নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যুক্তির মাঝেই সমাধান খুঁজি।

উড়ন্ত বাসনা

জীবন কে ভালবাসি।

উড়ন্ত বাসনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করেছে কি?

২৭ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৯:১২

একটি সংবাদ দিয়ে শুরু করা যাক, যা হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। আর সহজ সরল মনের হলে হয়তো কান্নাও আসতে পারে। বিবেকবানরা কষ্ট নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিকল্পনাহীনতার দায়ে আক্ষেপ করবেন। তবে করার কিছু নেই,রাষ্ট্র যেখানে ব্যর্থ সেখানে সাধারণ জনগণের আবেগ আর সরল মন উপেক্ষিত। অধিকার যেখানে অনুপস্থিত সেখানে চাহিদা পূরণের আশা অসম্ভব কল্পনা। এবার আসি সেই সংবাদে। সাত জুলাই অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন একটি সংবাদ ছেপেছে যার শিরোনাম “সন্তানের জন্য দুধ কিনতে না পেরে লোকালয়ে বাবার কান্না”! যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পিতা তার ২২দিন বয়সী সন্তানের জন্য দুধ কিনতে না পারায় লোকালয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। হতভাগা ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তার আয়ের পথটি বন্ধ হয়ে যায়। বাবা তার পরিবারের জন্য লোকালয়ে কান্না করতে করতে বলেন, আমি একজন সিএনজিচালক। আমার পরিবারে আমিই আয়ের একমাত্র ব্যক্তি। আমার চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ছয় সদস্যের সংসার। দীর্ঘদিন আয়ের পথ বন্ধ থাকলেও থেমে নেই সংসারের খরচ। সরকারের ডাকা লকডাউনে গত ২৩ জুন থেকে সড়কে গাড়ি চালানো নিষেধ রয়েছে। এরপর থেকে আর গাড়ি চালাতে পারিনি। বর্তমান আমার আয় না থাকায় আমি ব্যর্থ। অনেকের কাছে টাকা ধার চেয়েছি, কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে আমাকে কোনও সহযোগিতা করা হয়নি। চাইলে দেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে অনেকবার, কিন্তু ফল পাইনি। এমন গল্প আরও অনেক আছে যারা অনলাইন পোর্টাল পড়েন তারা এসব খবর বেশি দেখেন।

নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রের দায় বলতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে যা বোঝায় তা বর্তমানে দেশে শূন্যের কোঠায়। জবাবদিহিতা গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলেও তা পুস্তকে বিদ্যমান। ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতা না থাকায় স্বাস্থ্যখাতের বিতিকিচ্ছি অবস্থা। সেই খবর রাখে কে? গত বছর জুনে দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে দৈনিক সংগ্রাম ও দিনকালে আর্টিকেল লিখেছিলাম। পরবর্তীতে তা কয়েকটি অনলাইন নামের কার্টেসি দিয়ে ছাপে। সেখানে ২৭ লাখ টাকার পর্দা ও বালিশ তত্ত্বের উপখ্যান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থার কথা টেনেছিলাম। অন্যান্য পত্রিকা আমার সে আর্টিকেল ছাপেনি। সাহস করেনি নাকি প্রয়োজন মনে করেনি তা জানি না।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাস নিয়ে আগাম সতর্ক থাকলেও বাংলাদেশ ছিল টিভির পর্দায় উন্নয়নের জয়গান নিয়ে। দ্বিতীয় ঢেউ আসার সম্ভবনার কথা আগেই জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশ মুখে মুখে প্রস্তুতির কথা বললেও বাস্তবে দেখা যায় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সঙ্কট! পর্যাপ্ত অক্সিজেন নেই। রোগী বেশি কিন্তু বেড নেই। স্বাস্থ্যখাতের করাপশন খোঁজতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন স্বাস্থ্য বিটের প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম।

