নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবসঃ ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়

২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:০৩


আজ ২৩ জুন, পলাশী দিবস। এটি বাঙালির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। ২৬৩ বছর আগে ১৭৫৭ সালের এইদিনে নদিয়া জেলার পলাশীর প্রান্তরে রবার্ট ক্লাইভ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ চক্র এই কালো দিবসের জন্ম দেয়। ঘৃণিত কলঙ্কজনক এই প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অধ্যায় সৃষ্টির পেছনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল বিশ্বাসঘাতক জগৎ শেঠ, মীরজাফর, মাহতাব চাঁদ, উমিচাঁদ বা আমির চন্দ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ, ইয়ার লতিফ, রায়দুর্লভ, ঘসেটি বেগমের ক্ষমতার লোভ। রাজা রাজবল্লভ, মহারাজ নন্দকুমার, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়, রানী ভবানী প্রমুখের কৌশলী চক্রও এর পেছনে প্রচ্ছন্ন ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে এই স্বার্থান্বেষী ষড়যন্ত্রীদের শিকার ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিপাহসালার এবং তার বিশ্বস্ত সেনাপতি বকসী মীরমদন, প্রধান আমাত্য মোহনলাল কাশ্মিরী ও নবে সিং হাজারী। সেদিন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে ভাগীরথীর তীরে পলাশীর আম বাগানে ইংরেজদের সঙ্গে এক প্রহসনের যুদ্ধে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য। যুদ্ধের নামে যে প্রহসন ঘটে তাতে নবাবের বিশ্বস্ত বাহিনী আত্মসমর্পণ ও পলায়ন করে। নবাব পলাশী থেকে রাজধানী মুর্শিদাবাদ প্রত্যাবর্তন করেন এবং পাটনায় পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি ধরা পড়েন এবং তাঁকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মীর জাফরের পুত্র মিরণের নির্দেশে মুহম্মদী বেগ ১৭৫৭ সালের ২২ই জুলাই তাঁকে হত্যা করে। ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়। তার সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। অতি ঘৃণ্য মীর জাফরের কুষ্ঠরোগে মৃত্যু হয়। মীরজাফর আজ বেঈমানের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।ইতিহাসবিদ মোবাশ্বের আলী তার ‘বাংলাদেশের সন্ধানে’ গ্রন্থে লিখেছেন, “নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রায় লাখ সেনা নিয়ে ক্লাইভের স্বল্পসংখ্যক সেনার কাছে পরাজিত হন মীর জাফরের মোনাফেকীতে।” ঘৃণিত এই নামটি কোন মা-বাবাই সন্তানের জন্য রাখতে চান না। পক্ষান্তরে প্রহসনের ঐ যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাদায়ক মৃত্যু হলেও উপমহাদেশের মানুষ নবাবকে আজও শ্রদ্ধা জানায়। তাঁকে স্মরণ করতে প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।

