নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমার নিরক্ষর,কিন্তু বুদ্ধিমতি মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম,যথাযথ কর্তব্য পালন করেই উপযুক্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব। - মহাত্মা গান্ধি

পদাতিক চৌধুরি

হাই,আমি পদাতিক চৌধুরী।পথেঘাটে ঘুরে বেড়াই।আগডুম বাগডুম লিখি। এমনই আগডুম বাগডুমের পরিচয় পেতে হলে আমার ব্লগে আপনাদের আমন্ত্রণ থাকলো।

পদাতিক চৌধুরি › বিস্তারিত পোস্টঃ

সমন্বিতা (পর্ব-২)

২২ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:৫৬



ডাক্তারবাবুর ঘোষণার পরে আর দেরি না করে বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে কাকাবাবুর ব্যাগের ভেতরে ছোট্ট একটি ডাইরি থেকে পাওয়া সপ্তর্ষি দার ফোন নম্বরে কল লাগালাম। প্রথম কলেই লাইন পেয়ে গেলাম। আমি সংক্ষেপে ঘটনাটি জানিয়ে দিলাম। সপ্তর্ষি দা বাড়ি ফেরার রাস্তায় ছিলেন। যে কারণে উনি আর বাড়ি না ফিরে সরাসরি ঘটনাস্থলে চলে আসার কথা জানালেন এবং চলেও এলেন। আরো ঘন্টাখানেক পরে ওনার মিসেসও চলে এলেন। ভদ্রমহিলা সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমার অত্যন্ত অসম্মান বা বীতশ্রদ্ধা চলে এসেছিল । সপ্তর্ষি দা আমার সাথে ওনার পরিচয় করিয়ে দিলেন কিন্তু আমার মন উনার সাথে কোন সৌজন্য দেখাতে সায় দিচ্ছিল না। উনি আমাকে দেখে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। ওনার কান্না নাটক কি আসল, সে বোঝার ক্ষমতা আমার নেই। তবে যেকোনো কান্না আমাকে বিহ্বল করে তোলে। এতক্ষণ আমি এক রকম ছিলাম। কিন্তু ওদের আগমনের পর বাস্তবে আমিও শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লাম। ইতিমধ্যে বৌদির কান্না বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।কান্না শহর-গ্রাম, শিক্ষিত-অশিক্ষিত মহিলাদের বোধহয় এক করে দেয়। উনি বিলাপ করে বেশ সুর করে করেই কেঁদে চলেছেন। হসপিটালে আগমান রোগীর পরিজন বা পথচারী কয়েকজন অত্যুৎসাহীকে এগিয়ে আসতে দেখলাম। কেউ বুকে হাত বেঁধে কেউবা প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে কান্না দেখতে লাগলেন। কয়েকজনের ফিসফিসানি কথাবার্তা আমার কানে এলো।সপ্তর্ষি দাকে উদ্দেশ্য করে একজন জানতে চাইলেন মৃত ব্যক্তি ওনার শ্বশুর মহাশয় কিনা। সপ্তর্ষি দা সে কথায় কর্ণপাত করলেন না। আমিই ঘটনাটা ওদের জানিয়ে দেই। আমার কথা শুনে বেশ কয়েকজনের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। শশুর মশাই মৃত্যুতে বৌমার এমন কান্না! চোখ মুখ দেখে বুঝলাম তারা রীতিমতো বিস্মিত। জানিনা তাদের কথা শুনে কিনা, কিন্তু এবার বৌদি মাটিতে আছাড়-পিছায় খাচ্ছেন। এক্ষণে বৌদির আচরণ আমার বেশ নাটকীয় ও বিরক্তিকর ঠেকলো। মনের ভাষা বুঝতে না দিয়ে যথারীতি সহানুভূতির সুরে বৌদিকে নিরস্ত্র করতে বাধ্য হলাম। অত্যুৎসাহীদের সুরে তাদের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-আসলে শ্বশুর মশায়ের সঙ্গে বৌমার অসম্ভব মধুর সম্পর্ক ছিল। যে কারণে উনি এতটা ভেঙে পড়েছেন।
আচমকা ভদ্রমহিলা আমার হাত ধরে আরো উচ্চঃস্বরে কাঁদতে লাগলেন। সপ্তর্ষি দা কিছুতেই ওনাকে শান্ত করতে পারছেন না। আমি যথারীতি বৌদিকে সান্ত্বনা দেওয়ার কাজে দাদাকে সাহায্য করতে লাগলাম। এভাবে বেশ কিছুক্ষন অতিবাহিত হল। সপ্তর্ষি দা বারেবারে ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন।আমি একবার অফিসে খোঁজ নেওয়ার কথা বলতেই উনি রাজি হয়ে গেলেন। ফলে একসময় বৌদিকে একা ফেলে আমরা দুজনে চলে গেলাম হসপিটালের রিসেপশন সেন্টারে। সেখানে যাবতীয় নিয়ম নীতি পালন করে অবশেষে গভীর রাতে মৃতদেহ হাতে পেলাম। আগে থেকেই একটা গাড়ি রিজার্ভ করা ছিল। সে রাতে ওদের সঙ্গে কাকাবাবুর মরদেহ নিয়ে আমিও গ্রামে পৌঁছে গেলাম। পরেরদিন দুপুরবেলা কাকাবাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আগেই বলেছি কাকাবাবু আমাদের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ওনার দুটি সন্তান বর্তমান। সপ্তর্ষি দার সঙ্গে বোন লগ্নজিতার বয়সের যথেষ্ট ব্যবধান ছিল। লগ্নজিতা আমার ঠিক এক ক্লাস নিচে পড়তো। বাড়ি থেকে স্কুল বেশ কিছুটা দূরে হওয়ায় আমরা একসঙ্গে দলবেঁধে স্কুলে যেতাম। গ্রামের মাস্টারমশাই, কিছু জমি-জায়গা ও গরু থাকায় সে সব সামলিয়ে স্কুলে যেতে প্রায়ই দিন দেরি করতেন। কাকাবাবুর এই দেরীতে স্কুলে আসা নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে বেশ অশান্তি ছিল। কিন্তু ওনাকে কোনদিন কারোর সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখিনি।যেমন দেখিনি ওনাকে কোনদিন আগেভাগে স্কুলে আসতেও। যাইহোক প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষকদের বাক্যবাণে সাময়িক কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও পরের দিকে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যেত। শৈশবের সেই দিনগুলোতে এতোটা না বুঝলেও এখন বুঝি কেন কাকাবাবু অন্যান্য শিক্ষকদের অভিযোগ নিরবে হজম করতেন। সমাজে এমনও মানুষ দেখা যায় হাজার অসুবিধাতেও তাদের মুখের হাসি কখনো ম্রিয়মাণ হয়ে যায় না।

