নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লিখা লিখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

মুক্তমনা

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাহে রমজান : রহমত, সংযম , দোয়া কবুল , নাজাত ও আত্মশুদ্ধির মাস - কামনা করি বিশ্ব মুসলিম উম্মার ঐক্য ও মানবজাতির মঙ্গল ও উন্নতি ।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৫:৫৪


রমজানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে আল-কোরানে। রমজান মাসেই কোরান মাজিদ নাজিল হয়েছে। সিয়াম সাধনা বস্তুত পক্ষে কৃচ্ছ্র সাধনের এমন এক পর্যায় যা আত্মশুদ্ধির সুযোগকে করে অবারিত, আর এনে দেয় সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ লাভের অনাবিল আনন্দ। এমাসে সিয়াম সাধনার সাথে সাথে যত বেশী কোরান তেলাওয়াত ও আল্লাকে স্মরণ ও দুরুদ পাঠ করে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করা যায় ততই মঙ্গল ।

এই মাসে যথাযথভাবে সিয়াম সাধনা করে আমরা যত বেশী পুণ্য সঞ্চয় করে নিতে পারব ততই উত্তম । আমরা সকলেই জানি রমজানের ফজিলত অনেক । এ মাসের ফজিলত ও তাৎপর্য অনুধাবনে সচেষ্ট হওয়া আমাদের জন্য খুবই জরুরী, এ মাসটি দ্বিতীয়বার আমাদের জীবনে আসবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নাই। তাই বিশেষ রহমতের এ মাসে আল্লাহর জিকির তথা স্মরণের মাধ্যমে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামের রেখে যাওয়া আদর্শ পন্থা অনুসরণ করে অশেষ নেকী অর্জন করা যায় । সিয়াম গুনাহের ক্ষমা এবং কাফফারা হিসাবে গৃহিত হয় । রমজান আমাদের নিজেদের জন্য এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বনের সুযোগ এনে দেয় যার মাধ্যমে সত্যিকার ইসলামী ভাব ধারায় অভ্যস্ত হতে পারি। এ মাসের অন্যতম বরকত হল ভাল কাজের প্রতিদান অনেক বেড়ে যায়। রমজান মাসে রয়েছে লাইলাতুল কদর যা সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।

পরিত্র কোরানের অনেক আয়াতে বিভিন্ন প্রসঙ্গ বর্ণনার সাথে আল্লাহ শিখিয়ে দিয়েছেন কখন ও কি ধরণের কথামালায় দোয়া চাইতে হয় । রাব্বানা দিয়ে শুরু আল্লার কালামগুলি উত্তম দোয়া হিসাবে গন্য । রাব্বানা দিয়ে শুরু কালাম গুলি একদিকে যেমন দোয়া অন্য দিকে কোরানের আয়াত বিধায় এই গুলি পাঠে কোরান শরীফ পাঠ ও দোয়ার কাজ একসাথে হয়ে যায় । কুরান মাজীদ তিলাওয়াত করাকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সর্বোত্তম নফল ইবাদত হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাদিস শরীফে আছে কেউ যদি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করে তাহলে তিনি নেকি পান আর সে নেকির পরিমাণ হচ্ছে দশ গুণ বেশী (তিরমিযী শরীফ)।


প্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা এ মাসে সিয়াম সাধনার সাথে সাথে নিশ্চয়ই নীজ নীজ সাধ্য অনুযায়ী কোরান শরীফ তেলাওয়াত করা হবে । এ মাসে আমরা প্রায় সকলেই নীজেদের সুযোগ সুবিধা মত কিছুটা সময় নিয়মিত ব্লগেও বিচরন করব বলে আশা রাখি । ফাকে ফাকে যদি এই ব্লগ কিংবা অন্য যে কোন ওয়েবসাইট যথা http://www.quran.gov.bd হতে কিছু কোরানের আয়াত সে সাথে দুরুদ পাঠ করতে পারি তাহলে আমাদের জন্য কতই না মঙ্গল হয় ।
ইসলামের প্রাণকেন্দ্র মক্কায় অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই আল – হারাম মসজিদের সম্প্রসারিত অংশের নির্মাণকাজ সমাপ্তির পর মুসুল্লি ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় ২.৫০ মিলিয়নে ।

ছবি- ৮ মসজিদ আল- হারাম ( ২০১৪ সনে গৃহীত সর্বশেষ সংস্কার ও সম্প্রসারনের কাজ চলাকালীন ছবি )
( এর সম্প্রসারণ কাজ চলাকালীন সময়ে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি )

পবিত্র কোরান শরীফে আরবি শব্দ রাব্বানা ( رَبَّنَا) তথা ‘হে আমাদের প্রতিপালক’ দিয়ে শুরু অনেক দোয়া আছে , তার মধ্য হতে এ পোস্টে রাব্বানা দিয়ে শুরু কিছু দোয়ার আয়াত বা আয়াতাংশ তুলে ধরা হয়েছে । আল্লাহ পাক পবিত্র কোরানে মোমেনদেরে রাসুলের নামে দুরুদ ও সালাম পাঠানোর জন্য বলেছেন (সুরা আহ্যাব - ৩৩.৫৬) ।

তাই রাব্বানা দিয়ে শুরু দোয়া পাঠের ফাকে ফাকে বরেন্য কবি সাহিত্যিকগন রচিত কিছু জনপ্রিয় হামদ ও না’ত সংযোজন করা হয়েছে লেখাটিতে । আমরা সকলেই জানি না’ত মানে প্রশংসা। রাসূলে পাকের প্রশংসাকে বলা হয় না’ত। মানুষ যখন আল্লাহ পাকের প্রশংসা করেন, তাকে বলা হয় ‘হামদ’। লেখাটির মাঝে মাঝে ইসলামের প্রথম যুগের শুরু হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত নির্মিত কিছু বিখ্যাত ঐতিহাসিক মসজিদ, ইসলামের উপাসনা, প্রচার ও বিকাশে তাদের গুরুত্ব , আল্লার কুদরতি সৃষ্টি সম্পর্কে কিছু আয়াত ও সে সম্পর্কিত কিছু প্রাসঙ্গীক চিত্র সংযোজীত হয়েছে আল্লার মহাবিজ্ঞতা, মহাত্বতা ও তাঁর অপরূপ সৃস্টির বিষয়াবলী গভীরভাবে অনুধাবনের পথকে সুবিধা মন্ডিত করার জন্য ।

আমরা সকলেই জানি ৬১০ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসের ক্বদরের রজনীতে হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় থাকাকালীন হযরত মুহাম্মদ ( সা) এর প্রতি প্রথম নাযিল হয় কোরানের নিন্মোক্ত পাঁচটি আয়াত ।

হযরত মুহম্মদ ( সা) এর প্রতি প্রথম নাযিলকৃত কুরানের প্রথম পাঁচটি আয়াত


ছবি -৩ : মক্কায় অবস্থিত ইতিহাস বিখ্যাত হেরা পর্বত


ছবি -৪ : হেরা পর্বতের সেই বিখ্যাত গুহা ( গুহাটি প্রায় ৩.৫ মিটার লম্বা ও ১.৫ মিটর প্রসস্ত )

সুত্র : Click This Link

আল্লার নিকট হতে জগত সমুহের সৃস্টিকর্তা ও মানবজাতি সৃস্টি সম্পর্কে সত্য জ্ঞান লাভের পর হযরত মুহাম্মদের ( স) কাছে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে নাযিল হয় কোরানের আন্যান্য সুরা ও আয়াত সমুহ । হযরত মোহামন্দ (স) রাসুল হিসাবে প্রচার করেন আল্লার তৌহিদী বানী ও রেখে যান আল্লার বাণী সম্বলিত পবিত্র কোরান ও কোরানের বিধান সমুহ , আর রেখে যান ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক রাস্ট্রিয় ও বিশ্বজনিন পর্যায়ে সুচারু ও সুন্দরভাবে সেগুলিকে বাস্তবায়নের আদর্শ ।


মহানবীর হযরত মুহাম্মদ ( স) কথা জানতে পারি কোরান হাদিসে ও বিভিন্ন লেখনীতে , তাঁকে নিয়ে লেখা হয় অনেক সুন্দর সুন্দর নাতে রসুল যেমনটি লিখেছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল
হেরা হতে হেলে দুলে
নূরানী তনু ও কে আসে হায়,
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে খুলে যায়
সে যে আমার কমলিওয়ালা কমলিওয়ালা।।

হাদীসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায়, সুরা ফাতেহাই হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিলকৃত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সূরা। এর আগে বিচ্ছিন্ন কিছু আয়াত নাযিল হয়েছিল। সেগুলো সূরা ‘আলাক্ব , ‘মুয্যাম্মিল ও ‘মুদ্দাস্সির’ যা পরবর্তীতে পবিত্র কোরানে বিভিন্ন ক্রমে যথা আল ফালাক ৯৬ নং , ‘মুয্যাম্মিল ৭৩ ও মুদ্দাস্সির ৭৪ নং সুরা হিসাবে সন্নিবেশিত হয়েছে ।

কুরান শরীফের গুরুত্বপূর্ণ সুরা ফাতিহা। এ সুরার মাধ্যমেই সূচনা হয়েছে পবিত্র কুরানের সংকলনের। সুরাটিকে আল কুরানের সার সংক্ষেপও বলা হয়। এ সুরা নাজিল হয়েছে মানুষের সার্বিক কল্যাণ , মুক্তি ও পথ প্রদর্শক হিসেবে। এই সুরাটি একটি সর্বশ্রেষ্ট দোয়া হিসাবেও স্বিকৃত। এটা আমরা সকল মুসলমানই নিয়মিতভাবে নামাজের সময় প্রতিটি রাকাতে পাঠ করি ।

সুরা ফাতেহা ( কোরানের সারমর্ম হিসাবে গন্য )


উল্লেখ্য যে, এই পোষ্টে উল্লেখিত কোরানের সকল আয়াত সমুহ, সে সকলের বাংলা প্রতিবর্ণায়ন ও অর্থ বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয় কতৃক প্রকাশিত ডিজিটাল কোরান হতে নেয়া হয়েছে । উক্ত ডিজিটাল কোরান সংকলনে দেশের প্রখ্যাত আলেম ওলামাগন সংস্লিষ্ট ছিলেন । এই লিংকে ক্লিক CLICK http://quran.gov.bd করলে ডিজিটাল কোরান পাঠ করা যাবে । উল্লেখ্য যে, এই লিখাটিতে অনেক ক্ষেত্রে একটি আয়াতের পুরাটুকু উল্লেখ করা হয়নি , শুধু রাব্বানা অর্থাৎ ‘ হে আমাদের প্রতিপালক ‘ দিয়ে শুরু করা অংশ টুকুকে দোয়া হিসাবে চয়ন করা হয়েছে , আয়াতের সম্পুর্ণটুকু যে কেও ইচ্ছা করলে দেখে নিতে পারেন লিংক ফলো করে ডিজিটাল কোরান শরীফ হতে ।

কুরান মাজীদ সত্য পথের দিশা দেয়, তাওহীদ রিসালত, রবুবিয়ত ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে এতে । রয়েছে মানবিক মূল্যবোধের কথা, সুখী জীবন গড়ার জন্য রয়েছে অসংখ্য উপদেশ । এতে রয়েছে বিজ্ঞানের অনেক তত্বকথা, বিশ্বজগত সৃষ্টি রহস্যের কথা, সৌরজগত , ভুগোল , আকাশ. বাতাস , পানি , বৃষ্টি , উদ্ভিদ ও জীবজন্তু জগত, দৈনন্দিন , পারিবারিক , সমাজিক , রাস্টিয় ও বিশ্বজনীন অর্থনীতি , জীবনের এপার উপার , আখিরাত , পাপ পূ্ণ্য , শেষ বিচার দিবস , বেহস্ত, দোযক , ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তির উপায় , বিশ্বজনীন মানবতা প্রভৃতি জ্ঞান রাজ্যের তাবত বিষয়ের কথা ।

আল্লাহর পরিচয় কি, তিনি কাছে না দূরে থাকেন, তাঁকে চেনার উপায় কি এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে গভীর মনযোগ দিয়ে কোরানকে পাঠ করতে হয় , বুঝতে হয় কোরানের কথা । , আল্লাহ যদিও ধরাছোঁয়ার বাইরে, তবুকে এই মহান সত্তাকে চেনা যাবে তার সৃষ্টিতে, তাঁকে অনুভব করা যায় প্রকৃতির প্রতিটি বস্তুতে। তিনি এক স্থানে বা এক বস্তুতে সীমাবদ্ধ নন, বরং আকাশ-জমিনের সর্বত্র তিনি বিরাজমান। সে জন্যই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে 'অ-নামিকা' নামে সম্বোধন করে লিখেছেন-

কোন নামে হায় ডাকব তোমায়
নাম না জানা অ-নামিকা
জলে স্থলে গগন তলে
তোমার মধুর নাম যে লিখা ।।

মক্কা হতে শুরু হয় ইসলামের প্রচার ও প্রসার । মক্কাতেই স্থাপিত হয়েছিল মুসলিম জাহনের সর্ব শ্রেষ্ঠ ও বৃহত্তম মসজিদ আল- হারামের মুল ঘর । বাইতুল্লাহ শরীফ বা কাবা ঘর সম্পর্কে এ সামুর ব্লগে বোন সুফিয়ার একটি মুল্যবান লেখা রয়েছে যা এখানে CLICK Click This Link করে দেখতে পারেন । সেখানে কাবা ঘরের ইতিহাস সহ এর কালক্রমিক নির্মাণ সম্পর্কে রয়েছে একটি মুল্যবান তথ্যবহুল লেখা ।

পৃথিবীতে মানব সৃষ্টির পর ফেরেশতাগণ কর্তৃক প্রথম কাবা ঘর নির্মাণ করা হয়। এর পর বেশ কয়েকবার এর সংস্কার করা হয় । খৃষ্টপুর্ব ২০৩০ সনে হযরত ইব্রাহিম( আ) কতৃক এর পুণ: নির্মাণ কাজ হয় । যখন হযরত ইবরাহিম ( আ) ও হযরত ইসমাইল ( আ) কাবা গৃহের দেয়াল তুলতেছিলেন তখন তাঁরা নীচের দোয়াটি পাঠ করেন বলে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরানে উল্লেখ করেন ( সুরা বাকারা- ২১৭)

আমরাও এই আয়াতটি পাঠের সাথে সাথে আল্লার দরবারে হাত তুলে মোনাজাত করতে পারি আমাদের সকল সৎকর্ম ও ইবাদত কবুল করার জন্য ।

কাবা ঘরের পুণ:নির্মাণ শেষ হলে তাঁরা আবার নীচের দোয়াটি পাঠ করেন বলে পবিত্র কোরানে দেখা যায় । এ দোয়ার মাহাত্ব অনেক ।


বস্তুতপক্ষে আল্লাহ পাক হযরত ইব্রাহিমের (আ) দোয়া কবুল করেছেন এবং তাঁর বংশ হতেই আমাদের রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সা ) এ ধরার বুকে আভির্ভুত হয়েছেন । হযরত আদম (আ) হতে শুরু করে মহানবী ( সা ) পর্যন্ত বংশ ধারা নীচের চিত্রে দেখা যেতে পারে ।

উৎস : Click This Link

লেখাটির এ পর্যায়ে দেশ বরেন্য কবি ও সাহিত্যিক গোলাম মোস্তফা রচিত একটি জনপ্রিয় না’তে রসুল পাঠের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ছালাম প্রেরণ করা হল:


নবুওয়াত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে কুরাইশগন কর্তৃক যখন কবা ঘর পুণঃনির্মাণ করা হয় তখন এর নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং হজরে আসওয়াদকে কাবা ঘরের বর্তমান স্থানে স্থাপন করেছিলেন।

ছবি -৬: হজরে আসওয়াদ

সুত্র : Click This Link

নবীজির গুণের কথা ছড়িয়ে পরে তাঁর বাল্যকাল হতেই , তাইতো তাঁকে নিয়ে কবি নজরূল লিখেন-

ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মাদ এল রে দুনিয়ায়
আয়রে সাগর আকাশ বাতাস দেখবি যদি আয়।।
ধুলির ধরা বেহেস্তে আজ, জয় করিল দিলরে লাজ
আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়
দেখ আমিনা মায়ের কোলে, দুলে শিশু ইসলাম দুলে
কচি মুখের শাহদাতে বানী সে শুনায় ।।

হজরে আসওয়াদ জান্নাতের একটি মূল্যবান ইয়াকুত পাথর। পৃথিবীতে প্রেরণের সময় মহান আল্লাহ তায়ালা এই পাথর দুটির ঔজ্জল্য ম্লান করে তারপর প্রেরণ করেছেন। তানা হলে এদের আলোতে সমস্ত পৃথিবী এমনভাবে আলোকিত হয়ে থাকত যে দিন-রাত্রির পার্থক্য বুঝা যেতনা। অন্য এক হাদীছে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীতে প্রেরণের সময় হজরে আসওয়াদ দুধের মত সাদা ছিল। কিন্তু মানুষের পাপের ষ্পর্শে সেটা কালো রং ধারণ করেছে।

মক্কা বিজয়ের পর মহানবী কাবা ঘর হতে ৩৬০টি দেবদেবীর মুর্তী অপসারণ করেন । এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার কাবা গৃহে প্রাক ইসলামিক যুগে ও মক্কা বিজয়ের পুর্বে মুর্তী থাকার পরেও কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া নিয়ে মুখরোচক ও মনগড়া বিধর্মী কিছু কথাবার্তা বিভিন্ন ব্লগে ও সামাজিক যোগাযোগোর মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে মর্মে দেখা যায় , তবে সে সমস্তই অন্তসারশুন্য মিথ্যা মনগড়া কথামালা ব্যাতিত কিছুই নয় । ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীগন আশা করি এ বিষয়ে সচেতন থাকবেন ।

আমরা এই ফাকে একটু দেখে আসতে পারি আজ হতে প্রায় দুই শত বছর পুর্বে মসজিদ আল হারাম সহ মক্কা নগরী ও এর চারপাশ দেখতে কেমন ছিল ।
ছবি-৭ ১৮৫০ সনে অটোমান সাম্রাজ্যকালে মসজিদ আল- হারাম সহ মক্কা নগরীর চিত্র

ইসলামের প্রাণকেন্দ্র মক্কায় অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই আল – হারাম মসজিদের সম্প্রসারিত অংশের নির্মাণকাজ সমাপ্তির পর মুসুল্লি ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় ২.৫০ মিলিয়নে ।

ছবি- ৮ মসজিদ আল- হারাম ( ২০১৪ সনে গৃহীত সর্বশেষ সংস্কার ও সম্প্রসারনের কাজ চলাকালীন ছবি )
( এর সম্প্রসারণ কাজ চলাকালীন সময়ে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি )


ছবি-৯ মসজিদ আল- হারামের সম্প্রসারণ কাজ সমাপনান্তে এর এরিয়াল ভিউ

তৌহিদের বাণী প্রচারে প্রাথমিক পর্যায়ে মক্কার কুরাইশদের বিবিধ ধরনের প্রতিবন্ধকতার কারণে নবী করিম ( স) মদিনায় হিজরত করেন ।
মুহাম্মদ (সা) মদিনায় আসার পর সেখানে নির্মিত হয় আল –মসজিদ আল নববী । ৬২২ খৃষ্টাব্দে মসজিদটি মহানবির সরাসরি অংশগ্রহনের মাধ্যমে নির্মিত হয় । গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পরই মসজিদে নববীর স্থান। নির্মাণের পর মসজিদটি সন্মেলনস্থল, আদালত ও মাদ্রাসা হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকরা মসজিদটির সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন।

ছবি-১০: অটোমান শাসন আমলে মসজিদ আল নববী

উমাইয়া খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদের শাসনামলে সম্প্রসারণের সময় হযরত মোহাম্মদ (সা) এবং প্রথম দুই খুলাফায়ে রাশেদিন হযরত আবু বকর ( র)ও উমর (র) এর কবর মসজিদ চত্তরে স্থান পায় । মসজিদের দক্ষিণপূর্ব দিকে অবস্থিত সবুজ গম্বুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, এটি হযরত আয়িশার ( রা) বাড়ি ছিল ( সুত্র : Ariffin, Syed Ahmad Iskandar Syed (২০০৫)। Architectural Conservation in Islam : Case Study of the Prophet's Mosque। Penerbit UTM। পৃ: 88–89,109। )

ছবি-১১ আল –মসজিদ আল নববী কমপ্লেক্স


ছবি-১২ : আল –মসজিদ আল নববীর প্রবেশ দ্বারে মহানবী মোহাম্মদ ( স) এর নাম ফলক


ছবি-১৩ : মহানবীর রওজা শরীফের প্রবেশ দ্বার


মক্কার কাবা ঘর , মদিনায় রাসুলের রওজা শরীফ দেখার তৌফিক এখনো যাদের হয় নাই কবি কাজী নজরুল তাদের জন্য লিখেছেন:


ছবি-১৪ : বর্তমানে মসজিদ আল-নববী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ । ২০১২ সনে ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে শুরু করা এর সর্বশেষ সম্প্রসারণের পর এর মুসুল্লী ধারণ ক্ষমতা দাঁড়ায় ১.৬ মিলিয়নে ।


ইত্যবসরে জেরুজালেমের পুরনো শহড়ে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ মসজিদুল আকসা যা বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত সেখানকার বিষয়গুলি একটু দেখা যাক । এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলোও অবস্থিত। স্থাপনাগুলো সহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়। মুহাম্মদ (সা) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। ইতিহাসবিদ পণ্ডিত ইবনে তাহমিয়ার মতে নবী সুলাইমান ( আ) এর তৈরি সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটির নামই হল মসজিদুল আল-আকসা ।
ছবি-১৫ : হারাম আল শরিফ মসজিদুল আকসা তথা বাইতুল মুকাদ্দাস এই কমপ্লেক্সেই অবস্থিত


ছবি-১৬ : মসজিদুল আকসা যা বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচত


মুহাদ্দিসগণ এই বিষয়ে একমত যে সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটিই নবী সুলাইমান (আঃ) তৈরি করেছিলেন যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল । মুসলমানগন বিশ্বাস করেন , নির্মাণের পর থেকে এটি ঈসা (আঃ) সহ অনেক নবীর দ্বারা এক আল্লাহকে উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যাবহৃত হয়ে এসেছে। এই স্থান মুসলিমদের প্রথম কিবলা । নবিজীর হিজরতের পর কুরানের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণে কাবা নতুন কিবলা হয়। বর্তমানে "আল-আকসা" মসজিদ বলতে বোঝায় কিবলি মসজিদ , মারওয়ানি মসজিদ ও বুরাক মসজিদ ( ৩ টির সমন্বয়) যা হারাম আল শরীফ এর চার দেয়াল এর মধ্যেই অবস্থিত।

