নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নে সমুদ্র পারি দেওয়া ছেলেটি জেগে উঠে দেখে সে মাত্র বিছানার এপাশ ফিরে ওপাশে শুয়েছে মাত্র

অমিত বসুনিয়া

পৃথিবীর মৃত্যু ঘটুক শূধু তৃনলতাগুলো বেড়ে উঠুক , ছুয়ে দিক নীল আকাশের ভ্রান্ত সীমানা ।

অমিত বসুনিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

অস্পষ্ট ভালোবাসা - ৩

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৫৯

অস্পষ্ট ভালোবাসা ( পর্ব ৩ )
অমিত বসুনিয়া

সকালের সোনালী রোদ আমার ঘরে ঢুকে দাড়িয়াবান্ধা খেলছে । আর চুপচাপ শুয়ে শুয়ে ফ্রিতে " ভিটামিন ডি " নিচ্ছি । হঠাৎ আম্মুর চিৎকারে আমার ভিটামিন সঞ্চারনে বাধার সৃষ্টি হলো । মায়ে ডাকছে , রাখ তোর ভিটামিন ডি । আমি বাইরে বের হয়ে দেখি সাদিক খাবার টেবিলে বসে চানাচুর খাচ্ছে । আমি জিজ্ঞেস করলাম ,
- কিরে কখন আসলি ?
- এইতো কিছুক্ষন হবে । তুই তারাতারি ফ্রেশ হয়ে আয় আন্টি পায়েশ রান্না করছে ।
একটা মানুষ যে কি পরিমান খেতে পারে তার ধারনা বোধহয় সাদিক কে না দেখলে হতো না । মাঝে মাঝে আমার মনে হয় , পুরো পৃথিবীর সব মানুষের খাবারো যদি তাকে খেতে দেওয়া হয় সে তাও খেয়ে উঠে একটা গরুর ঢেকুর তুলে পেটে হাত দিয়ে বলবে ক্ষুদা লাগছে ? অপার রহস্যময় পৃথিবীতে তার ক্ষিদাটাও এক ধরনের রহস্যের অংশ । হোক রহস্য তাতে আমার কি ? সাদিক তো আর আমার টাকায় রোজ রোজ খায় না । তবে হ্যা এটুকু বলতে পারি তার মতো কুম্ভকর্ন দেশে থাকলে দেশের বারোটা বাঁজা শেষ হয়ে তেরোটার ঘন্টার ধ্বনি ঢং ঢং শব্দ করে বাজার আর দেরী নাই । তারপরেও সাদিক আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু । সে থাকে আমার বাসা থেকে চার বাসা পরের তিন তলা মেসের দোতলার একটা রুমে । তার রুমের বৈশিষ্ঠ হচ্ছে সবসময় পরিপাটি আর সিগারেটের গন্ধে ভর্তি থাকবে । আমাদের ফ্রেন্ড ব্যাচের সবার আড্ডার জন্য উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে সাদিকের রুম ।
আমি হাতমুখ ধুয়ে এসে দেখি সাদিক এর মধ্যেই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে । আমিও তার উলটো দিকের চেয়ারে বসে পড়লাম । সাদিক খাচ্ছে , আমি পায়েশের বাটিতে চামুচ লাগিয়ে রেখে তার খাওয়ার রহস্য উৎঘাটনের চেস্টা করছি । সে প্রতিবার চামুচ মুখে নিয়ে এক বিকট শব্দে খাচ্ছে , যেমন শব্দ কুকুর হাড্ডি চাবানোর সময় করে । অথচ তার চোখে মুখে তৃপ্তি আর ক্ষুদা ছাড়া অন্য রকম কোনো কুকুরীও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না ।
দুজনে খাওয়া শেষ করে বাইরে আসলাম । সবুর মামার দোকান থেকে দুইটা সিগারেট কিনে সেটা টানতে টানতে রাস্তায় হাটছি । দেখি দূরে একটা পুলিশ জীপ দ্বাড়িয়ে তার সামনে একজন পুলিশ ওয়াকিটকি নিয়ে কার সাথে জানি কথা বলছে । এই ওয়াকিটকির ক্যাচ ক্যাচ শোব্দ আর ভার ওভার শুনতে শুনতে পুলিশ গুলো এখনো কেন পাগল হয়ে যায় নাই সেটাও এই অপার রহস্যময় পৃথিবীর রহস্যের ভান্ডারের নতুন ইলিমেন্ট । হয়তো কেউ পাগল হয়েছেও , কোন একদিন সুযোগ পেলে পুলিশের কাউকে জিজ্ঞেস করতাম ,
ভাই আপনাদের মধ্যে কেউ কি হেমায়েতপুরের পাগলাগারদে ভর্তি হয়েছিলো ?
অবশ্য তার পরে তাদের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়াটা আসবে সেটার কথা চিন্তা করে সবসময় এই ইচ্ছাটা দমিয়ে রেখেছি । তাদের ডিম থেরাপি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর শাস্তি গুলোর একটা ।
আমার মাঝে মাঝে আরেক টা ইচ্ছা হয় একটা প্রাইভেট কারে ঘুষি মেরে কাচ ভাঙ্গা । অবশ্য এখন ভেবে দেখেছি ব্যাপার টা না করলেও চলবে । কারন ঘুষি মেরে প্রাইভেট গাড়ির কাচ ভাংলে পুলিশ তো ধরবেই , সাথে জনগনের সম্পদেরো ক্ষতি । তার চেয়ে অবশ্য পুলিশের গাড়িতেই ঘুষি মারা ব্যাপার টা ভালো হবে । অন্তত প্রাইভেট কারে মারার চেয়ে । কারন যেখানেই ঘুষি মারি না ক্যান জেলে আমাকে যেতেই হবে । পুলিশের গাড়িতে মারলে সরকারিটাকা নস্ট হবে । সরকারি টাকা মানে সবার টাকা , আর একজনের টাকা নস্ট করার চাইতে সবার টাকা নস্ট করা খারাপ কাজ না ।
দুইজনে হাটতে হাটতে আবার সেই মিস কিন্ডারগার্ডেন এর বাসার সামনে এসে পড়েছি । আজকেও সেই ভাঙ্গা বাস টি সেখানে দ্বাড়িয়ে আছে । আজকে চড়ুই পাখির বাসায় একটা চড়ুই পাখি বসে , অবশ্য ডীম গুলো আছে নাকি বাজ পাখিটা খেয়ে ফেলেছে সেটা আর বোঝা যাচ্ছে না ।
আমি আর সাদিক কোন এক অজানা কারনে সেখানে দ্বাড়িয়ে আছি । হয়তো সেই মিস কিন্ডারগার্ডেন এর জন্যই ..................

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.