নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি

এটা আমার জন্য অনেক সুখকর যে, আমি এখন ব্লগ ও ফেইসবুক থেকে নিজেকে আসক্তিমুক্ত রাখতে পারছি। পরিবার ও পেশাগত জীবনের কর্মব্যস্ততা অনেক আনন্দের।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

***** আমি আমার মতো করে বলে দিয়েছি, তুমি তোমার মতো করেই বুঝে নাও। ***** চাটুকারিতা আর মিথ্যাবাদিতা সমার্থক। আপনার গঠনমূলক মন্তব্য আমাকে ভালো লেখক হতে সাহায্য করবে; সে-সাথে এ-ও প্রমাণ করবে আপনি চাটুকার বা মিথ্যুক নন। এ-কথাটি আপনার জন্যও প্রযোজ্য।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

জিঘাংসা

১৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৫৩

ঋতু আমাদের স্কুলবান্ধবী। ওর গায়ের রং শ্যামলা, হালকাপাতলা শরীর। ক্লাসে এবং স্কুলে সুন্দরী মেয়ের সংখ্যা নেহায়েত কম ছিল না। কিন্তু ঋতু যেরকম সুন্দরী ছিল, তার বর্ণনা শুধু এভাবেই দেয়া সম্ভব- ও যে-যুবকের দিকে তাকায় সে মুহূর্তে ঘায়েল হয়ে যায়; যে-যুবক ওর দিকে তাকায়, সে সুন্দরত্বের একটা নতুন সংজ্ঞা অনুভব করে।
সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর আমরা ছেলেমেয়েরা একসাথে ক্লাস করতে শুরু করি। আমাদের চোখের সামনে একটা নতুন ভুবন খুলে গেলো। এতদিন দূর থেকে মেয়েদের দেখেছি, ওদের ওড়না উড়তে দেখেছি; এখন ওরা আমাদের নিশ্বাসের খুব কাছে এসে বাহু ঘেঁষে বসে; ওদের শরীরের ঘ্রাণ পাই; ওরা একটু সামনে ঝুঁকে পড়লে আমরা সারসের মতো ঘাড় উঁচু করে ওদের কামিজের ফাঁক গলিয়ে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিই ওদের অতি কচি উদ্ভিন্ন স্তনের দিকে; একঝলক দেখে ফেললে অনির্বচনীয় শান্তি পাই, আর মনের ভিতর নেশা তীব্রতর হতে থাকে- আহা, যদি একটুসখানি ছুঁয়ে দেখা যেতো!
ঋতুর চাহনিতে তীব্র ধার ছিল। যথারীতি ঘায়েল হয়ে গেলাম। আমি খুব বর্ণচোরা আর মুখচোরা। শুধু ভাবি আর মনে মনে ছুঁই। আমি ভীতুর ডিম। ঋতু আমার দিকে তাকালেই আমি চোখ নামিয়ে ফেলি, আর মনে মনে ওর ভিতরে ঢুকে যেতে থাকি। এর চেয়ে আরামপ্রদ ও সহজতর পন্থা আমার জানা ছিল না।
তখন ইঁচড় আরেকটু পেকেছে- ১০ম শ্রেণিতে উঠবার পর একদিন। মেয়েরা ঋতুকে বেঞ্চিতে এককোণে করে রেখেছে, আর ঋতুর মুখমণ্ডল অন্ধকার।
কী হয়েছে! দারুণ করুণ সরস খবর! খবরটা শুনে যতখানি স্তম্ভিত হলাম, তার চেয়ে বহুগুণ কষ্ট পেলাম। ঋতু এমন একটা কাজ করলো! সে আরেকটা ছেলেকে চোখটিপ মারতে পারে, আমি মন খারাপ করবো না। কারো প্রেমে পড়তে পারে, সে কোনো ছেলেকে প্রেমপত্র লিখতে পারে, বা ছেলেরা তাকে- আমি মন খারাপ করবো কোন দোষে! আরেকটা ছেলের হাত ধরাধরি করে সে হাঁটতে পারে দিগম্বর রাস্তায়, সিনেমায় যেতে পারে- হলঘরের অন্ধকারে সাথের ছেলেটা ওর বুকে হাত রাখলে, কিংবা উরুতে, কিংবা চুমু বিনিময় করলে কিছুটা কষ্ট আমার লাগতেই পারে, তাও খুব স্বাভাবিক সমস্যা; কিন্তু ঋতু এ কাজ কীভাবে করলো? ও কারো সাথে হোটেলে রাত কাটিয়েছে, আর রাতভর তাকে সঙ্গম দিয়েছে- আমার কলজে খাবলে কেটে নিয়ে গেলেও কি এতখানি কষ্ট আমি পেতাম?
- না।
আমাদের, অর্থাৎ ছেলেমেয়েদের একচেটিয়া দাবির মুখে ঋতু কাঁদতে কাঁদতে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

ঋতু অনেকদিন ক্লাসে আসে নি; বছর খানেক তো হবেই। আর এ সময়ে আমার ভিতরে নিরন্তর দহন অনুভব করেছি।
এসএসসির কিছু আগে ঋতু চুপি চুপি একটা চিরকুট পাঠিয়েছিল।

‘তুই বললেই আমি পরীক্ষাটা দিতে পারি।
আর খোদার কসম, আমি নির্দোষ।’

ঋতু ভালো ছাত্রী ছিল না কোনোদিনই। এসএসসির রেজাল্টও খুব ভালো হয় নি। পরীক্ষা চলবার সময় ওর সাথে দুয়েকবার চোখাচোখি হয়েছিল- জানি না তখন আমি কোথায় হারিয়ে যেতাম।
এরপর কতদিন চলে গেছে- ঋতুর কথা মনে হলেই গুটিবসন্তের ঘা-গুলো দগদগে হয়ে উঠতো।


চিরতা একদিন বললো, ঋতুর কথা মনে পড়ে? ও আজ ফোন করেছিল।
আমি এক ফুৎকারে উতলা হয়ে পড়লাম। ঋতুকে আমার চাই-ই।
তার ৩দিন পর ঋতুর ফোন।
ঋতুর কণ্ঠস্বর ওর লাবণ্যের মতো মিষ্টি নয় আজকাল! চিরতা ওর চেয়ে ঢের গুছিয়ে কথা বলে, কণ্ঠে অমৃতের মধু।
আমি এলোমেলো হয়ে যাই। সুন্দর গোছানো জীবনে আমার সুখের অন্ত নেই, কিন্তু সেই সুখ ঝকঝকে সাদা পাতার মতো- কোনো আর্ট নেই, বর্ণাক্ষরে কিছু লেখা নেই তাতে। জীবন এতটা রুক্ষ বা নীরস হতে পারে না। আমি এলোমেলো হয়ে যাই।
ঋতুর সাথে কথা চলতে থাকে। অবিরাম। আমি যে কথাটা বলতে চাই সেটা মাথায় রেখে এগোতে থাকি। কিন্তু সেটা বলার উপযুক্ত শব্দগুচ্ছ ও পটভূমি মেলে না। আমি বড্ড এলোমেলো আজকাল। আমি বিভোরে এলোমেলো হয়ে যাই। একদিকে আমার অনাবিল সংসার, অন্যদিকে এক অজানা পৃথিবীর রহস্য আমাকে নিয়ে খেলতে থাকে। আমি দিশেহারা হয়ে যাই।

