নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বান্দর হাটে, বান্দর গায়... সবাই তাকাইয়া দেখে, অবাক হইয়া চায়। মনের দুঃখ চোখের পানি, হারায় সব আনন্দ খেলায়!

উদাসী স্বপ্ন

রক্তের নেশা খুব খারাপ জিনিস, রক্তের পাপ ছাড়ে না কাউকে, এমনকি অনাগত শিশুর রক্তের হিসাবও দিতে হয় এক সময়

উদাসী স্বপ্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদ-১!

২৭ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৮

তার আগে নীচের লেখা গুলো পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো:
১) ইসলামে বাল্যবিবাহতার ওপর নিয়ম কানুন
২) ইসলামে পর্দা
৩) সৌদীতে ইসলামের নামে যা হচ্ছে
৪) ইসলাম ও বিজ্ঞানের আলোকে বাল্যবিবাহ
৫) ইসলামী অর্থনীতি

ইসলাম এখন একটা মাল্টি ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যাবসার নাম। ইসলাম বেঁচে কেউ নিজের আখের গোছাচ্ছে আবার কেউ ক্ষমতা বা পুরো দেশটাই দখল করে নিচ্ছে। আবার বিরোধী পক্ষরা ইসলামের নামে কুৎসা রটনা করে সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতিতে বিভিন্ন ভাবে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে। ফলাফল হলো সাধারন মানুষ মরছে, কষ্ট পাচ্ছে। দেখা গেলো ইসলামোফোবিয়ার কারনে কোনো সন্দেহভাজন ব্যাক্তির কাছে কোরান শরীফ পেলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে আবার কেউ যদি বলে ইসলামের নামে খুন হত্যা হারাম দেখা গেলো ইসলামিস্টরা তাকে মেরেই ইসলাম কায়েম করছে।

তেমনি প্রেক্ষাপটে আইএসআইএসের জন্ম। এরা প্রতিটা হত্যাকান্ড, গনধর্ষনকে জাস্টিফাই করার জন্য কোরানের আয়াত আর হাদিসের আশ্রয় নিচ্ছে। এদের প্রধান বোগদাদী সাহেব ইরাকের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক স্টাডিজে পিএইচডি করেছেন। সেহেতু বলা যায় এই লোকের দ্বারা পরিচালিত দল কখনো ইসলাম বিরুদ্ধ কাজ করবে না। এমনটা নাস্তিক বা যারা ঘোর ইসলাম বিরোধী তাদের মতামত।

তো এতো লোকের কান কথা না শুনে আসুন আমরা নিজেরাই জানার চেষ্টা করি কোরান, হাদিস, নবিজী সাঃ এর জীবনিতে কি আছে? তিনি কি আসলেই এত বর্বরতার কথা বলেছেন?

তার আগে কিছু কথা বলে নেই। এইসব যুদ্ধবিগ্রহ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিষয় যে টার্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত তাকে আমরা সবাই জিহাদ হিসেবেই চিনি। বলা হয়ে থাকে কোরান শরীফের ১০৯ টি আয়াত আছে যেখানে বলা আছে কিভাবে বিধর্মী বা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলা লোকজনদের কেমন করে শাস্তি দিতে হবে। এখন ১০৯ টি আয়াত নিয়ে আলোচনা একটা বিশাল ব্যাপার। কারন কোরানের আয়াত নিয়ে আলোচনা করটে গেলে নির্দিস্ট কিছু শর্ত লাগে:

১) কোরান যে প্রাচীন আরবী ভাষা রচিত সেটা সম্পর্কে সম্যক ধারনা রাখা।যদি ধারনা না থাকে তাহলে শব্দ গুলো যে মূল থেকে উৎপন্ন সে সম্পর্কে জানলে কোরানের শব্দগুলো সম্পর্কে জানা সহজ হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আমরা অনলাইনে উন্মুক্ত অনুবাদ এবং বিভিন্ন অনুবাদক ও প্রতিষ্ঠানের তৈরী কোরান শরীফের ব্যাকরন ও তাদের ভাষাবিন্যাসের গবেষনামূলক প্রকল্প সমূহ আমাদের জন্য স হজ করে দিয়েছেন।