লগ্নজিতা সহ আমরা পাড়ার পাঁচ-ছয়টি বাচ্চা মাটির রাস্তা ধরে অনেক আগেই স্কুলে পৌঁছে যেতাম। রাস্তায় যেতে যেতেও আমরা নানা রকম খেলা খেলতাম। জায়গায় জায়গায় ফেনাসাজি বা ফনিমনসা, বাবলা গাছ দেখে আমরা হঠাৎ হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়তাম। এই সব গাছে এক ধরনের মাথা উঁচু পোকা দেখা যায়। আমরা তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বড় মহিষ ছোট মাহিষ খেলতাম। স্কুলে পৌঁছে অবশ্য আমাদের অন্য খেলা ছিল। আর এই খেলার জন্যই মূলত স্কুলে আগে ভাগে পৌঁছে যাওয়া। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কোন পার্টিশন দেওয়াল না থাকায় আমাদের খেলার জায়গাটি ছিল যথেষ্ট বড়। প্রচুর ছুটোছুটি হুটোপুটি লুকোচুরি খেলে আমরা ঘেমে নেয়ে যেতাম। বৃষ্টি বাদলের দিনেও আমাদের খেলায় কোন বিঘ্ন ঘটতো না। নির্দিষ্ট দূরত্ব অনুযায়ী দেওয়ালে চারটি শ্রেণীর জন্য চারটি ব্লাকবোর্ড ছিল। তবে নোনা ধরা বোর্ড গুলিতে জায়গায় জায়গায় কোন কালো রং অবশিষ্ট ছিল না। ঠিক এগারোটার সময় আমাদের প্রধান শিক্ষক মহাশয় নিজেই ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজাতেন। আমরা পড়িমড়ি করে যে যার শ্রেণি অনুযায়ী ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে বাড়ি থেকে আনা তালপাতা বা খেজুর পাতার চাঁটায়ে বসে পড়তাম। শৈশবের সেই দিনগুলো নিয়ে হরেক কাহিনী আজও আমাদেরকে স্মৃতিমেদুর করে তোলে।

আমি তখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি। আমাদের এক বন্ধু একদিন খেলতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে লগ্নজিতার ব্যাগের উপরে। ব্যাগের মধ্যে রাখা শ্লেটটি সঙ্গে সঙ্গে কয়েক টুকরো হয়ে যায়। লগ্নজিতা হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। ওর মা ওকে প্রচন্ড শাসন করতেন। কথায় কথায় মায়ের প্রসঙ্গ প্রায়ই তুলতো। আমরা গোল করে ওকে ঘিরে ধরে এর ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকি।ছোট বুদ্ধিতে সেদিন উপস্থিত বন্ধুদের টিফিন খাওয়ার পয়সা একত্রিত করার কথা বললে কেউ রাজি হয়নি।আমি আর সাতপাঁচ না ভেবে লগ্নজিতাকে আমার শ্লেটটি দিয়ে দেই। আমাদের দুজনারই শ্লেটটি বেশ পুরোনো হওয়ায় ওর বাবা-মা বিষয়টি বুঝতে পারবে না বলে আমার মনে হয়েছিল। অপরদিকে বাড়িতে শাস্তি পাওয়ার ভয় আমারও ছিল। শ্লেট ভাঙ্গার গল্প ফাঁদলে বাড়িতে যে কয়েক ঘা খেতে হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। তবে লগ্নজিতারকে সাহায্য করার প্রসঙ্গটি বাদ দিলেও সামান্য শাস্তির বিনিময়ে নতুন শ্লেট পাওয়ার আগ্রহ আমাকে বেশি আমোদিত করে তুলেছিল।

শ্লেট ভাঙার দায় গ্রহণ করাটা আমার পক্ষে সুখকর হয়নি।সেদিন সন্ধ্যা বেলা পড়তে বসে মা বারকয়েক শ্লেট নিয়ে বসার কথা বললে আমি ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে ফেলি। কাঁদতে কাঁদতে ঠিক কি বলেছিলাম মনে নেই। তবে মা কান্না থামিয়ে কি হয়েছে উনি জানতে চাইছিলেন। ভেবেছিলাম তাহলে বুঝি শাস্তিটা মকুব হয়ে গেছে। এবার পরিষ্কার করে শ্লেট ভেঙে গেছে বলাতে টপাটপ কয়েকটি চড়-থাপ্পড় ছুঁটে এলো আমার দুই গাল ও মাথা লক্ষ্য করে। এরকম শাস্তি যে কপালে জুটবে তা জানতাম। কাজেই মায়ের হাতের মার আমার কাছে যন্ত্রণার কারণ হয়নি। কিছুক্ষণ পর মায়ের হাত বন্ধ হল, কিন্তু মুখ চলতে থাকলো সমানে। আমার চোখ মুখ ও নাক দিয়ে তিন রকম জল ঝর্নার ন্যায় প্রবাহিত হতে লাগলো। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর অবশেষে মাতৃদেবীর করুণা হল। উনি শাড়ির আঁচল নিয়ে আমার চোখ মুখ মুছতে লাগলেন। ঘোষণা করলেন পরের শ্লেটটি পেতে বেশ দেরি হবে। আমি অবশ্য ঘোষণা শুনেই মায়ের গলা জড়িয়ে ধরলাম।

