নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আই এম নোবডি

শকুন দৃিষ্ট

কিছুই বলার নাই

শকুন দৃিষ্ট › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঋণ

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:১৬

ঘোষক যখন তাঁর নামটা ঘোষণা করলেন, মৃদু হেসে উঠে দাঁড়ালেন ডক্টর অশেষ সান্যাল। সামনের টেবিলে রাখা বিরাট পুষ্পস্তবকের পাশে সুদৃশ্য মানপত্র আর পুরস্কারের চেকটা সাবধানে রেখে, ধীর পায়ে গিয়ে দাঁড়ালেন পোডিয়ামের সামনে।

কর্মবহুল, ব্যস্ত জীবনে অনেকবারই সভা-সমিতি-সেমিনারের বক্তৃতামঞ্চে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতে হয়েছে প্রতিভাধর গণিতবিদ অশেষ সান্যালকে। পোডিয়ামে দাঁড়ানো, স্পটলাইটের আলো গায়ে নেওয়া তাঁর কাছে জলভাত। সংবর্ধনার উত্তরে ধন্যবাদসূচক ভাষণ এতবার দিয়েছেন, এখন আর ভাবতে-টাবতে হয় না। মুখস্থ বয়ানের মতো তরতর করে ভাষার স্রোত চলে আসে।

কিন্তু আজ, জীবনের সর্ববৃহৎ পুরস্কারটি পাওয়ার পর, পোডিয়ামের মাউথপিসের দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন অশেষবাবু। যেন কথা হাতড়াচ্ছেন, ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। দর্শকদের মৃদু গুঞ্জন ও উসখুসানিতে তাঁর অন্যমনস্কতার ঘোরটা ছিঁড়ে গেল। যেন একটু চমকে উঠে নিজেকে গুছিয়ে নিলেন, তার পর ঈষৎ অপ্রতিভ হেসে শুরু করলেন তাঁর ভাষণ।

- আজ এই আলো-ঝলমলে পুরস্কার-মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি মুহূর্তের জন্য আত্মবিস্মৃত হয়ে পড়েছিলাম, আপনারা দেখেছেন। হয়তো আপনারা কিঞ্চিৎ অবাক হয়েছেন, কেউ কেউ হয়তো এ-ও ভেবেছেন যে গণিতের গবেষণার জন্য এই বিপুল সম্মান ও বিশাল অর্থমূল্যের পুরস্কারটি পেয়ে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছি। অনেকে এমন প্রত্যাশাও করছেন, আমি অতি বিনয়ের সঙ্গে বক্তব্য রাখব যে এত বড় সম্মানের আমি যোগ্য নই... ইত্যাদি; যেমন প্রথাগতভাবে বলা হয়ে থাকে।

আজ্ঞে হ্যাঁ, মহোদয়গণ, আপনারা সকলেই ঠিক ভেবেছেন। আমি সত্যিই বিমূঢ় হয়ে পড়েছি এক তীব্র আবেগের ধাক্কায়। এবং, আমি সত্যিই এই পুরস্কারের যোগ্য প্রাপক নই। এ আমার বিনয় নয়, নিছক প্রথাসম্মত লিপ-সার্ভিস নয়। এ আমার অন্তরের কথা।

আজ এই মঞ্চ থেকে আপনাদের বিস্মিত করার জন্যই আমি একটি পুরানো তথ্য তুলে ধরতে চাই। এতক্ষণ ধরে অন্যান্য গুণিজনরা আমার সম্বন্ধে যেসব ভারী ভারী এবং মনোহর বিশেষণ প্রয়োগ করলেন, তার পরে এই কথাটা শুনলে অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু কথাটা সত্যি। আমি ছোটবেলায় অঙ্কে দারুণ কাঁচা ছিলাম।

শুধু কাঁচা বললে কিছুই বলা হল না। ওই একটি বিষয়কে প্রচন্ড ভয় পেতাম আমি। অঙ্কের নাম শুনলে আমার গায়ে জ্বর আসত। অঙ্কের ক্লাসকে মনে হত কনসেনট্রেশন ক্যাম্প। অন্তত ক্লাস সিক্স অবধি, যতদূর মনে পড়ে, আমার অঙ্কের নম্বর পাঁচ পেরোয়নি কখনও। হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন আপনারা। পাঁচ!

আমাকে অঙ্কে মজবুত করার জন্য আমার অভিভাবকরা অনেক খুঁজেপেতে এক জাঁদরেল টিউটর জোগাড় করেছিলেন। গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করার জন্য খ্যাতি ছিল তাঁর। ইয়াব্বড় গোঁফ, মোটা ভুরুর নিচে আগুনে চোখ, হাতে বেতের ছড়ি। গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর। মাঝে মাঝে যখন ধমকাতেন, আওয়াজটা মেঘগর্জনের মতো লাগত। ঘড়ি ধরে দু’ঘন্টা, সপ্তাহে চারদিন তিনি আমাকে হামানদিস্তের মধ্যে ফেলে অঙ্কের মুগুর দিয়ে থ্যাঁতলাতেন। এই বুড়োবয়সে আর লুকিয়ে লাভ নেই, সেই টিউটরটিকে আমি সাক্ষাৎ যম মনে করতাম। যেদিন-যেদিন তাঁর আসার কথা, সকাল থেকেই আমার হাত-পা ঘামতে শুরু করত।

তাঁর পড়ানোর পদ্ধতিটিও ছিল ভয়াবহ। প্রশ্নমালার পর প্রশ্নমালা অঙ্ক গড়গড় করে কষে দিতেন খাতায়, বুঝেছি কি বুঝিনি সে-বিষয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা ছিল না। নিজের কষা শেষ হলেই নির্দেশ দিতেন, অন্য খাতায় সেই অঙ্কগুলিই কষতে হবে আমাকে। না পারলেই বেদম প্রহার। প্রাণের দায়ে আমি ওই কষানো আঁকগুলিকে দাঁড়ি-কমা-সমেত মুখস্থ করার চেষ্টা করতাম। তার ফল হত, মোক্ষম সময়ে উল্টোপাল্টা হয়ে যেত সব, স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা করত, বুদ্ধিতে জট পড়ে যেত। বাড়িতে মার খাওয়ার মাত্রা যত বাড়ত, তত কমত পরীক্ষার নম্বর। আর ততই তীব্র হত অঙ্কের ভীতি।

সিক্সের হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষায় একশোর মধ্যে শূন্য পেলাম।
তখন আমার জ্যাঠামশায় একদিন সেই বিভীষণ-টিউটরকে বিদায় দিলেন। বাবাকে বললেন, একটা লোক আছে হাতে, অঙ্কটঙ্ক জানে বলে শুনেছি... কিন্তু বেজায় গরিব। টিউশনি খুঁজছে। ফর আ চেঞ্জ, একবার দেখাই যাক না। যদি বুঝিয়ে-টুঝিয়ে মাথায় কিছু ঢোকাতে পারে! মেরেধরে তো কিছু হল না।

