নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব,ইইই প্রকৌশলী। মতিঝিল আইডিয়াল, ঢাকা কলেজ, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।টেলিকমিউনিকেশন এক্সপার্ট। Sustainable development activist, writer of technology and infrastructural aspects of socio economy.

এক নিরুদ্দেশ পথিক

সমাজের প্রতিটি ছোট বড় সমস্যার প্রকৃতি নির্ধারণ করা, আমাদের আচার ব্যবহার, সমাজের প্রচলিত কৃষ্টি কালচার, সৃষ্টিশীলতা, চারিত্রিক উদারতা এবং বক্রতা, অপরাধ প্রবৃত্তি, অপরাধ সঙ্ঘঠনের ধাঁচ ইত্যাদির স্থানীয় জ্ঞানের আলোকে সমাজের সমস্যার সমাধান বাতলে দেয়াই অগ্রসর নাগরিকের দায়িত্ব। বাংলাদেশে দুর্নীতি রোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধিকরন এবং টেকনোলজির কার্যকরীতার সাথে স্থানীয় অপরাধের জ্ঞান কে সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের ছোট বড় সমস্যা সমাধান এর জন্য লিখা লিখি করি। আমার নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি আছে কিন্তু দলীয় সীমাবদ্ধতা নেই বলেই মনে করি, চোর কে চোর বলার সৎ সাহস আমার আছে বলেই বিশ্বাস করি। রাষ্ট্রের অনৈতিক কাঠামোকে এবং দুর্নীতিবাজদের সবাইকে তীক্ষ্ণ ভাবে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করি। রাষ্ট্র কে চ্যালেঞ্জ করতে চাই প্রতিটি অক্ষমতার আর অজ্ঞতার জন্য, তবে আঘাত নয়। ব্যক্তিগত ভাবে নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন কে দেশের ঐক্যের ভিত্তিমূল মনে করি। ডাটাবেইজ এবং টেকনোলজি বেইজড পলিসি দিয়ে সমস্যা সমাধানের প্রোপজাল দেবার চেষ্টা করি। আমি মূলত সাস্টেইন এবল ডেভেলপমেন্ট (টেকসই উন্নয়ন) এর নিরিখে- অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজাইন ত্রুটি, কৃষি শিক্ষা খাতে কারিগরি ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন, মাইক্রো ইকনমিক ব্যাপার গুলো, ফিনান্সিয়াল মাইগ্রেশন এইসব ক্রিটিক্যাল ব্যাপার নিয়ে লিখার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে চোরকে চোর বলার জন্য দুর্নিতি নিয়ে লিখি। পেশাঃ প্রকৌশলী, টেকনিক্যাল আর্কিটেক্ট, ভোডাফোন।

এক নিরুদ্দেশ পথিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

নদী ও পানির অধিকার: ফারাক্কা নিয়ে ভাসানীর ঐতিহাসিক দুটি চিঠির প্রেক্ষাপট, গুরুত্ব ও ভবিষ্যত প্রভাব!

২২ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৪৮


আজ ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস! ফারাক্কা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে লিখা মওলানা ভাসানীর লেখা চিঠি ২টি ৪২ বছর পরে আজও প্রাসঙ্গিক কেননা আমাদের নেতৃত্ব ও আমরা নাগরিকরা পানি আধিকার ও প্রাপ্তির বুদ্ধিবৃত্তিক ও কার্যকর কৌশল, এমনকি কোন আন্দোলন দাঁড়া করাতে পারিনি। প্রভু ও জুজু তোষণের রাজনীতি, পানি নদী ও পরিবেশের প্রতি দায়হীন নাগরিক ভোগবাদিতা দেশকে মরুকায়ণে নিয়ে যাচ্ছে।
-------------------------------------------------------------------------------------
‘আমার আন্তরিক আশা, তুমি স্বচক্ষে দেখিলেই ইহার আশু প্রতিকার হইবে এবং বাংলাদেশ ও হিন্দুস্থানের মধ্যে ঝগড়া-কলহের নিষ্পত্তি হইয়া পুনরায় বন্ধুত্ব কায়েম হইবে। ফারাক্কা বাঁধের দরুন উত্তর বঙ্গের উর্বর ভূমি কিভাবে শ্মশানে পরিণত হইতেছে তাহাও স্বচক্ষে দেখিতে পাইবে।’
-------------------------------------------------------------------------------------
ইন্দিরা গান্ধীকে মওলানা ভাসানীর লেখা একটি চিঠি-
-------------------------------------------------------------------------------------
প্রিয় মিসেস ইন্দিরা গান্ধী,
প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী ভারত সরকার আপনার ১৯৭৬ সালের ৪ মে’র পত্র ফারাক্কা সমস্যা সম্পর্কে সরকারি বিবৃতির পুনরাবৃত্তি মাত্র। আপনার প্রখ্যাত পূর্বপুরুষ— মতিলাল নেহরুর নাতি এবং জওয়াহেরলাল নেহরুর কন্যার নিকট থেকে এরূপ পত্র আশা করিনি। আপনি নিজে বঞ্চিত লোকের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সকল সময় সংগ্রাম করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে আপনি এবং ভারতের সকল জনগণ যে সাহায্য করেছে এজন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
ফারাক্কা সম্পর্কে আপনাকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন করে কৃষি এবং শিল্প উত্পাদনের যে ক্ষতি হবে তা পরিমাপ করা জন্য পুনরায় অনুরোধ করছি। সম্পূর্ণ সরকারি প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি। কারণ তাতে বর্তমান অবস্থা প্রতিফলিত হয় না।

এককভাবে গঙ্গার পানিপ্রবাহ প্রত্যাহার করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমি ব্যাপকভাবে পরিদর্শন করি।

পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার উদ্যোগকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু সমাধান স্থায়ী ও বিস্তারিত হতে হবে। দু’মাসের নিম্ন প্রবাহের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; সারা বছরের স্রোত অন্তর্ভুক্ত থাকার ভিত্তিতে ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের জন্য পূর্বে আপনাকে কয়েকবার টেলিগ্রাম করেছি। বাংলাদেশের সাড়ে তিন কোটি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা অন্যদের দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। দুই দেশের নেতাদের একত্রে বসে সমাধানে পৌঁছা উচিত।
সম্মুখ বিরোধ ও সংঘর্ষ বাদ দিয়ে আমি অনুরোধ করছি আপনি নিজে হস্তক্ষেপ করে নিজে সমাধান করবেন, যা আট কোটি বাংলাদেশীর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে।
যদি আমার অনুরোধ আপনি গ্রহণ না করেন, তাহলে অত্যাচারিত মানুষের নেতা আপনার পূর্বপুরুষ এবং মহাত্মা গান্ধীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করতে বাধ্য হব। এ সঙ্কট সমাধানে আমার সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং দু’দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

