নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ঐক্য এবং সংগ্রাম= মুক্তি

পাঠক লাল গোলদার

শোষণ-বৈষম্য হীন একটা মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনে কাজ করি আমি। বুর্জোয়া আধিপত্যের বিপরীতে রাজেনৈতিক, সামাজিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও মনজাগতিক ক্ষেত্রে শ্রমিক কৃষক মেহনতী মানুষের পাল্টা আধিপত্য গড়ে তোলাই প্রথম কাজ।

পাঠক লাল গোলদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

লম্বু চোরার প্রথম নামাজ!

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১০:০৮

লম্বু মিয়া নামে এক পেশাদার চোর ভিন গ্রামে গেছে চুরি করতে । না বুঝেই সে ঢুকে গেলো এক ঈমাম সাহেবের বাসায়! বুজুর্গ ঈমাম, কোরান-হাদিস মেনেই তার জীবন। দুনিয়াতে সম্পদ যার কম, আখেরাতে হিসাব তার সহজ! তাই ঈমামের আর্থিক অনটনের সংসারে চুরি করার মতো জিনিসের যথেষ্ট অভাব। লম্বু ঘর তন্ন তন্ন করেও তেমন কিছু পেলো না। হঠাত তার চোখে পড়লো লম্বা ওয়াল হ্যাঙ্গারে বাধানো গোটাচারেক লম্বা পাঞ্জাবি! সবগুলো পাঞ্জাবীই একরঙা! পছন্দমতো এক টান দিয়ে একটা পাঞ্জাবী নামিয়ে তাড়াতাড়ি পরে নিলো সে। যাক কিছু অন্তত পাওয়া গেলো! পাশের টেবিলে রাখা একটা টুপি পরে নিলো মাথায়। আর মনে মনে হাসলো। আরে! নিজেকে বেশ নামাজি নামাজি মনে হচ্ছে এখন। নামাজ সে কখনো পড়েনি জীবনে কিন্তু নামাজি দেখেছে অগণিত। লম্বা পাঞ্জাবি-টুপি পরে নামাজ না পড়ে কি পারা যায়! সিদ্ধান্ত নিলো, সবার সাথে আজ জীবনের প্রথম নামাজ আদায় করবে সে!

রাস্তায় বেরিয়ে নিজের গ্রামের দিকে হাটতে থাকলো লম্বু চোর! ফজরের এখনও ঢের বাকী! তাই চিন্তা করলো, যে গ্রামে গিয়ে আজানের সুর শুনবে সেই গ্রামের একটা মসজিদেই আজকের ফজরের নামাজটা পড়বে সে।

নির্জন গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাটছে একা লম্বু মিয়া। ছেড়া ময়লা লুঙ্গিটা তখনও খুব টাইট করে কাছা দেয়া। হাঁটতে বেশ কষ্ট অনুভব হলো তার। মনে মনে ভাবলো লুঙ্গির ঝামেলার দরকার কি তার! হুজুরের এই পাঞ্জাবীই তো যথেষ্ট! এর একখান লম্বা পাঞ্জাবী পরলে নিচেয় আর কিছুই পরার কোন প্রয়োজন পড়ে না। যে ভাবনা সেই কাজ। এক টান দিয়ে লুঙ্গিটা খুলে রাস্তার পাশে বাগানের দিকে ছুড়ে ফেলে দিলো লম্বু। লুঙ্গি খোলার পর শরীরে বেশ শীহরণ অনুভব করলো সে! সমস্ত শরীরে বাতাস লাগছে এখন। আহা কি মজা! এই জন্যই কি হুজুররা লম্বা পাঞ্জাবী পরে! এক কাপড়েই কাম সারা? নিজেকে বেশ ভাবুক মনে হচ্ছে তার!

ফজরের আজান কানে যাওয়া মাত্রই দ্রুত হাটতে শুরু করলো সে। কয়েকজন নামাজির পিছু নিয়ে মসজিদের সন্ধানও পেয়ে গেলো। অন্যদের সাথে মসজিদে সোজা ঢুকে গেলো লম্বু। বেশ বড় মসজিদ। নামাজির সংখ্যাও অনেক। নামাজিদের দেখে চিন্তা করে লম্বু চোর, এত মানুষ নামাজ পড়ে? গ্রামের তো বেশিরভাগ ব্যাটা মানুষই এখানে হাজির! তাইলে, এত আকাম করে কারা?? আবার মনরে বুঝায়, থাকনা এগুলা!