করোনার দোহাই দিয়ে আগাম প্রস্তুতি না নিয়ে লকডাউন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষের জীবন কেমন যাচ্ছে তা কিন্তু শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রুমে বসে উপলব্ধি করা সম্ভব না। রাষ্ট্র যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে ব্যর্থ সেখানে করোনা নিয়ন্ত্রণ ও লকডাউন কেমন ফল বয়ে আনবে তা জানা নেই।

গত আট জুলাই দৈনিক কালের কণ্ঠ তাদের অনলাইন ভার্সনে একটি খবর প্রকাশ করেছে ‘আমারে কামে নিয়া যান স্যার, আমারে নিয়া যান’। খবরটি ওই পত্রিকার রিপোর্টারের নিজের সঙ্গে ঘটা ঘটনা। রাজধানীর নতুনবাজারসংলগ্ন ফুটপাতে দেখা গেল হাজারখানেক নারী-পুরুষ। এগিয়ে যেতেই দ্রুত ছুটে এলেন তাদের অনেকে। কেউ কেউ জানতে চাইলেন, দিনমজুর হিসেবে কাজের লোক লাগবে কি না। কেউ কেউ বললেন, ‘আমারে কামে (কাজে) নিয়া যান স্যার, আমারে নিয়া যান...।’

নিজের পরিচয় দিতেই কেউ কেউ সরে গেলেন। কেউ কেউ বললেন, ‘পরিচিত কোথাও আমাদের একটা কাজের ব্যবস্থা কইরা দেন। না হইলে অন্তত সরকারের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা কইরা দেন। ত্রাণের ব্যবস্থা কইরা দেন।’ অন্তত ৫০ জন এমন অনুরোধ করে এই প্রতিবেদকের কাছে নিজেদের নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর দেন। বলেন, সম্ভব হলে কোনো ত্রাণের তালিকায় যেন তাদের নামগুলো তোলার ব্যবস্থা করা হয়।

এমন ঘটনা গত বছর লকডাউনেও ঘটেছিল। রাষ্ট্র কি তার নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছে? এবারের কঠোর নির্দেশনা ও কড়াকড়িতে বেশ কিছু আপত্তিজনক ঘটনা ঘটেছে। প্রথম সপ্তাহের আরোপিত কড়াকড়িতে দেখা গেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রাস্তায় সাধারণ নাগরিকদের কান ধরে উঠবস করাচ্ছে! যা অন্যায্য ও আইন বহির্ভূত। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের অসম্মান করতে পারে না। এটা দেশ হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। আইন অমান্য করলে মুচলেকা বা জরিমানা গুনতে পারে কিন্তু প্রকাশ্য কান ধরানো অসম্মানজনক। আবার দেখা গেল গণহারে আটকের ঘটনা! আদালতে ঠাই নাই তাই প্রিজন ভ্যানেই রেখে আটককৃতদের বিচারিক কাজ সেরেছে। তারা কেউ আসামি না লকডাউন না মানা সাধারণ নাগরিক।

এবার আরেকটি ঘটনায় আসা যাক,“ইট বিছিয়ে সিরিয়াল দিয়ে টিসিবির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা” এমন শিরোনামে সংবাদ ছেপেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজ। লকডাউনের অষ্টম দিনে সকাল ৯টায় রাজধানীর নিউমার্কেটের এক নম্বর গেটের বিপরীত দিকের রাস্তা ও ফুটপাতে একটি ইটের ওপর বসে এসব কথা বলছিলেন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি।
নিউমার্কেটের একটি জুতার দোকানে মাসিক সাত হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার। লকডাউনের কারণে দোকান বন্ধ। বেতনও পাচ্ছেন না। তাই টিসিবির ট্রাক কখন আসবে সে অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। টিসিবির ট্রাকে প্রতিদিন মাত্র ২০০ জনের পণ্য দেয়া হয়। কিন্তু পণ্য নিতে তিনগুণেরও বেশি মানুষের ভিড় থাকে। তাছাড়া মালামাল নিয়ে ট্রাকটি আসার নির্দিষ্ট সময়ও নেই। রাষ্ট্রের কি দায় নেই? নাগরিকের মৌলিক অধিকার ন্যায্যতা আদায় করা কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব না?