কথাবার্তা এখনই শেষ হয়ে যাবে, এমন সময়...
‘আচ্ছা শোন!’
‘কী!’
নাহ্, যে কথাটি বলতে চাই পেটের ভিতর সেটা প্রচণ্ড মোচড় দিচ্ছে, কিন্তু মুখ ফুটে তা বের হয় না; বলি অন্য কথা...
‘তোর ছেলেমেয়ে ক’জন?’
‘মেয়ে নাই। এক ছেলে। তোর?’
‘ছেলে নাই। এক মেয়ে। তোর জামাই কী করে?’
‘জানি না।’
ও পাশে ঋতুর একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ পাই। ঋতু বলে, ‘তোর বউ নাকি খুব সুন্দরী?’
‘খুউব। খুউব। কিন্তু শোন...’
‘কী?’
ঋতুকে বলতে পারি না- আমি তোকে চাই, এখনই। আমি এখন তীব্র কঠিন ও মজবুত; আমি তোকে ভেঙেচুরে গুঁড়ো গুঁড়ো করবো।

‘ছিঃ, তোর না বউ আছে! এত সুন্দরী বউ!’
‘গোল্লায় যাক, শুধু একটা দিনের জন্য ভুলে যেতে চাই আমার আর কেউ নেই তুই ছাড়া।’
১০ সেকেন্ডের স্বপ্নের ভিতর তীব্র বাসনায় আমি শাণিত হতে থাকি। ঘুম ভাঙলে সারাক্ষণ ঐ কথাটাই পবনে পবনে ভাসতে থাকে।
‘ঠিক আছে, একবারের বেশি না। আর চিরতাকে বলবি না কিন্তু।’ শেষাবধি ঋতু যেদিন এ কথাটি বললো, হিরোশিমার বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য একচিলতে পারমাণবিক বোমা সঙ্গে নিয়ে ছুটতে থাকলাম।

অবিরাম কড়া নেড়েই যাচ্ছি। নাহ্, কড়া নয়, কলিংবেল টিপছি। চিরতার দরজায় দাঁড়িয়ে। এ বাসায় এর আগে কত এসেছি! চিরতা আমাকে কোনোদিন প্রেম সাধে নি; নির্জন ঘরে যখন ওর ডানায় ডানায় ঘষাঘষি করে কবিতা পড়েছি, মাঝে মাঝে ওর স্তন জুড়ে কিছু লালচে দাগসহ বৃন্ত দেখতে পেতাম- আমার খুব ইচ্ছে হতো, আর ও শুধু কবিতাই বুঝতো; আজ এ বাসায় একটি অনুপম সঙ্গম রচিত হবে। মাত্র একবার। আজ আমি সব ভুলে যাবো- আমার সুন্দরীতমা বউয়ের মুখ আর তার প্রেমামৃতির স্বাদ; আজ সংসারের কথা মনে রাখা পাপ- সংসার মনে রাখলে সঙ্গমের স্বাদই ধ্বংস হয়ে যায়।
কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি কে জানে! আমি শুধু একমনে বেল টিপেই যাচ্ছি।

...এই যে...

হঠাৎ কে যেন পেছন থেকে গলার স্বর লম্বা করে ডেকে ওঠে। আমি চমকে পেছনে তাকাই। ‘হাহ্‌!’ লোকটাকে দেখেই আমি আত্‌কে উঠি। একটা লোক, আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। সে দেয়ালে হেলান দিয়ে পায়ের উপর পা রেখে দাঁড়িয়ে। আমি যেন চুরি করতে এসে ধরা পড়ে গেছি, এমনভাবে তার চোখ কথা বলছে।
- হ্যাঁ, তুমি ঠিকই ভেবেছ। তুমি ধরা পড়ে গেছো।
- কে আপনি?
- আমাকে তুমি চিনো, জিজ্ঞাসা করছো কেন?
- না, আমি ধরা পড়বো কেন?
- শোনো বাছা, ভয় পেয়ো না। নিরানন্দ জীবনে একটু-আধটু এদিক-সেদিক হতেই পারে, তাই না?
- ঠিক না। আপনি যা ভাবছেন আমি সেরকম না।
- নিজকে নিয়ে সবাই ওরকম বড়াই করে। তুমিও তো করতে, তাই না? তোমার সেই বড়াই আজ কোথায় গেলো?
লোকটা অদৃশ্য হাওয়ায় মিলিয়ে যেতেই দরজা খুলে গেলো। আর সলাজ হেসে সামনে এসে দাঁড়ালো ঋতু। কী অদ্ভুত ইল্যুশন! ঋতুদের বাসায় যাবো বলে বেরিয়েছিলাম, অথচ আমি এসেছি চিরতার বাসায়। চিরতার বাসায় ঋতুই বা কখন এলো!
- কেন, তোর তো এ বাসায়ই আসার কথা ছিল। ভুলে গেলি?
কীসব অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার ঘটে যাচ্ছে! আমি এলোমেলো হয়ে গেছি! আমার চারপাশে সবাই কি অন্তর্যামী?

আমি ঘুরে দাঁড়াই। ‘যাইরে।’ বলেই হরহর করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসি।

শহরের বাতাস তখন খুব মোলায়েম, বুকে এসে অনন্ত সুখের পরশ বুলিয়ে যায়। এ শহর তো এমন ছিল না! কোথা থেকে এতো সুখ ঝরছে আজ এই প্রচণ্ড দুপুরে!

ঘরে ফিরে এসে স্ত্রীকে একটা তীব্র সঙ্গম দিতে দিতে আবিষ্কার করলাম- আজ আমি একটা লোককে খুন করেছি।

২ এপ্রিল ২০১০



* কালের চিহ্ন (গল্পগ্রন্থ), বইমেলা ২০১৬-এর অন্তর্ভুক্ত

মন্তব্য ৭৩ টি রেটিং +১৩/-০

মন্তব্য (৭৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দারুন প্রত্যাবর্তন!

নিজের মাঝে নিজের। কামনার মাঝে কামনার।

সূখের মাঝে সূখের। :)

++++++++++++++

১৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু ভাই। শুভেচ্ছা রইল।

২| ১৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০২

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: অনেক সুন্দর লেখা। পড়ে খুব ভাল লাগল।

১৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ মোস্তফা সোহেল ভাই। শুভেচ্ছা।

৩| ১৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০৩

নাগরিক কবি বলেছেন: সুন্দর, দক্ষ হাতের কাজ।

১৮ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এইমাত্র আপনার 'অভিশাপ' গল্পটা পড়ে এলাম। চমৎকার লিখেছেন।

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

৪| ১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:১৫

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া চিরতা মানুষের নাম হয় নাকি!

চিরতার রস মানুষ খায় এবং খুবই তিতা জানি ।

এমন নাম সত্যিই হয় নাকি জানিনা!

আর ঋতুকে আমার খুবই দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে ! :)

১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: চিরতা মানুষের নাম হতে পারে, দোষ দেখি না। আমি জনৈকা চিরতাকে দেখেই এ নামটি রেখেছি।

ঋতুকে আমারও দেখতে খুব সাধ হচ্ছে।

যাকে যেভাবে দেখতে চাই,
কোথাও যে তার অস্তিত্ব নাই।
তাই তো তাকে আপনা সুধায়
অন্তরনয়ন দেখিয়া জুড়ায়।

৫| ১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫

অপ্‌সরা বলেছেন: ওহ এটা রাখা নাম!

চিরতা তিতা বটে কিন্তু উপকারী!

আমি ভেবেছি সত্যিই তার নাম ছিলো চিরতা!

