলতে বলতে এর আধ্যাত্মিকতা এর 'অলৌকিকতা' অর্থাৎ সৃষ্টি জগতে চিরকাল বিরাজিত আল্লাহর এবং তাঁর প্রিয়জনদের সক্ষমতাকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করিনি, প্রশ্নবিদ্ধ করতে করতে এক পর্যায়ে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করাও শুরু করে দিয়েছি।

আমরা এটা ভুলে গিয়েছি, যে আধ্যাত্মিকতা রহিত হয়ে গেলে আল্লাহরও দরকার নেই, রাসূল দ.'রও দরকার নেই, পূর্ববর্তী নবীগণ ও মহান ইমাম ওয়ালীগণেরও দরকার নেই, কিয়ামাত জান্নাত জাহান্নাম হাশর বিচার ন্যায় এসবেরও কোন দরকার নেই। কারণ এসবই পরিপূর্ণ আধ্যাত্মিকতা। এসবেই খোদায়ি শক্তির অমিত প্রকাশ প্রতিনিয়ত। পৃথিবীতে থাকার জন্য এক পর্যায়ে আমরা হাদীসও অস্বীকার করে বসে রইলাম। শুধু কুরআন। আর কুরআনের এই নির্দেশনাও না মেনে শুধু কিছু যুদ্ধ আর দেশ গঠনের আয়াতের উপর মনোযোগ দিলাম। ফলশ্রুতিতে এমন অবস্থা হল, এখন আর আমাদের যেন কুরআনেরও প্রয়োজন নেই।

এইভাবে, ইসলাম যদিও পূর্ণ জীবন বিধান, কিন্তু শুধুই পূর্ণ জীবন বিধান মনে করার মাধ্যমে পুরো ইসলামকেই আমরা বাইপাস করে সার্জারি করে দিলাম।

আধ্যাত্মিকতার এই চর্চা এম্নি হারিয়ে যায়নি। পানি খাদ ধরেই বয়ে যায়। আমরা যারা আধ্যাত্মিকতা থেকে সরে গেছি, তারা সরে গেছি কাদের কারণে? যারা আমাদের 'বস্তুবাদী ইসলাম' শেখায়, তাদের কারণে। সেই পূর্বতন মানুষগুলো কখনোই ইসলামের আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া নিজ জীবনে পায়নি। তাদের পূর্বতনরাও পায়নি। এভাবে যে খাদ তৈরি হয়েছে, সেই খাদে পরবর্তীতে যত পানি (নতুন মানুষ, আপনি আমি) প্রবাহিত হবে ও হয়েছে, তারা সবাই আধ্যাত্মিকতার বিন্দুমাত্র অনুভব করিনি।

আর মানুষের স্বভাবই হল, সবকিছুকে নিজের লেভেলে নামিয়ে নিয়ে যায়। খুব কম মানুষই উপরে ওঠার চেষ্টা করে। উপরের স্তরকে চিনে সেটার সমালোচনা না করে সেই স্তরে নিজেকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। আর যে স্তরে যাওয়া যাবে না, সেই স্তরকে সম্মান জানায়।

বলছি নবী দ. গণের কথা, আহলে বাইত রা. ও সাহাবা রা. গণের কথা। তাদের স্তরে আমরা কোনদিক দিয়েই কখনো যেতে পারব না, এই কারণে আমরা উল্টা তাদের নামিয়ে আনি।

আর ইমাম, ওয়ালী, মুর্শিদ, পথপ্রদর্শক উলিল আমরের পর্যায়ে যদিও আমরা চাইলেই যেতে পারি, কিন্তু তাদের বিশ্বাসের সাথে আমাদের বিশ্বাসে টক্কর লাগে, তাদের আধ্যাত্মিকতার সাথে আমাদের বস্তুবাদী ধর্মের টক্কর লাগে এবং ফলশ্রুতিতে আমরা তাদের শুধু আমাদের স্তরে নামিয়ে এনে ক্ষান্ত হই না, বরং আমাদের চেয়েও নিচের স্তরের সাব্যস্ত করি।