শুভেচ্ছান্তে—
আপনার বিশ্বস্ত
আবদুল হামিদ খান ভাসানী
-------------------------------------------------------------------------------------
-------------------------------------------------------------------------------------
“আজ আমি বড়ই দুঃখের সঙ্গে জানাই, হিন্দুস্তানের প্রাইম মিনিস্টার ইন্দিরা গান্ধীর পিতা আমার অতি ঘনিষ্ট বন্ধু এবং সহকর্মী ছিলেন । তার দাদা আমার সহকর্মী ছিলেন । আমি তাদের কাছ থেকে যে স্নেহ ও ভালোবাসা, ন্যায়নীতির আদর্শ শিক্ষা লাভ করেছি, মৃত্যুর শেষ পর্যন্ত আমি তা ভুলব না । কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় – বার বার আমি ইন্দিরা গান্ধীকে পত্র লিখেছি আমাদের জাতিসংঘের প্রয়োজন হবেনা, অন্য কোন দেশের মুখাপেক্ষী হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে না, তুমি নিজে এসে দেখ ফারাক্কা বাঁধের পরিণতি কি হয়েছে – মাত্র একটি বৎসরে প্রায় অধিকাংশ নদীর মাছ ধরা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে । যে মাছ পৃথিবীর সেরা – পদ্মার ইলিশের মত সুস্বাদু মাছ আর কোথাও পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না । তাছাড়া ফসলের দিক থেকে দশ আনি ফসল কম হয়ে গেছে । আগামী বছর কি হবে একমাত্র খোদা-তালাই জানেন । ইন্দিরা গান্ধীকে আমি ভয় দেখাবার জন্য আন্দোলন আরম্ভ করি নাই । ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে ন্যায়-বিচার পাবার জন্য আন্দোলন আরম্ভ করেছি । সারা দুনিয়ার ন্যায়পরায়ণ শান্তি প্রিয় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমি ফারাক্কা বাঁধ বিরোধী আন্দোলন আরম্ভ করেছি । ”
[ মাওলানা ভাসানীর ভাষণ – ১৩ নভেম্বর, ১৯৭৬ ; দরবার হল, সন্তোষ ], সন্তোষ এ এটাই সম্ভবত মৃত্যুর পুর্বে তাঁর শেষ ভাষন ।
-------------------------------------------------------------------------------------
নদী অধিকার নিয়ে আমাদের আন্দোলন এখন একেবারেই বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত । ব্যপক গনসচেতনতা প্রয়োজন। এই ঐতিহাসিক দুটি চিঠির প্রেক্ষাপট, গুরুত্ব ও ভবিষ্যত প্রভাব অপরিসীম। আন্তর্জাতিক নদীর পানি হিস্যার দাবীকে ভারতের সাথে কৌশলগত নেগসিয়েশনের পর্যায়ে নিতে কার্যকর সামাজিক, নাগরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জন আন্দোলন দরকার!

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
প্রস্তুতি এবং প্রেসেস ডেভেলপঃ

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যে যৌথ নদী কমিশন আছে, ভারতীয় ইচ্ছায় আজ সেটা প্রায় অকেজো, নিয়মিত মিটিং হচ্ছে না। তথাপি ডকুমেন্টেশন রেকর্ড এবং পরবর্তিতে সালিশি কাজে সহায়তার ভিত তৈরি করতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক নদীর পানির পরিমাপ, কম প্রবাহ, একেবারেই প্রত্যাহারকৃত প্রবাহ নিয়ে নিয়মিত চিঠি পাঠিয়ে যেতে হবে।

এই জন্য বাংলাদেশকে ভারতীয় সীমানার ঠিক কাছাকাছি অবস্থানের ওয়াটার ফ্লো ম্যাজারমেন্ট ডাটা নিবার প্রসেস ঠিক ঠাক করতে হবে, এক্সিস্টিং প্রসেস এবং সিস্টেমকে আরো উন্নত করতে হবে। ভারতীয় কাউন্টার পার্ট থেকে উত্তর আসুক বা না আসুক নিয়মিত বিরতিতে যৌথ নদীকমিশনের বাংলাদেশ পক্ষ এবং আমাদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পানির নিন্ম প্রবাহের তথ্য ভারতকে জানিতে ব্যবস্থা নিতে বলতে হবে। এটা ভবিষ্যৎ এর সালিসি কাজে সহায়তা দিবে এবং ভারতের উপর একটা নৈতিক চাপ বজায় রাখবে। এই চিঠি সকল আন্তর্জাতিক নদীর জন্যই আলাদা আলাদা করতে হবে, চুক্তি থাক বা না থাক, কেননা দেখা যাচ্ছে তিস্তায় প্রবাহ শূণ্য, উজানের দেশ কোন ভাবেই একটি নদি এভাবে হত্যা করতে পারে না। তীরবর্তী সবার পানি ব্যবহার শেষেও নদীতে একটা %প্রবাহ রাখতে হবে নদী বাচিয়ে রাখতে। বাংলাদেশকে এই বিষয়গুলো নিয়মিত আপডেইট করে রাখতে হবে।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
উল্লেখ্য ২০১৬তে পদ্মার প্রবাহ ভয়ংকর পর্যায়ে কমে যাওয়ায় চিঠি দেয়া হয়।
২০১৬
যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবারেরশুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে ইতিহাসের সবচেয়ে কম পানি প্রবাহ ছিল ফারাক্কা পয়েন্টে। এর আগে জানুয়ারি মাসে পানি এত কম প্রবাহ হয়নি। গত বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিন ফারাক্কায় গঙ্গার গড় পানি প্রবাহ থেকে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৫৯ হাজার কিউসেক। চলতি বছর সেই পানির প্রাপ্যতা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫১৬ কিউসেক। ২০১৪ সালে এই সময়ে বাংলাদেশের পানির প্রাপ্যতা ছিল ৭০ হাজার ৮৫৩ কিউসেক। এভাবে চলতে থাকলে ফেব্র“য়ারি ও মার্চ মাসে পানির প্রাপ্যতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী পানি প্রবাহের গড় হিসেবে পানি কমে গেছে। তাই এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে যৌথ নদী কমিশনের ভারতীয় সদস্য সি. লালকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ তে পদ্মার পানি সরবারহের ডেটা- পর এবারের শুষ্ক মৌসুমে এই প্রথম বাংলাদেশ সর্বনিম্ন পানি পেয়েছে। এমনকি গঙ্গা চুক্তি যখন ছিল না; সেই সময়টাতে বাংলাদেশকে পানি নিয়ে এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়নি। দেশের পানি বিশেষজ্ঞরা জানান, গত ২১ থেকে ৩১ মার্চ ওই ১০ দিনে ভারত বাংলাদেশকে ১৫ হাজার ৬০৬ কিউসেক পানি দিয়েছে। যা ছিল স্মরণকালের সর্বনিম্ন পানির রেকর্ড। অথচ এ নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কিম্বা যৌথ নদী কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) তথ্যানুযায়ী, ইতোপূর্বে ২০০৮ সালে ১১ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন পানি পাওয়ার রেকর্ড ছিল ১৭ হাজার ৫১৯ কিউসেক। চলতি শুষ্ক মৌসুমে চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ মাত্র ৪ বার ৩৫ হাজার কিউসেক করে গঙ্গার পানি পেয়েছে। এ ছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনওয়ারি হিসেবে প্রতিটিতে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জেআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি শুষ্ক মৌসুমে প্রতি ১০ দিনওয়ারি হিসাবে ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পানি পেয়েছে ৩৫ হাজার কিউসেক, ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পেয়েছে ৩১ হাজার ৩৯৪ কিউসেক, ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি ৩১ হাজার ১৪ কিউসেক। ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২৯ হাজার ৭৩৩ কিউসেক, ১১ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২৮ হাজার ৮২০ কিউসেক, ২১ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেয়েছে ২৬ হাজার ৮৬৫ কিউসেক পানি। মার্চের প্রথম ১০ দিনে অর্থাৎ ১ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত পেয়েছে ২৫ হাজার ৪১৯ কিউসেক, ১১ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত পেয়েছে ৩৫ হাজার কিউসেক, ২১ থেকে ৩১ মার্চ এই ১০ দিনে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৫ হাজার ৬০৬ কিউসেক পানি। যা স্মরণকালে সর্বনিম্ন রেকর্ড। ১ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পানি পেয়েছে ৩৫ হাজার কিউসেক, ১১ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পেয়েছে ১৮ হাজার ২৮২ কিউসেক এবং ২১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পেয়েছে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি। দেশের পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের শুষ্ক মৌসুমে যে হারে গঙ্গার পানি বাংলাদেশ পেয়েছে, তা গঙ্গা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
২০১৫
যৌথ কমিটির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, চলতি বছর ফারাক্কা পয়েন্টে পানিপ্রবাহ কমেছে। কেননা গত বছরের মার্চ মাসের প্রথম ১০ দিনে ফারাক্কা পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ছিল এক লাখ এক হাজার ৯শ’ ৯৯ কিউসেক। আর সে সময় বাংলাদেশ পানি পেয়েছিল ৬১ হাজার ৯শ’ ৯৯ কিউসেক। তবে চলতি বছরের একই সময়ে পানিপ্রবাহ ছিল ৬৭ হাজার ৫৮ কিউসেক। আর বাংলাদেশ পানি পেয়েছে ৩৩ হাজার ৫শ’ ২৯ কিউসেক।