ছবি-১৭ আল- আকসার কিবলি মসজিদ এবং কুব্বাত সুলাইমান (১৯০৭ সালে প্রকাশিত চিত্র )।

ছব-১৮ কুব্বাত আস সাখরা। এটি ইসলামী স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন নমুনা

সুত্র : Friedlander, Gerald, Pirkê de rabbi Eliezer, Kegan Paul, Trench, Trubner & co. Ltd. , London, 1916, p.221
কিছু ঐতিহাসিক তথ্যমতে দেখা যায় যে হযরত ইব্রাহিম ( আ ) এখানেই তাঁর পুত্র ইসমাইল কে কুরবানি দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। আদম (আ) কে সৃষ্টিরও ২০০০ বছর পূর্বে ফেরেশতারা এই জায়গায় এসেছিলেন এবং ইসরাফিল (আ) কেয়ামতের সময় এখানেই শিঙ্গায় ফুঁ দেবেন (Friedlander ১৯১৬) ।
ছবি - ১৯ : কুব্বাত জিব্রাইল

সুত্র: Prophet's Dome . Archnet Digital Library. https://archnet.org/collections

ছবি-২০ : ছবি - কুব্বাত আল মিরাজ


ঐতিহাসিক তথ্যমতে দেখা যায় যে মিরাজ এর রাত্রে এই নির্দিষ্ট স্থানটি থেকেই নবী করিম ( সা ) উর্ধ্বাকাশে গমন করেছিলেন । কুরআন ও ইসলামি বিবরণ অণুযায়ী আল-আকসা মসজিদে মুহাম্মদ (সা) মিরাজের রাতে ,বিদ্যুৎ ও আলোর চেয়ে দ্রুতগামী বাহন বোরাকে চড়ে এসেছিলেন ( Khadija ২০০৭), "A night journey through Jerusalem" [জেরুজালেমে একটি রাতের ভ্রমন]
১৯৬৭ সনের যুদ্ধের আগ পর্যন্ত জর্ডানের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় মসজিদটির তত্ত্বাবধায়ক ছিল। যুদ্ধে ইসরায়েল জয়ী হওয়ার পর ইসলামি ওয়াকফ ট্রাস্টের হাতে মসজিদের ভার প্রদান করা হয়। তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদ এলাকায় টহল ও তল্লাশি চালাতে পারে। মুহাম্মদ আহমেদ হুসাইন প্রধান ইমাম এবং আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে তাকে জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ দেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি দ্বন্ধের ক্ষেত্রে আল-আকসা মসজিদের অধিকার একটি ইস্যু। মসজিদসহ পুরো হারাম আল শরিফের উপর ইসরায়েল তার সার্বভৌমত্ব দাবি করে কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দাবি এর অভিভাবকত্ব ইসলামি ওয়াকফের। ফিলিস্তিনিরা মসজিদ এবং পূর্ব জেরুজালেমের অন্যান্য ইসলামি স্থানগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে ।

ছবি-২১ : উমাইয়া গ্রেট মসজিদ , দামেস্ক, সিরিয়া


উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ-১ কতৃক ৭০৫-৭১৫ খৃস্টাব্দে বর্তমান সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে গ্রেট মসজিদ হিসাবে নির্মাণ করা হয় ।সম্পুর্ণ পাথরের তৈরী এ মসজিদটি এখনো টিকে আছে । এই মসজিদটিকে ইসলামিক দুনিয়ায় চতুর্থতম পরিত্র মসজিদ হিসাবে অভিহিত করা হয়ে থাকে । বলা হয়ে থাকে যে হযরত ঈছা ( আ ) এর পুণরাগমন হবে এই মসজিদেই প্রথম (Hitti, Phillip K. 2002). History of Syria: Including Lebanon and Palestine. Piscataway, NJ: Gorgias Press LLC.

অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে হয় সিরিয়ার আলেপ্পোতে আজ বোমার আঘাতে ধংস হচ্ছে মসজিদ

ছবি-২২ : বোমার আঘাতে আলেপ্পোতে বিধ্বস্ত আল জিনি মসজিদ , সিরিয়া

সাম্প্রতিককালে বোমায় নিহত সিরিয়ান মুসলিমদের আত্মার শান্তি কামনা করি এই মাহে রমজানে, আর দোয়া করি আল্লা যেন শান্তি দেন বিশ্ব জাহানে । সকলের উপলব্দিতে আসুক ইসলামী সত্যের ও শান্তির সুমহান বাণী । জগতের বুক হতে দুর হয়ে যাক যাবতীয় হিংসা বিদ্বেষ, যুদ্ধ ও হানাহানি । দোয়া করি সিরিয়ায় বন্ধ হোক মুসলমানদের মধ্যে প্রাণঘাতি যুদ্ধের তান্ডব লিলা ।


অপরূপ স্থাপত্য শেলী ও আভ্যন্তরীণ নক্সা ও কারুকার্যময়তা নিয়ে মধ্যযুগে মসজিদ নির্মিত হয়েছে দেশে দেশে ।

অটোমান রাজত্বকালে তুরস্কের ইস্তামবুলে অপরূপ স্থাপত্য শৈলী নিয়ে ১৬০৯ সনে নির্মিত ব্লো মসজিদ তার মধ্যে একটি । এই মসজিদটির মুল সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে এর ভিতরের নীল টাইলস উপর সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের অপরূপ সমাহর । এটিকে দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার দেশী বিদেশী দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে ইস্তাম্বুলে ।

ছবি-২৩ : ব্লো মসজিদ , ইস্তাম্বুল , তুরস্ক


ছবি -২৪ : নীল ও বিভিন্ন রংগের কারুকার্যময় টাইলস শোভিত তুরস্কের ব্লো মসজিদটির আভ্যন্তরীন বাহারী চিত্র


ইসলামের সুমহান তৌহিদি বাণী ছড়িয়ে পরে পৃথিবীর সর্বদিকে , গড়ে উঠে বহু দেশে মুসলিম বসতি ও শাসনব্যবস্থা , ইসলামী স্থাপত্য শৈলী অনুসরনে দেশে দেশে গড়ে উঠে সুন্দর সুন্দর মসজিদ

প্রশান্ত মহাসাগরীয় তিনটি ইসলামিক দেশে ইসলাম ও মসজিদ

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রশান্ত মহাদেশীয় যে কয়টি দেশে মুসলিমদের আগমন ঘটে তার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায়া অন্যতম। উত্তর সুমাত্রা হয়ে ক্রমে মুসলমানরা ছড়িয়ে পড়ে ছোট বড় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত হাজার হাজার মাইলের বিস্তৃত দেশটিতে। ষোড়শ শতাব্দীতে দেশটির প্রধান ধর্ম হয়ে যায় ইসলাম। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া সর্ববৃহত মুসলিম প্রধান দেশ । ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার মুসলমানেরা আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করেন ।তবে জনবহুল শহড়টিতে রাস্তায় যানজটের কারনে সঠিক সময়ে মসজিদে পৌঁছাতে অনেক অসুবিধা হয় । এ অসুবিধা দুর করার জন্য দেশটিতে পবিত্র রমজান মাস হতে ভ্রাম্যমান মসজিদ চলু করা হয়েছে । পিকআপ ভ্যানে বিশেষ ডিজাইনে ভ্রাম্যমান মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে । বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান ও স্টেডিয়ামের সামনে মুসুল্লিদের সুবিধার্থে এ সব ভ্রাম্যমান মসজিদ নামাজের সময় উপস্থিত হয় , এই ব্যবস্থায় মসুল্লিদের নামাজের সুবিধা হয়েছে । একে জরুরী প্রয়োজনে এম্বোলেন্সের কাজেও ব্যবহার করা যায় ।

ছবি – ২৫ : ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রাম্যমান মসজিদ


ছবি-২৬ : প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ব্রনাই এর রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে অবস্থিত একটি মসজিদ :


ছবি-২৭ : মাল এশিয়ায় অবস্থিত দৃস্টি নন্দন সুবিশাল ক্রিস্টাল মসজিদ, টেরাংগুনা, মালএশিয়া


কোরান মাজিদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

কুরান মাজীদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আয়াত রয়েছে প্রায় ৮৫০ খানি। সৃষ্টিজগতের তাবত রহস্য এতে বিধৃত হয়েছে। এমনকি বর্তমানকাল পর্যন্ত বিজ্ঞান যা কিছু আবিষ্কার করেছে তার নিদর্শন কুরান মাজীদে রয়েছে । এমন অনেক নিদর্শন কুরান মাজীদে রয়েছে, যার মাত্র গুটি কয়েক আধুনিক বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পেরেছে , এখনো অনেক কিছু আবিস্কার করতে পারেনি , যতবেশী কোরানে উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলিকে নিয়ে যথাযথ বৈজ্ঞনিক জ্ঞান ও পদ্ধতি অনুসরন করে গবেষনা করা যাবে ততই বেশী জানা যাবে ও প্রমান করা যাবে কোরানের বৈজ্ঞানিক মহাত্বতা । প্রকৃত জ্ঞান দানের মালিক আল্লাহ, আল্লাহর নিকট হতে প্রাপ্ত জ্ঞানের আলোকেই মানুষ আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আয়ত্ব ও প্রয়োগ করতে পারছে । আল্লাহ তাকেই সাহয্য করেন যে নীজে চেষ্টা করে । মুসলমানগন যদি নীজেরা চেষ্টা না করে তাহলে সে নীজের রাস্তা নীজেই বন্ধ করে রাখবে তাতে কোন সন্দেহ নাই ।

বিশ্ব জগত সৃস্টি

পবিত্র কোরানের সুরা আনআমের ১০১ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাই হচ্ছেন আসমান ও জমিনের শ্রষ্টা । আল্লার ইচ্ছায় ও হুকুমে বিশ্ব ব্রম্মান্ড সৃস্টি হয়েছে এক মহা শুন্য হতে, এই শুণ্যের পশ্চাতে রয়েছেন একজন অদৃশ্য মহাশক্তিমান সৃষ্টি কর্তা, তিনিই আল্লাহ ।

ছবি-২৮ : আধুনিক বিজ্ঞানের আলোচনায় প্রমানীত বিশ্ব ব্রম্মান্ড সৃষ্টি হয়েছে একটি মহা শুন্য হতে ( the universe has created from nothingness )


কোরানে যা ১৪০০ বছর আগে বলা হয়েছে বৈজ্ঞানিকগন তা আজ সঠিকভকবে অনুভব করতে পারছে বিগ বেং থিউরির ( মহাবিস্ফোরণ তত্ব) কল্যানে।

ছবি – ২৯ : মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বনুসারে আদি পরিচিত সময়কাল হতে পরবর্তীতে মহাজাগতিক বিশ্বের বৃহত-স্কেলে বিবর্তনের চিত্র ।


ছবি -৩০ : ২০০১ থেকে ২০১০ সন পর্যন্ত Wilkinson Microwave Anisotropy Probe (WMAP), স্যটটেলাইটে তুলা ছবিসমুহ ‘বিগ বেং’ কে বুঝতে সহায়তা করেছে

আল্লাহ জগতকে সৃস্টি করেছেন পর্যায়ক্রেমে , বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রকার বৈজ্ঞানিক গবেষনার মাধ্যমে সে কথার সত্যতা আজ দেখতে পাচ্ছেঅ ২০১৩ সনে দক্ষিন মেরু টেলিস্কোপের সাহায্যে বিজ্ঞানীগন মহা বিস্ফোরন অব্যবহিত পরে ছুটে চলা আলোক রস্মি হতে পরবর্তী ধাপে কিভাবে B-Mode এর মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়ে কোটি কোটি গ্যালাস্কি তথা নক্ষত্র পুঞ্জে পরিনত হয়েছে সে সৃস্টি রহস্য অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে ।

ছবি –৩১ : সাউথ মেরু টোলিস্কোপ


ছবি -৩২: বিগ বেং থেকে উৎসরিত আলোক কনা প্রবাহিত হয়ে মহাকর্ষীয় লেন্সিং প্রভাব দ্ধারা বি-মোড তৈরী করে মহাবিশ্ব জুরে পরিভ্রমনের বৈজ্ঞানীক কল্প


রাত ও দিন প্রসঙ্গে চন্দ্র সুর্য ও তাদের নীজ নীজ কক্ষপথে বিচরণের কথা বলা হয়েছে সুরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে ।


ছবি-৩৩ : সৌর জগত ও তাদের নীজ নীজ কক্ষপথে বিচরণ দৃশ্য


একথাও বলা হয়েছে যে সুর্য একজায়গায় স্থির ( Constant ) নয়, সেও তার নিদৃষ্ট কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে । সুর্য উহার নিদৃষ্ট কক্ষে ভ্রমন করে চলেছে ( সুরা ইয়াছিন ৩৬. ৩৮)

বস্তুতপক্ষে সুর্য প্রচন্ড গতিতে ঘন্টায় ৭২০,০০০কিলোমিটার গতিতে ( ২০কিলোমিটার/সেকেন্ড https://en.wikipedia.org/wiki/Solar_apex ) নক্ষত্র ভেগার দিকে ছুটে চলেছে যাকে বলা হয় সোলার এপেক্স ।
রাতের আকাশে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে দেখতে পাওয়া তারাগুলির মধ্যে ভেগা সবচতে বড় তারা ( নীচের বা দিকের ছবির সব চেয়ে বড় তারাটি ভেগা ) ডানের ছবিতে ভেগা ও সুর্যের আকারের পার্থক্য দেখানো হয়েছে ( বায়েরটি সুর্য ও ডানেওর টি ভেগা ) ,ভেগা সুর্যের সবচেয়ে নিকটতম নক্ষত্র , সুর্য হতে ভেগা (https://en.wikipedia.org/wiki/Vega) এখনো ২৫ আলোক বর্ষ দুরত্বে আছে

ছবি –৩৪ : ভেগা নক্ষত্রের অবস্থান ও তার প্রতি সুর্যের ছোটে চলা

উপরের উল্লেখিত গতিবেগ অনুযায়ী দেখা যায় সুর্য প্রতিদিন ১কোটি ৭২ লক্ষ ২৮ হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয় । সুর্যের সাথে পৃথিবী ও চন্দ্র সহ সৌর জগতের সকল গ্রহ উপগ্রহ এই সমান দুরত্ব অতিক্রম করছে । অধিকন্ত বিশ্ব ব্রম্মান্ডের সকল নক্ষত্রই তাদের জন্য পুর্ব পরিকল্পিত পথে ছুটে চলেছে । তার মানে হল সমগ্র বিশ্ব ব্রম্মন্ডাই তার কক্ষপথে ( orbits) অবর্তিত হচ্ছে যা কোরানে ১৪০০ বছর আগে বলা হয়েছে ,’ আসমানের শপথ যাহার চলিবার ও আবর্তিত হওয়ার পথ রহিয়াছে’ ( সুরা যাররিয়াত ৫১.০৭)।

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী বিশ্ব ব্রম্মান্ডে প্রায় ২০০ বিলিয়ন গ্যলাক্সি রয়েছে ( টেলিস্কুপে দেখার ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ সংখ্যা আরো বাড়তে থাকবে বলে বিশ্বাস ) । এই ২০০ বিলিয়ন তারা বা নক্ষত্রের অধিকাংশরই আবার গ্রহ ও উপগ্রহ আছে যে গুলির প্রত্যেকটিই সুষ্ঠ ভাবে আবর্তিত হচ্ছে শত শত কোটি বছর ধরে, কিন্তু কেও কারো সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেনা ।

মহান রাব্বুল আলামিনের সৃস্টি রহস্য প্রকাশের সাথে সাথে পবিত্র কোরানে রয়েছে তাঁর শুকর গোজাড়ী করার জন্যও দোয়ার আয়াত :

জগতের যেদিকেই তাকানো যাক কেন সেখানেই দেখতে পাওয়া যায় আল্লার অপরূপ সৃস্টির নিদর্শন । কোরানের শত শত আয়াতে রয়েছে সৃস্টি রহস্যের বর্ণনা যেমনটি দেখা যায় দরিয়ার পানির ধর্ম সম্পর্কে সুরা আর রহমানের দুটি আয়াতের বর্ণনায় :

বস্তুতপক্ষে এটা আজ প্রমানিত যে ভুমধ্য সাগরের পানি জিব্রালটার প্রনালী দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের প্রবেশ করলেও তাদের মধ্যে একটি সুক্ষ বিভেদ থেকেই যায় । ভুমধ্য সাগরের পানির উঞ্চতা , লবনাক্ততা , এবং ঘনত্বের পরিবর্তন হয়না কারন সেখানে অদৃশ্য একটি বাধা ( বেরিয়ার ) দুইটি সাগরের জল রাশিকে পৃথক রাখে ।

ছবি-৩৫ : জিব্রালটার প্রনালির দুই দিকে ভুমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের পানির ভিন্নতা

জিব্রালটার প্রনালী দিয়ে ভুমধ্য সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর যুক্ত । জিব্রালটার নামটি এসেছে স্পেন বিজয়ী মহাবীর তারেকের নাম হতে । জিব্রালটার এখন একটি ব্রিটিশ ওভারসিস টেরিটরি । এই বৃটিশ ওভারসিস টেরিটরির ( বৃটিশ নিয়ন্ত্রিত ভুখন্ড ) জিব্রালটারের ইউরূপা পয়েন্টের কাছে বসবাসকারী ১০০০ মুসলিম অধিবাসিদের নামাজের সুবিধার জন্য সৌদী অর্থায়নে নিন্মের সমজিদটি নির্মান করা হয় ।

ছবি -৩৬ : জিব্রালটার প্রণালীর কাছে মসজিদ



পুজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে ইসলামের নব জাগরন

কিছু কিছু আন্তর্জাতিক মহল থেকে ইসলামকে সন্ত্রাসী জঙ্গী ধর্ম হিসাবে চিহ্নিত করে তুলার চক্রান্তকে ব্যর্থ ( আংশিক এখনো অনেক চক্রান্ত ও নির্যাতন রয়ে গেছে বিভিন্ন স্থানে) করে দিয়ে দেশে দেশে ইসলামের বিজয় কেতন এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে । খোলা চোখে মধ্যপ্রাচ্যের দু একটি দেশে মুসলমানদের বিপর্যয় চোখে পড়লেও ইসলামের বিজয় নিশান উড়ে চলেছে দৃপ্ত বেগে বিশ্বের প্রায় সকল সমাজতান্ত্রিক , ধনতান্ত্রিক , মুসলিম ও অমুসলিম দেশ সমুহে দ্রুত বেগে । উল্লেখ্য কমুনিস্ট রাশিয়াতে ইসলাম বিপর্যস্ত ছিল দির্ঘকাল ধরে। মস্কোর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ঈর্ঘদিন ছিল বন্ধ । সেটা এখন খোলে দেয়া হয়েছে মুসলমানদের নামাজের তরে ।
ছবি-৩৭ : কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ , মস্কো ।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে রাশিয়ানদের পুরোনো মনোভাবে পরিবর্তন এসেছে । ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম নিয়ে আগে তো সব রুদ্ধ ছিল, এখন রাশিয়াজুড়ে মসজিদ ও মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁরা সমাজ থেকে ধর্মকে আর বিচ্ছিন্ন করে বা দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে না। এটা ইসলামের বিকাশের জন্য অনেক বড় একটা বিরাট বিষয় ।
গোটা চেচনিয়ায় যেখানে মসজিদের অস্তিত্ব বিলীন হ ওয়ার পথে ছিল সেখানে এখন কাদিরভ মসজিদটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ ও ইসলমিক সেন্টারে পরিনত হয়েছে ।

ছবি - ৩৮ : চেচনীয়ার রাজধানী গ্রজনীতে অবস্থিত আহমাদ কাদিরভ মসজিদ



ছবি – ৩৯ : রাশিয়ার কাজানে অবস্থিত কুলশরীফ মসজিদ (Qolsharif Mosque)


মসজিদটি রাশিয়ার কাজানে অবস্থিত , এটা সেখানকর সকল ইসলামিক কার্যকলাপের কেন্ত্র ভুমি । এটা রাশিয়া ও ইউরোপের সর্ববৃহত মসজিদ ( তুরস্ক ব্যতিত). কাজানের রাজধানী কানাতে স্থাপিত মসজিদটি ১৫৫২ সনে ইভান সেনাবাহিণী (Ivan the Terrible , সে সময়কার রাশিয়ার জার সম্রাট ) কতৃক ধ্বংসের পর একে পুনরায় ২০০৫সনে সৌদি আরব ও ইউ এ ই অর্থায়নে একটি বহু মিনার বিশিষ্ট মসজিদ হিসাবে নির্মাণ করা হয় ।


চীনে ইসলামের অবস্থা

চীনে ইসলামের আবির্ভাব হয় হিজরি প্রথম শতকে। তং রাজবংশের শাসনামলে সিল্ক রোড ও সমুদ্রপথে আরব ও ইরানি মুসলমানরা গিয়ে প্রথমে চীনে ইসলাম প্রচার করেন। তখন থেকেই চীনের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন মুসলমানরা। চীনা মুসলমানরা মনে করেন, চীনে ইসলামের আবির্ভাবের শুরু হয়েছিল সা`দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের (রা) সফরের মধ্য দিয়ে। সে সময় ইসলামের প্রতি অনুরাগের নিদর্শনস্বরূপ সম্রাট ইউং ওয়েই চীনে মসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন। যা ছিল চীনে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ। ১৪শ` বছর পার হয়ে যাবার পরও Guangzhou শহড়ের ঐ Huaisheng মসজিদটি স্মারক মসজিদ হিসেবে আজো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে চীনে । কমিউনিস্ট আমলের প্রথম হতেই ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা ও নিপিরন সত্ত্বেও চীনে বিশেষ করে দেশটির বৃহত্তম হান গোত্রের মধ্যে ইসলামে দীক্ষিতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। মুসলমানরা এগিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের ধর্মানুশীলনের দিকে। চীনের ৮ কোটি মুসলমানের দেশে ইদানীং মুসলিম ধর্মানুরাগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ছবি- ৪০ : হিউসেংগ মসজিদ , গোয়াংজু , চীন

