নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আতাহার হোসাইন

উড়োজাহাজ

ফেসবুক প্রোফাইল-https://www.facebook.com/ataharh

উড়োজাহাজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সিস্টেমই অপরাধের কারিগর অথবা মানব জাতি সিস্টেমের বলির পাঠা

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০১

একটা উদাহরণ দিয়ে লেখাটা শুরু করি। ধরুন একজন গাড়ির চালক কোন সরল সোজা straight রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি চালাচ্ছে। সে যদি ইচ্ছা করে তবে সে এলোমেলো বা আকা-বাকাভাবে ঐ গাড়িটিকে চালাতে পারবে না। তাকে সেই রাস্তা অনুসারে সোজাই চলতে হবে। চলতে চাইলে সোজা চলতে সে বাধ্য। আবার যদি কোন চালক কোন আঁকাবাঁকা পথ বেছে নেয় তবে সে ইচ্ছা করলেও সোজা চলতে পারবে না। এটা হচ্ছে নিয়ম, নীতি। ইংরেজীতে যাকে বলে system. যেহেতু আমরা মানুষ, পৃথিবীতে জীবন ধারণ করতে গেলে আমাদেরকে একটা সিস্টেম system) বা পদ্ধতি অবলম্বন করে বসবাস করতে হয়, সেহেতু আমরা করছিও তা। আর আমাদের সিস্টেম আমাদেরকে আজ এমন স্থানে নিয়ে গেছে যে প্রতিটি মানুষ চাইলেও আর ভালো থাকতে পারছে না, সৎ থাকতে পারছে না। সিস্টেম আমাদেরকে বাধ্য করছে তার নিয়মে চলতে। কেউ যদি চায় এই সিস্টেমের বাইরে গিয়ে সৎভাবে বাঁচতে, সততার সাথে জীবনধারণ করতে, তার দ্বারা তা সম্ভব হচ্ছে না। তার অবস্থা ঐ গাড়ি চালকের মতো যে উঠেছে একটা আকাবাকা রাস্তায় আর চাইছে সোজা চলতে। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারেই তাকে ছিটকে পড়তে হবে রাস্তা থেকে। সিস্টেমটাই এমন হয়ে গেছে যে আপনি কোন দোকানী, আপনি কাউকে ওজনে কম দিবেন না, আপনি ওজনে কম দেওয়াটাকে অন্যায় ভাবেন, অনৈতিক ভাবেন, পাপ ভাবেন, আপনি ভাবেন এ জন্য আল্লাহর কাছে আপনাকে জবাব দিতে হবে, আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসিত হবেন। সেই ভয়ে আপনি কাউকে কম দিচ্ছেন না। কিন্তু আপনি যার কাছ থেকে পণ্য কিনছেন, তিনি কিন্তু আপনাকে অবলীলায় কম দিয়ে যাচ্ছেন। এখন আপনি যদি কাউকে কম না দেন তাহলে আপনি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন, আপনি ক্রমাগত ব্যবসায়ে লস দিয়ে পুজি শুন্য হয়ে যাবেন এবং এক পর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