পানি প্রবাহের তথ্য সংবলিত এই রকম চিঠির আদানপ্রদান শুষ্ক মৌসুমের প্রতি মাসেই করতে হবে, মৌসুমের শুরু বা একেবারে শেষ দিকে এসে যাতে একটি/২টী চিঠি দিয়ে খান্ত হওয়া যাবে না।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
এগিয়ে যাওয়ার কৌশলঃ
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১। আমাদের ক্ষমতার বলয়ে এবং বাইরের নেতৃত্ব দুরদর্শী হলে, উনারা দলীয় ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরে নদী ও পানি বিষয়ে একটি সর্বজন নাগরিক আন্দোলন চালু রেখে ভারতের সাথে নেগোশিয়েশনের ট্রাম্প খোলা রাখতেন। আজ আমাদের নেতারা ভারতের সাথে কথা বলতে জাচ্ছেন শুধু হাত পা আর সুন্দর জামা কাপড় পরে। কারো সাথে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মাথা নেই। নেই নদী ও পানির অধিকারের নৈতিক অবস্থানের বোধ, নেই জন আন্দোলনের ইস্যু, নেই বুদ্ধিবিত্তিক নেগোশিয়েশনের এলিমেন্ট।

২। ফলে ভারত জানে যে, সে বাংলাদেশকে পানি দিলেও জন আন্দোলন, সচেতনতা, ইন্টীকচুয়াল মুভ না থাকায় এবং নেতৃত্ব একেবারেই অদুরদর্শী হওয়ায় এটা তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোন বিপদে ফেলবে না।

৩। প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলে যে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত গঙ্গা চুক্তি আমরা পেয়েছিলাম তার একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। প্রথমত- মওলানা ভাসানীর সূচিত ব্যাপক জনান্দোলনের প্রভাব। ২। দ্বিতীয়ত-বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ভারতের মান সম্মানে টান দেয়া। এখন জন আন্দোলনও নাই, আর বর্তমানের প্রধান দলগুলো ক্ষমতার সমীকরণে কেউই ভারতকে চটাতে চায় না, আর নদী ও পানির গুরুত্ব এবং সাটেইনেবিলিটির জ্ঞানও এদের কারো নাই।
-------------------------------------------------------------------------------------
পানি হিস্যার দাবী নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়া এবং আফটার ম্যাথঃ
-------------------------------------------------------------------------------------
৪। ভারতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসম্মানিত করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গঙ্গা, তিস্তা,যমূনার পানি হিস্যার দাবী জানানো খুবই কার্যকরী হবে, ফলে নিয়মমাফিক ভাবেই ভারতকে পানি হিস্যা নিয়ে বসতে তাগাদা দিবে জাতিসংঘ।
তবে বাংলাদেশে পানি হিস্যার জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক সামাজিক আন্দোলনের অনুপুস্থিতে এই সময়ে এটা আমাদের জন্য বুমেরাং হবে, কারণ আমদের নিজেদেরই সেখানে সচেতনতা নেই, সেখানে ভারত আন্তরিকতা নিয়ে আসবে না। আর অন্য আলোচনায় এর পরোক্ষ ফল ভালো নাও হতে পারে, ভারত ভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশকে আর্থিক ভাবে বিপদে ফেলতে পারে।

-------------------------------------------------------------------------------------
প্রথমেই জাতিসংঘে না গিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলে আন্দোলনকে বিন্যস্ত করাঃ
৫। তবে প্রথম স্টেইজে বাংলদেশের উচিৎ "কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি" ফোরামে নালিশ করা। ভারত যে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে বা একতরফাভাবে বন্যার পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ভাসিয়ে দেয়, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিবেশ ফোরামে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৬। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশন, রামসার কনভেনশন, ইন্টারন্যাশনাল ওয়েট ল্যান্ড কনভেনশন। এসব কনভেনশনের আলোকে কিছু ফোরাম গঠিত হয়েছে, এ চুক্তিগুলোর অধীনে কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও নদীর পানি নিয়ে আরগুমেন্টগুলো করা সম্ভব।

৭। বায়োডাইভারসিটি কনভেনশনের যে ফোরাম রয়েছে, সেখানে বলা সম্ভব যে ভারত পানি প্রত্যাহার করছে বলে আমাদের প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বলতে পারে, ভারত পানি প্রত্যাহার করার কারণে আমাদের যে বিশ্বঐতিহ্য রয়েছে, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

