নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ঐক্য এবং সংগ্রাম= মুক্তি

পাঠক লাল গোলদার

শোষণ-বৈষম্য হীন একটা মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনে কাজ করি আমি। বুর্জোয়া আধিপত্যের বিপরীতে রাজেনৈতিক, সামাজিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও মনজাগতিক ক্ষেত্রে শ্রমিক কৃষক মেহনতী মানুষের পাল্টা আধিপত্য গড়ে তোলাই প্রথম কাজ।

পাঠক লাল গোলদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

৫৭ ধারায় কাশিমপুর (শেষ পর্ব)

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৪০

(১ম ও ২য় পর্ব নিচের লিংকে)

সবুজ একটু চঞ্চল হয়ে উঠলো! একটু বিরক্ত হয়েই বললো, আমলীগ কে নিয়ে এতো কথা বলার কি আছে? তার চেয়ে আপনি একটু বিএনপির কথা বলেন সজল ভাই! আচ্ছা বলেন তো, বিএনপি এত হুমকি-ধামকি দেয়ার পরও কেন হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেলো? তত্ত্বাবধায়ক বাদই দিলাম! অন্য কোন ফর্মূলার নিরপেক্ষ সরকার হলেও চলতো! কিন্তু তাও না! শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ক্ষমতাই ছাড়লেন না। তারপরও কেন বিএনপি হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেলো?

রুবেল ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছিলো। সবুজের কথা বলার ভঙ্গি তার সহ্য হচ্ছিল না! ভাবছিল সবুজ আবার তার নেত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলবে! সজল তাই রুবেলকে হাত ধরে বসতে বললো। আবার কথা শুরু করলো সজল! সবুজ? আমি আপনার কষ্টটা বুঝি! আপনার নেতারা নির্দেশ দিয়েছিলো, দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোল, তত্ত্বাবধায়ক আদায় করতে হবে! আওয়ামী নির্বাচন প্রতিহত করো! আপনারা জীবন বাজী রেখে রাস্তায় নামলেন। কিন্তু কখনও বলে নাই হাসিনা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচনে যাবে। আর আপনার মতো সবুজরা শুধু আন্দোলনই করেছে, মার খেয়েছে! তারপর আবার রাস্তায় গিয়েছে! কিন্তু নেতারা ঠিকই কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে নির্বাচনে নেমে গিয়েছে। হ্যা! রাজনীতি এমনই! তবে খালেদা জিয়া কিন্তু তখন ঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ চেয়েছিলো বিএনপি নির্বাচনে না আসুক। তাই ১৮ দলীয় জোটের কোন দাবীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করেই ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেয় মহাজোট। পরিকল্পনাটা ছিলো একেবারেই ডিজিটাল। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করবে এবং প্রতিরোধের ঘোষণা দিবে! জাতীয় পার্টি মহাজোটের বাইরে আলাদা নির্বাচন করবে। আর খেলাফত মজলিসের রিক্সা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবে হেফাজত-জামায়াত জোট। হিসাব সহজ। হেফাজত-জামায়াত গোটা দশেক আসন পাবে আর জাতীয় পার্টি সহ অন্যরা ত্রিশ থেকে চল্লিশ। বাকি আড়াইশ আওয়ামী মহাজোটের ঝুলিতে। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনের ঠিক আগের দিন একেবারে নাইন্টি ডিগ্রি ঘুরে নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে বসলো বিএনপি। মাত্র চব্বিশ ঘন্টায়ই সব হিসাব নিকাশ উল্লাপাল্টা হয়ে গেলো। হেফাজতের সাথে আওয়ামী লীগের গোপন চুক্তি গোপনই রয়ে গেলো। হেফাজত ঠিকই বিএনপির সাথে সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ শুরু করলো। জামায়াতও বিএনপির সাথে খুবই গোপনে নির্বাচনী কাজ শুরু করে দিলো। নির্বাচনের আগে নিযামী-মুজাহিদদের ফাঁসী ঠেকাতে যদিও জেলের বাইরে থাকা প্রথম সারির জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগকে একেবারে মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝ দিয়ে যেতে লাগলো! এমনকি এরশাদও ঐদিন রাত্রেই খালেদা জিয়ার আস্তানায় গুম হয়ে গেলেন। রেরুলেন একেবারে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।