লগ্নজিতা জানতো আমার মা-ও প্রচন্ড বকাবকি, প্রয়োজনে মারধরও করে। পরেরদিন সবাই যখন একসঙ্গে হাঁটছি তখন ও হালকা করে আমার জামা টেনে একটু পিছিয়ে হাঁটতে ঈশারা করে। কানে কানে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞাসা করে,মা আমাকে বকেছে কিনা।আমি মুখে কিছু না বলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাতে ও আবার জিজ্ঞাসা করে, মুখের কালশিটে মারের কারণে হয়েছে কিনা। এবারও আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালে, ও ওর ফ্রক তুলে গাডার দেওয়া প্যান্টের ভিতর থেকে ছোট্ট একটি তেলের শিশি বার করে আমার হাতে ধরিয়ে দেয়। তেলের শিশি নিয়ে কি করবো জানতে চাওয়াতে,
-স্যরি নিখিলেশ দা আমার জন্য তোর মার খেতে হয়েছে। এখন এই তেলটা মারের জায়গায় একটু মালিশ করে নিবি।
আমি ওর কথা শুনে হেসে ফেলি,
- ধ্যৎ আমার একদম লাগেনি। তুই শিশি নিয়ে যা। তোর মা খোঁজ করলে আবার তোকে পিটুনি দেবে।

সেদিন নিশ্চিত মারের হাত থেকে রক্ষা করাতে লগ্নজিতার মনে ঘটনাটা দারুণভাবে রেখাপাত করেছিল। ও জানতো আমি একটু খেতে পছন্দ করি।প্রায়ই ওর প্যান্টের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে তালের বড়া, লিচু, চিংড়ি মাছের বড়ার মতো নানান খাবার নিয়ে আসতো। প্রত্যেকবারই আমি ওকে এসব আনতে বারণ করতাম। ও আমার কথা না শুনে পাল্টা যুক্তি দেখাতো, ও নিজের খাওয়ার জন্যই মায়ের কাছ থেকে ওগুলো নিয়ে আসে। আমি না খেলে আবার কাঁদো কাঁদো মুখ করত। ওর করুণ মায়াবী মুখ দেখে আমি ওকে আর ফেরাতে পারতাম না। একদিন তো অবাক করে প্যান্টের মধ্যে কাগজে মোড়া একটুকরো মুরগির মাংস পর্যন্ত নিয়ে এসেছিল। আমি মুখে না না করেছিলাম বটে, তবে মাংসের প্রতি আমার একটু বেশি লোভ থাকায় খুব তৃপ্তি করে খেয়েছিলাম। পাশাপাশি ওকে জানাই শুধু শুধু আমাকে খাওয়াস অথচ আমি যে তোর জন্য কিছু আনতে পারি না। ও পাল্টা জবাব দেয়, নিখিলেশ দা তুই খুব ভালো ছেলে। সেদিন তুই যেভাবে আমাকে বাঁচিয়েছিলি তা আমি ভুলতে পারবোনা রে। আমিও পাল্টা বলেছিলাম, বোকা মেয়ে! কি এমন করেছিলাম যে সেসব এখনো মনে রাখতে হবে।

পঞ্চম শ্রেণীতে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ায় ওর সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটা কমে গিয়েছিল। সেভেন-এইট থেকে দেখতাম পাড়ার অনেকের সঙ্গে ও বেশ হেসে হেসে কথা বলছে, যা দেখে কেন জানিনা একটা হীনমন্যতায় ভুগতাম। শৈশবের সেই দিনগুলোকে তখন থেকে খুব মিস করতে থাকি। ওর উপরে একটি অলিখিত অধিকার মনে মনে যেন দাবি করতাম। ভাবতাম ও যেন সেই আগের মতই আমার সঙ্গে যেচে যেচে কথা বলুক। কিন্তু তা না পাওয়াতে ক্ষোভে অভিমানে ওদের বাড়ির সামনে যাওয়াই একসময় বন্ধ করে দিলাম। পরে টিউশনি বা স্কুলে যাওয়া আসার পথে কত বার দেখা হয়েছে কিন্তু এক দিনের জন্যও আমার দিকে ফিরেও তাকায়নি।

কলেজে গিয়ে আবার লগ্নজিতার সঙ্গে আমার দেখা হয়। যার মধ্যে সেদিনের সেই ছোট্ট মেয়েটির কোন মিলই পেতাম না। আমি যে তার পরিচিত, এটি ভেবেই তখন কষ্ট পেতাম। প্রায়ই দেখতাম বন্ধুদের সঙ্গে করিডোরে আড্ডা দিচ্ছে। একই জায়গায় বাড়ি হওয়াতে আমার পরিচিত কয়েকজনকে তার সম্পর্কে বিশেষ খোঁজখবর নিতে শুনতাম। আমার কান ঝালাপালা হয়ে যেত। মনের মধ্যে এক দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হতো।যা কোনদিন কারো সঙ্গে শেয়ার করতেও পারেনি। তাদের প্রতি এতোটুকু ক্ষুন্ন না হয়ে যতটা সম্ভব অবিচল রেখে নিজের অক্ষমতার কথা জানিয়ে দিতাম। অবশেষে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন যখন তার বিয়ের সম্বন্ধ কানে এলো তখন এটুকু বলে নিজেকে প্রবোধ দিতে পেরেছিলাম যে অন্তত পরিচিত কারো সঙ্গে নয়, বরং অপরিচিত একজনের সঙ্গেই তার বিবাহ হচ্ছে এটাই আমার বড় সান্ত্বনা। পাত্র জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পদস্থ অফিসার, নাগপুরে পোস্টিং। যেদিন ও বিয়ে করে চলে যায়, আমি ছাদের উপর থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে ওর যাওয়া দেখেছিলাম। আমার ভিতরটা যে কতটা খাক হয়ে গেছিল তা কেবল অন্তর্যামীই জানেন।