আমার বুকটা কিন্তু ঢিপঢিপ করছিল। আবার নতুন মাস্টার! তপ্ত চাটু থেকে গনগনে উনুনে এসে পড়ব না তো! ঠাকুরকে ডাকছিলাম, যেন চেহারাটা দেখেই হৃৎকম্প না হয়, যেন একটু নরমসরম মানুষ হয়। অবশ্য ভরসা পাচ্ছিলাম যে খুব, এমনটা নয়। অঙ্কের মাস্টাররা দুনিয়ার কঠোরতম ও ভয়ঙ্করতম মানুষ হয়ে থাকেন— এই ধারণাটা বদ্ধমূল ছিল আমার মনে।

কিন্তু যেদিন বিকেলবেলা জ্যাঠার পিছন পিছন আমাদের বাড়িতে ঢুকলেন নতুন টিউটর, আমি ভয় পাওয়া তো দূরের কথা, একটু হেসেই ফেললাম।

এ কী... মাস্টারমশাই আবার এরকম হয় না কি আবার? রোগা ডিগডিগে, মাথায় উড়োখুড়ো একরাশ চুল, খোঁচাখোঁচা দাড়ি, জামাকাপড় কেমন আলুথালু ময়লা মতন। চোখে মোটা কাচ-লাগানো কালো ফ্রেমের চশমা। একটু সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে মানুষটা, কী রকম যেন সংকুচিতভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে! কাঁধে একটা ছেঁড়া ঝোলা ব্যাগ, তার চেনটাও কাটা, একতাড়া কাগজ উঁকি মারছে সেটা থেকে। আমি ভয় পাব কী, এ মানুষটাই যেন সিঁটিয়ে রয়েছে সর্বক্ষণ!

প্রথম দর্শনেই ভয়টা একদম কেটে গিয়েছিল আমার। তাই বেশ স্মার্ট ভঙ্গিতে পড়ার টেবিলে গিয়ে বসলাম। আমার নতুন মাস্টারমশাই খুব সংকুচিত ভঙ্গিতেই একটু হাত বুলিয়ে দিলেন আমার পিঠে, তারপর সেই অপরাধী-অপরাধী চাউনিতে একবার পর্দা-ঝোলানো দরজার দিকে তাকিয়ে নিলেন। খুব গোপন কথা বলছেন এইভাবে ফিস ফিস করে আমাকে জিগ্যেস করলেন, ‘তুমি অঙ্কে খুব কাঁচা?

আমি ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বললাম। উনি বললেন - ভয় পাও খুব?
আমি ফের ঘাড় নাড়তে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপর গলাটা আরও একটু নামিয়ে করুণ মুখে বললেন - আমিও। কাউকে বোলো না কিন্তু।

আমি হাঁ করে তাকিয়ে। আর একটু ঝুঁকে এসে আমার নতুন অঙ্ক-স্যার বললেন - টিউশনটা চলে গেলে খেতে পাব না, জানো? তাই ঝপ করে রাজি হয়ে গেছি। কিন্তু অঙ্ক আমি তেমন পারি-টারি না। ভয়ও পাই শক্ত অঙ্ক দেখলে। এখন তুমিই আমার ভরসা।

আমি তুতলে-মুতলে একাকার, আ-আমি ক-কী করে ভ-ভর...
স্যার আমার একটা হাতের মুঠো ধরে ফেলে বললেন - তুমি একটু সাহায্য কোরো আমায়। আমি তো প্রায়ই সল্‌ভ করতে গিয়ে আটকে যাব, তুমি একটু মাথা খাটিয়ে উতরে দিও সে-সব জায়গাগুলো। তোমার কমবয়সী ব্রেন, ফ্রেশ বুদ্ধি... তুমি ঠিক পারবে। আর কাউকে যেন কিচ্ছুটি বলে ফেলো না, খুব বিপদ হয়ে যাবে আমার...

বিস্ফারিত চোখে নতুন মাস্টারমশাইকে দেখছিলাম আমি। কীরকম কাঁচুমাচু মুখ, কাঁদো-কাঁদো স্বর! চোখ দুটো দেখে ভারী মায়া হল। হঠাৎ মনে কীরকম একটা অদ্ভুত জোর এল। আপনারা জানেন, সহানুভূতি কত তীব্র একটা আবেগ... বিপন্নকে সাহায্য করার জন্য ভিতু, দুর্বল মানুষও এক নিমেষে প্রাণ তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে কখনো কখনো! আমারও সেইরকম মনে হল। কোনও একটা ভালো কাজ করার ইচ্ছে জাগলে যেমনভাবে স্নায়ুরা চনমনিয়ে ওঠে, তেমনই উদ্দীপনা টের পেলাম বুকের মধ্যে। ঠিক করলাম, বাঁচাতেই হবে মানুষটাকে! তার জন্যে নিজে-নিজে অঙ্ক কষা চাই? কষব ঠিক। মাথা খাটাব, ভাবব অঙ্ক নিয়ে, প্রাণপণ চেষ্টায় আয়ত্ত করব সমাধানসূত্রগুলোকে। যদি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাই, লোকে যদি বোঝে আমার উন্নতি হয়েছে - তবেই এঁর চাকরিটা থাকবে। আহা, মানুষটা বড় অসহায় যে!

আপনারা বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, পরের দিন থেকেই অঙ্কের ভয়টা কর্পূরের মতো উবে গেল আমার মন থেকে! সব সাবজেক্ট ছেড়ে অঙ্কের বই নিয়ে পড়ে রইলাম দিনরাত। উদাহরণ দেখে-দেখে চ্যাপ্টারের পর চ্যাপ্টার বুঝতে শুরু করলাম। রোখ চেপে গিয়েছিল। যেখানটা জটিল লাগছে,সেখানটা নিয়ে রগড়াচ্ছি ঘন্টার পর ঘন্টা। দেখছি, শেষ অবধি ঠিক খুলে যাচ্ছে জট। নিজেই অতিক্রম করছি সব বাধা। একটাই লক্ষ্য, মাস্টারমশাইকে বাঁচানো। সপ্তাহ তিনেকের মধ্যের টের পেলাম, অঙ্ক কিলবিল করছে মাথায়। সমস্যা দেখামাত্র সমাধানের সূত্রগুলো স্টেপ বাই স্টেপ বুঝতে পেরে যাচ্ছি। আর একটা জিনিস এতদিন বুঝতে পারিনি--- একটা শক্ত অঙ্ক কষে ফেলার মধ্যে যে এত আনন্দ লুকিয়ে আছে জানতামই না আগে!