১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:০৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহাহা।

জীবনে কয়েকবার চিরতার রস খেতে হয়েছে, তবে খুব কম।

যে-রূপে তাহাকে দেখিতে চাই,
কোথাও যে তার অস্তিত্ব নাই।
তাই তো গড়িয়া আপন সুধায়
অন্তরনয়ন দেখিয়া জুড়ায়।

৬| ১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:২২

রানার ব্লগ বলেছেন: এতদিন দূর থেকে মেয়েদের দেখেছি, ওদের ওড়না উড়তে দেখেছি; এখন ওরা আমাদের নিশ্বাসের খুব কাছে এসে বাহু ঘেঁষে বসে; ওদের শরীরের ঘ্রাণ পাই; ওরা একটু সামনে ঝুঁকে পড়লে আমরা সারসের মতো ঘাড় উঁচু করে ওদের কামিজের ফাঁক গলিয়ে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিই ওদের অতি কচি উদ্ভিন্ন স্তনের দিকে; একঝলক দেখে ফেললে অনির্বচনীয় শান্তি পাই, আর মনের ভিতর নেশা তীব্রতর হতে থাকে- আহা, যদি একটুসখানি ছুঁয়ে দেখা যেতো!

ভাই বান্ধুবীর বর্ণনা দিলেন নাকি ধর্ষণ করলেন?

১৮ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৭| ১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:১০

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: অনেক সুন্দর গল্প দিয়েছেন ভাই, আমি সোনা খুঁজে পেলাম গল্পে।

শুভকামনা আপনার জন্য।

১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: বিনীত ধন্যবাদ প্রিয় নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন ভাই। আপনার জন্যও শুভ কামনা থাকলো।

৮| ১৮ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:১৫

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: ভাই, একটা আবদার ছিল আপনার কাছে

অনেকদিন আগে আপনার 'সনেট অন্তমিল নিয়ে একটা পোষ্ট পড়েছিলাম, কপোতাক্ষ নদ কবিতা দিয়ে খুব সুন্দর বুঝিয়েছিলেন। আমি মনোযোগ দিয়েই পড়েছিলাম। সেই শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হই মাঝেমধ্যে। কিন্তু তেমন বুঝতে পারিনি, আমার আরো জানার ইচ্ছা সনেট সম্পর্কে। যদি আরেকটা পোষ্ট পাই আপনার কাছ থেকে তো, কৃতজ্ঞ রবো।

প্রেরণা হয়ে থাকুন ভাই, শুভকামনা জানবেন, ভালোবাসা সবসময়।

১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমি আসলে ছন্দের উপর গোছানো একটা পোস্ট তৈরির কথা ভাবছিলাম অনেকদিন থেকেই, কিন্তু কিছু শারীরিক কারণে সেটা আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে আজকাল সনেটের উপরে ইন্টারনেটে অনেক ভালো আর্টিকেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, সেগুলো স্টাডি করলেও ভালো ফল পাবেন বলে মনে করি।

অবশ্য আপনার আবদার রাখার জন্যও আমার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে।

নিজের অজান্তেই আপনিও আমার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।

আবারও শুভেচ্ছা।

৯| ১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৮

ইতি সামিয়া বলেছেন: হুবুহু এই কাহিনীর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর একটি গল্প আছে, অবশ্য সেই গল্পে বান্ধবী প্রসঙ্গে এত সেক্সচুয়াল বর্ণনা ছিল না। সে বলেছে রেখে ঢেকে বলেছে ।। হুবুহু এই গল্পই ৭০ এর দশকে লেখা।।

১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:২২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হুবুহু এই কাহিনীর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর একটি গল্প আছে।

প্রিয় ইতি সামিয়া আপু, শুধু এতটুকু বুলতে পারি, আমার এ গল্পের সাথে শুধু সুনীল নয়, অন্য কোনো লেখকেরও কোনো গল্পের সাথে হুবহু কেন, সামান্যতম মিল থাকারও সম্ভাবনা নেই, কারণটা বুঝে নিতে পারলে ভালো। তবে নির্ঘাত কিছুটা মিল পাওয়া গেলে সেটা হয় কাকতালীয় অথবা পাঠকের কল্পনা, কারণ, পাঠক ইচ্ছে করলে যে-কোনো গল্পের সাথে অন্য যে-কোনো গল্পের মধ্যে মিল খুঁজে বের করতে পারেন।

হুবহু একই গল্পের অর্থ আমি এটাই বুঝি যে, অরিজিন্যাল গল্পটা থেকে এ গল্পটা ধার অথবা নকল করা হয়েছে। সুনীল, সুকান্ত আর নজরুলের কবিতা দ্বারা আমি দারুণ ভাবে প্রভাবিত ও উজ্জীবিত, কিন্তু তাঁদের কোনো লেখার ভাব আমি কোনোদিন নিজের লেখায় বহন করি নি।

তবু, আপনার কাছে দাবি এবং একটা চ্যালেঞ্জও থাকলো- হুবহু একই রকমের গল্পটা আপনি সবাইকে দেখান। যদি প্রমাণিত হয় এটা সেই গল্পের হুবহু কপি, আমি গল্প-উপন্যাস লেখা ছেড়ে দিব।

আপনার জন্য শুভ কামনা।

১০| ১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:০০

জেন রসি বলেছেন: কামনা বাসনা মানুষের ভেতর একধরেনের ভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। যাকে মানুষ একই সাথে লালন করে।আবার বাতিল করেও দিতে চায়! গল্প ভালো লেগেছে প্রিয় সোনাবীজ ভাই।

১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: চমৎকার কথা বলেছেন প্রিয় জেন রসি ভাই। শুভেচ্ছা থাকলো।

১১| ১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:২৪

জাহিদ অনিক বলেছেন: গল্পটা পড়ার পড়ে কিছুক্ষন আবিষ্ট হয়ে রইলাম।
মনে হচ্ছিল আপনার গল্পের ঋতু আমার মনিটরের পিছনেই লুকিয়ে আছে। মনিটরটা একটু ডান অথবা বামে ঘুরালেই ঋতুর দেখা পাব।
আপনার গল্প সার্থক, আপনি আপনার চরিত্রকে পাঠকের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন ।

ঘরে ফিরে এসে স্ত্রীকে একটা তীব্র সঙ্গম দিতে দিতে আবিষ্কার করলাম- আজ আমি একটা লোককে খুন করেছি।
এই খুনটা বোধ হয় খুব বেশি প্রয়োজন ছিল ।

ধন্যবাদ সোনাবীজ ভাইয়া ।

১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:১৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কমেন্ট খুব ভালো লাগলো।

এই খুনটা বোধ হয় খুব বেশি প্রয়োজন ছিল ।
কথাটা খুব ভালো লেগেছে।

আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১২| ১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৩০

জেন রসি বলেছেন: @রানার ব্লগ,

সাহিত্য সম্পর্কে আপনার খুব একটা ধারনা আছে বলে মনে হয়না। লেখককে যে প্রশ্নটা করলেন তা থেকেই আপনার অজ্ঞতা এবং ভাবনা চিন্তার সীমাবদ্ধতার ব্যাপারটা খুব স্পষ্ট হয়ে যায়।

১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:২০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমি অবশ্য এ কথাটাই বলতে চেয়েছিলাম। পরে মনে হলো, তিনি কমেন্ট করে নিজেই হয়ত এখন বিব্রত বোধ করছেন। আমার ধারণা, তিনি গল্পটার মেসেজ ধরতে পারেন নি।

