নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মনটা যদি তুষারের মতো...

আখেনাটেন

আমি আমাকে চিনব বলে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি একা একা, পাই নি একটুও কূল-কিনারা কিংবা তার কেশমাত্র দেখা। এভাবেই না চিনতে চিনতেই কি মহাকালের পথে আঁচড় কাটবে শেষ রেখা?

আখেনাটেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চিরতার রসঃ কৃষক বজলু মিয়া যেভাবে ফকির হলেন!!

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:৩০



নামঃ বজলু মিয়া
বাড়িঃ নিঃস্বপুর
বর্তমান পেশাঃ ভিক্ষাবৃত্তি (স্বাধীন ও নিশ্চিন্ত পেশা)
সাবেক পেশাঃ বর্গাচাষী (অন্যের জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ)
পরিবারের সদস্যঃ চারজন (স্ত্রী, বার বছরের নাবালিকা কন্যা ও শিশু পুত্রসন্তান)

ফার্মগেটের ফুটওভার ব্রিজের নিচে হাতে ঝোলা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক কৃশকায় প্রতিবন্ধী লোক। সাথে সুর করে মানুষকে আকৃষ্ট করছে। প্রফেশনাল না হওয়াতে মানুষের সহানুভূতিটা কম পাচ্ছে। তবে দিন শেষে রোজগার ভালোই মনে হয়।

আমি দীর্ঘক্ষণ লোকটিকে লক্ষ করছি। বেশভূষা ও কথাবার্তা শুনে আমার মন বলে উঠল এই লোকের সাথে কথা বলা দরকার।

-’ভাইজান বুঝি শহরে নতুন।’ --আমার কৌতূহলী জিজ্ঞাসা।

-’তা বলতে, এই শহরে কে নতুন নয়? এই আমি নতুন, আপনি নতুন, রাস্তায় চলাচলকারী সবাই নতুন, সবার নতুন ফন্দিফিকির, নতুন জিন্দেগীর আশা। নতুন ছলনা। এই শহরে সবাই নতুন ভাই, সবাই নতুন।’ দার্শনিকসুলভ কথা বলে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালেন। তারপর মৃদু স্বরে বলে উঠলেন, ‘তা ভাইজান কি এই পেশায় নামবার চায় নাকি। নেমে পড়েন। আগের চেয়ে এখন আমি বহুৎ সুখে আছি’।

রহস্যের গন্ধ পেয়ে, ‘তা আগে কী পেশায় ছিলেন?’
-চাষবাস।
-তা চাষবাসের মতো চমৎকার একটি পেশা বাদ দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে পড়লেন কেন?

আমার কথা মাটিতে পড়ার আগেই উনি খেঁকিয়ে উঠলেন, ‘চমৎকার পেশা না *লের পেশা। কোন ফকিন্নির পুত ধানচাষকে ‘চমৎকার পেশা’ বলছে আমাকে দেখিয়ে দ্যান। *লার পুতের বাঙ্গি যদি না ফাটাতে পারি তাইলে আমি কৃষক বজলু মিয়া নই’।

আমি আমার আগের বলা বাক্যটা ক্যোঁৎ করে গিলে ফেললাম। এবং এও জানলাম উনি একজন সাবেক কৃষক যার নাম বজলু মিয়া।

-ঘটনা কী? একটু খুলে বলবেন ভাইজান।

-আমি আগে বর্গাচাষী ছিলাম। বিভিন্নজনের থেকে জমি নিয়ে ১২ বিঘার (৩৩ শতাংশে এক বিঘা) মতো ধানচাষ করতাম। আগের বছরগুলোতে টেনে-টুনে চলেছে। এই বছর আর পেরে উঠে নি। মাসখানেক হল বিশাল এক ঋণের বোঝা নিয়ে দেশান্তরি হয়ে এখন বর্তমান পেশায়। বেশ ভালো আছি।

-কীভাবে লস খেলেন?
-প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, বীজ, আগাছাদমন, সার, কীটনাশক ও কামলাবাবদ খরচ প্রায় আট হাজার টাকা। ১২ বিঘায় খরচ ১২*৮ = ৯৬ হাজার টাকা। মহাজন থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম সিজনভিত্তিক সুদে। ৪০ হাজার টাকায় ধান উঠার পর ২০ হাজার অতিরিক্ত দিতে হত।

এই বছর বর্ষার বৃষ্টির ঘাটতিতে বিঘাপ্রতি ফসল হয়েছে ১৬ মণ। মোট ধান পেয়েছিলাম (১২*১৬) = ১৯২ - ১৯.২ = ১৭২.৮ মণ। (শতকরা ১০% ধানকাটা-মাড়াই বাবদ বাদ দিয়ে)

এখান থেকে জমির মালিককে (আধিভাগা হিসেবে) দিতে হয়েছে অর্ধেক মানে (১৭২.৮/২) = ৮৬.৪ মণ। অর্থাৎ আমার ভাগে থাকল বাকি ৮৬.৪ মণ।

ধান বিক্রি করেছি ৬৪০ টাকা দরে। অর্থাৎ ৮৬.৪*৬৪০ = ৫৫,২৯৬ টাকা। সাথে খড় বিক্রি করেছি প্রতি বিঘাতে ১,০০০ টাকা করে। ১২*১০০০ = ১২,০০০ টাকায়।

১২ বিঘাতে মোট আয় = ৫৫,২৯৬ + ১২,০০০ = ৬৭,২৯৬ টাকা।
১২ বিঘাতে মোট খরচ = ৯৬, ০০০ টাকা + সুদের ২০,০০০ টাকা = ১,১৬,০০০ টাকা।
১২ বিঘাতে নিট লোকসান = ১,১৬,০০০ - ৬৭,২৯৬ = ৪৮,৭০৪ টাকা।

-’একটি গাই-বাছুর ছিল বিক্রি-বাটা করে কিছু ঋণ শোধ করে বাড়িতে তালা-চাবি দিয়ে এই খাম্বার নিচে দাঁড়াইছি। ভালো করি নি'। আরো কী সব বলছিল ফকির বজলু মিয়া। আমার সে কথা শোনার মতো আর সৎ সাহস নেই।

আমি উদাস হয়ে আকাশের পানে চেয়ে নব্য ভিক্ষুক বজলু মিয়া থেকে দূরে সরে আসলাম।

আর শীর্ষেন্দুর ‘যাও পাখি’র সোমেনের বাবার মতো বিড়বিড় করে বললাম, ‘ভগবান সকলকে সুখে রাখুন’।

****************************************************************************************************
@আখেনাটেন/২০১৯
ছবি: অন্তর্জাল

মন্তব্য ৬৫ টি রেটিং +১৩/-০

মন্তব্য (৬৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আখেনাটেনভাই,

আপাতত উপস্থিতির জানান দিলাম। সময় নিয়ে পরে আবার আসছি।

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:১১

আখেনাটেন বলেছেন: পদধূলিতে প্রীত হলুম। :D

আসুন...অপেক্ষায় থাকলুম।

২| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:০০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: বজলু মিয়ার মতো সব কৃষক যদি চাষ-বাস বাদ দিয়ে খাম্বার নীচে দাড়ায় তাহলে দেশের সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হবে!! :((
দেশের আলটিমেট গন্তব্য কোথায়?

