নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্নানুসন্ধানে আছি।

আলী আজম গওহর

ছাইপাঁশ

আলী আজম গওহর › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন ভক্ত ও পাঠক হিসেবে আমার চোখে হুমায়ুন আহমেদ স্যর

১২ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩২


১৩ নভেম্বর মধ্যরাতে জন্মগ্রহণ করলেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে এমনই এক মধ্যরাতে লিখলেন প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'নন্দিত নরকে'।এরপর আর থামার প্রয়োজন বোধ করলেন না,ক্লান্ত হলেননা।"লেখালেখি করে ত্রিশ বছর পার করলাম।আমি আনন্দিত,ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি।"কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্য নিশ্চিত জানার পর নিজের মৃত্যর পরের জগত নিয়ে 'মেঘের উপর বাড়ি ' চমৎকার বইটি লিখলেন।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লিখলেন ২০০ টির বেশি গল্পগ্রন্থ,নির্মাণ করলেন ৮টি চলচ্চিত্র ও বেশকিছু টিভি নাটক।পেলেন তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা, মানুষের ভালোবাসা এবং বিস্তার করলেন বিপুল প্রভাব।বিটিভিতে প্রচারিত নাটক 'কোথাও কেউ নেই' এর চরিত্র বাকের ভাই এর ফাঁসির প্রতিবাদে দেশে যা হয়েছিল সেটা সবার জানা।তার কলম জাদুর স্পর্শে দেশে ও দেশের বাহিরে তৈরি হওয়ায় হিমুদের দেখলেই বোঝাযায় পাঠক সমাজে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ ছিল না।তার সময়ের লেখকদের জন্য তিনি বিভীষিকা ছিলেনতো বটেই।নতুন লেখকদের উপরও উনার প্রভাব ব্যাপক। উনার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব আনিসুল হক স্যারের ভাষায়
"বই এই দেশের মানুষ বহু দিন ধরে পড়ছে
কিন্তু তিনি যেন হ্যামিলিনের জাদুকর পুস্তক পাঠকেরা ছুটল তাঁর পেছনে পেছনে
আর এই দেশে গড়ে উঠল প্রকাশনালয়
এই দেশের মানুষ টিভি নাটক দেখেছে এর আগেও
কিন্তু তিনি কলম ধরার পর আর কিছুই আগের মতো রইল না...
তিনি এক আশ্চর্য জাদুকর
তাঁর কলমের কাঠি দিয়ে পাঁচটা প্রজন্মকে আবিষ্ট করে রেখেছিলেন"
স্কুল,কলেজে পড়ার সময় দেখেছিলাম যার এত প্রভাব, জনপ্রিয়তা সেই হুমায়ুন আহমেদ স্যরের কোনো লেখা পাঠ্যবই-এ সংযুক্ত হয়নি অথচ বেশিরভাগ নামকরা ও জনপ্রিয় লেখকদের লিখা পাঠ্যবই এ সংযুক্ত হয়েছে।তখন থেকেই যে প্রশ্ন আমার মনে ঘুরপাক খায় তাহলো হুমায়ুন আহমেদ স্যারের কোনো রচনা পাঠ্যবই এ স্থান পেলনা কেন?
আমি বেশিরভাগ সময়ে দেখেছি সাধারনত বর্ননা, উপমা,বাস্তবতা,শব্দের ঝংকার, চিন্তার বিস্তৃতি,বাঙালির স্বাভাবিক চরিত্রের দ্বন্দ-সংঘাত সম্পূর্ণ লিখাগুলো উৎকৃষ্ট সাহিত্য বলে গণ্য হয়েছে এবং পাঠ্য বই এ স্থান পেয়েছিল এবং পায়।
প্রক্ষান্তরে, হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্য সহজ প্রকাশভঙ্গী, বর্ননা,উপমা সীমিত এবং সংলাপ,অতিপ্রাকৃতিক ও রসিকতাপ্রবন। তিনি অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাবলিকে এমনভাবে অবতারন করেন যা পড়ার সময় সত্য মনে হয়।(এক্ষেত্রে তিনি মার্কিন লেখক স্টেইনবেক দ্বারা প্রভাবিত)।হয়তোবা এজন্যই হুমায়ুন সাহিত্য পাঠ্যবই এ স্থান পায় নি।আর একই কারনে হুমায়ুন সাহিত্য জনপ্রিয়। কঠিন বর্ননা,উপমা,শব্দ কল্পনা করার ঝামেলা নেই।অল্প পরিশ্রমে সংলাপের সাহায্য অতিপ্রাকৃতিক বিষয়ের রসআহরণ করে হুমায়ুন সাহিত্য হারিয়ে যাওয়া যায়।যা কিছু সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদকদের ভাষায় পাঠকভোলানো সাহিত্য,যেগুলো রচনা করে তিনি সাহিত্যর বিরাট ক্ষতি করেছেন।তিনি নিজেও বলেছেন যে তিনি বই এর পাঠক বৃদ্ধি করেননি নিজের লিখা বই এর পাঠক বৃদ্ধি করেছেন।অর্থাৎ বাঙালী যেরকম চাই ঠিক সেরকম সাহিত্য রচনা করেছেন।ফলে যারা বই নামক জিনিশটাকে অত্যন্ত ভয় পায় তারাও অত্যন্ত আগ্রহের সাথে হুমায়ুন সাহিত্য পড়ে এতেই বা ক্ষতি কি?
জন্মদিনের শুভেচ্ছা, শুভ জন্মদিন স্যার(উনার কাছে শুভেচ্ছা পৌছাবে কি?)ও একটা প্রিয় উক্তি দিয়ে শেষ করি।
"মানুষ এমন একটা প্রাণি যাকে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কোনটাই করা যায় না।"
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন বই।
ছবিঃনেট।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:০৩