যাই হোক, মানুষের ভুল ভাঙুক।

আবারও ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার।

১৩| ১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৩

উম্মে সায়মা বলেছেন: যাক শেষপর্যন্ত সে লোকটা খুন হল। মানবমনের দোটানা, বিশেষ করে পুুরুষমন এক্সপ্লোর(এ শব্দের সঠিক বাংলা মেলাতে পারিনি) করেছেন গল্পে। খুব ভালো হয়েছে। শুভ কামনা।

১৮ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মানুষ কোনো এক সময় নিজের স্বরূপ ফিরে পায়; কিংবা হঠাৎ ঘটে যাওয়া অথবা ঘটনোন্মুখ কোনো ঘটনার জন্য অনুতাপ বা অনুশোচনা থেকেও নিজের স্বরূপে ফিরে যেতে প্রাণান্ত হয়। আমরা যাকে বিবেকবোধ বলি, হয়ত এটাই সেই আরাধ্য স্বরূপ।

আপনার সুন্দর মন্তব্যটি ভালো লাগলো আপু।

অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা।

১৪| ১৮ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১২

ইতি সামিয়া বলেছেন: Original লেখা টা বড় তাছাড়া I'm on the way to home, বাশায় গিরে গল্পের নাম উল্লেখ করে দেব, এখানে অনেক কেই দেখি , বলতে গেলে বলবে এই না সেই না এটা না ওটা না, প্রায় মান ইজ্জত ধুলায় মিসে, তাই আপনার কাছ থেকে খারাপ রিপ্লে আসা করেছিলাম, করেন নি আলহামদুলিল্লাহ। আমাকে যারা চেনে তারা কিন্তু আমাকে বলত না প্রমান দাও। যাই হোক গল্পের নাম আর কোন বই এ পাওয়া যাবে information দেব।

১৮ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহা, আপু, আমিও ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সেটাই বলেছি; মহামানব তো আর নই অত সরল ভাবে নিব যে। তবু চেষ্টা করছি সহজভাবেই যেন নিতে পারি। স্রেফ ইন্টারেস্ট হলো জানার জন্য যে, ঐ গল্পটা কেমন। সুনীলের গল্প-উপন্যাস-কবিতা আমার প্রচুর পড়া হয়; তাঁর গল্পের প্রধান এবং প্রায় কমন বৈশিষ্ট্য হলো পরকীয়তা। আমার স্মরণে আসে না আমার এ গল্পের মতো তাঁর কোনো গল্প আমি পড়েছি। এরকম কোথাও পেলে আমার এ গল্পটি নিশ্চয়ই এরকম হতো না। অন্য লেখকের থিম আমি সযত্নে এড়িয়ে চলি। কিন্তু তাঁর সব গল্প তো আর পড়া হয় নি। কতখানি কাকতালীয়তা ঘটে গেছে সেটাই দেখতে সাধ হচ্ছে।

প্লিজ ভুল বুঝবেন না।

শুভেচ্ছা।

১৫| ১৮ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২৬

ইতি সামিয়া বলেছেন: ভুল বুঝিনি, আমি যাচ্ছি, আপনাকে গল্পের নাম বলব, আপনি বইটি না পেলে প্রয়োজনে আমি আপনাকে স্ক্যান করে মেইল দেব।। আর এরকম হয় অনেক famous দের লেখার সাথে concept মিলে যাওয়া। সেদিক থেকে আমিও ভুল বুঝেছি।। আমার মনও তো দেখছি ছোট।।

১৮ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমি কিন্তু এখন রীতিমতো লজ্জা পাচ্ছি আপু। বড়ো মন আর ছোটো মন বলবেন না প্লিজ। আমাদের মধ্যে যেন পর্যাপ্ত ঔদার্য থাকে, সমালোচনা গ্রহণ করার শক্তি থাকে, আমাদের সেইদিকে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

ভালো থাকবেন।

১৬| ১৮ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার এই লেখাটা এক ভিন্ন

১৮ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার এই লেখাটা একটু ভিন্ন তো? অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার চাঁদ্গাজী ভাই। শুভেচ্ছা।

১৭| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:৫৬

সোহানী বলেছেন: অনেক ভালোলাগলো তবে অনেক কবিতার মাঝে সত্যিই এ লিখাট অন্যরকম।

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপু। শুভেচ্ছা।

১৮| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৯:৪৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অসাধারন একটি লিখা পড়লাম।

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় গিয়াস উদ্দিন লিটন ভাই। শুভেচ্ছা।

১৯| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:০২

ইতি সামিয়া বলেছেন: গল্পের নাম : নারী, বই:(আমার collection এ যেটা আছে) সুনীলের ১০১ টি শ্রেষ্ঠ গল্প।
আপনি যদি আমার কথা বুঝতে পারেন তাহলে অবশ্যই আশ্চর্য হবেন গল্পটি পড়ে। আর যদি word to word difference ধরে আমাকে ভুল প্রমান করতে চান, তাহলে আমি আর কি ই বা করতে পারি।

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপু, আপনাকে ভুল প্রমাণিত করার ইচ্ছে আমার নেই। কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। আমি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে সুনীলের স্বনির্বাচিত একশো গল্প পেলাম; সেখানে 'বই, নারী' নামে কোনো গল্প নেই।

কিন্তু গল্পটি পড়ার ইচ্ছে আমি দমিয়ে রাখতে পারছি না।

২০| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩১

মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন: সোনাভাই, আপ্নার এই লেখাটি অন্যরকম। মণিকা বেলু্চ্চি অভিনীত ২য় বিশ্বযুদ্ধের পটভুমিতে চিত্রায়িত সিনেমা "মেলিনা"র কথা কেন জানি মনে পড়ে গেলো.........। সেই মুভির ভেতরে যেমন নিজেকে উলঙ্গভাবে চিনতে পেরেছিলাম, এটাও কিছুটা তেমনই...

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:৪৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার। অনেকদিন পর আমার ব্লগে আবার আপনাকে পেলাম। ভালো লাগছে খুব।

শুভেচ্ছা থাকলো।

২১| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫৩

ইতি সামিয়া বলেছেন:

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:১৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রিয় আপু, প্লিজ ভুল বুঝবেন না। আমি যুক্তি খণ্ডন করতে যাচ্ছি না, কেবল আমার গল্প আর সুনীলের গল্পের বেসিক পার্থক্যটা আমি পেশ করছি।

সুনীলের এ গল্পটা হলো তাঁর 'রানি ও অবিনাশ' গল্পের বিপরীত থিমের উপর প্রতিষ্ঠিত। 'রানি ও অবিনাশ' গল্পে রানি থাকে অবিনাশের প্রেমিকা। বহুদিন পর অবিনাশ একদিন রানির কর্মক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হয়। অবিনাশ অনেক আকুতি প্রকাশ করে রানির সাথে যৌন মিলনের জন্য। রানি এ জীবনে অনেক পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হয়েছে, কিন্তু কোনো পুরুষই তাকে তৃপ্তি দিতে পারে নি; এ থেকে রানির একটা ধারণা হয় যে, পুরুষ মাত্রই একরকম, নারীদের পরিতৃপ্ত করতে অক্ষম। কিন্তু রানির চোখে অবিনাশ এক মহান পুরুষ, যদিও এদের মধ্যে কখনো যৌন মিলন হয় নি। তো, রানিকে যখন অবিনাশ আহবান জানালো, রানি কিছুতেই রাজি হলো না; কারণ, যদি শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে অবিনাশও অন্য যে-কোনো পুরুষের মতো নারীকে তৃপ্তি দিতে অপারগ, তাহলে অবিনাশ সম্পর্কে তার যে উচ্চ ধারণা ছিল, তা মুহূর্তে উবে যাবে।