দুইটা বিষয়ঃ
- ছবি কেমনে দিলেন, আমি তো দিতে পারি না! :(
- ফারাও সাহেব কি এই অধমের উপর কোন কারনে নাখোশ? আমার বিগত বেশ কয়েকটা পোষ্টে আপনার মুল্যবান মন্তব্য থেকে বন্চিত হইলাম! :( :((

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:২০

আখেনাটেন বলেছেন: ধানচাষীদের অবস্থা এবারে কেরোসিন। আর এই ধানচাষের সাথে যেহেতু গ্রামীন এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ওতপ্রতভাবে জড়িত, ফলে সবকিছু সেখানে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। আমন ধানে মার খেয়েছে এখন ইরি'র দিকে চেয়ে আছে। অনেকের সাথে কথা বলে হতাশার চিত্র ছাড়া আর কিছু দেখি নি।

তবে বিদ্যুৎ, রাস্তা-ঘাটের জন্য সবাই খুশি। মহিলারা স্টার জলসা দেখতে পারছে সুদূর গ্রামে বসেও। এ জন্য শেখের বেটির প্রশংসা প্রাপ্য। তবে ভুখাপেটে কতদিন জলসা ঘরে থাকা যায় সেটাই দেখার বিষয়।

*ছবির জন্য নিচের দিকে যেখানে ড্রাগ করে লেখা আছে সেখানে ক্লিক করে ডেস্কটপ থেকে ড্রাগ অ্যান্ড ড্রপ করে যোগ করুন।

* আর আপনার পোস্টে সময় করে যাব। অফলাইনে দেখেছি। গুরুগম্ভীর পোস্ট। সময় নিতে হবে। :D

প্রীত হলুম আপনার মন্তব্যে। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা নিরন্তর।

৩| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:৪০

চাঁদগাজী বলেছেন:


চাষীরা একজন ছাত্রলীগের পাতি নেতার এক হাজার ভাগের ১ অংশও আয় করে না; ১ জন শিবিরের মতো সৌদী ও পাকী টাকায় বেতন পায় না; ছাত্রদলের নেতার মতো কন্টা্রকাটারী করে না; কিন্তু তারা শুধু ধান চাষ করার কথা নয়, চাষ করে আজও চলা যায়, কিছু মুলধনের দরকার।

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:২৬

আখেনাটেন বলেছেন: ভালো বলেছেন ছাত্র নামধারী এই সকল সোনার ছেলেদের নিয়ে। ভগবান সত্যিই এদের সুখে রেখেছেন তাহলে।


এবারের আমনের মতো ধানের দাম কৃষক পেলে চাষ করে চলা তো দূরে থাক খাম্বার নিচে দাঁড়ানোর লোকের লাইন ধরবে। এই লোকগুলো অল্পতেই তুষ্ট বিধায় কোনো প্রকার বাড়াবাড়িতে যায় না। এখন আশায় বুক বেঁধেছে ইরি ধানের দামটা সঠিকভাবে পাবে।

আর মনে রাখতে হবে দেশের কৃষকের বড় একটা অংশ বর্গাচাষী। নিজেরা পরিশ্রম করে বলে আয়-ব্যয়ের ব্যাপারটা টের পায় না।

মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানবেন।




৪| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:৪১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: গুরুগম্ভীর পোস্ট। টু বি মোর প্রিসাইস, আমার গত পাচটা পোষ্টে আপনার দেখা নাই, তাই ভাবলাম নাখোশ কিনা!! :)

ছবির জন্য নিচের দিকে যেখানে ড্রাগ করে লেখা আছে সেখানে ক্লিক করে ডেস্কটপ থেকে ড্রাগ অ্যান্ড ড্রপ করে যোগ করুন। টেরাই করলাম। Changes you made may not be saved. এই মেসেজ দেখায়! ধাপে ধাপে যদি বলতেন একটু!!

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:৪৮

আখেনাটেন বলেছেন: হা হা হা। আপনি আমার অন্যতম প্রিয় ব্লগারদের একজন। এতদিন ব্লগে থেকে নানা শ্রেণির ব্লগার দেখেছি। কেউ দলকানা, কেউ তালকানা; কেউ সাধু, কেউ গাদু; কেউ হ্যাংলা, কেউ বাংলা; কেউ দাঁতাল, কেউ মাতাল; কেউ হালাল, কেউ দালাল; কেউ পাগল, কেউ ছাগল; কেউ হাগু, কেউ ছাগু; কেউ ধড়িবাজ, কেউ চাপাবাজ; কেউ চেতনাবাজ, কেউ ফেতনাবাজ; কেউ মিচকে শয়তান, কেউ ফিচকে পাকতান; কেউ পাদা, কেউ ভাদা; কেউ লাদি, কেউ বদি; কেউ জ্যোতিষ, কেউ ছতিস; কেউ জ্ঞানী, কেউ মানি; কেউ শিক্ষিত, কেউ দীক্ষিত; কেউ অশিক্ষিত, কেউ কুশিক্ষিত; কেউ আস্তিক, কেউ নাস্তিক; কেউ ভেউ, কেউ ঘেউ; কেউ প্যাঁক, কেউ ছ্যাঁক; কেউ জাদা, কেউ গাধা; কেউ শিশু, কেউ হিসু; এত এত ক্যাটেগরির মধ্য থেকে আপনাকে অনেকটাই আমার সমগোত্রের মনে হয়েছে। তাই সেখানে নাখোস হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। :P

আর কিছু বলা লাগবে। :P



৫| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৭

ভুয়া মফিজ বলেছেন: হে হে হে......শেষ পর্যন্ত পারলাম।
আমার আন্তরিক কুর্ণিশ নিন মহামান্য সম্রাট!!!

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:৪৮

আখেনাটেন বলেছেন: তথাস্তু জনাবে আলা। হা হা হা।

ভালো থাকুন।

৬| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪

সাহসী সন্তান বলেছেন: সম্ভবত যমুনা টেলিভিশনের একটা রিপোর্ট দেখছিলাম, ঢাকা শহরের একজন ভিখারীর মাসিক গড় আয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেদিক বিবেচনা করলে বজলু মিয়ার পেশাটা যে অলাভজনক নয় সেটা বোঝাই যাচ্ছে...

কিন্তু কথা সেটা না! এখানে মূল কথাটা হইলো, বজুল মিয়ার মত মানুষ গুলো এভাবে হাল ছেড়ে দিয়ে এসে খাম্বার নিচে দাঁড়াইলে একদিন আমারও তো খাম্বা হয়ে যাব। সরকারের উচিত এদের জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করা! অন্তত মহাজনের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে আর একটা বজলু মিয়া বাড়তে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি দেওয়া!

বজলু মিয়ার জন্য সমবেদনা! পোস্ট ভাল হইছে! শুভ কামনা জানবেন!

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:৫৫

আখেনাটেন বলেছেন: যমুনা টিভি ঠিকই দেখিয়েছে। বজলু মিয়া এখন লাভজনক পেশায়।

সরকার বজলুদের জন্য চিন্তা করলে গদির চিন্তা কে করবে শুনি! কিছু অসৎ লোকের লোভের বলি হচ্ছে এই বজলু মিয়ারা। ধানের দাম এত কম; অথচ চালের দাম ঠিকই আগুন ধরে আছে। বাজার ব্যবস্থাপনা কিছু ধড়িবাজ লোকের হাতে পড়েছে। এগুলো নিয়ে ভাবার লোক কোথায়?

