নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারতীয় উপমহাদেশের ঊনবিংশ শতাব্দীয় অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ১৬২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৯ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:২০


ভারতীয় উপমহাদেশের ঊনবিংশ শতাব্দীয় অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব মদনমোহন তর্কালঙ্কার। তিনি বাংলার নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত হিসিবেও পরিগণিত। একাধারে তিনি ছিলেণ কবি ও সমাজ সেবক। মদনমোহন তর্কালঙ্কার লেখ্য বাংলা ভাষার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক ছিলেন এবং বাল্যশিক্ষার জন্য একাধিক পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত কিছু পংক্তির মধ্যে রয়েছে: ‘পাখী সব করে রব, রাতি পোহাইল’; ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’; ‘লেখাপড়া করে যে/ গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে’এ ছাড়া্ও মদনমোহন সংস্কৃত ভাষায় রচিত বেশ কয়েকখানি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। সেগুলির মধ্যে সংবাদতত্ত্বকৌমুদী, চিন্তামণিদীধিতি, বেদান্তপরিভাষা, কাদম্বরী, কুমারসম্ভব ও মেঘদূত প্রধান। কবি-প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন। ১৮৫৮ সালের আজকের দিনে তিনি কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আজ এই মনিষীর ১৬২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ঊনবিংশ শতাব্দীয় অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব মদনমোহন তর্কালঙ্কারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার ১৮১৭ সালের ৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রামধন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও তার প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন এবং সেখানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর সতীর্থ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন; উভয়েই পন্ডিত জয়গোপাল তর্কালঙ্কার ও প্রেমচাঁদ তর্কবাগীশের নিকট সাহিত্য, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, জ্যোতিষ ও স্মৃতিশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি হিন্দু ল’ কমিটি থেকে জজ-পন্ডিতের সার্টিফিকেট (১৮৪১) লাভ করেন। মদনমোহন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করে একে একে হিন্দু কলেজ পাঠশালা (১৮৪২), ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ (১৮৪৩-৪৫), কৃষ্ণনগর কলেজ (১৮৪৬) ও সংস্কৃত কলেজে (১৮৪৬-৫০) অধ্যাপনা করেন। শেষজীবনে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট (১৮৫৫) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ অথবা সব মিলিয়ে বাংলা বর্ণমালা কতগুলো হবে, সে ক্ষেত্রে মদনমোহন ও বিদ্যাসাগর একত্রে কাজ করেন। মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়। বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ ও স্ত্রীশিক্ষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় সহযোগিতা দান করেন। শুধু তাই নয়, নিজ কন্যা ভুবনমালা ও কুন্দমালাকে তিনি ড্রিঙ্ক ওয়াটার বেথুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হিন্দু ফিমেল স্কুলে (১৮৪৯) প্রেরণ করেন এবং নিজে বিনা বেতনে ওই স্কুলে বালিকাদের পাঠদান করতেন। ওই সময় ভারতে মেয়েদের প্রকাশ্যে শিক্ষার সুযোগ ছিল না; সমাজ তা ভাল চোখে দেখতও না। মদনমোহন নিজেও মুর্শিদাবাদ ও কান্দিতে বালিকা বিদ্যালয়, ইংরেজি বিদ্যালয়, অনাথ আশ্রম, দাতব্য চিকিৎসালয় ইত্যাদি জনহিতকর প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। সমাজ সংস্কারক হিসেবে তিনি ছিলেন 'হিন্দু বিধবা বিবাহ' প্রথার অন্যতম উদ্যোক্তা। তার উদ্যোগে ১৮৫৭ সালে প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন হয়। ওই বিয়ের পাত্র ছিলেন শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন এবং পাত্রী ছিলেন কালীমতি। তাঁদের দুজনের সন্ধান ও যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন অন্যতম।। স্ত্রী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৪৯ এ বেথুন কর্তৃক হিন্দু মহিলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে নিজের দুই মেয়েকে সেখানে ভর্তি করেন। নিজে বিনা বেতনে এই স্কুলে বালিকাদের শিক্ষা দিতেন। সর্বশুভকরী পত্রিকায় স্ত্রী শিক্ষার পক্ষে একটি যুগান্তকারী প্রবন্ধ লেখেন ১৮৫০ সালে।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার বাংলা ভাষায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেন। তিনি ১৪টি সংস্কৃত বই সম্পাদনা করেন।তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) বাসবদত্তা (১৮৩৬),শিশু শিক্ষা - তিন খণ্ড (১৮৪৯ ও ১৮৫৩)। তাঁর রচিত শিশুশিক্ষা গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র কর্তৃক রচিত "বর্ণপরিচয়" গ্রন্থটিরও পূর্বে প্রকাশিত। তিনি 'শিশুশিক্ষা' পুস্তকটির 'প্রথম ভাগ' ১৮৪৯ সালে এবং 'দ্বিতীয় ভাগে' ১৮৫০ সালে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পুস্তকটির 'তৃতীয় ভাগ' এবং 'বোধোদয়' শিরোনামে 'চতুর্থ ভাগ' প্রকাশিত হয়। 'বাসব দত্তা' ও রসতরঙ্গিনী নামে তাঁর দুটি গ্রন্থ ছাত্রাবস্থায় রচিত হয়। তাঁর রচিত 'আমার পণ' কবিতাটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠ্যবইয়ের অন্যতম একটি পদ্য এবং শিশু মানস গঠনের জন্য চমৎকার দিক-নির্দেশনা।১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলকাতায় কলেরা রোগে মৃত্যুবরণ করেন। পাখি সব করে রব..কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল কবিতাটি পড়েননি এমন বাঙালির দেখা মেলা ভার তবে এই কবিতার লেখক কে এলাকার অনেকের কাছে আজও অজানা। আজ এই মনিষীর ১৬২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ঊনবিংশ শতাব্দীয় অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব মদনমোহন তর্কালঙ্কারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: শ্রদ্ধা জানাই।
মহান ব্যাক্তিদের শ্রদ্ধা জানাতেও আনন্দ লাগে।