(পলাশীর প্রান্তর)
ষোল শতকের শেষের দিকে ওলন্দাজ, পর্তুগীজ ও ইংরেজদের প্রাচ্যে ব্যাপক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। এক পর্যায়ে ইংরেজরা হয়ে যায় অগ্রগামী। এদিকে বাংলার সুবাদার-দিওয়ানরাও ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৭১৯ সালে মুর্শিদকুলী খাঁ বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। তার মৃত্যুর পর ওই বছরই সুজাউদ্দিন খাঁ বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সিংহাসন লাভ করেন। এই ধারাবাহিকতায় আলীবর্দী খাঁর পর ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল সিরাজউদ্দৌলা বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার সিংহাসনে আসীন হন। তখন তার বয়স মাত্র ২২ বছর। তরুণ নবাবের সাথে ইংরেজদের বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এছাড়া রাজ সিংহাসনের জন্য লালায়িত ছিলেন সিরাজের পিতামহ আলীবর্দী খাঁর বিশ্বস্ত অনুচর মীর জাফর ও খালা ঘষেটি বেগম। ইংরেজদের সাথে তারা যোগাযোগ স্থাপন ও কার্যকর করে নবাবের বিরুদ্ধে নীলনকশা পাকাপোক্ত করে। দিন যতই গড়াচ্ছিল এ ভূখন্ডের আকাশে ততই কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতা পরিষদ নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করার পক্ষে প্রস্তাব পাস করে। এই প্রস্তাব কার্যকর করতে ইংরেজ সেনাপতি লর্ড ক্লাইভ রাজদরবারের অভিজাত সদস্য উমিচাঁদকে ‘এজেন্ট’ নিযুক্ত করেন। এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্য নায়ক মীর জাফর। নবাব ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে মীরজাফরকে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে অপসারণ করে আব্দুল হাদীকে অভিষিক্ত করেন। কিন্তু কূটচালে পারদর্শী মীর জাফর পবিত্র কুরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করলে নবাবের মন গলে যায় এবং মীর জাফরকে প্রধান সেনাপতি পদে পুনর্বহাল করেন। সমসাময়িক ঐতিহাসিক বলেন, এই ভুল সিদ্ধান্তই নবাব সিরাজের জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়ায়। ইংরেজ কর্তৃক পূর্ণিয়ার শওকত জঙ্গকে সাহায্য করা, মীরজাফরের সিংহাসন লাভের বাসনা ও ইংরেজদের পুতুল নবাব বানানোর পরিকল্পনা, ঘষেটি বেগমের সাথে ইংরেজদের যোগাযোগ, নবাবের নিষেধ সত্ত্বেও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সংস্কার, কৃষ্ণ বল্লভকে কোর্ট উইলিয়ামে আশ্রয় দান প্রভৃতি কারণে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানে সকাল সাড়ে ১০টায় ইংরেজ ও নবাবের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মীর মদন ও মোহন লালের বীরত্ব সত্ত্বেও জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ, উর্মিচাঁদ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ কুচক্রী প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারীদের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে নবাবের পরাজয় ঘটে। সেই সাথে বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য পৌনে দু’শ’ বছরের জন্য অস্তমিত হয়। ইতিহাসবিদ নিখিল নাথ রায়ের লেখা ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’ থেকে জানা যায়, নবাবের সেনা বাহিনীর তুলনায় ইংরেজদের সেনা সংখ্যা ছিল অনেক কম। সেখানে বিশ্বাসঘাতকতা না হলে নবাবের বিজয় ছিল সুনিশ্চিত। ঐতিহাসিক মেলেসন পলাশীর প্রান্তরে সংঘর্ষকে ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ। তার মতে, “নবাবের পক্ষে ছিল ৫০ হাজার সৈন্য আর ইংরেজদের পক্ষে মাত্র ৩ হাজার সৈন্য। কিন্তু প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারী ও কুচক্রী মীরজাফর, রায় দুর্লভ ও খাদেম হোসেনের অধীনে নবাব বাহিনীর একটি বিরাট অংশ পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কার্যত কোনো অংশগ্রহণই করেনি। এই কুচক্রীদের চক্রান্তে যুদ্ধের প্রহসন হয়েছিলো।” আরেক ঐতিহাসিক ড. রমেশ চন্দ্র বলেন, “নবাব ষড়যন্ত্রকারীদের গোপন ষড়যন্ত্রের কথা জানার পর যদি মীর জাফরকে বন্দি করতেন, তবে অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারী ভয় পেয়ে যেতো এবং ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে পলাশীর যুদ্ধ হতো না।” কিন্তু বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি এই যে, মীর জাফরেরা বার বার গোর থেকে উঠে আসে। এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল ধ্বংসাত্মক ও সুদূরপ্রসারী। এ যুদ্ধের পরে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাংলা ব্রিটিশদের অধিকারে চলে আসে। বাংলা অধিকারের পর ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষ এমনকি এশিয়ার অন্যান্য অংশও নিজেদের দখলে নিয়ে আসে।