আপনাকে অনেকদিন পর ব্লগে দেখলাম মনে হচ্ছে। শুভেচ্ছা নিবেন ব্লগার সাহসী সন্তান।

৭| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৯

মা.হাসান বলেছেন: পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে কিছু ধান হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে দাম ছিল মন প্রতি ৬৯০ টাকা। মা কে বিক্রি করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন দাম মন প্রতি ৬০০ টাকা। বিএনপি-জামাতের এজেন্টরা ষড়যন্ত্র করে দাম কমিয়ে দিচ্ছে।
সার কামলা সেচ সহ এক মন ধান উৎপাদনে অানুমানিক খরচ ৮০০ টাকার মতো (কৃষকের শ্রমের দাক ০ টাকা ধরে, সুদ নেয়া হয় না ধরে)।
এক মন ধান থেকে ২৫ কেজির মতো চাল হয় (দু-সিদ্ধ হলে ২৭ ১/২ কেজি পর্যন্ত হয়)।
৭০০ টাকার এক মন ধান থেকে (ধরে নিয়েছি মিলার মৌসুমের শুরুতে বেশি দামেই কিনেছে, পরের কম দামে না) সিদ্ধ, ভাঙানো থেকে চাল বস্তা বন্দি করা পর্যন্ত সর্বোচ্চ খরচ ১০০ টাকা (১ বস্তায় ২ ১/২ মন ধান থাকলে বস্তা প্রতি খরচ ২৫০ টাকা) ।
২৫ কেজি চালের জন্য মিলারের খরচ বর্তমান বাজার দর অনুসারে ৮০০ টাকা। কেজি প্রতি ৩২ টাকা। আমরা চাল কিনে খাচ্ছি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।
বিএনপি জামাত ষড়যন্ত্র করে প্রতি কেজি চালে অতিরিক্ত লাভ করছে ১০ টাকা (কেজিতে ৬-৮ টাকা লাভ যৌক্তিক মনে করি) ।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের চাহিদা ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চালের।
১ টন= ১০০০ কেজি
৩.৫ কোটি টন =৩.৫ x ১০০০০০০০০০০ কেজি।
প্রতি কেজিতে ১০ টাকা অতিরিক্ত লাভ ধরলে মোট অতিরিক্ত লাভ ৩.৫ x১০ x১০০০০০০০০০০ টাকা= সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।
ভুয়া মফিজ ভাইয়ের মতো করে বলতে পারি, যদি দেশ কে ভালোবাসি, সরকার কে ভালোবাসি, যদি জামাত-শিবিরের নিপাত চাই, তাদের কালো টাকার উৎস বন্ধ করতে চাই, তবে সব কৃষকের উচিৎ খাম্বার নিচে অাসা।

২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:৫৯

আখেনাটেন বলেছেন: কিছু ফড়িয়াবাজ লোকের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে দেশের অর্থনীতি। এরা যাচ্ছেতাইভাবে অর্থ উপার্জন করছে।

আপনি হয়ত জানেন উত্তরবঙ্গের কিছু জেলাতে দরিদ্র মানুষের হার আগের বছরের তুলনায় বেড়ে গেছে। এগুলো নিয়ে সরকারের আর মনে হয় মাথাব্যথাও নেই। তারা ভালো করেই জানে কারো কাছে জবাবদিহি করার কিছু নেই, তাই কেউ মরল কি বাঁচল তা দেখার সময় নেই। গদি বাঁচাও।

ভগবান সুমতি দিক আমাদের সকলকে।

চমৎকার বিশ্লেষণমূলক মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানবেন। ভালো থাকুন।

৮| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এটা যদি সত্যি ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে খুবই ভাববার বিষয়। আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। নিজে কৃষিকাজ করেছি। নিজ জমি ও বর্গা জমি মিলিয়ে চাষাবাদ করা প্রায় সব কৃষকেরই কমন অভিজ্ঞতা। তবে, যা ধান পেতাম, তাতে মোটামুটি ১ বছর বা, ১০/১১ মাস চলে যেত। এক বছর খেতে পারাটাই সাধারণত টার্গেট থাকে। তবে, এত শোচনীয় অবস্থা আমাদের নিজেদের কখনো হয় নি, অন্য কাউকেও দেখি নি। ৩০ বছর আগে ধানের ফলনের চাইতে এখন প্রায় ৩/৪ গুণ বেশি হওয়ার কথা, বিশেষ করে সারাবছর ধান চাষ করার পদ্ধতি যেখানে চলমান আছে, সেখানে তো এটা অবশ্যই সম্ভব।

একই সাথে এটাও ঠিক, ধানের বীজের অভাব, শ্রমিকদের মূল্য বৃদ্ধি, সারের মূল্য, সব মিলিয়ে খরচও অনেক বেড়ে গেছে। ধানের শ্রমিকরা এখন অন্য কাজে চাকরি পাচ্ছে। ফলে, ধান চাষীদের অবস্থা উত্তরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। সারের মূল্য কমানো, বিনামূল্যে বীজ প্রদান, ভর্তুকি মূল্যে সরকারী পর্যায়ে ধান কেনা, ইত্যাদি কিছু পদক্ষেপ নিলে কৃষকরা খেয়ে পরে বাঁচতে পারবে। নইলে ধানের জমি বিরাণ মাঠ হয়ে যাবে। সবাই তো আর বজলু মিয়া হতে পারবে না, হলেও পেট চলবে না।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:০৭

আখেনাটেন বলেছেন: হিসাবটা পাক্কা; অসত্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। :((

আপনি কৃষক পরিবারের ছেলে জেনে পুলকিত হলুম। আমিও তাই। ছোটকালে এই ধান নিয়ে নানা স্মৃতি।

তবে গতবছরও ধানের দাম বেশি থাকাতে কৃষক কিছুটা লাভের মুখ দেখেছিল। কিন্তু এবার জমির মালিক লাভবান হলেও বর্গাচাষীদের পথে বসার যোগাড়।

আর ধানের ফলন বাড়লেও শ্রমের মূল্যসহ অন্যান্য উপাদানের অত্যধিক মূল্য হওয়ায় উৎপাদন খরচও ভীষণ বেড়ে গেছে। আপনি হয়ত জেনে থাকবেন উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার একর জমিতে এখন ফলের বাগান হচ্ছে। মানুষ ধান আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ফলমূলে লাভ বেশি।


সরকারের অবশ্যই কৃষকদের জন্য চিন্তা করা দরকার।

আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগল ব্লগার সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল। ভালো থাকুন।

৯| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৮

নীল আকাশ বলেছেন: বজলু মিয়ার মতো সব কৃষক যদি চাষ-বাস বাদ দিয়ে খাম্বার নীচে দাড়ায় তাহলে শুধু বজলু মিয়া সারা দেশের মানুষের খবর আছে। কয়েকদিন আগে শুনলাম চাষাবাদের জন্য সাহায্যকারী পাওয়া যাচ্ছে না, আর যাদের পাও্যা যাচ্ছে তাদের দৈনিক ভাতা এতই বেশি যে ভাড়া করা যায় না........। আজীব দেশ আর আজীব কর্মকান্ড!!
টাকাপয়সার হিসাবটা কঠিন হয়েছে।
ধন্যবাদ।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:১০

আখেনাটেন বলেছেন: চাষবাসের লোক পাওয়া যাচ্ছে না কারণ সবাই শহরে বাবু হতে চায়। এতে গ্রামেও শ্রমের দাম বেড়ে গেছে; ফলে চাষের উৎপাদন খরচও ব্যাপক বেড়েছে। সেই তুলনায় ফসলের দাম নেই।

কৃষিকাজে মেশিন-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পড়েছে।

শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানবেন ব্লগার নীল আকাশ।

১০| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

নূর আলম হিরণ বলেছেন: ভগবান সবাইকে ভালো রাখুক।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:১২

আখেনাটেন বলেছেন: নূর আলম হিরণ বলেছেন: ভগবান সবাইকে ভালো রাখুক। -- আমিন! ছুম্মা আমিন!