আপনি যদি চান যে, কারো সাথে মিথ্যা কথা বলবেন না, আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। ধরুন আপনি ব্যবসা করেন সততার সাথে, আপনি কাউকে ওয়াদা দিলে ওয়াদা রক্ষা করেন। কারণ, আপনি জানেন ওয়াদা ভঙ্গ করা মোনাফেকের কাজ, আর মোনাফেকীর শাস্তি জাহান্নামের সর্বনিু স্তরে। এমতাবস্থায় আপনি আপনার ব্যবসা কাজে কাউকে কথা দিলেন নির্দিষ্ট সময়ে কাউকে কোন পণ্য সরবরাহ করবেন, কিন্তু আপনি যার কাছ থেকে পণ্য আমদানী করছেন সেই লোক আপনাকে নির্ধারিত সময়ে সেই পণ্য সরবরাহ করলো না, আপনি কি করবেন? আপনাকে ওয়াদা ভঙ্গ করতেই হবে। আপনি বিকল্প চিন্তা করতে পারেন যে আপনি কাউকে ঐভাবে কথা দিবেন না। কিন্তু ওয়াদা না দিলে কোন ক্রেতা আপনার পণ্য কিনবে না। ফলে আপনি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে আপনি জানেন সূদ খাওয়া বা দেওয়া মারাতœক পাপ কাজ। আল্লাহ তাঁর কোর’আনে বলেছেন,“যারা সূদ খাবে, সূদ দিবে এবং সূদের চুক্তিতে সাক্ষী থাকবে তারা যেন আল্লাহ এবং তার রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে।” কেউ কারো বিরুদ্ধে তখনি যুদ্ধের ঘোষণা করে যখন সে তার শত্র“ হয়ে যায়। আপনি যদি আল্লাহ এবং তার রসুলের বিরুদ্ধে শত্র“তার পরিচয় দিতে না চান, তবে আপনাকে সূদ পরিত্যাগ করতে হবে। আপনি সূদ খেতেও পারবেন না, কাউকে সূদ দিতেও পারবেন না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সিস্টেম এমন দাঁড়িয়েছে যে আপনার সমস্যায় আপনাকে কেউ টাকা ধার দেবে না। আপনি যদি নির্দিষ্ট হারে সূদ দেন তবেই আপনাকে টাকা দিবে। সেটা ব্যাক্তিই হোক বা ব্যাংক হোক কিংবা সরকারই হোক। আপনি সূদ দিতে রাজী থাকলে আপনাকে দশ তলা বাড়ি পর্যন্ত করে দেবে, গাড়ি কিনে দেবে। পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সরকারী যে কোন সুবিধা ভোগ করতে চাইলেও বিনিময়ে আপনাকে শতকরা হারে সূদ দিতেই হবে।

আপনি ঘুস দিবেন না? আপনার কাজ হবে না। আপনার ফাইল বছরের পর বছর লাল ফিতায় বন্দী হয়ে থাকবে। ঘুস দিবেন, মুহুর্তেই আপনার কাজ হয়ে যাবে। আপনি কোন কার্যালয়ের বড় কোন কর্তা, ঘুস খাবেন না তাকি হয়? আপনি নিজেই তো চাকরি নেয়ার আগে মোটা ‘ইনভেস্ট’ করেছেন, সেটা উঠাতে হবে না? আপনারই অফিসের পিয়নকে দেখেছেন, তার কয়েকটা বাড়ী আছে এই শহরে। কয়েকটা প্লটের মালিক। নামে, বে-নামে, শ্বশুর বাড়ির আতœীয়দের নামে প্রচুর টাকা তার। সে আপনার অধস্থন কর্মকর্তা হলেও তার ঠাটবাট আর চলাফেরার style দেখলে আপনি হতবাক না হয়ে পারবেন না। আপনার বউ রোজ আপনার সাথে প্যান-প্যান করে, রোজ পাশের বাড়ীর গিন্নীর গহণা, আসবাবপত্রের কথা তোলে, কি মার্কেটিং করেছে তার গল্প শুনে এসে আপনাকে শোনায়। রঙ্গিন টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন হাতছানি দেয় তাকে প্রতিনিয়ত। আপনি তো সাধারণ মানুষ! আপনার কতদিন সহ্য হবে? অথচ আপনি সামান্য একটু অন্যায় করলে, কিছু মিথ্যা কথা বললে, কিছু পয়সা অন্যায়ভাবে কামাই করলে এমন কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে? আপনাদের মত লোকদেরকে আমাদের সমাজের তথাকতিথ বুদ্ধিজীবিরা যদি বোকা বলেন, তাহলে তাতে দোষের কী? ওনাদের মধ্যে তো অনেকেই জাতির ‘স্যার’, জাতির অধ্যাপক। ওনাদের চিন্তা চেতনা, ওনাদের লেখালেখি আপনাদেরকে প্রভাবিত করে। অবশ্যই আপনাদের চাইতে তারা অনেক বেশী বুঝেন এবং জানেন। যদিও জানি অনেকেই আমার এই কথাটির সাথে একমত নাও হতে পারেন।