আমাদের কাজ শুধু পৌছে দেয়া। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগুম মুবিন। আমাদের কাজ শুধু খুবই স্পষ্টভাবে পৌছে দেয়া। গ্রহণ ও বর্জনের স্বাধীনতা মানুষের, যেহেতু সে নিজের জবাব নিজে দিবে। কখনো ব্যক্তিগভাবে জবাব দিবে, কখনো সাংগঠনিকভাবে জবাব দিবে।

১০| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:০০

হাসান নাঈম বলেছেন: আপনার বিশাল বিস্তারিত আলোচনার মাঝে সেই ভক্তিবাদের প্রতি অধিকতর আনুকুল্যই দেখা যাচ্ছে। আর এরই চরমপন্থী রূপ হচ্ছে রাজারবাগী, দেওয়ানবাগী এবং আরো বহু বিভ্রান্ত পীর, মাজার, কাল্ট - ইত্যাদী। সবার সুনিশ্চিত বিশ্বাস এটাই যে একজন ব্যাক্তির প্রতি পরিপুর্ণ সমর্পিত থাকাই মুক্তির পথ। আপনি যখন এই মতের অনুসরনে রাসুল(স.) এবং আহলে বাইতের প্রতি এই ভাবে সমর্পিত থাকাকেই মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে প্রচার করবেন তখন অন্যরা তারই ধারাবাহিকতায় কোন এক পীর বা মাজারকে সহজেই বসিয়ে দেবে। কারণ রাসুল(স.) এবং আহলে বাইতের কেউ এখন জীবিত নাই - তাই তাদের ধারাবাহিকতায় অন্য এমন কাউকে ঐ ভাবে মানতে হবে যে জীবিত আছে।

কয়েকদিন আগে মাউজভান্ডার দরবারে গিয়েছিলাম - সেখানে যিনি বর্তমানে দ্বায়িত্বে আছেন তিনি তার উত্তর পুরুষের হিসেব শুরু করেছেন রাসুল (স.) কে দিয়ে আর নিজেকে রেখেছেন ৩৯ নম্বরে। উনি দ্বাবি করছেন এই ধারার বাইরে অন্য কার অধিকার নাই বায়াত করানোর। এই ভাবে সবাই যদি এই ধরনের এক একটা ধারা তৈরী করে উত্তরাধীকার সুত্রে পরকালিন মুক্তির ঠিকাদারী নেয়া শুরু করে - তাহলে সেটার চেহারা শেষ পর্যন্ত কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়।

আপনি বার বার বলার চেস্টা করেছেন - ঈমান ছাড়া আমল মুল্যহীন। সেটা মেনে নিয়ে যদি প্রশ্ন করি - আমল ছাড়া শুধু ঈমান - ভক্তি - শ্রদ্ধার কোন মুল্য আছে কি? নিশ্চয়ই নাই। এখন প্রশ্ন হতে পারে - ঈমান দৃঢ় করতে থাকলে একসময় আমল তৈরী হবে - না কি আমল করতে করতে ঈমান দৃঢ় হবে? ইসলামের দুটি ধারার পার্থক্য এখানেই। আপনারা মনে করেন ঈমান তথা ভক্তি শ্রদ্ধাই প্রথম এবং এর মাধ্যমেই আমল তৈরী হবে বা না হলেও ক্ষতি নাই শাফায়াতের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া যাবে। তবে অনেকের মতে এটাই একমাত্র পথ নয় - বরং আমল বা বাস্তব জীবনে কর্মের মাধ্যমে ঈমানের বাস্তব স্বাক্ষর রাখতে না পারলে শুধুমাত্র মৌখিক ভক্তি শ্রদ্ধা বা মাজারে পরে থাকা বা অন্যকোন কিছুর বিনিময়েই মুক্তি পাওয়া যাবে না।

"এই প্রশিক্ষণ যে সামরিক ট্রেনিং তা নয়। এর মানে হচ্ছে, হানাফীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে হানাফীদের নিয়ম নিয়মিত পড়া ও চর্চা করার মাধ্যমে রাসূল দ.'র সঠিক ঈমানে দাখিল হওয়া। বা শাফিয়ি বা মালিকি বা হাম্বলি। আবার তরিক্বাহর দিক থেকে বলতে গেলে ক্বাদরী চিশতি নক্সবন্দী মুজাদ্দিদি।"

এখানে আপনি চারটি মাযহাব এবং দুটি তরিকাকে যাস্টিফাই করলেন রাসুল(স.) এর সঠিক পথ হিসেবে। কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই জানেন মাযহাব ছিল শতাধিক। তার মধ্যে এই চারটি জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে টিকে আছে। তাহলে অন্য মাযহাবগুলি কী দোষ করল? অজনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই কি তারা বাতিল হয়ে যাবে?

