নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

নীল মনি

শিশুর মত চোখ দিয়ে দেখি আমার এই বিশ্ব।মানুষ স্বপ্নের কাছে হেরে যায় না, হেরে যায় নিজের প্রত্যাশার কাছে। প্রত্যাশা থাকে আকাশচুম্বী অথচ প্রচেষ্টায় থাকে শুধুই স্বপ্ন।

নীল মনি › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাবা

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:২৬

একটা জিনিস মা প্রায় লুকায়।মা যেন চাই না আমি দেখে ফেলি।যখনই আলমারি গোছায় তখন খুব সাবধানে সেটা সরিয়ে রাখে।বলে ও কিছু না।

আমার প্রায় ইচ্ছে করে মা'য়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওটা নিই।ওটা একটা ডায়েরি।কালো একটা মলাট।একদিন মা'য়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ডায়েরিটা নিলাম।মা ঘরে কী একটা কাজে এল।এসেই দেখে আমি তার ডায়েরিতে হাত দিয়েছি।এসেই হাত থেকে কেঁড়ে নিলেন।আর ঠাস করে গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন।আমি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম।পাশের রুম থেকে বাবা জানতে চাইলেন, "রোমেনা! কী হল।"
মা ছোট্ট করে বললেন "ও কিছু না।"
মায়ের কথা শুনে আরো যেন কান্নার গতি বেড়ে গেল।মা বললেন,"কাঁদবি কিন্তু শব্দ করবি না।চোখের সামনে থেকে যা।"
তারপর অনেকটা বছর চলে গেছে।মা মারা গেছেন আজ একবছর হল।বাবা এসে বললেন,"শুভ্রা,এই নাও এই ডায়েরিটা তোমার।তোমার মা মৃত্যুর আগে বলে গেছেন এই ডায়েরিটা যেন তোমাকে দিই।"
কালো মলাটের ডায়েরিটা আমার হাতে।ডায়েরিটা নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলাম।অথচ বাসায় আমরা দু'জন।বাবা আর আমি।আমার কোন ভাই বোন নেই।তবুও যেন মনে হল আজ আরো বেশি একাকিত্ব প্রয়োজন।
ডায়েরিটা জড়িয়ে ধরার পর মায়ের সেই চড়ের কথা মনে এল।মনে হল মা যদি এসে আবার একটা চড় দিয়ে যেতেন।

ডায়েরিটা পৃষ্ঠা উল্টালাম।আশিকুর রহমান।এই নাম তো কখনো শুনিনি।আমি পড়তে শুরু করলাম।কালো কলম দিয়ে খুব সুন্দর করে লেখা"Only For my Love."

আমি পড়া বন্ধ করলাম।বুঝতে পারছিলাম না কিছুই।ভেতরটা পড়তে কেমন যেন ভয় করছে।
সামনে তাকাই।ঘরের জানালা খোলা।সে জানালা দিয়ে নীলচে আকাশ দেখা যায়।জানালার পাশ বেয়ে একটা গাছ বেড়ে উঠেছে।গাছটার নাম জানি না।বাতাসে অল্প অল্প নড়ছে।একটা বিড়ালের ক্রমাগত ডাক শোনা যাচ্ছে।
ডায়েরিটা আবার খুললাম।একটা হাতের ছাপ।দেখে মনে হচ্ছে মেয়েলি একটা হাতের ছবি।

তোমাকে দেখার পর জীবনের সমস্ত ব্যাকরণ বদলে গেল।আমি ছিলাম বাউণ্ডুলে মনে হল সব বদলে যাচ্ছে।নিজেকে সামলে রাখা কঠিন।তোমাকে প্রথম দেখেছি বিয়ের রাতে।এর আগে কেন তোমার সাথে দেখা হল না! বড্ড লাজুক তুমি! এত লাজুক কেন মেয়ে।
পৃষ্ঠা উল্টালাম
ছোট্ট করে সেখানে লেখা আছে
চুল ছেড়ে শাড়িতে তুমি দেখতে দারুণ।
প্রতিমুহূর্তে আমি তোমার সঙ্গে পথ চলতে চাই।

আজ সকালে তুমি যখন ঘুমিয়ে ছিলে আমি তোমার চোখে আদর দিয়েছি।তুমি লজ্জায় আরো যেন সুন্দর হয়ে গেলে।

ডায়েরির পাতার পর পাতা উল্টে যাচ্ছি।কিছুই বুঝতে পারছি না।একটা পাতায় চোখ আটকে গেল-
শোন তুমি কিন্তু এমনটি না বললেও পারতে।

