নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাঙ্গালীর সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনের ৪৬তম গৌরব উজ্জল মহান বিজয় দিবস আজঃ বিজয় দিবসে সকলকে শুভেচ্ছা

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:০৬


১৬ই ডিসেম্বর, স্বাধীনতা অর্জনের অহংবোধের উজ্জ্বলতায় উৎকীর্ণ অনিন্দ্যসুন্দর একটি দিন। একরাশ সোনালি স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণের দিন আজ। এখন থেকে ৪৫ বছর আগে আমরা স্বাধীন হয়েছি। অর্থাৎ জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশ স্থাপিত হয়েছে। অপরিমেয় রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে। একটা জিনিস লক্ষণীয়, আমরা যদি বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখব, শত শত বছর আমরা বহিরাগতদের দ্বারা শাসিত, শোষিত ও বঞ্চিত হয়েছি। তুর্কি,পাঠান, মোগল পরবর্তীতে ইংরেজ এবং সব শেষ পাকিস্তানিদের দ্বারা আমরা শাসিত ও শোষিত হয়েছি। এদের আগেও আমরা শোষিত হয়েছিলাম। সুতরাং বলা যেতে পারে, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে আমরা যে স্বাধীনতা ও বিজয় অর্জন করেছে সেটি আমরা আমাদের শত শত বছরের পরাধীনতার অবসান। আমাদের এই স্বাধীনতা লাভ সম্ভবপর হয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাহসিকতার কারণে। সঙ্গে সঙ্গে মুজিবনগর সরকারের যারা নেতা ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান তাদের কথাও স্মরণ করতে হয়। যাদের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। বাঙালি জাতির জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। বাঙালির কাছে বিজয় দিবস শুধু উৎসবের নয়, স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার শপথেরও দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের মুখ ফিরিয়ে আগামীতে সুখী-সমৃদ্ধ একটি দেশ গড়ার যাত্রা শুরুর দিনও এটি। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এদেশের আপামর জনতা দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এদিন বিজয় লাভ করে। পরাজিত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) পাকিস্তানী বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। জন্ম হয় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ অর্জনের দিন ৪৬তম মহান বিজয় দিবস আজ। ১৬ ডিসেম্বর মানেই স্বাধীনতা স্বাদ পাওয়া মুক্ত পাখি। বিজয়ের নিশান উড়ানো দুরন্ত বালক। তবে সেই বিদ্রোহী বালক আজ ৪৬ বছরে পর্দাপণ করেছে। উন্নয়ন, শান্তি-সমৃদ্ধি, শিক্ষা ও মননে বাংলাদেশ আজ ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বের বহু দেশকে। আগামীতে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার টাইগার। এটাই বিজয় দিবসের সবচেয়ে বড় অর্জন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমোঘ নির্দেশে যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটে। গত ৪৫ বছর ধরে এদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় প্রতিটি মানুষ পরম শ্রদ্ধা আর মমতায় পালন করে আসছে এ দিনটি। যতদিন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে ততদিন এ দিনটি পালন করা হবে এমনি মহিমায়। আজ লাল-সবুজের পতাকায় ছেয়ে যাবে পুরো দেশ। আকাশে বাতাসে পতপত করে উড়বে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তির পতাকা। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারাদেশে স্মৃতির মিনার উপচে পড়বে ফুলে ফুলে। বঙ্গবন্ধুর বজ্র নিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। মুক্তিকামী বাঙালি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করবে একাত্তরের বীরসন্তানদের যাদের তাজা রক্তে মুক্ত হয়েছে এদেশ। হৃদয় উজাড় করে তারা গাইবে ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে/বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা/ আমরা তোমাদের ভুলব না। ১৬ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহর থেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারাদেশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়। পৌষের রাতের শীত আর কুয়াশাকে তুচ্ছজ্ঞান করে লাখ মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে তাদের প্রাণের অর্ঘ্য নিবেদন করে দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। মুক্তিকামী বাঙালি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করবে একাত্তরের বীরসন্তানদের যাদের তাজা রক্তে মুক্ত হয়েছে এদেশ।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এ উচ্চারণ করে বঙ্গবন্ধু যে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন সেই লক্ষ্যে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে অর্জনের প্রত্যয়ে এদেশের দামাল ছেলেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ৩০ লাখ জীবনের বিনিময়ে মাতৃভূমিকে দখলদারমুক্ত করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আসমর্পণে বাধ্য হয়েছিল বিজয়ের এদিনে। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। বাঙালির স্বনির্মিত ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, এ বিজয়।