৮। রামসার কনভেনশনে বাংলাদেশ বলতে পারে, ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করার কারণে দেশের ওয়েটল্যান্ডগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ ফোরামগুলোর কাছে এগুলো অবশ্যই তুলে ধরা যেতে পারে।
-------------------------------------------------------------------------------------


কিন্তু বাংলাদেশের সরকার গুলো এইসব বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলে এগুচ্ছে না। আমাদের জাতীয় পর্যায়ে নদী ও পানি প্রাপ্তির আন্দোলনকে বেশ কয়েকটি ধাপে বিন্যস্ত করে আমাদের সরকার ভারতের কাছে পানি হিস্যার দৃশ্যমান নাগরিক চাপ উপস্থাপনের কৌশলে বহু যোজন পিছিয়ে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন স্ট্র্যাটেজিস্ট, আশা করি এই বোধ উদয় হবে, উনার দলের ভিতরে এবং বাইরে, আমাদের ক্ষমতাবলয়ের ভিতরে বাইরে।

বাংলাদেশের সাস্টেইনেবিলিটির প্রধান সুত্র অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানির নৈতিক হিস্যা। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সাস্টেইনেবিলিটির সেন্স আসুক আমাদের, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক!

ড এম এ আলী ভাইয়ার অনুপ্রেরণায় লিখিত!

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:০৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


মওলানা বোধ হয়, মারা গেছেন; এখন উনার চিঠি তেমন কোন ফল দেবে না; উনি জীবিত থাকাকালীনও বাংগালীরা উনাকে খুব একটা মুল্য দেননি; মুরগীরা চাউলের খুঁদ খুঁজতে ব্যস্ত আজীবন।

এখন, ফারাক্কার একমাত্র সমাধান, ব্রীজের উপরিভাগে শীতের আগে পানি সংগ্রহ করার জন্য বাঁধ দেয়া।

২৩ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:৫৭

এক নিরুদ্দেশ পথিক বলেছেন: আমার অন্য একটি লিখা থেকে কপি করে দিলাম (এই লিখা গুলো নিয়ে বাংলাদেশ বদ্বীপ ব্যবস্থানার নাগরিক এক্সপেক্টেশনেরের দ্বিতীয় কিস্তি লিখবো ইনশাল্লাহ। তবে আগেই বলে রাখি, ভাবনা গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি, নেক্সট কয়েকদিন-সপ্তাহ ভেবে চূড়ান্ত করবো)

---------------------------------------------------------------------------------------
ফিরে দেখা-
---------------------------------------------------------------------------------------
পঞ্চাশের দশকে ফারাক্কার প্রস্তুতি শুরু হলে সেসময়ের পানি ও পরিবেশ এক্সপার্টগণ পাল্টা ব্যবস্থায় গঙ্গা, এর শাখা প্রশাখা, শাখা নদী, উপ নদী, খাল, বিল সহ পুরো অববাহিকার ইকো সাইকেল, কৃষি, মৎস্য রক্ষার জন্য অর্থাৎ গঙ্গা অববাহিকার প্রায় ৩২টির মত নদী উপনদী, শাখা নদীর পানি নির্ভর কৃষি ও মৎস্য বাঁচাতে, ভারতের বাঁধ ছেড়ে একতরফা বন্যার সৃষ্টি ঠেকাতে "গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পের" পরিকল্পনা তৈরি হয়।

ষাটের দশকে এর একটা খসড়া দাঁড়িয়ে যায়। যদিও ১৯৭৪ এ ফারাক্কা চালু হলেও তা আর বাস্তবায়নের টেবিলে উঠানো হয়নি। পরবর্তি সরকারগুলো দায়সারা ভাবে এই পরিকল্পনা শুরুর কথা চিন্তা করেছে যার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নতুন নতুন সমীক্ষার দরকার পড়ে। ফলে আমরা বিগত চার দশকে সমীক্ষাই নিয়ে পড়ে আছি, এর মধ্যে ভারত এই কাজে ভেটো দিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে-এর মধ্যে পদ্মা এবং তার অববাহিকা সিল্টেড আপ হয়ে জল ধারণ ক্ষমতা একেবারেই হারিয়েছে, পদ্মা অববাহিকার পুরো ইকো সাইকেল বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। ফলে যত দিন যাচ্ছে ততই পুর্বের ফরমেটে রাজবাড়িতে গঙ্গা ব্যারেজ করা ততই খরুচে হবে, যদি আগের পরিমানে পানি ধারণ টার্গেট নেয়া হয়, অর্থাৎ হাজার হাজার কোটি টাকার শুধু ড্রেজিং ই করতে হবে।

এমতাবস্থায় ভারত চাইছে এই প্রকল্প আরো প্রলম্বিত করতে অন্তত পরবর্তি গঙ্গা চুক্তির সময় আসন্ন হওয়া পর্জন্ত। ২০২৬ এ বাংলাদেশে গঙ্গা ব্যারেজ করতে না পারলে তার স্ট্রং নেগোসিয়েশন করার এবং গ্যারান্টি ক্লজ ইঙ্কলুড করার ট্রাম কার্ড আমাদের হাতছাড়া হবে। ফলে আরো কম পানি এবং গ্যারান্টি ক্লজ হীন একটি সায় সারা নবায়িত গঙ্গা পানি চুক্তি (যা মানা হবে না এখনকার মত) আমাদের জন্য অপেক্ষা করেছে।

---------------------------------------------------------------------------------------
প্রস্ততি এবং সামনের ভাবনা-
---------------------------------------------------------------------------------------
তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি,
১। ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শুধু গঙ্গা ব্যারেজ না করে এর সাথে যমুনার অববাহিকাকে যুক্ত করে মেঘনায় ব্যারেজ করা যায় কিনা তার দ্রুত স্ট্যাডি করা দরকার। কারণ পুর্বের নদী বৈচিত্র নেই, নেই পানির আঁধার আর গঙ্গার সমস্যা তিস্তা, মহানন্দা এবং যমুনাতেও বিস্তৃত, ব্রম্মপুত্র তো আগেই নাই হয়েছে।

২। পদ্মা সেতুতে ব্যারেজ ইঙ্কলুড করা যেত কিনা সেটার স্ট্যাডী দরকার ছিল।

৩। সেচ প্রকল্প নির্ভর প্লেইন ব্যারেজ নির্মান এর সাথে কি কি ভবিষ্যৎ মুখী টেকসই প্রকল্প ইঙ্কলুড করা যায় তার স্ট্যাডি দরকার, পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র।