পলাশীর রক্তাক্ত ইতিহাস, পরাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিসংগ্রামীদের পরাজয়ের ইতিহাস, ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস, ট্রাজেডি ও বেদনাময় এক শোক স্মৃতির ইতিহাস। এই নৃশংস ও কলঙ্কজনক ঘটনার মাধ্যমে কলকাতা কেন্দ্রিক একটি নতুন উঠতি পুজিঁপতি শ্রেণী ও রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে। ইংরেজ ও তাদের এ দেশীয় দালালগোষ্ঠী দেশবাসীর ওপর একের পর এক আগ্রাসন চালায়। ফলে দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি, শিল্প ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। বিকাশমান ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির ক্ষেত্রে তারা মরণ কামড় দেয়। পলাশী বিপর্যয়ের পর শোষিত বঞ্চিত শ্রেণী একদিনের জন্যও স্বাধীনতা সংগ্রাম বন্ধ রাখেনি। এ জন্যই ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকেই একমাত্র প্রতিপক্ষ মনে করত। ফলে দীর্ঘ দুইশ’ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রামের ফলে ব্রিটিশরা লেজ গুটাতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতবর্ষ মুক্তি পেয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পৃথিবীর মানচিত্রে পাকিস্তা এবং ১৫ই আগস্ট ভারত নামে দুটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ঐতিহাসিক পলাশী দিবসে বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]

মন্তব্য ২৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:০৭

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: বাংলার শেষ নবাবের স্মৃতিচিহ্ন গুলো আজো অবহেলিত!
---মীরজাফরেরা আজো সমাদৃত ??

২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:১৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ক্ষমতার পালাবদলে সোনা ধুলিতে লুটায়
হীরার বদলে কাঁচ শোভাপায় বেনীতে!!

২| ২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:১২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন:
শেকড় খোঁজেনা বাঙালী
পরগাছায় বাড়ে চেতনা
দিনে দিনে তলায় অতলে
বুন্ধুত্বের অপমানেও চেতনা জাগে না!

আত্মমর্যাদা আর সার্বভৌমত্বের বড্ড আকাল . . .
মীরজাফরদের দৌরাত্বে আমজনতা নাকাল

+++

২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:১৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

দাদা ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য কাব্যে
আগের দিন নিয়ে কে আর ভাববে!!
সব এখন আতঁলামিতে বিভোর
তাইযে নিশি আর হয় না ভোর!!

৩| ২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:৫৭

পদ্মপুকুর বলেছেন: নবাব সিরাজুদ্দৌলাহর বংশধরেরা ঢাকাতেই থাকেন এখন, যদিও ভালো নেই।

২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৩৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ধন্যবাদ পদ্ম পুকুর
সবাই ভালো থাকুক
নিরাপদে থাকুক এই
প্রার্থনা আমাদের সবার।
.

৪| ২৩ শে জুন, ২০২০ দুপুর ২:৪৭

সরলপাঠ বলেছেন: ইতিহাস জাগ্রত থাকুক আমাদের স্বাধীনতার চেতনায়। ইতিহাসের অমোঘ সত্যি হচ্ছে, আজ যে বিশ্বস্ত, কাল সে মীরজাফর। আজ যে দেশপ্রেমিক, কাল সে দেশদ্রোহী।

২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৩৮

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

স্বার্থপরতা আর হিংসা মানুষকে
পশুতে পরিণত করে। পশুর কাছ
থেকে ভালো কিছু আশা করা ভুল।

৫| ২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৩:১৬

আহলান বলেছেন: দুঃখজনক ইতিহাস !

২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৩৮

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ইতিহাস নির্মমতার স্বাক্ষী।

৬| ২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: পলাশী যুদ্ধের সময় নবাব সিরাজদ্দৌলাকে যখন ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন চারপাশে এতো বাঙ্গালী দর্শক ছিলো যে তারা যদি প্রত্যেকে একটি পাথর ছুঁড়ে মারতো তাহলে ব্রিটিশরা ঘাসের সাথে মিশে যেতো!
.
এই কথাটি বলেছিলেন ব্রিটিশ লর্ড ক্লাইভ বাঙ্গালীদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা বুঝানোর জন্য!