আপনার কথায় মনে হচ্ছে নতুন কোন কিছু করা মানেই ফেতনা, পুরাতনদের পথে থাকাই সঠিক - তাহলে প্রশ্ন: এই যে চারটি মাযহাব এ'গুলোওতো রাসুল(স.) এর অন্তত কয়েকশ বছর পরে প্রচারিত হয়েছে। যখন এরা প্রচারিত হয় তখনকি নতুন হিসেবেই প্রচারিত হয় নাই? তখনও কি এ'গুলি ফেতনা ছিল?

এই যে কাদেরিয়া এবং নক্সবন্দীয়া তরিক্বাহ - এ'গুলিও রাসু(স.) এর বহু পরে নতুন পথ ও পদ্ধতি হিসেবে প্রবর্তিত হয়েছিল। তাহলে এ'খন কেন নতুন কোন পথ ও পদ্ধতি প্রবর্তিত হতে পারবে না? যদি রাজারবাগী বা দেওয়ানবাগীরা দ্বাবি করে তারাও ঐরকম একটা নতুন পথ তৈরী করছে এবং ভবিষ্যতে সেটাই ঐ রকম জনপ্রিয় হবে - তাহলে তাদের সেই পথে বা তাদের সেই পীরের প্রতি পরিপুর্ণ সমর্পনকে কেন অন্যায় অবৈধ বলবেন??

সর্বশেষ আর এটা বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই - আমরা জানি রাসুল (স.) ছাড়া আর সকল নবী/রাসুল গনের শিক্ষা শুধুমাত্র তাদের নিজ নিজ সমাজ ও সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তাহলে কয়েকজন ইমাম বা পীর এর শিক্ষা পুরো পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত কিভাবে প্রযোজ্য হয়? নতুন ইমাম, নতুন পীর, নতুন ওলী আউলিয়া কেন আসতে পারবেন না? ওনারা কি তবে নবী/রাসুল গনের চেয়েও উপরে স্থান করে নিয়েছেন ??

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:১৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: একজন ব্যক্তির নির্দেশনার প্রতি সমর্পিত থাকা মুক্তির পথ- এই কথাটা ঠিক আছে। কিন্তু একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি জগতের সবার সমর্পিত থাকাই জগতের সবার একমাত্র মুক্তির পথ- এটা সম্পূর্ণ ভুল যদি না তিনি ইউনিভার্সাল আদিল খলিফা হয়ে থাকেন।

আর বর্তমান পৃথিবীতে ইউনিভার্সাল আদিল খলিফা নেই যিঁনি করবেন বা করেছেন খিলাফাত আলা মিনহাযুন নুবুয়্যাহ্।

আল্লাহর রাসূল দ. এবং আহলে বাইত তো জীবিত ভাই। আল্লাহর রাসূল দ.'র পবিত্র প্রাণ কবজ হয়েছে, কিন্তু তাকে মৃত বলা সরাসরি আল্লাহর গুস্তাখি। আর আহলে বাইত মানে হল, আল্লাহর রাসূল দ.'র পবিত্র গৃহবাসী। এই পবিত্র গৃহবাসীদের মধ্যে কিয়ামাত পর্যন্ত তাঁর বংশধররা অন্তর্ভুক্ত যার সমর্থনে একটা হাদীস যথেষ্ট যে হাদীস সকল সালাফিরা পর্যন্ত মানেন-

মাহদী আগমন করবে আমার আহলে বাইত হতে।

উল্লেখ্য, মাহদী আ. এখনো আসেননি, তাই আহলে বাইত মানেই আলে রাসূল দ. এর বিষয়ে অন্যান্য কথ্যগুলোরও প্রয়োজন নেই।

তাছাড়া, আহলে বাইতে নূহ আ.'র কিশতির সাথে তুলনা দিয়ে রাসূলে পাক যে বলেছেন, যে এই তরীতে অবস্থান করে আশ্রয় নেবে সেই মুক্তি পাবে এবং যে নেবে না, সে ধ্বংস হয়ে যাবে নূহ আ.'র গোত্রেরই মত।