মাস্টারমশাইও খুব চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তিনি প্রায়ই আটকে যেতেন। কিছুদিনের মধ্যেই ছাত্র-শিক্ষকের ভূমিকা প্রায় পাল্টাপাল্টি হয়ে গেল। হয়তো একই অঙ্ক দুটো খাতায় দুজন কষে বার করব বলে লড়ছি। আমার উত্তর বেরিয়ে গেল, তিনি তখনও কাটছেন আর কাটছেন। ‘এঃ হে, তুমিই তো আগে করে ফেললে... কী প্রসেসে করলে একটু বুঝিয়ে দাও দেখি,’ বলে করুণ হাসলেন। আমিই যেন মাস্টারমশাই, এরকম ভঙ্গি করে আমি তাঁকে বোঝাতে শুরু করলাম। ‘ওহ, এই ব্যাপার,’ বলে, যেন নিজের লজ্জা ঢাকতেই, আরও শক্ত একটা অঙ্ক দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘এটা কিন্তু অত সহজে হবে না মনে হচ্ছে!’ আমার মাথায় জেদ চেপে যায়। চোয়াল শক্ত করে ভুরু কুঁচকে মগজ খাটাই, তারপর ঠিক রাস্তাটা বেরিয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই। মাস্টারমশাইএর মুখ সরল হাসিতে মাখামাখি। বললেন - তোমার তো দারুণ মাথা! পরীক্ষায় পারবে তো সব ঠিকঠাক? দেখো বাবা, আমার টিউশনটা থাকে যেন...!’ ততদিনে বিপুল আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে গেছে আমার। বলতাম, দেখে নেবেন শুধু, হ্যাঁ!

কখনও আবার মাস্টারমশাই কোত্থেকে সব খিটকেল অঙ্ক বেছেগুছে নিয়ে আসতেন। বলতেন - এগুলো আমি একদম ধরতেই পারছি না। দ্যাখো তো, তোমার ব্রেনে যদি কিছু আসে... বড্ড শক্ত, তুমিও বোধহয় পারবে না...। রক্ত গরম হয়ে উঠত শুনে। পারব না! খাতা পেন্সিল নিয়ে বসে পড়তাম আমি, এদিক সেদিক দিয়ে মাথা খোঁড়াখুঁড়ি করতাম। পাশে বসে মাস্টারমশাইও একটা-দুটো ক্লূ হাতড়াতেন। তারপর একসময় ‘ইউরেকা’ বলে চেঁচিয়ে ঊঠতাম আমি, গড়গড় করে সমাধান করে ফেলতাম, কৃতজ্ঞ গলায় মাস্টারমশাই বলতেন - উফ..., ভাগ্যিস তুমি ছিলে... ইশকুলের স্যাররাও বেশ অবাক হচ্ছিলেন। ক্লাসে যে অঙ্কই দেওয়া হোক,সবার আগে করে ফেলছিলাম আমি। অবিনাশ স্যার একদিন বলেই ফেললেন , ‘তোর নিরেট মাথাটা কোন ম্যাজিকে এরকম খুলে গেল রে! বিশ্বাসই হয় না!

ফস করে বলে ফেললাম - এবার অ্যানুয়াল পরীক্ষার নম্বর দিতে গিয়েও আপনার বিশ্বাস হবে না, স্যার!

বাড়িতে কিন্তু মাস্টারমশাই ওই কথাটা শুনে মাথা নেড়ে বললেন - ওরকম আগে থাকতে বড়াই করে বলতে নেই। যদি পরীক্ষায় আগের মতো সব ভুলেটুলে যাও? আমি স্থির চোখে তাকিয়ে বলেছিলাম - ভুলে যাব কী করে? আমার মগজে এখন অঙ্ক ঠাসা থাকে জানেন না ? আর কারও জন্যে না হোক, আপনার জন্যে পারতেই হবে আমাকে, তাই না ?

সেই প্রথম তাঁর ভিতু-ভিতু চোখ দুটোকে আমি চিকচিক করে উঠতে দেখছিলাম। অশ্রুতে, না কি উত্তেজনায়--- তখন বুঝে উঠতে পারিনি।

গ্লাস থেকে একটু জল খেলেন ডক্টর সান্যাল। গলাটা একটু ঝেড়ে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন, তারপর বললেন - আর বেশি সময় আমি ব্যয় করব না। অনেক ধৈর্য নিয়ে শুনছেন আপনারা, কিন্তু গল্প এবার শেষ হয়ে এসেছে।

রেজাল্ট যেদিন বেরোল, সেদিন স্কুলের স্যারেরা হতবাক! বললে একদম আষাঢ়ে গল্পের মতো শোনাবে আজও। যে-ছেলে জীবনে কখনও দু’অঙ্কের নম্বরও ছুঁতে পারেনি, সিক্স থেকে সেভেনে উঠছে সে এক্কেবারে তিন অঙ্ক নিয়ে। একশোয় পাক্কা একশো! মির্যারকল বললেও কম বলা হয়। তিনবার দেখা হয়েছে অঙ্কের খাতা, একটা নম্বরও কমাতে পারেননি অবিনাশ স্যার!

রেজাল্ট নিয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরেই বাবাকে বললাম - আমাকে এক্ষুনি মাস্টারমশাইএর কাছে নিয়ে চলো! তাঁকে না-দেখানো পর্যন্ত আমার ছটফটানি কমবে না, বেশ বুঝতে পারছিলাম।

বাবার মুখটা দেখলাম কেমন গম্ভীর। চুপ করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি যে এত ভাল রেজাল্ট করেছি তাতে কোনও উচ্ছ্বাস নেই। খুব শান্ত,নিচু গলায় ধীরে ধীরে বললেন - হ্যাঁ, তোমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাব বলেই অপেক্ষা করছি।

একটু থেমে যোগ করলেন - তিনিও তোমাকে দেখতে চান।

আমাদের গাড়িটা কিন্তু কোনও বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল না। ভীষণ অবাক হয়ে দেখলাম, সামনে একটা হাসপাতালের গেট!
বাবার মুখের দিকে তাকালাম। কী ব্যাপার...এখানে...?

তোমার মাস্টারমশাই খুব অসুস্থ। পরশু থেকে অচৈতন্য হয়ে পড়ে ছিলেন। আমরাই খবর পেয়ে তাঁকে ভরতি করেছি হাসপাতালে। কিছুক্ষণ আগে একটু জ্ঞান ফিরেছে, কেবলই তোমাকে খুঁজছেন..., বাবা হঠাৎ চুপ করে গেলেন।

আমার গলাটা কেমন যেন শুকিয়ে এল। চুপচাপ হাঁটতে লাগলাম ওয়ার্ডের গলি ধরে। অনেকগুলো মোড় ঘোরার পর মাস্টারমশাইয়ের বেড। নিঃশব্দে পাশটিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। এই দু’তিন দিনেই তাঁর রোগা শরীর একদম বিছানার সঙ্গে মিশে গেছে। চোখের কোলে গভীর কালি। তবু আমার মার্কশিটটা দেখে মুহূর্তের জন্য উজ্বল হয়ে উঠল তাঁর চোখ। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিল, আমার হাতদুটো নিজের মুঠোয় চেপে ধরছিলেন বারবার।

শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছে দেখে নার্স যখন আমাদের চলে যেতে বললেন, তখন আর একবার মাস্টারমশাইয়ের করুণ চোখদুটিতে আমি অশ্রু চিকচিক করে উঠতে দেখেছিলাম। প্রাণপণ ভাঙা-ভাঙা স্বরে হাঁফাতে হাঁফাতে বাবাকে বললেন - আপনাকে ... যা বলেছিলাম ... দেখবেন... ঠিক যেন...