ইসলামী স্থাপত্য শৈলীর মসজিদ ও নির্মিত হচ্ছে চীনে , চীনে বর্তমানে প্রায় ৩৯০০০ মসজিদ রয়েছে ।

ছবি -৪১ : ইসলামী স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত চীনের কোয়নজু’তে অবস্থিত হিউয়ী মসজিদ (Hui Mosque)



ব্যপক হারে ইউরোপে গীর্জা সমুহ মসজিদে রুপান্তর

৭১১ খৃস্টাব্দে মুসলমানদের স্পেন বিজয়ের পর কর্ডোভাতে ‘গ্রেট মস্ক’ নির্মিত হয় । স্পেনীসদের দাবী মসজিদটি যেখানে নির্মিত হয় সেটি পুর্বে তাদের একটি কেথলিক গীর্জা হিসাবে ছিল । ৭১১ সনে মুসলিম বিজয়ের পর এটার মাঝখানে দেয়াল তুলে এক অংশে মুসলমানেরা মসজিদ আর অপর অংশ খ্রিস্টানেরা গীর্জা হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল । ৭৮৪ সনে মুসলমানেরা খ্রিস্টানদের অংশ কিনে নিয়ে গীর্জাটিকে ভেঙ্গে সেখানে গ্রেট মস্ক নির্মান করেন ।

ছবি - ৪২ : স্পেনের কর্ডোভায় গ্রেট মসজিদ কমপ্লেক্স

এই মসজিদটির বাহ্যিক অবকাঠামো ইউরোপিয়ান গথিক স্টাইলে নির্মান করা হলেও এর প্রধান মিনার ও ভিতরের ডেকোরেশনে অপরূপ ইসলমী স্থাপত্য নির্মান শৈলী ও কারুকাজ করা হয়েছিল যা আজো বিস্ময় হয়ে আছে । নিন্মের চিত্রে দেখা যেতে পারে ।

ছবি - ৪৩ : গ্রেট মসজিদের গম্বুজের আভ্যন্তরীন অপরূপ সৌন্দর্য মন্ডিত কারুকাজ


১২৩৬ সনে স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পরে স্পেনীসরা এটাকে আবার রোমান ক্যথলিক গির্জায় ক্যথেড্রালে রুপান্তর করে । ২০০০ সন হতে স্পেনিশ মুসলমানেরা এই ক্যথেড্রালে পারস্পরিক এরেঞ্জমেন্টের মাধ্যমে নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য ক্যথলিক চার্চের কাছে লবিং চালিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু মুসলমানদের এই দাবী সমুহ ক্রমাগতভাবে স্পেনিশ চার্চ অথরিটি ও ভেটিকান থেকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে । এই পবিত্র মাহে রমজানে দোয়া করি ইউরোপে প্রবেশ দ্বার হিসাবে পরিচিত স্পেনের কর্ডোভার ঐতিহাসিক মসজিদটি যেন সেখানকার মুসলমানদের নামাজের জন্য অবারিত করে দেয়া হয় ।

এখানে উল্লেখ্য যে স্পেনের সেই বিখ্যাত গ্রেট মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়ের অধিকারের দাবী অগ্রায্য হলেও ইউরোপের অন্যান্য দেশে উল্লেখযোগ্য হারে গীর্জা সমুহ মসজিদে রুপান্তরিত হচ্ছে বিগত কয়েক দশক ধরে । এটা ইউরোপে ইসলামের বিকাশে সহায়তা করছে ব্যপকভাবে ।


জার্মানী , ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে মুসলমান ও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত গতিতে , ফ্রান্সে রয়েছে প্রায় ২৫০০ মসজিদ ( যদিউ ২০১৫সনে সন্ত্রাসী ঘটনার পরে প্রায় ২০টির মত মসজিদকে উগ্রপন্থার অজুহাতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল এব্ং মসজিদ সমুহ বেশ কিছু বিধিনিষেধ ও নজরদারীর আওতায় আনা হয়েছে ,তবে এটা নিতান্তই সাময়িক ) । ইসলামের নামে উগ্রপন্থিদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ হলে মুসলমানদের জন্য কোন অসুবিধাই থাকবেনা , ইসলামের নামে সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যকলপ বন্ধ হোক সমগ্র বিশ্বে, এ কামনাই পবিত্র রমজানে দোয়া কবুলের মাসে জানাই বিধাতার পরে ।

ছবি -৪৪ : The Grande Mosquée in Paris


যুক্তরাজ্যে মসজিদের সংখা এখন প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি , এ ছাড়াও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় বড় শিল্প করখানায় মুসলমানদের নামাজের জন্য রয়েছে অনেক প্রেয়ার রুম । ইউকেতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিষ্টানদের চার্চ মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে, আরো অনেকগুলি রুপান্তরের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে । উল্লেখ্য একটি ভলানটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চার্চগুলির মসজিদে রূপান্তর হচ্ছে , এর মধ্যে কোন জোর জবরদস্তি নেই । তাই বলা যায় ইসলামের বিকাশ তার আপন গতিতেই হয়ে চলেছে আল্লার অশেষ মেহেরবানিতে । এটা আল্লা তায়ালার অশেষ রহমত, এটা তাঁর দ্বীন কে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠার একটি পরিস্কার ঈঙ্গীত । এই পবিত্র রমজানে আল্লার কাছে শুকর গোজর করি সে সাথে ইসলামকে সুমহান করার জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করি। উল্লেখ্য ইসলামের বিকাশ , হেফাজত , রক্ষনাবেক্ষন ও প্রতিপালনের জন্য কোন রকম জঙ্গী ফঙ্গী বা চরম নিন্দনীয় কোন রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রয়োজন নেই , বিশ্ব ব্রমামান্ডের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী অল্লাই এর বিকাশ , হেফাজত ও একে সঠিকভবে প্রতিপালনের জন্য তৌফিক দান করবেন । আমরা ঈমানে বলীয়ান হলে ইনসাল্লাহ আমাদের দোয়া তার দরবারে কবুল হবে ।

ছবি-৪৫ : বার্মিংহাম সেন্ট্রাল মসজিদ , হাইগেইট , বার্মিংহাম , ইউ কে

যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের এবারডীন শহরের কেন্দ্রস্থলে কোন মস্জিদ না থাকায় মুসল্লীদের নামাজের সুবিধার্থে বছর কয়েক আগে বাংলাদেশী বংশোদ্বত মুসলমানদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শহড়ের কেন্দ্রস্থলে সৈয়দ শাহ মোস্তফা জামে মস্জিদ নামে একটি মস্জিদ নির্মিত হয়। কিন্তু মসজিদে স্থান সংকোলনের অভাবে অনেক মুসুল্লীকেই মসজিদের বাইরে প্রচন্ড শীতের মধ্যে জুমার দিনে নামাজ পড়তে হত। মুসুল্লীদের এত কষ্টের মধ্যে নামাজ পড়তে দেখে মসজিদ সংলগ্ন চার্চের রেভারেন্ড ড:আইজাক পোবালান তার অনুসারীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে প্রতিবেশী মুসলিমদের উপসনার স্বার্থে চার্চের একটি অংশ মসজিদের সাথে যুক্ত করে দিয়ে নামাজ আদায়ের জন্য উম্মোক্ত করে দেন ২০১৩ সনে । মিডিয়া বিশেষ করে বিবিসির বদৌলতে বিষয়টি বৈশ্বিক আলোচনার শীর্ষে চলে আসে । দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের ইসলামী ও অনৈসলামী বিশিস্ট আলেম ও পন্ডিত বর্গ এ মহতি প্রচেষ্টাটির সামাজিক ও সাম্প্রদায়ীক প্রভাব নিয়ে নিরীক্ষা ধর্মী গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন।

ছবি -৪৬ : এবারডীনের একই অংগনে মসজিদ ও গীর্জায় মুসলমান এবং খ্রিষ্টানদের নামাজ ও প্রার্থনা


বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় সহিংসতা পরিহার করে সকলের শান্তিপুর্ণ সহবস্থানে উপসনা ও প্রার্থনার ক্ষেত্রে এধরনের উদ্যোগট সৃস্টি করতে পারে নতুন একটি অধ্যায়ের । এমনিতেই ,এখন পশ্চিমা বিশ্বে হাজার হাজার বিশালাকৃতির গীর্জা জনশুন্য ও বিরানভুমিতে পরিনত হওয়ার পর্যায়ে । এগুলি যদি আল্লার কৃপায় মসজিদে রুপান্তরিত হয়ে মানুষকে দ্বিন ইসলামের দিকে ধাবিত করে তবে এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে । দেশ দেশান্তরে মহান ইসলামের বিজয় হবে এতো আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাধীন ও তাঁরই বিধান এবং এখতিয়ারধীন । পবিত্র রমজানের দোয়া কবুলের এ মাসে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন ইসলামের শান্তিপুর্ণ বিজয়কে নীজ মহিমায় তরান্বিত করেন ।

দুনিয়ার উত্তর প্রান্তের দেশ কানাডার টরেন্টো, মনট্রিল, ক্যালগেরি , হ্যালিফ্যাক্স ও আলবার্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুউচ্চ মিনার গম্বুজসহ অনেক মসজিদ। পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট প্রার্থনার স্থান। বিভিন্ন শহরে অবস্থিত প্রায় শতাধিক মসজিদ প্রতি শুক্রবার কানায় কানায় পূর্ণ থাকে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে।

ছবি – ৪৭ : বাইতুন নুর মসজিদ ( আলবার্টা কানাডা )


পৃথিবীর দক্ষিন প্রান্তের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ধর্ম বিশ্বাসীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমলেও প্রভাবশালী এ দেশটিতে অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এখন দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ছয় লাখের মতো । উল্লেখ্য তিনজন টার্কিশ সাইপ্রিয়ট তাদের বাড়ী ব্যংকে বন্ধক রেখেস অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় সানসাইন নামে একটিউ মসজিদের নির্মাণ ব্যায় মিটানোর জন্য অর্থের যোগান দেন ।

ছবি- ৪৮ : সানরাইজ মসজিদ , ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া



মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে । বাড়ছে মসজিদের সংখ্যা। আমেরিকায় মুসলমানদের সংখ্যা গত এক দশকে বেড়েছে প্রায় দশ লক্ষ। ২০০০ সনে আমেরিকায় মুসলমান ছিলো ১০ লক্ষ। সংখ্যাটি বেড়ে এখন ২৬ লাখে পৌঁছেছে। ২০০০ সনে আমেরিকায় মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স ছিলো ১২০৯ টি , এখন সেই সংখ্যাটি প্রায় তিন হাজার। নিউইয়র্কে ২৫৭টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৪৬টি, টেক্সাসে ১৬৬টি মসজিদ আছে। ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠ ম্যারিল্যান্ডে ১০ কোটি ডলার অর্থাৎ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি নতুন দিয়ানিত মসজিদ। আমেরিকার সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অধঃপতন যত বাড়ছে,, ইসলাম সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ ততই বেড়ে যাচ্ছে নি:সন্দেহে মুসলিম উম্মার জন্য এটা একটা সুসংবাদ । এই রামজানে কামনা করি আল্লা ইসলামের প্রসারকে দুনিয়ার বুকে কায়েম করুন ।

ছবি- ৪৯ : দিয়ানিত সেন্টার অফ আমিরিকা Diyanet Center of America (D.C.A.) , ওয়াসিংটন


উল্লেখ্য যে, যুক্তরাস্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত দিয়ানিত মসজিদটি তুরস্ক সরকারের Presidency of Religious Affairs (Diyanet Isleri Baskanligi যাকে সংক্ষেপে দিয়ানিত Diyanet বলা হয় ) এর অর্থায়নে নির্মান করা হয় । উল্লেখ্য যে দিয়ানিত সাপ্তাহিক জুম্মার খুৎবার খসড়া তৈরী করে দেয় যা তুরস্কের ৮৫০০০ মসজিদে এবং তাদের (Diyanet) অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের আরো প্রায় ২০০০ টি মসজিদে পঠিত হয় যদিও হানাফী ব্যতিত অন্য মতাবলম্বীরা এর সমালোচনা করে থাকেন ।


পৃথিবীর পুর্ব প্রান্তের সুর্যোদয়ের দেশ জাপানে ইসলামের সওগাত

উসমানি খেলাফতের সময় সুলতান আবদুল হামিদ সর্বপ্রথম ১৮৯০ খৃস্টাব্দে নৌপথে তাঁর জাহাজ ‘আর্তগর্ল'(Al Togrul )-এ এক সৌজন্যমূলক মিশন জাপানে পাঠিয়েছিলেন সে অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াতের সম্ভাবনা সম্পর্কে সমীক্ষা চালানোর জন্য । প্রতিনিধি দলটি জাপানে খুব ভাল প্রভাব সৃষ্টি করেন। মূলত তাঁরা ঐ অঞ্চলে ইসলাম কবুলের বীজ বপন করে যান।

ছবি –৫০ : ১৮৫০ সালে জাপানে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার জন্য গমন কারী সেই বিখ্যাত ‘আর্তগর্ল'(Al Togrul ) জাহাজ

সুত্র Click This Link

তবে তারা জাহাজে তুরস্কে ফেরার পথে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর শুরু হয় প্রকাণ্ড ঝড়। উথাল পাথাল ঢেউ শুরু হয় সমুদ্রে। দিক হারায়ে জাহাজটি ডুবে যায়। ছয়শ’ নয় জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৬৯ জন আল্লাহর অসীম কুদরতে বেঁচে যান। নিকটবর্তী দ্বীপের জাপানী অধিবাসীরা দুর্ঘটনা কবলিত লোকদের অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সাহায্য করেন। জাপানের বাদশাহ মেইজি আহতদের চিকিৎসা ও জীবিতদের তুরস্কে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। শহীদেরকে দুর্ঘটনাস্থলের নিকটেই দাফন করা হয় এবং সেখানে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় থেকে প্রতিবছর এ দুর্ঘটনার স্মৃতি হিসেবে একটি অনুষ্ঠান করা হয়। সৌজন্যমূলক মিশনের অধিকাংশ সদস্য যদিও শহীদ হন, কিন্তু তাঁদের কোরবানী কার্যকর ভূমিকা পালন করে। জাপানে ইসলামের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং তা বিকশিত হয়, পরবর্তীতে জাপানে স্থাপিত হয় বেশ কিছু ইসলামী সেন্টার এবং মসজিদ । টোকিওর শহরতলী এলাকা সাইতামার (saitama) একটি ভবন ক্রয় করে সেখানে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন সেখানকর মুসলমানেরা । আল্লাহ তাদের মহতি কর্ম কবুল করুন ।

ছবি-৫১ : টোকিও কামি মসজিদ (Tokyo Camii) টোকিও , জাপান

পবিত্র মাহে রমজনের এই দিনে ইসলামের দাওয়াতী সে সব শহীদদের জন্য রইল দোয়া ।

ভারতীয় উপমহাদেশের দুর্দশাগ্রস্ত মুসলমান ও মসজিদ

শ্রী লংকার খ্রিস্টান এবং মুসলমানগনের মধ্যে ধারনা রয়েছে যে সৃস্টি কর্তার আদেশে বেহেস্ত হতে ফেরেশতাগন হযরত আদমকে ( আ.) প্রথমে শ্রীলংকাতেই নামিয়ে রেখে রেখে গিয়েছিলেন । কিন্তু একথার পিছনে কোরানে পরিস্কার কোন উল্লেখ নেই কিংবা সহি হাদিসের কোন দালিলিক প্রমান নেই । তবে সপ্তম শতাব্দিতে আরব বনিকদের আগমনের ফলে শ্রিলংকায় ইসলামের সুচনা হয় । এখন সেখানকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ভাগই মুসলমান । কিন্তু ৯০দশকে শুরু হওয়া শ্রিলংকার গৃহযুদ্ধে প্রায় ৯৫ হাজার মুসলমানকে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করে তামিল টাইগাররা ও সেখানকার মুসলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ধ্বংস করে । তাই সেখানকার মুসলিমদের দুর্দশা ও মসজিদগুলি পুণ:স্থাপিত হোক এ দোয়াও রইল এই মাহে রমজানে ।

ছবি -৫২ : ১৯ শতকে নির্মিত জামি উল আলফার মসজিদ , কলম্বো, শ্রীলংকা



বাবরী মসজিদ

বাবরী মসজিদ সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে আলোচিত একটি মসজিদের নাম। বাবরি মসজিদ'র অর্থ বাবরের মসজিদ। ১৫২৭ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে নির্মিত হয় বলে এর বাবরী মসজিদ নামকরণ। ১৯৯২ সালে ভারতের কট্টর হিন্দুরা অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে ছিল । বিষয়টি এখনো সেখানে সমস্যা হয়ে রয়েছে ।ভারতের শীর্ষ আদালত মনে করে, ধর্ম আর বিশ্বাসের সঙ্গে এই সমস্যা জড়িত। তাই এরকম একটি সংবেদনশীল বিষয়ের সমাধান একমাত্র আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই হতে পারে। এই পবিত্র রমজানে আল্লার কাছে দোয়া করি মসজিদটি যেন পুর্বের মত পুণ;নির্মিত হয় ও চালু হয় স্বরূপে । দোয়া করি সম্প্রদায়ীক উত্তেজনা কিংবা ষড়যন্ত্রে মসজিদসহ কোন ধর্মীয় উপসনালয় যেন ধ্বংস প্রাপ্ত না হয় দুনিয়ার কোথাও ।

ছবি - ৫৩ : ভারতের অযোদ্ধায় বাবরী মসজিদ( ভেঙ্গে ফেলার আগের ছবি )


আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলিম নিগ্রহ ও মসজিদের উপর ধ্বংস যজ্ঞ

আমাদের প্রতিবেশী দেশ আরাকানে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর ইতিহাসের জঘণ্যতম গণহত্যা ও নির্যাতন চলছে। আরাকানকে মুসলিম শূণ্য করতেই আন্তর্জাতিক চক্রান্ত অনুযায়ী এ বর্বর নির্যাতন। নির্যাতনবন্ধে বাংলাদেশ সরকারকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হচ্ছে । কারণ যে কোন সংকটে রোহিঙ্গারা সবচেয়ে অধিকহরে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে , এখনো প্রায় প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থী বাংলাদেশে আছে । তাদের দু:খ দুর্দশার কোন সীমা নাই । এ দিকে গত কয়েক দিন পুর্বে ঘুর্ণী ঝড় মোরার আঘাতে উপকুলীয় এলাকায় আশ্রয় গ্রহনকারী প্রায় ৩ লক্ষ রোহিঙ্গা ভীষণভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে । ঘুর্ণীঝড়ে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের উপকুলীয় দেশবাসীসহ সকলের জন্য রইল সমবেদনা ও এই পবিত্র রমজান মাসের দোয়া , আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন ।

ছবি –৫৪ : আরাকানে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের একটি মসজিদ । দোয়া করি আরাকানে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ হোক , ক্ষতিগ্রস্ত সকল মসজিদ পুণ: নির্মিত হোক ।


বাংলাদেশে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী মসজিদ সংলগ্ন মাযারে ওরস প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্যে একটি হলো বাগেরহাটে অবস্থিত ষাট গম্বুজ মসজিদ। মসজিদটিকে ইউনেশকো কতৃক ১৯৮৩ সলে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সুলতান নসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান (র) সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান (র) বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। পাথরগুলো আনা হয়েছিল রাজমহল থেকে। তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট । বাংলাদেশের একমা্ত্র বিশ্ব ঐতিয্যবাহী মসজিদটিতে বার্ষিক ওরস হয় । এই পরিত্র রমজানে দোয়া করি দেশের সকল মসজিদ অলি আওলিয়াদের মাযারে যেন ইসলামী বিধি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ পুরাবক সকল প্রকর ধর্মীয় বিষয়াদি প্রতিপালিত হয় ।

ছবি – ৫৫ : বাংলাদেশের বাগেরহাটে চতুর্দশ শতকে নির্মিত ষাট গম্বুজ মসজিদ


ছবি -৫৬ : যাট গম্বুজ মসজিদের অভ্যন্তর ভাগের অপরূপ স্থাপত্য শৈলী





বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারাম

তৎকালীন বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল লতিফ ইব্রাহিম বাওয়ানি প্রথম ঢাকাতে বিপুল ধারণক্ষমতাসহ একটি গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। ১৯৫৯ সালে ‘বায়তুল মুকাররম মসজিদ সোসাইটি’ গঠনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। সে সময়কার বিশিষ্ট স্থপতি টি. আব্দুল হুসেন থারিয়ানি মসজিদ কমপ্লেক্সটির ডিজাইন করেন । ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের মিহরাবটি অর্ধ-বৃত্তাকারের পরিবর্তে আয়তাকার। আধুনিক স্থাপত্যের কম অলংকরণই এই মসজিদের একটি লক্ষনীয় বৈশিষ্ট । এর অবয়ব অনেকটা পবিত্র কাবা শরিফের মতো হওয়ায় এই মসজিদটি মুসলমানদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। আসুন সকলে মিলে এই পবিত্র রমজানুল মোবারকে এই মসজিদ দেখতে দেখতে দেশ , জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মা ও বিশ্বশান্তির জন্য পরম করুনাময়ের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে নিই ।

ছবি – ৫৭ : বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম ।



পারশ্যের বিখ্যাত কবি শেখ সাদী রচিত বিশ্ব মুসলিম উম্মায় সর্বাধিক পঠিত একটি দুরুদ

ইমেজ সুত্র : Click This Link
শেখ সাদী রচিত বালাগাল উলা দুরুদটি হতে পান করা যায় নবী প্রেমের সুধা । সত্যিই নবী প্রেমের এক মহান আরশি ‘বালাগাল উলা বি কামালিহী’।

অনেকেই এই দুরুদটির বাংলা অনুবাদ করেছেন, তবে মওলানা ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদীর অনুবাদটি বেশ সুন্দর বলে দেখা যায় :
সুউচ্চ শিখরে সমাসীন তিনি নিজ মহিমায়
তিমির-তমসা কাটিল তার রূপের প্রভায়,
সুন্দর আর সুন্দর তার স্বভাব চরিত্র তামাম
জানাও তাঁর ও তাঁর বংশের ‘পরে দরূদ-সালাম।

ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে যে সকল দুঃখ-কষ্ট নবীজী ভোগ করেছেন সে সময়ে তাঁর সাথী ছিলেন নবী কন্যা হযরত ফাতেমা জাহরা । কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছে সিদ্দিকা ফাতিমা জাহরা মসজিদ
নামে একটি মসজিদ ২০১১ সনে বিখ্যাত ভারতীয় তাজ মহলের ডিজাইন অনুসারে নির্মান করা হয়েছে ।

ছবি – ৫৮ : সিদ্দিকা ফাতিমা জাহরা মসজিদ



পারস্যের কবি শেখ সাদী রচিত বালাগাল উলা দুরুদটি অনুকরনে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন :
কুল মখলুক গাহে হযরত
বালাগাল উলা বেকামালিহী।
আঁধার ধরায় এলে আফতাব
কাশাফাদ দুজা বেজামালিহী

রৌশনীতে আজো ধরা মশগুল
তাইতো ওফাতে করি না কবুল,
হাসনাতে আজো উজালা জাহান
হাসুনাত জমিউ খেসালিহী

নাস্তিরে করি’ নিতি নাজেহাল
জাগে তাওহীদ দ্বীন-ই কামাল
খুশবুতে খুশী দুনিয়া বেহেশত
সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহী

বিভিন্ন লেখনী হতে জনা যায় পারস্যের এক ব্যক্তি শেখ সাদীর বিবিধ ধরনের চিন্তা ভাবনা , কবিতার কথামালা সম্পর্কে সন্দিহান ছিলেন। এক রাতে ঐ ব্যক্তি স্বপ্নে দেখতে পেলেন, একজন ফেরেশতা একখানি নূরের বরতন নিয়ে মাটিতে নেমে এলেন। ঐ ব্যক্তি জানতে চাইলেন এ কি ব্যাপার? ফেরেশতা জবাবে বললেন, সাদীর একটি কবিতা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে-সে জন্য বেহেশতের এ উপহার। কবিতাটি হল-

জ্ঞানিদের চোখে
গাছের ঐ সবুজ পাতা
খোদা তত্ত্বের
এক একখানি গ্রন্থ।

ঐ ব্যক্তির যখন ঘুম ভেঙ্গে গেল তখন সেই রাতেই গজলটির ব্যাপারে স্বপ্নে দেখা খোশ খবর সাদীকে জানাতে গেলেন। আশ্চর্য! লোকটি দেখেন উজ্জ্বল বাতি জ্বেলে শেখ সাদী সেই কবিতাটিই পড়ছেন।

আল্লাহ তায়লা কোরানে যা বলেন তা চিন্তা করে দেখতে গেলে দেখা যায় আধুনিক বিজ্ঞানেও তা প্রমানিত, সুরা নহলের ৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে ‘’ আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীকে তিনি যথাযথ ভাবে সৃষ্টি করেছেন ওরা আল্লাহ্র প্রতি যে অংশীদারিত্ব আরোপ করে, তিনি তার বহু উর্দ্ধে ‘’ ( কোরান ১৬ .০ ৩ )। “যথাযথ ভাবে” এই শব্দটি দ্বারা যে ভাব প্রকাশ করা হয়েছে তা হচেছঃ এই বিশাল বিশ্বভুবন সৃষ্টি আল্লাহ্র কোন খেয়াল খুশী, বা লীলা খেলা বা আকস্মিক কিছু নয়। সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেই এই বিশাল বিশ্বভুবনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কথারই সমর্থন মিলে সুরা হিজরের ৮৫ নং আয়াত (১৫:৮৫) এবং সুরা আম্বিয়ার ১৬ নং আয়াতে (২১:১৬) তে।

সারা বিশ্ব ভুবনে, গ্রহ নক্ষত্রে, বিশ্ব চরাচরে এক আল্লাহ্র আইন বিদ্যমান। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দেখি পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র, রসায়ন বিজ্ঞানের সূত্র, উদ্ভিদ জগতে, প্রাণী জগতে সর্বত্র একই নিয়ম চালু বা সকলে প্রকৃতির একই আইনের অধীনে পরিচালিত। এ সকলেই নির্দ্দেশ করে যে, সকল বিশ্ব চরাচরের সব কিছু একই স্রষ্টার সৃষ্টি। বিভিন্ন স্রষ্টার সৃষ্টি হলে তাদের পরিচালনার আইনও বিভিন্ন হতে বাধ্য হতো। ফলে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে দাঁড়াতো। কিন্তু বিশ্ব প্রকৃতিতে কোথাও অনিয়ম নাই। সর্বত্র শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমন্বয় রয়েছে ।
সুরা নহলের ১৩ নং আয়াতে আরো বলা হয়েছে পৃথিবীর (আরও) অনেক বস্তু যা তিনি বহু রং-এ (এবং গুণে) সমৃদ্ধ করেছেন (মানুষের জন্য) যারা (কৃতজ্ঞ চিত্তে) আল্লাহ্র প্রশংসা কীর্তন করে অবশ্যই তাদের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে।

ছবি : সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি


বিশ্ব প্রকৃতির সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার জ্ঞানের স্বাক্ষর বিদ্যমান। প্রকৃতির আইন স্রষ্টার প্রজ্ঞা ও জ্ঞানকে ধারন করে। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা আল্লাহ্র সৌন্দর্যকে, শিল্পী মনকে ধারণ করে। সূর্যাস্তের পশ্চিম আকাশে রং এর ছটা, ফুলের পাপড়ির বিভিন্ন রং এর বাহার, পত্র-পল্লবের বিচিত্র সমাবেশ, প্রাণীকূলের গঠনের মধ্যে সৌন্দর্যের যে বিকাশ ঘটেছে তা সম্পূর্ণ অনুধাবন করা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাহিরে তবে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন কাজী নজরুল তার গজলে ।


সৃষ্টির মাঝে, প্রকৃতির মাঝে আল্লাহ্র প্রজ্ঞা, সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা অর্থাৎ তার হাতের স্বাক্ষর বিদ্যমান। এসব নির্দশন অনুধাবন করার ক্ষমতা তাদেরই থাকবে যারা আল্লাহ্র বাণীর প্রতি নিবেদিত। তাই আসুন এই রমজানে কোরানের বাণীর সাথে সুর মিলিয়ে মোনাজাত করে নিই




এই রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি আল্লাহ আমাদের সকলককে সহজ সরল ও সত্যের পথে চলার তৌফিক দিন এ কামনাই করি ।


ধন্যবাদ মেহেরবাণী করে ধৈর্য ধরে লম্বাসময় সাথে থেকে পোষ্টটি পাঠের জন্য


কৃতজ্ঞতায়
http://quran.gov.bd/ প্রকাশের সাথে জড়িত সকলকে
গুগল অন্তরজাল আর লেখাটির সুত্রে উল্লেখিত সকলকে ।

মন্তব্য ১৫৪ টি রেটিং +৩৬/-০

মন্তব্য (১৫৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৬:২৬

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: হেরা পর্বত দেখেছি, কিন্তু গুহাটা দেখার সোয়ভাগ্য হয়নি, পরিশ্রমী পোষ্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ প্রথম মন্তব্য দানের জন্য ।
খুব খুশী হলাম ইতিহাস বিখ্যাত হেরা পর্বত দেখার সৌভাগ্যের কথা শুনে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

২| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৬:২৮

মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: রামাদান মোবারক।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৪৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , আপনার প্রতিউ রইল রমজান মোবরক ।

৩| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৩৮

ওমেরা বলেছেন: ভাইয়া ছোট মুখে একটা রড় কথা বলি অনেক তথ্য বহুল গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী পোষ্ট অনেক কিছু জানার আছে কিন্ত বেশী বড় । তাই আমার ধারনা কেউ পুরা পোষ্ট পড়বে না তাই আমার মনে ২/৩ পর্বে দিলে আপনার কষ্ট সার্থক হত । যদি ও আমার মত যাকে তারে ঠিকই পড়বে ।

আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাজা দান করুক আমীন ।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ৭:০৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , কষ্ট করে লেখাটি পাঠের জন্য । কি যে বলেন ছোট মুখ হবে কেন , পাঠক আমার মাথার তাজ । আপনার প্রতিটি কথাই আমার কাছে মুল্যবান । আমি জানি বড় আকারের লেখা পুরাটা পাঠক সাধারণত পড়েননা , আমি নীজেও অনেক সময় পড়িনা । তবে কোন লেখা আমার কাছে প্রয়োজনীয় মনে হলে তা যত বড়ই হোক তা শুধু একবার নয় কয়েকবার পড়ি । আমার মনে হয় লেখাটিকে স্ক্রল ডাউন করার সময় পাঠকের চোখ যেখানে আটকে যায় সেটুকু মনযোগ দিয়ে পড়বেন যদি তাঁদের ভাল লাগে । লেখাটিকে পর্ব হিসাবে দিলে দেখা যায় পরের পর্বগুলি পাঠকের তেমন দৃষ্টি আকর্ষন করেনা । আমার নীজের অনেক লেখাতেও তেমনটি দেখেছি । এর ফলে আমি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই তা শেষ করার জন্য উৎসাহ হরিয়ে ফেলি ,ক্ষতি হয় আমার নীজেরই, সেই বিশেষ বিষয়ে লেখাটি মাঝ পথে থেমে যায় । ইত্যাদি বিবিধ কারণে এক পর্বেই লেখাটিকে শেষ করার মানসিকতা্ কাজ করে ।

আপনার দোয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৪৩

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: পড়ে শেষ করতে অনেক সময় নিতে হবে ভাই, মনোযোগী হয়েই পড়তে হবে। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলাম এত সুন্দর পোষ্ট উপহার দেয়ায়। প্রিয়তে থাকুন ভাই।

এই রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি আল্লাহ আমাদের সকলককে সহজ সরল ও সত্যের পথে চলার তৌফিক দিন এ কামনাই করি -আমিন

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ৭:০৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ । প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জনবেন ।
পোষ্ট ভাল লেগেছে জেনে খুশী হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৫১

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: ঐতিহাসিক সব স্থাপনা দেখে ও জেনে অনেক অনেক আনন্দিত হলাম, মুগ্ধতা রইল ভাই। আবারও কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেই গেলাম।

শুভকামনা আপনার জন্য সবসময়।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ৭:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আবার এসে মুগ্ধতার কথা জনানোতে খুশী হলাম ।
ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

৬| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ৭:১৬

তপোবণ বলেছেন: খুব বড় পোষ্ট তবে ভাল লাগছে দারুণ সব তথ্য সম্বলিত বিষযাবলির জন্য। রমজান মাসের উপযোগি একটা পোষ্ট। যে কেউ একটু ধৈর্য্য সহকারে শুরু করলে পুরোটা না পড়ে থাকতে পারবেন না। যেমন টা আমার বেলায় হয়েছে। এম. আলী ভাইকে ধন্যবাদ এমন একটি লেখা উপহার দেয়ার জন্য। আপনার সবাঙ্গীন সুন্দর কামনা করছি ভাই। ভালো থাকবেন।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ৭:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , অনুপ্রানীত হলাম পোষ্টটি ভাল লেগেছে শুনে ।
অনেক কাট সাট করেও লেখাটি বড় হয়ে গেছে বিবিধ কারণে ।
কস্ট করে একবার লেখা হয়ে গেলে কাটতে মন চায়না , যত কাটি
ততই বাড়ে , যেন মাটি কাটা কুয়া !!!
আপনার জন্যও রইল সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা ।

৭| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ১০:২৫

জগতারন বলেছেন:
@ওমেরা; জনাব ডঃ এম এ আলী সাহেবের শ্রমসাধ্য অসাধারন গুরুত্বপূর্ণ এই পোষ্টটি এই ব্লগের সবার জন্য না (অন্তত আমি মনে করি) যারা পড়ার তারা ঠিকই পড়বে। পর্ব আকারে পোষ্ট দিলে এই গুরত্ব পূর্ণ পোষ্টটির গুরত্ব হালকা হয়ে যেত।

প্রিয় ব্লগার ডঃ এম এ আলী-এর প্রতি অভিন্দন ও সুভেচ্ছা জানাচ্ছি পবিত্র মাহে রমজানে এমন সুন্দর একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় জগতারন , অপনার শুভেচ্ছা গ্রহন করা হলো । এই রমজান মাসে অামরা মুসলমানেরা যত লম্বা সময় কোরান পাঠ , দোয়া দুরুদ পাঠ ও আল্লার সৃস্টি সম্পর্কে চিন্তা করে তাঁর প্রতি শুকরিয়া জানাতে পারব ততই বেশী ছোয়াব অর্জন করতে পারব এ বিবেচনা মাথায় রেখে এই পোস্টটিকে সাজিয়েছি বিধায় অনেক লম্বা হয়ে গেছে । এ রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস । আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে পারিবারিক , রাস্ট্রিয় ও বৈশিক বিষয়ের সমস্যা সংকুল অনেক বিষয় অআছে সে গুলি সমাধানের জন্য অআমরা অআল্লার কাছে মোনাজাত করতে পারি , কারো না কারো দোয়া রাব্বুল আল আমীন যদি কবুল করেন তাহলে তা আমাদের বিশ্ববাসির সকলের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে ।

ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

৮| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০১

কানিজ ফাতেমা বলেছেন: স্যার, বেশ পরিশ্রমী পোষ্ট । রব্বানা শব্দ দিয়ে দোয়ার বিষয়টা জানা ছিলনা । এমন তথ্যবহুল পোষ্টে আন্তেরিক ধন্যবাদ ।
পোষ্ট প্রিয়তে রাখলাম ।

আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ূ কামনা করছি ।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , পোষ্ট প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
পোষ্ট তথ্যবহুল অনুভুত হওয়ায় খুশি হলাম ।

আপনার জন্য শুভ কামনা রইল ।

৯| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ১১:১৭

নতুন নকিব বলেছেন:



আলহামদুলিল্লাহ! ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ!!

অনবদ্য! অনন্য!! অসাধারন!!! শোকরিয়া। আবারও। সীমাহীন! তাঁর দরবারে। বিনীতভাবে। যিনি। অনুপম। মহিমাময়। আপনাকে। তাওফিক দিলেন। মহিমান্বিত এই পোস্টদানে!

জাজাকুমুল্লাহ! আহসানাল জাজাহ! ফিদ্দারাইন! আল্লাহুম্মা আমীন।

আলী ভাই,
মাত্র একটিবার। আপনার এই অনন্য সাধারন, অনিন্দ্য সুন্দর পোস্টে। চোখ বুলিয়ে। লক্ষ্য করে দেখি। চোখের কোনগুলো ভেজা! এটা কি আনন্দের প্রকাশ?

কথা হবে আবারও। ভাল থাকুন, অন্তহীন। আপনার অশেষ ধৈর্য-শ্রম-সাধনা আল্লাহ পাক কবুল করুন। এই পোস্ট যারা পড়বেন সীমাহীন দোআ তাদের প্রতিও।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ রাত ৯:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , মন্তব্যের কথামালায় খুবই প্রিত হলাম । আবার কথা হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম , আমারো কিছু কথা আছে ।
এখন সময় হাতে কম , মসজিদে যেতে হবে । অনেকেই এই পোষ্টটি দেখতে চেয়েছেন ও এটা নিয়ে আলোচনা করতে অাগ্রহী , দোয়া করবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

১০| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৪৬

নীলপরি বলেছেন: আবারো একটি অসাধারণ ও পরিশ্রমী পোষ্ট । অনেক কিছু জানলাম । এতো সরল করে আপনি বাংলায় বুঝিয়ে লিখেছেন যে খুব ভালো লাগলো । অনেক ধন্যবাদ ।

অনেক অনেক শুভকামনা রইলো ।

০৪ ঠা জুন, ২০১৭ রাত ৯:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ অনেক কিছু জানতে পেরেছেন শুনে খুশী হলাম ।
ভাল লেগেছে জেনে উৎসাহিত হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল

০৫ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৫:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: পোষ্ট অসাধারণ অনুভুত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
কিছু জানাতে পেরেছি শুনে খুশী হলাম ।
অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।

১১| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৪৯

বে-খেয়াল বলেছেন: অসাধারন অসাধারন আপনার পোষ্টগুলোর কোন তুলনা হয়না অনেক অনেক কিছু জানা যায় এটাও তার থেকে কম কিছু নয়।

০৫ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৫:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপনার মুল্যবান মন্তব্যে অনেক অনুপ্রানীত হলাম ।
শুভ কামনা রইল ।

১২| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৫০

ধ্রুবক আলো বলেছেন: অনেক প্ররিশ্রমী একটা পোস্ট।

০৫ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৬:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, পরিশ্রম স্বার্থক মনে হবে পোষ্টটি আপনাদের কাছে ভাল লাগলে ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

১৩| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:২০

উম্মে সায়মা বলেছেন: যথেষ্ট কষ্টসাধ্য একটি পোস্ট দিয়েছেন ডঃ এম এ আলী ভাই। ধন্যবাদ। অনেক তথ্যের ভান্ডারে সমৃদ্ধ। প্লাস এবং প্রিয়তে।
সাদা মনের মানুষ ভাইয়ের মত আমারো হেরা গুহা দেখা হয়নি। এত উঁচুতে দেখে নিচ থেকে ঘুরে চলে এসেছি। আর ভাবছিলাম মহানবী (সঃ) আর খাদিজা (রাঃ) কিভাবে প্রতিদিন এত উঁচুতে উঠতেন!

০৫ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৫১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ , সত্যিই ভুমি হতে ৮৯০ ফুট উচু এই গুহায় তাঁরা সে সময়ে কিভাবে উঠতেন তা ভাবতে গেলে অবাক হতে হয় ।
শুধু যে উঁচু তাতো নয় কঠীল শিলা পেরিয়ে সে গুহা পর্যন্ত আরোহন করা সেই এক দু:সাহসিক কাজ ।

যদি কাছ হতে দেখতে পারেন তবে এটা নিয়ে ভাল একটা পোষ্ট দিলে আরো অনেক কিছু জানতে পারতাম।শুনেছি ইদানিং এই গুহার খুব কাছে কাওকে যেতে দেয়া হয়না । পাহারে উঠার পথ , পথে কাঁটা গাছ কিংবা অন্য কোন গাছ এখন সেখানে আছে কিনা , সে সাথে এই পাহারের আরো যদি কোন বিশেষ বিশেষ দর্শনীয় স্থান থাকে , সে সকলের ছবি দেখতে পারলে ভাল লাগত

অনেক শুভেচ্ছা রইল


১৪| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৩

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: কোন পোষ্ট পর্ব আকারে না দিয়ে একটু লম্বা হলেও একেবারে দেওয়াই আমি ভাল মনে করি।
যারা পোষ্টটি পড়তে চাইবে তারা নিশ্চয় সময় করে পড়বে।
এই যে আমি প্রথমেই পোষ্ট দেখেছি কিন্তু বড় বলে পড়তে পারিনি। তাই সময় পাওয়াতে এখন পড়ে ফেললাম।
আলী ভাই আপনার সব পোষ্টই অনেক কষ্টসাধ্য পোষ্ট তা দেখলেই বোঝা যায়। সুন্দর পোষ্টের জন্য তাই অনেক ধন্যবাদ।
পৃথিবীতে কত সুন্দর সুন্দর মসজিদ আছে সত্যি ছবি দেখে খুবই ভাল লেগেছে। সেই সাথে মনে হয়েছে কিছু মসজিদ যদি সরাসরি দেখতে পারতাম।
এই রমজানে আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন অন্তত হজ্ব করার তৌফিক দান করেন।
তাহলে ওখনে গিয়ে কিছু মসজিদ তো দেখতে পারব।
আমার জানা মতে সহী হাদীসে আল্লাহস রাসূলের প্রতি পাঠ করা যায় এমন দূরুদ একটিই আছে।
কবিরা রাসূল কে নিয়ে যা লিখেছেন সে গুলি এমনিতে পাঠ করা যাবে তবে তা কি নবীর উদ্দ্যশ্যে পাঠ করা যাবে?
আমাদের নবী তো মাটির তৈরী তাকে নূরের নবী বলা কি ঠিক?
অনেক ভাল থাকুন ভাইয়া।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৮:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: খুব ভাল লাগল আপনার মুল্যবান কথামালা সমৃদ্ধ মন্তব্য ।
দুরুদ প্রসঙ্গে যতটুকু জানি তার মানে দুরুদ হল প্রসংসা , সেটা যে কেও যে কোন ভাবে করতে পারে । তবে খেয়াল রাখতে হবে কাওকে প্রসংসা করতে গিয়ে তা যেন শিরকের পর্যায়ে না যায় । আমাদের মহানবী খুবই উন্নতমানের অনুকরনীয় চরিত্রের অধিকারী ছিলেন , তিনি ছিলেন আল্লার প্রিয় বান্দা বা খাশ হাবিব , তাঁর প্রতি ছালাম জানানোই হলো দুরুদের মুল কথা । এ কথা যে কেও বলতে পারেন ও তা নিয়ে দুরুদ লিখতে পারেন । তবে সকলেই বিখ্যাত কিছু দুরুদ পাঠ করেন । অনেক বড় বড় দুরুদও রয়েছে যেমন দুরুদে তাজ, দুরুদে ফুতুহাত, দুরুদে তুনাজ্জিনা ,দুরুদে হাজারী . দুরুদে মাহী যা যেকোন ইসলামি বইয়ে দেখতে পাওয়া যাবে ।

তুমি যে নুরের নবী
নিখিলের ধ্যনের ছবি

এই না’তে রসুলটির রচয়িতা যাটের দশকের বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক গোলাম মোস্তফা । তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রেঁনেসার কবি নামে পরিচত ছিলেন । তার এই না’তে রসুলটি অর্ধ শতাব্দিরও বেশীসময় ধরে আমাদের দেশে বিভিন্ন গন মাধ্যমে পরিবেশিত হয়েছে , । মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত কবি গোলাম মোস্তফার অবদান বাংলা সাহিত্যে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
নিজস্ব সাহিত্য রচনার পাশাপাশি অনুবাদক হিসেবেও কবি গোলাম মোস্তফার বিশেষ খ্যাতির পরিচয় পাওয়া যায়। আরবী ও উর্দু সাহিত্য হতে নিম্নলিখিত গ্রন্থগুলি ভাষান্তরিত করে বাংলা সাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। ‘ইখওয়ানুস সাফা’, ‘মুসাদ্দাস-ই-হালী’,- ‘কালাম-ই-ইকবাল’, ‘শিকওয়া’ ও ‘আল-কুরআন’ তাঁর ভাষান্তরিত গ্রন্থগুলির অন্যতম। কবি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ একটি আশ্চর্য রকমের সফল সৃষ্টি। গ্রন্থখানা বিশ্বনবী হয়রত মুহম্মদ (সা) এর একটি সার্থক জীবন চরিত। ইসলামী গান, গজল ও মিলাদ মাহফিলের বিখ্যাত ‘কিয়ামবাণী’ (রসুল আহবান বাণী) রচনায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।

এরকম একজন জ্ঞানী গুণী মনিষী তাঁর লেখায় খুব বড় ধরনের কোন ভুল যে করবেন না তা ধরেই নেয়া যায় । আর একটি কথা নুর এর অর্থ হলো জ্যোতি, তা একটু চিন্তা করলে আশা করি বুঝতে পারা যাবে । মানুষ মাটি দিয়ে তৈরী হলেও মানুষের দেহের সাথে আত্মাও রয়েছে , আত্মা বাদ দিয়ে মানুষের পুর্ণতা হয়না । দেহ মাটির তৈরী হলেও আত্না কি দিয়ে তৈরী সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি কোথাও , আত্নার বিষয় আল্লাই ভাল জানেন । দেহের মধ্যে রয়েছে বায়ু , পানি , আলো ও শরিরে উত্তাপ তৈরীর জন্য তেজস্ক্রীয় পদার্থও রয়েছে , এটা নীজেই নীজের গায়ে স্পর্শ করলে টের পাওয়া যায় , তাই মানুষের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা আরো অনেক উপাদান দিয়েছেন । আবার মাটির মধ্যেও রয়েছে অনেক অনেক উপাদান , মাটির বস্তুগত দিকটি বিশ্লেষনে দেখা যায় এর প্রতিটি মৌল উপাদানে রয়েছে ইলেকট্রন , নিউট্রন ও প্রোটন , তার মানে আনবিক উপাদান রয়েছে মাটিতেই যা মুলত তেজস্রীয় জ্যোতি । আশা করি নুর তথা জ্যোতি সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পাওয়া যেতে পারে । অপর দিকে আল্লাহ নিরাকার , তাঁকে কেহ সরাসরী দেখেন নাই , উনার কোন বিবরণ নাই , উনার সৃস্টি নিয়ে কোন আলোচনা নেই , আলোচনা ও বিবরণ আছে শুধু উনার সৃস্টি জগত নিয়ে । নূরে মুহাম্মাদী (সা)-এর সৃষ্টিতত্ত্ব ও অবির্ভাব
বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা দেখা যায় নিন্মের লিংকটিতে । সেখনে এর পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথাই বলা হয়েছে
http://www.chandpur-barta.com/riligion/2015/01/02/26073

ধন্যবাদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য, ভুল আমারো হতে পারে , পারস্পারিক অলোচনায় অনেক কিছু সঠিকভাবে জানা যেতে পারে । আল্লাহ আমাদেরকে তৌফীক দিন সে কামনাই করি ।

শুভেচ্ছা রইল

১৫| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ দুপুর ১:২৩

শূন্য-০ বলেছেন: অসাধারণ পোষ্ট। অনেক তথ্য আর ঐতিহাসিক অতিব প্রয়োজনীয়।
এমন পোষ্ট প্রিয়তে না রাখলে হীনমন্যতা প্রকাশ পাবে।

আপনার কোন প্রশংসা নয়, শ্রদ্ধা ভরে কৃতজ্ঞতা শুধু।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ , প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

১৬| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ দুপুর ১:২৭

বিজন রয় বলেছেন: এই পোস্টি কত সময় ধরে তৈরী করেছেন!!