এটাও গ্রহণীয় হাদীস। ব্যাপক গ্রন্থে বর্ণিত।

আর একজন আপন নির্দেশদাতাকে 'আতি উল্লাহি ওয়া আতিউর রাসূলা দ. ওয়া উলিল আমরি মিনকুম' এই আয়াত অনুযায়ী সর্বতো মান্য করা তো ওয়াজিব বলা চলে।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:২০

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই ঈমান ছাড়া আমল তো ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী অবশ্যই মূল্যহীন। আমরা তো ইসলাম ধর্মে যোগ বা বিয়োগ করতে পারি না, তা হয় অনধিকার চর্চা।

একজন অ-মুসলিম যাই করুন না কেন, তার সেইসব কাজ তো স্রেফ কাজ হিসাবে সাব্যস্ত হবে, ইবাদাত হিসাবে হবে না। আর মুসলিম মানেই ঈমানদার।

কাজের ক্ষেত্রে দুর্বল কিন্তু ঈমানদারও অনেক ভাল, এই বিষয়ক অসংখ্য আয়াত ও হাদীস রয়েছে যে! কিন্তু কঠোর কর্মময় মানুষ হলেও তার ঈমান না এলে কোন উপায় নেই, এটাও যে চিরায়ত ইসলাম বলে!

এখন টিকে থাকা মাযহাব মাত্র চারটি। কিন্তু অতীতের যত মাজহাব অপরাপর মাযহাব ও ইজমাতে গ্রহণীয় হয়েছে তার সবই মহান এবং সবই মহাসম্মানিত এবং অনুসরণযোগ্য।

আর আমি তরিক্বার কথা এখানে চারটা বলেছি। তাই শুধু নয়, এর বাইরেও অন্তত ৪২ টি তরিক্বা রয়েছে বর্তমানেও টিকে, যা খুবই গ্রহণীয়।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: ভাই আমল তৈরি না হলে ক্ষতি আছে। আমাদের জাহান্নামি হতে হবে। একেবারে চরম পাপীও যে সম্পূর্ণ ক্ষমা পেয়েই যাবে, এতবড় নিশ্চয়তা দেয়ার অধিকার আমাদের কারো নেই। এ অধিকার শুধু আললাহ ও তাঁর প্রতিনিধিরা রাখেন বা হয়ত শুধু আললাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল দ. ই রাখেন। এমনকি আমল বিষয়ক যেসব নির্দেশনা আছে তা যদি আমরা অস্বীকার করি, তবে তা তো ঈমানের অপূর্ণতা হবে, এবং তা কুফর হবে।

পুরোনো মাজহাবগুলোকে মানা গ্রহণীয়। কিন্তু ধারাবাহিকতা এবং অবিকৃততা ইসলামের হিসাবে বাধ্যতামূলক।

"আপনার কথায় মনে হচ্ছে নতুন কোন কিছু করা মানেই ফেতনা," ভাই তাতো অবশ্যই। নতুন কিছু করা সেটা আমরা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে করতে পারি, কুরআন আর হাদীসের ক্ষেত্রে করতে পারি না। কুরআন আর হাদীসের ক্ষেত্রে "ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম" অনুসারে এগুতে হবে আমাদের। যে পথে চলে গেছেন আল্লাহর প্রিয়জন, সেইপথে নতুন কিছু করার নেই, যেহেতু ইতোমধ্যে ইসলামকে কিয়ামাত পর্যন্ত পরিপূর্ণ ঘোষণা দেয়া হয়ে গেছে।



"তাহলে প্রশ্ন: এই যে চারটি মাযহাব এ'গুলোওতো রাসুল(স.) এর অন্তত কয়েকশ বছর পরে প্রচারিত হয়েছে। যখন এরা প্রচারিত হয় তখনকি নতুন হিসেবেই প্রচারিত হয় নাই? তখনও কি এ'গুলি ফেতনা ছিল?"