ওজু সেরে এসে কাতারে দাঁড়ায়ে গেলো লম্বু। আহা রে! ঠান্ডা পানি দিয়ে ফজরের ওজু করতে ভালই লাগলো তার!ওজু করতে যাতে কোন ভুল না হয় তাই পাশের লোকের দিকে বার বার দেখে নিলো সে। মসজিদটি লম্বায় অনেক হলেও পাশে বেশ চিকন। তাই দশবারোজন হলেই আবার নতুন লাইন দিতে হয়। পিছন ফিরে দেখলো ইতিমধ্যে তার পিছনেও আরো দুটো কাতার দাঁড়িয়ে গিয়েছে।

এতক্ষণ ভালই যাচ্ছিলো! কিন্তু বিপত্তিটা দেখা দিলো যখন অন্যদের দেখাদেখি সেজদা দিলো লম্বু। লম্বু তার সামনের জনকে কপি করছে। লম্বু কিন্তু বেমালুম ভুলে গেলো যে পাঞ্জাবী ছাড়া তার পরনে আর কিছুই নাই। ততক্ষণে লম্বুর পিছনের নামাজির তো চক্ষু চড়ক গাছ! এ কি! এ কি দেখছে সে! সুন্দরবন, মোংলার পোর্ট সবই ফকফকা! জোর করে হাসি চেপে গেলো সে! কিন্তু রাগ চেপে রাখতে পারলো না। কষে একটা লাথি বসিয়ে দিলো লম্বুচোরার উদোম পাছায়।

প্রায় পড়ে যাচ্ছিলো লম্বু। সেজদায় না থাকলে ঠিকই পড়ে যেতো। হাত দিয়ে নিজেকে কোনরকমে ঠেকিয়ে রাখলো। কয়েক মুহুর্ত চিন্তা করে বোঝার চেষ্টা করলো ঘটনাটা। এ কি? মসজিদের ভেতর শুনছি নামাজ পড়ে। কিন্তু ও তো আমারে লাথি দিলো। তাইলে কি এরকম লাথিরও রেওয়াজ আছে না কি? চিন্তায় দেরি আছে কিন্তু কাজে দেরি নাই। চাইয়া দেখলো তার সামনের লোক এখনও সেজদায়। মুহুর্তের মধ্যেই উঠে দাঁড়িয়েই একেবারে ফুটবল কিকের ঢংয়ে সামনের নামাজীর পাছায় কষে একটা লাথি বসিয়ে দিলো লম্বু। গায়ে গতরে মোটা হলেও লাথির ঠেলা সামাল দিতে পারলো না সামনের নামাজি। হুমড়ি খেয়ে পড়লো গিয়ে তার সামনের জনের উপর। অবস্থার আকস্মিকতায় সামনের লাথি খাওয়া নামাজি তখনও কিংকর্তব্যবিমূঢ! চোখ ঘুরিয়ে লম্বুর দিকে চেয়ে থাকলো সে! অমনি লম্বু চোখ পাকিয়ে কর্কষ গলায় জবাব দিলো, এদিকে চোখ ঘুরায়ে দেখো কি?? পিছনে শুরু হয়ে গেছে! সামনে লাগায়ে দ্যাও!!



গল্পটি গাজী গানের! যারা গাজী কালাচান্দের গান শুনেছেন তারা হয়তো গল্পটা জানেন। গানের ফাটকিদার যখন চোর সেজে, পরে ঈমাম সেজে নানান অঙ্গভঙ্গি করে গল্পটি বয়ান করে তখন গ্রামের ঐ গাজীগানের শ্রোতাদের না হেসে আর কোন উপায় থাকে না। শত কষ্টের মধ্যেও এমনকি ক্ষুধা পেটেও তারা দাত বের করে হাসতে থাকে।

কিন্তু কথা হইলো গিয়া, আমাদের রাজনীতিকরা এখন কি গান শুরু করেছেন?? পল্লীগীতি, বাউল, জারী, সারী কোনটার সাথেই তো মিলছে না তাদের গানা-বাজনা! এমনকি গাজী গানের সাথেও না! যে যেভাবে পারছে গেয়ে যাচ্ছে। পাবলিক হাসলো, না কি কাঁদলো, না কি ভোদাই সেজে বসে রইলো, কারো কোনো খেয়াল নেই সে দিকে।

এখন আর সামনে পিছে নেই। চারিদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে! লগি-বৈঠা ঠেকাতে এসে গিয়েছে দা-কুড়াল! রগকাটা শিবিরের চাপাতি চালানো সেই পুরোনো জানোয়ারের রূপটা বেরিয়ে পড়েছে আবারও। কোরবানীকে কাজে লাগিয়ে অনেক নতুন ধারালো অস্ত্রেরও জোগাড় হয়ে গেছে। হেফাজতও গ্রেনেড-বোমা বানানো-চালানোর ট্রেনিং নিয়ে ফেলেছে। এত এত গান-বাজনার মধ্যে পাবলিক পড়ে গিয়েছে মাইনকার চিপায়। কি হয়! কি হয়!