২) কোরান শরীফের আয়াত সরাসরি মহানবী সাঃ এর ওপর অবতীর্ন হয়েছে এবং সব একবারে অবতীর্ন হয় নাই। বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এসব আয়াত অবতীর্ন হয়েছে। এখন দেখা গেলো ইসলাম বিরোধীরা কোনো একটা বাক্যাংশ তুলে ধরে যাচ্ছেতাই নিজের মতো করে বর্ননা করলেন, যেটা ঠিক নয়। আবার দেখা গেলো যুদ্ধের মধ্যে অবতীর্ন আয়াত দিয়ে পুরোপুরি জেনারালাইজ করা বোকামী। সেহেতু আগে পরের আয়াত এবং অবতীর্ন হবার সময় যেসব পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছিলেন সেগুলো বিবেচনা অবশ্যই রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে কোরানের তফসীর খুবই গুরুত্বপূর্ন।

৩) সূরা আল ক্বামারে চার বার (১৭,২২,৩২,৪০) বলা আছে

"আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? "

তার মানে কোরআন স হজ ভাবে লেখা হলেও নিজের চিন্তাভাবনা বিবেক বোধ দিয়ে পরিচালিত করার অবশ্যই একটা প্রয়াস আছে। আর সেজন্য আমাদের মহানবী সাঃ তার জীবনাবলি আর হাদিস সমূহ আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। সমস্যা হলো হাদিস সমূহ নবিজী সাঃ এর মৃত্যুর প্রায় ২০০-২৫০ বছর পর তাবেঈন, তাবেঈ তাবেঈনদের স্মৃতি ঘেটে সঞ্চালিত। তাই এর মধ্যে জাল বা জঈফ, আহাদিস স হ নানা প্রকারের সম্মিলন ঘটায় বেশ কিছু প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আমি আমার পোস্টে সবচয়ে গ্রহন যোগ্য হাদীস এবং কোরান শরীফের তাফসীরকে অনুসরন করবো।

কোরান শরীফের তাফসীর হিসেবে সবার আগেই ইবনে ইশহাক/হিশামের নাম আছে। যদিও গুটিকতক ইসলামিক স্কলার তার তাফসীর গ্রহন করেন নি। কিন্তু সুন্নী মাযহাবে উনার চেয়ে স্বীকৃত কোনো তাফসীর কারী নেই বলেই জানা। আর উনার লেখার সময়কালও ছিলো নবীজী মৃত্যুর ১৫০ বছরের মধ্যে। যদিও তার লেখাসমূহ বেশীরভাগ নষ্ট করে ফেললেও পরে তার ছাত্র ইবনে হিশাম তা পুনরায় সংকলন কিন্তু কিছু অংশ বাদ দিয়ে। ঐ অংশ সমূহ নিয়েও আলোচনা করবো, তবে আমি এটা শিওর ঐ অংশ নিয়ে কথা বললে ইসলামিস্টরা আমার গলা কাটতে চাইবে।

যাই হোক শুরু করি সূরা বাকারা দিয়ে। নাস্তিকরা যেসব আয়াত তুলে ইসলামকে সরাসরি জঙ্গিবাদের সাথে তুলনা করেন সেগুলার কিছু যুক্তিখন্ডন করি। আশা করি আপনারা যারা আলোচনায় আগ্রহী তারা এই পোস্ট সংশ্লিষ্ট আয়াত আর তার তফসীর নিয়েই আলোচনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী এবং ক্ষমাশীল, এবং তিনিই সবচেয়ে বড় হেদায়েত দান কারী।

কোরানের বাংলা অনুবাদের আশ্রয় আমি এখান থেকে নিয়েছি।
আর তাফসীরের জন্য এই লিংক ফলো করতে পারেন। কারো কাছে আরো ভালো লিংক থাকলে অবশ্যই কমেন্টে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। এবং আমার তাফসীর বা অনুবাদ বা ব্যাখ্যায় ভাষাগত ভুল থাকলে অবশ্যই কমেন্টে তা আলোচনা করবেন উপযুক্ত রেফারেন্স দিয়ে।

আয়াত ১৯০ থেকে ১৯৩:

আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি।আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।

তফসীর কারীদের মতে এই আয়াতটি রহিত। এটি যে আয়াত বা আয়াত সমূহ দিয়ে রহিতকরন করা হয়েছে সেটা হলো সূরা তওবার ৫ নম্বর। আসুন আমরা দেখি সূরা তওবার ১-৫ নম্বর আয়াত কি বলেছে:

সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন। আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও। তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সূরা বাকারার ঐ আয়াত সমূহ মদিনায় হিজরত করার পর প্রথম জিহাদে অংশগ্রহন করার দিক নির্দেশনা হিসেবে নাযিল হয়েছিলো। পরে এটি সূরা তওবার ৫ নম্বর আয়াত দিয়ে রহিত করা হয়। কিন্তু এখানে এটি বিবেচ্য বিষয় নয় কারন নবীজী সাঃ কখনো ঐসব লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন না যারা তারা বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো না। এই আয়াতটি শুধু উৎসাহব্যান্জ্ঞক হিসেবেই অবতীর্ন হয়েছিলো কারন যখন হিজরত করেন তখন তার অনুসারীরা অনেকটা নিস্পৃহই ছিলেন। যেসব মুশরিকরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটাই যুক্তি এবং ন্যায় সঙ্গত। এখন কেউ যদি কথা নাই বার্তা নাই এই রহিতকরন আয়াত দিয়ে ঠুসঠাস মেরে দেয় তাহলে কিছু বলার নেই। কারন নিজের জান মালের হেফাজত আর অধিকারের জন্য লড়াই করা এটা মানুষের মৌলিক অধিকার।

তবে তারপরও অনেকেই বলবে,"আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে।" এসব কুযুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি দুটি:

১) এই আয়াত রহিত। শুধু পড়বার জন্যই কোরানে রাখা হয়েছে।
২) সূরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াত,
"নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন। "
তার মানে সমবেতভাবে যুদ্ধ করা হয়েছে যদি তারাও সমবেতভাবে যুদ্ধ করে।

সূরা আল বাক্বারাহ (মদীনায় অবতীর্ণ), আয়াত সংখ্যা ২৪৪:

"আল্লাহর পথে লড়াই কর এবং জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছু শুনেন।"

তাফসীর: এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো ওয়াসাতের দিকে সুপ্রাচীন যাওয়ারদান বা মতান্তরে আযরাআত নামক গ্রামের লোকজনদের ওপর। ওখানকার অধিবাসীদের সংখ্যা নিয়ে মতাপার্থক্য থাকলেও একদা ঐ গ্রামে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয় এবং সেই ভয়ে তারা গ্রাম পরিত্যাগ করা শুরু করেছিলো। তারা যখন আরেকটি গ্রামে উপস্থিত হয় তখন আল্লাহর নির্দেশে সবাই মারা যায়। এর বেশ কিছুকাল পর যখন তাদের মৃত দেহগুলো মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিলো, অস্থি সমূহ ক্ষয় হয়ে যাচ্ছিলো এমনকি উক্ত উন্মুক্ত স্থানের আশেপাশে নতুন বসতিও গড়ে উঠছিলো, তখন তার পাশ দিয়ে বনী ইসরাঈলের হিযকীল নামের এক নবী যাচ্ছিলেন। তিনি এসব দেখে আল্লাহর কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করেন তাদেরকে জীবিত করে দেবার জন্য এবং মহান আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে জীবিত করে দেন। এটা ছিলো তার নিদর্শন যে কেয়ামতের পর আরাফাতের ময়দানে কিভাবে আমাদেরকে রক্তমাংসে জীবিত করবেন শেষ বিচারের জন্য। এই আয়াতটি এটাই বলতে চেয়েছেন আল্লাহ চাহে তো সব কিছু করতে পারে। কখনো পরিত্যাগ করো না। তেমনি যুদ্ধে ময়দানেও আল্লাহর পথে যুদ্ধে গেলে পিছু হটতে নেই।


সুরা বাকারা আয়াত ২১৬-২১৮:

তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।আর এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জেহাদ) করেছে, তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী করুনাময়।

