নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

মোহাম্মদ আলী আকন্দ

১৯৮৭ সালে আইনজীবী হিসাবে ময়মনসিংহ বারে এবং পরে ঢাকা বারে যোগদান করি। ১৯৯২ সালে সুপ্রিম কোর্ট বারে যোগ দেই।

মোহাম্মদ আলী আকন্দ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিলালী মুহাম্মদ মুসলমান ফকীহ (আইনজ্ঞ)--আমেরিকার ক্রীতদাস

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১:০৬

বিলালী মুহাম্মদ
মুসলমান ফকীহ (আইনজ্ঞ)--আমেরিকার ক্রীতদাস



১৭৭০ সালে বিলালী মুহাম্মদ ইসলামিক কনফেডারেশনস ফুটা জালোন (বর্তমান গিনি) এর রাজধানী ট্যাম্বোতে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি হাদিস শাস্ত্র, শরীয়া আইন এবং কোরআন তফছীরের উপর উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি কি ভাবে কোথায় দাস হিসাবে বন্দি হন তা জানা যায় নাই।



১৮০২ সালে ব্রিটিশরা আমেরিকার জর্জিয়া স্টেটের উপকূলীয় দ্বীপ স্যাপেলো আইল্যান্ডের থমাস স্পেলডিং এর কাছে বিলালী মুহাম্মদকে বিক্রি করে।

বিলালী মুহাম্মদ এক দিক থেকে অন্যান্য দাসদের থেকে ভাগ্যবান ছিলেন। তার মালিক ছিলেন একজন ব্যতিক্রম ধর্মী মানুষ। অন্যান্য দাস মালিকরা যেখানে তাদের দাসদেরকে দিয়ে সারাদিন কাজ করতো, সেখানে থমাস স্পেলডিং তার দাসদেরকে দিয়ে দিনে ৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করাতেন না। দাসদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীনতা ছিল। দাসদের পরিচালনা করার জন্য সাদা সুপারভাইজার ছিল না। তিনি দাসদেরকে ভাল খাবার, কাপড় এবং থাকার জায়গা দিতেন। থমাস স্পেলডিং এর ৫০০ দাস ছিল তারমধ্যে ৮০ জন মুসলমান। মুসলমান দাসরা প্রকাশ্যে নামাজ পড়তে পারতো।



বিলালী মুহাম্মদ তার মালিকের কৃষি খামারের মধ্যেই ছোট একটা মসজিদ নির্মাণ করেন। এই মসজিদটা উত্তর আমেরিকাতে প্রথম মসজিদ হিসাবে স্বীকৃত।

উচ্চ শিক্ষার কারণে থমাস স্পেলডিং বিলালী মুহাম্মদকে উচ্চ মর্যাদা দিতেন। তাঁকে ঐ খামারের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করেন। আরেকটা ব্যতিক্রম ছিল, দাস মালিকরা কখনো দাসদের হাতে অস্ত্র দিতেন না। কিন্তু থমাস স্পেলডিং খামারের নিরাপত্তার জন্য বিলালী মুহাম্মদের হাতে অস্ত্র তুলে দেন। বিলালী মুহাম্মদের নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা এবং পরিচালনা করার দক্ষতা ছিল।



১৮১২ সালে ব্রিটিশরা যখন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করে হোয়াইট হাউজ দখল করে নেয় তখন থমাস স্পেলডিং বিলালী মুহাম্মদের কাছে খামার রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে পালিয়ে যান। বিলালী মুহাম্মদ ৮০ টা মাস্কেট (একধরণের লম্বা নলঅলা বন্দুক) দিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুলেন। যুদ্ধ শেষে থমাস স্পেলডিং তার খামারে ফিরে দেখেন বিলালী মুহাম্মদ সুন্দর ভাবে তার খামার রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। বিলালী মুহাম্মদের সততা, ও চারিত্রিক দৃঢ়টা দেখে তিনি তার খামার দেখা শুনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তাঁকে দেন।



বিলালী মুহাম্মদ দাস হিসাবে বন্দি অবস্থায় শরীয়া আইনের উপর আরবিতে একটা বই লিখেন।
১৮৫৭ সালে মৃত্যুর আগে বিলালী মুহাম্মদ তার লেখা বইটা ফ্রান্সিস রবার্ট গৌল্ডিং নামের একজন আমেরিকান লেখককে উপহার হিসাবে দিয়ে যান। তখন আমেরিকাতে কেউ আরবি পড়তে পারতো না। তাই তারা আরবিতে লেখা বইটাকে মনে করতো বিলালী মুহাম্মদের ডাইরি। অনেক বছর পরে যখন এই বইটার মর্ম উদ্ধার করতে পারে তখন তারা বুঝতে পারে এটা একটা মূল্যবান বই।

১৯৩১ সালে জর্জিয়া স্টেট লাইব্রেরি বিলালী মুহাম্মদের বইটি সংরক্ষণ করেছে।



ছবি: ইন্টারনেট
তথ্য সূত্র:
১. Servants of Allah: African Muslims Enslaved in the Americas by Sylviane A. Diouf
২. Muslims in American History: A Forgotten Legacy by Jerald Dirks
৩. Lost Islamic History: Reclaiming Muslim Civilisation from the Past 1st Edition
by Firas Alkhateeb
৪. Bilali Muhammad’s Legacy of Islamic Scholarship in America
৫. Bilali Muhammad: Muslim Jurisprudist in Antebellum Georgia by Muhammed Abdullah Al-Ahari
৬. Muslim history in U.S. full of surprises by Gregory Kane The Baltimore Sun

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ৯:২২

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: তাহলে তো অনেক আগেই আমেরিকাতে ইসলাম প্রবেশ করেছে...