ভাই কোন মাজহাব রাসূলপাক দ.'র কয়েকশ বছর পর প্রকাশিত হয়নি।

* হানাফি হয়েছে কুরুনে সালাসা বা তিন উত্তম যুগ বা সালফে সালিহিন এর যুগে। আবু হানিফা রা. ছিলেন তাবিয়ি।
* ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিয়ি রা. ছিলেন ইমাম আবু হানিফা রা.'র ছাত্র ও তাঁর ছাত্রর ছাত্র।
* ইমাম হাম্বল রা. ছিলেন ইমাম আবু হানিফা রা.'র দৌহিত্র। এবং ছাত্রর ছাত্র।

এই চার মাযহাব কোনটাই রাসূলপাক দ.'র শত শত বছর পর আসেনি।

এমনকি অপরাপর বিলুপ্ত মাজহাবও নয়।


অন্যত্র দেখুন, এই তরিক্বা সমূহ নামে 'বহু শত বছর পর' তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এইসবের আক্বিদা ও ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ অবিচ্ছিন্ন ছিল। অর্থাৎ, ক্বাদিরিয়া যদিও তৈরি কমবেশি সাতশো বছর পর, আসলে তার ধারাবাহিকতা একেবারে রাসূল দ. পর্যন্ত গিয়ে মেলে। এবং এই ধারাবাহিকতার পরম্পরা ও বিশ্বাসের পরম্পরাই মূল। অন্যান্য তরিক্বা জরুরি নয় যে, তা ক্বাদিরিয়ার সাথে যুক্ত, কিন্তু ভিন্ন হলেও সেসবই কোন না কোনভাবে ব্যক্তিগত সত্যায়নের মধ্য দিয়ে রাসূল দ. পর্যন্ত পৌছেছে এবং তাদের আক্বিদা সকল মাজহাব ও সকল অপরাপর তরিক্বার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অর্থাৎ, নামে বহুত্ব হলেও প্রকৃতপক্ষে বহুত্ব নেই।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:০৮

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: "যদি রাজারবাগী বা দেওয়ানবাগীরা দ্বাবি করে তারাও ঐরকম একটা নতুন পথ তৈরী করছে এবং ভবিষ্যতে সেটাই ঐ রকম জনপ্রিয় হবে - তাহলে তাদের সেই পথে বা তাদের সেই পীরের প্রতি পরিপুর্ণ সমর্পনকে কেন অন্যায় অবৈধ বলবেন??"

প্রথমত, যদি তাদের এই তিনটা বিষয় অবিকৃত থাকতো, তবে তারা যারাই হোক না কেন, তাদের বিনা দ্বিধায় স্বীকৃতি দিতাম। শাফিয়ি হাম্বলি মালিকির সাথে আমার আজ পর্যন্ত ব্যক্তিগত যোগাযোগ এক হিসাবে হয়নি। এবং দলগত (ইমাম ও আলিমদের সাথে ইমাম ও আলিমদের) যোগাযোগও আছে কিনা অহরহ তাও খুব একটা জানি না।

এবং এইযে ৪৬ টি তরিক্বাকে শুদ্ধ বলি, তার মধ্যে সত্যিকার অর্থে আমার অনুসরণ করা তরিক্বার সাথে বাকি ৪৫ টির কোনই লেনদেন নেই।

একইভাবে এদের স্বীকৃতি দিতাম। সত্যি দিতাম, যদি তারা রাজারবাগী ও দেওয়ানবাগীও হতো। এই তিনটা বিষয় ঠিক থাকলে-

১. আক্বিদা। এদের আক্বিদায় এমন ভুল আছে যা অন্যদের মধ্যে নেই।

২. ইজমার সম্পূর্ণ বিপরীতে যাওয়া। সারা পৃথিবীর সকল আহলুস সুন্নাহ অনুসারীরা যে কাজ করেন তার উল্টো। যেমন, হজ্ব, ছবি, ইমাম মাহদি দাবি বা একক ইমামত দাবি। এরা এদের নিজ পীর ছাড়া সবাইকে সম্পূর্ণ গোমরাহ বলে, যেটাকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দেয়া অসম্ভব। শুধু একটা ঘরের অধিবাসীরা নিজেদের সঠিক দাবি করলে যদি তাদের সঠিক স্বীকৃতি দেয়া হয়, তবে বাকি সবাইকে ভুল স্বীকৃতি দেয়া হয়। আর রাসূল দ. বলেছেন তাঁর উম্মতের অধিকাংশ কখনোই ভুলের উপর ইজমা করবে না।