ইসলামবিরোধীরা যা বলে: নবী সাঃ তার ৭-৮ জন সাহাবীদেরকে একটা পত্র দিয়ে পাঠিয়ে দেয় কুরাইশ যাত্রীদের গতিবিধি জানার জন্য। বলা হয়েছিলো দুই দিন দুরত্ব পথ অতিক্রম করে ঐ চিঠিটা পড়তে। পরে উক্ত ৭-৮ জনের দল যখন জায়গা মতো পৌছায় তখন তারা কুরাইশদের কিছু মালটানা গাড়ী দেখতে পায়। ঐসব কুরাইশদের মধ্যে একজন টাকলা ছিলো। তাকে দেইখা মনে করছিলো যে ব্যাটা তীর্থযাত্রী। তখন সাহাবীরা লোভে পইড়া দুই জন বাদের সবাইরে হত্যা করে এবং তাদের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে আসে। পরে ওসব জিনিস ৫ ভাগ করে একভাগ নবিজী সাঃ কে দিয়ে জিজ্ঞেস করে এই খুন ডাকাতী ইসলাম সম্মতকিনা। তখন নবিজী সাঃ এক হাকাও আয়াত নাজিল কইরা সেটা জায়েজ করে এবং কুরাইশদের পরে খবর দেয় তোমাগো দুইটারে পাইছি, অখন কি করুম? তখন কুরাইশরা প্রথমে বলে তোমরা পবিত্র রজব মাসে হত্যা করবানা বইলা কথা দিছিলা। কথা ভঙ্গ করছো। তখন নবিজী সাঃ নাকি বলে, প্যাচাল কম, হয় কিছু দিয়া এগো ছুটায়া নাও নাইলে মারলাম। তখন কুরাইশরা দুজন মুসলমানদের বিনিময়ে তাগো দুইজনরে ছাড়ায়া নেয়। (আস্তাগফিরুল্লাহ)

আসল কাহিনী: উপরের বর্ননাটা নাস্তিক বা ইসলামবিরোধীরা আরও মনের মাধুরী মাখায়া বলে, পারলে আরও কিছু যুক্ত করে, কিন্তু কাহিনী আসলে তা হয় নাই। সেটা তাফসীর পড়লেই বুঝতে পারবেন

হযরত মুহাম্মদ সাঃ ৭ জন মুহাজীর সাহাবীর একটা দলের প্রধান হিসেবে হযরত আবু উবাইদা বিন জাররাহ রাঃ নির্বাচিত করেন। কিন্তু অভিযানের কারনে নবিজী সাঃ এর থিকা দূরে থাকতে হবে এই দুঃখে কান্নাকাটি শুরু করলে হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ রাঃ কে তার স্থলাভিশিক্ত করেন। ৭ জনের নাম দিলাম না, পোস্ট বড় হবে। জাহাশ রাঃ কে নবী সাঃ একটা চিঠি দিয়ে বলেন দুদিন দুরত্ব পার করলে ঐ চিঠি যেন খুলে পড়া হয়। যাই হোক অভিযাত্রী দল হাটা দিলেন, দুইদিন পর বাতেনে নাখলা স্থানে পৌছাবার পর সে চিঠি খুলে পড়তে থাকেন যেখানে লেখা ছিলো নাখলা নামক জায়গায় অবস্থান করে কুরাইশদের গতিবিধি সম্পর্কে খবরাদি সংগ্রহ করতে এবং সহযাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন আমি পড়লাম এবং তা পালন করবো। আর যারা এই অভিযানে অংশগ্রহন করতে চায় না তারা যেনো ফিরে যায়। তো এক জায়গায় লেখা আছে ২ জন ফিরা গেছে আবার এই তাফসীরে বলা আছে কেউ যায় নাই। এর মধ্যে তাদের মধ্যেকার দুজন নিজেদের ঘোড়া হারায়া ফেলে। যাই হোক। একটা উপযুক্ত স্থানে অবস্থান করলে তারা একটা মরুযাত্রীদলের দেখা পায় যারা কোরাইশদের অন্তর্ভূক্ত। এদের মধ্যে একজন মুক্ত দাসীও ছিলো। যাই হোক ঐ মরুযাত্রীদল যখন এই মুহাজীর সাহাবীদের দল দেখতে পায় তখন তারা ভয়ে সঙ্কিত হয়ে যায়। তখন মুহাজীর সাহাবীদের মধ্যে উকাসা বিন মিহসানের মাথা টাক দেখে কুরাইশরা শন্কামুক্ত হয় এই ভেবে যে এরা মনে হয় ওমরা হজ্জ্ব করা দল, মানে তীর্থযাত্রী।এরা কোনো ক্ষতিসাধন করবে না।

উল্লেখ্য ঐ মরুযাত্রীদল শুস্ক কিশমিশ যা মক্কার আঙ্গুরের বাগানে চাষকৃত, খাদ্যদ্রব্যাদী আর বিক্রি করার জন্য জিনিসপত্র ব হন করছিলো তাদের ভারবাহন কারী গাড়ীতে।এদিকে মুহাজীররা জানতো না আজকে কুন দিন। আর তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলো যে আল্লাহর নামে এদের ছেড়ে দিলে এরা পবিত্র জায়গায় প্রবেশ করবে এবং তোমাদের থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেবে। আর যদি মারো, তাহলে পবিত্র মাসেই মারা হবে।