শুভেচ্ছা নিবেন আপনার মন্তব্যের জন্য ব্লগার নূর আলম হিরণ।

১১| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৫

ঢাকার লোক বলেছেন: ধান চাষে ১২ বিঘাতে এক সিজনে ৪৮ হাজার লোকসান, অর্থাৎ বিঘা প্রতি ৪ হাজার ! এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের সবারই বজলু মিয়া হতে বেশি সময় লাগবে না !

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:১৫

আখেনাটেন বলেছেন: বর্গাচাষীদের বজলু মিয়া হতে সময় লাগবে না এভাবে চলতে থাকলে। তবে জমির মালিকেরা কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকবে।


মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ব্লগার ঢাকার লোক। ভালো থাকুন।

১২| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: আখেনাটেন,



পাত্রপাত্রীর নাম : আখেনাটেন, আহমেদ জী এস ও অন্যান্য।
চলতি ফুলটাইম পেশা : যার যার মতো।
খন্ড পেশা : ব্লগ চাষ।
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : জানা নাই।

নিজ নিজ পেশায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ঘরে ফিরে খন্ড পেশায় বিনা পুঁজিতে অফুরান আনন্দ আর সুখই সুখ ছিলো এই সব ব্লগ চাষীদের। বিনা পয়সায়, বিনা সুদে বর্গা চাষ করতো সামুর জমিতে। সেই ব্লগ চাষে উঠে আসতো তরতাজা সব ফসল আর ফসল, হরেক কিসিমের। এতে বাইরের দুষ্ট মহাজনের কি রাগ আর রাগ- "হালার বর্গা চাষীরা তো আমাগো জমিতে আমাগো মোন মতন ফসল ফলায় না! হেরা হেগো জমি খুইজ্জা পাইছে, আমাগো খাস জমি হেগো চোহে পড়ে নাই? আমাগো ফসল না ফলাইয়া হেরা কোন সাহসে চোখমন খুইল্লা যায় খাইলে, এমন ফসল চাষ করে " ? তো সেই দুষ্ট মহাজন ভাবলো- সোনার চাঁনেরা ঘুঘু দেখিয়াছে, ফাঁদ দেখে নাই। দিনে দিনে তারা বহু বাড়াইয়াছে দেনা , এখন শুধিতে হইবে ঋণ। মহাজন করল কি, লাঠিয়াল আর খেত পাহাড়া দিতে লোকজন লাগিয়ে দিলো। ফল? ব্লগ বর্গাচাষীরা উৎখাত। বজলু মিয়ার মতো এই চাষীরাও এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে নতুন ফন্দি ফিকিরের আশায়.....................

উপসংহার : আসলে ভগবানের লীলা বোঝা বড় ভার!
:(( :( :(( :(

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:১৯

আখেনাটেন বলেছেন: বেড়ে লিখেছেন। সব জায়গায় দুষ্টু মহাজন ও তাদের গডফাদারদের রামরাজত্ব। বজলু মিয়ারা সবসময়ই অসহায়; তা সেটা ধানের জমিতেই হোক কিংবা সামুর জমিতেই হোক।

তারপরও বলতে হয় 'ভগবান মহাজন ও তেনাদের গডফাদারদের আরো সুখ দিক'।

চমৎকার মন্তব্যে জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানবেন প্রিয় ব্লগার।

১৩| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:১৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আখেনাটেনভাই,

পোস্টটি পড়লাম। বজলু মিয়া হয়তো অন্য পেশায় গিয়ে নিজের মুখ রক্ষা করতে পেরেছেন । কিন্তু বজলু মিয়াদের অবস্থা একেবারেই ভালো নেই । এক গভীর সংকটের মধ্যে তারা যা অবতীর্ণ সে কথা বলাই যায় । আমাদের এখানে পেপারে প্রায়ই দেখি বজলু মিয়ারা ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন ।আত্মহত্যা দায় নিয়ে কেন্দ্র -রাজ্যের তরজা চলতে থাকে। ভোট আসে, ভোট যায় ।সরকার কৃষি ঋণ মুকুব করে দায় সাড়ে। ফলে সুফলটা সম্পন্ন কৃষকরা পায় কিন্তু প্রান্তিক চাষীরা পড়ে থাকে সেই তিমিরেই। তাদের অবস্থার সামান্যতম পরিবর্তন ঘটে না ।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে চলে যাই,
বহুদিন আগেই অংক করা ছেড়ে দিয়েছি। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে বা স্কুলে ভালো অংক না পরার জন্য বেশ কয়েকবার শাস্তিও পেয়েছি। ফলে অংকের প্রতি একটা ভীতি চলে এসেছিল। আজ আবার সেই পাটিগণিতের লাভ ক্ষতির অংক কষতে দেখে ছোটবেলাকার সেই কথাটি মনে পড়ল , ড্যাস মাস্টার অংক শেখাচ্ছে। আজ অবশ্য আমার কোনো চাপ নেই আমি মন দিয়ে পড়েছি এবং লাভ ক্ষতির হিসেবটাও ঠিক বুঝে গেছি । হা হা হা হা হা,.....
পরিশেষে শ্রদ্ধেয় জী এস ভাইয়ের কমেন্ট পড়ে হেসে গড়াগড়ি খেয়েছি । হা হা হা হা হা......
আর হ্যাঁ ভালো কথা আমি কিন্তু ঢপের চপ পরিবেশন করার কথা ভুলিনি। আমি আপনার পদচারণার অপেক্ষায় রইলাম......

শুভকামনা ও ভালোবাসা জানবেন।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:২৭

আখেনাটেন বলেছেন: তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে বজলু মিয়ারা এমনতরভাবে বুঝি দিনানিপাত করছে। তবে আপনাদের ওখানে ঋণের বোঝা বইতে না পেরে কৃষকের আত্নহত্যার মতো এত বড় ঘটনা আমাদের দেশে ঘটে নি। সেক্ষেত্রে বলতে হয় এখানকার কৃষকেরা ব্রাক, গ্রামীন ব্যাংক, আশা'র কল্যাণে সুখেই আছে। যদিও দারিদ্রের দুষ্টুচক্রে চক্রাকারে ঘুরছে তথাপিও।


বজলু মিয়া কিছু অংক শেখাতে পেরেছে জেনে পুলকিত হলুম। বজলু মিয়া ক্ষুন্নিবৃত্তিতে না গিয়ে ম্যাথের শিক্ষক হলেই বুঝি ভালো করতেন। হা হা হা।

আমিও আপনার ঢপের চপ খাওয়ার আশা ছাড়ি নাই। ঝটাং করে একদিন উপস্থিত হয়ে যাব কিন্তু কয়ে দিলুম। হা হা হা।

রাশি রাশি শুভকামনা পদাতিক দা'র জন্য। ভালো থাকুন।

১৪| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:৫৪

আরোগ্য বলেছেন: দেশ ভালোই উন্নতি করেছে, কাজকর্ম বাদ দিয়ে মানুষ এখন ভিক্ষাবৃত্তিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:২৯

আখেনাটেন বলেছেন: সরকারের কৃষকদের প্রতি আরো যত্নশীল হওয়া দরকার। দেশের জিডিপির বড় একটি অংশ ইনারা যোগান দিচ্ছে অথচ...আপসোস করা ছাড়া আর কি-ই-বা করার আছে।

আরোগ্যের মন্তব্যে খুশি হলুম। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা ছোটভাইয়ের জন্য।

১৫| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:৫৬

বলেছেন:
প্রভু আমাদের প্রকৃত জ্ঞানের সন্ধান দাও !!!
প্রভু আমাদের কে সুখে রাখুন,
প্রভু আমাদের মানুষ করো.....