কাকাবাবুর অন্তেষ্টির দিনে লগ্নজিতার অত্যন্ত সরল বেশভূষা আমাকে কৌতুহলী করেছিল। চারিদিকে আগরবাতি কর্পূরের গন্ধে পরিবেশটিকে দুঃখের অনল সাগর বলে মনে হলেও তার মধ্যে নিজেকে সংবরণ করতে পারিনি। ফিসফিসিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম তার পতিদেবতার কথা। সারল্যে টলমলে চোখে সংক্ষেপে শুধু এটুকু জানিয়েছিল, বছর দুয়েক আগে রোড এক্সিডেন্টে স্বামী মারা গেছেন। নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না ,ঠিক শুনছি তো। প্রশ্নটিই আমি আবার করতেই, তোর সঙ্গে অনেক কথা আছে নিখিলেশ দা। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অবশ্যই আসবি। শ্বেতা চলে যাওয়ার পর থেকে আমি আর কোন শ্রাদ্ধ বাড়িতে যাই না।কাজেই কাকাবাবুর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে থাকতে পারবোনা আগাম জানিয়ে দেওয়াতে সেদিন কথা দিতে হয়েছিল যে পরে অন্য একদিন অবশ্যই ওদের সঙ্গে দেখা করতে যাবো।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
১-পর্বটি একটু বড় হওয়াতে শেষাংশটি সমগ্রটা দেওয়া গেলনা। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বাকি অংশটি পোস্ট করার আশা রাখি।
২-ছবিটি আমার ছাত্র শ্রীমান সুজিত কুমার দাসের আঁকা।

মন্তব্য ৪৪ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:০০

রাকু হাসান বলেছেন:

প্রথম লাইক ও এবং প্রথম মন্তব্য করতে যাচ্ছি । ভয় হচ্ছে ,জাতি ক্ষমা করবে কিনা জানি না । #:-S

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:০৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহাহা এক্ষুনি পোস্ট দিলাম,আর সঙ্গে সঙ্গে তুমি দেখা দিলে। ধন্যবাদ তোমাকে।
তোমার পূর্ণাঙ্গ কমেন্টের অপেক্ষায় রইলাম।

২| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:১৯

রাকু হাসান বলেছেন:

হঠাৎ লগ্নজিতা চলে আসলে গল্পে ।নতুন একজনের সাথে পরিচয় হলাম । তাহলে কি লগ্নজিতা দারুণ ভূমিকা নিয়ে আসছে পরের পর্বে ? তার সম্পর্কে ভালো লিখলে । প্রথমে মেদ হিসাবে ধরলেও , পরের পর্বে নিশ্চয় সেই উত্তর পেয়ে যাব। কাকাবাবুর রেশ থেকে ভিন্ন লাগছে । ভালো লাগা গল্পে । অপেক্ষায় করি তাহলে ;)

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:২২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শুভ সকাল প্রিয় রাকু,

কিছু সময়ের মধ্যে আবার কমেন্টে আসার জন্য আনন্দ পেলাম। খুব সুন্দর একটি বিষয়ে মন্তব্যে তুলে ধরেছো। এক্ষেত্রে গল্পের শিরোনামই তোমার কমেন্টের উত্তর। দুটি পর্ব পড়েছো, খুব সামান্য হলেও শেষ পর্বটি পড়লে আশা করি মনের যাবতীয় কৌতূহল গুলো নিবৃত্ত হবে। তবে সার্বিকভাবে গল্প ভালো লাগাতে আনন্দ পেলাম।
পোস্টে লাইক করে ভাইয়াকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
শুভকামনা ও ভালোবাসা জানবে।

৩| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:২৩

আরোগ্য বলেছেন: তিন নম্বর জায়গাটা আগে দখল করে নেই।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:১৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহাহা .....৩নং জায়গা তোমার জন্য কনফার্ম হয়ে গেল। ধন্যবাদ তোমাকে। এখন যাই তোমার পরবর্তী মন্তব্যে।

৪| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৩৬

নীল আকাশ বলেছেন: কতটা খাক নয় খালি হয়ে গিয়েছিল।
পর্ব ছোট বড় এটা নিয়ে কিছু বলার দরকার নেই। লেখা ভাল হলে পাঠক কোন দিক দিয়ে পড়ে টানা শেষ করবে সেটা টেরই পাবে না।
শেফালী ম্যডামের প্রেম কাহিনীর চেয়ে কতটা জবরদস্ত হয় লগ্নজিতার টা সেটার অপেক্ষায় থাকলাম।
পুনশ্চঃ কলেজে লগ্নজিতা কেন এমন করত সেটা ভাল করে লিখবেন।
শুভ রাত্রী।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৪১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহাহা প্রিয় নীলাকাশ ভাই আপনি এরকম ভেবে লিখেছেন। কিন্তু আমি খাক-ই বলতে চেয়েছি। 'খাক' মানে পুড়ে যাওয়া। ওখানে লাইনটি ছিল ভিতর পুড়ে খাক হয়ে গেছে। চলতি কথায় আমরা এরকম লিখে থাকি। কিন্তু খাক মানেও যেহেতু পুড়ে যাওয়া, কাজেই যেকোনো একটা লেখায় উত্তম।
লেখার বিশালাকার বপু নিয়ে আপনি এক হিসেবে ঠিকই বলেছেন। তবে নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি বড়লেখায় পাঠকের ধৈর্যচ্যুতির আশঙ্কা থাকে। যদিও বোদ্ধা পাঠক কখনোই আকার নিয়ে মাথা ঘামায় না।

