| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম। কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
প্রথম পর্বের জন্য Click This Link , দ্বিতীয় পর্বের জন্য Click This Link
তৃতীয় পর্ব:
"চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর শুধু ভারতই নয়, নেপাল এবং ভুটানকেও ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যেভাবে করা উচিত"............. আজকের দিনে তো দরজা আটকে বসে থাকতে পারি না। সব ঘরে তো কাঁটা মেরে বসে থাকতে পারি না। আমাদের দুটি সম্পদ আছে—চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর। নেপাল ও ভুটানও যাতে এসব বন্দর ব্যবহার করতে পারে, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। ভারতও বাংলাদেশকে নেপাল ও ভুটানে ট্রানজিট দিচ্ছে। পারস্পরিক স্বার্থ অক্ষুণ্ন এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই এটা করা হবে।" - শেখ হাসিনা, প্রেস কনফারেন্স, তারিখ: ১৪-০১-২০১০, প্রথম আলোর রাহীদ এজাজ, নয়াদিল্লি থেকে।
শেখ হাসিনা নিজেও জানেন বশ্যতা স্বীকার করে একতরফা ভাবে কেবল ভারতকে তিনি "কানেকটিভিটি" বা ট্রানজিট দিয়েছেন, যৌথ ঘোষণায় তিনি একথার উপরেই দাসখত দিয়েছেন। কিন্তু বাচ্চা পোলাপানের মত হাতপা ছুড়ে চেঁচিয়ে বেড়াচ্ছেন, "আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে"ই নাকি তা দেয়া হয়েছে। অথচ আমাদের সমাজের কেউ বিতর্ক তুলে নাই বা প্রশ্ন এটা নয় যে "আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে" ভারতকে দিলেই সব জায়েজ। বরং সবাই ঘোরতর আপত্তি করছে, যেসব বশ্যতামূলক শর্তে এবং আমাদের যেসব ন্যায্য পাওনা ভারত অন্যায় ভাবে ব্লক করে রেখেছে, বর্ডারে লোক মেরে চাপ সৃষ্টি করছে তা নিয়ে কোন সমাধান আদায় না করে পাশ কাটিয়েই ভারতকে একতরফা ট্রানজিট দেয়া হয়েছে।
তবু "ভারতও বাংলাদেশকে নেপাল ও ভুটানে ট্রানজিট দিচ্ছে" - শেখ হাসিনার এই গলাবাজি এক বড় মিথ্যা, জনগণের সাথে প্রতারণা তা নিয়ে এবারের পর্বে আলোচনা করব।
নেপাল, ভুটানকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে মংলা পোর্টে পৌছাতে হলে আগে ভারতের উপর দিয়ে আসার ট্রানজিট তাদেরকে পেতে হবে। আমাদেরও নেপাল ভুটানে পণ্য নিয়ে হাজির হতে গেলে ভারতের উপর দিয়ে আসার ট্রানজিট পেতে হবে। কিন্তু এই ট্রানজিট ভারত দেবে এমন কথা যৌথ ঘোষণাতে কোথাও পরিস্কার করে লেখা নাই। ফলে শেখ হাসিনার "আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে" ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হয়েছে - এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা; নিজের দুষ্কর্ম, বেকুবিকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত আড়াল করার এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা।
যৌথ ঘোষণার ২৩ নম্বর পয়েন্টে মংলা ও চট্টগ্রাম পোর্ট ভারতের ব্যবহার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পুরা যৌথ ঘোষণা Click This Link এখানে দেখা যাবে। এখন এখানে আমি কেবল ২৩ নম্বর পয়েন্ট বাংলায় লিখছি।
২৩. বাংলাদেশ মংলা ও চট্টগ্রাম নৌ-পোর্ট দিয়ে ভারত থেকে ও ভারতের দিকে রেলওয়ে এবং সড়ক পথে মালামাল চলাচলের জন্য অনুমতি দিবে বলে একমত হয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য মংলা ও চট্টগ্রাম পোর্টে নেপাল ও ভুটানকে প্রবেশ করতে (give access) দেওয়ার অভিপ্রায় জানিয়েছে।
এই হলো বাংলায় পুরা ২৩ নম্বর পয়েন্ট। পাঠক নিশ্চয় বুঝে গেছেন চাতুরিটা কোথায়। মংলা ও চট্টগ্রাম নৌ-পোর্ট ব্যবহারের ভারতের বেলায় পরিস্কার শব্দ allow use বা ব্যবহারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে এবং আরও সুনির্দিষ্ট করে বলা হচ্ছে এক. to and from India, দুই. through road and rail; অথচ নেপাল ভুটানের প্রসঙ্গে লেখা হচ্ছে বাংলাদেশ conveyed their intention, অর্থাৎ বাংলাদেশের অভিপ্রায় আছে এমন এক কথা ভারত শুনল মাত্র। শুনার পর ভারতের কী প্রতিক্রিয়া হলো, হ্যা বা না, বলল যৌথ ঘোষণা এক্ষেত্রে নীরব কবি, কিছু জানে না; ফলে ওথেকে আমাদেরও জানার কোন সুযোগ নাই। এমনকি বাংলাদেশের অভিপ্রায় জানার পর ভারত এটা নিয়ে ভাবছে বা ভাববে কি না তাও আমরা জানি না। ভারত ভাববে, সহানুভুতি বা প্রতিদানের কথা বিবেচনা করবে - না! এমন কিছুও নাই।
বরং উল্টা কিছু হবার সম্ভাবনার ইঙ্গিত আছে। এজন্য ২৬ ও ৩৮ নম্বর পয়েন্ট মনোযোগ দিয়ে পড়া গুরুত্ত্বপূর্ণ। ২৬ নম্বর পয়েন্ট পড়ে মনে হতে পারে নেপালকে কেবল একটা রেল ট্রানজিট যেনবা ভারতে দিতেও পারে। ভারতের কাছ থেকে এটা "would be available" হবে বটে কিন্তু তা "allow use" দিবে কিনা এটা জানা যায় না। এছাড়া আরও কিছু ভাষাগত চাতুরি স্পষ্টতই এখানে আছে, সেখানে প্রবেশ করতে ২৬ নম্বরের বাংলা অনুবাদ করে নিচ্ছি নীচে।
২৬. দুই প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ ব্রডগেজ রেলওয়ে লাইন নেপালে ট্রানজিটের জন্য (for transit to Nepal) পাওয়া যেতে পারে (would be available)। বাংলাদেশ তাদের অভিপ্রায় জানিয়েছে যে রাধিকাপুর- বিরল রেলওয়ে লাইন ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে এবং ভুটানকে রেলওয়ে ট্রানজিট লিঙ্ক দেবার জন্যও অনুরোধ করেছে।
ভাষার চাতুরির যে কথা বলছিলাম, ভারতের বেলায় স্পষ্ট করে - বাংলাদেশ allow use বা ব্যবহারের অনুমতি দিবে - একথা বলা হয়েছিল এবং একে আরও সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছিল, এক. to and from India, দুই. through road and rail - অথচ নেপালের বেলায় allow use এর মত কোন সিদ্ধান্তমূলক শব্দের বদলে would be available বলা আবছা করে রাখা হয়েছে; কেন? সেই চাতুরিটা এখানে স্পষ্ট।
এই চাতুরি আরও ভাল ধরা পরে পরের বাক্যে, Rohonpur-Singabad লাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের কথায়। ভারত জানে এই পথে নেপালে যেতে আসতে বাস্তবে ট্রানজিট পাওয়া অসম্ভব। কারণ, অবকাঠামোগত দুটো বিরাট বাধা আছে তা সহসা দূর হবে না। নীট ফলাফল: শেখ হাসিনা যে মুলা দেখাতে চান, ভারত সে মুলা দেখানোর মত কোন প্রতিশ্রুতিতে যেতেও রাজী না, তাই নেপালে ট্রানজিট বলতে এই পথে রেল ট্রানজিটের বাগড়ম্বরা করে রাখা হয়েছে।
এই গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল অথবা মুলা ঝুলিয়ে রাখার মত আঁকশির সুবিধা যৌথ ঘোষণা আবিস্কার করতে পারলো কেন?