আওয়ামী লীগ ততক্ষণে বুঝে গিয়েছে, নির্বাচনে পরাজয় ভিন্ন গতি নাই। অবশ্য যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে চেষ্টার ত্রুটি করে নাই হাসিনা সরকার। কিন্তু দিন বদলাইছে। পাবলিক আমলীগারদের চেয়ে এখন অনেক বেশি ডিজিটাল হয়ে গেছে। সেনাবাহিনীও কথা শোনেনি! শেষ পর্যন্ত যে মহাজোটের আসন তিন অংক ক্রস করেছে এটাই অনেক বেশি।

আবার সবুজ বললো, কিন্তু আমাদের বেশ কয়েকজন এমপি এমনকি দু’জন মন্ত্রীও তো ৫৭ ধারা খাইছে! তাদের ব্যাপারে একটু বলেন?

সবুজ হাসতে হাসতেই একটু টিপ্পনি কাটলো, হায়রে হাসিনাধারা?? এমন খাদ্য বানাইছে, এখন আমলীগের এমপি-মন্ত্রীরও বদহজম হইতেছে।

সজল আবার বলতে শুরু করলো, জয়ের ফেসবুক এ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অনেক ইসলাম বিরোধী স্ট্যাটাস ঢুকাইয়া দিছে সেটা তো শুনেছেনই! সেগুলোর স্ক্রিনসট নিয়ে রেখে দিয়েছে প্রশাসন। তাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের আপাতত বাংলাদেশে আসার কোন সম্ভাবনা নেই। আর আসলে ৫৭ ধারায় ১৪ বছর!

সজলের কথার মধ্যেই রুবেল আবার কথা বলে উঠলো! মাইন্ড কইরেন না সজল ভাই! জয় ভাইয়ের এ্যাকাউন্ট তো শুনছি ফেসবুকের বিশেষ নিরাপত্তায় ছিলো! তারপরও তার এ্যাকাউন্ট ক্যামনে হ্যাক হইলো?

রুবেলের প্রশ্ন শুনে আবার কথা শুরু করলো সজল! ফেসবুকের জনক জুকারবার্গের ফেসবুক এ্যাকাউন্টও কিন্তু একবার হ্যাক হইছিলো! তাই জয়ের এ্যাকাউন্ট হ্যাক করা ডিজিটাল হ্যাকারদের কাছে কোন ব্যাপারই না! যে কথা বলছিলাম সেখানে আবার ফিরে আসি! আবার শুরু করলো সজল! হ্যা! এটা সত্যি! বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের এমপি এবং মহাজোটের দু’জন মন্ত্রীও ৫৭ ধারার ছ্যাকা পাইছে। সত্যি কথা বলতে, নিজেদের পয়দা করা ৫৭ ধারাই তাদের গলা টিপে ধরেছে! এর মধ্যে আমি একজন এমপির কথা জানি। সবুজ না চিনলেও রুবেল নিশ্চয়ই শফিউর রহমান এমপিকে ভালভাবেই চেনেন। আমার দেখা নিরেট ভাল মানুষ এই শফিউর রহমান। রাজনীতিবিদরা এর চেয়ে ধার্মিক হয় সেটা আমার জানা নেই। শফিউর ভাই অসম্ভবরকম ধর্মভিরু মানুষ। নামাজ কাজা হয়না তার! রোজা রাখেননি এরকম ঘটেনি কখনও। তার নিজের মূখ থেকেই শোনা! হজ্বও করে এসেছেন স্বপরিবারে। মহাজোট করতে করতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতার সাথেই ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। শফিউর ভাই তার মধ্যে অন্যতম। ফেসবুকের সাথে কোনকালেই তার কোন সম্পর্ক ছিলো না! তবে তিনি কম্পিউটারের ব্যবহার জানেন এবং ইমেল ব্যবহার ও পত্রিকা পড়তে ইন্টারনেটও ব্যবহার করতেন। সেই শফিউর রহমান এমপিকেও ২৪ দলীয় বিএনপি জোট সরকার ৫৭ ধারায় জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। কে বা কারা শুধুমাত্র শফিউর রহমানের নামেই নাকি ৭টি ফেসবুক এ্যাকাউন্ট খুলেছে। সেখানে শত শত পোস্ট দিয়েছে যা কি না ইসলাম এবং নবীজীর বিরুদ্ধে। ৫৭ ধারা এটা এমন একটা অস্ত্র যে ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যায়! বিএনপি-জামাত-হেফাজত শফিউর রহমান এমপির বিরুদ্ধে সেটাই করেছে। এই আমার কথাই ধরেন! আমি বামপন্থী হলেও পুরোদস্তুর মুসলমান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি! ৩০ রোজার পরে ৬ রোজাও রাখি। ফেসবুকে মানুষের পক্ষে স্ট্যাটাস দেয়ার চেষ্টা করি! কিন্তু কখনই ধর্মের বিরুদ্ধে একটা কথাও লিখি নাই। তারপরও সেই আমারে নাস্তিক বলে ৫৭ ধারায় জেলে পুরে দেয়া হলো।