পুলিশের বড় কর্তা হয়েছেন? জাতির সেবা করতে এক বুক আবেগ নিয়ে, তারুণ্যের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেমেছেন মানব সেবায়? দেখি কতদিন থাকে এই আবেগ, কতদিন থাকে আপনার জনসেবার এই মানসিকতা? কতদিন হৃদয়ে ধারণ করতে পারেন সততার চেতনা? আপনি আপনার উপরস্থ কর্তার নির্দেশে সরকার দলীয় মন্ত্রী, এমপিদের নির্দেশে বিরোধী দলকে শায়েস্তা করবেন না? আপনি চান সরকারী দল বিরোধী দল সমান অধিকার ভোগ করুক? কয়দিন চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন বলুন দেখি! অদৃশ্য শক্তির নির্দেশে দাবার গুটির মত একচালেই আপনাকে কোন একটা অপরাধীর তালিকায় নাম দেখিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে খুবই দ্রুততম সময়ে। আপনার ঠিকানা হবে বান্দরবান কিংবা কাশিমপুর কারাগার, হাজির হবেন সরকারের অতিথিশালায়।

আপনি কি শিক্ষকতা করবেন? আপনার বেতন দেয়া হবে না পনেরো বছর। দিলেও এমন বেতন যা দিয়ে এই ভবের হাটে আপনি অচল পয়সা হয়ে থাকবেন। আপনার আদর্শের খেসারত দিয়ে গিয়ে আপনার ছেলে মেয়ের জীবন কাটবে দুঃসহ দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে। আপনার সন্তান আপনাকে তিরষ্কার করবে, অপমান করবে। আপনারই প্রতিষ্ঠানে আপনার সন্তানের বয়সী ছাত্ররা রাজনীতির নামের মিছিল মিটিং করবে, ক্লাস বর্জন করবে। পরিক্ষায় নকল করতে না দিলে আপনার মাথায় পিস্তল ঠেকাতেও কুন্ঠা বোধ করবে না। দাবী আদায়ের নামে আপনাকে আপনার কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখবে। প্রয়োজনে কিল ঘুষি, চড়, থাপ্পড় কিংবা বেধড়ক পিটুনিও দিতে পারে। ভুলে যান শিক্ষকদের আদি ইতিহাস, মর্যাদা। এটা সম্রাট আলমগীরের যুগ নয় যে আপনার ছাত্র আপনার পায়ে পানি ঢেলে দেবে ওযু করার সময়, আর তার পিতা আপনাকে ভর্ৎসনা করবে কেন হাত দিয়ে পা ধুয়ে দিতে বাধ্য করেন নি। আজ সেই দিন নেই, বরং ছাত্রকে বেত্রাঘাত করলে আইনের ধারায় ফেঁসে যাবেন, সংবাদপত্রে আপনার বিরুদ্ধে লেখা হবে বিস্তর, টকশোতে বুদ্ধিজীবিরা চাদর গায়ে দিয়ে নিন্দাবাদ করবে আপনার। কোথাও হবে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন। অতএব নিজের মান সম্মান রাখতে গিয়ে অনবরত মান সম্মান নামক উৎকৃষ্ট এবং উচ্চমার্গীয় ধ্যান ধারণা ত্যাগ করে চাকরি নামক সোনার শেকল পরিধান করে কালাতিপাত করতে থাকুন!

