নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভয় পান। এটাই সাধারণ মানুষের আচরণ।

১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৮:২৭

আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষায় "সামান্য সর্দি-জ্বরের মতন রোগে" শেষ পর্যন্ত একজন মারাই গেলেন।
সত্তরোর্ধ ব্যক্তি ছিলেন, হার্টে সমস্যা ছিল, কিডনিতে সমস্যা ছিল, এইটা ছিল, ঐটা ছিল, কিন্তু বেঁচেতো ছিলেন। ভাইরাসটি সংক্রমণের কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি শেষ। তাঁর পরিবার আর কখনই এই লোকটিকে ফিরে পাবে না।
দায়ী কে?
লক্ষীপুরে লাখ খানেক দ্বিপদী প্রাণী (কেউ কেউ ওদের "মানুষ" বলতে পারেন, আমার মনে হয় না ওরা এই সম্মান দাবি করে) জমায়েত হয়ে আল্লাহর কাছে করোনা থেকে মুক্তি চেয়ে মোনাজাত করেছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এমন হয়ে গেল যে, আল্লাহ বারবার নিষেধ করেছেন মদ আর শূকর খেতে, কিন্তু ওনারা বিসমিল্লাহ বলে শুয়োরের মাংস দিয়ে ডিনার সেরে পেট ভরে মদ খেয়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন। যেখানে মহামারীর সময়ে আল্লাহর রাসূল (সঃ) নির্দেশ দিয়েছেন ভিড় থেকে আলাদা থাকতে, যেখানে নবী (সঃ) স্পষ্ট বলে দিয়েছেন কুষ্ঠ রোগী (ছোঁয়াচে রোগ) দেখা মাত্র তাঁর থেকে সেভাবে দূরে সরে যেতে যেমনটা সবাই সামনে সিংহ দেখলে পালায়, সেখানে এইসব কিউট জনতা লাখ মানুষের সমাগম করে ফাজলামি করলো। একজনেরও যদি এই রোগ থাকে, তাহলে আর দেখতে হবেনা।
কক্সবাজারে লোকে বেড়াতে গেছে আল্লাহ ভরসায়, কারন ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে লাভ নাই, এরচেয়ে ভাল "এঞ্জয়!"
সরকার কিছু বলবে? কেন বলবে? কোন অধিকারে? ওরা নিজেরাইতো আসল গন্ডগোল বাঁধিয়েছে। লাখে লাখ মানুষকে রাস্তায় বের করে এনে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। কোটি টাকার আতশবাজি পোড়ানো হয়েছে।
করোনা হটলাইনে কল করলে পাওয়া যায়না, হাসপাতালে গেলে রোগী ফিরিয়ে দেয়া হয়। বলে আগে ফোন করে আসতে। আবারও ফোনে লাইন পাওয়া যায় না। তাও ভাল, অ্যাপ এবং ইমেইলের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেটা আগে থেকে করলে কি হতো? আড়াইটা মাস সময় ছিল হাতে। আগে থেকে কেউ অনুমান করতে পারেনি আমাদের দেশে এই রোগ প্রবেশ করলে "পর্যাপ্ত" সাপোর্ট দরকার? তখন চিল্লায়ে মন্ত্রী মিনিস্টাররা বলতো, "আমরা করোনা ভাইরাসের জন্য প্রস্তুত!" এই হচ্ছে প্রস্তুতির নমুনা।
একজনের আব্বা শুনলাম মারা গেছেন নিউমোনিয়ায়। আরও অনেকেই মরবেন নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি রোগে। করোনা টেস্ট করবেন যে কিটইতো নাই। বুড়োরা মরে সাফ হয়ে যাবে। যুবক যুবতীদেরও অনেকেই মারা যাবেন। কেউই করোনায় মরবেন না।
একদিন মহামারী কেটে গেলে পরে হিসেব দেয়া হবে গোটা বিশ্বের সব দেশে থেকে বহু মানুষ মারা গেলেও বাংলাদেশে দশজন রোগীও মরেনি, অথচ জনসংখ্যা থেকে বহু মানুষ গায়েব হয়ে যাবেন।
বলে লাভ নাই। বললে বলবেন আতংক ছড়াচ্ছি। থাকিতো বিদেশে, দেশকে আতঙ্কিত করে লাভ কি। মাথার ব্রেনটা একটু এপ্লাই করলে বুঝতেন আতঙ্কিত করা আর সাবধান করার মাঝে পার্থক্য কতটা। বুঝতেন ছোঁয়াচে রোগ, যেটা ছয় ফিট পর্যন্ত radius এর সবাইকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা রাখে, সেটার ব্যাপারে সাবধান করার পরেও আমাদের জাতির লোকজন টুরিস্ট স্পটে ফূর্তি করতে যায়। প্যানিক করতে না বললে না জানি কি করতো।
ইউরোপের অবস্থা, আমেরিকার অবস্থা দেখছি বলেই বলছি, ওরে বাঙালি, সাবধান হ! সময় থাকতে সাবধান হ!
মহাবিপদে নিজেকে নিয়ে, নিজের পরিবার, আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন? ভয় পান। এটাই সাধারণ মানুষের আচরণ। তাহলেই সাবধান হতে পারবেন। তাহলেই ব্যবস্থা নিবেন যাতে এই রোগ কোন অবস্থাতেই আপনার বাড়িতে না আসে, বা আপনার বাড়ি থেকে বাইরে না বেরোয়।
আর যদি "ভয় পাইনা, প্যানিক করিনা, যা হবার হবে" জাতীয় কথাবার্তা বলে গায়ে ফু দিয়ে বেড়ান, অন্যের মাঝে ছড়িয়ে বেড়ান, তাহলে বুঝতে হবে মাথায় মগজের পরিবর্তে চারপেয়ে প্রাণীর মস্তিষ্ক ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছে।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৫৫