কারণ, বাংলাদেশে রেলওয়ের উপস্হিত অবকাঠামো। বাংলাদেশের উত্তর-দক্ষিণ জুড়ে বিস্তৃত রেললাইন দক্ষিণে মংলা থেকে উত্তরে লালমনিরহাট চিলাহাটি পর্যন্ত - এর পুরাটাই ব্রডগেজ লাইন। আর পূর্ব-পশ্চিমের রেল লাইন হলো মিটারগেজের। এদুয়ের মাঝখানে হলো, পার্বতীপুর (সৈয়দপুর) যেখানে এই দুই মূল রেল লাইন পরস্পর করে ক্রস করেছে, জংশন। এখানে উত্তর-দক্ষিণের ব্রডগেজ ট্রেনের যাত্রী (ট্রেন নয়) ও পূর্ব-পশ্চিমের মিটারগেজে ট্রেনের যাত্রী (ট্রেন নয়) বদল হতে পারে; কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা যাত্রীর জংশন পয়েন্ট, ট্রেনের নয়; উত্তর-দক্ষিণের ব্রডগেজ ট্রেন, পূর্ব-পশ্চিমের মিটারগেজে লাইনে যেতে পারবে না, এবং ভাইস-ভারসা। কেবল যাত্রীর বেলায় সে ট্রেন বদল করে নিতে পারবে। এই অর্থে পার্বতীপুর ট্রেনগাড়ীর জংশন নয়, যাত্রীর জংশন পয়েন্ট।
তাহলে, মালামাল? একেবারেই অসম্ভব, শুধু তাই নয়, কাষ্টমস আইনেও মানা করতে হবে। নেপাল থেকে কোন মালামাল সীল করা ট্রেনের কামরা খুলে অন্য ট্রেনে লোড-আনলোড - কাষ্টমস আইন ও নিরাপত্তার জন্য এক সাংঘাতিক ঝুঁকিপূর্ণ, এছাড়া বাড়তি খরচের দিকটা তো আছেই - তাই এই ভাবনার কোন ভিত্তি নাই, পরিত্যাজ্য। কোন আমদানি-রপ্তানিকারক এই ঝুঁকি নিবে না। ফলে যৌথ ঘোষণায় এপ্রসঙ্গে যেখানে বলা হচ্ছে , হাসিনা "তাদের অভিপ্রায় জানিয়েছে যে রাধিকাপুর বিরল রেলওয়ে লাইন ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে" - এটা বাস্তবায়ন হলেও মংলা থেকে নেপালে ট্রেন যাতায়াতের কোন সুযোগ নাই; কারণ, যদি ধরা যায় রাধিকাপুর বিরল উপস্হিত মিটারগেজ লাইন ব্রডগেজে রূপান্তরিত করেই ফেলা গেল তবুও এর পর বিরল থেকে পার্বতীপুরে (প্রায় ৫০ কিলোমিটার) রেল লাইন তো মিটার গেজ লাইন হয়েও আছে, এর কী ব্যবস্হা? নেপালের ব্রডগেজ ট্রেন বিরল থেকে পার্বতীপুর পৌছাতে পারলে তবেই এরপর মংলা যাবার ব্রডগেজ লাইন পাবে।
তাহলে এসব ছলচাতুরির সিধা মানে হলো, যৌথ ঘোষণা অনুসারে ব্রডগেজ ট্রেন নেপাল-ভারত পেরিয়ে বাংলাদেশই ঢুকতে পারবে না, ভারতের শেষ ষ্টেশন রাধিকাপুরেই আটকে থাকবে, মংলা অনেক দূরের ব্যাপার। নীট ফলাফল, নেপাল বা বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কোন রেল ট্রানজিট সুবিধা পাচ্ছে না। তবে অবশ্যই এসব কথা যৌথ ঘোষণার কাগুজে দলিল হয়ে থাকবে মাত্র আর শেখ হাসিনাকে "আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে" ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছি - এই চাপাবাজি করতে কাজে লাগবে।
ওদিকে ভুটানের রেল ট্রানজিট প্রসঙ্গ, নেপালের মত অবস্হাতেও নাই। তাই দায়সারা করে একটা অর্থহীন বাক্য, "ভুটানকে রেলওয়ে ট্রানজিট লিঙ্ক দেবার জন্যও (বাংলাদেশ) অনুরোধ করেছে" - এটা দিয়ে শেষ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটা মাত্র অনুরোধের পর্যায়ে আছে। হাসিনার লক্ষ্য যদি হয়, "দ্বিপাক্ষিক নয়, আঞ্চলিক ভিত্তিতে ভারতকে ট্রানজিট দেয়া হচ্ছে" - এই চাপাবাজি যেন সে করতে পারে বাক্যে এর প্রতিফলন তো এমনই হবার কথা।
পাঠককে খেয়াল করতে বলব, নেপাল, ভুটানকে ট্রানজিটের মানে দাঁড় করানো হয়েছে কেবল রেলওয়ে ট্রানজিট বলে, তাও এমন পথে যেটার বাস্তবায়ন অসম্ভব, এবং তাও আবার ভারতের কাছে তা বাংলাদেশের "অনুরোধের" পর্যায়ে; কেন? কারণ, এই পথে ভারত পরিস্কার করে ভারতের উপর দিয়ে নেপাল বাংলাদেশকে রেল-ট্রানজিট দিতে যৌথ ঘোষণার কাগজে লিখে দিলেও তো বাস্তবে তাকে তা দিতে হবে না। এই হলো ট্রানজিট বলতে রেল-ট্রানজিট লেখার ভারতের সুবিধা, আর হাসিনার চাপাবাজির, জনগণের সাথে শঠতা করার সুবিধা।
পাঠক মনে হতে পারে যে রেলওয়ে ট্রানজিটের আসল মানে যে অশ্বডিম্ব তা বুঝলাম, এরপরেও হাসিনা যখন এত বড় গলায় প্রকাশ্যে বলছেন, নিশ্চয় সড়ক পথে নেপাল, ভুটানকে ট্রানজিটের কোন একটা ব্যবস্হা থাকতে পারে। চলুন, আমরা এখন তা পরীক্ষা করার জন্য যৌথ ঘোষণার ৩৮ নম্বর পয়েন্টে যাব। এখানে বাকচাতুরি অবশ্য আর একটু উন্নতমানের এবং ভারতের এক অনধিকার চর্চাও বটে। পুরা ইংরেজিটাসহ এরপর বাংলায় লিখছি।
38. It was agreed that trucks for movement from Bhutan and Nepal be allowed to enter about 200 meters into Zero Point at Banglabandh at Banglabandh-Phulbari land customs station. Necessary arrangements shall be mutually agreed and put in place by both countries.