১০ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
এটা খুবই ভালো কথা।
যারা গুনীজনকে সম্মান করেনা
নীজ জীবনেও তারা সম্মানিত হয়না।

২| ১০ ই মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

পোষ্টটি সরাসরি প্রিয়তে ।
উনবিংশ শতাব্দির বরেন্য পন্ডিত ব্যক্তিত্ব , শিক্ষানুরাগী , সমাজ হিতৌসি ও সংস্কারক মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর
মুত্যুবার্ষিকীতে রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী । আজ সকালেও কথা প্রসঙ্গে আমার এক বাল্যবন্ধুর সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল শিশুতোষ
সাহিত্য নিয়ে । সে সময় বন্ধুটি তাঁর একটি কবিতা যথা সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি ,সারাদিন আমি যেন ভাল
হয়ে চলি
কবিতার চরণটি প্রসঙ্গক্রমে আলোচনায় টেনে এনেছিল। তাঁর কবিতার এ কথা আমাদেকে টেনে নিয়েছিল
সেই অতীতের বাল্য কালের স্মৃতি রোমন্থনে । কত ভাবে কত রকমে যে কবিতাটিকে ছোটকালে আবৃতি করতাম সে কথা ভাবতেও সুখানুভুতি জাগে । আমি প্রায়ই বলতাম সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,সারাদিন আমি যেন গাছে গাছে চলি ।
সত্যিই সে সময় গাছে উঠে পাকা আম,কাঠাল আর জাম খেতে কি সুখই না পাওয়া যেত , যা এখন এই বয়সে শুধু
কল্পনাতেই সম্ভব।

ধন্যবাদ এমন গুণী একজনকে নিয়ে একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য ।

শুভেচ্ছা রইল

১০ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ধন্যবাদ ড.আলী ভাই চমৎকার মন্তব্যে পুলকিত করার জন্য।
তর্কালঙ্কার মশাই বলেছিলেন, লেখা পড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া..............
লেখা পড়া করেছিলাম কিন্তু গাড়ী ঘোড়ায় চড়া হলোনা।
তবে এখনো তার কথা মনে চলে " সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি..............
ভালো থাকবেন ভ্রাতা।

৩| ১০ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:১৫

নেওয়াজ আলি বলেছেন: শুভ কামনা।

১০ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আলি ভাই আপনার জন্যও
অনেক অনেক শুভ কামনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.