এ রকম গোলামী পছন্দ নয়? কায়িক শ্রম দিবেন? ছাত্র জীবনে শ্রমের মর্যাদা রচনা পাঠ করতেন, লিখতেন। কিন্তু নেমেই দেখেন না ভাই! সেই দিন এখন নাই। শ্রমিক মানেই নিচু শ্রেণীর লোক। শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে মুল্য পরিশোধের তাগিদ আল্লাহর রসুল দিলেও এ যুগে তাদের কথার পরোয়া কে করে। আমরা এখন আধুনিক। আপনার সন্তান বয়সী ছেলেপেলে আপনার সাথে তুই তুকারী আচরণ করবে। শ্রমের মুল্য পাবেন না। আন্দোলন করবেন? পুলিসের প্যাদানী খেয়ে হাসপাতালে ঠাই হবে।

চাষাবাদ করবেন? কৃষক হবেন? গর্ববোধ করবেন এই ভেবে যে আপনি জাতির খাদ্য যোগান? আপনি যা খরচ করে ফসল ফলালেন, সেই ফসল বিক্রি করে সে পয়সা উঠাতে পারবেন তো? তখনি দেখবেন আপনার গর্বের বেলুন ফেটে গিয়ে চুপসে গেছে।

আপনি কিছুই করলেন না, নির্বিবাদে জীবন কাটালেন। কারো সাতে নাই, পাঁচে নাই। শালা বললে ভাই বলে চলে আসেন। পথ হাটেন মাথা নিচু করে। ভাবছেন মাথা নিচু বলে আপনি সব বিপদ এড়িয়ে যেতে পারবেন? মোটেই না, কারণ ঐ যে পুলিশের কর্তাটি বহু পয়সা ঘুস দিয়ে চাকরি বাগিয়েছেন, কিংবা যার বউ নিত্যরোজ কানের কাছে প্যান্প্যান্ করে এই নাই, ওই নাই বলে, সে তো আপনার মত নির্বিকার জীবন যাপন করতে পারছে না। তাকে শিকার করতে হয় প্রতিদিন কিছু না কিছু। আর আপনার মত গোবেচারা টাইপের লোকেরাই তাদের প্রধান টার্গেট। পুলিসের আছে সন্দেহ করার অবাধ স্বাধীনতা, আপনিই কখনও হবেন তার অন্যতম শিকার। ৫৪ ধারায় প্রথমে ধরা হবে আপনাকে। তারপর কোন অমীমাংসিত মামলায় আপনার নাম ঢুকিয়ে দেয়া যাবে। কথায় আছে বাঘে ছুলে এক ঘা, আর পুলিসে ছুলে আঠারো ঘা। একবার যদি আসামীর খাতায় নাম লেখাতে পারেন, আপনার ইহ জিন্দেগীর সব শান্তি বরবাদ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র জামিনের জন্য টাকা খরচ করতে করতে আপনার দফারফা শেষ। জামিনে না হয় বেরিয়ে এলেন, এবার আদালতে হাজিরা দিতে দিতে আপনার পায়ের স্যাণ্ডেল ক্ষয় হয়ে যাবে। আপনার পায়ের ঘসাঘসিতে আদালত প্রাঙ্গনের ঘাস মরে যাবে। দশ বারো বছর তো সামান্য সময়। সিরিয়াল পেতে পেতে আপনি বুড়িয়ে যাবেন। আর প্রতিটি পদে পদে টাকা দিতে গিয়ে আপনাকে পৈত্রিক ভিটামাটি বিক্রি করতে হবে। প্রতি ঘাটে ঘাটে দেখবেন আপনার জন্য উকিল, মুহুরী, পেশকার, টাইপিস্ট নামের অসংখ্য তীক্ষè আচড়া দাঁড়িয়ে আছে আপনারই গায়ের গোস্ত টেনে নেবার জন্য। গায়ে হাড্ডি ছাড়া আপনার গোস্ত বলে কিচ্ছু বাকী রাখা হবে না। কেননা আপনি তাদের মক্কেল! আপনার উপর এটা তাদের হক, অধিকার। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, মক্কেল শব্দটার সাথে বে-আক্কেল শব্দটার মনে হয় সাংঘাতিক কোন সম্পর্ক আছে। একদিন দেখা যাবে একসময়ে আপনার মত সেই নিরীহ লোকটিই বাধ্য হচ্ছেন নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধভাবে ক্ষমতা অর্জনের দিকে হাত বাড়িয়েছেন। আপনি ধীরে ধীরে হয়ে গেলেন একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর পরিচালক। আধিপত্ত বিস্তারের জন্য আপনি আপনার প্রতিদ্বন্দী দলগুলোর সাথে লড়াইয়ে নামবেন। আপনাদের এই দলাদলি এবং সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে নিরীহ কোন মানুষ খুন হয়ে গেলো। আপনাদের নামে চলবে গণমাধ্যমে হাঙ্গামা। আপনি তখন ভালো করে জেনে যাবেন যে এসবে কিছু আসে যায় না। বুদ্ধিজীবিরা বোকাবাক্সের পর্দা কাপিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাই বাড়াতে জানে, তারা কোন সমাধান দিতে জানে না। তারা বিভিন্ন তত্ত নিয়েই আওড়াতে পারে, এর বাইরে গিয়ে কোন কিছু করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে আপনি ক্ষমতার আধিপত্তের চূড়ায় আরোহণ করে ফেলেছেন আপনার প্রতিদ্বন্দিকে কুপোকাত করার মাধ্যমে। আপনার নাম হয়ে যাবে মুরগী মিলন, কালা জাহাঙ্গীর, সুইডেন আসলাম বা অন্য কোন ক্ষমতাশীন শক্তি কিন্তু আপনাকে নিশ্চিহ্ন করবে না। কারণ আরেকবার ক্ষমতায় যেতে হলে নির্বাচনের সময় আপনাকে তাদের কাজে লাগবে। তারাও তা না করে যাবে কোথায়? বিরোধি দলতো সর্বদাই হাতে কাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সরকারের পেছনে! কোন কারণে আপনার সমর্থিত দল যদি ক্ষমতায় না যেতে পারে তাহলে আপনার আগামী পাঁচ বছর হয় জেলে কাটাতে হবে, নয় পালিয়ে দেশের বাইরে বসবাস করতে হবে। দুটোর একটাও না হলে তৃতীয় আরেকটা পথ খোলা আছে। সেটা হলো ক্রসফায়ার। আপনার যবনিকাপাত। বিরোধী দলই বা কি করবে তাছাড়া? সরকার তার বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলকে দৌড়ের উপর রাখে অনবরত। দৌড় খেতে খেতে পেটের ভাত হালুয়া হয়ে যাচ্ছে সব।