৩৮. এটা একমত হওয়া যাচ্ছে যে, ভুটান ও নেপাল থেকে ট্রাক চলাচলে জিরো পয়েন্ট থেকে ২০০ মিটার বাংলাবান্ধায় বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী স্হল কাষ্টমস স্টেশন পর্যন্ত প্রবেশ করতে অনুমতি দেয়া হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা পারস্পরিক একমত হয়ে দুই দেশের জায়গামত বসিয়ে নেয়া হবে।
এইবার "allowed to enter বা অনুমতি" শব্দটা দেখে আমরা নড়েচড়ে বসার তাগিদ অনুভব করতে পারি। পাঠককে হতাশ করার জন্য দুঃখিত। আগেই বলেছি এখানে বাকচাতুরি উন্নতমানের, সুক্ষ কারচুপির। এর উপর পুরা ক্লজটাই লেখা হয়েছে দায়সারা গোছের ভাবে এবং সম্ভবত তা হাসিনার হাতে একটা ললিপপ ধরায় দেবার জন্য যাতে বাংলাদেশে গিয়ে মুখরক্ষায় একটা চাপাবাজি তিনি করতে পারেন।
সুক্ষ কারচুপি এক. ট্রাক:
আগের ২৩ নম্বরে ভারতের ট্রানজিটের সাথে তুলনা করলে, দেখবে ওখানে "কী ধরণের যানবাহন" চলাচল করবে তা সীমিত না করে বরং বড় সুযোগ রাখতে সাধারণভাবে movement of goods উল্লেখ করে তা বলা হয়েছিল। এখানে নেপাল ভুটানের বেলায় কেবল trucks for movement বলে একে একেবারে সীমিত ও সুনির্দিষ্ট করে আনা হয়েছে।
কারচুপি দুই. খোদ বাংলাদেশই নাই:
ভারতের বেলায় স্পষ্ট করে to and from India বলা ছিল, এখানে কেবল from Bhutan and Nepal বলা হয়েছে। অর্থাৎ কেবল ভুটান ও নেপাল থেকেই ট্রাক আসতে পারবে, বাংলাদেশ থেকেও মালামাল/ট্রাক ভুটান ও নেপালে যেতে পারবে এমন সুযোগই ওখানে রাখা হয় নাই। ভারতের বেলায় যে বাক্য গঠনরীতি আছে তা অনুসরণ করলে তা To and from Bangladesh কথাটা থাকার কথা। অর্থাৎ যৌথ ঘোষণা অনুসারে ভুটান ও নেপালই কেবল ভারতের সড়ক ট্রানজিট পাবে, বাংলাদেশ পাবে না - এমন অর্থ হয়ে আছে।
কারচুপি তিন. এখানে বাংলাদেশকে নিয়ে এক সাংঘাতিক অনধিকার চর্চা:
বলা হয়েছে ভুটান ও নেপাল থেকে ট্রাক বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট পেরিয়ে ২০০ মিটার ভিতরে কাস্টমস স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারবে।
প্রশ্ন হলো, সীমান্তের জিরো পয়েন্ট যদি পার হতেই পারে তবে এরপর তা তো বাংলাদেশের ভিতরে, এখান থেকে ভিতরে এটা কতদূর যেতে পারবে এটা কি ভারতের ঠিক করে দেওয়ার কথা, না বলবার এক্তিয়ার? ভারতের এই অনধিকার চর্চার ক্ষমতা হাসিনা ভারতকে দেবার কে? এই ক্ষমতা আমাদের সংবিধান হাসিনাকেও দেয়নি।
কিন্তু ভারতইবা এই অনধিকার চর্চার তাগিদ কেন বোধ করলো? এই প্রশ্ন ধরে যদি আগাই, ভারত সুনির্দিষ্ট করে কাষ্টম ষ্টেশন পর্যন্ত বলে অনধিকার চর্চা করতে গেছে এজন্য যে, "সারাক্ষণ সীমাপার কী আতঙ্কবাদের" মধ্যে বসবাস করে বলে, এর মধ্যে এবার আমাদের কাস্টম হাউসে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী বসাবার মতলব আছে নাকি? সেজন্যই কী Necessary arrangements পরে ঠিক করা যাবে বলে যৌথ ঘোষণায় স্পষ্ট করে কিছু বলতে চায়নি, ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছে? পরে সুবিধাজনক সময়ে আওয়াজ উঠাবে? এর উপর আবার এক মারাত্মক শব্দ লাগিয়ে রেখেছে "mutually agreed"; এর মানে বাংলাদেশ কী শর্তে ভুটানী নেপালী ট্রাক চলাচল করতে দিবে এটাও কী ভারতের মতামত নিয়ে ঠিক করতে নিতে হবে?
অনেক পাঠকের মনে হতে পারে, ভারতের ভিতর দিয়ে একটা ট্রাক বাংলাদেশের উপর দিয়ে চলাচল করবে ফলে ভারতের নিরাপত্তা তো সে নিশ্চিত করতে চাইবেই - এটাই স্বাভাবিক। দুঃখিত। না, এটা স্বাভাবিক নয়। কারণ আসা বা যাওয়ার সময় ভারতের ভুখন্ডে প্রবেশ করা মাত্রই যেকোন ট্রাকের উপরে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত যা মনে চায় তাই নিয়মকানুন আরোপ সে করতেই পারে, সেসুযোগ তার থাকছেই - সেই কাজ বাংলাদেশের সীমানার ভিতরে বসে করার চেষ্টা তাকে করতে হবে কেন? আর আমরাই বা তা করতে দিব কেন?