আমি বিস্মিত হই আপনার জ্ঞানের সুপরিধি দেখে।
সত্যি আপনি অনন্য মেধার অধিকারী।

টুপি খোলা সন্মান।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: এ পোষ্টে দাদার আগমনে মুগ্ধ । জানার ইচ্ছা প্রখর থাকলেই আপনার মত গুনী কবি এখানটায় আসতে পারেন সে কথা বিলক্ষন বুঝা যায় ।
জ্ঞান গরীমা মেধা কোনটাই আমার নাই , জন্মের পর থেকে বাপ দাদার মুখে শুনে এসেছি আমি একটা আস্তা বোধাই ।
তবে দাদার কাছ হতে টুপি খোলা সন্মান নিতে ভুল হবে অমি নই ততটা বোধাই , প্রদর্শিত সন্মানটুকু নিলাম শিরে ধারণ করে
বিনিময়ে দেয়ার মত আমার যে তেমন কিছু নাই ।
শুধু দাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ।
শুভেচ্ছা রইল

১৭| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৩২

মোঃ রেজাউর রহমান বলেছেন: অনেক সুন্দর একটা লেখা

০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ লেখাটি সুন্দর অনুভুত হওয়ার জন্য ।
ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

১৮| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:২৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: বরাবরের মতই আমাদের জন্যে কিছু আর বাকি থাকলো না!!!

পাঠকদের আগ্রহ জাগতে পারে এমন কিছু নিয়ে যা লেখার, তার সব কিছুই দিয়ে দিয়েছেন এখানে!

ইসলামের ইতিহাস, বিজ্ঞান, ধর্মীয় বাণী.... কি নেই এখানে! আরো লেখার জন্যে এগুলো হতে পারে একেকটি সূত্র।

আপনাকে শুভেচ্ছা এমন একটি সুন্দর উপস্থাপনের জন্যে।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , অল্প কথায় তুলে এনেছেন লেখাটির নির্যাস ।
শুভেচ্ছাটুকু গ্রহন করা হলো ,
আপনার জন্যও রইল
ভাল থাকার শুভ কামনা ।

১৯| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৫০

ধ্রুবক আলো বলেছেন: কিছু ছবি দেখে বুকটা হিমশীতল হয়ে যায়, না জানি সামনে থেকে দেখলে কি হবে!
এই রমজানে আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন অন্তত হজ্ব করার তৌফিক দান করেন। তাহলে ওখনে গিয়ে কিছু মসজিদ তো দেখতে পারব। আর সমগ্র আরব ঘুরে দেখার খুব ইচ্ছে আছে।

অনেক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:২৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ মুল্যবান কথামালার জন্য ।
দোয়া করি আপনার মনোবাসনা যেন
আল্লাহ পুরণ করেন অচীরেই।
যা দেখে আসবেন আমাদেকে
সে সকল জানালে খুব খুশী হব ।
শুভেচ্ছা রইল ।

২০| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:০৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


মুসলমানদের ভাগ(সুন্নী, শিয়া, কুর্দি, ওয়াহাবী, আহমেদিয়া) সবাই কি রোজা একইভাবে পালন করেন, আনুষ্ঠানিকতা কি একই?

১৬ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: খুবই কঠীন প্রশ্র রেখে গেছেন
নিচে কিছু কথা বলা হলো
বাকিটা এ বিষয়ে বিশেযজ্ঞদের কাছ হতে শুনার ইচ্ছা রাখি

সুন্নীদের রোযা

সিয়াম সাধনা সুন্নী মুসলিমদের অন্যতম ইবাদত। এর মাধ্যমে পাপপঙ্কিলতাপূর্ণ অন্তরকে পরিশোধিত করা হয়। স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির সেতুবন্ধন স্থাপিত হয়। তাকওয়ার জ্যোতিতে ইমানের দ্যুতিতে মানবাত্মাকে সাজিয়ে তোলা হয়।

শিয়াদের রোজা

শাব্দিক অর্থে তার বুঝে যে রোজা রাখা সবার জন্য বাধ্যতামূলক ,বিশেষত রমাজান মাসে । আর রূপক অর্থে বুঝে ঐশ্যরিক সত্য নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করা এবং এই লক্ষ্য অর্জনে যা বাধা দেয় এমন কাজ থেকে দূরে থাকা । শিয়ারা মনে করে রোজার আসল এবং প্রকৃত অর্থ হলো সমস্ত খারাপ কাজ ত্যাগ করা এবং ভালো কাজে মনোনিবেশ করা ।

কুর্দিদের রোজা

সারা বিশ্বে প্রায় ৩ কোটি কুর্দি আছে। বেশির ভাগ থাকেন কুর্দিস্তানে। এছাড়াও তারা থাকেন পশ্চিম তুরস্ক, আরমেনিয়া, জর্জিয়া, ইসরাইল, আজেরবাইজান, রাশিয়া, লেবানন, কিছু ইউরোপীয় দেশ আর যুক্তরাষ্ট্রে। বেশিরভাগ মুসলিম কুর্দিরা শাফিয়ি মাজহাবের সুন্নি মুসলিম। তবে কিছু শিয়াও আছে।
আর অন্যান্য ধর্মের অনুসারীও আছে, "আহলে হক" ধর্ম, ইয়াজিদি ধর্ম- এসব নবউদ্ভাবিত ধর্ম যেমন আছে তেমন আছে প্রাচীন ধর্মের অনুসারীও যেমন, ইহুদি আর খ্রিস্টান।

শাফিয়ি মাজহাবের সুন্নি মুসলিমরা সুন্নীদের মত করে রোজা তথা নিয়াম সাধনা করে আর শিয়া কুর্দিরা অন্যন্য শিয়াদের মত রোজা পালন করে ।

আহমদিয়দের রোজা

আহমদিয়া মুসলমানরাও মোটামুটি দু’ভাগে বিভক্ত।
এক, আহমদিয়া আঞ্জুমান ইশাত ই ইসলাম উপশাখা;
দুই, জামাতে আহমদিয়া; এরা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে একজন নবী বলে দাবী করে। তবে মুহাম্মদকে(স) এরা রাসুল বলে মানে, ও ধর্মগ্রন্থ হিসাবে কোরানকে মানে , তাই এদের রোজাও অন্যদের মতই ।

২১| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: সমৃদ্ধ পোষ্ট ভাইয়া !!!
জাজাক আল্লাহ খায়রান , আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন ।

শুভ কামনা !

০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:২১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ
কামনা করি আপনার দোয়া আল্লাহ কবুল করুন ।

আপনার জন্যও রইল শুভ কামনা ।

২২| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ রাত ৯:২৪

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া অনেক অনেক ভালো লাগা!

অনেক বেশি মুগ্ধ হলাম!

০৫ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ,
আপুমনির ভাল লাগায় ও মুগ্ধতার কথা শুনে খুশী হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল ।

২৩| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ রাত ১০:০৩

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন:
খুব সুন্দর পোষ্ট +++

খুব সুন্দর করে, কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে রেফারেন্স দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন । আশা করি, কারো বুঝতে কষ্ট হবেনা। এবং মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বটিও খুব সহজ ও সুন্দর ভাবে বুঝিয়েছেন, এখানে মহাবিশ্বের সৃষ্টির রহস্য । ভাবতে অবাক লাগে, পদার্থ শাক্তি স্থান ও কাল এই নিয়ে আমাদের মহাবিশ্ব । ধরণা করা হয়, এই মহাবিস্ফোরণটি ১৩৮০ বছর আগে হয়েছিল,তখন থেকে শুরু হয় স্থান ও কালের পরিমাপ, তা আজও কত সুন্দর ভাবে চলছে ....


ধন্যবাদ ভাই,
ভালো থাকুন সবসময় ........

০৫ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। মুল্যবান মন্তব্য দেখে খুবই ভাল লাগছে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

২৪| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫৮

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মুগ্ধ! বিস্মিত! কৃতজ্ঞ।

হ্যাটস অফ টু ইউ

সবার আগে প্রিয়তে নিতে গিয়ে দেখি ১০ নম্বরে ঠাই পেয়েছি। এত দেরিতে চোখে পড়ায় ধিক্কারি নিজেরে!

এ কমপ্লিট পোষ্ট! এ কম্পলিট ব্লগ!
ক্রম: বর্ণনা, ধারাসূত্রিতা, উপস্থাপনা, দুর্লভ ছবি সমন্বয়! ওয়াও....

অসাধারন পোষ্টের জণ্য আবারও কৃতজ্ঞতা।

বালাগাল উলা বিকামালিহি
কাশাফাদ্দোজা বেজামালিহি
হাসুনাত জামিও খিসালিহি
সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি!!

+++++++++++

০৫ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , আপনার সুন্দর মন্তব্যের কথামালা গুলিও অসাধারণ ।
প্রিয়তে নেয়ার জন্য রইল কৃতজ্ঞতা ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২৫| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ রাত ১১:০৯

করুণাধারা বলেছেন: বড় পোস্ট, অনেক সময় নিয়ে পড়লাম আর মুগ্ধ হলাম।

ধন্যবাদ চমৎকার পোস্টটির জন্য।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , মুগ্ধতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
শুভেচ্ছা রইল

২৬| ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ রাত ১১:৩১

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সময় উপযোগী পোস্ট । সুন্দর +

০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ . আপনার প্রসংসা বাণীতে আমি মুগ্ধ ।
ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

২৭| ০৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:৪৭

তপোবণ বলেছেন: আলী ভাই, আল্লাহ্ আপনার নেক প্রচেষ্টার সুন্দর প্রতিদান দান করুণ। সুরা আলাক্ক এর ৪নং আয়াতের 'বাংলা উচ্চারণে' আরবীর সঠিক আয়াতটি বসেনি যেটি হবে "আল্লাজি আ'ল্লামাবিল ক্বালাম" বিষয়টি এডিট করে দিলে ভালো হয়।
শুভেচ্ছা।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ অতি মুল্যবান তথ্যের জন্য ।
এরকম একটি প্রমাদের জন্য দু:খিত

আপনার কথা মত এডিট করে দিয়েছি ।
শুভেচ্ছা রইল ।

২৮| ০৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:৫৮

কল্লোল পথিক বলেছেন:

সুন্দর সময়োপযোগী পোস্ট।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপনি এসে দেখায় খুবই খুশী হয়েছি ।
পোস্টটি সুন্দর হয়েছে জেনে ভাল লাগছে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

২৯| ০৫ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৪:০৭

চাঁদগাজী বলেছেন:

"হজরে আসওয়াদ জান্নাতের একটি মূল্যবান ইয়াকুত পাথর। পৃথিবীতে প্রেরণের সময় মহান আল্লাহ তায়ালা এই পাথর দুটির ঔজ্জল্য ম্লান করে তারপর প্রেরণ করেছেন। তানা হলে এদের আলোতে সমস্ত পৃথিবী এমনভাবে আলোকিত হয়ে থাকত যে দিন-রাত্রির পার্থক্য বুঝা যেতনা। "

- কোন প্রকার লজিক্যাল ব্যাখ্যা আছে এখনাে?

০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ আবার আসার জন্য । বিভিন্ন স্থানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা । লজিকেল ব্যখা দিতে পারব মরার পরে তার আগে নয় , এখন যা বলা হয়েছে তার ব্যখ্যা শুধু বিশ্বাস । আর ধর্ম বিষয়টা পুরাটাই বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠীত । বিশ্বাস করে কিছু পাইলে তো ভাল, অার মরার পরে যদি দেখা যায় যা বিশ্বাস করেছি তা ছিল ভুল , তাহলেও কোন ক্ষতি নাই ।

৩০| ০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৩০

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: ভাইয়া সুন্দর প্রতি মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।ইসলাম সম্পর্কে আমি একেবারেই অজ্ঞ বলতে পারেন।
এই লেখাটি পড়েছিলাম তাই আপনার সাথে শেয়ার করছি।



আল্লাহ ও রাসূল (ছাঃ) সম্পর্কে কতিপয় ভ্রান্ত আক্বীদা

হাফেয আব্দুল মতীন
এম.এ (শেষ বর্ষ), দাওয়াহ ও উছূলুদ্দীন অনুষদ,
আক্বীদা বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

(শেষ কিস্তি)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাটির তৈরী না নূরের?

আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে মাটি থেকে, জিন জাতিকে আগুন থেকে এবং ফেরেশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ মাটির তৈরী একথা পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। মহানবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)ও মানুষ ছিলেন এবং তিনিও মাটির তৈরী ছিলেন। এক্ষেত্রে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। তবে অনেকে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) নূরের সৃষ্টি, অথচ কুরআন-সুন্নাহ বলছে তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি। সাধারণভাবে চিন্তা করলে বুঝা যাবে যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর পিতা-মাতা মাটির তৈরী সাধারণ মানুষ ছিলেন। তাদের উভয়ের মিলনের ফলে তিনি জন্ম লাভ করেছেন। মাটির মানুষ থেকে মাটির মানুষই সৃষ্টি হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মাটির মানুষ থেকে কি করে নূরের তৈরী মানুষের জন্ম হ’তে পারে?

রাসূল (ছাঃ) বিবাহ করেছিলেন, তাঁর সন্তান-সন্ততিও ছিল। তাঁরা সবাই মাটির মানুষ ছিলেন। রাসূল (ছাঃ) খাবার খেতেন, সাধারণ মানুষের মতই জীবন-যাপন করতেন এবং তাঁর প্রয়োজন ছিল পেশাব-পায়খানার। অন্য সব মানুষের মত নবী করীম (ছাঃ) মৃত্যু বরণও করেছেন। সুতরাং কোন জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ রাসূল (ছাঃ)-কে নূরের সৃষ্টি বলতে পারে না। পূর্বযুগের কাফেররা নবী-রাসূলদেরকে মেনে নিতে চাইতো না; কারণ তাঁরা সবাই মাটির মানুষ ছিলেন। সকল নবী-রাসূলগণ যেমন মাটির মানুষ ছিলেন তেমনি নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)ও মাটির মানুষ ছিলেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বিশদ বিবরণ উপস্থাপিত হয়েছে।

কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلاَلَةٍ مِّنْ طِيْنٍ ‘আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকার মূল উপাদান হ’তে’ (মুমিনূন ১২)।

পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ যে মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন, এ মর্মে কুরআন থেকে দলীল :

(১) নূহ (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, فَقَالَ الْمَلأُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلاَّ بَشَراً مِّثْلَنَا ‘আর তার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা যারা কাফের ছিল, তারা বলল, আমরা তো তোমাকে আমাদের মতই মানুষ ব্যতীত কিছু দেখছি না’ (হূদ ২৭)।

* এম.এ (শেষ বর্ষ), দাওয়াহ ও উছূলুদ্দীন অনুষদ, আক্বীদা বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

(২) আল্লাহ বলেন, قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوْبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَـمًّى قَالُواْ إِنْ أَنتُمْ إِلاَّ بَشَرٌ مِّثْلُنَا তাদের রাসূলগণ বলেছিলেন, আল্লাহ সম্বন্ধে কি কোন সন্দেহ আছে, যিনি আকাশ সমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন তোমাদের পাপ মার্জনা করার জন্য এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দিবার জন্য? তারা বলত, তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ’ (ইবরাহীম ১০)।

(৩) আল্লাহ বলেন,قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِن نَّحْنُ إِلاَّ بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ‘তাদের রাসূলগণ তাদেরকে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের মত মানুষ’ (ইবরাহীম ১১)।

(৪) আল্লাহ বলেন, وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوْا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلاَّ أَنْ قَالُوْا أَبَعَثَ اللهُ بَشَراً رَّسُوْلاً ‘যখন তাদের নিকট আসে পথ-নির্দেশ, তখন লোকদেরকে এই উক্তিই বিশ্বাস স্থাপন হ’তে বিরত রাখে, আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’ (বানী ইসরাঈল ৯৪)।

(৫) আল্লাহ বলেন, وَأَسَرُّواْ النَّجْوَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ هَلْ هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ‘যারা যালিম তারা গোপনে পরামর্শ করে, এতো তোমাদের মত একজন মানুষই’ (আম্বিয়া ৩)।

(৬) নূহ (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِيْنَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ‘তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ যারা কুফরী করেছিল, তারা বলল, এতো তোমাদের মত একজন মানুষ’ (মুমিনুন ২৪)।

(৭) আল্লাহ বলেন, وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِلِقَاء الْآخِرَةِ وَأَتْرَفْنَاهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا مَا هَذَا إِلاَّ بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُوْنَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُوْنَ، وَلَئِنْ أَطَعْتُمْ بَشَراً مِثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذاً لَّخَاسِرُونَ- ‘তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ, যারা কুফরী করেছিল ও আখিরাতের সাক্ষাৎকারকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমি দিয়েছিলাম পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগ-সম্ভার, তারা বলেছিল, এতো তোমাদের মত একজন মানুষ, তোমরা যা আহার কর সেও তাই আহার করে এবং তোমরা যা পান কর সেও তাই পান করে। যদি তোমরা তোমাদেরই মত একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ (মুমিনূন ৩৩-৩৪)।

(৮) মূসা এবং হারূণ (আঃ) সম্পর্কে ফেরাঊন ও তার কওম বলল,فَقَالُوْا أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلِنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عَابِدُوْنَ- ‘তারা বলল, আমরা কি এমন দু’ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করব, যারা আমাদেরই মত এবং তাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে’ (মুমিনূন ৪৭)।

(৯) ঈসা (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنَّ مَثَلَ عِيْسَى عِنْدَ اللهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের অনুরূপ; তিনি তাঁকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করলেন’ (আলে ইমরান ৫৯)।

মুহাম্মাদ (ছাঃ) মাটির তৈরী এ সম্পর্কে কুরআনের দলীল :

(১) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إَلاَّ بَشَراً رَّسُوْلاً ‘বলুন, পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো শুধু একজন মানুষ, একজন রাসূল’ (বানী ইসরাঈল ৯৩)।

(২) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاء رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً ‘বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ একজন। সুতরাং যে তাঁর প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও তাঁর প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকেও শরীক না করে’ (কাহফ ১১০)।

(৩) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ ‘বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি অহী হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ একমাত্র (সত্য) মা‘বূদ’ (হা-মীম সিজদা ৬)।

উল্লিখিত আয়াতগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, সমস্ত নবী রাসূলগণ মাটির মানুষ ছিলেন। অনুরূপভাবে আমাদের নবীও মাটির মানুষ ছিলেন। মানুষের অভ্যাস ভুলে যাওয়া, অপারগ ও অসুস্থ হওয়া, ক্ষুধা-তৃষ্ণা লাগা, বিবাহ করা, সন্তান-সন্ততি হওয়া ইত্যাদি। এ সকল গুণ নবী-রাসূল সবার মাঝেই ছিল। তাঁদের সবার পিতা-মাতা ছিল, তাঁদের সবার স্ত্রী-পরিবার ছিল। তাঁরা খেতেন, পান করতেন, রোগ ও বালা-মুছীবতে পতিত হতেন। তাঁরা অনেক সময় ভুলেও যেতেন। এ সকল গুণ দ্বারা সহজেই বুঝা যায় যে, তাঁরা সবাই মাটির সৃষ্টি মানুষ ছিলেন, নূরের তৈরী ছিলেন না।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাটির মানুষ ছিলেন, এ সম্পর্কে হাদীছের দলীল :