২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৪০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

এটাই বাস্তব উপলব্ধি
বাঙ্গালীরা সবসময় দর্শকের
ভুমিকা পালন করে আগেও
এখনো। প্রতিবাদী তারা নয়।

৭| ২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৪৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ব্রিটিশরা একভাবে নিপীড়ন করেছে আর ব্রিটিশ না আসলে এই নবাব/ সম্রাট/ রাজা এদের দ্বারা ভিন্নভাবে নিপীড়িত হতাম আগে যেভাবে হয়েছে। নবাব, সম্রাটদের চরিত্র ভালো ছিল না। এরা নিষ্ঠুর ছিল ব্রিটিশদের মতই। তবে ব্রিটিশ আসাতে কিছু কাজ হয়েছে (যেমন সতীদাহ প্রথা বিলোপ, রেলপথের উন্নতি, টেলিগ্রাফ, আধুনিক আইন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন)। আমাদের শুধু মালিক বদলে ছিল।

২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৪৩

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

আসলে বাঙ্গালীদের জন্য আবশ্যক ছিলো ব্রিটিশদের শাসন!
না হলে ভেতো বাঙ্গালীর চৈতন্যের উদয় হতোনা!!

৮| ২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৫২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আমি ভেবেছিলাম আপনি আমার বিরোধিতা করবেন।

২৩ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

বিরোধীতার কি আছে পরিনামতো
২০০ বছরের গোলামী !!

৯| ২৩ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০১

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: বিচিত্র এই দেশ।বাংগালী না হয়েও বাংলার নবাব।

২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ১:০৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
জি কথা সত্য!
ভাগ্যে থাকলে কার কি
করার আছে বলেন!!

১০| ২৩ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: রাজধানী স্থানান্তর পলাশী থেকে মুর্শিদাবাদ ঘটনাটা কতটা সংগত প্রশ্ন রয়ে যায়। তবে কলকাতা দখল করে নবাব কিছু দিন রাজকার্য সামলান।যদিও পরে পরিস্থিতির চাপে মুর্শিদাবাদের প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হন।
সিংহাসন বসার পর ইংরেজরা প্রথামাফিক সৌজন্যে সূচক কোন সম্মান না জানানোয়, নবাবের অনুমতি ভিন্ন কলকাতায় ইংরেজদের কুটি নির্মাণ, নবাবের দূত কৃষ্ণ দাসকে হত্যা, ঢাকার দেওয়ানের যাবতীয় অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ করা কৃষ্ণবল্লভকে আশ্রয়দান, মীরজাফর ঘষেটি বেগমের সঙ্গে ষড়যন্ত্র প্রভৃতি কারণে কলকাতা আক্রমণ করলে ইংরেজরা কুটির ছেড়ে ডায়মন্ডহারবারের কাছে ফলতায় আশ্রয় নেয়। 1756 খ্রিস্টাব্দে নবাব কোলকাতার নাম পাল্টে রাখেন আলিনগর।পরে তিনি বাহিনী নিয়ে আবার মুর্শিদাবাদে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য হন। জানিনা নবাবের এই সাময়িক কলকাতায় থাকাটাকেই আপনি রাজধানী পরিবর্তন হিসেবে মিন করেছেন কিনা।
আপনার কি জানা আছে নবাবের একমাত্র পুত্র সে কোথায় বা তার পরিণতি কি হয়েছিল?


২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ১:০৩

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

দাদা. আমিতো জানি নবাব যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার স্ত্রী লুৎফা
আর এক মাত্র শিশু কন্যা জহুরাকে নিয়ে পাটনা পালিয়ে যাবার
সময় মাঝির হঠকারিতায আটক হন। কন্যাটির পরিনতি কি হয়েছিল
আমার তা জানা নাই।

১১| ২৩ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:১২

কৃষিজীবী বলেছেন: সিরাজউদ্দৌলা, মোহন লাল, মীর মদন, মীর জাফর, রায় দুর্লভ, রবার্ট ক্লাইভ এদের সকলের সম্পর্কেই একটু আতটু জানি, বেশি জানার আগ্রহ নাই। তবে আমার আগ্রহ আছে ফরাসী সেনাপতি সিনফ্রে সম্পর্কে জানার। অনেকদিন ধরে চেষ্টা করতেছি তবে সিনফ্রে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কোথাও পাইনি । আপনি কি আমাকে এ-ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন।