আমাদের ভুখন্ডের মধ্যে আমরা কি করে ট্রাক চলাচলে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব - এটা একান্তই আমাদের ব্যাপার।
সড়ক ট্রানজিটের ক্ষেত্রেও এসব অস্পষ্টতা, কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা, পরে দেখা যাবে বলে ফেলে রাখা, এবং পরবর্তীতে মিউচুয়ালী একমত হওয়া যাবে বলে vague করে রাখাটার - নীট মানে হলো, পরবর্তীতে সড়ক ট্রানজিট বাস্তবায়নের সময়, ঐ "পারস্পরিক একমত" কখনই হওয়া যাবে না - নীট ফলাফল: সড়ক ট্রানজিটও রেল ট্রানজিটের মত কাগজেই থেকে যাবে।
যৌথ ঘোষণার এখনকার মানে অনুসারে, কথা দাড়িয়েছে, Necessary arrangements বিষয়ে কিছুই ভারত এখনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ভবিষ্যতে "mutually agreed" হওয়া সাপেক্ষে সড়ক ট্রানজিট দিচ্ছে এটাই এর নীট মানে। অর্থাৎ এটাকে নীতিগত একমতও বলা যাচ্ছে না। কারণ, ভাইটাল বিষয় ঐ "mutually agreed" কখনই না হতে পারার সম্ভবনা ওখানে রেখে দেয়া হয়েছে।
উপরে সেসব বাকচাতুরি আর কারচুপি শঠতার বিষয় দেখালাম - এখান থেকে সেই আশঙ্কা করি, ফলে রেল ট্রানজিটের মত সড়ক ট্রানজিটও একটা মুলা মাত্র। অতএব, সার কথায়, এখন পর্যন্ত সড়ক ট্রানজিট নিয়ে নীতিগতভাবেও কোনকিছুই কনক্লুডেড নয় - এটাই আমরা বলতে পারি। এর উপর আবার ট্রানজিটের এই আবছা ইঙ্গিতে নেপাল ভুটানের জন্য যা হয়ত আছে, হয়ত নাই - তবে বাংলাদেশ জন্য এটা একেবারেই নাই।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ ঠিক একই প্রশ্ন তুলেছেন, বলছেন:
"নেপাল ও ভুটানকে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ট্রানজিট দিতে ভারতের সম্মতিকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশও একইভাবে ভারত হয়ে নেপাল বা ভুটানে যেতে পারবে কি না, তার কোনো উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য লাভজনক নাও হতে পারে বলে মনে করছেন মনজুর আহমেদ। আবার নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী যান সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ২০০ মিটার পর্যন্ত প্রবেশ করতে দিতে ভারতের সম্মতিকে এই সুবিধার কার্যকারিতা সীমিত করে ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মনজুর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতরে কোন স্থান পর্যন্ত নেপাল-ভুটানের গাড়ি যাবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার এককভাবে বাংলাদেশের। এখানে ভারত কোনো সীমা টেনে দিতে পারে না। আমাদের পক্ষে যাঁরা এ বিষয়ে সমঝোতা করেছেন, তাঁরা এ ক্ষেত্রে দক্ষতা দেখাতে পারেননি।’ - প্রথম আলো, নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৪-০১-২০১০
ভেবেছিলাম, এই পর্যন্ত লিখেই joint communique বা যৌথ ঘোষণায় হাসিনার দুষ্কর্মের বয়ান শেষ করব। অনেকেই ভারতের এই আগ্রাসন ও চাপের মুখে আমাদের অনেকে, "আমরা কি আর ভারতের সঙ্গে লড়াইয়ে পারবে" - এটা আগেই ধরে নিয়ে হারু হতাশ মনে ট্রানজিট থেকে অর্থনৈতিক কী লাভালাভ বের করা যায় তা দেখানোর দিকে আমাদের সবাইকে মনোযোগী করতে চায়। নিজেও আগ বাড়িয়ে সে লাভালাভের হিসাব করতে আগিয়ে যায়। হীনমন্নতায় ভরা এই ধরণের মনকে চাবুক মেরে জাগানোর জন্য আর এক পর্ব আমাকে লিখতেই হবে। যৌথ ঘোষণার ৩৩ নম্বর পয়েন্ট নিয়ে সে প্রসঙ্গে কি সুক্ষ কারচুপি করে রাখা হয়েছে তা নিয়ে পরের চতুর্থ পর্ব শুরু করবো।
আজ এখানেই সবার জন্য শুভ কামনা করে শেষ করছি।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৮
পি মুন্সী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এস এইচ খান। আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে যা বুঝাতে চাই তা পৌছাতে পেরেছি। আমরা একটা স্বাধীন দেশ, আলাদা রাষ্ট্র, ওর আলাদা স্বার্থ বলতে কী বুঝায় - এটাই মূল বুঝবার বিষয়। "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা" - একথার মানে বাস্তব মাটিতে টেনে নামিয়ে এনে, ট্রানশ্লেট করে না নিতে পারলে এই অক্ষমতায়, "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা" - এর মানে হয়ে যাবে টেন্ডারবাজিতে নিজের ভাগ লুটে নেবার তাগিদে জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা বলে একটা লাইসেন্স যোগাড় করা। একই কথা খাটবে খালেদার বেলায়। গত তিন বছরের রাজনীতি দেখে কোন শিক্ষা তিনি নিয়েছেন কিনা আমরা আগামিতে দেখব। তবে, জনগণ কারও জন্য বসে থাকতে পারে না। তাঁকে আগিয়ে যেতেই হবে।
ভাল থাকবেন।
২|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮
মইনুল িমঠু বলেছেন: এরা কারচুপি ছাড়া আর কি করবে??????????
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১২
পি মুন্সী বলেছেন: যে আজ যা কিছু করে এর প্রতিফল সুদে আসলে তার উপরে ফিরে আসে। মাঝখানে একটা সময়ের ব্যাপার থাকে।
৩|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৮
জিপিএস বলেছেন: গুড় এনালাইসি। ভেরি কিন এন্ড আরগুমেন্টেটিভ।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৯
পি মুন্সী বলেছেন: ধন্যবাদ জিপিএস। সময় এখন আরগুমেন্ট কাজে লাগানোর।
৪|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১২
মুসতাইন জহির বলেছেন: কথা হলো, সাউথব্লকের করা একটা কাগজে যদি কেউ বিনা বাক্য ব্যায়ে চোখ বুজে সই করে আসে, আর কবিতা আবৃত্তি করতে থাকে আপিন কিরবেন? গ্রামে একটা কথা আছে, লোকে এই রকম পরিস্থিতি বুঝাতে বলে, ''কারে দিলাম রাজার পাট''। সেই অবস্থা আর কি।
যাই হোক, অন্য দিক থেকেও একটা সমস্যা আছে যা আমাদের আলোচনায় আসা উচিত। এই যে ''সাউথব্লক'' একটা প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্লেষণ, নেগোশিয়েশন ও সমঝোতায় উদ্দেশ্য কিভাবে বলে আদায় করতে হবে এবং কি কি গ্যারান্টি ক্লজ রাখতে হবে তার নিবিড় চর্চা করে, সেই প্রমাণ তো আমরা পেলাম। ভারত রাষ্ট্র হিসেবে তার প্রয়োজনীয় পলিসি সাপোর্টটা পাচ্ছে। সেটা রাষ্ট্রের ভাবনার ভিতর থেকে আসছে। বিজেপি বা কংগ্রেসী চিন্তার দ্বারা সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটছেনা।
