নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ফয়েজ উল্লাহ রবি

ফয়েজ উল্লাহ রবি › বিস্তারিত পোস্টঃ

পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা!

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৫


ধীরে ধীরে আমরা আধুনিক হচ্ছি, শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু মানুষ হওয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি মনে করি এর পেছনে পারিবারিক শিক্ষার অভাবই মূল কারণ সাথে সামাজিকতা! যা দেখে আমরা শিখছি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সনদধারী হওয়া সহজ কিন্তু মানুষ হতে গেলে পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই। আমার মতে ‘পৃথিবীর সব চেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে পরিবার, আর সব চেয়ে বড় শিক্ষক হচ্ছে মা’।আগে পরিবারের সবাই এক সাথে বসবাস করতো এই থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারতাম, এখন পরিবার ছোট থেকে ছোট হচ্ছে আর আমাদের বাচ্চাদের পৃথিবীটাও আমরা ছোট করে দিচ্ছি। একটা সীমানার মাঝে ওদের বন্দি করে রাখছি, রুটিন মাফিক একটা যান্ত্রিক জীবন উপহার দিচ্ছি।

শুধু মাত্র পারিবারিক শিক্ষায় ক্যারিয়ার গড়া যাবে না সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাও খুব জরুরী, কিন্তু বর্তমানে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেয়া হয় তাতে আমাদের শিক্ষার হারই বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু শিক্ষিত মানুষের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বাচ্চাকে ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে হবে, শুধু পাশ করতে হবে, ক্লাশে রুল নাম্বার এক হতে হবে, এই চিন্তাই থাকে পিতা-মাতা বা পরিবারের সবার মাথায়। যখন ছাত্র এই সব করতে না পারে তখন চাপ বৃদ্ধি করা হয়, কয়েকটা কোচিং এর ব্যবস্থা করা হয় আর স্কুল যাওয়ার আগে কোচিং স্কুল ফেরত আসার পর অন্য কোচিং আর সন্ধ্যার পর আরেক কোচিং বাচ্চার খেলাধুলার সময়টা কোচিং এর মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে ইদানিং মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব, আইপ্যাড এই গুলোর শিক্ষার উপকরণ বলে চালিয়ে দিচ্ছি কিন্তু একবারও কি খোঁজ নিচ্ছি আমাদের বাচ্চারা এই সব থেকে কি শিক্ষা নিচ্ছে । আর সাথে ৩ থেক ৫ কেজি ওজনের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দিচ্ছে, ব্যাগের বোজা বইতে বইতে বাচ্চাটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেনা। এতো রকমের চাপ অনেক বাচ্চাই বহন করতে পারেনা এবং এই থেকে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরছে, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করলে কেউ কেউ আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
আমাদের আগামী প্রজন্মকে “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাটার গুরুত্ব দিতে হবে” তাবেই উত্তম প্রজন্ম সৃষ্টি হবে যারা আগামী দিনে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তা না হলে বর্তমানে যে দুর্নীতি পরায়ন “জনগোষ্ঠি!” (যার পরিমান সামান্য যারা আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন) নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি আঁধারের দিকে সেখান থেকে বাহির হওয়া যাবে না।

আমি সৌদিতে কম্পিউটার ব্যবসায় জড়িত, কম্পিউটার মেন্টেনেস এর কাজ করে থাকি গত কাল দোকানে অনেক কাষ্টমার আসে কম্পিউটার মেন্টেনেস করার জন্য দিয়ে যায় আবার অনেকে উনাদের কম্পিউটার নিয়ে চলে যায় কিন্তু কে যেন হাতের ছোট একটা ব্যাগ ভুলে রেখে যায়, প্রচুর ব্যস্তছিলাম তাই আধা ঘন্টা পর তা আমার নজরে আসে ব্যাগটি আসলে কার তা সঠিক ভাবে নিশ্চত হতে পারতেছিনা, ব্যাগ খুলে দেখতে চেষ্টা করলাম কোন আইডি পেলে তো ছবি দেখে চিনতে পারবো এবং তাই হলো সৌদি সামরিক বাহিনীর এক সদস্যের ব্যাগ যিনি মাগরিবের পরে দোকানে এসেছিল, তার ব্যাগে ৪ হাজার রিয়ালের মতো যা বাংলাদেশী টাকায় ৮০ হাজারের উপরে,সাথে আইফোন ৭, একটি গাড়ীর চাবি, এবং অন্যন জিনিসপত্র, কম্পিউটার নেয়ার সময় ম্যামু করেছিল, সেখান থেকে ২/৩ জনকে ফোন করে তার পর নিশ্চিত হয়ে ব্যাগের আসল মালিককে পেয়েছি, এবং দোকার বন্ধ করার আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে উনার ব্যাগ উনাকে ফেরত দিয়েছি, এই শিক্ষাটা আমি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নয় আমার পরিবার থেকে পেয়েছি।

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৫

অনন্য দায়িত্বশীল আমি বলেছেন: সবার আগে প্রয়োজন পারিবারি শিক্ষা নচেৎ কোন শিক্ষাই কাজে লাগবেনা।

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১৪

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: আমার মতে- ‘পৃথিবীর সব চেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে পরিবার, আর সব চেয়ে বড় শিক্ষক হচ্ছে মা’। ধন্যবাদ।

২| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


বর্তমানে, আমাদের দেশের ৪০% পরিবারের শিক্ষিত মানুষ নেই, তারা তাদের সন্তানদের কি শিখাবেন? শিক্ষিত পরিবারের ছেলেমেয়েরা পরিবার থেকে বড় সাহায্য পাচ্ছে, দরিদ্র পারিবার ছেলেমেয়ের জন্য তেমন কিছু করতে পারছেন না।