বাবা আশ্বস্ত করে বললেন - আপনি সে ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকুন।

থামলেন অশেষ সান্যাল। মাথাটা নিচু করে রইলেন কিছুক্ষন, মাইক্রোফোনের ধাতব দণ্ডটা চেপে ধরলেন মুঠোয়। ঢোক গিললেন একবার। তারপর একটা শ্বাস চেপে নিয়ে বললেন - সেই তাঁকে আমার শেষ দেখা। সেই রাত্রেই তিনি মারা যান। তাঁর মৃতদেহ আমাকে দেখানো হয়নি।

পরের দিন রাত্রে বাবা আমাকে ডাকলেন। বললেন - তোমার মাস্টারমশাই এটা দিয়ে গেছেন তোমাকে।

দেখলাম, একটা ফিতে-বাঁধা মলিন ফাইল। তাঁর মধ্যে গোটা তিনেক ডাইরি আর কয়েক দিস্তে কাগজ। নীল কালির কলমে কষা অদ্ভুত অদ্ভুত অঙ্কে ভর্তি। প্রচুর কাটাকুটি, তার ফাঁকে ফাঁকে অজস্র সংখ্যার মেলা।

এ সব অঙ্কের বিন্দু-বিসর্গ আমার জানা নেই। শুধু হাতের লেখাটি খুব চেনা। আর ওই হিজিবিজি কাটাকুটির ধরণটিও।

সব হায়ার ম্যাথমেটিক্স। গবেষণামূলক কাজ। মানুষটা যে এতবড় গুণী, তা আমরা কেউ বুঝতে পারিনি,’ বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘রিসার্চটা শেষ করে যেতে পারলেন না। সাধারণ লোকের পক্ষে এর মর্ম বোঝা সম্ভবও নয়। কিন্তু এই সমস্ত কাজ উনি তোমায় দিয়ে গেছেন। বলে গেছেন, তুমি যেন বড়ো হয়ে এই গবেষণাটা শেষ করো... এই তাঁর ইচ্ছে। আশীর্বাদ করে গেছেন, এই কাজটাতে সফল হয়ে তুমি দেশের মুখ উজ্জ্বল কোরো।

চশমা খুলে ফেলেছেন অশেষ সান্যাল। মুছছেন কাচ দুটো। মুছেই চলেছেন। দর্শকমণ্ডলীর মধ্যে সূচ-পড়া স্তব্ধতা। একটু কাশলেন গণিতবিদ, একটু দম নিলেন। নিচের ঠোঁটটা দাঁতে কামড়ে উদ্গত আবেগকে চাপার চেষ্টা করলেন বুঝি।

আমার গলাটা যে বার বার ধরে আসছে, তা আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। হ্যাঁ, মহাশয়গণ, আমি আমার কান্নাকে নিয়ন্ত্রণ করার অক্ষম চেষ্টা করছি কেবল। আর বিশেষ কিছু বলারও নেই, শুধু যে-কথাটা ইতোমধ্যে আপনারা বুঝেই ফেলেছেন সেটাই আমি নিজের মুখে স্বীকার করতে চাই সবার সামনে। হ্যাঁ, আমার ঋণ। আমার স্বর্গত মাস্টারমশাইয়ের কাছে। যিনি আমার সামনে অভিনয় করেছিলেন, নিজে অঙ্ক পারেন না এই বলে উশকে দিয়েছিলেন আমার ঘুমিয়ে-থাকা চেতনাকে। ছাত্রকে উজ্জীবিত করার জন্যে যে-শিক্ষক সমস্ত ইগো বিসর্জন দিয়েছিলেন। যিনি বদলে দিয়েছিলেন আমার জীবন।

না, এইটুকু বললে বোধহয় ঠিক বলা হল না। শুধুই কি বদলে দিয়েছিলেন? না, না। সত্যি কথাটা এই যে, তিনিই আমাকে আজকের এই জীবনটা দিয়ে গেছেন। হি মেড মি হোয়াট আই অ্যাম। এই পুরস্কারও তাঁরই পুরস্কার। এই-যে বিপুল সম্মান আজ বর্ষিত হল আমার ওপর, মৌলিক সংখ্যার অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে যে-গবেষণার জন্য এই শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেলাম আমি, --- এ সবই আমার দরিদ্র, অখ্যাত মাস্টারমশাইয়ের স্বহস্তে কেটে-তৈরি-করা পথে হেঁটে আসার ফল। তাঁর সেই ডাইরি আর কাগজগুলোতে তিনিই গোড়াপত্তন করে গিয়েছিলেন এই গভীর ও মহৎ অনুসন্ধানের। আমি সেগুলোকে তাদের লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি, এইটুকুই আমার যোগদান।

সুধীবৃন্দ, আমার এই পুরস্কারের সমস্ত অর্থ দিয়ে আমি একটি তহবিল গড়ব বলে মনস্থ করেছি। গণিতে বিরল মেধার অধিকারী অথচ দুঃস্থ, এমন ছাত্রদের নিয়মিত বৃত্তি দেওয়া হবে এই তহবিল থেকে। এই বৃত্তির নাম হবে শিবনাথ সরকার মেমোরিয়াল স্কলারশিপ।

হ্যাঁ, এই শিবনাথ সরকারই ছিলেন আমার ছোটবেলার সেই অঙ্ক-মাস্টারমশাই। হি মেড মি হোয়াট আই অ্যাম।

- "সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের এ লেখাটি দিগন্ত জবস পোর্টালে আর্টকেল ৩৪৫৮ তে ছাপা হয়েছে। লেখাটা আমাকে অশ্রুসিক্ত করেছে, এমন শিক্ষক আমাদের মাঝেও আছেন।"

মন্তব্য ৪৯ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৪৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৪২

কঙ্কাবতী রাজকন্যা বলেছেন: কি যে অসাধারণ।
একেই বলে গল্প অথবা এমনই হবার কথা। তবে ধারনা করেছিলাম ঠিকই উনি অংক না পারার অভিনয় করছেন। নিজের মেধা সত্বা কাজে না লাগিয়ে যেমনই কিছু শেখা হয় না ঠিক তেমনি যোগ্য শিক্ষকেরও উচিৎ ছাত্রের ভেতর থেকে বের করে আনাটাই।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৪৯

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: জ্বী রাজকন্যা, আপনি ঠিকই বলেছেন - একজন যোগ্য শিক্ষকেরও উচিৎ ছাত্রের ভেতর থেকে বের করে আনা যেমনটি করে দেখিয়েছেন এ্ই শিক্ষক শিবনাথ সরকার।

মন্তব্যে ধন্যবাদ জানবেন।

২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০৩

জাহিদ অনিক বলেছেন:



এমন শিক্ষক আছেন; আছেন নিশ্চয়ই।


বেশ ভালো লাগলো স্যারের গল্প!