এই দিকটা দুটো কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এক. বাংলাদেশের একদল আছে যারা পুরা বিষয়টাকেই কংগ্রেস-আওয়ামী, সেক্যুলার (মাতৃ-কন্য) বিদেশ নীতির বিশেষ ঘটনা বানিয়ে ফেলছেন। যেন এটা দুইটা পার্টির ইচ্ছার মারফতে সবটা ঠিক হয়েছে বা হওয়া সম্ভব। দুই. বিপদজ্জনকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এই প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজ, চর্চা ও স্বক্ষমতা নাই। ধরুন কথার কথা, কালকে যদি কেউ ফিরতি সফরে একটা সমঝোতা বা সামগ্রিক স্বার্থের লেনদেন সম্পন্ন করতে চায়, তাহলে তার বা তাদের পক্ষে এই ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেবার সুয়োগটা কিন্তু নাই। সেটাও মস্তোবড় একটা বিপত্তির কারণ।
তবে তার মানে এই নয় যে, সাধারণ বোধবুদ্ধি বিবর্জিত হয়ে গোলামের মতো দাসখত দিয়ে চলে আসার জায়গায় আমরা উপনিত হয়ে গেছি।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫১
পি মুন্সী বলেছেন: ভাল পয়েন্ট তুলেছেন।
একটা রাষ্ট্র চালানোর জন্য যে বহুবিধ পেশাদারিত্ত্ব লাগে সে ধরণের পেশাদার রাজকর্মচারি গড়ে তোলার জন্য মনোনিবেশ, ট্রেনিং - একদল দক্ষ বুরোক্রাটের প্রয়োজনীয়তা সমাজ অনুভব করে করে কি না সে পরিপক্কতাও সমাজে, রাজনীতিতে নাই। একদিকে বুরোক্রাট মানে এক নেতিবাচক ধারণা আবার অন্যদিকে বুরোক্রাট মানে ঘুষখোর, দলবাজ - এর বাইরে কোন চিত্র আমাদের মাথায় এখনও জায়গা করতে পারেনি। গুরুত্ত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চুক্তি দলিল ড্রাফটের ক্ষেত্রে কুটনীতিকদের পেশাদারিত্ত্ব ও দক্ষতা - এই প্রাতিষ্ঠানিকতার যে কত প্রয়োজন তা আমরা এখনও বুঝতে শিখেছি বলে মনে হয় না।
কোন রাজনৈতিক দল এসে কাকে কোন পদে বসালো - এই নিয়ে কামড়াকামড়ির যুগেই আমরা পড়ে আছি - যেটা আসল দরকার, পেশাদারিত্ত্ব, সেটা এর নীচে চাপা পড়ে গেছে।
আমি বিশ্বাস করি না এমন মেধা আমাদের নাই। প্রয়োজন সংকীর্ণ দলবাজিতে না দেখে এই প্রয়োজনটা উপলব্দি করা, বিশেষত ভারতের দক্ষ পেশাদারদের মোকাবিলা করার ক্ষমতার দিক থেকে। জানি না এই বোধ আমাদের কবে জাগবে, কবে আমরা শাসকের শাসনকাজে পরিপক্ক হব।
৫|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১৮
ফিনিক্সম্যান বলেছেন: ফেসবুকে এই লেখাটার লিঙ্ক রিফাত হাসান শেয়ার করেছেন। তার লিঙ্ক থেকেই এলাম। এরকম চুলচেরা এনালাইসিস আশা করছিলাম একটা। পরের পর্বের অপেক্ষায়।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৮
পি মুন্সী বলেছেন: ধন্যবাদ ফিনিক্সম্যান, যেভাবেই হোক আপনি এসেছেন এখানে। আমি জানি না রিফাত হাসান এটা করেছেন, আপনার সূত্রে জানলাম। যাই হোক তা ভালই করেছে দেখা যাচ্ছে। ভাল থাকবেন।
৬|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৭
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
নিজের যদি সৎ ইচ্ছা থাকে তবে বোধবুদ্ধির অনুশীলন ঘটে।
তার কোন প্রতিফলন হাসিনার এই সফরে আমরা দেখি নাই।
হাসিনা সাংবাদিকদের মহাভারতের ভিলেনের ভঙ্গি অনুকরণ করে বলেছেন, আমি জয়ী হয়েছি। এতে বুঝা যায় তার চিন্তার দৌড় কতটুকু।
অসংখ্য ধন্যবাদ।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০২
পি মুন্সী বলেছেন: তাই নাকি, আপনার বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে মজার কিছু ছিল সেটা, আমার টিভি দেখা হয় নাই, বঞ্চিত বোধ করছি।
৭|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৮
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগ দলটা আমার পছন্দের নয়। তবে এটা বুঝি যে, অজুহাত পেলে আওয়ামীদের বিরুদ্ধ পক্ষ সমালোনার ঝড় তুলতে কার্পণ্য করবেনা। বরং সমালোচনা করতে পেরে মনটা তাদের বেশ চনমন করে ওঠে, "ঐ যে বলেছিলামনা, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশ রসাতলে যাবে, এবার গেল তো?"
ভারতের মত অর্থনৈতিক দৈত্যকে ট্রানজিট দিলে তারা টু পাইস কামাতে পারবে, ঠিক কথা। কিন্তু এটা বাংলাদেশের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খাওয়ার মত বিষয় কিনা সেটা বুঝতে চাই। কে কাকে ট্রানজিট দিয়ে কতটুকু লাভ করলে, সেটার চেয়ে বরং আমাদের দেশ কী কী ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে তার একটা সম্ভাব্য খতিয়ান দিলে বুঝতে সুবিধা হত। আমাদের ট্রানজিট দিয়ে ভারত যদি ১০ লাখ ডলারের ব্যবসা করে এবং তাতে করে বাংলাদেশের পকেটে সার্ভিস চার্জ বাবদ ৫০ হাজার ডলার পড়ে তো ক্ষতি তো দেখছিনা। নাকি, ভারত আমাদের উপর দিয়ে ব্যবসা করে লাভ করুক এটা আমরা সহ্যই করতে পারবনা?-বাংলাদেশের ক্ষতি হোক বা না হোক।
দেশের ভিতরের মানুষ দুর্নীতি-কালোবাজারী করে মাতৃভূমির যে সর্বনাশ করছে সেদিকে না তাকিয়ে ভারতকে কোন ব্যবসা-সুবিধা করতে দেয়া হবেনা, বা করতে দিলে তা দেশের স্বাধীনতা-অর্থনীতি-সার্বভৌমত্বের জন্য হানিকর হবে এগুলো ভাবার মত জোরালো ভিত্তি লাগে। তিন দিক ভারত বেষ্টিত হয়ে, টিপাইমুখ, গঙ্গার পানির নায্য হিস্যার কোন ব্যবস্থা না করতে পেরে, দেশ হিসেবে আমাদের কোণ ঠাসা অবস্থাটা আচ করা যায়। আমরা ট্রানজিট দিতে না চাইলেও ভারত তা আদায় করে নিতে পারবে যে কোন ছলে, বলে কৌশলে। দাদাদের ভদ্রভাবে ট্রানজিট দিলে উনারা দয়াপরবশ হয়ে যদি পাল্টা কোন সুবিধা দেন বাংলাদেশ কে! জান গেলেও ট্রানজিট দিবনা বললে, সেই অনধিকার লুটে নিতে ভারতের কৌশলের অভাব হবেনা। দেশে ভারতীয় চ্যানেল- সংস্কৃতিতে সয়লাব হয়ে গেল, অথচ একটা ভৌতিক কারণে বাংলাদেশ চ্যানেল গুলোর প্রবেশাধিকার নেই ভারতে। তখনও কিন্তু কেউ জোশের বশে ডিশের সংযোগ বন্ধ করছেনা, লেখা লেখি, আন্দোলন প্রতিবাদও নেই।