মুহাজীর সাহাবীরা তাদেরকে মারতে চাইতেছিলো না। তাই নিজেদেরকে একে অপরকে সাহস দিতেছিলো এসব অবিশ্বাসীদের মেরে তাদের জিনিসপত্র নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নিতে। কিন্তু এরই মধ্যে ওয়াক্কিদ ইবনে তামিম একটা তীর ছুড়ে মারে এবং ঐ তীরে বিদ্ধ হয়ে কুরাইশ আমীর বি হাদামী জায়গায় মারা যায়। এটা দেখে দুজন সারেন্ডার করে আরেকজন ধস্তাধস্তি করে জায়গায় পটল তুলে। পরে ঐ দুজন স হ যাবতীয় মালামাল আর মালবহনকারী গাড়িটি মুহাজীর সাহাবীরা নবিজী সাঃ এর কাছে নিয়ে আসে এবং এই অভিযান থেকে সংগৃহিত মালামালের ৫ ভাগের এক ভাগ তাকে দিতে চাইলে নবিজী সাঃ প্রথমেই বলে, আমি তোমাদের পবিত্র মাসে যুদ্ধ করতে বলি নাই।

এই কথা বলার পর সাহাবীরা কান্নায় মুশরে পড়ে এই ভেবে যে তারা ইসলাম থেকে বরখাস্ত হয়ে গেলো বুঝি। তখন মহান আল্লাহপাক সুরা বাকারার এই আয়াত সমূহ নাজিল করে। মূলত কুরাইশ যুদ্ধ বন্দিদের ধরে নিয়ে আসলে ইহুদীদের মাধ্যমে কুরাইশরা জানায় যে তোমরা চুক্তি ভঙ্গ করেছো, পবিত্র মাসে তোমরা যুদ্ধ করেছো। মূলত ঐদিন ছিলো রজবের প্রথম রাত্রী আর জামিদিউল উখরার শেষ রাত্রী। মুহাজীরগনের এই সময়টা তাদের মাথায় ছিলো না। তখন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন যার সারমর্ম হলো "এই মাসগুলোতে যুদ্ধ করা হারাম বটে কিন্তু হে মুশরিকরা! তোমারাদের মন্দ কার্যাবলী মন্দ হিসেবে এর চেয়েও বেড়ে গেছে।তোমরা আমাকে অস্বীকার করছো।তোমরা আমার নবী সাঃ ও তার সহচরদেরকে আমার মসজিদ হতে প্রতিরোধ করছো।তোমরা তাদেরকে সেকান হতে ব হিস্কৃত করেছো। সুতরাং তোমরা ঐ সব কার্যাবলীর দিকে দৃষ্টিপাত করো যে সেগুলো কতটা ঘৃন্য।" ইতিহাস কিন্তু তাই বলে যে এই নিষিদ্ধ মাসগুলোতেই কিন্তু নবিজী সাঃ আর সহচরদের উৎখাত করেছিলো মুশরিকরা।


তার মানে এই অভিযানে যা ঘটেছিলো তার পেছনে যেসব যুক্তি সমূহ:
১) দুটো হত্যাকান্ড ইচ্ছাকৃত ছিলো না।
২) এই পবিত্র মাসে নবিজী সাঃ আর তার সহচরদেরকে নিরস্ত্র অবস্থায় তাদেরকে বিতাড়িত করেছিলো।

_______________

যাই হোক, আজ এ পর্যন্তই, পরবর্তী পর্বে নতুন আয়াত সমূহ আর ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:৫৮

আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ বলেছেন: একটি আয়াত আরেকটাকে (পরেরটা আগেরটাকে) রহিত(বাতিল) করে দিচ্ছে অথচ আল্লাহর দাবি তিনি সবকিছু (সব কাল) জানেন(?)

২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:০৮

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: এর পেছনে কোরানিস্ট বা ইসলামিস্টদের যুক্তি হলো কোরান যখন অবতীর্ন হয় তখন একসাথে অবতীর্ন হয়নি। অবতীর্ন হয়েছে যখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো এবং যখন যেটা দরকার। যেহেতু কোরান আল্লাহ কর্তৃক লিখিত এবং হেফাজতকৃত (মুসলমানরা তাই বিশ্বাস করেন), সেহেতু এর পরিপূর্ন অনুধাবনের জন্য রাসুলুল্লাহ সাঃ এর আবির্ভাব ঘটিয়েছেন।

