নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

https://www.facebook.com/bicharmani

বিচার মানি তালগাছ আমার

বিচার মানি তালগাছ আমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

\'তেনার\' দ্বিতীয় বিয়ের কারণ.....

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:২৪

১. লোকটা খাটো এবং চিকন। বয়স ৩৫-এর আশে পাশে। কথা বলে খুব শান্ত ভাবে। চালু পাবলিক না। খুব নরম প্রকৃতির। আমাদের কোম্পানীতে(মধ্যপ্রাচ্য) লেবারের কাজ করে। সে কেমন সহজ সরল তার একটা উদাহরণ দেই। তার রুমের অন্যরা তাকে কোন একটা কারণে সবসময় চাপের মধ্যে রাখে। যদিও দোষটা তার ছিল না। কিন্তু রুমমেটরা একই এলাকার হওয়াতে তাকে খুব মেন্টাল টর্চার করে। ভাষা সমস্যার কারণে সে ক্যাম্প বসকে বলতেও পারে না। আমাকে বলার পর আমি সিকিউরিটিকে জানাই। পরে তার রুম বদল করে দেয়া হয়। তো একদিন একজনের কাছে শুনলাম এরকম একটা ভীতু লোক তার নাকি দুই বউ!

২. বর্তমানে বাংলাদেশে দুই স্ত্রী থাকা সংসার অনেক কম। তার মত সহজ সরল ভীতু লোক (এমনকি গরীব) কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করলো(আসলে আমার মনে আসলো কীভাবে দ্বিতীয় জনকে পটালো) তা জানার কৌতুহল জাগলো। কী এমন হয়েছে যে দ্বিতীয় বউ রাজি হয়েছে বিয়ে করতে? তাই তাকে একদিন(রাত ছিল) জিজ্ঞেস করলাম কাহিনী কী? আমি আমার ভাষায় বলছি। ধরা যাক, লোকটার নাম করিম।

৩. তিন বছর আগের কথা। দুই সন্তানের জনক করিম ছোটখাটো ব্যবসা করতেন মফস্বলে। তার মোবাইল থেকে তার চাচাতো ভাই একটা মেয়ের সাথে প্রেম করতো যেটা তিনি জানতেন না। মেয়েটা ছিল তার গ্রামের কাছাকাছি আরেকটা গ্রামের। চাচাতো ভাই একটা ভালো চাকুরি পেয়ে চলে যায় অন্য জেলায়। আর ঐ মেয়েকে কিছু জানায়ওনি। ঐ মেয়ে(এইচ এস সি) ফোন করে করিমের মোবাইলে। করিম বলে, সে কিছুই জানেনা বা জানতো না তার চাচাতো ভাইয়ের প্রেমের ব্যপারে। মেয়ে কষ্ট পায়। করিমের চাচাতো ভাইয়ের খবর জানতে চায়। কিন্তু করিমের চাচাতো ভাইয়ের কোন খবর নাই তখন। কয়েকদিন পর মেয়ে আবার ফোন করে করিমকে। কাছাকাছি গ্রাম হওয়াতে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। করিমও সমব্যথী হয়ে কথা বলতে থাকে কিছুদিন। একদিন মেয়ে করিমের বাজারে এসে বলে , এখন বাজারে আছে দেখা করবে। করিমও সরল মনে দেখা করে। করিম দেখা করতে গেলে মেয়ের সাথে থাকা কয়েকজন করিমকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় তাদের গ্রামে।

৪. মেয়ের গ্রামের লোকজন করিমকে মারধর করে ক্লাবে নিয়ে। তার চাচাতো ভাইয়ের বিনিময়ে তাকে ফেরত দেয়া হবে বলে জানানো হয় করিমের পরিবারকে। করিমের চাচা পাত্তা দেয় না। বরং করিমের বাবাকে বলে, আপনার ছেলের দোষ থাকতে পারে। এবার করিমের গ্রামের ছেলেরা মেয়ের গ্রামের কয়েকটা ছেলেকে দেখতে পেয়ে আটকে রাখে। দুই গ্রামের মধ্যে মারামারি লেগে যায় অবস্থা। দুই গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বার, মুরুব্বিরা এক হলো।

৫. ২/৩ দিন যায়। মেয়ে বলে, এই ছেলে সেই ছেলে না, করিম বলে আমি কিছু জানিনা। কিন্তু মেয়ের পরিবার মানতে চায় না। এই মেয়ের কাহিনী পুরো গ্রাম জেনে গিয়েছে। এই ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে। ছেলে মেয়ে কেউ রাজি না। তবু মেয়ের পরিবারের চাপে করিমের চেয়ে ১২/১৩ বছরের ছোট ঐ মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়া হয় দুই গ্রামের মুরুব্বিদের সমর্থনে। নাহলে কেইস করে ছেলেকে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় মেয়ের পরিবার। করিমের পরিবার এবং স্ত্রীকে মুরুব্বিরা বোঝায়। জেলে যাওয়া ভালো নাকি বিয়ে করে মুক্ত থাকা ভালো। প্রথম স্ত্রী ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও রাজি হয়।

৬. এভাবেই তেনার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। আরো অনেক জটিলতা হয়েছে বিয়ের পর। এখন দ্বিতীয় স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে থাকে আর প্রথম স্ত্রী করিমের বাড়িতে। এর আগে (করিম দেশে থাকাকালীন) ১৫ দিন করে দুই স্ত্রীকে সময় দিত। এখনো দুই স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ঠিক রেখেছে।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:০৮

ইয়েলো বলেছেন: দুই ফুল এক মালি। :#)

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:২৯

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: মেঘ না চাইতে বৃষ্টি!! B-)

২| ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:২১

চাঁদগাজী বলেছেন:



হায়রে বাংলাদেশ; ২টি মেয়েটার কপাল ভাংলো মানুষের বেকুবীর কারনে

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৪৯

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: আপাতত দুই মেয়েই স্বামীর সাথে বিশ্বস্ত আছে। তবে সামনে কী হবে বলা যায় না। মানুষের মন তো....

৩| ২০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৩৭

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: অাহা বেচারা!

২০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:১৬

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: দেশ উন্নত হচ্ছে অথচ গ্রামের মুরুব্বীগুলো এখনো পেছনে পড়ে আছে...

৪| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:


এগুলো জীবন নয়, জাস্ট কোন মতে জীবনটা কাটানো

২১ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৩:২৮

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: ভালো সরকার না আসা পর্যন্ত জীবন এভাবেই যাবে মানুষের....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.