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪২

মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:



প্রথম মুসলিমরা কখন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে বিষয়টি অস্পষ্ট। অনেক ঐতিহাসিক দাবি করেছেন যে সবচেয়ে প্রথম মুসলমানরা আফ্রিকার সেনেগাম্বিয়ান অঞ্চল থেকে ১৪ শতকের গোড়ার দিকে এসেছিলেন। এটা বিশ্বাস করা হয় যে তারা সম্ভবত মোর (মরোক্কান), স্পেন থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ক্যারিবীয় এবং সম্ভবত মেক্সিকো উপসাগরে দিকে এসেছিল।

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪৫

মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:



কলম্বাস যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা করেছিলেন, তখন বলা হয় যে তিনি দ্বাদশ শতাব্দীতে পর্তুগিজ মুসলমানদের দ্বারা রচিত একটি বইয়ের সাহায্য নিয়েছিলেন যারা নিউ ওয়ার্ল্ডে যাত্রা করেছিল। অর্থাৎ এটা দ্বারা বুঝা যায় কলম্বাস আমেরিকাতে আসার আগে থেকেই মুসলমানরা আমেরিকাতে যাতায়াত করতো।

২| ১৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: জানলাম। ধন্যবাদ।

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪৬

মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:



আপনাকেও ধ্যনবাদ।

৩| ১৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:১২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এক অজানা ইতিহাস জানানোয় ধন্যবাদ।

মাঝে মাঝে মনে হয় ইসলামফোব এবং সো কল্ড সভ্যরা তাদের নিকট অতীতের নোংরা অতীত ঢাকতেই
ইসলামকে অসৎ, কুৎসিত, মিথ্যা আক্রমন করে। ইসলামে ১৪০০ বছর আগে নিষিদ্ধ দাস প্রথাকে তারা ১৭০০-১৮০০ সাল পর্যণ্ত পেলে পুষে এখন মানবতাবাদীর ভং ধরে! আর তাই নিজেদের কলূষিত নিকট বর্তমানকে আড়াল করতেই হৈ হৈ করে ওঠে !

এই বইটা কি অনুবাদ হয়েছে?
ইসলামী স্কলারেদর মতামত কি জানা গেছে?

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:০৮

মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:



পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইসলাম ফোভিয়া একটা রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় আত্মরক্ষামূলক কৌশল (ডিফেন্স মেকানিজম) যেমন ক্যাপিটালিস্টদের কমিউনিস্ট ফোভিয়া, কমিউনিস্টদের ক্যাপিটালিস্ট ফোভিয়া ইত্যাদি। তবে এইগুলিকে ডিফাইন করা হয় না। না না ধরণের মিথ্যা, অর্ধ মিথ্যা-অর্ধ সত্য তথ্য প্রচার এবং প্রোপাগান্ডা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য বিস্তার রোধ করা।

সভ্যতা নানান ধাপ অতিক্রম করে বর্তমান স্তরে এসেছে। এখানে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরলে অনেক কিছু অসভ্য মনে হবে।

আমি যে বইগুলি সূত্র হিসাবে উল্লেখ্য করেছি সেগুলি অনুবাদ হয়েছে কি না আমি জানিনা।
আর যদি বিলালীর বইয়ের কথা বলেন তাহলে সেটা ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে। এটা মূলত শরীয়া আইনের একটা বই, যা তিনি কোন রেফারেন্স ছাড়াই মন থেকে লিখেছেন। কারণ ওই সময় কাছে কোন রেফারেন্স বই এমন কি কোরআন বা হাদিস গ্রন্থ ছিল না। আগেই উল্লেখ্য করেছি তিনি ফিকাহ, হাদিস এবং কোরআন তফসিরের ছাত্র ছিলেন। যতটুকু মনে ছিল তা মন থেকে লিখেছেন। তাই বিলালীর লেখা বইটাকে যতটুকু শরীয়া আইনের বই হিসাবে দেখা হয় তারচেয়ে বেশি ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে মূল্যায়ন করা হয়।

৪| ১৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১০

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: সুন্দর একটি তথ্য উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদ।

-এই বইটা কি অনুবাদ হয়েছে?
ইসলামী স্কলারেদর মতামত কি জানা গেছে?-- আমিও জানতে চাই।

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:১০

মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেছেন:



পড়া এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
বইটা সম্পর্কে আগের মন্তব্যর জবাবে বলেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.