নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

নীল মনি

শিশুর মত চোখ দিয়ে দেখি আমার এই বিশ্ব।মানুষ স্বপ্নের কাছে হেরে যায় না, হেরে যায় নিজের প্রত্যাশার কাছে। প্রত্যাশা থাকে আকাশচুম্বী অথচ প্রচেষ্টায় থাকে শুধুই স্বপ্ন।

নীল মনি › বিস্তারিত পোস্টঃ

হ্যালো, আপনাকেই বলছি

০৭ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৫:১৬

বুঝতেই পারিনি ওকে, এতোটা অভিমান না করলেই পারত!মেয়েমানুষের এত অভিমান ভালো নয়।হ্যালো!শুনতে পাচ্ছেন আপনাকে তো বলছি,তাহলে পুরুষ মানুষের বুঝি অভিমান থাকতে হয় ! অভিমান কারো একা নয়, ও সবার।ছেলেরা অভিমান করে কিন্তু প্রকাশ করেনা আর মেয়েরা প্রকাশ করে আর বাড়তি হিসাবে চোখের জল ফেলে,আর দু এক বেলা না খেয়ে থাকে।এই সহজ ব্যাপারটুকু সব ছেলেই জানে তবুও আপনি কেন জানলেন না? আর এখন বলছেন বুঝতেই পারিনি,ন্যাকা!বুঝতে পারেননি নাকি বুঝতে চাননি? বুঝেও অবুঝ হলে তাকে কেউ কোন দিন বুঝাতে পারেনা।তবে সেদিন যখন বাড়ির সামনে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, আপনার চোখে চোখ পড়াতে কী বুঝে ওমন করে মিষ্টি হাসি দিয়ে চলে গেলেন।আমি তো চোখ সরিয়ে নিয়েছিলাম কিন্তু আপনি কেন হ্যাংলার মত ওমন তাকিয়েছিলেন।সুন্দরীদের তালিকায় থাকার মত আমি তো কেউ নয়,তবুও কেন?!বলুন, কেন জানি প্রথম দেখায় মনে হল এতদিন ধরে আমি একেই খুঁজছিলাম,আমি আসলে ঠিক জানিনে,এসবই তো! এমন উত্তর সবাই দেয়,আর আপনিও দিচ্ছেন,সত্যিকারের কথাটা বলে দিলেই হয়।বলুন ওমন করে আসলে আমি ভাবিনি,শুধু শুধু তুমি আমায় ভুল বুঝছ ইলোত্রা।ইলোত্রা শুধু শুধু ভুল বোঝে তাইনা,ওরা ঠিকই বুঝে কিন্তু আপনার মত প্লাবন নামধারী মানুষগুলো ইলোত্রাদের জীবনে প্লাবন এনে দিয়ে বলে "সরি! আমি আসলেই বুঝতে পারিনি।"বলুন তো কী করলে বুঝতে পারতেন।কোন কিছুতেই বুঝতেন না,আমি এসে যদি আপনাকে বলতাম আপনাকে ভালোবাসি, আপনি কী বলতেন জানেন? বলতেন ভালোবাস, খুব ভালো খুব ভালো তারপর হাসতেন,যেন এটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাসির গল্প যেন এই মাত্র শুনলেন।
একটা উঠতি বয়সের মেয়ের কাছে আপনার মত সুদর্শন ছেলের একটা হাসিও অনেক কিছু।সে অর্থ আপনি বুঝেন বলে প্রথম দিন ওমন করে হাসতে পারলেন, আপনার হাতে লাল গোলাপ ছিল,হয়ত কারো জন্য ভালোবেসে। আপনাকে কিন্তু সত্যি অনেক সুন্দর দেখাচ্ছিল।আমি একবারের পর আবার আপনার দিকে তাকিয়েছিলাম।সেই প্রথম আমি আমার নিয়ম ভেংগেছিলাম।আমার মা আমাকে বলেছিল পুরুষমানুষের দিকে প্রথমবার বিনা কারণে চোখ গেলে দোষের কিছু নেই,কিন্তু এর পর গেলে শয়তান তীর ছোড়ে,সে তীর হৃদয়ে লাগে আর গোনাহ হয়।সেই প্রথম আমি স্বেচ্ছায় গোনাহ করলাম।কিন্তু কেন জানি দুঃখ লাগল না, কেমন জানি আনন্দ লাগল।এর পর সারাদিন ওই মুহুর্তে ডুবে ছিলাম আমি।ভেবেছিলাম আবার কবে দেখব আপনাকে।
