নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মানুষ, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় ।

মাহমুদ পিয়াস

মাহমুদ পিয়াস › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটু তাকাবেন এদিকে!!!

০১ লা জুন, ২০১৭ রাত ১২:১৩

বিদেশের জেলখানাগুলোতে বাস করা বন্দীদের সম্পর্কে প্রবন্ধ পড়ছিলাম ! চোখ গেল নিউজিলান্ডের একটি পত্রিকার দিকে ! তারা ১৫ সালে ৪৮টি কারাগার বন্ধ করে দিয়েছে ! সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কারাগারগুলোতে অপরাধী না থাকার কারনে সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ! ভাবা যায়, অপরাধীর অভাবে কারাগার বন্ধ করে দেয় !
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় নিউজিল্যান্ড রয়েছে চতুর্থ নম্বরে ! সে দেশের কারাগার বন্ধ হবে না তো কি আমাদের হবে ?
যেই কথাটা মনে এলো, ঠিক তখনই দেশের কারাগারের অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য মনটা আকুপাকু করে উঠলো ! খোঁজ নিয়ে দেখি, কি ভয়ঙ্কর অবস্থা ! আমাদের দেশে কারাগারের সংখ্যা মোট ৬৮ টি ! সেখানে মোট ৩৫ হাজার লোক মারামারি কাটাকাটি করে খুব দায়িত্বশীলতার সাথে বসবাস করতে পারবে ! অথচ সেখানে বাস করে, ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ ! মারামারি করলে জেলে পাঠানো হয়, যাতে তারা সুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেরিয়ে এসে পরবর্তীতে এরকম অপরাধ না করে ! এমনকি কারাগার গুলোর উপরে বেশ বড় হরফে লিখা থাকে, “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” ! ৩৫ হাজারের জায়গায় ৮০ হাজার লোক থাকলে আলোকিত জায়গায়ও অন্ধকারে যেতে খুব বেশি সময় লাগে না ! শুধু তাই না, এই সব বন্দীগণ সুযোগ সুবিধাও পান, ১৮৬৪ সালের ব্রিটিশ জেল কোড অনুযায়ী ! সালটার দিকে আরেকবার তাকান, ১৮৬৪ সালে ব্রিটিশদের তৈরি জেল কোড অনুযায়ী সুবিধা ! সেই সময়ে বন্দীদের জন্য কি রাজকীয় সুবিধা দেওয়া ছিল উনারাই জানেন হয়তো ! তবে সেটা যে, বর্তমান সময়ের সাথে একদমই সঙ্গতিপূর্ণ না, সেটা হয়তো গতকাল পাবনায় ভর্তি হওয়া মানুষটাও বিনা বাক্যে স্বীকার করবে ! আবার এই ৬৮ টি কারাগারের মধ্যে হাসপাতাল আছে মাত্র ১২টি ! তবে এখানেই শেষ কথা নয় ! সেই কারাগারগুলোতে অাবার ১১৭জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও সেখানে আছে ৬ জন !
ধরেন, কারো কিডনিতে ব্যাথা শুরু হয়েছে ! কারারক্ষী ভেবেছে, হয়তো তার সাথে বাংলা সিনেমার মতো কিছু একটা ঘটতে চলেছে, যেখানে ভিলেন এরকম পেট ব্যাথার ভান করে গেটম্যানকে মেরে তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে পালিয়ে যায় ! কারারক্ষীর মনে সেই মুহূর্তে যদি এই সিনেমার কথা মনে পড়ে, তাহলে অবস্থা কি দাঁড়াবে ?
রক্ষী গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বন্দির হাতে একটা স্যালাইনের প্যাকেট দিয়ে বলবে, এইটা চুষে চুষে খা ! সব ব্যাথার ঔষধ হল এই স্যালাইন ! একটা খাইলেই দেখবি, পেট ব্যাথা কমে গেছে ! হাজার হোক কারারক্ষী বলে কথা, না খেলে তো আবার ডান্ডার বাড়ি খাইতে হবে ! যদি দেখে, এতে কাজ হচ্ছে না, তখন হয়তো ১টা প্যারাসিটামলের অর্ধেক ভেঙ্গে তার হাতে দিয়ে বলবে, এইটা তিনবার খাবি ! সকালে খাবি বাথারুমে যাওয়ার আগে, দুপুরে খাবি গোসলখানায় ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে আর রাতে যখন কম্বল গায়ে দিবি, তখন টুক করে পেটে চালান করে দিবি !
ব্রিটিশ আমলের জেল কোডের আটার রুটি খেয়ে কেউ যদি কেউ ডায়রিয়াতেও ভোগে তার চিকিৎসা কিভাবে হয়, সেটা আর না লিখি!!
৬৮টি কারাগারে যখন মাত্র ১২ টি হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের দরকার সেখানে আছে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক ! তখন বাস্তবতাটা এটাই স্বাভাবিক !
আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, জিডিপির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিদ্যুৎখাতে দেশ এগিয়ে চলেছে, ভিশন ২০২১ টার্গেটের দিকে জোর কদমে এগিয়ে চলেছে আমাদের দেশ, দেশে যেনো অশুভ শক্তি আসতে না পারে সেই জন্য দুঃপরিবর্তনীয় সংবিধান পর্যন্ত পরিবর্তন করা হচ্ছে, সেখানে “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” মটো নিয়ে যে কারাগার গুলো স্থাপিত হয়েছে, মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যাবার জন্য, অাসলেই কি তারা যাচ্ছে অালোর দিকে!!
সবকিছুর উন্নয়নের পাশাপাশি এদিকেও তো লক্ষ্য রাখা উচিত সরকারের, তাই না !!!

মন্তব্য -১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (-১) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.