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: মৃত্যু ৫ হাজার থেকে ৮ হাজারে যেতে ৪দিনও লাগেনি। মৃত্যুহার ফুরফুর করে বাড়ছে।

মানুষকে বুজিয়ে সুঝিয়ে হোক, আর ভয় দেখিয়ে হোক-
ঘরে রাখাটা জরুরী।

২| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৪৬

নেওয়াজ আলি বলেছেন: প্রতিটি পাড়ায়,মহল্লায় এবং গ্রামে দলমতের উদ্ধে উঠে টিম গঠন করা দরকার , এই টিম সাধারণ জনগণকে সচেতন করবে। আর কোন প্রবাসী থাকলে উনাকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিতে হবে ।

৩| ১৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৪২

রাজীব নুর বলেছেন: কি যে হবে !!!!!!!!

৪| ১৯ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৩:৪৪

সোহানী বলেছেন: আসলেইতো কেউ মারা যাবে নিউমোনিয়ায়, কেউ যাবে জ্বরে, কেউ শ্বাস কষ্টে.....। এদের কেউ কিন্তু করোনায় নয়।

৫| ১৯ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:০৮

ইমরান আশফাক বলেছেন: আমরা ইতিমধ্যেই সাধানতার সুযোগ পার করে ফেলেছি বা হেলায় হারিয়েছি। কারন:

আমি শুনেছিলাম যে ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে। ২৫ ডিগ্রির উপরে হলে টিকতে পারে না, মারা যায়। আমাদের দেশে এই কারনে এই ভাইরাস তেমন বিস্তার লাভ করতে পারবে না। এবং এই ধারনার উপর থেকে বেশ স্বস্থিতে ছিলাম আমরা। কিন্তু বিশেষ একজনের জন্ম শতবার্ষিকী পালনের পরেরদিন থেকেই জানছি যে ধারনাটা ভূল। ভাইরাসটি বলে জিনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। এখন তাহলে আর উপায় কি? সাবধান হয়ে বাসায় পড়ে থাকলে কি চলবে আমাদের? বউ বাচ্চাদের খাওয়াতে হবে না? উভসংকটে আমরা, বাসায় থাকলে না খেয়ে মরতে হবে আর বাইরে বের হলে করোনা ভাইরাস। মনে হচ্ছে মৃত্যুই আমাদের একমাত্র নিয়তি। সাবধানতা অবলম্বন করে বের হবো কিন্তু কতক্ষন নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে পারবো? একমাত্র আল্লাহই ভরসা আমাদের।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.