আমার কথা কি খুব তেতো লাগছে? কিছু একটা করে দেখিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে? কি করবেন আপনি? কি করার আছে আপনার? কোথায় যাবেন, যাওয়ার কোন জায়গাও নাই। যা করবেন সিস্টেমের ভেতর থেকেই করতে হবে আপনাকে। জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস হলেও আসলে আপনার করার কিছু নেই। প্রচলিত এই সিস্টেমে কোন পরিবর্তন আনার মত বৈধ কিছু আপনার জন্য রাখা হয়নি। বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল, জঙ্গী মিছিল করতে ইচ্ছে করছে? মানববন্ধন করবেন? প্রতিদিনই খবরের কাগজে, টেলিভিশনের পর্দায় এসব দেখছেন, এসবতো প্রতিদিনই হচ্ছে। এসব এই সিস্টেমেরই বানানো কিছু অংশ। আপনি সিস্টেমের বিরাট এক ফাঁদে পড়ে গেছেন। যেদিকেই যাবেন, সিস্টেমের বিরাট এক গোলকধাধা। এই ধাধা থেকে বের হওয়ার কোন পথ নাই। খুব হতাশ হচ্ছেন? আসলে আমরা এমন এক সিস্টেমের ভিতর পড়ে গিয়েছি, যাকে একটি শব্দে প্রকাশ করা যায়, আর তা হলো ‘লেজেগোবড়ে অবস্থা’।