২৫ তারিখে পরীক্ষা! মহারথীদের কেউ কেউ বলছেন কোয়ার্টার, সেমি আগেই হয়ে গিয়েছে এখন ফাইনাল খেলার পালা! আবার কেউ বলছেন, খেল এখনও শুরুই হয় নি। ওদিকে রাজনীতিকদের খেলা দেখতে দেখতে পাবলিকের দফারফা সারা!

নির্বাচন তো হবে একখান! কিন্তু প্রশ্ন হইলো দোতরফা না একতরফা? বিএনপি-জামায়াত বাদ দিলেও এখনও ৪৭ দল নির্বাচনী লাইনেই আছে! কিন্তু সেই একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গদী ঠিক রাখলে কতদিন সেটা টিকবে? আবার দোতরফা হলে গদী হারানোরও সমূহ আশংখা আছে!

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুবই নাজুক। তবে পাবলিকের কাছে এটা খুবই পরিষ্কার যে, মহাজোট আবারও ক্ষমতায় আসলেও বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বা বিএনপি জোট ক্ষমতা পুনুরুদ্ধার করলেও বাংলাদেশ পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। যেটা হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা সেটা হলো- লুটপাট আরেকধাপ বাড়বে! দুর্নীতি বাড়বে! বাড়বে ঘুষের রেট! বাড়বে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, খুন, নির্যাতন, হয়রানী! বাড়বে বেকারত্ব, ভূমিহীনতা, শিক্ষার নামে কুশিক্ষা আর বাজারদর! বাড়বে ধর্মব্যবসায়ীর সংখ্যা, বাড়বে ধর্মীয় উপসনালয় ও তার চাকচিক্য! বাড়বে ভিটেমাটিহারা গ্রামবাসীদের শহরমূখী স্রোত, বাড়বে গার্মেন্টসে হত্যা, নির্যাতন, শোষণ! বাড়বে ভেজাল, বিষাক্ত খাবারের আমদানী ও উতপাদন, বাড়বে রাজনীতির নামে অপরাজনীতি! বাড়বে হাইব্রীড নেতাদের সমারোহ, আর গলাবাজী! সে যে জোটই ক্ষমতায় আসুক, মহাজেট বা ১৮ দলীয় জোট!

দেশের জনগণকে এতকিছুর বাড়বাড়ন্ত মোকাবেলা করেই তবে বেঁচে থাকতে হবে! আর বাঁচার যোগ্যতা না থাকলে আল্লার মাল আল্লায় নিয়ে যাবে! কারো কোন দায় থাকবে না!

ক্ষমতা দখল, পাল্টা দখলের লড়াই চারিদিকে শুরু হয়েছে! দেশের ১০ ভাগ শাসকশ্রেণী লুটেরাদের মধ্যে এখনও এই লড়াই সীমাবদ্ধ! ৯০ ভাগ চিড়েচ্যাপ্টা মানুষ কবে তাদের নিজস্ব লড়াইটা শুরু করবে এই লুটেরা শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে, সেটা এখন বড় প্রশ্ন? সংগ্রাম তো তাদের করতেই হবে! নতুবা জোট-মহাজোটের জাতাকল বহাল থাকবে, চলতেই থাকবে!

শুধুই আহবান, সামনে পিছে শুরু হয়ে গেছে, লুটেরারা শুরু করেছে আবারও! ধর্মকানা, দলকানারাও তাদের সাথে আছে! কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ! তোমরাও শুরু করো! ধর্মকানা দলকানাদের বিরুদ্ধে! লুটেরা, শোষক, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ওই ১০ ভাগ শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে! তোমাদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই এনে দিতে পারে অর্থনৈতিক মুক্তি, সত্যিকারের স্বাধীনতা! চারিদিকে শুরু হয়েছে! তোমরাও লাগায়ে দ্যাও!



পাঠক লাল গোলদার

১৯ অক্টোবর ২০১৩

[email protected]

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১১:০৩

মুশে হক বলেছেন: লম্বু চোরার মত রাজনীতিকদের নীচের দিকটা খোলা না গেলে লাথি ঠিক জাগায় পড়বে না। রাজনীতিদের ধর্ম, জনসেবা, উন্নয়ন ইত্যাদি নানা মুখোশ খুলেই লাথি না লাগালে তা কার্যকরী হবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.