আপনাকে তো বলা হয়নি আমার হারমোনিকার সুর শুনতে ভীষণ ভালো লাগে।প্রায় আমাদের ব্লিডিং এ মাঝরাতে কে যেন সুর তোলে,আমি এই সুর শোনার জন্য মাঝে মাঝেই রাত জাগি।তারপর শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে যাই।কিন্তু সকাল হলে রাগ লাগে কেন ঘুমালাম।আমার মনের মাঝে প্রায় হতে থাকে কে সেই জন? আমার তাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে.অধৈর্য হবেন না প্লিজ।
এই ভাবে কেটে যাচ্ছিল দিন।তারপর আবার একদিন আপনার সাথে দেখা হল সিড়িঁতে।চৌদ্দতলা বিল্ডিং এর হঠাৎ লিফট নষ্ট হয়ে যাওয়াতে সবার সেদিন করুণ অবস্থা।আপনি ও ঠিক সেদিন আমায় দেখে হেসেছিলেন প্রথম দিনের মত।আমি তখন ভীষণ ব্যস্ত উপরে উঠার জন্য,কারণ পরীক্ষার প্রবেশপত্র বাসায় আমি ভুল করে রেখে গিয়েছিলাম।ওমন ঝামেলার মাঝে থেকেও শুধু আপনার হাসির জন্য থমকে গিয়েছিলাম।আর সেই প্রথম, বিনা কারনে আমিও হেসেছিলাম আপনার হাসির জবাবে।
হ্যালো! শুনতে পাচ্ছেন তো প্লাবন?আমি সেদিন আপনার হাতে অফিস ব্যাগ দেখে বুঝেছিলাম যে একই বিল্ডিং এ থাকি আমরা।আমার যে কী ভালো লাগছিল!তারপর থেকে সারাটা সময অস্থিরতা,মনে হত এই বুঝি দেখা হল।এমনকি লিফটে উঠলে কখনো দম বন্ধ হয়ে আসত এই ভেবে, যদি সত্যি সত্যি আপনিও লিফটে উঠেন।
দেখতে দেখতে পরীক্ষা শেষ হয়ে এলো,আমি ঠিক করলাম খালার বাড়ি বেড়াতে যাব,আমি যখন গাড়িতে উঠে বসেছি,তখন বাহিরের দিকে তাকিয়ে দেখি হাত ভর্তি সাদা গ্লাডিওলাস নিয়ে আপনি দাঁড়িয়ে,আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম,আমার পাশে আমার মা বসে ছিলেন,খুব আফসোস হল সেদিন কারন আপনার হাসি দেখার আগেই আমাকে আমার কাছে ফিরতে হয়েছিল।।এইভাবে চলছিল জীবন।ভালোলাগার দোলাচলে একটা ছোট্ট জীবন।যে আগে কখনো কোন ছেলের দিকে দ্বিতীয় বার তাকাতে শেখেনি।
এতটা সময় ধরে এত কথা বলছি, অথচ জানেন যে অনুভূতি থাকার কথা ছিল আজ আর তা নেই।জীবন বড় অদ্ভুত সেকেন্ডে সেকেন্ডে যেন দিক বদলায়।প্রথম আপনার কন্ঠ শুনলাম সেই লিফটে,কেমন ছিলাম সেদিন বলতে পারেন? মায়ের সাথে আমরা তিনজন,আপনি প্রথম যেচে কথা বললেন যে এখানে আপনি নতুন এসেছেন,আশে পাশে বেড়াতে যাবার মত কোন ভালো ঠিকানা জানা আছে কিনা? মা কিছু বললেন,কিন্তু আমি জানি প্রয়োজন ছাড়া আপনি কেন জিজ্ঞেস করেছিলেন!বাসায় এসে মা বলছিল ঢং! মেয়ে মানুষ দেখলে গায়ে পড়ে কথা না বললে যেন হয়না।মা আপনায় নিয়ে পচাঁ কথা যত বলছিল আমার তত খারাপ লাগছিল।সেই প্রথম কোন ছেলের জন্য কেঁদেছিলাম আর দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করেছিলাম।সময় গড়িয়ে গড়িয়ে যেতে যেতে একদিন সত্যি আপনার সামনে আসলাম।