৩. ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্নতা। অন্য সকল মাজহাব ও তরিক্বায় যেখানে চোদ্দশ বছর ধরে অবিকৃত ধারাবাহিকতা রয়েছে সেখানে তা নেই।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:১৫

গোলাম দস্তগীর লিসানি বলেছেন: " আমরা জানি রাসুল (স.) ছাড়া আর সকল নবী/রাসুল গনের শিক্ষা শুধুমাত্র তাদের নিজ নিজ সমাজ ও সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তাহলে কয়েকজন ইমাম বা পীর এর শিক্ষা পুরো পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত কিভাবে প্রযোজ্য হয়? নতুন ইমাম, নতুন পীর, নতুন ওলী আউলিয়া কেন আসতে পারবেন না? ওনারা কি তবে নবী/রাসুল গনের চেয়েও উপরে স্থান করে নিয়েছেন ?? "

নতুন ইমাম আসবেন, এই স্বীকৃতি তো অবশ্যম্ভাবী। যেমন, ইমাম মাহদী আসবেন, ইমাম আল মানসুর আসবেন।

নতুন পীরও আসবেন। কেননা, উলিল আমরি মিনকুম এই শব্দের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে জীবিত বর্তমানদের বোঝানো হয়েছে।

নতুন ওয়ালি এবং তরিক্বার ইমামও আসতেই পারেন। আসামাত্র তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। কেননা, এই ধারা তো স্থির হয়ে থেমে যায়নি।

কিন্তু ইসলাম একটা স্থির বিষয়। রাসূল দ.'র দ্বীন এবং অপরাপর নবী রাসূলগণের উম্মাহর জন্য আসা দ্বীনে একটা বহুল পার্থক্য রয়েছে। আর তা হল, তাঁদের দ্বীন ছিল নির্দিষ্ট উম্মাহর ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (যদিও তা ইসলামই, কিন্তু ইসলামের তখনকার স্থাণিক ও কালিক রূপ)। রাসূল দ.'র দ্বিন কিয়ামাত পর্যন্ত স্থির।

আর মহত্ত্বের মর্যাদায় সবার উপরে আল্লাহর পর রাসূল দ.। তাঁর পর অপরাপর রাসূলগণ আ. পর্যায়ক্রমে। এরপর নবীগণ আ. পর্যায়ক্রমে। এরপর সিদ্দিকে আকবর রা. ও আহলে বাইত-সাহাবাগণ পর্যায়ক্রমে এবং এখানে এই মহান পদবী রুদ্ধ। এই মহান উচ্চতায় আর কেউ যেতে পারবেন না।

নবী-রাসূল তো প্রশ্নই ওঠে না।

কিন্তু ওয়ালী হতে পারবেন, ইমাম হতে পারবেন, পীর হতে পারবেন, মুজাদ্দিদ মুজতাহিদ সবই হতে পারবেন। এমনকি মাজহাব-তরিক্বাহ বা খিলাফাতের ইমামও হতে পারবেন। কোন সমস্যা নেই।

কিন্তু তাদেরকে আসতে হবে আক্বিদার ইউনিভার্সাল সমন্বয়তায়।

১১| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৭

হাসান নাঈম বলেছেন: "আল্লাহর রাসূল দ. এবং আহলে বাইত তো জীবিত ভাই। আল্লাহর রাসূল দ.'র পবিত্র প্রাণ কবজ হয়েছে, কিন্তু তাকে মৃত বলা সরাসরি আল্লাহর গুস্তাখি। আর আহলে বাইত মানে হল, আল্লাহর রাসূল দ.'র পবিত্র গৃহবাসী। এই পবিত্র গৃহবাসীদের মধ্যে কিয়ামাত পর্যন্ত তাঁর বংশধররা অন্তর্ভুক্ত যার সমর্থনে একটা হাদীস যথেষ্ট যে হাদীস সকল সালাফিরা পর্যন্ত মানেন-"