রুবেল আবারও একটা ছোট প্রশ্ন করে বসলো! তাইলে আপনি কি ফরহাদ মজহারের মতো বামপন্থি না কি?

সজল একটু মুচকি হাসি দিলো! বললো, ফরহাদ মজহার যতনা বামপন্থী তার চেয়ে অনেক বেশি মৌলবাদী, অনেক বেশি জামাতী। বিএনপির মৌলবাদী অংশের সাথেই তার দহরম-মহরম। তাই বামপন্থী বা কমিউনিস্ট টাইটেলটা উনি নিজেই নিজের উপর ব্যবহার করেন! বাংলাদেশের মৌলবাদীরা ছাড়া কেউ ওনাকে বামপন্থি মনে করেন না!

রুবেল বললো, সজল ভাই আজকে আর মনে হয় বেশি সময় পামু না! প্যাডে কইতাছে খাওনের সময় হইছে। তারপরেও আরো দুইখান ছোট প্রশ্ন করি! ৫৭ ধারা কি আজীবনই থাকবে? আর শ্যাষটা হচ্ছে আমলীগ কি আর কহনও ক্ষমতায় আইবো??

হ্যা! আমারও ক্ষুধা লাগছে। খুব সংক্ষেপে বলি, আমার মনে হয় বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার আগে ৫৭ ধারা বাতিল করবে। কারণ খালেদা জিয়া অন্তত এটা বুঝবে যে, হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসলে ৫৭ ধারা দিয়েই বিএনপি-জামাত ধ্বংস করবে। আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা যে নেই তা নয়। তবে হাসিনা-খালেদা দু’জনেরই বয়েস হইছে। আল্লা না করুন, তাদের মৃত্যুর পর কোন দলের কি হাল হয় সেটা এখনই বলা মুশকিল। তাই সময়ই বলে দেবে, জোট-মহাজোটের ক্ষমতায় যাওয়া-আসা আর কতদিন চলবে! তবে এমন হতে পারে প্রগতিশীলরাই সামনে চলে আসলো, ৯০ ভাগ শ্রমিক-কৃষকের পক্ষের শক্তি ক্ষমতা দখল করলো! কিছুই অসম্ভব না!



হঠাৎ বাঁশির আওয়াজ শোনা গেলো! সজল কথার মাঝখানেই থেমে গেলো। তারপর বললো, চলেন আগে খাবার নিয়ে আসি! খাওয়ার পরে আবার আমাকে সবজি ক্ষেতে কাজে যেতে হবে। পরে এসব নিয়ে আবার আলোচনা করা যাবে! তিনজনেই উঠে চৌকার দিকে রওনা হলো।



-সমাপ্ত-





Click This Link



Click This Link

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.