নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মেঘের উপর আকাশ উড়ে নদীর ওপার পাখির বাসা

ওয়াচ্ড১১

ওয়াচ্ড১১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নভেম্বর বিপ্লব; চাঁদের অন্য পীঠ

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৮ ভোর ৬:৩৩


৭ই নভেম্বর। আজ নাকি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। নামে সংহতি হলেও কেন জানি মনে হয় অনেক তারিখের মত এ তারিখটাও জাতিকে বিভক্ত করার একটা উপলক্ষ মাত্র। জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের কাছে দিনটা যদি হয় কালো, বাকি অর্ধেকের কাছে তা সাদা। এমনটাই কথিত নভেম্বর বিপ্লবের গড় মূল্যায়ন । এভাবেই ইতিহাসে ঠাঁই নিয়েছে ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের ৭ তারিখ। বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল বদলে দেয় ইতিহাসের প্রেক্ষাপট, বদলে দেয় এর ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা ও ধারাবাহিকতা, এবং সাথে বদলে দেয় এর মূল্যায়ন। কথিত নভেম্বর বিপ্লবও এর বাইরে নয়। সেনাছাউনিতে অভ্যুথানের ভরা যৌবন তখন। এক জেনারেল আরেক জেনারেলকে মারছে, ফাঁসি কাষ্ঠে ঝোলাচ্ছে এবং নিজেরাও মরছে মশা মাছির মত। খুনাখুনির এ ম্যারাথন হতে বিজয়ীর ডিপ্লোমা নিয়ে রাজনীতির দিগন্তে যে জেনারেলের আবির্ভাব হল তিনি আর কেউ নন সর্ব জনাব জিয়াউর রহমান। ৭৫’এর দিনগুলোকে যদি বিপ্লব আখ্যায়িত করা যায় তা হলে ৭ই নভেম্বর তার সফল সমাপ্তি হয়েছিল এমনটা বললে নিশ্চয় বাড়িয়ে বলা হবে। পরবর্তীতে ৭৫’এর বিজয়ীদের প্রায় সবাইকেই প্রাণ হারাতে হয়েছিল কথিত বিপ্লবের ধারাবাহিকতা হিসাবে। ব্যর্থ বিপ্লবের সংজ্ঞায় একে বলে প্রতিবিপ্লব। বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত নিয়ে ইতিহাসবিদ, সমাজবিদ অথবা মনোবিজ্ঞানীদের কেউ যদি সিরিয়াস গবেষণা করতে যান একটা জায়গায় সবাইকে এক হতে হবে, এ দেশ প্রতিবিপ্লবের দেশ। বিপ্লব ছাড়াও এখানে প্রতিবিপ্লব ঘটানো সম্ভব। মার্কসীয় দর্শনে এর বিশ্লেষণ নেই। হতে পারে কার্ল, ফ্রেডেরিক এবং ভ্লাদিমিরদের কেউ এমন অবিশ্বাস্য ফেনোমেনার কথা কল্পনা করতে পারেননি।

সব বিপ্লবেরই একটা উদ্দেশ্য থাকে, সাথে থাকে বিধেয়। মানবসভ্যতার যাত্রার সাথে বিপ্লবের যাত্রা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নিজেদের আমরা মানুষ হিসাবে দাবি করতে পারছি তাও বোধহয় বিভিন্ন বিপ্লবের ফসল। হোক তা রক্তাক্ত অথবা রক্তপাতহীন, যুগে যুগে বিপ্লবই উপহার দিয়েছে চে গুয়েভারা, ফিদেল কাষ্ট্রো, নেলসেন ম্যান্ডেলা অথবা লেনিনের মত ত্যাগী বিপ্লবীদের। বিচারের দাঁড়িপাল্লায় ৭ই নভেম্বরের বিপ্লবকে দাড় করালে জাতি হিসাবে আমাদের প্রাপ্তি কি ছিল তার কোন নির্দলীয় বিশ্লেষণ আছে কিনা জানা নেই। তবে খোলা চোখে এ বিপ্লবের ফসল দেখতে গেলে আমাদের চোখে ভেসে উঠবে তারেক, ককো, ডিউক আর ইসকান্দারদের মত বিপ্লবীদের চেহারা। বুদ্ধি বিক্রেতাদের একাংশ বলে থাকেন ৭ই নভেম্বর খুনের ধারাবাহিকতায় পেরেক ঠুকে তাতে গোলাপের চাষাবাদ শুরু করেছিল। হতে পারে সত্য যদি তা জিয়া পরিবারের উত্থানকে গোলাপের উত্থানের সাথে তুলনা করার সুযোগ তৈরী করে থাকে। বাংলাদেশের বাস্তবতা কিন্তু তা বলে না, যার প্রমান নভেম্বর বিপ্লবের আসল বেনিফিশিয়ারিদের অসম্মানজনক পলায়ন। ক্ষমতার অবৈধ দখল নিয়ে সেনাছাউনির খুনোখুনিকে যারা বিপ্লব বলেন তাদের বোধহয় বিপ্লবের বেসিক সংজ্ঞার উপর পড়াশুনা করার প্রয়োজন আছে।