এবারের শেফালী ম্যাডামের প্রেম কাহিনী নিয়ে আপনার অবজারভেশনের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি। আমি যে জিনিসটি পারিনা সেটা খুল্লামখুল্লা ভাবে স্বীকার করি বা করছিও। রোমান্টিক বা নান্দনিকতা কিছু পাবেন সে আশা কোনদিন করবেন না। হাহাহাহা।
এতদসত্ত্বেও পোস্টটিতে আপনার লাইক করাতে অনুপ্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।

শুভেচ্ছা নিয়েন।

৫| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৪৫

রাকু হাসান বলেছেন:

অনেক দিন পর প্রথম মন্তব্য করলাম অথচ নাস্তাপানি পেলাম না !! :|| এটা হলো ? :(

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হা হা হা প্রিয় ছোট ভাইয়ের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেও নিজের অক্ষমতার জন্য দুঃখিত। আচ্ছা ভেবে দেখো, রাত বারোটার সময় নাস্তা-পানি দেওয়া কি সংগত?? সব খাবারের তো একটা সময় আছে। আমি আবার খাবার ব্যাপারে একটু নিয়ম মেনে চলি। নিজেও যেমন যখন তখন যে কোন খাবার খাই না। অন্যদেরও তেমনি অসময়ে খাবার খেতেও দিই না।
হায়দ্রাবাদের মটন বিরিয়ানি তোমার জন্য তোলা থাকলো। সময় মত পরিবেশন করব। হাহাহাহা....

৬| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:০০

আরোগ্য বলেছেন: চিন্তা করছিলাম স্পার্টাকাস দেখবো তাই শুরু করার আগে ব্লগে ভিজিট করতে এসেছিলাম। কিন্তু সমম্বিতা অর্থাৎ ভাইটির পোস্ট দেখে লগইন করতে হল। লগইন করতে করতে দুই নম্বর জায়গাটাও রাকু ভাই দখল করে নিল তাই প্রথম পর্বের মত এবারও তিন নম্বরে আছি।

আজকের পর্বে অনেক কিছু মনে পড়লো। পুত্রবধূ তো পরের মেয়ে অনেক সময় নিজের মেয়েও এমন ভণিতা করে। নিখিলেশ বাবুদের স্কুলে মাঠ ছিল তাই কত মজা করে খেলতে পারতো আমরা ক্যারাম, আর নাম দেশ ফুল ফল খেলেই সন্তুষ্ট থাকতাম।

আমিও ছোট বেলায় কাঠের শ্লেটে লিখেছি তারপর ছোটদের দেখতাম প্লাস্টিকের শ্লেট তার কিছুদিন পর কাজিনদের দেখি একটু দামি অন্যরকম সাদা প্লাস্টিকের শ্লেট। তবে কাঠের শ্লেটের বিশেষত্বই আলাদা।

আরেকটি কথা মনে পড়লো প্রথম ক্রাশ ও তার বিয়ে :P

লগ্নজিতার পরিচয়ে গল্প দারুণ মোড় পেয়েছে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। শুভ কামনা ।

স্মৃতিচারন করাবার জন্য ধন্যবাদ ভাইটি।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় আরোগ্য,

হাহাহাহা তোমার স্পার্টাকাস দেখার প্রাক-মুহূর্তের অনুভূতিতে আনন্দ পেলাম। অলিখিত প্রতিযোগিতায় ছোট ভাই রাকুর সঙ্গে পিছিয়ে পড়েছো বলে দুঃখ করো না। তোমার তিন নম্বর পজিশনটিও নেহাত মন্দ নয়। ব্লগের এই অলিখিত প্রতিযোগিতা দারুণ একটা আকর্ষণীয় বিষয়। আমি নিজেও এই প্রতিযোগিতায় কারো না কারো পোস্টে অংশ নিই। বয়ে চলুক এই মিথস্ক্রিয়া। হাহাহা...

কাকাবাবুর পুত্রবধু সম্পর্কে তোমার মতামতটি প্রণিধানযোগ্য।ঠিকই তো বৌমা পরের মেয়ে! ধরলাম সে ভনিতা করতেই পারে কিন্তু নিজের মেয়েরাও দায়িত্ব এড়ানোর জন্য যদি এমন করে তাহলে সেটা আরো প্যাথেটিক আরো দুর্ভাগ্যের আরকি।
শৈশবের পড়াশোনার অন্যতম অংশ শ্লেট সম্পর্কে তোমার জীবনের সুন্দর অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। এমন হাজারো অভিজ্ঞতা লুকিয়ে আছে আমাদের জীবনের বিভিন্ন ভাঁজে ভাঁজে। যেগুলো বিশেষ বিশেষ সময়ে স্মৃতিমেদুর মনকে ভরিয়ে দেয় অনাবিল আনন্দে।
ক্রাশ ও তার বিয়ে!! ব্যাপারটি এখন বোধহয় খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি। এখনো ওঠতি রোমিও জুলিয়েটের এরকম ঘটনা আকছার ঘটতে দেখি।
লগ্নজিতার পরিচয় পর্বটি ভালো লেগেছে জেনে আনন্দ পেলাম। পরের পর্বের জন্য অগ্রিম দাওয়াত থাকলো।
পোস্টে লাইক করে ভাইয়াকে অনুপ্রাণিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

অফুরান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানবে।

৭| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১৩

আরোগ্য বলেছেন:

রাকু ভাই এই নিন চা। আমি কিন্তু চিনি কম খেতে পছন্দ করি। ভাইটি এখন মনে হয় ঘুম, আসতে সকাল হবে।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহাহাহা...
ছোট ভাই রাখুন শুধু একা নয় ব্লগে আগত সকল সদস্যবৃন্দকেও পরিবেশন করা যাবে তোমার হাতের এমন সুগন্ধি চায়ের। এমন চায়ে চিনি না দিয়ে খাওয়াই কাম্য; ফ্লেভার নষ্ট হবে যে!
আবারো ধন্যবাদ তোমাকে।
শুভকামনা সতত।