বছরের নতুন দিনটায় শাড়ি পরে আমি যখন লিফটে তখন মনে প্রাণে চোখ আপনাকে খুঁজছিল,মনে হচ্ছিল ইশশ! আপনি যদি সত্যি সত্যি লিফটে উঠতেন।উঠেছিলেন তো, দেখা তো হয়েছিল আপনার সাথে ফেরার পথে।আপনি আপনার চোখ দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন কেমন দেখাচ্ছে আমায়,একই সাথে রাগ আবার লজ্জা কাজ করছিল আমার।ওখানে আপনি নাম জানতে চাইলেন,আমি বললাম ইলোত্রা চৌধুরী। আর তারপর নিজ থেকে নাম বলে নেমে গেলেন ছয়তলাতে।এরপর থেকে যখনই ছয়তলায় আসি যেন দম আটকে আসে।তারপর আবারো একদিন লিফটে দেখা হল,আপনি সেদিন আটতলায় নেমে গেলেন আর যাবার আগে হাতের মাঝে একটা কার্ড ধরিয়ে দিলেন, সেই প্রথম কোন ছেলে আমার হাত স্পর্শ করল।আচ্ছা ইচ্ছে করে ওমন করে না দিলেও পারতেন,স্পর্শ ছাড়াও কিন্তু চাইলে মানুষকে কিছু দেয়া যায়।তবে একটা ব্যাপার কী জানেন,আমি লিফটে ঠিক কত সময় ওমন ভাবে ছিলাম জানিনা,তবে আমি বাসায় আসার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে কার্ডটা লুকিয়ে রেখেছিলাম।কার্ডের দিকে তাকাতেও ললজ্জা করছিল।মনে হল তাকালে আমায় পড়ে ফেলবে।তবে একটা জিনিস সেদিন বুঝতে পারলাম না কেন এক দিন আপনি ছয়তলা আর একদিন আটতলায় নামলেন।এরপর তো জানেন সব কিছুই।তারপর কিছুটা বলি।
মা অফিসে গেলে আমি প্রথম সাহস করে আপনায় ফোন দিয়েছিলাম।শত চেষ্টায় মুখ দিয়ে কথা বের করে বলতে পারিনি আমিই ইলোত্রা।এরপর একদিন কথা হল,এরপর কথার প্রতিযোগিতা হল যেন।মা অফিস থেকে প্রায় বাসার লাইন ব্যস্ত পান।তবুও মা আমায় সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করেন না।
জানেন একদিন মাঝ রাতে আপনায় ফোন দিলাম আর আপনি ধমক দিয়ে ফোন রাখলেন,ভাবখানা এমন যেন চেনেনই না।আপনি তো এমন যখন যার কাছে তখন শুধু তার!
এরপর কী হল জানেন,একদিন লিফটে এক ভদ্রমহিলার সাথে দেখা, আটমাস হবে হয়ত তার গর্ভধারণের,হাতে একটা ল্যাগেজ।আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল আপু আমায় সাহায্য করবেন, ভীষণ খারাপ লাগছে, জার্নি করে এসেছি,আমার একট ব্যাগ যদি একটু ধরে দিতেন।আমি উনাকে না করতে পারিনি,কী মিষ্টি মেয়ে, তার উপর অসুস্থ,আমি হাসলাম আর সম্মতি জানাতে না জানাতে আটতলায় এসে দেখলাম উনি নামার জন্য উদ্যত হচ্ছেন।সেইদিন আমি তাকে সাহায্য করেছিলাম আর ব্যাগ তার বাসার দরজার কাছে দিয়ে চলে এসেছিলাম,এইটুকু উপকার করাতে সেই আপু যে কী খুশি হয়েছিল কী বলব,আপু আমায় বলব তার বাসায় যেতে।আমি সেদিন সেই আপুকে বলেছিলাম আমি যাব।কিন্তু ওমনভাবে তাকে দেখতে যাব সেটা ভাবতে পারিনি।