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৩১

আখেনাটেন বলেছেন:




ল বলেছেন: প্রভু আমাদের মানুষ করো..... -- সহমত না করে উপায় নেই ব্লগার ল ভাইয়ের সাথে।

শুভেচ্ছা নিবেন। আপনারা বিলেতে থেকেও দেশের জন্য সঠিকভাবে ভাবছেন এটা পুলকিত করে। ভালো থাকুন।

১৬| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: এই দেশ পচে গলে নশট হয়ে গেছে।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৩৪

আখেনাটেন বলেছেন:

এত এত অনাচারের মাঝেও কিছু ভালো মানুষ আছে বিধায় এখনও গোটা সিস্টেমটা ভেঙে পড়ে নি।


শুভেচ্ছা ও শুভকামানা পরীর আব্বার জন্য।

১৭| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: এই দেশ পচে গলে নষ্ট হয়ে গেছে।

১৮| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৩৩

প্রামানিক বলেছেন: এই দুখে আমি সব জমি বন্ধক রেখেছি।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৩৫

আখেনাটেন বলেছেন: ভালো করেছেন। নিজে চাষবাষ করলে বজলু মিয়া হতে দেরী হবে না। হা হা হা।

প্রামানিক দা'কে শুভেচ্ছা মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকুন।

১৯| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৪১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: নয় নম্বর মন্তব্যের সঙ্গে সহমত।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৩৭

আখেনাটেন বলেছেন: সহমত ভাইয়ের সহমতে আমিও সহমত। :D

শুভকামনা ব্লগার মাহমুদুর রহমানের জন্য। ভালো থাকুন।

২০| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:৪৯

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:

(১) আমার এক ফ্রেন্ড কৃষি ভার্সিটি থেকে গবেষক হওয়ার পর সে এখন ব্যাংকার ;) । অবশ্য তার গ্রামের বাড়িতে নিজ উদ্যোগে একটা ছোটখাটো গবেষণা কেন্দ্র চালু রেখেছে। (একটা তৃপ্তির ঢেকুর হবে!)


(২) গ্রামে গিয়ে দেখতে পাই, বাঁধ নির্মানের জন্য আসা টাকা দিয়ে আমাদের মেম্বার সাহেব তার বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার জন্য সোজা একটা রাস্তা তৈরি করেছেন; মুলত এটা একটা বিশাল বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন। (একটা বিশাল করতালি হবে!)


(৩) আমাদের খড়ম খা নবনির্বাচিত এমপি হওয়ার পর আর বসেনি, ঐ দাঁড়ানো অবস্থাতেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাসা নিয়েছে। সে এখন ফ্যামিলি নিয়ে বড্ড সুখেই আছে। (একটা সংবর্ধনাময় ইমো হবে)



# কৃষি ভার্সিটি পড়ুয়া একটা ছাত্রের পেছনে সরকারের প্রতি বছর ২ লাখ ৩০ হাজারের মত খরছ হয়।(ভার্সিটিগুলোতে ছাত্র সংখ্যা একজন থাকে না। এটা মাত্র একজন ছাত্রের কথা) এই ছাত্রটি একজন একজন গবেষক হওয়া পর্যন্ত সরকারের না হলেও ১০ লাখ টাকা ব্যায় হয়। আর তার ফ্যামিলির তার চেয়ে দিগুণ। গবেষক হওয়ার পর এই ছাত্রটি কোন কৃষি খাতে কোন স্কুপ দেখতে পায় না। তখন সরকারকে দোষারোপ করে অন্য দিকে চলে যায়।
আর কৃষির উন্নয়ন হয় পুরান ঢাকার আগুন লেগে যাওয়ার ন্যায়।


# গ্রামের কৃষকদের জন্য আসা প্রকল্পের টাকা এভাবেই আমাদের প্রতিনিধিরা জাতীয় স্বার্থে ও জনগণের উন্নয়নে ভক্ষণ করেন। শেষমেশ দেখা যায়, ঐ বাঁধগুলো আবারো ভেঙে যায়। কৃষকের ক্ষতি হয় কিন্তু মহাজনরূপি মানুষগুলো এই মেম্বারদের সহায়তায় দ্বিগুণ লাভবান হয়ে উঠে।


# অনেক কষ্টে ঘুষ না খেয়ে নেতাকে নির্বাচিত করলাম। দিনরাত কামলা খাটলাম উনার প্রতিশ্রুতির শ্লোগান কানে বাজিয়ে। কালো রাতে এলাকায় একটা লোককেও টাকা নিয়ে ঢুকতে দেইনি।
এমপি সাহেব নির্বাচিত হলেন। দেশবাসীকে সালাম দিলেন। গ্রামে বসে সালাম দিলে নাকি দেশের সর্বপ্রান্তে পৌঁছে না। সালাম না পৌঁছলে আমাদের দাবী দাওয়া উনি কেমনে পৌঁছাবেন? তাই উনাকে ঢাকা পৌঁছে দিতে কালো পাজেরোতে উঠিয়ে দিলাম।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৪৭

আখেনাটেন বলেছেন: অনেক কথায় জানলাম পরমা'র হবু দেবরের কাছ থেকে। :D

এবারে ধানের দাম না থাকাতে গ্রামীণ অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত মিডলম্যান ও অসাধু ব্যবসায়ী এবং অসৎ রাজনীতিকদের হাত থেকে বজলু মিয়াদের মতো বর্গাচাষীদের রক্ষা করা।

আর গবেষকরা গবেষণা করে কিছু আবিষ্কার করলেও তা বাস্তবায়ন করা ভীষণ হ্যাপা এ দেশে। কিছুদিন আগে জামালপুরের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানের এক সিনিয়র বিজ্ঞানী একটি চমৎকার সরিষার জাত উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেই জাতকে নাকি নামতে দেওয়া হচ্ছে না। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক মিলে আটকায়ে দিয়েছে। বীজের ব্যবসায় ক্ষতি হবে ভেবে। উনাকে ভীষণ হতাশ দেখলাম।

এভাবেই হতাশা চারিদিকে। মেধার মূল্যায়ন নেই। কাজের মূ্ল্যায়ন নেই। শ্রমের মূল্যায়ন নেই।

মূল্যায়ন শুধু চামচামিতে।

বৃহৎ মন্তব্য দেখে ভালো লাগল। তাজুল সাবের জন্য রাশি রাশি পদ্ম ফুলের শুভেচ্ছা।


২১| ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:২১

শায়মা বলেছেন: উফফফ অংক দেখে তো আমার ফকির সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গেলো!!!!

