নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সম্পাদক, শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক ত্রৈমাসিক \'মেঘফুল\'। প্রতিষ্ঠাতা স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠন \'এক রঙ্গা এক ঘুড়ি\'।

নীলসাধু

আমি খুব সহজ এবং তার চেয়েও বেশী সাধারন একজন মানুষ । আইটি প্রফেশনাল হিসেবে কাজ করছি। টুকটাক ছাইপাশ কিছু লেখালেখির অভ্যাস আছে। মানুষকে ভালবাসি। বই সঙ্গে থাকলে আমার আর কিছু না হলেও হয়। ভালো লাগে ঘুরে বেড়াতে। ভালবাসি প্রকৃতি; অবারিত সবুজ প্রান্তর। বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে দুকুল উপচেপরা নদী আমাকে টানে খুব। ব্যাক্তিগতভাবে বাউল, সাধক, সাধুদের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। তাই নামের শেষে সাধু। এই নামেই আমি লেখালেখি করি। আমার ব্লগে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। শুভকামনা রইলো। ভালো থাকুন সবসময়। শুভ ব্লগিং। ই-মেইলঃ neeluttara@gmail.com

নীলসাধু › বিস্তারিত পোস্টঃ

গাছগুলো যথাস্থানে রেখেই রাস্তা প্রশস্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক!

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:১০



১৮২৬ সালে যশোরে কালী প্রসাদ পোদ্দার নামে এক ধনী বণিক ছিলেন। তাঁর মা এই পথ দিয়ে গঙ্গা স্নানে যেতেন। নদীয়ার যেসব মানুষ পুণ্যস্নানের জন্য হরিদ্বার আর বেনারস পর্যন্ত যেতে পারতেন না তারা চাকদহ নামক ঐ তীর্থস্থানটিতে যেতেন।
তখন পথটি এমন ছিল না। যাত্রী এবং পালকিবাহকরা এই দীর্ঘ যাত্রায় রোদে পুড়ে যেতেন। কোন গাছপালাই ছিল না।
বিশ্রামের জন্য সামান্য ছায়া পেতেন না।
একবার কালী প্রসাদের মা স্নান করে ফিরে ছেলেকে বলেছিলেন, 'এত দীর্ঘ পথ আমার কষ্ট হয়।
তুমি এত কিছু করো, এই পথটা ধরে গাছ লাগিয়ে দিতে পার না?'
.
কালী প্রসাদ মায়ের যাত্রা পথ শীতল করতে এই পথে তখন হাজার হাজার গাছ লাগান।
শত বছর পরেও এই গাছগুলো রয়ে গেছে।
.
.
এই পথে আমি বহুবার বাংলাদেশ হতে ভারতে গিয়েছি, ফিরে এসেছি।
কি যে মায়ায় ঘেরা এই পথটুকু যারা গেছেন শুধু তারাই অনুভব করতে পারবেন।
প্রতিটি গাছই যেন একটি ইতিহাস।
দীর্ঘদিন বেচে থাকার কারণে তাদের অবলম্বন করেও জন্ম হয়েছে অনেক গাছের। তাদের সারা গায়েও অন্যান্য আরও ছোট প্রজাতির নানা গাছ গাছালি :)
পুরো পথটি যেন রূপকথার কোন রাস্তা।
মায়া আর সবুজে ছাওয়া এই পথ তাই আমাদের সকলের কাছে অতি প্রিয়। ভালোবাসার একটি রাস্তা।



যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সড়কটির দুপাশে দুই হাজারেরও বেশি গাছ আছে। তারমধ্যে অনেক গাছ শতবর্ষী। রাস্তার দুই পাশে এই বৃক্ষরাজি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সীমান্তের ওপারে এই সড়কটি পরিচিত যশোর রোড নামে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই সড়কটির রয়েছে ঐতিহাসিক অবস্থান।
লাখ লাখ শরণার্থী এই সড়ক ধরে ভারতে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। দেশে ফিরে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন তার ঐতিহাসিক কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।
.
.
স্মৃতিবিজড়িত এই রাস্তাটি ৪ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সময়ের দাবিতে এটাই বাস্তবতা। মানুষ বেড়েছে, গাড়ি বেড়েছে; রাস্তাও তাই বাড়াতে হবে।

আমাদের চাওয়া হলো রাস্তাটি চার লেন করার জন্য রাস্তার দুই পাশে থাকা ২ হাজার ৩১২টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে তা যেন করা না হয়। গাছগুলো রেখেই রাস্তা প্রশস্ত করা হোক। সীমান্তের ওপারে ভারতের অংশেও রাস্তা বড় করা হয়েছে তারা কিন্তু গাছ না কেটেই রাস্তা প্রশস্ত করার কাজটি করেছে। একটা গাছও কাটা হয়নি।

.
.
গাছগুলো যথাস্থানে রেখেই রাস্তা প্রশস্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক!





মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:২৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


এই রাস্তার পাশ দিয়ে "ওয়ান-ওয়ে" রাস্তা হবে; বর্তমানটাকে "ওয়ান-ওয়ে" করে দেবে; এটা হয়তো কারো মাথায় আসতে পারে। আপনি তুরাগ নদীর তীরে আখরী মোনাজাতে এটাকে যুক্ত করানোর চেষ্টা করেন।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৫

নীলসাধু বলেছেন: হুম চাইলে এই রাস্তা অখ রেখেই রাস্তা প্রশস্ত করা যেতে পারে চাঁদ্গাজী ভাই।
ধন্যবাদ।

২| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:২৯

শুভ_ঢাকা বলেছেন: গত বছর এই রাস্তা দিয়ে ভারতে গিয়েছিলাম। অসম্ভব সুন্দর রাস্তা। যে কোন উপায়ে হলেও এই গাছগুলো রক্ষা করা উচিত।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৫

নীলসাধু বলেছেন: জ্বি সহমত। ধন্যবাদ।

৩| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:৫১

ইসমত বলেছেন: উন্নয়নের নামে অতিউৎসাহীদের গাছ কাটার প্রতিযোগিতা চলছে দেশ জুড়ে। আহ্বান জানাই প্রিয় যশোর রোড থেকে এটি বন্ধে সরকার পদক্ষেপ নেবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে ২লেইনকে যেমন ৪ লেইনে উন্নীত করতে সবস্থানে পুরোনো রাস্তাকে চওড়া করা হয়নি; বেশ কিছু অংশে ওয়ান-ওয়ে করা হয়েছে। এখানেও তেমনটি করতে হবে; প্রয়োজনে আরেকটি সম্পূর্ণ নতুন রাস্তা করা যেতে পারে। এই বৃক্ষরাজি হারালে আর পাওয়া যাবে না।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৬

নীলসাধু বলেছেন: আন্তরিক মন্তব্যে ভালো লাগা রইলো।
আপনি যথার্থ বলেছেন। সম্পুর্ণ সহমত, ধন্যবাদ।

৪| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:৫২

প্রামানিক বলেছেন: গাছগুলো রেখে ভারত রাস্তা করতে পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন--

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৭

নীলসাধু বলেছেন: জ্বি চাইলেই তা করা সম্ভব বলে মনে করি।

৫| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১:০২

ঠ্যঠা মফিজ বলেছেন: ভালো দাবী সহমত।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৮

নীলসাধু বলেছেন: ধন্যবাদ।

৬| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১:৩১

ফয়েজ উল্লাহ রবি বলেছেন: প্রামানিক দার মতে আমিও তাই বলছি -
"গাছগুলো রেখে ভারত রাস্তা করতে পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন?"

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৮

নীলসাধু বলেছেন: ধন্যবাদ।

৭| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৪:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: গাছ কাটলে আমার খুব কষ্ট হয়। অযথা কেউ গাছ কাটলে আমার ইচ্ছা করে তাকে ফাঁসি দেই।

৮| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:০৩

রুরু বলেছেন: গাছ গুলো বাঁচুক

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৯

নীলসাধু বলেছেন: গাছগুলো বাঁচুক।
গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেই রাস্তা প্রশস্ত করা হোক।

৯| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:১৯

এম. হাবীব বলেছেন: শতবর্ষী গাছগুলো কেটে পরিবেশের ভারসাম্য ও সুন্দর্য নষ্ট না করার জোর দাবী জানাই।
আশা করছি কর্তৃপক্ষ গাছের পাশ দিয়ে নতুন ওয়ানওয়ে রাস্তা করে এই শতবর্ষী ছায়াঘেরা সুন্দোর্য রক্ষা করবেন।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৯

নীলসাধু বলেছেন: /শতবর্ষী গাছগুলো কেটে পরিবেশের ভারসাম্য ও সুন্দর্য নষ্ট না করার জোর দাবী জানাই।
আশা করছি কর্তৃপক্ষ গাছের পাশ দিয়ে নতুন ওয়ানওয়ে রাস্তা করে এই শতবর্ষী ছায়াঘেরা সুন্দোর্য রক্ষা করবেন।//

সহমত জানাই।

ধন্যবাদ।

১০| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:০১

নূর আলম হিরণ বলেছেন: খবরে দেখলাম গাছগুলি কাটার সিদ্ধান্ত থেকে প্রশাসন সরে এসেছে। ধন্যবাদ তাদের বোধোদয় হওয়ার জন্য।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১০

নীলসাধু বলেছেন: আমিও শুনেছি। সত্য মিথ্যা জানিনা।

১১| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:২৮

শামছুল ইসলাম বলেছেন: সহমত ।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:০৭

নীলসাধু বলেছেন: ধন্যবাদ।

১২| ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৪৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দেশ, প্রকৃতি সব আজ তুচ্ছ! সত্যিই খুব অসহায় বোধ হয়!
টিপাই, রামপাল, তিস্তা, অজস্র শুন্যতার মাঝে আবার যশোর রোড ইস্যু!

আমজনতার জাগরণই পারে সব বদলে দিতে! সকলের সমন্বয় চাই! অনলাইন, অফলাইন, টিভি মিডিয়া
কবি, সাহিত্যিক, সুশীল সমাজ! সকল শ্রেণীর ভেতর থেকে একই আওয়াজ উঠুক- - - বিজয় হবেই।

+++

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.