আপনার এই এক পৃষ্ঠার অংশে দেখা যায়, নায়ক তার নায়িকা সুজাতা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। 'এতদিন তবু আমার কল্পনায় একজন নারী ছিল, যার চুম্বন সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যার কথা চিন্তা করলেই আমার রোমাঞ্চ হয়। সুজাতার শরীরটা পেয়ে সত্যিকারের পেয়ে যদি সেরকম না লাগে? যদি মনে হয়, সে-ও অন্য মেয়েদেরই মতন। তাহলে আমি আমার সেই কল্পনার নারীকেও চিরকালের মতন হারিয়ে ফেল্ব যে।'

'রানি ও অবিনাশ' গল্পে রানি তার প্রেমিকের সাথে যৌন মিলনে যায় নি, তার স্বপ্নের পুরুষ যদি নিতান্তই সাধারণ পুরুষ হয়ে থাকে, সেজন্য। 'বই, নারী' গল্পের নায়ক সুজাতাকে চায় না, যদি মনে হয় সে-ও অন্য মেয়েদেরই মতন।

এই হলো সুনীলের গল্পের থিম।

বাকিটুকু নীচে দেখুন।

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:২৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার গল্পটা শুরুতে আরেকটু ছোটো ছিল। Click This Link

বই আকারে প্রকাশ করার আগে যথারীতি এডিট করতে থাকি এবং '-- এই যে' থেকে নীচের টুকু হলো সর্বশেষ সংযোজন। এর পেছনেও কারণ আছে। ফেইসবুকে আদি গল্পটা প্রকাশ করা হলে অনেকেই এটাকে খুব নেগেটিভলি ভিউ করতে থাকেন। তখন এর একটা পজিটিভ দিক বের করার চেষ্টা করি। এখানে কথক নিজের বিবেকের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। শেষ পর্যন্ত বিবেকবোধের কাছে তার কামবোধ পরাজিত হয়।

সুনীলের গল্পের সাথে আমার গল্পটার মিল কোথায় হলো সেটা আসলেই আমি ধরতে পারছি না আপু। আপনি কষ্ট করে একটা পাতা দিয়েছেন তো, সম্ভব হলো সবগুলো পাতাই দিয়ে দিন; আমি, কিংবা উৎসাহী কোনো পাঠকও হয়ত মিলে যেতে পারে, যিনি দুটো গল্পের 'হুবহু' মিলটা খুঁজে বের করে দেখিয়ে দিবেন।

২২| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫৪

ইতি সামিয়া বলেছেন:

২৩| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫৫

ইতি সামিয়া বলেছেন:

২৪| ১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:০৬

ইতি সামিয়া বলেছেন: এই গল্পে আছে ছেলে বেলা, আছে ক্রাস, আছে দুরত্ত, আছে নতুন সংসার, গল্পের মাঝে মাঝে কিছু কিছু অংশ বসিয়ে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন কিন্তু জিনিশ একই।। অনেক হল এই নিয়ে আমি আর কিছু বলব না। আপনার তো শুধু concept মিলেছে, কেউ কেউ মুভি story or translated story নিজের বলে চালায়, আর কেউ কিচ্ছু বোঝেও না, তারা প্রায় সবাই famous!" কি আর করা, anyways আপনাকে কিন্তু আমি অনেক সময় দিয়েছি, এতটা সময় নিজেকে ও তেমন দেয়া হয়না, ভাল থাকুন।

১৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:৩৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: যাওয়ার সময় কি ঝগড়া করে চলে যাওয়া ভালো, আপু? আমাকে সময় দিয়েছেন আমার প্রয়োজনে না, আপনার প্রয়োজনে। আপনি একটা অভিযোগ তুললে তার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা তো আপনারই কর্তব্য।

তার পরও যদি আপনি বড়াই করতেই থাকেন, কোনো সমস্যা নেই আমার। আমি নীরব থাকলাম। আপনি সবগুলো পাতা দিয়ে যান, পাঠকরাই খুঁজে বের করবেন আমার আর সুনীলের গল্পের কনসেপ্টে মিলগুলো কোথায়। অনেক বুদ্ধিদীপ্ত ব্লগার আছেন, যারা হুটহাট কিছু বলেন না, তাঁরা গল্প বোঝেন।

আপনিও ভালো থাকবেন ইতি সামিয়া আপু।

২৫| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:০৮

মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন: এই ভদ্রমহিলাকে অনেক সময় দিয়েছেন, আর না। উনি একটা অভিযোগ করেছেন, প্রমাণের দায়িত্ব তারই। যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, তাতে কিছুই প্রমান হলো না, অন্তত: আমার কাছে না। আমরা সন্তুষ্ট হতে পাারিনি। স্ক্যান করে যে পেইজ দিয়েছেন, তাতে কি প্রমান হলো ? উনি নিজেই কি বুঝেছেন ? তার মানে কি বুঝে নিতে হবে, পৃথিবীর সব কাম-প্রেমের গল্পই এক। দুটো গল্পের থিম যে সম্পুর্ণ আলাদা এটা বোঝার বয়স উনার এখনও হয়নি। আবার বলছেন অনেক সময় দিয়েছেন। উদ্ধার করে ফেলেছেন। হাস্যকর.......... বাদ দেনতো। আর এত আপু আপু করাটা আমার ভাল লাগেনি, যত্তসব.............

আপনি এই কথাটা মনে রাখবেন, "হাতি আপন মনে পথ চলে, আর কু..... চেঁচায়"

১৯ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৪০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমি আমার গল্পটাসহ সুনীলের দুটো গল্পের থিম ২১ নম্বর কমেন্টের ঘরে উল্লেখ করেছি। এসব তো গোপন কিছু না, সবাই তা পড়তে পারছেন। কিন্তু ইতি সামিয়া আমার গল্পটি সুনীলের গল্পের 'হুবহু' হওয়ার উদাহরণটা হলো এরকম- একটা ঘোড়া হুবহু একটা গরুর মতো; এদের সবারই ৪টি করে পা, একটি করে লেজ, দুটি করে চোখ, দুটি করে কান, আর মাত্র একটি করে মুখ আছে। ইতি সামিয়া আমার গল্পটা তো ভালোভাবে পড়েনই নি, সুনীলের গল্পটাও মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখেন নি। আমার আর সুনীলের গল্পের কন্সেপ্টে বিন্দুমাত্র সাদৃশ্য নেই। কিন্তু তিনি 'হুবহু' মিল খুঁজে পেয়েছেন।

তাঁর খটকা লেগেছে এ জায়গায়- সুনীলের নায়ক বদ্ধ ঘরের ছিটকিনি খুলে নায়িকার সাথে সম্ভোগ না করে চলে আসে; চলে আসার কারণ হিসাবে নায়কের উপলব্ধি হলো- এই মেয়েও যদি অন্য মেয়েদের মতন হয়ে থাকে! গল্পের পাঞ্চলাইনটাই হলো এটা। আমার গল্পেও নায়ক ফিরে আসে, তবে এখানে সুনীলের গল্পের মতো বিষয়গত কোনো কারণ নেই, সে নিতান্তই বিবেক দ্বারা দংশিত হতে থাকে; ঘরে তার রূপবতী স্ত্রী, তার সোনার সংসার। এই তো আমি বুঝিয়ে দিলাম তফাত কোথায়। ইতি সামিয়া জেনরিক টার্মে গরু আর ঘোড়ার মধ্যে মিল দেখাচ্ছেন।