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৫৭

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: হুমম! আছেন বটে! তবে, সংখায় খুবই নগন্য। এ্ই যেমন আমিও পেয়েছিলাম ছোটবেলায় একজনকে।

স্কুলজীবনে আমিও গণিতকে প্রচন্ড ভয় পেতাম। বিশেষ করে বীজগণিতটা একবারেই বুঝতাম না, কেমন হিজিবিজি - রকেট সাইন্স মনে হত। এক বীজগণিতের কারনে পুরা অংক বইটাই ভয়ের কারন ছিল, থাকতাম ২০০ হাত দুরে। বড় ভাই ঠিক করে দিলেন তারই বন্ধুপ্রতিম গ্রামের এক গরীব মাস্টার মহাশয়কে যিনি লিকলিকে, হাল্কা-পাতলা গড়নের, একটা পা নেই; তারই ছনের ঘরে আমার বীজগণিতের প্রথম বীজ-বপন। আমার মনে আছে, বৃস্টি এলে সেই ঘর পানিতে ভিজে যেত। এইভাবে, তার কাছে অংক শিখে আস্তে আস্তে আমার গণিতের ভয়টা কেটে গেল। পরে, গণিতই হয়ে উঠল আমার সবচেয়ে ভাললাগার সাবজেক্ট।

এই সকল শিক্ষকদের জন্য আমার হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা; হ্যটস অফ স্যার। যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন।

ধন্যবাদ অনিক ভাই মন্তব্যের জন্য। ভাল থাকবেন।

৩| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:০০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ঝাপসা মনিটর মন্তব্য লেখা কঠিন ।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:২৪

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: আহারে!!! কি যে কষ্ট? মুক্তচিন্তার প্রসব বেদনার কষ্ট। এ যে কি কষ্ট তা ভুক্তভুগীরাই জানেন।

আপনার কষ্টে আমিও কষ্টিত মনিরাপু, কিন্তু, কিছুই করতে পারছি না, এ আর এক কষ্ট। আপাতত: পরামর্শ, মনিটরটাকে ডাক্তারকে দিয়ে দেখান(কম্পু হার্ডওয়ার বিগ্গানী অবশ্যই)। তিনিই বাতলে দিবেন কি করা লাগবে - ঠিক করে দিতে পারবেন না কি রিপ্লেস করা লাগবে।

পাশে থাকুন, ভাল থাকুন।

৪| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:০৪

নূর-ই-হাফসা বলেছেন: এমন শিক্ষক ও বুঝি আছেন । অসাধারন গল্প ,পড়তে পড়তে কখন যে চোখ ঝাপসা হয়ে এলো ।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৪০

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: হুমম! আছেন বৈ কি! ঐ যে বললাম! ছোটবেলায় আমিও পেয়েছিলাম একজনকে, আমার স্কুলজীবনে। উনিই মূলত আমার গণিতের ভিত্তিটা মজবুত করতে সহায়তা করেছিলেন।

আমারও চোখ ভিজে এসেছিল পড়তে পড়তে।

ভাল থাকবেন নূর-ই হাফসা।

ধন্যবাদ।

৫| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৫১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আমি দুঃখিত আপনাকে বোঝাতে পারি নি ব্যাপার টাঃ

আমি বলতে চেয়েছি আক্ষরিক অর্থেই গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে ,আদ্র চোখে মনিটরের সব কিছুই ঝাপসা লাগছিল ;তাই বুঝিয়ে মন্তব্য করতে পারি নাই ।
আমি সত্যি ই এমন একজন অসাধারন স্যার এর অসাধারন গল্পে আপ্লুত ।

শুভ কামনা !

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৪৭

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: ও হো হো হো!! এত দু:খের মাঝেও বিষয়টা হাসির উদ্রেক করল।

আমিও দুঃখিত যে বুঝতেই পারি নি ব্যাপার টা।

যাক কিছু মনে নিয়েন না, পুরা ব্যাপারটাই ভুল বুঝা-বুঝি থেকে হয়েছে। হয় অনেক সময় এমনটি।

হুমম!! আপ্লুত হওয়ারই মত ঘটনা এটি। আমিও জল ধরে রাখতে পারিনি। চোখ ভিজে এসেছিল পড়তে পড়তে।

ধন্যবাদ জানবেন।

৬| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৩৯

ফেরদৌসা রুহী বলেছেন: এমন শিক্ষক আমাদের মধ্যেও আছেন।

আমার নিজের লাইফেই একজন গণিতের শিক্ষক ছিলেন যিনি আমাকে সব রকম ম্যাথ সলভ করা শিখিয়েছিলেন।

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৭ ভোর ৪:২০

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: শিক্ষকের তো সমাজে অভাব নেই আপু কিন্তু, শিবনাথ সরকারের মত শিক্ষক কয়জন আছেন বলুন? এমন শিক্ষক, যাদেরকে বলা যায় মানুষ গড়ার কারিগর। ছাত্রের ভিতরের ছাত্রত্বকে বের করে আনতে যারা আত্মসম্মাণ বিসর্জন দিতেও কুন্ঠাবোধ করেন না, মিশে যেতে পারেন অনায়াসেই, মনস্তত্ববুঝে সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত করার সঠিক পদ্ধতিটি প্রয়োগ করতে পারেন সহজেই যেমনটি করে দেখিয়েছেন এ্ই শিবনাথ সরকার।

তুমি অঙ্কে খুব কাঁচা? ভয় পাও খুব? - আমিও। কাউকে বোলো না কিন্তু, টিউশনটা চলে গেলে খেতে পাব না, জানো? তাই ঝপ করে রাজি হয়ে গেছি। কিন্তু, অঙ্ক আমি তেমন একটা পারি-টারি না, ভয়ও পাই শক্ত অঙ্ক দেখলে। এখন তুমিই আমার ভরসা।

আপনি সৈাভাগ্যবানদের একজন যে এমন একজন শিক্ষক পেয়েছিলেন যিনি আপনাকে সব রকম ম্যাথ সলভ করা শিখিয়েছিলেন।

তা, কেমন আছেন আপু? দেশেই এখন?