৭ই নভেম্বরের বিপ্লবকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম। আমরা মনে হয় ভুলে গেছি এ দিনটা কেবল বাংলাদেশের সেনাছাউনির বিপ্লব দিবসই নয়। পৃথিবীর আরেক প্রান্তে এ দিনটাতে উদযাপিত হচ্ছে এমন এক বার্ষিকী যার হাত ধরে শুরু হয়েছিল মানব সভ্যতার নতুন যাত্রা। শ্রমের সাথে শ্রমজীবির দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের প্রথম সমাধান দিয়েছিল এ দিনের ঘটনাবলী। ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে হলেও নতুন ক্যালেন্ডারের বিবেচনায় দিবসটা পালিত হয় ৭ই নভেম্বর। হ্যা, আমি অক্টোবরের বলশেভিক রেভ্যুলেশনের কথাই বলছি। আজ সেই দিন যেদিন মানব সভ্যতা নতুন করে সন্মান জানাতে বাধ্য হবে তাদের, যারা নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং শোষিত মানুষের পক্ষে গর্জে উঠছিলেন। সময় ও প্রয়োজনীয়তার কাছে পরাজিত মনে হলেও নভেম্বর বিপ্লবের ফসল মানব জাতি আজীবন ভোগ করে যাবে। বিপ্লব এ জন্যেই বিপ্লব কারণ তা দেশ, জাতি এবং সভ্যতার হয়ে কাজ করে, কোন ব্যক্তি অথবা পরিবারের জন্যে নয়।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৭:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:


৭ই নভেম্বর হলো মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস; যারা একে বিপ্লব মিপ্লব বলে, তাদেরকে কুকুরের মতো ঝুলানো দরকার।

২| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:১৭

ঢাবিয়ান বলেছেন: বিপ্লব জিনিষটা বাংলাদেশে কখনই হয় নাই। যাই হোক ইতিহাস যতটূকু পরেছি তাতে যা বুঝতে পেরেছি তা হল মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামিলীগের দুঃশাশনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল জনগন। যে লক্ষ্যে বাংলাদেশ আলাদা হয়েছিল পাকিস্তান থেকে তার কোনটা পুরনতো হয়ই নাই বরং পরিস্থিতি হয়ে উঠেছিল আগের চাইতে বহুগুন খারাপ। বিশেষ করে ৭৩/৭৪ এর দুর্ভিক্ষের পরেতো আর আওয়ামিলীগের পক্ষে থাকার কারো কোণ কারনই ছিল না যদি না কেউ চুরি দারিতে সরাসরি জড়িত থাকে। সেনাবাহিনীর সেই সময়ের অফিসারেরা সবাই ছিল মুক্তিযোদ্ধা। সুতরাং তাদের যে আবেগ ছিল দেশের প্রতি তা খাট করে দেখার সুযোগ নাই। তবে একই সাথে সেনা অভ্যন্তরে অন্তর্দ্বন্দ ও ক্ষমতার লোভ সবাইকে করে তুলেছিল উন্মাদ।যার ফলশ্রতিতে শুধু বয়ে গিয়েছিল রক্তের বন্যা। এই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের বেনিফিশিয়ারী হয়েছে মুলত দুই বীপরিত পক্ষ। এক পক্ষ শেখ পরিবার ও আরেক পক্ষ জিয়া পরিবার। দুই পক্ষই ইতিহাস লেখে যার যার সুবিধানুযায়ী।

৩| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৪৫

রাজীব নুর বলেছেন: চাঁদগাজী বলেছেন:
৭ই নভেম্বর হলো মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস; যারা একে বিপ্লব মিপ্লব বলে, তাদেরকে কুকুরের মতো ঝুলানো দরকার।

ইয়েস।

৪| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:০৬

খাঁজা বাবা বলেছেন: চাঁদ গাজী ভাইয়ের কাছে আমার প্রশ্ন ( যদি এ কমেন্ট দেখে থাকেন) কোন কোন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং কে করেছিল?

৫| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:১৮

বলেছেন: ১৯৭৫ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সাল হিসেবে গণ্য হবে, কারণঃ
- এ বছর জাতির পিতাকে সপরিবারে খুন করা হয়
- জাতীয় চার নেতাকে জেলে বন্দী অবস্থায় কাপুরুষের মত হত্যা করা হয়।
- দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও জি ফোর্সের কর্ণেল তাহের

আরেকটি কারণ হতে পারেঃ
- সামরিক বাহিনী ও কমিউনিস্ট গণবাহিনীর আস্ফালনের জন্য।

৬| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:১৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: বিপ্লব হয়েছিল ফ্রান্সে। বিপ্লব হয়েছিল রাশিয়ায়।
বাংলাদেশে কোন বিপ্লব হয়নি।
বাংলাদেশে হয়েছিল সেনাবিদ্রোহ।
হাউ কাউ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.