রবীন্দ্রনাথের 'পোস্টমাস্টার' গল্পে বালিকা রতনকে ফেলে পোস্টমাস্টার চলে যায়। 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসে বঙ্কুর মাকে (রাজলক্ষ্মী) ফেলে শ্রীকান্ত চলে যায়। 'দেবদাস' গল্পে পার্বতীকে ফেলে দেবদাস দেশান্তরী হয়। নায়িকাকে ফেলে চলে যাওয়াই যদি একটা গল্পের সাথে আরেকটা গল্পের মিল বোঝায়, তাহলে তো দেখা যাচ্ছে উল্লেখিত সবগুলো গল্পই 'হুবহু' এক। বিপরীতক্রমে, 'শেষের কবিতা'য় অমিট রয়কে ফেলে লাবণ্য বাড়ি ছেড়ে সপরিবারে চলে যায়।

একটা সম্ভাব্যতার কথা বলি। এই পোস্টে তাঁর এরকম আক্রমণাত্মক ভূমিকার জন্য তিনি একদিন লজ্জিত হবেন। তাড়াহুড়োর মধ্যে হয়ত আমার গল্পটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়েন নি, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তিনি আমার এ গল্পটি এবং সুনীলের গল্পটি আবারও পড়বেন। যখন দেখবেন যে, দুটো গল্পে আদৌ কোনো মিল নেই, তখন অনুতপ্ত তাঁকে হতেই হবে।

আমার এক খুবই আদরের ছোটোবোনের নাম ইতি। এটা মনে করে ইতি সামিয়ার বেয়াদবিপূর্ণ আচরণ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে নিয়ে নিলাম। অন্যথায়, আমি বেয়াদবকে কোনোদিন প্রশ্রয় দিই না, সহ্যও করতে পারি না, তার ট্যালেন্ট যতই হোক না কেন।

কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার।

২৬| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১২:৪৫

ইতি সামিয়া বলেছেন: please delete my all comment, such a waste of time!! এখানে কাউকে দেখিনি নকল ধরিয়ে দিলে কেউ যুক্তিহীন কথা বাড়ায় না!! আপনি যা যা লিখেছেন সব ঐ গল্পে আছে, এখন আপনি তো বুঝবেন না, এবং এইবার অবশ্যই নোংরা রিপ্লে আসবে, যে সাহিত্তের নামে চটি লিখতে(নকল) পারে সে বাজে reply and অযথা কথা বাড়াবে সাভাবিক।

২৭| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:০৯

ইতি সামিয়া বলেছেন: মেঘনা পাড়েরর ছেলে উনি আপু বলায় আমিও লজ্জা পেয়েছি, মনে হচ্ছে উনার মেয়ের বয়সি অথচ আমায় বলছে আপু!!! এটা এই সাইটের এক বাজে ব্যাপার সমস্ত uncle auntie রা chance এ উনাদের বাচ্চার বয়সিদের কে আপা আপু ডেকে নেয়। :) :)

২৮| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:১৬

ইতি সামিয়া বলেছেন: আপনি আপনার গল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য, আমাকে নিজের নিক অন্য নিক দিয়া আক্রমন করার জন্য, ভুল প্রমানের জন্য সম্ভাবনা আছে আমার comment delete দূরে থাক gold দিয়ে বাধাই করে রাখবেন, সে আপনার ব্যাপার তবে আমি আর time waste করতে এখানে আসছিনা, আক্রমন করতে থাকুন, ভালি থাকুন, অ্যান্ড last again delete all comment.. you didn't understand or you wanna escape from your fault that's your own business,

২৯| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:৩৮

দ্যা ফয়েজ ভাই বলেছেন: আমার কাছে গল্পটি চমৎকার লেগেছে।বলতে গেলে,পুরোপুরি ভিন্ন ধাঁচের।এক নিঃশাসে পড়ে নিলাম।
ঋতুকে প্রথমে যে বর্ণনা দিলেন সেটা হয়ত আরেকটু কম হতে পারতো।তবে,ঠিকাছে।মানিয়ে নিলাম। :)(১৮- আমি,তাই ;) )


অফটপিক:ইতি সামিয়া আপু,আপনি একটু বেশিই করে ফেলছেন না?দেখুন,দুটো গল্পের প্লট হয়ত একই হতে পারে,সেটা মনে হয় স্বাভাবিক।হতে পারে,লেখা দুটোও প্রায় এক।
এরপরেও আপনার যদি মনে হয় তিনি কপি করেছেন,তা বলা যেতে পারে।কিন্তু আপনি একটু আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন যা কাম্য নয়।আপনি বারবার বলছেন,তিনি হয়ত আপনাকে আক্রমণাত্মক কিছু লিখবে,কিন্তু আমি দেখছি তিনি যথেষ্ঠ শান্ত রয়েছেন,কিন্তু আপনি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন।

১৯ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ দ্য ফয়েজ ভাই।

গল্পের মিলের ব্যাপারটা ২১ আর ২৫ নম্বর কমেন্টের ঘরে উল্লেখ করেছি।

ইতি সামিয়াকে ক্ষমা করে দেয়াই সমীচীন মনে করছি। তাঁর কমেন্ট থেকে বোঝা যায় তাঁর বয়স খুব কম। তাঁর মন চঞ্চল ও অস্থির থাকা স্বাভাবিক। আল্লাহ তাঁর মনকে সুস্থির করুন, ভেদবুদ্ধি বাড়িয়ে দিন, এই কামনা করি।

ভালো থাকবেন ফয়েজ ভাই। শুভেচ্ছা।

৩০| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:৪৬

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন:



হে খলিল মাহমুদ গবেষণা লয়ে
সনেটের, আপনাকে সুনির্মল দেখি।
উপদেশ গুলো দেখি মুক্তা রাশি যেন
প্রতিপদে, ঝলমলে রতনের রাজি।
অবলোকে বাড়ে বেলা, মনে হয় কত
সোনাবীজ!অথবা কি ধুলোবালি ছাই
উড়ে উড়ে মনি মুক্তা কপালেতে মিলে,
আপনার উপদেশে, আনন্দীত মন।

কত সুখ ব্যঞ্জনায় চারদিকে আলো,
কেটে যায় একে একে হতাশার মেঘ
অরুণের প্রখরতা প্রতাশিত হয়ে
চার দিক আলো করে প্রশান্তির ঘোরে।
মনে হয় পৌঁছে গেছি সনেটের নীড়ে,
হে শিক্ষক ধন্যবাদ, সাফল্যের সিড়ি!

২০ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৫৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কী যে লজ্জার মধ্যে আমাকে ফেলছেন, প্রিয় ফরিদ ভাই, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এ অধম এত প্রাপ্তির যোগ্য নয়, কিন্তু বাই দিস টাইম আমাকে নিয়ে দুটো সনেট লিখে ফেলেছেন। সনেটের শব্দে শব্দে শুধু প্রশংসা আর প্রশংসা; এত প্রশংসা বহন করার ক্ষমতা আমি কোথায় পাব?