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৫২

আখেনাটেন বলেছেন:

এই শ্রদ্ধাটা যদি আমাদের শাসকগোষ্ঠীর থাকত। যদিও জানি উনারা ব্লগার শায়মা'র মতো দয়া-মায়াময় কিংবা গুণী নন। :D

শুভেচ্ছা ফকিরের শুভাকাঙ্খির জন্য।

২২| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৩:৪৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ব্লগ ফ্যারাও,
ধ্যাৎ কি যে বলেন ! আমরা এখন মধ্যম উন্নয়নের দেশ না ! বজলু মিয়া অংকে ভুল করেছে ।আমাকে বিশ্বাস না হয় প্রাক্তন ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করুন !বজলু মিয়ার হিসেবকে রাবিশ বলতে কেউ এখনো লাফিয়ে উঠতে পারে হুইল চেয়ার থেকে ।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৮

আখেনাটেন বলেছেন: এই 'ডিনায়াল সিনড্রোম'টাই তো জাতিকে সঠিকভাবে আগাতে দিচ্ছে না। আর এখনতো কোনো জবাবদিহিতার বালাই নেই। বজলু মিয়াদের কথা উড়িয়ে দিতেই পারে। সে সম্ভাবনা শতভাগ। পারলে বজলু মিয়াদেরও উড়িয়ে দিতে পারলে দেশের কিছু জনসংখ্যা কমত। নেতারা এ বিষয়ে ভাবতে পারে।

গত বছর আমচাষীরা বাঁশ খেলো। এরপর ধানে এ অবস্থা। যাদের নিজেদের জমি নেই, অন্যের জমিতে চাষবাস করে তাদের শনির দশা চলছে গ্রামে। তারপরও লোকগুলিকে অসুখি হতে দেখি নি। হয়তবা ব্রাক কিংবা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন পাবে এই কারণে। এটা না হলে ভারতের মতো এখানেও কৃষক আত্নহত্যা করত।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ব্লগার মলাসইলমুইনা। শুভেচ্ছা নিবেন। ভালো থাকুন।

২৩| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:৪৪

নতুন নকিব বলেছেন:



অধিকার বঞ্চিতরা চির দিনই বুঝি থেকে যায় হেলায়-অবহেলায়। এ স্থবিরতায় পরিবর্তন আসুক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর কবিতা 'কুলি মজুর' -এর কয়েকটি পঙক্তি মনে পড়ে গেল-

আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!
তুমি শুয়ে র’বে তেতালার পরে আমরা রহিব নীচে,
অথচ তোমারে দেবতা বলিব, সে ভরসা আজ মিছে!

অধিকারহারাগন ফিরে পাক তাদের ন্যায্য পাওনা।

সুন্দর পোস্টে ধন্যবাদ।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৪

আখেনাটেন বলেছেন: সুন্দর মন্তব্য।

তবে বাংলাদেশে শ্রমের দাম মোটামুটি চলনসই। এখন একজন রিক্সাচালকও ঢাকা শহরে ভালো রোজগার করে। কৃষিকাজে যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তাদের বেতনও আকর্ষনীয়। এতে সমস্যা নেই।

সমস্যা যারা আবাদ করছে তাদেরকে নিয়ে। ফসলের দাম না থাকাই জমির মালিক জমি লিজ দিয়ে দিচ্ছে। বর্গাচাষীরা নিজেরা হাড়ভাঙা শ্রম দিয়ে যে উৎপাদন করছে তাতে তাদের লাভের চেয়ে লসের খাতায় নাম লেখাতে হচ্ছে। এ নিয়ে সরকার বাহাদুর না ভাবলে অচিরেই কৃষক কৃষিকাজ বাদ দিয়ে অন্য চিন্তাভাবনা শুরু করবে। ইতোমধ্যেই বরেন্দ্র অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমি নানা প্রজাতির ফলের গাছে ছয়লাব হয়ে গেছে। সামনের বছরগুলোতে আরো হবে। ধান চাষের প্রতি মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

শুভকামনা জানবেন ব্লগার নকিব ভাই।

২৪| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:৫৪

সোহানী বলেছেন: বছর পনের আগে হবে ডেভেলাপমেন্ট ইকোনোমিক্স নামে একটা সাবজেক্ট ছিল। আর আমার শ্রদ্ধেয় টিচারও ছিলেন কঠিন আবেগী। সেখানেই প্রথম জানলাম কিভাবে Developed দেশগুলো Developing দেশগুলোরে ভাতে মারার জন্য বা নিজেদের উপ্রে ডিপেন্ডেন্সি বাড়ানোর জন্য কৃষিখাতে সাবসিডি রেস্ট্রিকশান করেছিল। যাহোক নদীর পানি পনের বছরে অনেক দূরই গড়ায়েছে। কিন্তু Developing দেশগুলা এখনো জানে না বা বুঝতে চেস্টা করে না কিসে তাদের উন্নতি। ওরা এখনো ভাবে মালয়শিয়া বা কানাডায় নিজেদের সম্পদ গড়ার নামই উন্নতি। যাউগ্গা বেশী কথা নাই বা কই। আম্রিকা কানাডা জার্মান চাষীদেরকে পারলে হেলিকাপ্টারে পৈাছায়ে দেয় সাথে বীজ সার সবই বিনা মূল্যে আর সাবসিডিতো আছেই।

এরপর ও পর আছে। ওই ব্যাটা যে ধান বেঁচবে কার কাছে?? মাঝখানে কম করে চার স্তরের দালাল আছে। ২০ টাকার ধান ২০০ টাকায় পৈাছে। ........... আপনি আমি গদীওয়ালা সবাই তা জানে এবং বুঝে। কিন্তু কিছুই করে না। কারন তাদের হাতে আছে নগদ টাকা, চাইলেই বাসমতি চাল পৈাছে যায়।

জী ভাই, তাজুল সহ সবার মন্তব্যে সুপার লাইক।

আপনার আগের চমৎকার সব গল্পগুলো পড়েছি কিন্তু মন্তব্য রাখতে পারিনি কারন ট্রেনে ঝুলতে ঝুলতে যাই মন্তব্য করতে পারি না। আর লেখাজোকার গল্পটিতো সুপার ডুপার.....। আসবো রিভিউ নিয়ে শীঘ্রই।

(খুব মন খারাপ লাগছে মাত্র ৬ জন ব্লগর এই মূহুর্তে

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:১৪

আখেনাটেন বলেছেন: সার-বীজ, কীটনাশক ইত্যাদিতে মাল্টিন্যাশনালরা জেঁকে বসেছে। প্রতিবছর উৎপাদন খরচ বাড়ছে অথচ দাম সেই অনুসারে বাড়ছে না।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ধান ও চালের দামের ফারাকে। এক কেজি ধান যেখানে বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৬ টাকা দরে, সেখানে এক কেজি সেই চাল কিনতে হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা কেজিতে। কী বিশাল ফারাক! ভাবা যায়! আর এই ফারাকে মাঝে লুকিয়ে আছে শত শত ফড়িয়া ব্যবসায়ী, অসাধু মজুতদার, অসৎ রাজনীতিক।

বাজার ব্যবস্থাপনায় কতটা ইতরপনা থাকলে এই অবস্থা হতে পারে বলতে পারেন! এগুলো নিয়ে দেশে আর ভাবারও লোক নেই। কারণ কাউকে তো এ নিয়ে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। কৃষক গোল্লায় যাক!

আগে তবুও মানুষ আন্দোলন-টান্দোলন করে কিছুটা অধিকার আদায় করে নিত। এখনতো সরকারী-বেসরকারী ক্যাডাররা সেই অবস্থার অবসান করিয়াছেন অভিনব কায়দায়।

এখন ধানচাষীরা সামনের ইরি ধানের দামের দিকে চেয়ে আছে। এটাতেও দাম না পেলে নিশ্চিত থাকেন বজলুরা রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।

আশা করি আমাদের কৃষক খাদ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিবেন। যদিও উনার এখন পারিবারিক কারণে শনির দশা চলছে।

*ব্লগের এই পরিবেশ দেখে আমিও ভীষণ হতাশ। নন-সাসটেইনেবল উন্নয়নের ঠেলায় এরকম আরো কত কি যে মাইনকার চিপায় পড়বে সামনে তা দেখার আছে!