বিশ্বের সবাইকে ফ্রি পড়ালেখা করাতে হবে; কমপক্ষে বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশের সবাইকে।

একজন ব্যাচেলর সবকিছু থেকে শিখতে পারেন।

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:০৬

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: আমার কাজিন নানী (মানে আমার আম্মার খালা) রাতের পর রাত হাতে বেত নিয়ে বসে থেকে মামা খালাদের পড়াতো, সব গুলো বই পড়া হলেই ঘুমাতে দিত, আমার মামার ইস্কুলের শিক্ষক এই ব্যাপারটা অনেক বার দেখেছেন এবং উদাহরণ দিতেন নানুর এই শ্রমটাকে ন্যাপলিয়নের বিখ্যাত উক্তির "তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।" নানুর মাঝে শিক্ষক সেই মাকে খুঁজে পান। কিছু দিন পর কি কাজে যেন নানুর সাক্ষর প্রয়োজন পরে শিক্ষক মামাকে ডেকে নানুর সাক্ষর নিতে বললে মামা বলেন- মা তো সাক্ষর দিতে জানে না টিপসই হলে হবে কিনা। মামা এখন একজন সফল ব্যাংকার, এর পেছনে শুধু নানুর একার শ্রমই বেশি দাবিদার।

দেশের ৪০% মানুষ শিক্ষিত নয় তা ঠিক আমি কিন্তু এই শিক্ষার কথা বলতে চাইনি,
"কখনো চুরি করবেনা, কারো হক লুটবেনা কাউকে ধোকা দেবেনা এই শিক্ষা দেয়ার জন্য শিক্ষিত হওয়া লাগেনা, ভালো মানুষ হলেই চলবে, দূর্নীতি মূখ্য মানুষ করে না, যারা করে তারা শিক্ষিত সমাজের উপরের তলারই মানুষ, যারা পারিবারিক সঠিক শিক্ষা পায়নি।
ধন্যবাদ।

৩| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৫১

ফেরদৌসা রুহী বলেছেন: পারিবারিক শিক্ষার ভিত যত মজবুত হবে ততই মংগল।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে অনেক পার্থক্য।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৪

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প কিছুই নেই।
ধন্যবাদ।

৪| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আমাদের আগামী প্রজন্মকে “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাটার গুরুত্ব দিতে হবে” তাবেই উত্তম প্রজন্ম সৃষ্টি হবে যারা আগামী দিনে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।" আপনার এই মন্তব্যটা খুবই প্রাসঙ্গিক আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে | শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রযুক্তিগত শিক্ষাই শেষ কথা নয় | দ্বিতীয় যুদ্ধ সময়কালীন জার্মানি প্রাতিষ্ঠানিক আর প্রযুক্তিগত বিদ্যায় কারো চেয়ে কিন্তু পিছিয়ে ছিল না | কিন্তু সেটা তাদের বিশ্ব্যব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করা বা হলোকাস্ট -এর মতো ন্যাক্কার জনক কাজ থেকে থামাতে পারেনি | মূল পয়েন্টটা হলো, পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাটার গুরুত্ব দিতে হবেই ভালো একটা সমাজ/জাতি গড়তে হলে |

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৩০

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: জ্বী এটাই বলতে চেয়েছি-
মূল পয়েন্টটা হলো, পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাটার গুরুত্ব দিতে হবেই ভালো একটা সমাজ/জাতি গড়তে হলে |

৫| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০০

সুমন কর বলেছেন: ভালো বলেছেন। +।

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ২:২৯

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: অজস্র ধন্যবাদ প্রিয়।

৬| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৫৮

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: সামাজিক শিক্ষা এখন আর সেভাবে নেই। কারণ, এখন বুদ্ধিজীবিদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। আর এরা সমাজকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিচ্ছে। এখন দরকার একমাত্র পারিবারিক শিক্ষা। পরিবারের সব সদস্য যদি ভালো হয়, তাহলে সমাজও ভালো হয়ে যাবে...

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২২

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: পারিবারিক শিক্ষা থেকে আমরা দূর হয়ে যাচ্ছি তাই তো সমাজে অধপতন দেখা দেয়। ধন্যবাদ।।

৭| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১৯

অপ্‌সরা বলেছেন: পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যালয় ভাইয়া!

অনেক অনেক ভালো লাগা !

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৩৭

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: কিন্তু বর্তমান আমাদের পরিবার গুলো টিভি নির্ভর (মিডিয়া) হয়ে গেছে এবং আমরা অনেক ব্যস্ত হয়ে যাই আর তখনই পারিবারিক শিক্ষাটার অভাব দেখা যায়। অনেক ধন্যবাদ।

৮| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:১২

আল ইফরান বলেছেন: খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
এখনকার বাবা-মায়েরা অধিকাংশেই ভাবে যে টাকা-পয়সার সাপ্লাই আর চাহিদামত এইটা-সেইটা কিনে দিলেই সন্তান মানুষ হয়ে যাবে। কিন্তু সন্ধ্যাবেলা একটু কাছে ডেকে গল্প করা অথবা রাতে খেতে খেতে গল্প করা এইগুলো পারিবারিক সিস্টেম থেকে উঠে যাচ্ছে, বাবা-মায়েরা ব্যস্ত নিজ নিজ সেলফোন আর টেলিভিশনের পর্দায়। ক্লাসরুমে ঢুকলে ইদানীং খুব বেশী অনুভব করি পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৩৩

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: :-B
নতুন যে প্রজন্ম আসতেছে, তাদের জন্য আমার হয় ভয়
কোন পথে নিয়ে যাবে আমাদেরকে সে পথে কি হবে ক্ষয়
তবু আশা জাগে একটু আলো ফেরাবে আলোয় সেই প্রত্যাশায় কাটে আমার সময়।

অজস্র ধন্যবাদ প্রিয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.