অমিত্রাক্ষর ছন্দে ভাব বা বাক্যের যে প্রবহমানতা থাকে, এই কবিতায় তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে আমার মনে হচ্ছে, মাইকেল বা অন্যান্য সার্থক কবিগণ যেভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দ সাজাতেন, তাতে পূর্ণযতি বা দাড়ির উপস্থিতি যথেচ্ছভাবে বাক্যের মাঝখানে দেখা যেত। কমা বা সেমি-কোলন, ড্যাশ, ইত্যাদি মিত্রাক্ষর ছন্দেও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।

অবলোকে বাড়ে বেলা, মনে হয় কত
সোনাবীজ!অথবা কি ধুলোবালি ছাই
উড়ে উড়ে মনি মুক্তা কপালেতে মিলে,
আপনার উপদেশে, আনন্দীত মন।


এ অংশটুকুকে প্রবহমান বাক্যে সাধারণ অক্ষরবৃত্তে এভাবে সাজানো যায়ঃ

অবলোকে বাড়ে বেলা, মনে হয় কত সোনাবীজ!
অথবা কি ধুলোবালি ছাই উড়ে উড়ে মনি মুক্তা কপালেতে মিলে,
আপনার উপদেশে, আনন্দিত মন।


অথবা,

অবলোকে বাড়ে বেলা, মনে হয় কত সোনাবীজ!
অথবা কি ধুলোবালি ছাই উড়ে উড়ে
মনি মুক্তা কপালেতে মিলে, আপনার উপদেশে। আনন্দিত মন।


এই আলোকে বলা যায় যে, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবহমানতা এ সনেটে বিদ্যমান রয়েছে। সনেটের বাকি সব বৈশিষ্ট্য যে এতে সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

আপনি আরো কিছু কাজ করতে পারেন অন্ত্যমিলের ব্যাপারে, যা আমি নিয়মিতই করি। অন্ত্যমিল সৃষ্টির জন্য বর্ণে বর্ণে মিল না করে সমোচ্চারিত ধ্বনিতে সৃষ্টি করতে পারেন। আমার নিজের লেখা থেকেই উদাহরণ দিচ্ছিঃ

‘ক্লান্ত শরীরে একটু ঘুমোবো
কাল খুব ভোরে উঠবো জেগে।
তোমরা রয়েছ শত ক্রোশ দূরে
অথচ পাশেই, আমি নিব ভেবে।’

এখানে ‘জেগে’র এ-ধ্বনি এবং ‘ভেবে’র এ-ধ্বনি সমরূপ অন্ত্য-ধ্বনি সৃষ্টি করেছে।

তদ্রূপঃ

‘দিস নি, তবু দূরে থেকেই
আমিই তোর কোল ছুঁয়েছি।’

‘আমরা বাবা ও কন্যা ছিলাম, কিংবা তুমি ছিলে মা
আমি তার অবাধ্য ছেলেটা।’

‘তুমি চলে গেছো সাথে নিয়ে গেছো
সকল আলো, সবখানি প্রেম
তুমি না থাকলে আমিও থাকি না
জ্বলেপুড়ে হই বিনিঃশেষ।’

‘বড্ড ক্ষুদ্র এ জীবন। এ জীবন আমাকে দিয়েছে অজস্র
মানুষের ভালোবাসা, অজস্র প্রাণের অর্ঘ্য
কীভাবে শোধ দিব এসবের ঋণ, আমার আছে কি সাধ্য?’

‘আমি ভালোবাসি ফুলের সুবাস,
যাতে নেই কোনো পাপ।’

‘বুকের পাশে শুয়ে তুমি
বুকেই তোমার বাস
তোমায় তবু যায় না ছোঁয়া
যায় না রাখা হাত।’


এ ছাড়া, নীড়ে’র সাথে তীরে/ফিরে না হয়ে ঘরে/ঝাড়ে এভাবেও হতে পারে, অর্থাৎ, অন্ত্যমিলে সচরাচর ন্যূনতম দুটো বর্ণের মিল থাকলেও খোদ রবীন্দ্রনাথেও মাত্র এক বর্ণের অন্ত্যমিল দেখা যায়; আর আজকের নঞ্-অন্ত্যমিলের যুগে এক বর্ণ বা সমরূপ ধ্বনিও যে মাধুর্য দ্যোতনা সৃষ্টি করে, তাও কম কীসে? আমি অবশ্য এগুলো বলছি মনের খেয়ালে, কারণ, আপনি এর সবই জানেন এবং নিয়মিত চর্চাও করছেন। তবে, আগ্রহী পাঠক এ কমেন্ট পাঠ করে হয়ত সামান্য উপকৃত হতেও পারেন, সে উদ্দেশ্যে এত কথা বলা।

আবার, একটা কবিতায় সবখানে অন্ত্যমিল না থাকলেও চলে, অর্থাৎ কোথাও অন্ত্যমিল থাকবে, কোথাও বা অমিত্রাক্ষর। আমি এগুলোও চর্চা করেছি; আসলে এরকম লিখবো শুরুতে সে-উদ্দেশ্য থাকে না, লিখতে শুরু করার পরই কবিতার প্রয়োজনে এমনটা হয়ে যায়।

কবিতায় সাধু-চলিত মিশ্রণ কোনোকালেই দূষণীয় ছিল না, এমনকি আজকালও নয়। খাঁটি গদ্যচ্ছন্দেও আবেগের গভীরতা প্রকাশের জন্য হঠাৎ হঠাৎ ক্রিয়াপদের সাধুরূপ ব্যবহৃত হতে দেখা যায়, এমনই পুরাতন রীতিতে ব্যবহৃত ‘মম’, ‘তব’, ‘মোর’, ‘মোদের’ ইত্যাদি শব্দও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহার কবিতায় এমন ব্যবহার অনেক দেখা যায়। এটা বললাম এ কারণে, মাত্রাসংখ্যা ও ছন্দ রক্ষার্থে প্রয়োজনে আপনি এ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন।

আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রিয় ফরিদ ভাই, আমাকে নিয়ে আরো একটা সনেট লেখার জন্য। সব সময় ভালো থাকুন- কবিতা, সনেটেই থাকুন।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

৩১| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১:৪৮

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: জনাব, সনেটের সব শর্ত কি এ সনেটে প্রতি পালিত হলো? নাকি এখনো ঘাটতি আছে? আপনার মতামতের অপেক্ষায়!

২০ শে জুন, ২০১৭ সকাল ৮:৫৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রিয় ফরিদ ভাই, সনেট সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করে আর লজ্জা দিবেন না। সনেটে আপনার হাত খুবই স্বচ্ছন্দ এবং দক্ষ, যা আমি আগেও বলেছি। আমি সনেট সম্পর্কে সামান্য অধ্যয়ন করেছি, কিন্তু সনেট লিখতে কখনো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি নি। বরং এটাই ভালো হবে, সনেট লিখতে যা যা অনুসরণ করা উচিত, তা নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা-সমৃদ্ধ একটা পোস্ট আপনি নিজেই লিখে ফেলুন, তাতে অনেকেই সনেট লিখতে আগ্রহী হবেন বলে আমি মনে করছি।

৩২| ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:৩০

ফেরদৌসা রুহী বলেছেন: ভালো লেগেছে পড়তে।
বাস্তবতা এমন গল্পকেও হার মানায় অনেক সময়।

২০ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:০৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পড়তে ভালো লেগেছে জেনে আমারও খুব ভালো লাগছে। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ ফেরদৌসা রুহী।

শুভেচ্ছা।

৩৩| ২০ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১০:২১

ইতি সামিয়া বলেছেন: আমি আমার অভিযোগ তুলে নিচ্ছি, এবং আক্রমাত্তক কমেন্টের জন্য সরি জানাচ্ছি।। ভালো থাকুন ভাইয়া।। আমি আপনার অতি আদরের ছোট বোনের কথা জেনে অনুতপ্ত হয়েছি।।
আবারো দুঃখিত ।।

২০ শে জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, ইতি সামিয়া। আমিও লজ্জিত ও দুঃখিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত বাক-বিতণ্ডার জন্য।

আপনার ভিতরে একজন অদ্ভুত সুন্দর মানুষের বাস- তার যত্ন নিবেন।

শুভেচ্ছা।

৩৪| ২০ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪০

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: সুনীলের গল্পের সাথে কিছুটা মিলে যেতেই পারে। তাই বলে কি অন্যের লেখায় প্রভাবিত হওয়া যাবে না।

২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:৪৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

৩৫| ২০ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই ,




হুমমমমমমমমমমমমম... এভাবেই একটি মানুষের ভেতরে ঘাঁপটি মেরে থাকা আর একটি "ইচ্ছে মানুষ" খুন হয় প্রতি নিয়ত !