সেজন্য তৎকালীন পরিস্থিতিতে যখন ইসলামিক আইন বিধান করা নিতান্তই দুঃসাধ্য এবং প্রানঘাতী বৈকি তার সাঠে পরিস্থিতিও অনুকূল ছিলো না সেহেতু কিছুটা শিথিল যোগ্য আয়াত নাজিল হয় এবং পরে যখন পরিস্থিতি অনুকূলে আসে তখন আগের শিথিলিকৃত নিয়মকানুন রহিত করা হয়।

এর চেয়ে বেশী আল্লাহ তাআলাই জানেন।

এখন আমি যদি নাস্তিকদের দিকে তাকাই তাহলে তারা এই কথাটা বলেন যে কোরান যদি সত্যিকার ভাবেই আল্লাহ নিজে লিখে থাকেন এবং তা সম্পূর্ন ভাবে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত করা থাকে মানবজাতীর আগমনের পূর্বেই তাহলে কেমনে সূরা লাহাব আর এসব রহিত করন আইন আসবে? হয় কোরান ইনস্ট্যান্ট লেখা হইছে এবং সাহাবীদেরকে পড়ে শোনানো হয়েছে নাহলে জিনিসটা পুরাই গান্জ্ঞা।

এখন আপনার উপর নির্ভর করছে আপনি কোনটা বিশ্বাস করবেন

২| ২৭ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:৩৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: উদাসী স্বপ্ন ,



কোরান যে প্রাচীন আরবী ভাষা রচিত সেটা সম্পর্কে সম্যক ধারনা রাখা।যদি ধারনা না থাকে তাহলে শব্দ গুলো যে মূল থেকে উৎপন্ন সে সম্পর্কে জানলে কোরানের শব্দগুলো সম্পর্কে জানা সহজ হবে।

সুন্দর লিখেছেন । কেউ যদি নিজেকে জ্ঞানী বলে ভাবেন তবে তার এরকমটাই ভাবা উচিৎ । উপরের লাইন দু'টি যথার্থ । কারন
কোরান শুধুই প্রাচীন নয়, ক্লাসিকাল আরবী ভাষায় রচিত । মূল শব্দধাতু জানা না থাকলে আর আগে পিছের আয়াত সমূহ মিলিয়ে না বুঝতে পারলে কোনও একটি শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ উল্টে যেতে পারে । এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাই-ই হয় । একেকজন একেক রকম অর্থ করেন ।
দেখবেন, কোরানে অনেক সুরায় কিছু আয়াতের পরে পরেই লেখা আছে , " ইহাতে রহিয়াছে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন " । খেয়াল করুন --- জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন সাধারন মানুষজনদের জন্যে নয় । ঐসব আয়াতের সত্যিকারের অর্থ সাধারন মানুষের বোধের বাইরে । তাই জ্ঞানী হতে হবে আগে যদি কেউ কোরান এর আয়াত সমূহের সত্যিকারের অর্থ বুঝতে চান ।

২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:০৯

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: আপনার বক্তব্যের সাথে ১০০ ভাগ স হমত

৩| ২৮ শে জুন, ২০১৬ রাত ১:৫১

কালনী নদী বলেছেন: B:-)

২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:০৯

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: কি?

৪| ২৮ শে জুন, ২০১৬ ভোর ৪:১১

মহা সমন্বয় বলেছেন: এই মহান বিজ্ঞানী হঠাৎ বিজ্ঞান ছেড়ে ইসলামের পিছনে লাগল কেন? B:-)
ফিজিক্স,ক্যামেস্ট্রি বাদ দিয়ে কেনই বা কোরান হাদিস নিয়ে গবেষণা শুরু করল? :-<
ভাবতে হবে গভীরভাবে ভাবতে হবে |-)

ওহহ আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম - কোরানই তো হচ্ছে পৃথিবীর সর্বোচ্চো বিজ্ঞান, শুধু তাই নয় সমস্ত বিজ্ঞানের বিগ্যান হচ্ছে মহা গ্রন্থ আল কোরআন :-B B:-)
ইহুদী নাসাড়ারা এই কোরান গবেষণা কইরা তো বড় বড় কত কিছু আবিষ্কার করে ফালাইলো :|| আর আপনি কোরান নিয়ে সবেমাত্র গবেষণা শুরু করলেন? আফসুস আপনার জন্য। :(

২৯ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:১২

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: পাইলাম একজনরে। যাই হোক একটা প্রশ্ন করি, কোরাইশদের কাফেলাকে ভুলবশত এবং ইতস্তত আক্রমনকে আপনি কি চোখে দেখেন এবং আয়াতের মাধ্যমে নবিজী সাঃ এর এক পন্ঞ্চমাংশ মাল হরফ এবং কোরাইশদের সাথে বন্দি বিনিময় এবং সাহাবাদের এহেন কর্মকে প্রশ্রয় দেয়াটাকে কি সমর্থন করেন?