আপনার ভ্রমন বিষয়ক লেখা পড়ি, ভাল লাগে - হুমম! আমার দেশ আমার অহংকার অবশ্যই।

ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ।

৭| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৩

শায়মা বলেছেন: শোনো ভাইয়া একটা কথা। এই লেখাটার গল্প আমি যে আমার আশে পাশের কত মানুষকে বলেছি!!!!!!!!! জানো আমার এক অংক বিশারদ ভাইয়া আছে। যিনি অংকের রকেট সে না ছোটবেলাট অংকে গোল্লা পেতো একদিন এক টিচার আসলো....


দারুন অনুপ্রেরনার গল্প ভাইয়া !


অনেক অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা!!!!!!!!!

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২২

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: আরে শায়মাপুনি! তুমি এত দিন পর!! দেখিনা কেন? তোমার নতুন লেখা খুঁজি।

হুমম্‌! আসলেই দারুন অনুপ্রেরনার গল্প! এমন শিক্ষকেরা গর্ব করার মত।

তুমিও ত শিক্ষক। তোমার বাচ্চাদের নিয়ে অনেক চিন্তা আমাকে ভাবায়, ভাললাগে, অনুপ্রাণিত হ্ই।

এই তোমাদের নিয়েই ত এত গর্ব। কাজ করে যাও।

ভাল থেক। ভালবাসায়(দিয়ে ও নিয়ে) থাক। নতুন লেখা দাও, ধন্যবাদ।

৮| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:১০

শায়মা বলেছেন: নতুন লেখা আসিতেছে। তবে ইদানিং ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস নিয়ে বিজি আছি। ভীষন বিজি। স্কুলে এবং নিজের জীবনেও। তাই লেখায় একটু সময় কম হচ্ছে।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৩৭

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: জীবন মানেই বিজিনেস, ব্যস্ততা থাকবেই জীবনে। এই ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই জীবনকে উপভোগ করতে হবে - শ্যামও রেখে, আবার কূলও বাঁচিয়ে।

- একটু ভাবুক টাইপের কথা বলে ফেললাম আর কি।

তবে, খুশি লাগিতেছে যে তোমার "নতুন লেখা আসিতেছে"।

শুভকামনা রইল আপুনি তোমার জন্য অনেক অনেক।

৯| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: এটা কি শুধুই গল্প, নাকি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা? যেটাই হোক, গল্পটা আমাকেও অশ্রুসিক্ত করে গেল!
এমন শিক্ষক আরো চাই, এবং সেই সাথে তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি চাই, মেধারও স্বীকৃ্তি চাই।
কঙ্কাবতী রাজকন্যা এর মত আমিও ধারনা করেছিলাম ঠিকই উনি অংক না পারার অভিনয় করছেন
চমৎকার এই গল্পে পঞ্চম ভাল লাগা + +

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০১

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা।

কেমন আছেন খায়রুল ভাই? আপনাকে পেয়ে খুবই ভাল লাগল।

আর, আপনার দাবির সাথে আমিও একমত - "এমন শিক্ষক আরো চাই, এবং সেই সাথে তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি চাই, মেধারও স্বীকৃ্তি চাই"। কিন্তু, কথা হল ভাইয়া, চাইলেও ত আর এমনি এমনি কেউ দিয়ে যাবে না। এর জন্য দরকার সমাজের আমূল পরিবর্তন, দরকার পুরো পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো।

তবে, নিরাশ নই, একদিন সবই হবে আশা রাখি।

আপনার ভাললাগায় অসংখ্য কৃতজ্ঞতা। ভাল থাকুন, ধন্যবাদ।

১০| ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৫৬

কুঁড়ের_বাদশা বলেছেন: আপনি আমার ব্লগে একখানা মন্তব্য করিয়া ছিলেন,তাই আমিও আপনার ব্লগে একখানা মন্তব্য করিলাম। ঋণ পরিশোধ। পরে আবার পোষ্ট পড়তে আসবো। :)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩০

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: গুড ভাই!! ঋণ পরিশোধ করিয়াছেন - ভাল, কিন্তু, আমি ত আপনাকে ঋণী করি নাই ভাই!! হা হা হা ...

তা আপনার কুঁড়ের বদনামটা কবে যাবে? মানে, কবে থেকে আপনি খুব একটিভ হবেন?

শায়মাপি যে মেশিনের সাথে ফাইনালি ঝুলে গেলেন খবর রাখেন? কিছু কইছেন তারে?:)

আপনিও ত ভাই ঘর জামাই থাকতে চেয়েছিলেন:) - ত কি দরকার আছিল তার আপনার মত একজন আমির খানের নাহাল চেহারামুবারক থুইয়া মেশিন বিয়ে করার - কন?

ভাবতাসি, হ্যর নামে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল বসানো যায় কিনা? বিচারকও পাইছি একখান সিরাম! সাথে থাইকেন ভাই!!

১১| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৩১

অন্তরন্তর বলেছেন: আপনার পোস্টটি আগেই পড়েছি কিন্তু উত্তর দিতে পারি নাই খুব আবেগপ্রবণ হবার জন্য। অসাধারন একটি জীবন কাহিনী। ভীষণ অনুপ্রাণিত হবার গল্প। আরও এমন লিখা লিখুন। শুভ কামনা।

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩২

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

শুভ কামনা, ভাল থাকবেন।

১২| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:২৫

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া!!!!!!!

রিমোর সাথে আমার কথা হয়েছে। কি উত্তর দিয়েছে শিঘরী শুনে আসো! B:-)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৪৫

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: হুমম্‌!!! দেখলাম!!!

তুমি আমারে ডিমপোচ বানিয়েছ!!! তাই না!!!

তাও আবার গরম উনুনে!!! দাড়াও! তোমার নামে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল বসানোর ব্যবস্থা করতেছি!! বিচারকও পাইছি একখান সিরাম! শিগ্‌গিরই ওয়ারেন জারি হইবেক তোমার নামে! খাড়াও!!! পুরুষ জাতির অবমাননা কেইস্‌!!!:)

সাধু সাবধান!!!!

১৩| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৫০

শায়মা বলেছেন: আরে না ডিমপোচ তো বানাতে চাইছিলাম!!!!!!!!! কিন্তু তারপর হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে রিমোর সাথে যোগাযোগের পরে সে কি বললো দেখোনি!!!!!!!!! B:-)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১৭

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: দেখলাম! তোমার জানের জানে, পরানের পরান, জানে-জীগার দোস্ত + লাভার + সো-কলড্‌ (মেশিন:)) হাজব্যন্ড দেখি মিথ্যাও বলতে পারে!!! ইতিহাস বিকৃততেও দেখি ওস্তাদ সে!!

নাহ! গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাইতেছি। আমর জবাব রেডি হইতেছে!!! খাড়াও!!!

১৪| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১৭

শায়মা বলেছেন: শকুনীমামা ভাইয়া!!!!!!!!