এর পরও আশা করতে দোষ নেই যে নেতারা নিজেদের গদির পাশাপাশি প্রকৃতপক্ষে দেশের জনগণের কথাও ভাববেন।

ভালো লাগল আপনাকে দেখে সোহানীপা। শুভকামনা জানবেন।

২৫| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:০৮

জুন বলেছেন: বজলু মিয়ার বক্তব্যগুলো কি আমাদের উনাদের কানে যায় আখেনাটেন ? মনে হয়না । উনারা ছাড়া দেশের বাকিদের খাম্বার নীচে আসতে দেরী নাই মনে রাইক্ষেন ।
@ সোহানী যাহোক নদীর পানি পনের বছরে অনেক দূরই গড়ায়েছে। বাংলাদেশের নদীতে যেন পানি না গড়ায় সেই ব্যবস্থা অলরেডি শেষ করেছে প্রতিবেশি । এখন পেপার খুল্লেই দেখবেন প্রতিদিন দু চারটা নালা নর্দমার ছবি যারা নাকি একসময় প্রমত্তা নাম কুড়িয়েছিল ।
প্লাস আখেনাতেন বড় কঠিন লেখায় ।
+

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:১৮

আখেনাটেন বলেছেন: ঠিকই বলেছেন জুনাপা। বজলু মিয়াদের নিয়ে উনাদের ভাবার সময় কোথায়। বড় বড় নন-সাসটেইনেবল উন্নয়নের বাণীতে বজলুদের কথাগুলো চাপা পড়ে গেছে।

কৃষিপ্রধান অর্থনীতি থেকে আমরা এখন শিল্পপ্রধান অর্থনীতিতে উন্নিত হচ্ছি। তাই বজলু মিয়াদের এখন আর কৃষিকাজ না করলেও চলবে। আর দু একজন অকর্মা বজলু যদি খাম্বার নিচে দাঁড়ায়ও সেটা আখেরে দেশের কিংবা গদির জন্য অমঙ্গল কিছু নয়।

অনেক অনেক শুভকামনা জুনাপার জন্য। ভালো থাকুন।

২৬| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:১৬

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:

জ্বী,
এই জীবনে সতিন দেখলাম অনেক, কিন্তু আপনার মত ঝগড়াটে ও চরম উত্যক্তকারী সতিন দেখিনি। X((
আপনার মন্তব্যের প্রথম লাইনের সাথে আমার খারাইয়্যাঝগড়া করনের ইচ্ছে করতেছে।


কষ্ট লাগলো জামালপুরের সিনিয়র বজ্ঞানীর আবিস্কৃত বীজটি দুনিয়া দেখতে পারেনি জেনে।

ধিক ঐ সকল কুলাঙ্গারদের।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:২১

আখেনাটেন বলেছেন: হা হা হা। কি ভায়া এত চটলে হবে? ধৈর্য ধরতে হবে। গাছপাকা ফল খেতে হলে তো গাছকে সময় দিতে নাকি! :P


এ দেশে ভালো জিনিসের বাস্তবায়ন বড় কঠিন! পদে পদে বিড়ম্বনা!

২৭| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৭

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
কৃষক বাঁচাও বাঁচবে দেশ
আমার সোনার বাংলাদেশ।
++++++++++++++++

২৮ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:৫৫

আখেনাটেন বলেছেন: মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
কৃষক বাঁচাও বাঁচবে দেশ
আমার সোনার বাংলাদেশ।
---- সহমত।

মন্তব্যের জন্য শুভকামনা জানবেন ব্লগার মোঃ মাইদুল সরকার।

২৮| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:৩২

গড়ল বলেছেন: কৃষকদের জন্য আজ পর্যন্ত কোন কৃষিবীমা চালু হল না, দূর্বিপাকে কারো গাড়ি বাড়ি বা কলকারখানা ক্ষতিগ্রস্থ হলে বীমা সুবিধা পায় কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের মূল্য পায় না এমনকি নূণ্যতম মুজুরিটাও উসুল করতে পারে না।

তৈরী পোষাক যদি সাবসিডি পেতে পারে কৃষি কেন নয়, সাবসিডি না দিলেন বীমাটা করে দিলেও তারা কিছুটা রেহাই পেত। কৃষি পণ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা Supply Chain মেকানিজম। আগে BADC (Bangladesh Agricultural Development Corporation) এই সাপ্লাই চেইন সার্ভিস দিত সেই বিএডিসির কার্য্যক্রম সীমিত করে দিয়েছে। কিভাবে তারা সাপ্লাই চেইন সার্ভিস দিত, তারা নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট দিয়ে সার, বীজ, সেচের যন্ত্র ও যন্ত্র চালানোর তেল পৌছে দিত ও নামমাত্র ভাড়া নিত। আবার ফসল বিএডিসির নিজস্ব গুদামে গুদামজাত করার ব্যাবস্থা করত ও স্থানীয় আড়ত বা গুদাম থেকে পাইকারী আড়ত পর্যন্ত পণ্য পৌছানোর জন্য সীমিত ভাড়ায় ট্রান্সপোর্ট প্রদান করত। একসময় বিএডিসি ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংস্থা। আর এর পরতো আমরা কৃষকদের সারের দাবিতে গুলী খেয়ে মরতেও দেখেছি।

২৮ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:০৯

আখেনাটেন বলেছেন: মুহিত সাহেব মাঝে এ নিয়ে আলোচনা তুলেছিলেন। সেটা থেমে গেছে। এর কারণ হতে পারে দেশে বহুবছর ধরে তেমন বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে নি। এটাও সরকারকে অনুৎসাহিত করতে পারে। কারণ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষমতাসীনদের জন্য অভিশাপের মতো। সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে ভাগ্যবানই বলতে পারেন।

এর ফলেই হয়তবা কৃষকদের প্রতি উদাসীন থাকা সম্ভব হচ্ছে। চিন্তা করেন ২০০৮ সালেও মানুষ ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছেন যখন উৎপাদন খরচ এখনকার চেয়ে প্রায় অর্ধেক ছিল। আর এখন বিক্রি করছে ৬০০-৬৫০ টাকা দরে।

কৃষিতে এখন সাবসিডি অনেক কমেছে। তারপরও যেটুকু দেওয়া হয় বিশেষ করে পাওয়ার টিলার কেনাসহ অন্যান্য বাবদ সেটার সুফল ভোগ বঙ্গবন্ধুর 'চাটার দল' তো রয়েছেই।

বিএডিসি'র কার্যক্রম কমার কারণ অসৎ আমলা ও রাজনীতিকদের সাথে কৃষি উপাদান সরবরাহকারী বেসরকারী কোম্পানীগুলোর আঁতাত।

আর সবকিছুতে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের (আগেও ছিল) দৌরাত্ম্য এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ভাবা যায় একটি ফুলকপি বগুড়ার মোকামতলাতে বিক্রি হচ্ছে ২ টাকায়, সেটা কীভাবে ১৫০০% বৃদ্ধি পেয়ে ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। অবিশ্বাস্য ও তুঘলঘি ব্যাপার।

হাড়ভাঙা কায়িক পরিশ্রম করে কৃষক যা পাচ্ছে তারচেয়ে তাদের আরো অনেক বেশি পাওয়ার কথা ছিল।