৪। ব্যারেজ থেকে উজানে যেরকম ড্রেজিং দরকার (সেচ, পানির আঁধার গড়া এবং ৩২টি নদী উপনদী শাখা নদী খালে পানি সঞ্চালন) তেমনি ভাটিকেও ড্রেজিং এ আনতে হবে। কেননা বর্ষায় ভারত ফারাক্কা ছেড়ে দিলে ব্যারেজ থেকে চাঁদপুর, বরগুনা, পায়রা, পাথরঘটা পর্জন্ত চ্যানেল গুলোর ওয়াটার ক্যারেজ ক্যাপাসিটি (এগুলা সবই সিল্টেড আপ রিভার বেড) এই পাশে ভয়াবহ বন্যা এবং আর্থিক ক্ষতি হবে। দেখা যাবে উত্তরে যা আয় হচ্ছে দক্ষিণে তা ক্ষতিতে যাবে। (ফারাক্কারও একই সমস্যা, ফলে বিহার ফারাক্কা ভাংতে বা ওপেন রাখতে চাইছে)।

৫। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন ভাবে গঙ্গায় ব্যারেজ প্রকল্প না করে সম্পুর্ণ নতুন ডেল্টা স্ট্যাডী করে পুরো বাংলাদেশের উত্তর দক্ষিণের জন্য সমন্বিত করে একটি মহা পরিকল্পনা করা হোক যা বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ তে সমন্বিত হবে। নচেৎ বিচ্ছিন্ন ভাবে টাকা লূটপাটের অকার্যকর প্রকল্পই বাড়বে কাজের কাজ কিছু হবে না। ইতিপূর্বে ড্রেজিং, বিভিন্ন সেচ, নদি পুনঃ খনন (যেমন গড়াই পুনঃ খনন) কথা বলেও রাষ্ট্রের অর্থ লোপাট হয়েছে।

৬। পাশাপাশি পানি ব্যবহারের টেকসই পদ্ধতিও নগরে নগরে নিয়ে আসতে হবে, অপচয় রোধে শক্ত হতে হবে।

৭। ওয়াসা কিভাবে ভবিষ্যৎ এর শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা নাগঞ্জে এত বিপুল পরিমাণ শোধিত পানি সাপ্লাই করবে সেটাও রোডম্যাপে আনতে হবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী নদী পানি শোধনের অযোগ্য। বর্তমানে শীতলক্ষ্যার পানি নির্ভর শোধন আর এগিয়ে নেয়া যাবে না কারন তাতে প্রায় ৬২ রকমের অশোধনযোগ্য ক্যামিক্যাল আবর্জনা দেখা মিলেছে।

সরকার বর্তমানে পদ্মার পানি শোধন করে ঢাকায় আনার প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে (পদ্মা -জশলদিয়া পানি শোধনাগর প্রকল্প)। এর পর আর কোন সম্ভাবনা নেই! এই সমস্যা আমাদের সবার, সরকারকে এক্সপার্টের সাথে বসে রোডম্যাপ নিয়ে ভাবতে হবে, এখনই!

৮। পদ্মার পানিতে দূধণ বাড়ছে। ফলে পদ্মার পানি কত দিন শোধন সক্ষম থাকবে এবং এর শোধন খরচ ও ওয়াটার ট্রান্সপোর্টেশন কষ্ট কিরকম হারে বাড়তে থাকবে তার স্ট্যডী দরকার। পদ্মার পানিও শোধন অক্ষম (অন্তত শুষ্ক মৌসুমে) হয়ে পড়লে বাংলাদেশের গঙ্গা-মেঘনা-যমূনা বেসিনে অবস্থিত নগরগুলোতে শোধিত পানি সরবারহের ভবিষ্যৎ কি হবে তার রোডম্যাপ দরকার। কেননা ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্ত পানিতে দেশের ৭৭-৮০% সেচ হচ্ছে। সারফেইসের পানি ও ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্তি ও ব্যাবহার বিন্যাস কিভাবে পরিবর্তিত হতে থাকবে তার স্ট্যাডী এবং ট্রেন্ড নির্ণয় আমাদের সাটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ গুলোর একটি।

ভারতীয় স্ট্যাডী বলছে-

“ Conducted by the National Cancer Registry Programme (NCRP) under the Indian Council of Medical Research, the national study throws up shocking findings. The river is thick with heavy metals and lethal chemicals that cause cancer, it says.
Ganga so full of killer pollutants that those living along its banks in UP, Bihar & Bengal are more prone to cancer than anywhere elese in the country. Even more frightening is the finding that gallbladder cancer cases along the river course are the second highest in the world and prostate cancer highest in the country. The survey throws up more scary findings: Of every 10,000 people surveyed, 450 men and 1,000 women were gallbladder cancer patients. Varanasi in Uttar Pradesh, Bihar's Vaishali and rural Patna and the extensive tract between Murshidabad and South 24-Parganas in West Bengal are the hot zones. In these parts, of every 1 lakh people surveyed, 20-25 were cancer patients. This is a national high. Relentless discharge of pollutants into the riverbed is responsible.”

৯। এমতাবস্থায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সর্বোচ্চ ব্যবহার বাঞ্চনীয়। পানি বাজারজাতকারি কোম্পানি গুলোকে মোট বাজারজাতকৃত পানির ৭৫% বৃষ্টির সোর্স থেকে নিবার টার্গেট নিতে হবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে।

১০। স্যালাইন পানি শোধনের স্ট্যাডিও দরকার, বিভিন্ন মাধ্যমের পানি শোধনে কম্পারেটিভ কষ্ট স্ট্যাডী বের করে আনতে হবে।

আজ থেকে ২০-৩০ বছর বা ৫০-১০০ বছরে আমাদের পানি নির্ভরতার প্যাটার্ণ এবং সাস্টেইনেবিলিটির সুত্র কি হবে, তার স্ট্যাডী এখনই দরকার।

২৩ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৭

এক নিরুদ্দেশ পথিক বলেছেন: এখন উনার চিঠি তেমন কোন ফল দেবে না

এই বক্তব্যের সাথে অমত। যতদিন পানির হিস্যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর বাংলাদেশের নাগরিকের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক চাপ থাকবে না, ভারত তত দিন পানি সমস্যার সমাধানে আন্তরিক হবে না। কারণ ভারত জানে ভারত পানি না দিলেও বর্তমান বাংলাদশের কোন বুদ্ধি বোধ নেই, নেই দল্গুলোর কোন রাজনৈতিক অঙ্গিকার বা নির্বাচনী অঙ্গিকার।


ভাসানীর চিঠি একটা ইন্সপাইরেশন। এটা কথা বার্তা, চিঠি আদান প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে দাবী আদায়ের প্রসেস বাতলে দেয়। অন্যথায় আন্দোলন জারি রাখার সামাজিক চাপের কৌশল।

বাংলাদেশের নাগরিককে পানি হিস্যার দাবী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গিকারে আনার চাপ তৈরি করতে হবে।

২| ২৩ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আজ ২২শে মার্চ বিশ্ব পানি দিবস । দিবসটি পালিত হবে দেশে দেশে ।
অথচ আজই দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদ ভাষ্যে দেখা গেল পানিসম্পদ মন্ত্রী জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ভারত সফরকালে বহুল আলোচিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে না । আগামী ৭ এপ্রিল চার দিনের সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী । ৮ এপ্রিল তিনি সে দেশের সরকারপ্রধান নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ কথা বলেন। বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে এই গোলটেবিলের আয়োজন করা হয়। আজ (বুধবার) বিশ্ব পানি দিবস পালিত হবে।এই হল সরকারীভাবে পালিত বিশ্ব পানি দিবসের ফল ।