জাতীয়তাবাদী-ইসলাম পন্থী বুদ্ধিজীবীদের এত পরিশ্রম করে কলম ধরার উদ্দেশ্যটা মনে হয়ে হাসিনা এবং তার আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো জনমত গড়ে তোলা। তবে দেশের মানুষ এখন তুলনামূলকভাবে শান্তি-স্বস্তিতে খেয়ে পরে আছে জেনেই আমি সুখি- কোন দল ক্ষমতায় আছে সেটি আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৯
পি মুন্সী বলেছেন: এই ইস্যুটা দেশের, রাষ্ট্রের স্বার্থের। আপনি যদি নাগরিকবোধের জায়গায় দাড়িয়ে দেখেন তবে এটা বুঝতে পারবেন। এ দলবাজির জায়গা থেকে দেখা হবে আত্মঘাতী। ঘটনাচক্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা দলের নেত্রীও বটে। এর মানে একজন আওয়ামী লীগ কর্মীর জন্য এটা ভাবা বাধ্যতামূলক নয় যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যা করেন ভালর জন্য করেন। আমার মনে হয় তা ঠিক না, এই বিচারবোধটাকে আমরা দলবাজি বলতে পারি। কারণ যে দলই করেন, মনকে, স্বাধীন চিন্তাকে কোথাও বেঁধে রাখার দরকার কী? এটা নিজেকে ভিতরে ভিতরে মেরে ফেলাও বটে।
আপনার ভিতরে এধরণের একটা দোলাচাল আছে দেখে আমি সত্যিসত্যিই উদ্বিগ্ন। ওটাকে শান্ত করেন, স্হিরভাবে কোথায় বসতে দেন আগে।
ভারতের সম্পর্কে আপনার যে খারাপ বোধের কথা জানিয়েছেন, এতটা আমিও লিখতে পারিনি। আপনি লিখেছেন:
"তিন দিক ভারত বেষ্টিত হয়ে, টিপাইমুখ, গঙ্গার পানির নায্য হিস্যার কোন ব্যবস্থা না করতে পেরে, দেশ হিসেবে আমাদের কোণ ঠাসা অবস্থাটা আচ করা যায়। আমরা ট্রানজিট দিতে না চাইলেও ভারত তা আদায় করে নিতে পারবে যে কোন ছলে, বলে কৌশলে। দাদাদের ভদ্রভাবে ট্রানজিট দিলে উনারা দয়াপরবশ হয়ে যদি পাল্টা কোন সুবিধা দেন বাংলাদেশ কে! জান গেলেও ট্রানজিট দিবনা বললে, সেই অনধিকার লুটে নিতে ভারতের কৌশলের অভাব হবেনা" -
কিন্তু এরপরেও আপনাকে লিখতে হচ্ছে,
"আমাদের ট্রানজিট দিয়ে ভারত যদি ১০ লাখ ডলারের ব্যবসা করে এবং তাতে করে বাংলাদেশের পকেটে সার্ভিস চার্জ বাবদ ৫০ হাজার ডলার পড়ে তো ক্ষতি তো দেখছিনা"। এটা পড়ে আমি আপনার জন্য কষ্ট পেয়েছি, উপরে ভারতের উপর ঘৃণা ক্ষোভ জানানোর পরেও কেউ যখন একথা লিখতে বাধ্য হয় - ওর মনের কষ্ট আমি অনুভব করি।
আপনি আসলে একটা হীনমন্নতায় ভুগছেন। আপনি জানেন এভাবে ট্রানজিট দেয়া উচিত না, কিন্তু আপনি আগেই ধরে নিয়েছেন -"ছলে, বলে কৌশলে" - ভারত এটা নিয়ে চলে যাবেই। নিজেকে শক্তিহীন ভেবে বসে আছেন দেখেই এই হীনমন্নতা আপনাকে খেয়ে ফেলতে আসছে। তাই মনকে শান্ত্বনা দিতে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে আপনি লাভ খুজে ফিরছেন।
বাংলাদেশের জনগণ বাধা দিতে চাইলে, সম্মীলিত শক্তিতে গড়ে বাধা দিতে চাইলে ভারত "ছলে, বলে কৌশলে" - ট্রানজিট নিতে পারবে না। পৃথিবীর কোন শক্তি নাই এটা পারে। কাজেই জনগণ না চাইলেও ভারত ট্রানজিট নিতে পারবে এটা ভাবার কোন ভিত্তি নাই। হাসিনাকে ফাঁদে ফেলে একটা কাগজে দাসখতে ট্রানজিট লিখে নেওয়া আর বাস্তবে ট্রানজিট পাওয়া - এদুয়ের মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক আছে। এমনকি এটা বল প্রয়োগ করে নিয়ে যাবার তো কোন বিষয়ই নয়।
আপনি চাইতে প্রস্তুত কিনা, জনগণকে চাইতে প্রস্তুত করবেন কি না - এর উপরই নির্ভর করছে ভারত ট্রানজিট হাসিল করতে পারবে কি না।
ট্রানজিট দেশের স্বাধীনতা-অর্থনীতি-সার্বভৌমত্বের জন্য হানিকর হবে কি না এটা বুঝবা ভাবার মত জোরালো ভিত্তি তখন আপনি নিজেই পেয়ে যাবেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করে জানার দরকার অনুভব করবেন না।
আপনার সুখ শান্তি, স্বস্তি কামনা করি। ভাল থাকবেন।
৮|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৪
স্বাধীন শোয়েব বলেছেন: It's a treaty related to India, bangladesh, Nepal, Vutan. But the treaty has been signed by only Bangladesh and India.... Why???????????
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০২
পি মুন্সী বলেছেন: আপনার কথাগুলো ফ্যাক্টস হিসাবে ঠিক না। চরিত্রের দিক থেকে এটা একটা joint communique বা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে। joint communique মানেই এর খাতক প্রেস ও প্রেসের মাধ্যমে যে কেউ।
দুটো রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান (কার্যত শীর্ষ ব্যক্তি) তাদের মধ্যে দেখা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা হবার পর কথাবার্তার বিষয় ও পরস্পর পরস্পরের মনোভাব কি বুঝলেন - এর একমতের বিষয়গুলো একটা কাগজে লিখে যৌথভাবে স্বাক্ষর করে থাকেন। এটা MOU বা মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারষ্ট্যান্ডিং ফর্মেও লেখা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সবার জন্য উন্মুক্ত বা প্রেসের মাধ্যমে জানানোর প্রয়োজন তাগিদ অনুভব থাকলে তা joint communique নামে প্রকাশ করা হয়। এটা ঠিক চুক্তি (treaty) নয় তবে অন্য যে কোন চুক্তি বা পরবর্তীতে যে কোন আলোচনার এটা গুরুত্ত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্ট, গাইড লাইন। রাষ্ট্র প্রধানদের ভাবনার ঐক্যমত্যের দলিল চুক্তির চেয়েও গুরুত্ত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণভাবে যে কোন দুই রাষ্ট্রের কথা মাথায় রেখে একথাগুলো বললাম।
তার মানে মূল কথা হলো, এটা দ্বিপাক্ষিক ভাবনার দলিল। তবে ওর বিষয়ের একটা বড় অংশ ভারতের ট্রানজিট এবং বাংলাদেশ নেপাল ভুটানে ভারতের উপর দিয়ে ট্রানজিটের বিষয় অন্তর্ভুক্ত (করতে পেরেছে কি না সে আলাদা প্রসঙ্গ) করতে চায় বলে - নেপাল ভুটানের কথা প্রসঙ্গক্রমে ওখানে এসেছে। সরাসরি নেপাল বা ভুটান ওর পার্টি নয়।
এখন এই সফরে, MOU ফর্মে না করে joint communique ফর্মে তা হাজির হলো কেন?