২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ১:১৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ধন্যবাদ কৃষিজীবী আমি তাহার সম্পর্কে অধিক কিছু জানিনা। তবে ফরাসীরা হয়তো
ইংরেজদের পছন্দ করিতেন না। মীরজাফরের কথায় নবাব কর্তৃক পুনঃপুনঃ আদিষ্ট হইয়া
মোহনলাল বিরক্তিসহকারে যুদ্ধ হইতে প্রতিনিবৃত্ত হন। মোহনলাল যুদ্ধে ভঙ্গ দিলে নবাব সৈন্য
ছত্রভঙ্গ হইয় পড়ে এবং ইংরেজ সৈন্য তাহাদিকগে নব বিক্রমে আক্রমণ করে । তবে ফরাসী সেনাপতি
সিনফ্রে কাহারও কথায় রণে ভঙ্গ না দিয়া স্বীয় গোলন্দাজ সৈন্যসহ ইংরেজ সৈন্যের গতি প্রতিরোধ
করিতে থাকেন ।

১২| ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৩:৪৮

অনল চৌধুরী বলেছেন: সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ব্রিটিশরা একভাবে নিপীড়ন করেছে আর ব্রিটিশ না আসলে এই নবাব/ সম্রাট/ রাজা এদের দ্বারা ভিন্নভাবে নিপীড়িত হতাম আগে যেভাবে হয়েছে। নবাব, সম্রাটদের চরিত্র ভালো ছিল না। এরা নিষ্ঠুর ছিল ব্রিটিশদের মতই। তবে ব্রিটিশ আসাতে কিছু কাজ হয়েছে (যেমন সতীদাহ প্রথা বিলোপ, রেলপথের উন্নতি, টেলিগ্রাফ, আধুনিক আইন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন)। আমাদের শুধু মালিক বদলে ছিল। - সিরাজরা অবশ্যই বিদেশী ছিলেন কিন্ত আপনি কিভাবে তাদের সাথে ইংরেজদের এক করে তুলনা করলেন ,বুঝলাম না।
একটু পড়াশোনা করে দেখেন,তাদের আমলে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কি ছিলো আর ইংরেজদের আমলে কি হয়েছিলো।রেলপথের উন্নতি, টেলিগ্রাফ, আধুনিক আইন- ইংরেজদের এসব প্রচলনের কথা বলছেন,তাহলে তো গাড়ি,বিমান,টিভি.ইন্টারনেট -এসব চালুর জন্যও এ্যামেরিকান গোলামীর দরকার ছিলো তাইনা !!!

আপনার জনা উচিত,প্রযুক্তি স্বাভাবিকভাবেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়।এজন্য কোনো দেশের গোলাম হতে হয় না।জাপানী বা কোরিয়ানরা এভাবে চিন্তা করে না।
আপনার মতো মানসিকতার লোকদের জন্যই ইংরেজরা ১৯০ বছর এদেশ দখলে রাখতে পেরেছিলো।

২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ৯:৪৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

অনল দাদা ধন্যবাদ আপনাকে আপনার মন্তব্যের জন্য।
পরমত সহিষ্ণু নীতি সুফল বয়ে আনে। সাড়ে চুয়াত্তর ভাই
তার স্বাধীন মত প্রকাশ করেছে যদিও সে মনে মনে ধারণা
করেছিলো আমি তার বিরোধীতা করবো। এটাই কি যথেষ্ঠ
নয় যে সে যা বলেছে তা বিতর্কিত !! তাই আমি ক্যাচালে
না গিয়ে তার মতকে অবজ্ঞা করিনাই। আশা করি তিনি
তা বুঝতে পেরেছেন। ভালো থাকবেন।

১৩| ২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৫

তারেক ফাহিম বলেছেন: সিরাজের পরাজয় মানে বাংলার পরাজয়।

প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে ইতিহাস।

২৪ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
প্রজন্ম ডুবে আছে ফেসবুক আর স্মার্ট ফোনে
ইতিহাস ঐতিহ্য দিয়েছে দূ'পায়ে দলে।
আমরা আছি বোকার স্বর্গে উদ্ধার হবে অতীত
হা পিত্যেশ করি শুধু ইতিহাস দিয়েছে কান মলে



১৪| ২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:০১

মোঃ খুরশীদ আলম বলেছেন: প্রত্যেককেই তার কর্মফল ভোগ করতে হয়, আমরা তা বুঝি না।
আপনার লেখাটি অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে।

২৪ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ চক্রের
কর্মফলের খেসারত দিলো বাঙ্গালী ২০০
বছর ইংরেজদের গোলামী করে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.