এর আগে গত বুধবার নোয়াখালীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হবে। জানিনা এর মধ্যে কোন দিকের পানি কোন দিকে গড়াল । যাহোক রাস্ট্রের কর্ণধারদেরকে শক্তি ও সাহস যোগাতে হবে।

আমাদের নদীর পানি নিয়ে এই দুর্বল নেতৃত্ব ও নতজানু নীতিমালার সন্ধিক্ষনে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানীর লিখা ঐতিহাসিক পত্র দুটি আমাদের সাধারণ মানুষের জন্য না হলেও আমাদের নেতাদের জন্য কিছুটা শিক্ষনীয় হতে পারে ।
আমাদের নব প্রজন্মের অনেকেই জানেনা মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানীর বলিষ্ট নেতুত্বের গুনাগুন ও তার কথার শক্তি ।

১৯৭০ এর মার্চের অগ্নিঝড়া দিনগুলিতে মাওলানা ভাষানী ছুটে বেরিয়েছেন বাংলার প্রান্তর হতে প্রান্তরে । ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে উদাত্ত কণ্ঠে বলেছেন '' শেখ মুজিব তুমি স্বাধিনতার ঘোষনা দাও , তুমি পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী হ্ওয়না, তুমি স্বাধীন বাংলার জাতীর পিতা হও'' ভাষনটি আমার নীজ কানে শুনা । তার এই অগ্নিঝরা ভাষণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে শক্তি জুগিয়েছিণ ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনে , এবারের সংগ্রাম স্বাধিনতার সংগ্রাম ঘোষনা দিতে ।
১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কার বাঁধ চালু হওয়ার পরে পরবর্তীতে বংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী পানি পায়নি ।


ফলে এর ক্ষতিকর দিকগুলি নিয়ে পরবর্তীতে দেশ জুরে ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন । মাওলানা ভাষানী ১৯৭৬ সনের মে মাসে ঐতিহাসিক লংমার্চে জাতিকে দিয়েছিলেন আন্দোলনের উন্মাদনা । রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চের জন্য মাওলানা ভাষানীর ঐতিহাসিক ভাষন :


লক্ষাধিক মানুষ রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান হতে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চে সামিল হয়েছিল । সেই লংমার্চে একজন ইয়ং ছাত্র হিসাবে এই অধমও যোগ দিয়েছিল । সংগী সাথীদের অনেকেই এখনো এই স্মৃতি নিয়ে জীবিত আছেন এবং তাদের আসে পাশের বলয়ের লোকজনের কাছে ভাষানীর সেই অবদান ও তার ঐতিহাসিক চিঠির আবেদন চির অম্লান হয়ে থাকবে ।

দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জন দুর্ভোগের জন্য তার নেতৃত্বে ওইদিন লক্ষ জনতা লংমার্চ করে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানায়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন মওলানা ভাসানী। তাই ভাষানীর লংমার্চ ও তার আগে ইন্দিরা গান্ধীকে লিখা তার পত্রটি আজও শোষণ, বৈষম্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং দাবি আদায়ের পক্ষে বঞ্চিতদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে । যতদিন নদী ও পানির দাবী আদায় না হবে ততদিন এই ঐতিহাসিক পত্রের আবেদন চির অম্লান থাকবে ।

আমাদের নদীগুলীর বর্তমান অবস্থা এর অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের বর্তমান আন্দোলনের দুর্বলতা , নতজানু নেতৃত্ব ও দুরদর্শীতার অভাব আজ প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে । তাই জনগনের মধ্যে আসতে হবে সচেতনতা । জাগ্রত করতে হবে সকলকে । দেশের রাজনীতিবিদেরা এ ক্ষেত্রে চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ , কোনদিন তারা সফল হবেন তারো কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা ।
তাই, এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সকলকে, বিশেষ করে লেখক, কবি, শিল্পী সাহিত্যিকদেরকে , গড়ে তুলতে হবে গনসচেতনতা, আন্দোলন এক দিনে হয়না, জনগনের ভিতরে আস্তে আস্তে পানির জন্য , বাঁচার জন্য অান্দোলন দানা বাধতে হবে এর মাঝেই আসবে একটি বলিস্ঠ নেতৃত্ব ও সুসংগঠিত আন্দোলন , যাকে ভয় পাবে দেশী বিদেশী সকল অপশক্তি , সরকার বুঝতে পারবে জনগণের প্রাণের দাবী হতে এক চুল নড়লে তাদের পায়ের নীচের মাটি তাদের কোন দাদারাই টিকিয়ে রাখতে পারবেনা , সেই দিনটি পর্যন্ত আমাদের সকলের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে ।

মাওলানা ভাষানীর পত্র দুটির মত আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কান্ডারী হুসিয়ার কবিতার মর্মাবাণী সকলের কর্ণকুহরে পৌঁছিয়ে দিতে হবে :


দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!

দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন।
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার

গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ!
কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার!

কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!


জাতীয় কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হবে কান্ডারী হুসিয়ার । নদীর অধিকার আদায়ের জন্য মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানীর সংগ্রামী চেতনায় অভিশিক্ত হয়ে গড়ে তুলতে হবে ব্যপক গনসচেতনতা ও দুর্বার অান্দোলনের প্রস্তুতি। দেশের দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যব্ধ হতে হবে নদী ও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে । এ ক্ষেত্রে দলীয় সংর্কীর্নতার উর্ধে উঠে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহনযোগ্য ফ্রেমওয়ার্কের মধ্য হতে দেশে বিদেশে ব্যক্তিগত , দলীয়, প্রাতিষ্ঠানিক , ও সংস্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক সাংগঠনিক শক্তির সহায়তায় সল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসুচী নিয়ে যাপিয়ে পড়তে হবে ।

অনেক ধন্যবাদ যথাসময়ে এই পোষ্টটি দেয়ার জন্য , এ্‌ই পোষ্টটিও একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে বিশেষ করে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাষানীর ঐতিহাসিক পত্র দুটির পুলরুজ্জীবনের জন্য ।

কামনা করি নদী বাাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রচেষ্টা সফল সফল হোক ।

শুভেচ্ছা রইল

২৩ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৫

এক নিরুদ্দেশ পথিক বলেছেন: রাজশাহীর সেই ঐতিহাসিক সমাবেশে আপনার উপস্থিতির ব্যাপার খুব ভালো লাগছে। আপনার জন্য শ্রদ্ধা!