আরেকটা উপমা দিয়ে লেখাটা শেষ করি। ধরুন, আপনি কোন গাছ লাগালেন অনেক টাকা পয়সা খরচ করে কিনে এনে। সার দিয়ে পানি দিয়ে তাকে যতœ করে বড় করে তুললেন। একদিন তাতে ফুল এলো। আশায় বুক বাধলেন এবার তাতে ফল হবে। অনেক অপেক্ষা শেষে একদিন ফলও এলো। বহুদিন পর ফলগুলি পাকলো। আপনি অতি আনন্দের সাথে ফলের গায়ে যেই কামড় বসালেন, দেখলেন এই ফল ভয়ঙ্কর তেতো। এক ডালের পরিবর্তে আরেক ডালের ফল পাড়লেন, দেখলেন সব ডালের ফলই একই স্বাদ, বিস্বাদ। কি করবেন আপনি? ডালের সব ফল লাঠি দিয়ে বাড়ি দিয়ে ফেলে দেবেন? পরের বছর কিন্তু আবার সেই বিষাক্ত ফলই ধরবে। কারণ গাছটিই বিষাক্ত, বিষবৃক্ষ। গাছটি উপড়ে ফেলুন, আরেকটি ভাল জাতের গাছ রোপন করুন। আশা করা যায় তাতে আপনি ভালো ফল পাবেন।

আমাদের প্রচলিত সিস্টেমের যে কোন অংশকেই দেখবেন, দেখবেন তা বিষাক্রান্ত হয়ে গেছে ঐ গাছের মত। এর একটা সংশোধন করতে যাবেন তো দেখবেন সেটা কিছুটা প্রশমিত হলেও আরেকটা মারাতœক আকারে বেড়ে গেছে। এই উদাহরণটাই ধরুন না, ‘ইভ টিজিং’। কি-ই না হলো এই ব্যাপারটি নিয়ে। মিটিং মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, ব্যানার, ফ্যাস্টুন, টেলিভিশনে টকশো, প্রবন্ধ-নিবন্ধ। তাতে ইভটিজিং কি বন্ধ হয়েছে? শুধু বন্ধই যে হয়নি তা নয়, আরো একধাপ বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা রূপ নিয়েছে ধর্ষণে। যুবতি নারী তো বটেই, ৪বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৬০বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না প্রতিবন্ধিরাও। আজ সর্বত্র, পৃথিবীর আনাচে কানাচে এই রোগ মহামারী আকার ধারণ করেছে। কোন দেশ, কোন এলাকা মুক্ত নয় এর কবল থেকে। তার দীর্ঘ তালিকা না হয় না-ই উত্থাপন করলাম। এইভাবে প্রতিটি অংশকে শোধরানোর চেষ্টা না করে যে সিস্টেম আমাদেরকে এই ‘অমুল্য’ উপহারগুলো দান করেছে সেই সিস্টেমটাকে ঐ গাছের মত উপড়ানোর চিন্তা করা যায় না? আমরা কি পারিনা আমাদের এই সিস্টেমকে বদলে দিতে? শুরুতেই যে কথা বলতে চাইছিলাম, সবকিছুই নির্ভর করছে রাস্তা বা system এর উপর। আপনি ভালো হওয়ার বা ভালো করার তীব্র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র system এর কারণে ভালো করতে বা ভালো থাকতে পারবেন না, আবার system টা যদি ঠিক হয় বা নির্ভুল হয়, তখন ইচ্ছা করলে খারাপ হতে বা খারাপ করতে পারবেন না। সুতরাং আসুন সবাই মিলে system টাকে পাল্টাই।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.