৮| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ২:৩৭

আনমোনা বলেছেন: গল্প কি চেনা পথেই যাচ্ছে? তাহলে ভালোই হয়। শেষটুকু পড়তে অধৈর্য হয়ে পরছি।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহাহা আপু গল্প চেনা দিকে না গেলে আপনারাই যে ছাড়বেনা। আমরা আর করি কি।পিঠে বাড়ি না পড়ার আশঙ্কায় তো গল্প চেনা ছন্দে ফেলতে বাধ্য। হাহাহাহাহা..
ইচ্ছা আছে আগামীকাল শেষ অংশটি পোস্ট করার।পর্বটি পড়ার জন্য অগ্রিম নেমন্তন্ন থাকলো।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানাই।
শুভকামনা জানবেন।

৯| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৪:৩৮

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: বৌদি'র এক্টিং গল্পের নায়ক নিখিলেশ সহ্য করেছেন। তিনার যথেষ্ট ধৈর্যশক্তি আছে।

গল্পের শেষটা প্রশান্তির হবে বলেই মনে হচ্ছে।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় জুনায়েদ ভাই,

ছোট্ট সুন্দর মন্তব্যে প্রীত হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে। গল্পের শেষাংশ পড়ার জন্য অগ্রিম আমন্ত্রন থাকলো। আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর সেখানে পেয়ে যাবেন।

শুভকামনা জানবেন।

১০| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৭:৫০

ইসিয়াক বলেছেন: আসছি .....।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হা হা হা আসুন আমি অপেক্ষায় রইলাম....

১১| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: আমার এক মেয়ে বন্ধু ছিল 'সপ্তর্ষি' নাম।
'লগ্নজিতা' নামটা চমৎকার। মানে কি এই নামের?
এ যুগের ছেলে মেয়েরা শ্লেটে চিনেই না।
কি আন্তরিকতা ছোট এক বাচ্চা বন্ধুর জন্য তেলের বোতল নিয়ে আসে। গ্রেট।

কাকাবাবুর মৃত্যু আসলেই দুঃখজনক।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: ভাইয়ের এক বন্ধুর নাম সপ্তর্ষি ছিল জেনে আনন্দ পেলাম। লগ্নজিতা মানে যিনি লগ্নকে (শুভ মুহূর্তকে) জয় করেছেন।
আর শ্লেট শব্দটির সঙ্গে এই প্রজন্মের পরিচয় বহুদিন আগেই অস্তমিত হয়েছে। বর্তমান যুগ ফাস্ট, ডিজিটালাইজড। সেদিনের সেই শ্লেট বহনকারীরা আজ বাবা-মায়ের ভূমিকায়। আমরাই যে সন্তানদের শ্লেট থেকে দূরে রেখেছি।

ছোট্ট বন্ধুর আন্তরিকতা ও কাকাবাবুর মৃত্যুর ঘটনা ভাইয়ের মনকে আলাদাভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে জেনে বিষন্নতার মাঝেও এক ঝলক রোদ্দুর পেলাম। ধন্যবাদ ভাইকে।
শুভকামনা রইল।

১২| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:৫১

রাকু হাসান বলেছেন:

আরোগ্য ভাই
। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে চা নিয়ে হাজির হওয়ায় । পদাতিক ভাই ঘুমে ছিল,আমিও । এসেই চা পেয়ে ভালো লাগলো । :) আপনার নতুন পোস্ট এর অপেক্ষায় আরোগ্য ভাই
খুব সামান্য হলেও শেষ পর্বটি পড়লে আশা করি মনের যাবতীয় কৌতূহল গুলো নিবৃত্ত হবে--হুম সেই বিশ্বাসই রাখছি । যেহেতু পরিধি বড় হয়েছে গল্পের নতুন চরিত্রের আগমনে ,তাই আরও কিছু পাচ্ছি বলায় যায় । তাড়াতাড়ি দিও শ্রদ্ধেয় ভাইয়া :)

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: তোমার এই কমেন্টটি পড়ে আমি প্রচুর হেসেছি। একদম ঠিক কথা লিখেছ। গতকাল টাইপ করতে করতে শেষের দিকে প্রচন্ড ঘুম চলে এসেছিল। মনে হচ্ছে অক্ষরগুলো ঠিকঠাক লিখতে পারছিনা।বিশেষ দ্রষ্টব্যে যে কথাটি উল্লেখ করেছি সেটা কতটা ঠিক লিখেছি ওই সময় সেটাও যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। কিন্তু আমার চোখের পাতা মুদে আসছিল। আশা করি এমন সময়ে আপ্যায়নের ত্রুটির জন্য ভাইয়াকে এবারের মতো ক্ষমা করে দেবে হাহাহাহা...
তবে ধন্যবাদ দিয়ে ভিডিও আরোগ্য কে খাটো করবো না। ও যেভাবে আপ্যায়নের হাত বাড়িয়েছে তাতে আমি আপ্লুত। 'অতিথি যেন অনাদরে ফিরে না যায়' বিষয়টি মাথায় রেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। আমি বিন্দাস! জানি তোমরা কেউ-না-কেউ এভাবেই আগামী দিনেও এগিয়ে আসবে হাহাহাহা।
পোস্ট সম্পর্কে তোমার কৌতুহল, আশা করি শেষ পর্বে তোমার যাবতীয় সংশয় নিবৃত্তি হবে। আমার পক্ষ থেকে তোমার অগ্রিম দাওয়াত রইলো।

শুভকামনা সতত।



১৩| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৩২

নীলপরি বলেছেন: প্রথম পর্বটা পড়া হয়নি । এই পর্বটা পড়েই প্রথম পর্বটা পড়ার আগ্রহ জাগলো । পড়ে নেবো । ভালো লিখেছেন ।
+++++
শুভকামনা