রোবোট কি মিথ্যা বলে নাকি!!!! :(

সে তো সত্যবাদী যুধিষ্ঠীর!

সে বলেছে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করেছো তুমি কারণ তুমি সেই ইতিহাসের শকুনীমামা! বাগধারা, প্রবাদ প্রবচনেও যাহার দেখা পাই আমরা।

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৩২

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: নাহ! শেষতক কি না আবার মেশিন বনাম হিউম্যানবিং-এর মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়া যায় - সেই শংকা হইতেছে আমার!!!:)

আচ্ছা! কও দিকিনি বাপু!! স্রস্টা ও সৃস্টির মইদ্যে কি যুদ্ধ হয় কখনও? যদি হয়ই তাইলে কে জিততে পারে?

বুঝিতে পারিয়াছি!! আমার ও রিমোর মাঝে তৃতীয় পক্ষের দূরভীসন্ধিমূলক হস্তক্ষেপ হইয়াছে! এখনই থামাইতে হইবেক! নইলে কুরুক্ষেত্র বাধিয়া যাইতে পারে!!:)

১৫| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:২৬

আটলান্টিক বলেছেন: অসম্ভব অসাধারণ হয়েছে লেখাটা।এইটাই আমার পড়া আপনার প্রথম পোষ্ট।খুবই ভালো লেগেছে গনিতে আমি নিজেও খুবই কাচা।আপনাকে "গুরুজি" ডাকতে ইচ্ছা করছে।প্লিজ আমায় নিরাশ করবেন না।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০২

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: ভাই, গুরুতো আমি না!!! গুরু হচ্ছেন অশেষ সান্যালেরা আর আসল গুরু হলেন এই গরীব মেধাবী শিবনাথ সরকারেরা যেখানে অশেষ সান্যালেদের শিকড় প্রথিত।

পড়েছেন জেনে ভাল লাগল। ভাল থাকবেন এই প্রত্যাশা সবসময়।

১৬| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:১৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: গল্প পড়িয়ে তো ঋনি করে ফেললেন :)

অসাধারন বললেও কম বলা হবে! এরকম একটা গল্প বুঝি হাজার এক রজনীর তৃষ্ণা মিটিয়ে দেয় :)

+++++++++++++

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১২

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: হুমম্‌!!! কি আর করা!

দিনে দিনে ঋণতো বেড়েই চলেছে। শোধ দিতেও তো হবে না কি?

কেমন আছেন ভৃগু ভাই? আচ্ছা, আপনার কবিতায় বিদ্রোহের উপস্থিতি কই? জনগন বিদ্রোহী কবিতা খোঁজে!!!

পাঠ ও মন্তব্যে ভাল লাগা। ভাল থাকবেন এই প্রত্যাশা সতত, অবিরত হে মহান কবি।

ধন্যবাদ।

১৭| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:২৪

চাঁদগাজী বলেছেন:



লেখকের জন্য শুভেচ্ছা রলো; প্রাণবন্ত গল্প

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:২৫

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: এই প্রথম আপনার চরণধুলি আমার আঙিনায়।
হয় "ছা" খান না হয় "ছা" খাওয়ান (কমেন্ট মাইনিং :))।

আমি ধন্য গা্ঁজী ভাই।

ইদানিং আপনার ব্যাটিং ও বোলিং দুটোই খুব ভাল হচ্ছে, ঘটনা কি? আমরা তো আপনাকে এরুপ দেশ প্রেমিকই জানি। এই এতদিনে চাঁদগাজী মনে হচ্ছে তার আসল লাইন ও লেন্থ ফিরে পেয়েছে। ধরে রাখুন - কিপিটাপ।

এবার কাজের কথায় আসি - আগামী মার্চের মাঝা-মাঝি ই-হেল্‌থ এর উপর একটা ট্রেনিং-এ ৬ মাসের জন্য ইউএসএ আসছি। আপনি কি সেই সময় দেশে থাকবেন না ইউএসএ জানায়েন, কিছু পরামর্শ দরকার।

শুভেচ্ছা জানবেন আপনিও। ভাল থাকুন নিরন্তর। ধন্যবাদ।

১৮| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪১

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া!!!!!!!!!!!


এখুনি আমার ব্লগে গিয়ে রোবোম্যানের সাথে হানিমুন ট্রাভেলিং পড়ে আসো!!!!!!!! ;) B-) :D :) :P

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:০০

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: কই, কই??? আচছা দেখছি দাড়াও!!!

১৯| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:২৫

প্রামানিক বলেছেন: অসাধারণ গল্প, খুব ভালো লাগল। ধন্যবাদ

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:৩১

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: কেমন আছেন প্রামানিক ভাই? আপনার "প্রাইমারি স্কুলের বিবাহযোগ্য বন্ধুরা" সিরিজখানি পড়ে খুবই মজা পাচ্ছি। পরের পর্ব কবে আসছে?

আপনার ভাল লাগল জেনে খুশি হলাম।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

শুভ কামনা, ভাল থাকবেন।

২০| ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৪৬

শায়মা বলেছেন: শকুনীমামাভাইয়া!!!!!!!!

খায়রুলভাইয়ার পোস্টে তোমার ফাগুন হাওয়া গান দেখে আর শুনে তোমাকে আমার গানটাও না শুনিয়ে আর পারলাম না!!!!! :)


আমার গাওয়া ফাগুন হাওয়াটা শোনো এইবার!!!!!!! :) ফাগুন হাওয়ায় :) :) :)

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:২৬

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: অসাধারণ গেয়েছ আপুমনি। তোমার কন্ঠে ফাগুন হাওয়ায় গানটি বেশ উঠেছে, দারুন লাগল।

আচ্ছা, "দিয়ে গেনু বসন্তেরও এই, গান খানি" অথবা, "রোদনো ভরা এ বসন্ত" এই গান দুটো কি তোমার গাওয়া আছে? ইউটিউবে খুঁজলাম তোমার নাম দিয়ে(শায়মা শামা), পেলাম না।

থাকলে, আপলোড করোত, পারলে এখুনি।

চর্চাটা রেখ, ভাল করতে পারবে।

২১| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:১২

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: লেখাটি পড়ে আমারও চোঁখে জল চলে এসেছে।
অনেক দিন পরে মন ছুয়ে যাওয়া একটি গল্প পড়লাম।
অনেক শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:১৭

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ সোহেল ভাই। পাঠ ও মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা।

ভাল থাকুন এই গুভকামনা সব সময়।

২২| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৪১

শায়মা বলেছেন: এই যে ভাইয়া!!!!!!!!!! জীবনে কি আর কোনো লেখা লিখতে ইচ্ছা করে না!!!!!!!!!

এত সুন্দর একটা গল্প শুনিয়েছিলে যা আমি অনেককেই শুনাই!!!!!!