সূরা তওবার আয়াতগুলো সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

৫| ৩০ শে জুন, ২০১৬ রাত ১:২০

Jahirul Sarker বলেছেন: ভাই যদি বলেন আওয়ামিলীগ তাহলে আপনারে ধরবে জামাত-বিএনপি, যদি বলেন জামাত-বিএনপি তাহলে আপনারে ধরবে আওয়ামিলীগ আর যদি বলেন আপনে নিরপেক্ষ যে ভাল করবে তার সাথেই আছি তাইলে তো কাম সারছে সবাই মিলে এমন জাতা দিবে যে................
কই যাইবেন?
যাহোক আপনার পোষ্ট খুব ভালো হইছে। এই অস্থির সময়ে প্রয়োজন গণ সচেতনতা আর তার জন্য প্রয়োজন গঠনমুলক আলোচনা
যা আপনার লেখায় এসেই যায়। তাই চালিয়ে যান ।

৩০ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: আলোচনা আরো হওয়া উচিত। সব পক্ষ থেকেই। আমরা আলোচনা করি না বলেই যে যার ইচ্ছা মতো ইসলামকে এক্সপ্লোয়েট করে, সমালোচনা করে, বিপথে যায়। আমি অবশ্য এটাও এক্সপেক্ট করি না সবাই ইসলামের পথে আসবে। কিন্তু আমি চাই আজকে যে মানুষটা নাস্তিক হবে সে যেনো ইসলাম সম্পর্কে জেনে নাস্তিক হোক। যাটে করে আমরা বেশি বেশী করে নিজের আত্মসমালোচনা করতে পারি আরো ভালোভাবে জানতে পারি।

হাজার বছর ধরে ইসলামকে চাপিয়ে দেয়ার ফলেই আজ ইসলাম নিয়ে এত কাহিনী শুরু হইছে এবং সারা বিশ্বময় ইসলাম মানেই সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। লোকসান কিন্তু হচ্ছে আমজনতারই

৬| ৩০ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৭

জেন রসি বলেছেন: এইটা পড়েন। আপনার পোস্টের সাথে প্রাসঙ্গিক মনে করায় দিলাম। এই ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

৩০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:০২

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: আইএসআইএস সম্পর্কে বেশ গভীর থেকে টেনে তুলে আনা যদিও কিছু তথ্য বাদ গেছে সেটা হলো আইএসআইএস গ্রুপটির উথ্থান। এটা নিয়ে প্রথম আলোতে খুব ভালো একটা আর্টিক্যাল ছিলো। এমনকি সেই আর্টিক্যালে এটাও লেখা ছিলো কেন ওদের হাতে জার্মান স্পেশাল ফোর্সের অস্ত্র এবং আমেরিকান সৈন্যদের ব্যাব হার করা ট্যাংক থেকে শুরু ভারী আর্টিলারী কিভাবে ব্যাব হার করছে এবং ওদের অর্থের উৎসই বা কোথায় আর এরদোগানের দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পেছনে কাদের লবিং কাজ করেছে।

যাই হোউক, তবুও বলবো পোস্ট টা প্রচন্ড তথ্য সমৃদ্ধ এবং খুবই উপকারী।

আমার এই পোস্ট কোনো গোস্ঠিকে লক্ষ্য করে না বরংচ ইসলামিক আইডোলজীতে আসলে কি আছে সেটাই জানার ইচ্ছে।

এই যে ধরেন একটা সময় পর্যন্ত শুনতাম নাস্তিকরা নবিজীকে পেডোফাইল এবং ইসলামে বাল্যবিবাহ আছে কি নাই সেটা নিয়ে তীব্র গালাগালি। এদিকে মুসলমানরা অনেকে বলতো ইসলামে বাল্যবিবাহ নাই আবার অনেকে বলতো বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজ এবং রাস্ট্রের জন্য ভালো। এদের মধ্যে অনেক উচ্চশিক্ষিত এমনকি ডাক্তারী পেশায় নিয়োজিত ডাক্তারও আছেন।