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনার আগমনে আনন্দ পেলাম। সময়ের অভাবে প্রথম পর্বটা পড়েননি ঠিকই কিন্তু সময় পেলে পড়ার অনুরোধ রইল। আপনার পোস্ট প্রথম পেজে আসছে না সেবার বলেছিলেন। জানিনা সমস্যাটি মুডুকে জানিয়েছেন কিনা। তবে এতদিন সমস্যাটি নির্মূল হয়েছে বলে মনে করি।
পোস্ট ভালো লেগেছে; সঙ্গে এতগুলি প্লাস ও লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম কৃতজ্ঞতা জানবেন।

শুভেচ্ছা নিয়েন।

১৪| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

ইসিয়াক বলেছেন: আপনার পোষ্টের পাত্রপাত্রীর নামগুলো খুব সুন্দর । আমার ভালো লেগেছে গল্পটা। বাকি টুকুর অপেক্ষায়। কোন ভূল কি করে ফেললাম? আপনার আর শ্রদ্ধেয় চাঁদগাজীর পোষ্টে খুব ভয়ে ভয়ে কমেন্ট করি । যদি কোন ভূল হয়ে যায়।
ধন্যবাদ ।

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হাহাহাহা পাত্র-পাত্রীর নামগুলো ভালো লেগেছে জেনে পুলকিত হলাম।জীবনে সবারই তো কোন না কোন সময় পাত্র পাত্রীর দরকার হয়। যাই হোক কাজ সিদ্ধ হলে জানিয়েন। হাহাহাহাহা.
গল্প ভাল লেগেছে, বাকি অংশের অপেক্ষায় আছেন জেনে আনন্দ পেলাম। আগামীকাল নাগাদ শেষ অংশটি দেওয়ার প্ল্যান আছে। আপনার আমন্ত্রণ থাকলো।
আর ভুল করা নিয়ে এ কি কথা বললেন আপনি???? আমার পোস্টে আপনি ভুল করবেন!! ভাবনাটি আমার কাছে যথেষ্ট বেদনার, দুঃখজনকও বটে। আমাকে নিয়ে আপনার মন থেকে সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটুক। প্লিজ আমাকে নিয়ে এমনটি ভাববেন না।
শুভেচ্ছা নিয়েন।

১৫| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২২

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: আত্মজৈবনিক?

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: কিছুটা তো আছে তবে মাধুরী মেশানো।

পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শুভেচ্ছা নিয়েন দাদা।

১৬| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: জীবন থেকে নেয়া -ঘটনাগুলো জীবনকে ছুঁয়েই যায় আনমনে!

সময় বুঝি এবাবেই আটকে থাকে- লেখকের কলমের আচঁরে অমরত্বে।
অনুভব গুলো সূখ, কষ্ট বেদনাগুলোও ছোঁয়াচে হয়ে সবাইকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়

লগ্নজিতার জন্য খাঁক হওয়াটা বুঝি জগতেরই রীতি!
শৈশবের অনুভব গুলো বড় হলে- কেন যে হারিয়ে যায়?? লগ্নজিরতারা কি সব্বাই একইরকম হয়!

অপেক্ষায় - - -

২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শ্রদ্ধেয় কবি ভাই,

যথার্থই বলেছেন জীবন থেকে নেওয়া। আপনার সুন্দর মন্তব্যে প্রীত হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।
"অনুভব গুলো সুখ, কষ্ট বেদনাগুলোও ছোঁয়াচে হয়ে সবাইকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়।"
ভীষণ সুন্দর একটি কথা বলেছেন। আবারো ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।
লগ্নজিতাদের তার জন্য খাঁক হয়ে যাওয়াটা বুঝি জগতেরই রীতি। সহমত আপনার সঙ্গে। তবে মাদকতা মেশানো এই রীতি অনাদিকাল চলতেই থাকবে।

পরের পর্বের অপেক্ষায় আছেন যিনি আনন্দ পেলাম। পরবর্তী পর্বের জন্য আপনাকে অগ্রিম দাওয়াত থাকলো।
পোস্টটিকে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শ্রদ্ধা ও শুভকামনা আপনাকে।

১৭| ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:৩৫

নীল আকাশ বলেছেন: খাক শব্দ আমার পরিচিত নয়। এই জীবনে প্রথম শুনলাম আমি।
ধন্যবাদ।

২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৩০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শুভ সকাল প্রিয় নীল আকাশ ভাই,

ঠিকই তো একটা ভাষার বহু শব্দের সঙ্গে আমাদের অনেকেরই এক জীবনে পরিচয় ঘটে না বা না থাকাটাই স্বাভাবিক। আমরা প্রতিনিয়ত শিখে চলেছি। জীবন একটা চলমান পাঠশালা। আমরা তার শিক্ষার্থী।

আবার কমেন্টে আসায় ধন্যবাদ আপনাকে।

শুভকামনা জানবেন।

১৮| ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৫০

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: জি দাদা প্রবাসেই থাকি। আর কাজের ফাকেই ব্লগিং করি। মানে পড়ি। পর্ব পাঠে গল্পের প্রতিটি অলিগলি চেনা যায় লেখকের শক্তিরগুণে। তাইতো এতো মধু মাখা কথামালার এক ঝুড়ি যেনো পাঠ করলাম। কাকাবাবুর বিয়োগ সাথে একটি মধ্যেবিত্ত পরিবারের চিত্র আর গল্পের সিটিং বরাবরের মতোই চমৎকার।
লগ্নজিরতার গল্পটিও দারুণ উপভোগ্য শৈশবের সেই দিনগুরো মনে করিয়ে দিলেন। এমন বন্ধু হয়তো প্রতিটি শিশুর জীবননে একজন করে হলেও ছিল। তারা হারিয়ে যায়,শুধু স্মৃতির পাতা ভারি করে রেখে একএকটি গল্প। মজার সময় গুলোর স্মৃতি মনে করে এখনো সুখে প্রীত হই যখন কারোর লেখায় ঘুরে ফিরে দেখি নিজের কিছু কথা।

ভাল থাকবেন দাদা। পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় সুজন ভাই,