নদীর অধিকার আদায়ের জন্য মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানীর সংগ্রামী চেতনায় অভিশিক্ত হয়ে গড়ে তুলতে হবে ব্যপক গনসচেতনতা ও দুর্বার অান্দোলনের প্রস্তুতি। দেশের দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যব্ধ হতে হবে নদী ও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনে । এ ক্ষেত্রে দলীয় সংর্কীর্নতার উর্ধে উঠে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহনযোগ্য ফ্রেমওয়ার্কের মধ্য হতে দেশে বিদেশে ব্যক্তিগত , দলীয়, প্রাতিষ্ঠানিক , ও সংস্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক সাংগঠনিক শক্তির সহায়তায় সল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসুচী নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে ।

লক্ষাধিক মানুষ রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান হতে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চে সামিল হয়েছিল । সেই লংমার্চে একজন ইয়ং ছাত্র হিসাবে এই অধমও যোগ দিয়েছিল । সংগী সাথীদের অনেকেই এখনো এই স্মৃতি নিয়ে জীবিত আছেন এবং তাদের আসে পাশের বলয়ের লোকজনের কাছে ভাষানীর সেই অবদান ও তার ঐতিহাসিক চিঠির আবেদন চির অম্লান হয়ে থাকবে ।

দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জন দুর্ভোগের জন্য তার নেতৃত্বে ওইদিন লক্ষ জনতা লংমার্চ করে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানায়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন মওলানা ভাসানী। তাই ভাষানীর লংমার্চ ও তার আগে ইন্দিরা গান্ধীকে লিখা তার পত্রটি আজও শোষণ, বৈষম্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং দাবি আদায়ের পক্ষে বঞ্চিতদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে । যতদিন নদী ও পানির দাবী আদায় না হবে ততদিন এই ঐতিহাসিক পত্রের আবেদন চির অম্লান থাকবে ।

আমাদের নদীগুলীর বর্তমান অবস্থা এর অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের বর্তমান আন্দোলনের দুর্বলতা , নতজানু নেতৃত্ব ও দুরদর্শীতার অভাব আজ প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে । তাই জনগনের মধ্যে আসতে হবে সচেতনতা । জাগ্রত করতে হবে সকলকে । দেশের রাজনীতিবিদেরা এ ক্ষেত্রে চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ , কোনদিন তারা সফল হবেন তারো কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা ।
তাই, এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সকলকে, বিশেষ করে লেখক, কবি, শিল্পী সাহিত্যিকদেরকে , গড়ে তুলতে হবে গনসচেতনতা, আন্দোলন এক দিনে হয়না, জনগনের ভিতরে আস্তে আস্তে পানির জন্য , বাঁচার জন্য অান্দোলন দানা বাধতে হবে এর মাঝেই আসবে একটি বলিস্ঠ নেতৃত্ব ও সুসংগঠিত আন্দোলন , যাকে ভয় পাবে দেশী বিদেশী সকল অপশক্তি , সরকার বুঝতে পারবে জনগণের প্রাণের দাবী হতে এক চুল নড়লে তাদের পায়ের নীচের মাটি তাদের কোন দাদারাই টিকিয়ে রাখতে পারবেনা , সেই দিনটি পর্যন্ত আমাদের সকলের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে ।

৩| ২৩ শে মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৫৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
জাতিসংঘে না গিয়ে ভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল ব্যবহার ইতিমধ্যে ফলপ্রসু হয়েছে।
ভিন্ন ফোরাম ব্যাবহার করে কঠিন সমদ্রসীমা সমস্যার স্থায়ী সমধান হয়েছে।
ছিটমহল এবং স্থল সীমান্তও চিহ্নিত ও স্থায়ী হয়েছে।

জলবায়ু ও ভু পরিবর্তনজানিত কারনে নদীর পানির প্রবাহ অনেকটাই কমে যাওয়াতে পানির হিস্যা ভাগাভাগি করাটা কঠিন হয়ে গেছে। এখন এইসব বাঁধ ভেঙ্গেদেয়া ছাড়া সমাধানের আর কোন উপায় নেই।
উজান দেশের আন্তর্জাতিক নদীগুলোতে বাধ দেয়া নিষিদ্ধ করা খুবই জরুরি।

সমদ্রসীমা সমস্যার মত এই সমস্যারও স্থায়ী সমধান হবে আশাকরি।

২৩ শে মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:৪০

এক নিরুদ্দেশ পথিক বলেছেন: ১। জলবায়ু ও ভু পরিবর্তনজানিত কারনে নদীর পানির প্রবাহ অনেকটাই কমে যাওয়াতে পানির হিস্যা ভাগাভাগি করাটা কঠিন হয়ে গেছে।

আপনার বক্তব্য আংশিক সত্য, ভারত যে একতরফা ভাবে সবগুলো নদীর পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে এটা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে লাউড এন্ড ক্লিয়ার করে বলতে সমস্যা কোথায়? এই সমস্যা সরকারের ঘনিষ্ঠ সরমর্থক প্রায় সবার। কেন? দেখুন, তিস্তায় একবারেই পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এমন না যে জলবায়ু ও ভু পরিবর্তনজানিত কারণে গজল ডোবা ব্যারেজের উজানে পানি নেই!!!

বাংলাদেশের সারফেইস পানি না থাকার মূল কারণ জলবায়ু ও ভূ পরিবর্তন নয়, মূল কারণ ভারতের একচেটিয়া শুষ্ক মৌসুম পানি প্রত্যাহার। এটা বাংলাদেশের সবার লাইড এন্ড ক্লিয়ারলি বলা দরকার।


২। উজান দেশের আন্তর্জাতিক নদীগুলোতে বাধ দেয়া নিষিদ্ধ করা খুবই জরুরি।
এটা করার জন্য কেউ নেই, দুনিয়াতে। পারস্পরিক বুঝাপড়া, নেগোসিয়েশন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন, জাতিসংঘের মধ্যমে, দ্রশ্যমান রাজনৈতিক চাপ এবং নাগরিক আন্দোলনের মধ্যমে একটা দফারফায় আসতে হবে।