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:২৮

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: হুমম্‌!! ইচ্ছে তো করে খুউব্‌ আপুনি, কিন্তু আমার প্রফেশন আমাকে সময় দিতে চাই না একেবারেই। তুমি তো জানই যে লেখালেখিতে কি পরিমাণ সময় ব্যয় হয়(তুমিও একজন খুবই ভাল মানের লিখিয়ে যে)। আমার প্রফেশন(আই.টি) আর এই ল্যাপটপ আমার সময় গিলে খায়। মাঝে-মাঝেই সামুতে আসি একটু শ্বাস নিতে, বুক ভরে অক্সিজেন নিয়ে আবার কাজে বসি।

তারপর, বলো কেমন আছ? অনেকদিন তোমারও কোনও লেখা পায় না। জানি তুমিও খুব ব্যস্ত, তারপরও বলব নূতন লেখা দাও, পড়ি। আর তোমার সঙ্গীতচর্চা কেমন চলছে? তোমার ভোকাল অনেক উঁচু ও সুন্দর - চর্চা কোরো, অনেক ভাল করতে পারবে।

বসন্ত এসে গেছে ...
এই বসন্তে অনেক জন্ম আগে,
তোমায় প্রথম দেখেছিলেম আমি,
হেঁটেছিলেম নিরুদ্দেশের পানে,
সেই বসন্ত এখন ভীষণ দামী,
আমার কাছে, তোমার কাছে, আমার কাছে ...
বসন্ত এসে গেছে।

তার ছেঁড়া যন্ত্রের মাঝখানে শুয়ে আছি,
আমলকি বনে শোনো,
বসন্ত এসে গেছে।।

নব বসন্তের বাসন্তী শুভেচ্ছা

- ভাল থেক অনেক, অনিমেষ।

২৩| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৪৪

শায়মা বলেছেন: ভাইয়ু!!!!!!!

আমি লিখি তো !!!!!!!!!


শুধু তুমি আমাকে চিনতে পারো না......

অজানা দেশের না জানা নিকে যখন আমি লিখি
লিখতে লিখতে পড়তে পড়তে তখন আমি শিখি
কেমন করে পড়ছো তোমরা সে ছবিটাও দেখি.... :)


যাইহোক শুনো আমার সঙ্গীতচর্চা অঙ্কন চর্চার মত এসব চর্চা শুধুই শখ চর্চা। যখন যাহা মনে চায় তাহা...

এই জীবনে একমাত্র নাচটাই আমি মন দিয়ে শিখেছি.....মানে গুরু শিক্ষায়.....

আর সকল শিক্ষন শখ শিক্ষন...... :)


আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে ...... তাই মন আমার উতল বারে বারে

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:০৬

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: নববর্ষের শুভেচ্ছা আপি।

দুঃখিত, উত্তর দিতে দেরি হওয়ায়।

শায়মা বলেছেন:


শুধু তুমি আমাকে চিনতে পারো না......

- চিনি তোমায়, চিনি নবীন পান্থ,
বনে বনে ওড়ে তোমার,
রঙীন বসন প্রান্ত।

ফাগুণ রাতের উতলা গো,
চৈত্র রাতের উদাসি,
তোমার পথে আমরা ভেসেছি।।

যখন বিদায় বাঁশির সুরে সুরে,
শুকনো পাতা যাবে উড়ে,
সঙ্গে কে রবি।

আমি রব, উদাস হব,
ওগো উদাসি,
আমি তরুণ করবী,

বসন্তের এই ললিত রাগে,
বিদায় ব্যথা লুকিয়ে জাগে,
ফাগুন দিনে গো,
কাঁদন ভরা হাঁসি হেসেছি।।

আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি

অজানা দেশের না জানা নিকে যখন আমি লিখি
লিখতে লিখতে পড়তে পড়তে তখন আমি শিখি
কেমন করে পড়ছো তোমরা সে ছবিটাও দেখি....


- বাব্বাহ্‌!! কি দারুন কোবতে! কি সুন্দর শব্দচয়ন, কি দারুন ছন্দ!! কোবতেতে মাফ চাই ভাই, উহা আমা দ্বারা সম্ভব নহে।

গানের চর্চাটা চালিয়ে যাও।

নতুন লেখা পোস্ট করো।

ভাল থাক। ধন্যবাদ।

২৪| ২৪ শে মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: এর জন্য দরকার সমাজের আমূল পরিবর্তন, দরকার পুরো পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো - কিন্তু কে করবে সেটা? --- কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান!
এক সময় অনেক আশা, অনেক উচ্চাকাঙ্খা ছিল দেশটাকে নিয়ে। এখন অন্ততঃ দুটো বিষয়ে পাহাড় ধ্বসের মত ধ্বস নেমে পেছনের সব অর্জনকে যেন মাটিচাপা দিয়ে যাচ্ছে- একটা শিক্ষা, অপরটা মানবিক মূল্যবোধ।
যাহোক, আর লিখছেন না কেন? নতুন কোন পোস্ট দেখতে চাই।
(যদিও ভাল করেই জানি, আপনি আমার মত কোন বেকার মানুষ নন!)

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:২৮

শকুন দৃিষ্ট বলেছেন: শুভ নববর্ষ শ্রদ্ধেয় খায়রুল ভাই।

উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় দুঃখিত।

খায়রুল আহসান বলেছেন: এর জন্য দরকার সমাজের আমূল পরিবর্তন, দরকার পুরো পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো - কিন্তু কে করবে সেটা? --- কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান!
এক সময় অনেক আশা, অনেক উচ্চাকাঙ্খা ছিল দেশটাকে নিয়ে। এখন অন্ততঃ দুটো বিষয়ে পাহাড় ধ্বসের মত ধ্বস নেমে পেছনের সব অর্জনকে যেন মাটিচাপা দিয়ে যাচ্ছে- একটা শিক্ষা, অপরটা মানবিক মূল্যবোধ


- সত্যই বলেছেন ভাইজান, তরুন প্রজন্মকেই এগিয়ে আসতে হবে এই অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তন ঘটাতে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় তরুন সমাজ একটা খেয়ালে আটকে আছে। তাদের চিন্তা-ভাবনা সংকুচিত হয়ে আসছে অথবা উন্মেষ ঘটতে দেয়া হচ্ছে না। তবে, পরিবর্তন আসবেই একদিন, এ যে সময়ের দাবি, তা আসতেই হবে।

কি যে বলেন ভাই, আমরা সবাই কোন না কোন কাজে ব্যস্ত। এটা ঠিক, ব্যস্ততা অনেক কিছুই দেয় আবার অনেক কিছুই কেড়ে নেয় জীবন থেকে।

এভাবেই জীবন কেটে যায় আশায় বুক বে্ঁধে।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন সবসময়।

২৫| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১১:৫৩

শাহারিয়ার ইমন বলেছেন: এমন মহৎ শিক্ষকের বড়ই অভাব

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.