ভারতের দিক থেকে মুলত দুটো প্রয়োজন এখানে কাজ করেছে। হাসিনাকে দিয়ে কি কি বিষয়ে রাজী করায় ফেলতে পারলো তা কোথাও টুকে রাখা আবার এগুলো তারা প্রকাশ করাও দরকার অনুভব করেছে তাই। কারণ, এই বিষয়গুলো প্রকাশে চেয়ে গোপন রেখে দিলে সন্দেহ ও অন্যান্য ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি হত। এছাড়া প্রকাশের পর এতে প্রতিক্রিয়া কী হয় তা বুঝা জানা পরবর্তী করণীয় কৌশল নির্ধারণের জন্য খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ উপাদান।
যেসব বিষয় গোপনে ও কম প্রচারে রাখা দরকার সেগুলো তো আড়ালেই হয়েছে। এই সফরে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সে তিনটা চুক্তি হয়েছে তা প্রকাশ্যে কেবল বলা হয়েছে যে এরকম চুক্তি হয়েছে, কিন্তু দলিল পাবলিকলি উন্মোচিত করা হয়নি। এছাড়া সামরিক তথ্য বিনিময়ের নামে যে গোপন অপর একটা চুক্তির গুঞ্জন উঠেছে তা প্রকাশ্যে কেউ স্বীকার করেনি, দলিল প্রকাশ তো আরও পরের বিষয়।
৯|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৫
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: ভাল বিশ্লেষণ কিন্তু শিরোনামটা জুতসই নয়।
কূটনীতিক ভাষায় যাকে বলে একেবারে পর্যুদস্ত করে ফেলা। কেন জানি মনে হচ্ছে এটা ইনডিয়া হাসিনার মনোভাব বুঝার জন্য, কতটা সে দেনদরবার করবে তা পরখ করতে ড্রাফ আকারেই হয়তো সামনে দিয়েছিল। কিছু কাটছাট করে, পরিবর্তন মারিমার্জন হয়ে তার পরেই যে ফাইনাল হবে সে রকম একটা ধারণা আগাম মাথায় রেখেই নিশ্চয় তৈরি করা।
কিন্তু হাসিনার পড়লেই কি আর না পড়লেই কি। একটি রাষ্ট্রের সাথে অপর একটি রাষ্ট্রের চুক্তি ঘোষণা, স্মারক ইত্যাদির দাড়ি, কমা সেমিকোলনও যে কতগুরুত্বপূর্ণ সেটা অভ্যাস ও আন্দাজ করার জায়গায় এই মানসকন্যা নাই। তিনি ১/১১ পর এত মামলা মোকদ্দমা, সমুদ্র-নদী পারাপার কইরা, জানে বাইচা, পার্টি প্রধান থাইকা আবার প্রধানমন্ত্রী হইছেন সেই প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ঋণগ্রস্থ কৃতজ্ঞতায় যদি নুয়ে না পড়বেন তো তার বাকি জিন্দেগির কি আর কোনো ভরসা থাকতে পারে? মহিলা বেশ ক্যালকুলেটিভ!
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩২
পি মুন্সী বলেছেন: পরপর তিনদিন ধরে এই জটিল বিষয়ে লিখতে লিখতে শিরোনাম নিয়ে ভাবতে বেশি সময় দিতে পারি নাই, স্বীকার করছি।
পরের অংশ প্রসঙ্গে, এটা ভাবা ভুল যে ঐ ঘোষণা সফর চলা কালে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে কোন যৌথ ঘোষণা, বা কোন চুক্তিপত্র তৈরির রেওয়াজও নয়, করা সম্ভবও নয়। এই ঘোষণা নিয়ে কমপক্ষে দুমাস আগে থাকতে খসড়া চালাচালি হয়েছে। এর সবচেয়ে ভাল প্রমাণ গেল দুমাসে আমাদের দৈনিকগুলো দেখুন; রিপোর্টাররা মন্ত্রনালয়ের কর্তাব্যক্তিদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক পাতিয়ে আলোচনার ইস্যুগুলো সম্পর্কে জেনে তারা রিপোর্ট তৈরি করেছিল। এখন ইস্যুগুলো কী আলাদা আলাদা চুক্তি আকারে সই হবে তা ঐ কর্তাদেরও জানা ছিল না, ফলে রিপোর্টারদের। তাই রিপোর্টে ওরা আন্দাজ করে চুক্তি ধরণের ধারণাই দিয়েছিল - এটাই কেবল মিলে নাই। তবে ধারণা দেয়া সেই প্রত্যেকটা ইস্যুই তো আমরা বাস্তবে যৌথ ঘোষণায় দেখছি।
তবে আগামীতে এই যৌথ ঘোষণার আলোকে, স্পিরিটে চুক্তি হওয়ার সময়, এসময়ের মধ্যে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়া জেনে যতটা জায়গা করে ক্ষোভ বাচানো, মুখরক্ষা সম্ভব সে সুযোগ নিশ্চয় তারা নিবে।
মহিলা হয়ত ক্যালকুলেটিভ, পিনাক যেরকম হাসিনা বাদ দিয়ে র্যটের আ লীগ খাড়া করার হুঙ্কার দিয়ে ফেলে আগিয়ে যাচ্ছিল সেখান থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারার অর্থে ক্যলকুলেটিভ, কিন্তু এতে রাষ্ট্রস্বার্থের দিক থেকে ওটা হাসিনার না র্যাটের লীগ তাতে জনগনের ভাগে কোন রকমফের নাই, একই পরিণতি।
১০|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৭
অলস বালক বলেছেন: কি ভয়ংকর!
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫০
পি মুন্সী বলেছেন: ভয়ঙ্করই বটে। তাই আর অলস বালক হয়ে থাকার সুযোগ নাই।
১১|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২০
আতিকুল হক বলেছেন: ভারতের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপি বা আওয়ামী লীগ দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য আছে বলে মনে করি না। তবে রাজনীতিবীদরা নয়, বরং দেশের মানুষের দিকে তাকালেই আমি চরম হতাশা অনুভব করি। ঘুষখোর এই নেতারা দেশের ক্ষতি করতে চাইবেই কিন্তু জনগনের যদি ন্যূণতম বোধটুকু না থাকে, দেশের স্বার্থে কথা বলার ইচ্ছেই না থাকে সেই দেশের টিকে থাকার অধিকারই থাকে না। আমাদের স্বাধীন থাকার কোন যোগ্যতাই নাই।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪২
পি মুন্সী বলেছেন: আপনার কথা কমবেশি ঠিক, আমি একমত। কিন্তু কী করবেন, নিজের দেশ ছেড়ে তো আমাদের কোথাও যাবার জায়গা নাই, থাকলেও আমরা যেতে পারি না।
কাজেই অনুভব উপলব্দির ফলাফলজাত সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভাবেই আমাদের টানতে হবে। রাগ ক্ষোভ আমাদের আছে তবু। নতুন ভাবনা, রাজনীতি, নৈতিকতা খাড়া করার জন্য কাজ করে যেতে হবে। একটা নতুন সংকল্প লাগবে।
১২|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৬
সাজিদ বলেছেন: ধন্যবাদ খুব ভালো একটি লেখার জন্য। কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে লিখতে বসলে মেজাজ নিয়ন্ত্রন করতে পারবো না মনে হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতির সাথে এত বড় প্রতারনা আর কোন সরকারই করে নাই।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪৮
পি মুন্সী বলেছেন: ধন্যবাদ সাজিদ লেখা পড়ার জন্য।
কর্তব্য করণ সংকল্প লাগবে।
১৩|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪১
লুৎফুল কাদের বলেছেন: খুব ভালো বিশ্লেষণ, ধন্যবাদ আপনাকে. পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম.