সুন্দর লিখেছেন, মনের মাঝে ঝড়ো মেঘের তান্ডব মাখিয়ে ।
তবে পোস্টের কমেন্টেও একটু ঝড়ো হাওয়ার আভাস দেখলুম । গল্পের নায়কের মতোই আপনি ঝড়ের দমকা বাতাস এড়িয়ে চমৎকার ভাবে হরহর করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলেন মোলায়েম এক শহরে । ঝড়ের দাপট তীব্র থেকে ধীরে ধীরে মৃদুমন্দ বাতাস হয়ে বইলো । এটুকুও ভালো লাগলো ।

২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:৫০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ কমেন্টগুলো খুব অনুপ্রেরণা দেয়। এর স্বাদ অনন্য।

চমৎকার কথা বলেছেন প্রিয় আহমেদ জী এস ভাই। জীবনটা খুব ছোটো। মনকে শান্ত রাখতে পারলে জীবনটাকে সত্যিকারে উপভোগ করা সম্ভব। কিন্তু আমরা পারি না, আমাদের ক্রোধ ও আবেগ আমাদের ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

দোয়া করবেন আহমেদ জী এস ভাই। শুভেচ্ছা।

৩৬| ২১ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:০০

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন:




হে খলিল মাহমুদ সাহিত্যের নীড়ে
প্রতিভাত প্রতি দিন, আপনাকে দেখি
যেন কোন পূর্ণচাঁদ! উর্ধ্বে তোলে শীর
এ জমিনে সোনাবীজ, ছায়া দেয় কত!
বন্ধনের বাহু মুক্ত ধুলোবালি ছাঁই
উড়ে চলে আকাশেতে অজানায় যায়
আধারের তলে মিশে। সেথা ফুটে আলো,
মনে লাগে কত ভাল, কি চমক প্রাণে!

সাহিত্যের ওহে সেরা গল্পকার কবি,
নিবন্ধতে অনুপম প্রকাশিতে প্রিয়
অনুভূতি! যেথা পাই আন্তরিক সব
অনুসঙ্গ! আরো কত মন্তব্যের কথা।
এ সামান্য উপহার পরে নিন তবে
শ্রদ্ধা ভরা ফুল মালা, মন শান্তি হোক!

২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:১৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: 'খলিল মাহ্‌মুদ' নিতান্তই একজন থার্ড পার্সন সিঙ্গ্যুলার পার্সোনালিটি। তাঁকে নিয়ে লেখা অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এবারের সনেটটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের সবগুলো বৈশিষ্ট্যই সার্থকভাবে ধারণ করেছে। বাক্যের প্রবহমানতায় এবার কোনো ঘাটতি নেই। আধুনিক গদ্যচ্ছন্দে লিখলে এই প্রবহমানতা নিম্নরূপটি ধারণ করেঃ

হে খলিল মাহমুদ, সাহিত্যের নীড়ে প্রতিভাত প্রতিদিন,
আপনাকে দেখি যেন কোনো পূর্ণচাঁদ!
উর্ধ্বে তুলে শির, এ জমিনে সোনাবীজ, ছায়া দেয় কত!
বন্ধনের বাহুমুক্ত ধুলোবালিছাই উড়ে চলে আকাশেতে,
অজানায় যায় আঁধারের তলে মিশে।
সেথা ফোটে আলো, মনে লাগে কত ভালো! কী চমক প্রাণে!

সাহিত্যের ওহে সেরা গল্পকার কবি,
নিবন্ধতে অনুপম প্রকাশিতে প্রিয় অনুভূতি!
যেথা পাই আন্তরিক সব অনুসঙ্গ! আরো কত মন্তব্যের কথা।
এ সামান্য উপহার; পরে নিন তবে শ্রদ্ধাভরা ফুলমালা,
মন শান্তি হোক!

অবশ্য, এ গদ্যটি আরো অনেকভাবেই সাজানো যেতে পারে, যে-যেভাবে পড়তে বা দেখতে চান।

পর্ববিন্যাসে আদর্শ অক্ষরবৃত্তের ৮ ও ৬ মাত্রার ২টি করে পর্ব বিদ্যমান।

হে খলিল মাহমুদ,/ সাহিত্যের নীড়ে----৮+৬
প্রতিভাত প্রতিদিন,/ আপনাকে দেখি---৮+৬
যেন কোনো পূর্ণচাঁদ!/ উর্ধ্বে তুলে শির
এ জমিনে সোনাবীজ,/ ছায়া দেয় কত!
বন্ধনের বাহুমুক্ত/ ধুলোবালিছাই
উড়ে চলে আকাশেতে/ অজানায় যায়
আঁধারের তলে মিশে।/ সেথা ফোটে আলো,
মনে লাগে কত ভালো,/ কী চমক প্রাণে!

সাহিত্যের ওহে সেরা/ গল্পকার কবি,
নিবন্ধতে অনুপম/ প্রকাশিতে প্রিয়
অনুভূতি! যেথা পাই/ আন্তরিক সব
অনুসঙ্গ! আরো কত/ মন্তব্যের কথা।
এ সামান্য উপহার/ পরে নিন তবে
শ্রদ্ধাভরা ফুলমালা,/ মন শান্তি হোক!


অনেক সুন্দর একটা কবিতা।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা প্রিয় ফরিদ ভাই। আপনার হাতে সোনা ফুটছে। ফুটতেই থাকুক, অনন্তর।


৩৭| ২১ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:০৩

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: আপনাকে নিয়ে আরেকটা সনেট লিখলাম, এবার বলুন, সনেটের সব শর্ত পূরণ হলো কিনা?

২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:১৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ফরিদ ভাই। ভালো থাকবেন।

৩৮| ২২ শে জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:০২

ওমেরা বলেছেন: আপনি অনেক পুরানো ব্লগার আমি খুবই নতুন , বয়স ,জ্ঞান, অভিজ্ঞতা সব দিক দিয়েই আমি আপনার চেয়ে অনেক ছোট । আমার ভুল হলে ক্ষমা করবেন ।

আমাদের নফস আমাদের খারাপ কাজে উৎসাহিত করে আর আমাদের বিবেক আমাদের খারাপ কাজে বাঁধা দেয় । যেটা আপনি আপনার গল্পে খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । বিবেকবানদের জন্য অনেক শিক্ষা আছে আপনার গল্পে ।

তবে যে কথা গুলো আপনি খোলা মেলা ভাবে বলেছেন সে গুলো বাস্তব আমি স্বীকার করি কিন্ত যদি আপনি আরেকটু শালীন ভাবে লিখতেন তাহলে আরও ভাল লাগত ।

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া ।

২৪ শে জুন, ২০১৭ রাত ১১:১৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সুন্দর কমেন্ট এবং আপনার পরামর্শটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি কনভিন্‌স্‌ড। ইনশাল্লাহ, আগামীতে অনেক সজাগ থাকবো।

ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.