ধন্যবাদ ব্লগার গড়ল সুন্দর মন্তব্যের জন্য। শুভকামনা জানবেন।

২৯| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৮

সুমন কর বলেছেন: গল্পে বাস্তবচিত্র তুলে ধরেছেন। পাই-পাই হিসেবও আছে !! কি আর করবে বজলু মিয়া, পেট পূজো করতে হবে তো !! তা পু্ত্রসন্তানের বয়স কই? আর ঢাকা শহরে ভিক্ষে করে খাওয়াও কষ্টকর। ওদের সিন্ডিকেট আছে, নেতা আছে....জায়গা নিদিষ্ট করা আছে...। সরকার না চাইলে, আমাদের দেশে কোন দিন কোন সমস্যা দূর হবে না, এটাই সত্য।।

গল্পে ভালো লাগা রইলো।

২৮ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:২৩

আখেনাটেন বলেছেন: নিজে কৃষকের সন্তান হওয়ায় এবারে গ্রামে গিয়ে ধানচাষীদের দুরবস্থা দেখে মনটা বিক্ষিপ্ত। আমাদের মোট জমির বড় একটা অংশ ফলবাগান করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তা পু্ত্রসন্তানের বয়স কই?-- আপনি ভালো জিনিস লক্ষ করেছেন। বজলু মিয়া হয়ত কিছুদিন পর উনার নাবালিকা কন্যাকে কোনো পোশাক কারখানায় পাঠাবেন। কিছুটা হলেও ভবিষ্যৎ রয়েছে ঐ নাবালিকার পোশাকশিল্পের কল্যাণে। আর পুত্রসন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ইয়াবাখোর হবে, নাকি ছিনতাইকারী হবে, নাকি বাসের হেল্পার হবে কীভাবে অনুমান করবেন? তাই সে বেঁচে থেকেও মৃত। ফলে তার বয়সও নেই।

হুম; শহরে ভিক্ষুকদেরও একটি নিয়মের মধ্যে চলতে হয়। শুধু যারা আমাদের নিয়মের মধ্যে চলতে বাধ্য করবেন, তারাই অনিয়মের ঘেরাটোপে বন্দী।

সরকার না চাইলে, আমাদের দেশে কোন দিন কোন সমস্যা দূর হবে না, এটাই সত্য।। -- এটা ভূ-গোলকের সব দেশের জন্যই চিরন্তন সত্য। রাষ্ট্র ব্যবস্থারই উদ্ভব ঘটেছিল এই কারণে।


সুন্দর মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ কবি। শুভকামান জানবেন।

৩০| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪

করুণাধারা বলেছেন: ধান চাষ করতে গিয়ে লসের একটা গল্প আমিও জানি। আমার গৃহকর্মে সহায়ক যে মেয়েটি, তার স্বামী প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময় বর্গা চাষ করে। গত বছর বলল 60 হাজার টাকা খরচ করে 40 হাজার টাকা হাতে পেয়েছে। ও-ও আমাকে আপনার মত এমন হিসাব দিয়েছিল, কিন্তু মেয়েটার হতাশ- ক্লিষ্ট মুখের দিকে চেয়ে আমি হিসাবটা ভুলে গেছি। তার আগের বছরও এভাবে লস দিয়েছে, বলল আর ধান চাষ করবে না। কি করবে? জানে না...........

ফকির প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়লো। দুদিন আগে পান্থপথে জ্যামে আটকে আছি। এক ফকির এক গাড়ির কাছে গিয়ে ভিক্ষা চাইল। গাড়ি থেকে এটা মুদ্রা দিল। ফকির হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে দেখে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির জানলা দিয়ে দাতার গায়ে ছুঁড়ে মারল মুদ্রাটা। আজকাল ফকিরদের ৫/১০ টাকার কম দিলে অপমানিত হবার সম্ভাবনা থাকে!!!

২৮ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:৩৩

আখেনাটেন বলেছেন: আপনার গৃহ সহকারী এক বিন্দুও মিথ্যে বলেন নি। বর্গাচাষীরা আমন মৌসুমে উপার্জনই করতে পারেন না বললেই চলে। তবে ইরি মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আর আধিভাগার হিসাব না থাকায় ( ইরি মৌসুমে বিঘাপ্রতি ৮ মণ/১০ মণ দিতে হয় মালিককে) কিছু সঞ্চয় করতে পারেন।

তবে ধানের দর না থাকলে কৃষকের মাথায় হাত। আর এবার আমন ধানের দাম অত্যধিক কম হওয়ায় বর্গাচাষীরা কেঁদেও কুল পাচ্ছে না।

আপনার পান্থপথের ভিক্ষুকের গল্প শুনে হাসি পেল। এ যে বড় অপমানের কথা গাড়িওয়ালার জন্য। কি সখ উনি ভিক্ষা দিতে গিয়েছিলেন? :P

ভিক্ষুকদেরও নাকি এখন সিন্ডিকেট রয়েছে। তারাও সংগঠিত। শুধু কৃষকেরাই সংগঠিত হতে পারল না। অথচ ইনারাই দেশের জিডিপির মুষ্টিমেয় সরবরাহ করছেন। আপসোস।

চমৎকার দুটো অভিজ্ঞতাসহ মন্তব্য আমার লেখাটাকে আরো দৃঢ়তা দিল। সেজন্য কৃতজ্ঞতা করুণাধারা'পার কাছে।

অনেক অনেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা আপার জন্য। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।


৩১| ২৮ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:২৮

জাহিদ অনিক বলেছেন: বজলু মিয়াদের আর কি দোষ!
যেখানে ভর্তুকি দেয়ার কথা সেখানে পর্যাপ্ত দেয়া হচ্ছে না। তাই ভিক্ষাবৃত্তি করা। ----

২৮ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:১৯

আখেনাটেন বলেছেন:
বজলু মিয়াদের দোষ নেই বললে ভুল হবে; তারা সংগঠিত হতে পারে না।

এভাবেই অসাম্যের পাহাড় চেপে বসছে।

ধন্যবাদ কবি মন্তব্যের জন্য।

৩২| ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:০৯

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: দুনিয়ার সকল প্রাণী সুখী হোক

১৪ ই মে, ২০১৯ দুপুর ১:০৫

আখেনাটেন বলেছেন: হুম;

৩৩| ১২ ই মে, ২০১৯ রাত ১০:০৫

নীলপরি বলেছেন: যা দেখেও হয়তো দেখিনা সেটা দেখানো পোষ্ট এটা ।
ধন্যবাদ
+++++

১৪ ই মে, ২০১৯ দুপুর ১:২১

আখেনাটেন বলেছেন: গতকালই প্রথম আলোতে দেখলাম ধানের দাম অস্বাভাবিক রকম কম হওয়াতে টাঙ্গাইলের একজন বজলু মিয়া ধানের ক্ষেতে আগুন ধরে দিয়েছে।

দেশে গ্রামীন অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ছে। গ্রামীন মধ্যবিত্তদের (যারা চাষবাসের উপর জীবিকা নির্বাহ করছে) নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আর একটি দুটি সিজন এভাবে ধানের দাম না পেলে সরকারের জন্য শুভ হবে না। এর আশু সমাধান জরুরী।

কিছুদিন আগে ভারতের দিল্লী ও মুম্বাইয়ে যেভাবে কৃষকেরা দল বেঁধে মিছিল মিটিং করেছিল ও ভারতে কৃষকের আত্মহত্যা তো হরহামেশায় ঘটে , অচিরেই ঢাকাতেও ওরকম কিছু দেখলে অবাক হবেন না। যদিও সরকারের জনগণের এসব দাবী দাওয়া নিয়ে মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। কেন নেই সেটা আর নিশ্চয় খুলে বলতে হবে না? অস্বাভাবিক এক অবস্থা।

ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.