প্রত্যাশা মতোই দ্বিতীয় পর্বে আপনার আগমনে আনন্দিত হলাম। ধন্যবাদ প্রবাসে থাকা নিয়ে আমার কৌতূহল নিবৃত্ত করার জন্য। বিদেশ-বিভুঁইয়ে থাকেন, নানান সমস্যা উত্থান-পতনের মধ্যেও থাকতে হয়। প্রতিবন্ধকতা পদে-পদে তবুও তার মধ্যে যতটা সম্ভব
যাতে ভালো থাকেন তার কামনা করি।
পোস্ট সম্পর্কে আপনার সুন্দর মন্তব্যে প্রীত হলাম। তবে আপনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলি এত সুন্দর কথাগুলি যে কতটা আমার জন্য প্রযোজ্য সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এত সুন্দর মায়ামাখা কথাগুলির যোগ্য যে আমি নই এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত হাহাহাহা...
লগ্নজিতা বা শৈশবকাল সম্পর্কে আপনার অবজারভেশন অত্যন্ত মধুর। হ্যাঁ সম্ভবত জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে আমাদের প্রত্যেকেরই ছেলেবেলায় এরকম স্মরণীয় ঘটনা ঘটেই থাকে। আমরা কেউ স্মরণ রাখি কেউবা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। সুন্দর মন্তব্যের জন্য আবারো ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।
শুভকামনা ও ভালোবাসা জানবেন।






১৯| ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:০১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: প্রথম পর্ব পড়লাম। এটাও পড়লাম। আপনি তো দেখছি কথাসাহিত্যিক হয়ে যাচ্ছেন একেবারে!!! :P

ফ্ল্যাশব্যাক চমৎকার হয়েছে। বাল্যপ্রেম ভোলা আসলেই খুব কঠিন। তবে, এবার মনে হচ্ছে ব্যর্থ বাল্যপ্রেম সফলতা লাভ করতে যাচ্ছে! ;)

চালিয়ে যান.....শেষ দেখার অপেক্ষায় আছি।

২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:২৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রথম পর্বে পড়েছেন, কিন্তু মন্তব্য না করে আমাকে বঞ্চিত করেছেন। আপনার মূল্যবান মন্তব্য যে আমার খুবই দরকার।কি আর করার আপাতত দ্বিতীয় পর্বের মন্তব্যটি নিয়েই খুশি হাহাহাহাহা...

মারলেন তো আমাকে তুলে আছাড়। এইসব গুরুগম্ভীর কথাগুলো কি এই অবলার পোস্টে না করলেই কি নয়!!
যাক লিখেই যখন ফেলেছেন তাহলে তো কনফেস করতেই হয়।
কোথাও যদি সেরকম সাহিত্যকর্মের আঁচ পেয়ে থাকেন তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। না না না না আপনাদের অজ্ঞাতসারে হয়তো একটু আত্তু ঐরকম শিল্প কর্ম করার চেষ্টা করছিলাম। আপনার মন্তব্যে যার উল্লেখ করলেন। কিন্তু আপনারা এসে পড়েছেন যখন আর ভুল করেও ওপথে পা বাড়াবো না। কথা দিলাম। হাহাহা....
ফ্ল্যাশব্যাক ভালো লাগাতে বা পরবর্তী পর্ব সম্পর্কে আপনার ব্যঞ্জনাময় মন্তব্যে মুগ্ধ হলাম।
পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম, কৃতজ্ঞতা জানবেন।
শুভেচ্ছা নিয়েন।

২০| ২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৩৫

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ভালো লাগলো গল্প
শুভকামনা

২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:১১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপু আপনাকে।
গল্প ভালো লাগাতে ও পোস্টে লাইক করাতে প্রেরণা পেলাম; কৃতজ্ঞতা জানবেন।

আপনার শুভকামনা গ্রহণ করলাম।
আপনার জন্যও রইল অফুরান শুভেচ্ছা।

২১| ২৫ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৫৫

মাহের ইসলাম বলেছেন: লগ্নজিতাকে চিরাচরিত এক নারীই মনে হয়েছে।
শিশু মনের পরে, আরেকটু আবেগ দিলে কেমন হতো ভাবছি।

যেমন, কলেজের করিডোরে একটু আধটু হাঁসিমুখ - বেশি অস্বাভাবিক হয়ে যেত?

বরাবরের মতোই, চমৎকার লেগেছে।
শুভ কামনা রইল।

২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনাকে দেখে আনন্দ পেলাম হাহাহাহাহা..
ভাল মন্তব্য করেছেন লগ্নজিতারি চিরায়ত নারী সত্ত্বা।
আর আবেগের পরিমাণটা অবশ্য একটু কমই হয়েছে অস্বীকার করব না। বিষয়টি আপনার নজরে আসায় ধন্যবাদ আপনাকে।
তবে শেষে গিয়ে পোস্টটি ভাল লাগাতে চমৎকৃত হলাম। আবারো ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।
আপনার শুভ কামনা গ্রহণ করলাম ।
আপনার জন্যও রইল অনিঃশেষ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

২২| ২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৩০

মুক্তা নীল বলেছেন:
দাদা ,
সরাসরি ক্ষমা চাইছি দেরিতে আসার জন্য। খুবই ভালো লাগছে এই পর্ব পড়ে, সপ্তর্ষি রায় এর বউ এর চরিত্রের ভন্ডামি ও এখনই তার বহিঃপ্রকাশ। পরের পর্বে যাচ্ছি দেখি কি হয় ।
পরের পর্বে যাচ্ছি।
ধন্যবাদ ও শুভকামনা ।

২৩| ২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬

মুক্তা নীল বলেছেন:
দাদা,

বলতে ভুলে গেছি শৈশবের স্কুল কাহিনীর যে ঘটনাগুলো
তা অত্যন্ত মধুময় । বাল্যকালের টুকরো স্মৃতিগুলো অসাধারণ
হয়েছে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.