কিন্তু যখন বিষদভাবে লেখা পড়া হলো তখন আমরা সবাই ক্লিয়ার হলাম যে বাল্যবিবাহ ইসলামে জায়েজ এবং সন্দেহাতীত ভাবে ভালো পাত্র পেলে এবং ঐ শিশুর মাতাপিতা যদি রাজী থাকেন আর শিশুটি রাজী থাকলে তাকে বিয়ে দেয়াটা সুন্নত এবং পাত্রের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ফরজও হয়। কিন্তু এই কথাটা আমরা যে কোনো কারনেই হোক স্বীকার করতে ভয় পাই।

এরকম আধুনিক সমাজের প্রেক্ষিতে ইসলামের নীতি সমূহ ভালো হোক মন্দ হোক সেগুলো নিয়ে সুস্থ আলোচনা প্রয়োজন। যদিও আমরা সবাই জানি এখন িসলাম নিয়ে সুস্থ আলোচনা পক্ষ বিপক্ষ যেই আলোচনা করবে সে যদি দেশে থাকে তাহলে কোপানী শিওর। কিন্তু এটা আরও অসুস্থ সময়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের অবস্থা ভয়ংকর এবং দেশের মুসলমানদের এসব পাপের সাজা ইউরোপে থাকা মুসলমানরাও পাওয়া শুরু করেছে।

যাই হোক, আমি চাই আপনারা যারা মুক্তমনা বা নাস্তিক তারাও এগুলো নিয়ে আলোচনা করুন, তবে ভদ্র এবং সুস্থ ভাবে। যদি মনে করেন যুক্তিসমূহ গ্রহন যোগ্য নয় তাহলে সে মতামত সেভাবেই দিবেন। যারা আস্তিক বা ইসলামিক বেত্তা তারাও এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন, যুক্তির ঝাপি খুলে বসবেন।

তবেই তো মানুষ আরো সুন্দর ভাবে বুঝতে পারবে আসলে ইসলামটা কি? কেউ যদি মনে করে ইসলাম পিস অব শিট তাহলে সে নাস্তিক হোক। আবার যে মনে করবে না যা বলা আছে তা অবশ্যই সুন্দর, তা যেমন একজন সাধারন মানুষের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব এমনকি আমার নিজের কন্যা যে আজ জন্ম নিলো তার জন্যও মঙ্গলময় হবে সেও এই পথে জেনে প্রবেশ করুক। তখনই কিন্তু গালাগালির কোনো দরকার নেই, অস হিষ্ণুতার অবসান ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

আমি চাই আলোচনা হোক, সুস্থ আলোচনা সেটা যেভাবেই হোক

৭| ০১ লা জুলাই, ২০১৬ রাত ১:০৪

মহা সমন্বয় বলেছেন: উদাসী ভাই আমার এইসব বিষয়ে কঁচলাইতে আর ভাললাগে না। আপনি পোস্ট করেছেন ভাল হইছে। আশা করি জিহিদীরা আপনার পোস্ট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। :)
আবার দেইখেন উ্ল্টা আবার আপনার কল্লা না কাইটা ফালায়। :-P

০১ লা জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৩৫

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ঐ ক্যারফা কাটানির জন্যই এমুন পোস্ট দিতাছি! অখন আমি হুজুর

৮| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: যাই পরের পর্ব পড়ি :)

++++

১৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:১৮

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ধইন্যাপাতার শুভেচ্ছা লন

৯| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮

শহিদুল বলেছেন: "এই আয়াত রহিত। শুধু পড়বার জন্যই কোরানে রাখা হয়েছে।"

সংবিধান শুধু পড়ার জন্য লেখা হয় জানা আছিল না!

"কারন নিজের জান মালের হেফাজত আর অধিকারের জন্য লড়াই করা এটা মানুষের মৌলিক অধিকার।"

ব্যক্তির নিজের শত্রুকে যদি গোষ্টির শত্রু বলে বোঝানো হয় তাহলে কিছু মানবিক সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:২০

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: কোরান শরীফে এরকম অনেক আয়াতই রহিত করা হয়েছে যা পরে রেখে দেয়া হয়েছে শুধু তেলাওয়াতের জন্য। অনেক সূরার আয়াতের পেছনে তৎকালীন জিওপলিটিক্স এবং সামাজিক ব্যাবস্থা বেশ বড় একটা ভূমিকা রেখেছে। তবে এটা কি জন্য করেছেন সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয় লাইনটির ব্যাপারে একমত। তবে সিরিজটা এখনও অসম্পূর্ন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.