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন:
শান্তিতে ঘুমাও গল্পের যাদুকর।

শুভ জন্মদিন স্যার ।

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:২৯

আলী আজম গওহর বলেছেন: আমাদের সবার দোয়ায় তিনি অবশ্যই শান্তিতে ঘুমাবেন।

২| ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:২৮

চাঁদগাজী বলেছেন:



মনে হচ্ছে, পাঠকদের মাঝে থাকবেন বেশ কিছু বছর।

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৭

আলী আজম গওহর বলেছেন: অনেক জনপ্রিয় লেখক কালের গর্ভে হারিয়ে গেছেন।কোটেশন, আকর্ষণীয় তথ্য,বা একলাইনের বই/মুভি রিভিউ উনার সাহিত্যকে জনপ্রিয় করেছে।মানুষ যখন ওগুলোর মূল উৎসের দিকে ঝুকবে তখন উনার জনপ্রিয়তা কিছুটা কমবে।তবে আগামী ১৫০ বছর।তিনি নিঃসন্দেহে স্বদর্পে থাকবে।

৩| ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লিখককে নিয়ে লিখার জন্য । সমকালীন বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের ৬৫তম জন্মদিনে জানাই হৃদয় নিংরানো ভালবাসা। অনেক দিন ধরেই তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গস্পর্শী। তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্যে তুলে ধরে অআমাদেরকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে দিয়েই হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের তাত্পর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উপন্যাসে পাঠকের কাছে নন্দিত হয়ে উঠেছেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা নিয়ে। আমৃত্যু সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে ভাটার টান পড়েনি এবং তা অআগামী কয়েক শতকেও থাকবে অমলীন ।

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৪

আলী আজম গওহর বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।

৪| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৩

প্রামানিক বলেছেন: প্রিয় লেখককে নিয়ে লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:০১

আলী আজম গওহর বলেছেন: মন্তব্যর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৫| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



নতুন কিছু নিয়ে লেখেন; ঢাকা ইুনিভার্সিটির কোন বিখ্যাত শিক্ষককে নিয়ে লেখেন

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৮

আলী আজম গওহর বলেছেন: একজন ব্লগার হিসেবে নিশ্চয় জানেন,লিখালিখি করার জন্য প্রচুর পড়তে হয়,তারচেয়ে বেশি চিন্তা করতে হয়ে সেইসাথে ধারাবাহিকতা থাকতে হয়।সময় স্বল্পতার জন্য অফলাইনে পড়ার মধ্যই বেশিরভাগ সিমাবদ্ধ থাকি।লিখার ইচ্ছা তাকলেও হয়ে ওঠেনা।
যাই হোক খোজ নেওয়া ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

৬| ১৭ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৪২

চাঁদগাজী বলেছেন:


বছর গড়ায়ে গেলো, না লিখলে ভাবনাগুলো হারিয়ে যাবে।

২০ শে জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪১

আলী আজম গওহর বলেছেন: আমাকে এখন প্রচুর পরিমানে একাডেমিক লেখাপড়া করতে হচ্ছে।দীর্ঘদিন অনেককিছু অগোছালো ছিল।সেগুলো ঠিক করতে হচ্ছে।
আমি অনেক পরিনত হয়ে আর সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে নিয়মিত লিখালিখি শুরু করব ইনশাল্লাহ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.