হাজার বছর ধরে শৃংখলিত বাঙালি জাতিকে বঙ্গবন্ধুই প্রথম ঘুম জাগানিয়া গান শুনিয়ে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন। সুদীর্ঘ দু’যুগের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাহেন্দ্রক্ষণে ১৯৭১-এর অগ্নিঝরা মার্চে শুনিয়েছিলেন মুক্তির অবিনাশী গান। অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ’৭১-এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালালে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে হানাদারদের প্রতিহত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। স্বাধীনতার ঘোষণায় দুর্বার প্রতিরোধে জেগে ওঠে বাংলাদেশ। শুরু হয় জনযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস নির্বিচারে গণহত্যা, নারী নির্যাতন, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে মানবাধিকার লংঘন করে চলে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তাদের এই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে মদদ দেয় এদেশেরই কিছু কুলাঙ্গার সন্তান। তারা রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস গঠন করে নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাচার চালায়। জামায়াতে ইসলামীসহ অপরাপর মৌলবাদী রাজনৈতিক দল দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।

অন্যদিকে স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে। তবে তার নির্দেশিত পথ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে শপথ নেয় বিপ্লবী বাংলাদেশ সরকার। মুজিবনগর সরকার হিসেবে পরিচিত এই প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ শেষে ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৯৩ হাজার সৈনিক। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকবাহিনী দীর্ঘ নয় মাস এদেশবাসীকে হত্যা করেছে, অসহায় মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে বীর বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতিকে করেছে গৌরবোজ্জ্বল, দিয়েছে সার্বভৌম্য ভূখণ্ড।

অস্থায়ী সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে এসে ডিসেম্বরের গোড়ায় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠন করা হয় যৌথ কমান্ড। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যৌথবাহিনীর হাতে মার খেয়ে একে একে পিছু হটতে থাকে দখলদার পাকিস্তান বাহিনী। চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় পতাকা উড়িয়ে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অর্জিত হয় বাঙ্গালীর স্বাধীনতা, হানাদার মুক্ত হয় প্রিয় বাংলাদেশ। সেদিন মানুষ বিজয়ের আনন্দে উত্তেলিত ক্ষণে ক্ষণে, পরক্ষণেই স্বজন হারানোর বেদনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। চারিদিকে হাহাকার ও কান্নার শব্দে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কিন্তু দৃঢ়চেতা বাঙালি সব মুখ বুঝে সহ্য করে যায়। মনের ভিতর লুকিয়ে রেখে সামনে পা বাড়ায়।

আজ ১৬ই ডিসেম্বর স্বজন হারানোর ব্যাথা আর অশ্রু আনন্দে স্বাধীনতা লাভের মহেন্দ্রক্ষন, ৪৬তম মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের এই ৪৬ বছর অনেক চরাই-উতরাই পেরিয়েছে জাতি। কখনো সামনে এগিয়েছে, আবার পিছিয়ে গেছে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়নে। তবুও হতোদ্যম হয়নি জাতি। বিজয় দিবসের প্রাক্কালে শুধু বাংলাদেশি বা বাঙালিরা নয়, বরং আজ বিশ্ববাসী চেয়ে দেখছে ‘বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশ’ কী করে সামনে এগুচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৬ বছরে বাংলাদেশের অর্জন গর্ব করার মত। তবে শুধু গর্ব অনুভব করলেই হবে না, এটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাদের অনুধাবন করতে হবে যে, কত বেশি মূল্যের বিনিময়ে এ বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নয়, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে রাজনৈতিক হানাহানি এবং দুর্নীতি বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনাকে যেন আষ্ট্রেপৃষ্ঠে বেধে ফেলছে। গণতন্ত্রকে আকড়ে ধরে সুশাসনের পথে অবিচল থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় আরো মহীয়ান হতে পারে। বিজয়ের এই দিন বাঙালী জাতির স্বপ্নের বাস্তবায়নের দিন। বিজয় দিবসে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরন করছি তাদের, যাদের আত্মত্যাগে পেয়েছি মহান স্বাধীনতা। এই বিজয় দিবসের প্রত্যয় হোক সুখী, সমৃদ্ধ,স্বর্নিভর বাংলাদেশ গড়ার । সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:১২

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সম্রাট ইজ বেস্ট !
আপনাকেও বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

২| ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০১

জাহাঙ্গীর কবীর নয়ন বলেছেন: ....মনে করেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নি! একাত্তর সালে আমরা হেরে গেছি। জিতে গেছেন ইয়াহিয়া খান। বাংলাদেশ নামটা চেঞ্জ করে নাম রাখা হল পাকিস্তান।
কেমন হতো?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদোহী মামলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হতো। কাদের মোল্লারা বলতো, পাকিস্তানের পবিত্র ভুমিতে মুজিবের লাশ দাফন করতে দেয়া হবে না। ভারতে পাঠিয়ে দিন। কালুরঘাট বেতার থেকে জনতাকে উস্কানি দেবার জন্য মেজর জিয়াকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হতো। আর্মি আদালতে জিয়ার বিচারের রায় দেয়া হতো, ফাঁসি বা যাবজ্জীবন!
ইতিহাসটা কেমন হতো?
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে বলা হত বিমান চোর! দেশদ্রোহী! অপারেশন জ্যাকপটের দিন যতগুলি পাকিস্থানি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল; সেই দিনটি বছর ঘুড়ে আসলে তত মিনিট নীরবতা পালন করতে হত! প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনে বলতেন, 'আজকের এই দিনে কিছু কুলাঙ্গার বাঙাল পাকিস্থানের সুর্যসন্তানদের পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিল! আমরা শোকাহত! একদিনের শোক ঘোষনা করা হল!" বাঙালির পরিচয় হত কুলাঙ্গার; হানাদাররাই হত সূর্যসন্তান!
মনে করেন যুদ্ধে হেরে যাবার পর আমাদের বাংলা ভাষা কেড়ে নেয়া হল। এবং আমরা উর্দু ভাষার কথা বলতাম। মোশাররফ করিমের ময়মনসিংহ ভাষায় অভিনয় করা সেকান্দার বক্স নাটককে নিষিদ্ধ করা হতো। এটা বাংলা ভাষার নাটক। মুক্তি দেয়া যাবে না। উর্দুতে নাটক বানাতে হবে। "আমার এতো আবেগ ক্যারে...কেউ মাইরালা" এগুলি কোন ভাষা? হুম? জেমসেকে আমার সোনার বাংলা গানটার জন্য কারাদণ্ড দেয়া হল। কিসের নগর বাউল, হুম? উর্দু চাই, অলনি উর্দু! তাহলে কেমন হতো?
পত্রিকার শিরোনামগুলি কেমন হত? সাকিব যখন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তখন দেশে বিদেশে সংবাদ শিরোনাম হতো, "পাকিস্তানি সাকিব বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার!!" কেমন লাগতো? কিছু কিছু হেডলাইন হতো, "শান্তিতে নোবেল পেলেন পাকিস্থানের ড. ইউনুস!" কিংবা, "বিশ্ব কোরআন পাঠ প্রতিযোগিতায় সারা দুনিয়ায় প্রথম হলেন পাকিস্থানী সাকিব!"
বউ আমার-বাচ্চা আমার, আমার ঘড়বাড়ি;
ক্রেডিটবিহীন শূন্য আমি, পরের বাহাদুরি!
কি ভয়ংকর যন্ত্রনা! কি দুঃসহ বেদনা!! না পারতাম বলতে; না পারতাম সইতে! চীৎকার করে কাঁদতে হতো! গোপনে; প্রকাশ্যে নয়!
ক্রিকেট তখন কেমন হতো? বাংলাদেশ বলে কোন দল থাকতো না! শুধু কোন্দল থাকতো! দল একটাই পাকিস্থান ক্রিকেট দল! খেলাশুরুর আগে মুশফিক-মাশরাফিরা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাওয়ার সুযোগ পেত? বিষ খাবার মত করে ঠোট মিলাতে হত! পাকিস্থান দলে ফর্মের কারনে দল থেকে বাদ পড়তো পুর্ব পাকিস্তানি তামিম ইকবাল, ওপেন করবেন পশ্চিম পাকিস্তানের নাসির জামশেদ; বাবর আযম! কিংবা, পাঁচ বছর পর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরতেন মোহাম্মদ আমের; বাদ পড়তেন মুস্তাফিজ! দেখতাম ক্রিকেট? বসতাম টিভির সামনে?
জাতিসংঘে বাঙালীর জন্য কোন চেয়ার থাকতো না! ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সমগ্র বিশ্ব চমকে উঠতো না! মার্কিন বাহিনী এ্যাবোটাবাদে আক্রমন না করে মিসাইল ছুড়তো ঢাকায়!
স্বাধীনতা না পেলে, বাচ্চা কাচ্চারা সাধারন জ্ঞান মুখস্ত করতো, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন অবস্থিত কোথায়? উত্তরঃ পাকিস্থানে। চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কোথায় অবস্থিত? তখন সঠিক উত্তরটার বৃত্ত ভরাট করতে একবার কলমটা থমকে দাড়াতো না?
হে প্রজন্ম! তুমি একটি বার থমকে দাড়াও! চোখ দুটি বন্ধ করে একটু ভাবো, "দেশটা স্বাধীন না হলে কি হত আমাদের?"
- Md Saddam Hossain.
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:১০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
মনেই যদি করুম তাইলে ওই গুলা ক্যান করুম,
মনে করুম আমরা পাকিস্তানিদের কাছ থেকে আমাদের
পাওনা বুঝে নিয়েছি। জাতিসংঘে বিচার দিয়া পাকিস্তানিদের
৭১ এর মানবতার অপরাধের ক্ষমা চাওয়ামু। বাঙ্গালীদের যে
সম্পদ পাকিস্তানে আছে তা ফেরৎ লমু। আরো কত্ত কিছছুযে
আদায় করমু তার ইয়াত্তা না্ই।

৩| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ২:২০

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: আপনার লেখাগুলি আসলেও দৃষ্টি এড়িয়ে যায়!! অথচ প্রতিটি লেখার সংকলনে থাকে যে প্রচেষ্টা তা কি আমরা বুঝি??!!
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আপনার সচেতনতার জন্য ধন্যবাদ,
লেখাটি আপনার দৃষ্টির আড়ালে
হারিয়ে যায়নি বলে ভালো লাগলো।
সাথে থাকবেন আগামীতে সেই
প্রত্যাশায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.