৩। পানিপ্রবাহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যায় না?
না, যাওয়া যায় না। সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পেরেছি, কারণ আমরা অন্য একটি আইনের সদস্য, যাকে ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য ল অব দ্য সি হিসেবে অভিহিত করা হয়। এর সদস্য বাংলাদেশ এবং ভারত। সমুদ্রের ক্ষেত্রে আমরা ঠিক আন্তর্জাতিক আদালতে যাইনি, আরবিট্রেশনে গেছি। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশনে গেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন কিন্তু আন্তর্জাতিক নদী আইনের তুলনায় স্পষ্টতর এবং অনেক পুরনো। আর এর সদস্য সবাই। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার— সবাই। ব্যবহারের ক্ষেত্রে জনজীবনে নদীর পানি যে পরিমাণে প্রয়োজন, সমুদ্রের পানির ক্ষেত্রে তা তেমনভাবে অনুভব হয় না। নদীর পানি দ্বারা দেশের প্রতিটি মানুষ প্রভাবিত হয়, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারতের মতো দেশ। সমুদ্রের পানি দ্বারা ওইভাবে প্রভাবিত হয় না। হলেও তা নদীর পানির মতো মাত্রায় নয়। ফলে সমুদ্রের পানিস্বল্পতা নিয়ে কখনো কোনো দেশে আলোচনা হয় না। সমুদ্রের পানি ব্যবহার, দূষণ নিয়ে আলোচনা হয়। এজন্য সমুদ্রের পানির ক্ষেত্রে কম্পিটিং ইন্টারেস্টটা নদীর পানির মতো এত তীব্র নয়। এজন্য দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন, রিজিওনাল আরবিট্রেশন, রিজিওনাল আদালতে বহু নিষ্পত্তির ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন নিয়ে এমন ঘটনা খুবই বিরল। আন্তর্জাতিক নদী আইন নিয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিষ্পত্তির ঘটনা ঘটেছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে। এটা হয়েছে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির মধ্যে, ১৯৯৫ সালে। এর পর আন্তর্জাতিক আদালতে নদী নিয়ে আর কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশে যে বিশেষ সমস্যা রয়েছে, যা আমরা অনেকে জানি না, তা হলো, ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে একটা স্ট্যাচুট রয়েছে, যে আইন বলে এটা গঠিত, সেখানে কম্পালসারি জুরিসডিকশন নামে একটি বিধান রয়েছে। ওই বিধানটা যদি কোনো দেশ সই করে এবং তা মেনে নেয়, শুধু তখনই তারা আটোমেটিক্যালি সেখানে যেতে পারে। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের কম্পালসারি জুরিসডিকশন মানে না। এতে সই করেনি বাংলাদেশ। আর ভারত অনেকগুলো শর্ত দিয়ে তা মেনেছে। শর্তগুলোর একটি হচ্ছে, পানি নিয়ে কোনো ধরনের বিরোধ হলে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া যাবে না। ফলে সেখানে যাওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই। আরেকটি সুযোগ থাকত যদি গঙ্গা নিয়ে চুক্তির সময় ভারত ও বাংলাদেশ একটা ক্লজ রাখত যে, গঙ্গা নদীর চুক্তি বা অন্য নদীর পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ হলে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া যাবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো ক্লজ সেখানে নেই। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বহুবার বলা হয়েছে, এক বছর আগে করা নেপাল ও ভারতের মধ্যকার মহাকালী চুক্তি, ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ইন্দুজ চুক্তি অনুসারে আন্তর্জাতিক আদালত না হলেও আমাদের যেন একটি থার্ড পার্টি ডিসপিউটাইজেশনের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু ভারত তা কোনোভাবেই মানতে রাজি হয়নি। যখন ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক কনভেনশন হয়, তখনো ভারত তিনটি আর্টিকেলের বিরুদ্ধে ক্যাটাগরিক্যালি আপত্তি জানায়। তার মধ্যে একটি ছিল থার্ড পার্টি ডিসপিউট রেজুলেশন। ফলে এটা বলা যায় যে, সাধারণভাবে নদীর পানি বণ্টনে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভারতের তীব্র আপত্তি রয়েছে। মহাকালী চুক্তির সময় সীমিত ক্ষেত্রে বিষয়টিতে ভারত রাজি হয়েছে। কারণ নেপাল উচ্চ অববাহিকার দেশ। ষাটের দশকে পাকিস্তানের সঙ্গে থার্ড পার্টি ডিসপিউট রেজুলেশন রাজি হয়েছিল ভারত, কারণ তখন পাকিস্তান সামরিক দিক থেকে ভারতের সমান ছিল এবং সেখানে বিশ্বব্যাংকের বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এটি করতে ভারত কখনো রাজি হয় না। সুতরাং আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। তবে মনে রাখতে হবে ভারত যে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে বা একতরফাভাবে বন্যার পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশকে ভাসিয়ে দেয়, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিবেশ ফোরামে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেমন— সিবিডি নামে একটি কনভেনশন রয়েছে, অর্থাত্ কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি। এছাড়া রয়েছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশন, রামসার কনভেনশন, ইন্টারন্যাশনাল ওয়েট ল্যান্ড কনভেনশন। এসব কনভেনশনের আলোকে কিছু ফোরাম গঠিত হয়েছে, এ চুক্তিগুলোর অধীনে কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও নদীর পানি নিয়ে আরগুমেন্টগুলো করা সম্ভব। যেমন— বায়োডাইভারসিটি কনভেনশনের যে ফোরাম রয়েছে, সেখানে বলা সম্ভব যে ভারত পানি প্রত্যাহার করছে বলে আমাদের প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বলতে পারে, ভারত পানি প্রত্যাহার করার কারণে আমাদের যে বিশ্বঐতিহ্য রয়েছে, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রামসার কনভেনশনে বাংলাদেশ বলতে পারে, ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করার কারণে দেশের ওয়েটল্যান্ডগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ ফোরামগুলোর কাছে এগুলো অবশ্যই তুলে ধরা যেতে পারে।

৪| ১১ ই মে, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আমাদের নেতৃত্ব ও আমরা নাগরিকরা পানি আধিকার ও প্রাপ্তির বুদ্ধিবৃত্তিক ও কার্যকর কৌশল, এমনকি কোন আন্দোলন দাঁড়া করাতে পারিনি। প্রভু ও জুজু তোষণের রাজনীতি, পানি নদী ও পরিবেশের প্রতি দায়হীন নাগরিক ভোগবাদিতা দেশকে মরুকায়ণে নিয়ে যাচ্ছে।

+++

ভারত যে একতরফা ভাবে সবগুলো নদীর পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে এটা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে লাউড এন্ড ক্লিয়ার করে বলতে সমস্যা কোথায়? এই সমস্যা সরকারের ঘনিষ্ঠ সরমর্থক প্রায় সবার। কেন? দেখুন, তিস্তায় একবারেই পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এমন না যে জলবায়ু ও ভু পরিবর্তনজানিত কারণে গজল ডোবা ব্যারেজের উজানে পানি নেই!!!

বাংলাদেশের সারফেইস পানি না থাকার মূল কারণ জলবায়ু ও ভূ পরিবর্তন নয়, মূল কারণ ভারতের একচেটিয়া শুষ্ক মৌসুম পানি প্রত্যাহার। এটা বাংলাদেশের সবার লাইড এন্ড ক্লিয়ারলি বলা দরকার।

+++++++++++++++++++++

অনেক দেরীতে চোকে পড়ায় দু:খিত!

দারুন তথ্য ভিত্তিক এবং অসাধারন লেখনি।

আমাের উজবুক মিডিয়ার দিকে তাকালে মনে হয়- হয় দেশে কোন নদী নেই! অথবা নদীতে কোন সমস্যা নেই!
ফারাক্কার মতো ইস্যুতেও তাদের কন্ঠ মিনমিনে!!!!! শেইম!!!!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.