রাসূল (ছাঃ)-এর অনেক সময় ভুল-ত্রুটি হ’ত। ছালাত আদায়ের সময় যখন তিনি ভুলে যেতেন, তখন বলতেন, إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ، أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ، فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِىْ- ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমি ভুলে যাই, যেমনভাবে তোমরা ভুলে যাও। সুতরাং আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে’।[1]

সকল ফেরেশতা নূর থেকে সৃষ্টি এবং আদম সন্তান সবাই পানি ও মাটি থেকে সৃষ্টি। আর জিন জাতি আগুন থেকে সৃষ্টি। যেমন হাদীছে এসেছে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বলেন, خُلِقَتِ الْمَلاَئِكَةُ مِنْ نُوْرٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ ‘সকল ফেরেশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জিন জাতিকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আদম জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই সমস্ত ছিফাত দ্বারা, যে ছিফাতে তোমাদের ভূষিত করা হয়েছে’। অর্থাৎ মানব জাতিকে মাটি ও পানি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।[2]

এই হাদীছটি সমাজে বহুল প্রচলিত হাদীছকে বাতিল করে। তা হচ্ছে ‘হে জাবের আল্লাহ সর্বপ্রথম তোমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেছেন’। অনুরূপ অন্য যে হাদীছগুলোতে বলা হয়েছে, রাসূল (ছাঃ) নূরের তৈরী, সেগুলোও বাতিল। কারণ উপরোক্ত হাদীছটি প্রমাণ করে যে, সকল ফেরেশতা নূর থেকে সৃষ্ট; আদম সন্তান নয়।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাটির মানুষ ছিলেন, এ সম্পর্কে মনীষীগণের অভিমত :

ইমাম ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, সমস্ত নবী এবং ঈসা (আঃ) ও মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহর বান্দা, তাঁরা সমস্ত মানুষের মতই সৃষ্ট মানব। সবার জন্ম হয়েছে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণে। শুধুমাত্র আদম এবং ঈসা (আঃ) ব্যতীত। অবশ্য আদমকে আল্লাহ তা‘আলা মাটি থেকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, কোন নারী পুরুষের সংমিশ্রণ ছাড়া। আর ঈসা (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন তাঁর মায়ের পেট থেকে কোন পুরুষের স্পর্শ ছাড়া।[3]

শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে বায (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এ বিশ্বাসের উপর মৃত্যুবরণ করবে যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) মাটির মানুষ নয় বা আদম সন্তান নয় অথবা বিশ্বাস করে যে, তিনি অদৃশ্যের খবর জানেন, এটা কুফরী এবং একে বড় কুফরী গণ্য করা হবে অর্থাৎ ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কুফরী।[4]

কুরআন বলছে, সকল নবী-রাসূল মাটির তৈরী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজেও বলেছেন, আমি তোমাদের মতই মানুষ। বিদ্বানগণ বলছেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) মাটির মানুষ, সকল নবী-রাসূল এবং সকল সাধারণ মানুষের মত। এরপরেও যদি কেউ মিথ্যা বানোয়াট হাদীছ উল্লেখ করে বলে, তিনি নূরের তৈরী, তাহ’লে সে হবে আক্বীদাভ্রষ্ট।

রাসূল সম্পর্কে জাল বা বানাওয়াট হাদীছ সমূহ

(১) জাবের (রাঃ) একদা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ছাঃ)! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হউক। আপনি বলুন, আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম কোন বস্ত্ত সৃষ্টি করেছেন? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) উত্তরে বললেন, হে জাবের! আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম তাঁর নূর দ্বারা তোমার নবীর নূর সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সে নূরকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগ দ্বারা কলম, এক ভাগ দ্বারা লাওহে মাহফূয ও একভাগ দ্বারা আরশে আযীম সৃষ্টি করেছেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, আসমান-যমীন ফেরেশতা, জিন প্রভৃতি সৃষ্টি হয়ে থাকে।[5] এই হাদীছটি বাতিল, কোন হাদীছ গ্রন্থে হাদীছটি পাওয়া যায় না।

(২) লাওহে মাহফূয সৃষ্টির পর তাতে আল্লাহর নামের পার্শ্বে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নাম অর্থাৎ কালেমায় তাইয়িবাহ লিখে রাখা হয়। ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, জান্নাতে আদম (আঃ) যখন আল্লাহর একটি আদেশ লংঘন করে পরে নিজ ভুল বুঝতে পারলেন, তখন তিনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট এভাবে প্রার্থনা করলেন, হে আল্লাহ রাববুল আলামীন! আপনি আমাকে মুহাম্মাদের অসীলায় ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ পাক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আদম! তুমি মুহাম্মাদকে চিনলে কিভাবে, তাঁকে তো আমি এখন পর্যন্ত সৃষ্টি করিনি? তখন আদম (আঃ) বললেন, হে দয়াময় প্রভু! আমাকে সৃষ্টি করে যখন আপনি আমার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন, তখন আমি চক্ষু মেলে তাকিয়ে দেখলাম, আরশের গায়ে লেখা রয়েছে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লা-হ’। তখন আমি ভাবলাম, নিশ্চয়ই আপনি ঐ ব্যক্তির নাম আপনার নিজের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন, যিনি আপনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তি। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, হে আদম! তুমি ঠিকই বলেছ। নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ সৃষ্টি জগতের মধ্যে আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। এমনকি তাঁকে সৃষ্টি না করলে আমি তোমাকেও সৃষ্টি করতাম না।[6]

ইমাম ত্বহাবী বলেন, হাদীছটি আহলুল ইলমের নিকট নিতান্ত দুর্বল।[7] আবূদাঊদ, আবূ যুর‘আ, ইমাম নাসাঈ, ইমাম দারা-কুত্বনী এবং ইবনে হাজার আস-ক্বালানী সবাই বলেন, হাদীছটি দুর্বল।[8] ইমাম ইবনে তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, হাদীছটি যে দুর্বল এ ব্যাপারে সবাই একমত। নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, হাদীছটি বানাওয়াট।[9] ইমাম আলুসী হানাফী বলেন, হাদীছটির কোন ভিত্তিই নেই।[10]

(৩) হাদীছে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় প্রিয়তম নবী (ছাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, لو لاك ما خلقت الأفلاك ‘যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম, তবে নিশ্চয়ই এ কুল-মাখলূক সৃষ্টি করতাম না’।[11] হাদীছটি বানাওয়াট, বাতিল।

(৪) হে মুহাম্মাদ (ছাঃ)! আপনি না হ’লে আসমান-যমীন কিছুই সৃষ্টি করতাম না।[12] ইবনু জাওযী বলেন, হাদীছটি যে বানাওয়াট এতে কোন সন্দেহ নেই। ইমাম দারা-কুত্বনী বলেন, হাদীছটি দুর্বল। ফালাস বলেন, হাদীছটি বানাওয়াট।[13]

(৫) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, اَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُوْرِىْ অর্থাৎ আল্লাহ রাববুল আলামীন সর্বপ্রথম আমার নূরকে সৃষ্টি করেছেন।[14] এটা হাদীছ নয়; বরং ছূফীদের বানাওয়াট কথা।

(৬) হে মুহাম্মাদ (ছাঃ)। আপনি না হ’লে আসমান-যমীন, আরশ-কুরশী, চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদি কিছুই সৃষ্টি করা হ’ত না। ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, এটি আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ নয়। এটি কোন বিদ্বান তাঁদের হাদীছ গ্রন্থে হাদীছে রাসূল বলে উল্লেখ করেননি এবং ছাহাবায়ে কেরাম থেকেও বর্ণিত হয়নি। বরং এটি এমন একটি কথা, যার বক্তা জানা যায় না।[15]

(৭) আদম (আঃ) সৃষ্টি হয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে জ্যোতির্ময় নক্ষত্র রূপে মুহাম্মাদের নূর অবলোকন করে মুগ্ধ হন।

(৮) মি‘রাজের সময় আল্লাহ পাক তাঁর নবীকে জুতা সহ আরশে আরোহন করতে বলেন, যাতে আরশের গৌরব বৃদ্ধি পায়’ (নাঊযুবিল্লাহ)।

(৯) রাসূলের জন্মের খবরে খুশি হয়ে আঙ্গুল উঁচু করার কারণে ও সংবাদ দানকারিণী দাসী ছুওয়াবাকে মুক্তি দেয়ার কারণে জাহান্নামে আবু লাহাবের হাতের দু’টি আঙ্গুল পুড়বে না। এছাড়াও প্রতি সোমবার রাসূল (ছাঃ)-এর জন্ম দিবসে জাহান্নামে আবু লাহাবের শাস্তি মওকূফ করা হবে বলে আববাস (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে দেখা একটি স্বপ্নের বর্ণনা তাঁর নামে সমাজে প্রচলিত আছে, যা ভিত্তিহীন।

(১০) মা আমেনার প্রসবকালে জান্নাত হ’তে বিবি মরিয়াম, বিবি আসিয়া ও মা হাজেরা দুনিয়ায় নেমে এসে সবার অলক্ষ্যে ধাত্রীর কাজ করেন।

(১১) নবীর জন্ম মুহূর্তে কা‘বার প্রতিমাগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে, রোমের অগ্নি উপাসকদের ‘শিখা অনির্বাণ’গুলো দপ করে নিভে যায়। বাতাসের গতি, নদীর প্রবাহ, সুর্যের আলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ইত্যাদি...।[16]উপরের বিষয়গুলো সবই বানাওয়াট ও ভিত্তিহীন।[17]

পরিশেষে বলব, আল্লাহ ও রাসূল সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বর্ণনা মোতাবেক সঠিক আক্বীদা পোষণ করতে হবে। তাঁদের প্রতি যথাযথ ঈমান আনতে হবে। তাহ’লেই প্রকৃত মুমিন হওয়া যাবে। ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করে যেমন মুমিন হওয়া যাবে না, তেমনি পরকালে নাজাতও মিলবে না। আল্লাহ আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন-আমীন!

[1]. বুখারী, হা/৪০১; মুসলিম, হা/১২৭৪।
[2]. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭০১।
[3]. ইবনু হাযম, আল-মুহাল্লা, ১/২৯।
[4]. মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৫/৩১৯।
[5]. মৌলভী মুহাম্মদ যাকির হুসাইন, মুকাম্মাল মীলাদে মুস্তফা (সঃ), পৃঃ ৪১।
[6]. মুকাম্মাল মীলাদে মুস্তফা (সঃ), পৃঃ ৪১।
[7]. তাহযীবুত তাহযীব ২/৫০৮ পৃঃ।
[8]. ইমাম নাসাঈ, কিতাবুয যু‘আফা ওয়াল মাতরূকীন, পৃঃ ১৫৮, হা/৩৭৭।
[9]. সিলসিলা যঈফা হা/২৫।
[10]. গায়াতুল আমানী ১/৩৭৩।
[11]. মুকামমাল মীলাদে মুস্তফা (সঃ), পৃঃ ৪০।
[12]. আবুল হাসান আল-কাত্তানী, তানযীহুশ শরী‘আত আন আহাদীছিশ শী‘আ, ১/৩২৫।
[13]. ইবনুল জাওযী, কিতাবুল মাওযূ‘আত, ২/১৯।
[14]. মুকাম্মাল মীলাদে মুস্তফা (সঃ), পৃঃ ৭৭।
[15]. মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৯৬।
[16]. মৌলুদে দিল পছন্দ, মৌলুদে ছাদী, আল-ইনছাফ, মিলাদ মাহফিল প্রভৃতি দ্রষ্টব্য।
[17]. বিস্তারিদ দ্রঃ মাওযু‘আতে কবীর প্রভৃতি; ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, মীলাদ প্রসঙ্গ, পৃঃ ১২।

০৫ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ,
দেখলাম , বুঝলাম অনেক কিছু জানার ও শিখার আছে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৩১| ০৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৩৯

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: ভাইয়া কোন মানুষই ভুলের উর্ধ্বে নয়। নবী-রাসূলেরা যেখানে ভুল করেছেন সেখানে গোলাম মোস্তফা তো ভুল করতেই পারেন।
আমরা বেশির ভাগ মানুষই হুজুরদের কথায় বিশ্বাস করি। কিন্তু নিজে থেকে দেখে কখনও বেশি শিখতে পারিনা।
আল্লাহ যে নিরাকার নয় এটি কোরান হাদীসের দ্বারা প্রমানিত। নিচে একটি লেখা শেয়ার করছি । আশা করি আল্লাহ আমাদের সবাই কে সঠিক জ্ঞান দান করতে সহায়তা করবেন।

২) আল্লাহ কি নিরাকার?

আল্লাহ তা‘আলার আকার আছে, তিনি নিরাকার নন। নিরাকার অর্থ যা দেখে না, শুনে না। কিন্তু আল্লাহ সবকিছু দেখেন, শোনেন। তিনি এ বিশ্বজাহান ও সমস্ত সৃষ্টির একমাত্র স্রষ্টা, নিয়ন্তা ও পরিচালক। তিনি মানুষকে রিযিক দান করেন, রোগাক্রান্ত করেন ও আরোগ্য দান করেন। সুতরাং তাঁর আকার নেই, একথা স্বীকার করা তাঁর অস্তিত্বকে অস্বীকার করারই নামান্তর।

আল্লাহ শুনেন, দেখেন, উপকার-ক্ষতি, কল্যাণ-অকল্যাণ বিধান করেন। তিনি জীবন-মৃত্যুর মালিক, সকল সমস্যার একমাত্র সমাধানদাতা। সুতরাং মহান আল্লাহ নিরাকার নন; বরং তাঁর আকার আছে।

(১) আল্লাহ বলেন, لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيْعُ البَصِيْرُ. ‘কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (শূরা ৪২/১১)।

(২) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, إِنَّ اللهَ كَانَ سَمِيْعاً بَصِيْراً. ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (নিসা ৪/৫৮)।

(৩) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘ওটা এজন্য যে, আল্লাহ রাত্রিকে প্রবিষ্ট করেন দিবসের মধ্যে এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করেন রাত্রির মধ্যে এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা’ (হজ্জ ২২/৬১)।

(৪) ‘হে নবী! তুমি বল, তারা কত কাল ছিল, আল্লাহই তা ভাল জানেন, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই। তিনি কত সুন্দর দ্রষ্টা ও শ্রোতা’ (কাহফ ১৮/২৬)। ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন, ‘সমস্ত সৃষ্টজীবকে আল্লাহ তা‘আলা দেখেন ও তাদের সকল কথা শুনেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন থাকে না’।[13]

ক্বাতাদা (রহঃ) বলেন, ‘আল্লাহর থেকে কেউ বেশী দেখেন না ও শুনেন না’।[14] ইবনু যায়েদ (রহঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টজীবের সকল কাজকর্ম দেখেন এবং তাদের সকল কথা শুনেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’।[15]

বাগাবী (রহঃ) বলেন, ‘সমস্ত সৃষ্টজীব যেখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ তা‘আলা তাদের দেখেন এবং তাদের সর্বপ্রকার কথা শ্রবণ করেন। তাঁর দেখার ও শুনার বাইরে কোন কিছুই নেই’।[16]

(৫) আল্লাহ তা‘আলা মূসা ও হারূণ (আঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেন, لاَ تَخَافَا إِنَّنِيْ مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى ‘তোমরা ভয় করো না, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি’ (ত্ব-হা ২০/৪৬)। এখানে আল্লাহ মূসা ও হারূণের সাথে থাকার অর্থ হচ্ছে- তিনি আরশের উপর সমাসীন। আর মূসা ও হারূণ (আঃ)-এর উভয়ের সাথে আল্লাহর সাহায্য রয়েছে এবং তিনি তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করছেন।

(৬) আল্লাহ আরো বলেন, ‘কখনই নয়, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শন সহ যাও, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শ্রবণকারী’ (শু‘আরা ২৬/১৫)। পূর্বোক্ত ব্যাখ্যাই এখানে প্রযোজ্য।

(৭) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও গোপন পরামর্শের খবর রাখি না? অবশ্যই রাখি। আমার ফেরেশতারা তো তাদের নিকট অবস্থান করে সবকিছু লিপিবদ্ধ করেন’ (যুখরুফ ৪৩/৮০)।

(৮) আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! তুমি বলে দাও, তোমরা কাজ করতে থাক, আল্লাহ তো তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করবেন’ (তওবা ৯/১০৫)।

(৯) আল্লাহ বলেন, ‘সে কি অবগত নয় যে, আল্লাহ দেখেন’? (আলাক্ব ৯৬/১৪)।

(১০) আল্লাহ বলেন, ‘যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (ছালাতের জন্য) দন্ডায়মান হও এবং দেখেন সিজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসা। তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’ (শু‘আরা ২৬/২১৮-২২০)।

(১১) আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ তাদের কথা শ্রবণ করেছেন, যারা বলে যে, আল্লাহ দরিদ্র আর আমরা ধনী। তারা যা বলেছে তা এবং অন্যায়ভাবে তাদের নবীদের হত্যা করার বিষয় আমি লিপিবদ্ধ করব এবং বলব, তোমরা দহন যন্ত্রণা ভোগ কর’ (আলে ইমরান ৩/১৮১)।

(১২) আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ অবশ্যই শুনেছেন সেই নারীর কথা, যে তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর নিকটও ফরিয়াদ করছে। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শুনেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (মুজাদালাহ ৫৮/১)।

(১৩) আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) ছাহাবাদেরকে বলেছিলেন, فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْعُوْنَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا ، تَدْعُوْنَ سَمِيْعًا بَصِيْرًا قَرِيْبًا. ‘তোমরা বধির কিংবা অনুপস্থিতকে ডাকছ না; বরং তোমরা ডাকছ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও নিকটতমকে’।[17]

(১৪) আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন,

اِجْتَمَعَ عِنْدَ الْبَيْتِ ثَقَفِيَّانِ وَقُرَشِيٌّ أَوْ قُرَشِيَّانِ وَثَقَفِيٌّ كَثِيْرَةٌ شَحْمُ بُطُوْنِهِمْ قَلِيْلَةٌ فِقْهُ قُلُوْبِهِمْ فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَتَرَوْنَ أَنَّ اللهَ يَسْمَعُ مَا نَقُوْلُ قَالَ الْآخَرُ يَسْمَعُ إِنْ جَهَرْنَا وَلاَ يَسْمَعُ إِنْ أَخْفَيْنَا وَقَالَ الْآخَرُ إِنْ كَانَ يَسْمَعُ إِذَا جَهَرْنَا فَإِنَّهُ يَسْمَعُ إِذَا أَخْفَيْنَا فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى : وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلاَ أَبْصَارُكُمْ وَلاَ جُلُوْدُكُمْ وَنَجَّيْنَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَكَانُوْا يَتَّقُوْنَ.

‘একদিন বায়তুল্লাহর নিকট একত্রিত হ’ল দু’জন ছাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দু’জন কুরাইশী ও একজন ছাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিল বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিল কম। তাদের একজন বলল, আমরা যা বলছি আল্লাহ তা শুনেন- এ ব্যাপারে তোমার অভিমত কি? দ্বিতীয়জন বলল, আমরা জোরে বললে শুনেন, কিন্তু চুপি চুপি বললে শুনেন না। তৃতীয়জন বলল, যদি তিনি জোরে বললে শুনেন, তাহ’লে গোপনে বললেও শুনেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করেন, ‘তোমরা কিছু গোপন করতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না- উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না’।[18]

(১৫) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (হজ্জ ২২/৭৫)।

আবু দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘এ আয়াতটিই হচ্ছে জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়ের বাতিল কথার প্রত্যুত্তর। কেননা জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় আল্লাহর নাম ও গুণবাচক নাম কোনটাই সাব্যস্ত করে না। সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা যে দেখেন-শুনেন এটাও সাব্যস্ত করে না এ ধারণায় যে, সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাদৃশ্য হবে। তাদের এ ধারণা বাতিল। এজন্য যে, তারা আল্লাহকে মূর্তির সাথে সাদৃশ্য করে দিল। কারণ মূর্তি শুনে না এবং দেখেও না (মা‘আরিজুল কবূল, ১/৩০০-৩০৪)।

মু‘তাযিলা সম্প্রদায় বলে, আল্লাহর কর্ণ আছে কিন্তু শুনেন না, চক্ষু আছে কিন্তু দেখেন না। এভাবে তারা আল্লাহর সমস্ত গুণকে অস্বীকার করে। অর্থাৎ কোন গুণ-বৈশিষ্ট্য ছাড়া তারা শুধু নামগুলো সাব্যস্ত করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের মতবাদ জাহমিয়্যাদের মতবাদের ন্যায়। তাদের উভয় মতবাদই কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত কোন কিছুর সাথে তুলনা ব্যতিরেকে আল্লাহর ছিফাত সাব্যস্ত করে ঠিক সেভাবেই, যেভাবে কুরআন-হাদীছ সাব্যস্ত করে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা’ (শূরা ৪২/১১)।

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোন সাদৃশ্য স্থির করো না’ (নাহল ১৬/৭৪)। আল্লাহ তা‘আলা যে শুনেন, দেখেন, এটা কোন সৃষ্টির শুনা, দেখার সাথে তুলনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহর দেখা-শুনা তেমন, যেমন তাঁর জন্য শোভা পায়। এ দেখা-শুনা সৃষ্টির দেখা-শুনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়’।[19]

আল্লাহর সাথে সৃষ্টজীবের সাদৃশ্য করা হারাম। কারণ (১) আল্লাহর যাত-ছিফাত তথা আল্লাহ তা‘আলার সত্তা ও গুণ-বৈশিষ্ট্য এবং সৃষ্টজীবের গুণ-বৈশিষ্ট্য এক নয়। প্রত্যেকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, সেটা তার জন্যই প্রযোজ্য। আল্লাহ তা‘আলা সর্বদা জীবিত আছেন ও থাকবেন। কিন্তু সৃষ্টিকুলকে মৃত্যুবরণ করতেই হবে। তাহলে কি করে আল্লাহর সাথে সৃষ্টজীবের তুলনা করা যায়?

