নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি শান্তিতে থাকতে বিশ্বাসী। অপরের ব্যপারে নাক গলানো বা অপরের আমার ব্যপারে নাক গলানো দুটোরই ঘোর বিরোধী।

ইনাম আহমদ

এই ব্লগে জঙ্গি, মৌলবাদী ও চাঁদগাজীর প্রবেশ অনাকাঙ্খিত

ইনাম আহমদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

যাত্রা

১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ১১:০৫

এ এক মজাদার দর্শনীয় বস্তু, যদি না আপনিও এই নাগরদোলার সওয়ারী হন। বছরে দুইবার এই অবস্থা হয়। দেশের প্রধান শহরগুলো থেকে পঙ্গপালের মতো মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিজরত করেন, বহুদিন অদেখা প্রিয়জনদের সাথে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করার জন্য। বউ-বাচ্চাসমেত বিশাল গ্যাঞ্জাম, খানাখন্দে পরিপূর্ণ রাস্তায় যানবাহনে করে, কখনো বসে, কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বা আরও অভিনব উপায়ে ছুটে চলেন গন্তব্যে। রাস্তা, রেললাইন, নদীপথ সবখানেই মানুষের ভীড়ে মশা ওড়বারও জায়গা থাকেনা।
জাতিগতভাবে আমাদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তা যে এখনো অটুট সেটা এই জিনিস দেখলেই প্রমাণ হয়ে যায়। শতকষ্ট সহ্য করেও এই সময়টায় নিজের দেশের বাসায় হাজিরা দিতে উপস্থিত হন সবাই সময়মতো, কোনও হেরফের নেই। পথিমধ্যে যত যন্ত্রণাই সহ্য করতে হোক না কেন, বাসায় পৌঁছে আত্মীয়দের চিরচেনা মুখগুলো দেখার সাথে সাথেই মুখে অকৃত্রিম হাসি ফুটে ওঠে। আর আত্মীয়দেরও মুখে যাতে হাসি ফোটে সেজন্য এতটা পথ কুলির মতো বিভিন্ন উপহার বহন করে আনতেও কারও আপত্তি হয় না।

বাসমালিকরা সারাবছর পড়ে থাকা অচল বাসগুলোকে রঙচঙে মাখিয়ে নিয়ে আসেন পথে, রেলগাড়িতে যোগ হয় নতুন বগি, লঞ্চসার্ভিসেও আনতে হয় নতুন সংযোজন। দিন দিন বাড়তে থাকা জনসংখ্যার দেশে তবুও যেন চাহিদা মেটানো যায় না। চাহিদা আর মূল্যের নিয়ম মেনে তাই বেড়ে চলে টিকিটের দাম। সুযোগ বুঝে পাঁচশো টাকার টিকিটটাও দেড়-দুহাজারে বিক্রি হয় অনেক জায়গায়। তবুও উপায় নেই। নাড়ীর অবিচ্ছেদ্য টানে ছুটে চলা মানুষের কাছে টাকার চেয়ে আবেগের মূল্যটাই যে বেশী হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে কি? ভীড়ে যানবাহনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে চড়ে বসেন অনেকে, রোদে ভাজা ভাজা অবস্থা হয় তখন। তবুও এই অবস্থায় যদি কখনো টিভির ক্যামেরার সামনে পড়েন, মুখ থেকে হাসি ঝরে পড়বেই, আশ্চর্য এক জাতি এটা।

পথঘাটের অবস্থা ভালো থাকে প্রথম কিছুদিন, সরকারপক্ষের পক্ষ থেকে ঈদের আগে আগে হালকা মেরামত করা হয়। তবে সেগুলো তো আর খেটে খাওয়া মানুষের শরীরের মতো নয় যে ক্রমাগত যন্ত্রণা সহ্য করেও টিকে থাকবে। পাঁচটনী ট্রাকের জন্য তৈরী রাজপথ তাই দশটনী বাসের চাপে একসময় হার স্বীকার করে। পথে সৃষ্টি হয় ছোটখাট ডোবা, নালা, পুকুর আর ঢিবি, বৃষ্টির পানি জমলে মাছ চাষ করা যাবে হয়তো ওগুলোতে। পঞ্চাশ কিলোর পথ তখন ঝাঁকুনীর চোটে পাঁচশো কিলো মনে হয়।
আর আছে যানজট। রাস্তায় দিবারাত্রি চলতে থাকা গাড়িগুলোর দু’একটার মর্জি খারাপ হলেই শুরু হবে বিশাল জ্যাম, সেখানে ঘামতে ঘামতে জেলীর মতো অবস্থা হবে সবার। পাঁচ কিলো, দশ কিলো, ত্রিশ কিলো, পঞ্চাশ কিলো, জ্যাম কত বড় হবে বলা মুস্কিল।

দুর্ঘটনা যে ঘটে না তা নয়। এই বিশাল বয়ে চলা জনসমুদ্রে ছোটখাট ঢেউ না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। প্রায়ই বাস-ট্রাক সংঘর্ষ হয়, ট্রেনের ছাদে বসে থাকা লোকজন কখনো কখনো ব্রীজের গার্ডারে বাড়ি খেয়ে আহত নয়, লঞ্চডুবির ঘটনাও খুব কম নয়। তবুও কি বসে থাকা যায়? কোনওমতে পৌঁছতে পারলেই হলো, এতো বাছবিচার করার সময় কোথায়?
আবার একই চিত্র ঈদের পরে। তখন পেটের দায়ে ছুটে চলা। চাকরীর টানে, পড়াশোনার জন্য, প্রিয়জনদের ছেড়ে আবার আগের অবস্থানে। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর, বছরে দু’বার করে। দিনদিন দুরবস্থা বাড়ছে জনসংখ্যার সমানুপাতে।
তবুও ঈদ। তবুও আনন্দ। সবাই এবার ভালোমতো নিজের গন্তব্যে পৌঁছান, প্রিয়জনদের সাথেেআনন্দে সময় কাটিয়ে নিরাপদে আবার ফিরে আসুন, এই কামনা রইলো।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ১১:২৩

রসায়ন বলেছেন: ভাগ্যিস বিমানে অতিরিক্ত যাত্রী এলাউ না। নাহলে দেখতেন বিমানের ছাদেও মানুষ........ :`>

২| ১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ১১:৩১

কাইকর বলেছেন: সবার ইদ যাত্রা শুভ হোক।

৩| ১৪ ই জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: আহা ঢাকার বাতাসে ঈদের আমেজ!

৪| ১৪ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:২৩

মোঃ জিদান খান (অয়ন) বলেছেন: অবশেষে ঢাকা হলো ফাকা।
সময় পেলে ব্লগটি ঘুরে আসবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.