জানেন মা একদিন আমায় ডাকল অনেকরাতে।আমি ভয় পেয়ে গেলাম কেন এত রাতে,সেদিন বাবা যেন কেমন করছিলেন,ডাক্তার দেখাতে হবে।আমি কী করব বুঝতে পারছিলামনা আমার শুধু আপনার কথা মনে আসল,কোন কিছু না ভেবে ফোন করে বসলাম,কিন্তু রিসিভ হলোনা,পরে আবার দিলাম কে যে কষ্ট হচ্ছিল।পরে আবার যখন দিলাম আপনি ধরলেন,আমি হড়বড় করে সব বলার পর দেখি আপনি চুপ রইলেন,তখন আমি আবার হ্যালো বলতেই ওপাশে নারীকন্ঠ পেলাম।আর তখন বুঝলাম ফোনটা আপনি ধরেননি, প্লাবনের হয়ে অন্য কেউ ধরেছ।বুঝলাম,আর উনাকে অনুরোধ করলাম আপনাকে যেন পাঠিয়ে দেন।তবে সেই কথাটুকু আমার বলতে বুকের উপর পাথর চাপা দিতে হয়েছিল,আর মনে হয়েছিল বাবার মত আমারো কার্ডিয়াক আরেস্ট হয়ে গেছে।আপনি এসেছিলেন, সত্যি এসেছিলেন খুব ভালো লেগেছিল।সে যাত্রায় উদ্ধার পেয়েছিলেন বাবা।কিন্তু উদ্ধার পায়নি আমি।এখনো সে কষ্ট বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। মায়ের কাছে সেই প্রথম ধরা পড়েছিলাম আমি।আমি সব সত্য বলেছি মাকে,আমি সত্য বলতেই পছন্দ করি,আর মা সেটা জানে।তারপর অনেকদিন কথা নেই আপনার সাথে, তারপর শুনলাম আমাদের বিল্ডিং এ পুলিশ এসেছে।আটতলায় একটা সুইসাইড কেস হয়েছে।মা আর আমি চলে গেলাম।আমি দেখলাম সেই ফ্লাট,যেখানে আমি সেই আপুটার ব্যাগ এনে দিয়েছিলাম,পুলিশ ভেতরের ঘরে, আমি শুধু প্রথম রুমে ঢুকেছিলাম দেখলাম সোফাসেট তার এক পাশে বইয়ের তাক,সেই তাকের উপর একটা হারমোনিকা পড়ে আছে।তার একটু উপরে দেখলাম,সেই আপু দাঁড়িয়ে আর তার গলায় হাত জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই ছেলেটি যাকে আমি... ওখানে আর দাঁড়াতে পারিনি,বাড়ি চলে এসেছি,খুব কেদেঁছি , আপনার জন্য নয় প্লাবন, ওই আপুটার জন্য।উনি তো আপনায় ভালোবাসত তবে কেন তার অভিমানটুকু বোঝার চেষ্টা করেন নি।একটা মেয়ে যখন গর্ভধারণ করে তখন সে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকে,খুব অল্পতেই রাগ কিংবা খুশি হয়ে যায়
।হরমোনের তো আর কম রকমফের হয়না।অথচ অনেক ছেলেই এই বিষয়টা বুঝেনা।আপনিও বুঝেননি,মানুষের আদালত বলে পাচঁ বছরের জেলে থেকে বাহিরে এসেছেন।নিজেকে নির্দোষ বলেন আর এখন আবার সব কিছু নতুন করে শুরু করবেন বলে ফোন করছেন।সব কিছু এত সহজ নয়,,আজ খুশি খুশি মনে সব কথা বলার কথা অথচ রাগ, ক্ষোভ,ঘৃণা ছাড়া আমার আর কিছু নেই।আপনি এমনি,মিষ্টি হাসি দিয়ে, মোবাইল নং দিয়ে মেয়ে পটাবেন,তা তো হয়না।এটা সত্যি আপনি আমার প্রথম ভাললাগা।এই সত্যিটুকু সারা জীবন সত্য হয়েই থাকবে।আমাকে আরর ফোন দিবেন না প্লিজ,আমি ভালো আছি আমার ভালবাসায়,টুট টুট,টুট...

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মে, ২০১৬ রাত ৯:৫২

মামুন আমিন বলেছেন:
আবেগি লেখা।
অনেক ভাল হইছে।
লিখতে থাকুন।

২| ১০ ই মে, ২০১৬ সকাল ৮:৩৮

নীল মনি বলেছেন: শুকরিয়া শুকরিয়া :) সাত সকালেই তো খুশি হয়ে গেলুম :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.