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক দিনকাল ও অনলাইন পোর্টাল শীর্ষ নিউজে আর্টিকেল লিখেছিলাম। তিন দিন পর পত্রিকার পাতায় খবর আসলো প্রকল্পের বাড়িগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ ঝেরেছেন। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে মফঃস্বল সাংবাদিকরা শুরু থেকেই লিখে আসছেন। জানা গেল প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহ নির্মাণে অনিয়ম-অসঙ্গতি ও অগ্রগতি পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন পাঁচটি টিম। দেখা যাক শাস্তির আওতায় কারা আসে? আবার সরকারি টাকায় সংস্কার করা হবে বলেও জানা গেছে। এই অনিয়মের শেষ কোথায়?

গত বছর মহামারী থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হিসেবে শুরু হয়েছিল লকডাউন। এতে জীবন রক্ষা পেলেও থমকে ছিল মানুষের জীবিকা। ধসে পড়েছিল বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি। দুর্ভিক্ষসহ কঠিন বাস্তবতার দিকে ছিল বিশ্ব। তাই পরিস্থিতি বুঝে ধীরে ধীরে অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিল করেছিল বিভিন্ন দেশ। দ্বিতীয়বার আর এই পন্থায় যায়নি। অবস্থা বেগতি থাকায় অঞ্চল ভিত্তিক স্বল্প পরিসরে বিধি নিষেধ আরোপ করেছিল।

যে দেশ দিয়ে শুরু হয়েছিল করোনাভাইরাস আক্রমণ সেই চীনের উহানে লকডাউন ছিল সর্বোচ্চ দুই মাস। পরে আর ওই অবস্থাতে যেতে হয়নি তাদের। পরিস্থিতি শিখে ফেলায় মোকাবেলার সকল ফর্মুলা আত্মস্থ হয়ে গেছে। অস্ট্রিয়া দ্বিতীয়বার লকডাউন পদ্ধতি অবলম্বন করেনি। সরকারি দেওয়া কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে অল্প দিনে খুলে দেওয়া হয়। দেশটির প্রতিটি নাগরিককে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার এবং গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে এই শর্তে চলতে থাকে বিধি নিষেধ।

করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তালিকায় উইরোপে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল স্পেন। এক মাসের বেশি সময় পর লকডাউন শিথিল করে স্পেন। চলতি বছর দ্বিতীয়বারের জন্য সেই পন্থা আর নেয়নি দেশটি। বরং কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে কাজের নিশ্চয়তা দিয়েছস্পেন সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চার সপ্তাহের পর লকডাউন প্রত্যাহারের পথ বেছে নিয়েছিল জার্মানি। দ্বিতীয় বার সে পথে আসেনি।

উন্নত দেশগুলো তার নাগরিকের ওপর অসম্মানজনক আচরণ করেনি। খাদ্যের অভাবে কিংবা বাচ্চার দুধের জন্য বাজারে এসে হাউমাউ করে কান্না করেছে এমন গল্প মিডিয়ায় আসেনি।

এমন দৃশ্যও আসেনি যে চিকিৎসা না পেয়ে মোটরসাইকেলে করে অক্সিজেনের সিলিন্ডারসহ মাকে নিয়ে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়েছে সন্তান। মৌলিক অধিকার আদায়ে সেই রাষ্ট্রযন্ত্র উদার।

তাদের স্বাস্থ্যসেবা বিতিকিচ্ছি অবস্থা নেই। দুর্নীতি দায়ে অভিযুক্ত হলেই পদত্যাগ এমন নজির বাংলাদেশ কবে স্থাপন করতে পারবে সেই সময়ের অপেক্ষায়। আশার বাণী নিয়ে এই দেশে করোনা মুক্ত নীল আকাশ দেখতে চাই এটাই আকাশওয়ালার কাছে আকুতি জানাই।






মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৯:২১

চাঁদগাজী বলেছেন:



"আকাশওয়ালাকে" বলেন সরকার বদলায়ে দি্তে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.