(২) সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য করায় সৃষ্টিকর্তার মান-ইয্যত নষ্ট হয়। ত্রুটিযুক্ত সৃষ্টজীবের সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ মহান আল্লাহকে তুলনা করা হ’লে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ত্রুটিযুক্ত করা হয়।

(৩) স্রষ্টা ও সৃষ্টজীবের নাম-গুণ আছে। কিন্তু উভয়ের প্রকৃতি এক নয়।




[13]. তাফসীরে ত্বাবারী, ১৫/২৩২ পৃঃ।
[14]. তাফসীরে ত্বাবারী ১৫/২৩২ পৃঃ।
[15]. তাফসীরে ত্বাবারী ১৫/২৩২।
[16]. মা‘আলিমুত তানযীল, ৫/১৬৫।
[17]. বুখারী হা/৭৩৮৬ ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৯।
[18]. হা-মীম সাজদাহ ৪১/২২; বুখারী হা/৭৫২১ ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪১।
[19].মা‘আরিজুল কবূল ১/৩০৪।


০৫ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, একটি কথা ঠিক বলেছেন , কোন মানুষই ভুলের উর্ধে নয় , তাইতো বলা হয়েছে তিনি এত বড় ভুলটা কিভাবে করলেন যা যুগের পর যুগ ধরে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে চলে অাসছে বিভিন্ন গন মাধ্যমে । যাহোক, আল্লাহ সকলকে সত্য উপলদ্ধি করার তৌফিক দান করুন। পড়া মূখস্ত করা আর বোঝা যেমন একার্থ নয়, তেমনি জানা আর জ্ঞানুধাবন এক নয়।
আল্লাহ সকলকে হেদায়েত নসীব করুন।-আমীন।

৩২| ০৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:২২

মানবী বলেছেন: সুন্দর বিস্তারিত পোস্ট!
"আমরা সকলেই জানি ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ রমজান ক্বদরের রজনীতে হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় থাকাকালীন হযরত মোহস্মদ ( সা) এর প্রতি প্রথম নাযিল হয় কোরানের নিন্মোক্ত পাঁচটি আয়াত।"

- নিশ্চিতভাবে ২৭শে রমজান নয়, শেষ দশদিনের বিজোড় রাত্রিতে। ২৭তারিখকে নির্দিষ্ট করা কোন নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।

"আল্লার নিকট হতে জগত সমুহের সৃস্টিকর্তা ও মানবজাতি সৃস্টি সম্পর্কে সত্য জ্ঞান লাভের পর হযরত মোহাম্মদের ( স) কাছে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে নাযিল হয় কোরানের আন্যান্য সুরা ও আয়াত সমুহ । হযরত মোহাম্মদ (স) রাসুল হিসাবে প্রচার করেন আল্লার তৌহিদী বানী "
- উপরের লাইনের বোল্ডকৃত অংশে মুহম্মদ (সঃ) নামটির বানান টাইপো আছে (আ্মি কোট রার সময় সংশোধন করে লিখেছি), সংশোধন করে দেবার অনুরোধ রইলো।।

সুন্দর কিছু কথা আর চমৎকার ছবি সহ পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ ডাঃ এম এ আলী।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ পোষ্টটি মনযোগ দিয়ে পাঠান্তে মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ।বানান টি এডিট করে দিয়েছি ।
একথা ঠিক যে শবে ক্কদর তথা সৌভাগ্যের রজনী রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের যেকোন এক বেজোর রাত । তাই সে সময়ের প্রত্যেকটি বেজোর রাতেই মানুষ সেই সৌভাগ্য রজনীকে তালাশ করে । কিন্তু কথা হল কোরান হেরা গুহায় একটি নিদৃষ্ট দিনে নাযিল হয়েছে । হযরত জিবরাইল ( আ) কিভাবে কোরানের আয়াত হযরত মুহম্মদ(স) এর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তা তিনি বিবি খাদিজার( রা) কাছে বিবরণ দিয়েছেন । নবীজির নীজের মুখে বলা এমন একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপুর্ণ বাস্তব ঘটনার নিদৃষ্ট দিন তারিখ কেন ইতিহাসে সুনিদৃষ্টভাবে আসবেনা তা ভাবলে একটু বিস্মিত হতে হয় ।

আমার গত বছর লিখা Debated issues about Quran নামে প্রকাশিত একটি পুস্তকে কোরান শরীফ নাযিলের তারিখ সন্নিবেশিত করতে গিয়ে আমিও কোন সুনিদৃষ্ট তারিখ সে সময় খুঋজে পাইনি । তাই বইটিতে কোন তরিখ উল্লেখ না করে শুধু সন ও মাস উল্লেখ করেছিলাম । ইদানিং একটি লেখায় দেখতে পাই তারিখটি , ভাবছিলাম হয়ত মিসিং গ্যাপটি পেয়ে গেছি । এখন আপনার মুল্যবান মন্তব্য পাওয়ার পরে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে আমি আবারো ব্যপকভাবে লিটারেচার সার্চ করেছি । কিন্তু কোরান নাযিলের সুনিদৃষ্ট তারিখ দেখতে পাইনি , প্রায় সকলেই শুধু সন আর মাসের কথা বলেছেন ( আমার দেখা সেই বিশেষ একটি সুনিদৃষ্ট তারিখ ব্যতিত )।তাই আমার লেখাটি এডিট করে আপাতত সুনিদৃষ্ট তারিখটি বাদ দেয়া হল । তবে সুনিদৃষ্ট তারিখের জন্য নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমান সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ।

নাযিলকৃত আয়াতগুলি রাসুল (স) যেমন ভাবে জানিয়েছেন তা অবিকল সেরকম ভাবেই সংকলিত কোরান শরীফে এসেছে কিন্তু সে সময়কার বিজ্ঞ ও প্রখর স্মৃতি শক্তির অধিকারী সাহবীগন প্রথম কোরান শরীফ নাযিলের নিদৃষ্ট তারিখ সম্পর্কে সুনিদৃষ্ট হতে পারলেন না কিংবা নির্ভরযোগ্য কোন দালিলিক প্রমানও তুলেও ধরেন নি কেন, তা জানতে ইচ্ছে করে । তাই মনে হচ্ছে কোথায় যেন একটি গ্যাপ রয়ে গেছে , বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক একটি গবেষনার প্রয়োজন আছে বলে মনে হচ্ছে । হেরা গুহায় বাস্তবিক ভাবে নিদৃষ্ট একটি দিনে কোরান নাযিল হওয়ার সুনিদৃষ্ট তারিখ সম্পর্কে গ্রহনযোগ্য দালিলিক প্রমান বের হয়ে আসলেও আসতে পারে, যদি কোথাও সে রকম কিছু থেকে থাকে। যাহোক একটি ভাল গবেষনার বিষয় পাওয়া গেল। বিষয়টি বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরা হবে , দেখি গবেষকেরা ও ইসলামী বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কি বলেন ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৩৩| ০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৭

মাহিরাহি বলেছেন: অনেক কষ্ট করেছেন।

০৫ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , কষ্টের ফসলটা কেমন সে বিষয়ে কিছু শুনতে পারলে ভাল লাগত ।

৩৪| ০৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৪৪

আখেনাটেন বলেছেন: বেশ পরিশ্রমী পোষ্ট। অনেক কিছু জানা হল। ভালোবাসা সুন্দর পোষ্টের জন্য।

০৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:৪৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ পোষ্ট সুন্দর অনুভুত হওয়ার জন্য ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৩৫| ০৫ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:২১

মানবী বলেছেন: ইদানিং একটি লেখায় দেখতে পাই তারিখটি , ভাবছিলাম হয়ত মিসিং গ্যাপটি পেয়ে গেছি । এখন আপনার মুল্যবান মন্তব্য পাওয়ার পরে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে আমি আবারো ব্যপকভাবে লিটারেচার সার্চ করেছি । কিন্তু কোরান নাযিলের সুনিদৃষ্ট তারিখ দেখতে পাইনি , প্রায় সকলেই শুধু সন আর মাসের কথা বলেছেন ( আমার দেখা সেই বিশেষ একটি সুনিদৃষ্ট তারিখ ব্যতিত ) ।তাই আমার লেখাটি এডিট করে আপাতত সুনিদৃষ্ট তারিখটি বাদ দেয়া হল ।

Thank you!Thank you!!!
I salute you for that!!

শুধু আপনার পোস্টের কন্টেন্ট নয়, মানুষ হিসেবেও আপনার কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।

ভালো থাকবেন ডাঃ এম এ আলী।

০৬ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৬:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আবার আসার জন্য ধন্যবাদ ।
আপনার জ্ঞানগর্ভ মুল্যবান পোষ্টগুলি
থেকে আমরা সকলেই তো শিখছি ।
শ্রদ্ধাপুর্ণ শুভেচ্ছা রইল ।

৩৬| ০৬ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:৩২

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: মন্তব্য করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা আপাতত চমৎকার বলে শেষ করছি। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন- আমিন।

০৬ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: পোষ্ট চমৎকার অনুভুত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
আল্লাহ আপনার জন্যও
মঙ্গল করুন এ কামনাই করি।

৩৭| ০৬ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:৩৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আলী ভাই, লেখাটি পরে পড়বো। আপাতত এশা ও তারাবির নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় উঠে যাচ্ছি।

আর একটা কথা। কিছু মনে করবেন না। আমি ধর্মীয় ও দেশীয় রাজনৈতিক পোস্টে কোন মন্তব্য করি না। ব্লগিং-এর শুরু থেকে আমি এই নীতি মেনে চলি।

আপনাকে ধন্যবাদ।

০৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:৫২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় ইসলাম ভাই । দোয়া করি আল্লাহ আপনার নামাজ কবুল করুন । পরে এক সময় লেখাটি পড়ার কথা শুনে খুব খুশী হলাম ।
কিছু মনে করার মত মন মানসিকতা আমার নেই। কি ধরনের পোষ্টে আপনি কমেন্ট করবেন সেটা একান্তই আপনার উদারতা ও মহানুভবতা, তাই কারো ব্যক্তিগত নীতির প্রতি আমি খুবই শ্রদ্ধাশীল ।

ভাল থাকার শুভ কামনা রইল ।

৩৮| ০৬ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:৫৮

ক্লে ডল বলেছেন: এই ৩দিন অবসরে আপনার চমৎকার পোষ্টটি পড়লাম! অনেক নতুন বিষয় জানলাম।
তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এই পোষ্টটি দু'টি স্বতন্ত্র পোষ্ট হতে পারত। একটি রব্বানা দোয়া ও ইসলামের শুরুর ইতিহাস নিয়ে। অপরটি শুধু মসজিদ নিয়ে। এটি নিছক আমার মতামত। কিছু মনে নেবেন না আশা করি আলী ভাই। :)

ইসলামের নামে সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যকলপ বন্ধ হোক সমগ্র বিশ্বে, এ কামনাই পবিত্র রমজানে দোয়া কবুলের মাসে জানাই বিধাতার পরে ।
আমীন।

অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন তথ্য সমৃদ্ধ পোষ্টটি আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

০৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ১:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: পোষ্ট চমৎকার মনে হওয়ার কথা শুনে ভাল লাগল ।
আপনার সুপরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ।
পোষ্ট টা শুরু করে ছিলাম রাব্বানা দিয়ে শুরু কিছু দোয়া নিয়ে । পবিত্র কোরানে সুরা বাকারার ১১২ নং আয়াতে রাব্বানা দিয়ে শুরু দোয়াটির ব্যকগ্রাউন্ড এ দেখা যায় হযরত ইব্রাহিম(আ) কতৃক কাবা গৃহের দেয়াল তুলার সময় এই দোয়াটি করেছিলেন , তাই দোয়ার সাথে মসজিদ প্রসঙ্গটি চলে আসে । এই ধারণাটিই এই পোষ্টের স্ট্রাকচার গঠনে আমার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে , আর লেখাটিও রাব্বানা দোয়ার মাঝে বিভিন্ন মসজিদের আলোচনায় চলে আছে । লেখাটির এই কাঠামোকে অনুসরণ করেই ইসলামের প্রথম দিককার মসজিদ আল হারাম হতে শুরু করে আমাদের দেশের বায়তুল মোকারম পর্যন্ত সময়কালের কিছু গুরুত্বপুর্ণ মসজিদের ও সমসাময়িক বিষয়াবলী নিয়ে লেখাটি এগিয়ে যায় ও আকার বড় হয়ে যায় । তবে আমার সত্যিই বড় ভুল হয়ে গেছে, লেখাটি দুটি পর্বে দিলেই ভাল হত ।

অনেক অনেক শুভ কামনা রইল ।

৩৯| ০৭ ই জুন, ২০১৭ রাত ৩:৩১

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: প্রশংসা করতেই হয়।। আমিও মুসলিম।। কিন্তু আমিও জানতাম না এতকিছু!! শুধু আশ্চর্য হয়ে ভাবি, কত অজানারে.....

০৭ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রসংসার কথা শুনে খুশি হলাম ।
জানার কোন শেষ নাই , আপনার কাছ হতেও অনেক মুল্যবান কথা ও আলোচনায় অনেক তথ্য জানা যায় ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৪০| ০৭ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৫৮

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: মহোদয়, আল্লাহর আকার না থাকা বিষয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছি। এ বিষয়ে আপনার একটা মন্তব্য দারুণ ভাবে আশা করছি।

০৭ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনার পোষ্ট টা দেখে এসেছি ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৪১| ০৭ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:২৫

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ , কষ্ট করে এত সুন্দর একটি পোষ্ট দিয়েছেন। অনেক কিছু দেখলাম, পড়লাম, জানলাম।

০৭ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ অনেক কিছু জানতে পরেছেন শুনে খুশী হলাম ।
কিছু জনাতে পারায় শ্রম স্বার্থক হয়েছে বলে মনে হচ্ছে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৪২| ০৭ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:৩২

শূন্যনীড় বলেছেন: অনেক ভালো লাগলো ঐতিহাসিক তথ্যনির্ভর ঐতিহাসিক সব ছবি। অনেক শিক্ষামূলক পোষ্ট। কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি সুন্দর করে বুঝানোর জন্য।

প্রিয়তে থাকুন অনন্তকাল।

০৭ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
অনন্তকাল প্রিয়তে থাকার কথা শুনে ভীষনভাবে
অনুপ্রানীত হলাম ।
ভাল থাকুন সবসময় এ কামনাই করি ।

৪৩| ০৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:০২

জুন বলেছেন: রহমত, সংযম , দোয়া কবুল , নাজাত ও আত্মশুদ্ধি এই বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন তথ্য আর তার বিশ্লেষন সহ আপনার সুদীর্ঘ লেখাটি ব্লগে দেয়ার সাথে সাথেই পড়েছি । লাইক দিয়েছি , প্রিয়তে নিয়েছি । কিন্ত নেট দুর্বলতার কারনে মন্তব্য দিতে পারিনি ডঃ এম আলী। ঈসলাম বিশেষ করে গুরুত্বপুর্ন বিষয় মোনাজাত সম্পর্কে নতুন এবং সুন্দর ধারনা পেলাম আপনার লেখায় । আপনার মত করেই বলতে হয় :-
এই রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি আল্লাহ আমাদের সকলককে সহজ সরল ও সত্যের পথে চলার তৌফিক দিন এ কামনাই করি ।
+ প্রিয়তে রইলো

০৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৫৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ , আপনার শুভ আগমন সাথে লাইক ও প্রিয়তে নেয়ার বিষয়টি আমি সে সময়েই প্রতক্ষ করেছি ।
বুঝতে পারছিলাম হয়ত নেট ওয়ার্কে কোন সমস্যা হচ্ছে । অপেক্ষায় ছিলাম যে কোন মহুর্তে আপনাকে দেখতে পাব বলে ।

থাইল্যান্ডে স্বল্পসময় অবস্থানকালে সেখানকার মসজিদ কেন্দ্রিক ইসলামী বিষয়ের উপর আমার সামান্য কিছু জানাশুনা ছিল । তাই এই পোষ্টটি লেখার কালে আমি থাইল্যান্ডে ইসলাম ও মসজিদের বিষয়ে সযত্ন খুঁজ খবর নিয়ে বেশ কিছু তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করেছিলাম । থাইল্যান্ডের অসংখ সুন্দর সুন্দর মসজিদ এবং সেখানকার মসজিদ কেন্ত্রিক ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা আমাকে অভিভুত করে ।

পাত্তনী সেন্ট্রাল মসজিদ


বান হু মসজিদ ( হেদায়েত মসজিদ) চিয়াংমাই


থাইল্যান্ড এর মসজিদ ও ইসলামী ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু বিবরণ আমার লেখার প্রথমিক খসড়ায় অন্তরভুক্তও করি । কিন্তু আমার পোষ্টের লেখাটিতে সমস্যা সংকুল স্থানের মসজিদ ও সেখানকার মুসলমানদের অবস্থা বেশী হাইলাইট করে এই পবিত্র রমজানে তাদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া পার্থনা করার একটি প্রবনতার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে লেখাটি হতে থাইল্যান্ড প্রসঙ্গটি সংরক্ষন করে রাখি ।

এর পিছনে মুলত দুটি কারণ ছিল , একটি হল আমার লেখাটি এমনিতেই অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল , দ্বিতিয়ত থাইল্যান্ডের মুসলমানগন সমস্যাগ্রস্ত নন বরং তাঁরা আমাদের জন্য একটি ভাল উদাহরণ । তাই ভাবলাম সেখানকার মসজিদ কেন্দ্রিক কার্যাবলী নিয়ে আপনার সাথে মন্তব্যের ঘরে কিছু আলোচনা করে অআপনাকেই একটি অনুরোধ করব । আমি নিশ্চিত ছিলাম আপনি এখানে আসবেনই ।

আমার সামান্য জ্ঞাত বিষয়গুলি আপনার সাথে শেয়ার করার জন্য সংরক্ষন করে রেখেছিলাম যার কিয়দংশ নীচে তুলে ধরলাম ।

যতটুকু জানতে পেরেছিলাম তাতে দেখা যায় সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশ থাইল্যান্ডে রাজকীয়ভাবে পাঁচটি ধর্মকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ইসলাম অন্যতম ।। সেখানে সকল ধর্ম বিশ্বাসের লোকজন স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালন করতে পারেন।

রাজকীয় থাইল্যান্ডের সাথে ইসলামের সম্পর্ক ঐতিহাসিক সূত্রেই গাঁথা। রাজা সুকুথাইয়ের (১২৫৭-১৩৭৭) সময় হতে আরবরা থাইল্যান্ডের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৬০২ খ্রিষ্টাব্দ থাইল্যান্ডে ইসলামের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। সে বছর পারস্য থেকে ইসলাম প্রচারক শায়খ আহমদ খুমী থাইল্যান্ডে আসেন, তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য রাজা তাকে ‘চুলারাজামনটি’ বা শায়খুল ইসলাম উপাধিতে ভূষিত করেন। থাইল্যান্ডে ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মীয় বিষয়াবলী রাজার এর পক্ষ থেকে তিনি দেখাশুনা করতেন বলে জানা যায় ।

এটা সর্বজন স্বীকৃত যে সদ্য প্রয়াত রাজা ভুমিবল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল ধর্মের লোকদের সমান চোখে দেখতেন। তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান থাই মুসলমানদের কাছে একটি বড় ধর্মীয় পার্বণ হিসাবে পরিগনিত হয় । সেন্ট্রাল ইসলামিক কমিটি অব থাইল্যান্ড মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ যা ইসলামী শিক্ষা, হজ, মসজিদ ব্যবস্থাপনা, শরীয়া কোর্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজাকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। চিয়াংমাইয়ে এক চীনা মসজিদ ( তাকওয়া মসজিদ ) মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি মডেল বলা যায়। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাসহ সহ বৈকালিক স্কুলে যেখানকার মুসলিম ছেলে-মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আর্টসহ খেলাধুলার সুবিধা পাচ্ছে বলে জনা যায় । সেখানে আছে আন্তর্জাতিক মানের কনফারেন্স হল, বিয়ে-শাদিসহ সকল ধরনের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা। চমত্কার একটি লাইব্রেরি, ই-লাইব্রেরিসহ সামাজিক প্রয়োজনের সকল কিছু বলা যায় আছে সেই মসজিদ কমপ্লেক্সে।

সেখানে নারী-পুরুষের নামাজের ব্যবস্থা আছে এবং পুরুষের মতো থাই নারীরা সমানতালে মসজিদে আসা-যাওয়া করেন। নারীদের এ সুযোগ কেবল যে সে মসজিদে আছে তা নয়- থাইল্যান্ডের আরো কয়েকটি প্রদেশের মসজিদেও এমনটি রয়েছে বলে জানা যায় ।

থাইল্যান্ডে মসজিদ এবং অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রতিষ্ঠানসমুহ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কল্পনা করতে পারে না বলেই মনে হল । ইউরোপ ও আমেরিকাতেও এরকম সমন্বিত ইসলামিক সেন্টারের সংস্কৃতি আছে। সমস্যা কেবল আমাদের উপ-মহাদেশে। মসজিদে নারীদের প্রবেশের সুযোগ তেমন নেই। দুই-একটি মসজিদে স্বতন্ত্রভাবে এ ব্যবস্থা থাকলেও সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আর প্রাথমিক শিক্ষা বা অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রম মসজিদ কেন্দ্রিক করার আশা করা বেশ কস্ট কর আমাদের দেশে । মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে মসজিদকে কেবলই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের স্থান হিসেবেই সমাজ চেনে। কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে নামাজ যদিউ মসজিদের মৌলিক বিষয় তবে এর সাথে সাথে সমাজের প্রয়োজনীয় বৈধ সকল বিষয়ের কেন্দ্র হতে পারে মসজিদ যা রাসূল (স) ও খুলাফায়ে রাশেদার আমলে ছিল।

আপনি একজন ভাল ইতিহাসবিদ , সেখানকার মসজিদ কেন্দ্রিক ঐতিহাসিক ও সাম্প্রতিক বিষয়াবলী সম্পর্কে আপনি অবশ্যই অনেক বেশী প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অধিকারী , তাই এ বিষয়ে আপনার নিকট হতে মুল্যবান একটি লেখা পাওয়ার আশা রাখি ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৪৪| ০৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:১২

পার্থিব লালসা বলেছেন: অনেক শিক্ষামূলক পোষ্ট। কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি সুন্দর করে বুঝানোর জন্য
লিখাটি যথেষ্ট গুরুতব বহন করে
আমার অসম্ভব ভাললাগা জানবেন
ধন্যবাদ

০৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , ভাললাগার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
শুভেচ্ছা রইল

৪৫| ০৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: এই বিশাল পোস্টটির প্রায় অর্ধেকের মত পড়া শেষ করে মন্তব্য করতে চলে এলাম শুধু এই কথাটি আপনাকে জানাতে, শ্রদ্ধেয় ড. এম এ আলী, যে আমি সত্যিই মুগ্ধ, চমৎকৃত এবং অভিভূত! নিঃসন্দেহে এটা এই ব্লগে আপনার শ্রেষ্ঠতম পোস্ট, এবং গোটা সামু ব্লগের একটা অন্যতম শ্রেষ্ঠ পোস্ট। এটা লিখতে আপনি যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আপনাকে এর জন্য উত্তম বিনিময় দান করেন।
পোস্টটা পড়া শুরু করা থেকেই মনটা উসখুস করছিলো, পোস্টের শুরুর দিকে যেমনটি বলেছেন, পবিত্র ক্বুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে উঠি। কিন্তু লিখাটাও ছাড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল না। পড়তে পড়তে যোহরের আযান শুরু হয়ে গেল। এখন যে উঠতেই হয়!
আপনার পুরনো পোস্ট মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সক্ষম থাকবেন কী ভাবে! পড়ে একটা মন্তব্য রেখে এসেছিলাম। আশাকরি সময় করে একবার দেখে নেবেন।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর দোয়া রইলো আপনার এ মহতি প্রচেষ্টার জন্য!

০৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় আহসান ভাই । লেখটির বিষয়ে আপনার অকুণ্ঠ প্রসংসা দেখে
আমার পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে বলে মনে হল । আপনার মত গুণী জনের
লেখার কাছে আমার এই অতি সাধারন লেখা যে কিছুইনা তা আমি
বিলক্ষন জানি । গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে যতটুকু জানি তা নিয়েই লিখে চলি ।
পাতার পর পাতা ভরাই, করি অস্বাভাবিক লম্বা । কেও কেও বিরক্ত
হন লম্বা লেখা দেখে, আপনার মত অনেকেই আবার দেখেন তা
নীজ মহানুভবতার গুণে, যা দেখে আমিউ লিখে যাই নব উদ্যমে।
সে জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই শ্রদ্ধাবনত চিত্তে ।
নামাজের পরে সবটুকু পাঠের পরে বলার কিছু থাকলে
বলে গেলে খুশী হব ভীষনভাবে ।

সেই মন্তব্যটা দেখে এসেছি, দু:খিত উত্তরদানে বিলম্ব হল বলে ।

ভাল থাকার শুভেচ্ছা রইল

৪৬| ০৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:৪৯

সোহানী বলেছেন: ও মাই গড... আলীভাই।

যাহোক আপনার লিখা, পড়তেই হবে!!!!

০৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , পড়াটা আপনার মহানুভ্তা ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৪৭| ০৯ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:০৪

জেন রসি বলেছেন: পোস্টের কিছু কনটেন্ট নিয়ে দ্বিমত আছে। তবে সেটা নিয়ে এ ব্লগে তর্কে যাবনা। কারন যেহেতু আপনার বিশ্বাস মানবকল্যানের পক্ষে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং সমর্থন আছে।






০৯ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবদ , পোষ্টটি এসে দেখার জন্য খুশী হলাম । পোষ্টের কোন লেখার বিষয়ে দ্বিমত থাকতেই পারে , আমারো কোন ভুল হয়ে থাকতে পারে , মানুষ মাত্রেই ভুল । যাহোক এ পোষ্টে না হলেও অন্য কোন পোষ্টে প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা কর যেতে পারে ।

শুভেচ্ছা রইল

৪৮| ০৯ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৪

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া তোমার জন্য

০৯ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , পরিবারের সকলে মিলে এই সুন্দর ভিডিটি উপভোগ করেছি ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৪৯| ০৯ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,




ছবি , তথ্য সাথে বিজ্ঞান উপস্থাপনা মিলিয়ে এক কথায় দুর্দান্ত ।
কামনা করেছেন, বিশ্ব মুসলিম উম্মার ঐক্য ও মানবজাতির মঙ্গল ও উন্নতি । তাই যেন হয় .....................

০৯ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:২৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় আহমেদ জী এস ভাই
আপনার কাছে পোষ্ট দুর্দান্ত অনুভুত হওয়ায় পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে বলে মনে করছি ।
বিশ্ব মুসলিম উম্মার ঐক্য ও মানবজাতির মঙ্গল ও উন্নতির বিষয়ে আপনার
চাওয়াটাও যেন আল্লাহ কবুল করেন সে কামনা করছি ।
শুভেচ্ছা রইল

৫০| ১০ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৯:৪২

নায়না নাসরিন বলেছেন: প্রিয়তে গেলো আলি ভাইয়া । সময় করে পড়তে হবে।

১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫১| ১০ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:২০

বিজন রয় বলেছেন: জানার কোন শেষ নেই। জ্ঞান পিপাসূ হিসেবে এই পোস্ট আামর অনেক কাজে লাগবে।
আর ইসলাম নিয়ে যারা ভ্রান্ত ধারনার মধ্যে আছে, তাদের অনেক পথ দেখাবে এই পোস্ট।


আমার ওখানে আপনার মন্তব্য দেখেছি।
অনেক ভাল হয়েছে। আগামীকাল উত্তর পাবেন।

১০ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাল লেগেছে মুল্যবান কথা গুলি ।
পোষ্ট টি স্বার্থক হয়েছে বলে মনে হল ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫২| ১০ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:১৮

জুন বলেছেন: আমার মন্তব্যের উত্তর দেখে গিয়েছিলাম ডঃ এম আলী । কিন্ত নেট সমস্যা আর আমার ব্যাক্তিগত সমস্যায় আর কিছু বলার সময় পাই নি।আপনার মন্তব্য প্রতি মন্তব্য এবং উত্তরগুলো যেমন সরস তেমনি তত্ব আর তথ্যে ঠাসা যা অনেক কিছু জানার সুযোগ করে দেয় মন্তব্যকারী ও পোষ্টদাতাকে ।
আপনি ঠিকই বলেছেন এখানে রেসিজম সোজা বাংলায় যাকে বলে বর্নবাদ বা সাম্প্রদায়িক আচরন এর কোন কিছু আজ পর্যন্ত নজরে আসে নি। আমি তাদের শান্তি পুর্ন সহবস্থানই দেখছি ।
যেহেতু আমাদের দেশে মেয়েদের মসজিদে ঢোকা বারন তাই এখানে মসজি্দে প্রবেশে কোন বাধা নিষেধ আছে কি না জানা হয়নি । আর না দেখা কিছু নিয়ে লেখার ব্যাপারে আমার কিছু ঘাটতি থাকবে বলে এ বিষয়টি নিয়ে লেখা হয়নি । না হলে আমার বাসার আশে পাশেই কয়েকটি মসজিদ আছে যার আজানও শুনতে পাই পাঁচ ওয়াক্ত ।তার একটির ছবি দিলাম ।

১১ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, মসজিদের ছবিটা খু্বই সুন্দর ।
অনেক মুল্যবান তথ্য জানা গেল ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫৩| ১১ ই জুন, ২০১৭ রাত ৩:০৭

আরিফ শাহরিয়ার জয় বলেছেন: প্রিয়তে থাকুক ঐতিহাসিক তথ্য সংযোযুক্ত পোষ্টের সাথে আপনিও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা হয়ে।

১১ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৫:৩৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ , প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
আপনার প্রতিও শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রইল ।

সবসময় ভাল থাকুন এ কামনা রইল ।

৫৪| ১১ ই জুন, ২০১৭ সকাল ৮:০৫

পেছিফিক জয় বলেছেন: শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলী, প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি টপিকের বাহিরে চলে যাওয়ার জন্য।

আল্লাহ আপনাকে সব সময় সুস্থ রাখুন,,আপনাদের মত মহীরুহদের মাঝে আমি আসলে একান্ত নতুন এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ থেকে সামুর অলিগলি ঘুরেবেড়ানো,,,, আমার পছন্দের ব্লগারদের কোন লিখা যেন আমার চোখের আড়ালে না যেতে পারে তাই এই "নিক" খুলেছি। বিশেষ করে আপনার কোন লিখা আমার চোখের আড়ালে যায় না বরং পিছনের সকল লেখা এক এক করে পড়তেছি। যত পড়ি তত অভিভূত হই। কত সুন্দর ও গুছালো এবং তথ্যবহুল আপনার লিখা।

নিজেকে আমি একজন পাঠক ও খালি পাত্র হিসাবেই মনে করি। খালি পাত্র কে একটু একটু করে পূর্ণতা দিতে আমার ইচ্ছে। তাই আপনার থেকে আমার অনেক কিছু জানার আছে। আপনাকে দেখেছি ছোট থেকে ছোট অথবা আচেনা কারো মন্তব্য ও কতটা গুরুত্ব দিয়ে প্রতিউত্তর দিয়ে থাকেন,তাই আশা করি আমার ছোট্টো ইচ্ছে কে আপনি গুরুত্ব দিবেন।আমার ইচ্ছে আপনার ইমেইল বা ফেসবুক আইডি যদি দিতেন তাহলে মাঝে মাঝে আমার না উত্তর পাওয়া, গাটবাঁধা কিছু কথা আপনার কাছে করে রাখতাম। আপনার যেকোন অবসর মত আপনি প্রতিউত্তর করতেন।

আপনি যদি পাব্লিকলি আপনার আইডি দিতে সেফ মনে না করেন তাহলে আমার আইডি দিতে পারি আপনি সেখানে দিতে পারেন,,,,আশা করি আমার আবেদনটুকু রাখবেন,,,,,,

১২ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য । আমার লেখাগুলি মনযোগ দিয়ে পাঠের জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন । আপনার ব্লগে গিয়ে আপনার লেখার সাথে পরিচিত হতে চেয়েছিলাম । নতুন কোন লেখা দিলে জনালে খুশী হব । আমি ফেবুতে বিবচরণ করিনা । খেখালেখির যে কোন বিষয়ে আমার ব্লগে কিংবা আপনার ব্লগে কথা বার্তা চলতে পারে অনায়াসে স্বচ্ছন্দে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৫৫| ১১ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:২৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: আবার এলাম আমার নতুন পোস্টে আপনার গবেষনাধর্মী মন্তব্য পাওয়ার জন্যে।

১২ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: দু:খিত , রমজানের জন্য ব্লগে বিচরণ কম বলে উত্তর দানে বিলম্ব হল ।
এখনি আসছি আপনার মুল্যবান লেখা দেখতে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫৬| ১৩ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৩

এনায়েত হোসাইন বলেছেন: ইসলামী ঐতিহ্যের এত সুন্দর স্থাপনা সমূহ স্বস্থাূনে গিয়ে দেখার সৌভাগ্য হবে কিনা জানিনা ,তবে আপনার এই পোষ্টের মাধ্যমে দেখে সত্যি ই অনেক ভালো লাগলো ।

১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:৫১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , পোষ্ট টি ভাল লেগেছে জেনে খুশী হলাম ।
দোয়া করি আল্লাহ আপনার মনের বাসনা পুরণ করুন ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫৭| ১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:৪২

প্রামানিক বলেছেন: অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

১৪ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
প্রিয় কবি ভাই এর কাছে পোষ্টটি গুরুত্বপুর্ণ অনুভুত
হওয়ায় পরিশ্রম আমার ন্বার্থক হয়েছে বলে মনে হচ্ছে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫৮| ১৪ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৫:৫৫

রিফাত হোসেন বলেছেন: ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আর ধর্ম বিষয়টা পুরাটাই বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠীত । বিশ্বাস করে কিছু পাইলে তো ভাল, অার মরার পরে যদি দেখা যায় যা বিশ্বাস করেছি তা ছিল ভুল , তাহলেও কোন ক্ষতি নাই ।

পোস্ট নিয়ে কিছু বলার নাই। জানার শেষ নাই, এক কথায় অসাধারণ
generation tree জানতে পেরে ভাল লেগেছে। আমিও আমার প্রপিতামহের পিতার গোড়াতে ভ্রমণ করে এসেছি। বাবা খুব খুশি হয়েছিল। হয়ত আশা করে নাই, তার কোন ছেলে শিকড়ের অন্বেষণে যাবে। আমি ছোটখাট একটা প্রজন্মের লতা-পাতার চিন্তা করছি। হয়ত একদিন একটা কাঠামো গঠন করতে পারব।

১৪ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ রিফাত হোসেন ,ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে আমার কথাটা মনে ধরেছে দেখে ভাল লাগল । পোষ্ট অসাধারণ অনুভুত হওয়ায় অনুপ্রানীত হলাম । generation tree তথা শিকড়ের সন্ধানে গিয়েছিলেন শুনে ভাল লাগল । কাঠামোটা গঠণ হলে আমাদেরকে
জানালে খুশী হব ।
শুভেচ্ছা রইল ।

৫৯| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ৮:৪১

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: আপনার পরিশ্রম সাধ্য পোষ্ট প্রতি নিয়ত পাঠকের জ্ঞান ভান্ডার সমৃধ্য করছে। রমজানের জন্য এটি ভাল উপহার। আল্লাহ আপনার প্রচেষ্টা কবুল করুন। জান্নাতে যদি আপনার সাথে সাক্ষাত ঘটে তবে সেটা হবে অনেক সৌভাগ্যের। আমার লক্ষ্য মানুষের চলার সঠিক পথ সনাক্ত করণ। দোয়া করবেন এ বিষয়ে কিছুটা হলেও কাজ করতে পারি। গতকাল থেকে কেন যেন আপনাকে আমার নিতান্ত আপনজন মনে হওয়া শুরু হয়েছে। আমার মনে হয় আপনার উপর আল্লাহর স্নেহের ছায়া রয়েছে। কথাটা বলার কারণ আপনার আলোচনা সত্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। কারো দালালী করলে এতদিনে হয়ত অনেক কিছু হয়ে যেতেন। কিন্তু আপনি সে পথে হাঁটেননি। সত্যের পথে আল্লাহ আপনাকে চির অবিচল রেখে সুস্থ্যতা ও সক্ষমতার সাথে দীর্ঘ্য হায়াত দান করুন। আর আপনার পরিবার পরিজনের প্রতি অনবরত রহমত নাজিল করুন-আমিন।

২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ২:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ফরিদ ভাই , আপনার স্নেহমাখানো কথাগুলি শুনে ভাল লাগল । কামনা করি আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করুন ।
ধর্মের মুল বিষয়গুলির সাথে অআধুনিক যুগের বিজ্ঞানের সমন্বয় সাধন করে তথ্য প্রযুক্তির উপরে আপনি যে কাজ করে যাচ্ছেন তার সুফল অনেক বেশী , দোয়া করি একটি সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী বিনির্মানে অাল্লাহ আপনাকে তৌফিক দিন । সত্য সুন্দররের পথ একটাই আর এ পথে যারা থাকেন তাদের একে অপরের সাথে মিল হওয়াই স্বাভাবিক । দিনে রাতে নামাজের প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহাতে আমরা অাল্লাহ কাছে পার্থনা করি ''চলাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি'' । আল্লাহ ভাল করে জানেন তাঁর প্রিয়জন কে , আল্লাহ যদি আমাদের দোয়া কবুল করেন তাহলে আমাদেরকে তাঁর প্রিয়জনদের পথেই পরিচালিত করবেন এ বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে অন্তরে পোষন করি । ভাল আমলটা ছাড়া এ দুনিয়া হতে আর কিছুই সাথে নিয়ে যাওয়া যাবেনা এ বিশ্বাসটুকু যেন অন্তরে থাকে সে জন্য দোয়া করবেন । সত্যের পথে আল্লাহ আপনাকেও চির অবিচল রেখে সুস্থ্যতা ও সক্ষমতার সাথে দীর্ঘ্য হায়াত দান করুন। আর আপনার পরিবার পরিজনের প্রতিও অনবরত রহমত নাজিল করুন-আমিন।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৬০| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ৯:৫৫

বিজন রয় বলেছেন: এই পোস্টি স্টিকি হতে পারত।
সম্ভবত ধর্মীয় পোস্ট এজন্য বিবেচনা করেনি।

২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ৩:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ দাদা পোষ্টটিকে নিয়ে একটি ধারণা পোষন করার জন্য ।
স্টিকি হোক বা না হোক আপনার সুন্দর ধারণাটির জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
আপনি পোষ্ট টি যে মনযোগ দিয়ে পাঠ করেছেন তাতেই আমি নীজেকে ধন্য
ও আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করছি । বিধাতার কাছে পার্থনা
করছি তিনি যেন আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল করেন ।

৬১| ২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:৫৭

পাহাড়ে বন রক্ষা করুন বলেছেন: ভাইয়ু!!!!!!!!!

বাহ!!!!!!!!

মুগ্ধ মুগ্ধ মুগ্ধ!!!!!!!!

কেন মুগ্ধ জানিনা!!!!!!!!

:(

২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ৩:০৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম ,
আপনার আগমনেও আমি মুগ্ধ হয়েছি ।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

৬২| ২০ শে জুন, ২০১৭ সকাল ৭:৫৬

জীবন সাগর বলেছেন: অনেক কষ্টে সৃষ্ট পোষ্ট। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলাম ভাই।
প্রিয়তে থাকুন অনন্তকাল।

২০ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয়তে রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন


৬৩| ২০ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১:৪৪

অতৃপ্তনয়ন বলেছেন: ধন্য সামু, ধন্য আমি, আমার সৌভাগ্য হলো পোষ্টটি পড়তে


প্রিয় তে থাকুন সবসময়।

২১ শে জুন, ২০১৭ রাত ৮:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , প্রিয়তে রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।
পোষ্টটি পড়েছেন দেখে ভাল লাগল ।

৬৪| ২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:২১

মিঃ আতিক বলেছেন: আপনার নেক হায়াত ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।
ভালো থাকুন, আমিন।

২২ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৩৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ , কামনা করি আল্লাহ আপনার দোয় কবুল করুন ।
আপনার জন্যও রইল শুভকামনা ।

৬৫| ২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:১৭

বর্ষন হোমস বলেছেন:
রমযান প্রায় শেষ হয়ে এলো।যারা রমযানেও নিজেকে পাপ মুক্ত করতে পারলো না তার হতভাগা আর কেউ নেই।আর পোষ্ট নিয়ে কিছু বলার নেই।অসাধারণ লেখনী।

ইদের শুভেচ্ছা রইলো।

২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ।
লেখা অসাধারণ অনুভুত হওয়ার কথা শুনে ভাল লাগছে ।
আপনার প্রতিও রইল ঈদ মোবারক ।

৬৬| ২৫ শে জুন, ২০১৭ সকাল ৮:৫৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,





সকল সংযম প্রশিক্ষনের মাসটি শেষ । এবার বাকী দিনগুলোতে তার সঠিক প্রয়োগের পালা । সে প্রয়াস অনায়াস লব্দ হোক আপনার জীবনে। দিনগুলি হয়ে উঠুক অহংকে বিলিয়ে দেয়ার আনন্দে ভরপুর ............

২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৫২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, কামনা করি
আপনার দোয়া আল্লার দরবারে কবুল হোক, যেন মুক্ত থাকতে পারি যাবতীয় অহংবোধ থেকে ।
পবিত্র ঈদ আপনার ও পরিবারের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ।

৬৭| ২৫ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১১:২৩

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন:
ঈদ মোবারক! ভাইজান।
সুন্দর হোক আপনার ও আপনার পরিবারের আগামী।


২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ঈদ বয়ে আনুক আপনার ও
পরিবারের সকলের জন্য
অনাবিল আনন্দ।

৬৮| ২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:২৩

দীপান্বিতা বলেছেন: ঈদ মোবারক! :)

২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: জীবন হোক সুখময় ও কল্যানকর

৬৯| ২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩২

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন:

ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক

আগামী প্রতিটি দিন আপনার ঈদ আনন্দে ভরে থাকুক কামনায়

২৫ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ,
আপনার জন্যও রইল ঈদ মোবারক

৭০| ২৫ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৪

বিজন রয় বলেছেন: আজ বাংলাদেশে সম্ভবত শেষ রোজা।

ঈদ মোবারক।

২৫ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ঠিকই বলেছেন ,
আজ বাংলাদেশে সম্ভবত শেষ রোজা।
দাদা ও পরিবারের সকলের জন্য
রইল ঈদ মোবারক ।

৭১| ২৫ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:২৯

কবি হাফেজ আহমেদ বলেছেন: পবিত্র ইদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।



ঈদ মোবারক প্রিয় ভাইয়া।



ঈদ মোবারক প্রিয় ভাইয়া।

৭২| ২৫ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:৫১

জোকস বলেছেন: "ঈদ মোবারক"

২৬ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:০৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপনার জন্যও রইল ঈদ মোবারক

৭৩| ২৬ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৯

ধ্রুবক আলো বলেছেন: ঈদের শুভেচ্ছা রইলো, ঈদ মোবারক।

২৬ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ ,
ঈদ শুভেচ্ছা রইল ।

৭৪| ২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:৩২

অগ্নিময়না বলেছেন: ভাইয়ুমণিতা !!!!!!!!!

বাহ!!!!!!!!

মুগ্ধ মুগ্ধ মুগ্ধ!!!!!!!!

কেন মুগ্ধ জানিনা!!!!!!!!

২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ , ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা রইল
আপনার অজনা মুগ্ধতায় আমি মুগ্ধ ।

৭৫| ২৭ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:৩৫

অগ্নিময়না বলেছেন: ভাইয়ুমণিতা !!!!!!!!!

বাহ!!!!!!!!

মুগ্ধ মুগ্ধ মুগ্ধ!!!!!!!!

কেন মুগ্ধ জানিনা!!!!!!!!

২৮ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ , ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা রইল
আপনার অজনা মুগ্ধতায় আমি মুগ্ধ ।

৭৬| ২৮ শে জুন, ২০১৭ সকাল ৮:৪৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি কি নতুন কিছু লিখছেন?

২৮ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্য ।
মাথার মধ্যে একটি লেখার বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছে
বিষয়টির উপর গবেষনা করছি ।
আপাতত ধ্যনে আছি জ্ঞান লাভের জন্য ।
দোয়া করবেন ।
ভাল থাকুন এ শুভ কামনা রইল ।

৭৭| ২৮ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৪

মক্ষীরাজা বলেছেন: ভাইয়ুমণিতা!!!!!!!!!

বাহ!!!!!!!!

মুগ্ধ মুগ্ধ মুগ্ধ!!!!!!!!

ঠিক পরীর দেশের রাজণ্যদের লেখা !!!!!!!!

উলে জাদুরে। উম্মা :>

২৮ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৩৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম ।
কামনা করি মুগ্ধতা আপনাকে ঘিরে থাকুক সবসময় ।
শুভ কামনা রইল ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.