এই ব্যাপারটা একটু বুঝতে চাইছি। রাসুল(স.) রুহানীভাবে জীবিত আছেন - ঠিক আছে। রাসুল(দ.) এর সরাসরি বংশধর কিভাবে জীবিত আছেন ঠিক বুঝতে পারলাম না। ইসলামের বংশ ধারা হয় পুরুষের মাধ্যমে, ছেলেরাই পিতার বংশধর হিসেবে বিবেচিত। রাসুল(স.) এর ছেলেদের আল্লাহ ছোট বয়সেই তুলে নিয়েছিলেন।

যতদুর জানি একটা হাদীস বলা হয় রাসুল(দ.) বলেছেন ওনার বংশধারা হবে মেয়ের মাধ্যমে - সেই হিসেবে হাসার(রা.) এবং হোসাইন(রা.)কে ওনার বংশধর বলা গেলেও ফতেমা(রা.)র তো কোন মেয়ে ছিল না। তাহলে রাসুল(স.) এর বংশ ধারা যদি মেয়েদের মাধ্যমে চালু থাকতে হয় তাহলে সেটা ফাতেমা(রা.) মেয়ে এবং তার মেয়ে এভাবে চলা উচিত ছিল। কিন্তু আল্লাহ সেটাও চালু রাখেন নাই।

এর পরও যদি আমরা রাসুল(স.) রক্তের কোন এক উত্তরাধীকারী খুঁজে বেরও করি তার মানে কি এই যে সেই রক্তের উত্তরাধীকারীই নেতৃত্ব বা বায়াত প্রাপ্তির একমাত্র দ্বাবিদার? তাদের নেতৃত্বই কি নুহের কিশতিরমত যাতে ওঠা ছাড়া মুক্তির কোন পথ নাই? তাদের প্রতি স্বাধারন ভক্তি শ্রদ্ধা রাখাই কি যথেস্ট নয়? ইসলাম কি তাহলে একটা বংশানুক্রমিক বিষয়?

১২| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৫১

হাসান নাঈম বলেছেন: "আসামাত্র তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। "

তাই নাকি? তাহলে চার মাযহাবের বাইরে কেউ কিছু বল্লেই তাকে লা-মাযহাবী বলেন কেন? হতেই পারে সেটা আর একটা নতুন মাযহাবের সুচনা।

গত প্রায় এক হাজার বছরে কয়টা মাযহাব এসেছে? মাযহাবের পথ যখন উম্মুক্ত ছিল তখন তিন-চারশ বছরে শতাধিক মাযহাবের উদ্ভব হয়েছিল। অথচ গত এক হাজার বছরে মানুষের জীবনাচরণ সবচেয়ে বেশী পরিবর্তিত হওয়ার পরও চার মাযহাবের বাইরে আর কোন মাযহাব আসে নি। কেন? কারণ আপনারা ইজতেহাদের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। চার মাযহাবের বাইরে কেউ কোন কথা বল্লেই তাকে গায়রে মুকল্লিদ, লা-মাযহাবি ইত্যাদী বলে ফতোয়া দেয়া শুরু হয়ে যায়। কেন??

প্রবাহমান নদীতে বাঁধ দিলে তা যেমন বদ্ধ জলাশয়ে পরিনত হয় - ইজতেহাদের পথ বন্ধ করে ইসলামকেও তেমনি পশ্চাতপদ করে রাখা হয়েছে। আর এই পশ্চাতপদতা থেকেই তৈরী হয় ধর্মান্ধতা, রাজারবাগী, সয়েদাবাদীসহ বহু ভন্ড পীর, মাজারকেন্দ্রীক যত অপকর্ম এবং মাদ্রাসাগুলিতে এখনও যে শুধুমাত্র মিলাদ/তারাবী/খতম পরিয়ে জীবিকা নির্বাহে বাধ্য মৌলভী তৈরী করা হয় - এর সবকিছুর জন্য দ্বায়ী ইজতিহাদের পথ রুদ্ধ করা। এই পথ খোলা থাকলে গত এক হাজার বছরে আরো কয়েকশ মাযহাবের আবির্ভাব হত এবং ইসলামের একটি আধুনিক যুগউপযোগী ধারা সবসময়ই উপস্থিত থাকত। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সেটা পাই নি। বরং এখনও যারাই কোরআন হাদীস নিয়ে গবেষণা করার চেস্টা করেন তাদেরক প্রতিহত করাই আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে দাড়ায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.