তোমার জন্য রোমেনা

সে ছিল স্বভাবে উচ্ছল
দিশাহীন এক বায়ুযান।
সে ছিল আনন্দময়ী
দৃষ্টিতে সম্ভ্রম।
সে ছিল কোমলীয় সুন্দরী
উজ্বল আলোকে মধ্যরাত্রি'র
এক আবক্ষ মূর্তি।
অস্থির, অসহিষ্ণু আত্মায় তাকে চেয়েছি
মাথায় তখন ঘুরে শুধু ইচ্ছের রঙিন প্রজাপতি।
প্রথা ভেঙে শিহরণে চলে যায় তার কাছে।
গিয়ে বলি নির্লজ্জের মতো 'তোমাকে আমার চাই।'
সময়ের কন্ঠসরে সেই কথা বাজে বারে বারে
বিমগ্ন ইচ্ছের কারসাজিতে;অস্থির প্রাণ তার দিকে চেয়ে
সাগরের মত উথাল পাথাল ঢেউয়ে কাঁপছি এমন
ঠিক তখনি সে বলল নিরবতার পাহাড় ভেঙে
ভালোবাসো?
যদি তাই তবে সবার আগে ভালোবাসো ফুল,ভালোবাসো সবুজ
ভালোবাসো তোমার তুমিকে।
আমি একটা ধাক্কা খেলাম।মা'য়ের কাছে লেখা এত কথা!কোন হিসাব যেন মস্তিস্ক করতে পারছে না।
ডায়েরি'র কোথাও কোন তারিখ লেখা নেই।

রোমেনা আমার মেয়ে হবে জানি। ওর নাম শায়েরি আশিক শুভ্রা রেখ।আমি নিজের নাম মেলালাম।আমার নাম তো শায়েরি সাদিত শুভ্রা।সাদিত তো বাবার নাম।
আর ছেলে যদি হয় রেখ আশিক।
আমি এগিয়ে গেলাম।হঠাৎ কালচে ছোপ ছোপ দাগ।
এরপরের পাতায় লেখা চিঠি
প্রিয় রোমেনা,
জানি না এ লেখা তোমার কাছে পৌঁছাবে কিনা তবুও লিখছি।তোমাকে কতদিন দেখি না।আমার ভীষণ কষ্ট লাগে,কাঁদি না একটুও।কিন্তু বসে যখন তোমার কথা ভাবি তখন তোমার চোখ দুটো ভেসে ওঠে।মায়ায় জড়ানো ও চোখ আমায় মুগ্ধ করে শতবার।এখন অনেক রাত।ওরা সবাই ঘুমিয়েছে একটু।প্রতিদিন মানুষ মারতে মারতে কেমন যেন হয়ে
গেছি।গতকাল একটা অপারেশনের সময় এক পাঞ্জাব বলছিল "ছোড় দো,মেরা বেটি মেরে বাচ্চে আনাথ হো জায়ে গে।" কাল থেকে এই কথাটা কানে বাজছে।
চারিদিকে মানুষের খন্ড খন্ড দেহের অংশ ছড়িয়ে আছে।মাথার খুলি।চাক চাক রক্ত।একপাটি জুতো। কানের দুল।রক্তাক্ত মুখ।এসব প্রতিদিন দেখতে হয়।
দলে দলে মানুষের ছুটেচলা।উদ্বেগ অস্থিরতায় হাজার চোখ বের হয়ে আসবে।পালাতে চাই মানুষ।পাকিস্তানিদের হাত থেকে।তোমাকে এ অবস্থায় একলা ফেলে চলে এসেছি।আমার যদি কিছু হয়ে যায় অপরাধী করো না।তোমাকে আমি আমার সবটুকু দিয়ে ভালোবাসি রোমেনা।আমার লক্ষী বউ এখন যাই।কাল সকালে বড় অপারেশন আছে।সেখানে নেতৃত্ব দিব আমি।দোয়া রেখ ঘরে ফিরে আমাদের সন্তানকে কোলে নিতে পারি।
ইতি তোমার প্রাণের স্বামী

ডায়েরিতে আর কিছু লেখা নেই।এরপর ফাঁকা। একেবারেই ফাঁকা
©রুবাইদা গুলশান

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৪৩

দীপঙ্কর বেরা বলেছেন: খুব সুন্দর।
ভাল লাগল ।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০৫

নীল মনি বলেছেন: শুকরিয়া ,দোয়া করবেন যেন ভালো কিছু লিখতে পারি।পাশে থাকবেন।

২| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৫১

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: পুরো লেখাটা পড়ার সময় অদ্ভুত এক আবেশে আছন্ন ছিলাম। এমন সুন্দর লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আমার কল্পনার জগতকে একটা নাড়া দিয়ে গেল।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০৯

নীল মনি বলেছেন: আপনার এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।দোয়া করবেন।

৩| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: আহারে ---

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১১

নীল মনি বলেছেন: হুম

৪| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৩৯

আইশা কবির বলেছেন: সত্যিই অসাধারন লিখেছেন! ভালো লাগলো।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১২

নীল মনি বলেছেন: শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানায়।

৫| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৩৯

মানুষ বলেছেন: ভালো লাগলো।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১৬

নীল মনি বলেছেন: শুকরিয়া জানাই :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.