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৫
পি মুন্সী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের।
১৪|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৪
ত্রিভুজ বলেছেন: এই লেখাগুলো পত্রিকায় পাঠাতে পারেন...
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৬
পি মুন্সী বলেছেন: হয়ত পারি, কিন্তু ওদের কাটাছেড়া ভাল লাগে না। দেখি কী করা যায়।
১৫|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২২
চাষী বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর যুক্তিযুক্ত লেখার জন্য। জাতির জানা দরকার। তাই প্লিজ পেপারে পাঠান।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৮
পি মুন্সী বলেছেন: দেখা যাক। ধন্যবাদ চাষী।
১৬|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:০২
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
অধিকার আদায়ের ইস্যু গুলোতে ভারতের একতরফা লুটতরাজ দেখে কোন ভাবেই আশার কোন আলো দেখতে পাইনা। এই যে টিপাইমুখ নিয়ে এত রক্তক্ষয়, লং মার্চ- প্রতিবাদের ভাষা অবশ্যই সাধুবাদ পাবার যোগ্য, অন্তত আমরা কাপুরুষ জাতি নই সেটি বুঝিয়ে দিলাম। কিন্তু জলে-স্থলে ঘিরে রাখা দৈত্যের স্বার্থের বিরুদ্ধে লড়াই করে কিছুই আনতে পারিনি, কূটনৈতিক টানা পোড়েন তৈরি করা ছাড়া। দেশটাকেই এমনভাবে শ্বাসরোধ করে রাখা হয়েছে যে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চাইবে তারও উপায় নেই। দেশের চাল ডাল পেয়াজ চিনি থেকে শুরু করে কুরবানির গরুটাও যেভাবে ভারতের সরবরাহের উপর দাড়িয়ে, সেখানে ভারতীয় স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপে বড় সড় ধরনের এমবার্গো ঘোষণা দেয়া হলে দেশের জন্য খুব একটা সুখকর হবেনা।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৯
পি মুন্সী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শেরিফ ফিরে আসার জন্য, আমার ভাল লেগেছে।
হাসিনাকে বেকায়দায় ফেলে ভারত একাজ করিয়ে নিয়েছে। কিন্তু জনগণের প্রতিরোধের সামনে কোন "দৈত্যে", কোন সামরিক শক্তি আমাদের কিছুই করতে পারবে না। এছাড়া ভারতের শাসক নয়, ভারতের সচেতন জনগণের সাথেও চিন্তার ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
প্রথম কাজ কোন দলীয় ভাবনায় যেন আমাদের ভিতর বিভেদ না আসে এমন বিষয়ে সতর্ক থেকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
১৭|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৪
জ্বীন বলেছেন: আপাতত প্লাস , পরে মন্তব্য করবো ।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৪
পি মুন্সী বলেছেন: ধন্যবাদ জ্বীন।
১৮|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০০
জ্বীন বলেছেন: আমরা আসলেই কি জানি বা বুঝেছি এই চুক্তির ফল কি ?
আপনার লেখায় অনেক কিছু পরিষ্কার হলো ।
আমার প্রধানমন্ত্রী এটা কি করলেন ?
ভারতীয়দের দেশপ্রেম আছে । ওরা দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি করে না ।আমাদের নেতা/নেত্রীরা নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত ।
প্রধানমন্ত্রীর সফর আসলেই ছিল:
অনুপ চেটিয়াদের ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা
ভারতকে চট্টগ্রাম / মংলা বন্দর ব্যহারের অনুমতি দেওয়া ।
ট্রানজিট দেয়া ।
০১। চুক্তি অনুযায়ী ভারত ৩য় দেশে রপ্তানি/ আমদানি করতে পারবে । নেপাল /ভুটান তা পারবে না কেন ? এটার মানে কি ?
০২। আমার প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তির আগে /সাথে এটা শর্ত করলো না কেন ,
যেমনঃ ----- টিপাইমুখে কোন বাধ দেয়া হবে না ।
------- ভারত , বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে ঝামেলা করবে না
----- ভারত, সীমান্তে বাংলাদেশীদের গুলি ক রে মারবে না ।
----- ভারতের ৭ সিস্টারে যা লাগবে তা বাংলাদেশ দেবে (রপ্তানি করবে) ।
-- ফারাক্কার বাধ থাকবে না ।
ভারতের ৭ সিস্টারে বাংলাদেশের পন্য গেলে আমার প্রধানমন্ত্রীর সমস্যা কি ?
তাহলে বানিজ্য ব্যবধান কমতো । তাই না ?
এই বিশ্বাস ঘাতকের হাত থেকে কিভাবে বাচা যায় ।
আমি অবশ্য বিএনপি কে নিয়েও আশাবাদি না ।
ভারত হচ্ছে ইউ,এস ,এ-এর রিজিউনাল পার্টনার ।
আর ইউ,এস ,এ-কে চালায় ইসরাইল ।চাইলেউ কোনোদিন চুক্তি বাতিল হবে না ।
।আমাদের নেতা/নেত্রীরা অবশ্য কোনদিন সে চেষ্টা করবে না ।
অর্থ, ক্ষমতা , দালালির জন্য পারবে না ।
ভরসা আমাদের বিপুল জনসংখ্যা ।
ওরা পারবে না ।
কেউ আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করতে পারবে না ।
জানি ভারত>ইউ,এস ,এ>ইসরাইল - এসব বিষয় মাথায় রেখেই প্লান করেছ । তারপরও পারবে না ।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৩
পি মুন্সী বলেছেন: ক্ষমতা তৈরি হওয়ার সময়ই ঠিক হয়ে যায় এরপর আপনি কী করতে পারবেন বা করবেন, আর কী করতে পারবেন না, করবেন না।
এটা ভুলা ঠিক হবে না যে, ১/১১ প্রণেতার মধ্যে ভারত চার খুটির একটা, যার উপর দাঁড়িয়ে ১/১১ প্রণয়ন করা হয়েছিল। আমাদের রাজনৈতিকদের দূর্বলতার জায়গা দূর্নীতি, ওরা দূর্নীতি করে - এই দূর্বল জায়গায় চেপে ধরে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক দল, নেতা শূণ্য করা ছিল ১/১১ এর মূল পরিকল্পনা। ভাবা হয়েছিল এরা দূর্নীতি করে বলে এদের গায়ে কালি মাখিয়ে সহজেই জনগণ থেকে এদের পৃথক করে ফেলা সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশের নড়বড়ে যতটুকু রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে, ছিল একে সমূলে বীজসহ ধ্বংস করে দিতে পারা যাবে। ফলে এরপর বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক বীজহীন অবস্হা থেকে আর সহসা সংগঠিত হয়ে উঠে দাড়াতে পারবে না, কোন সংগঠিত প্রতিবাদ করতে পারবে না - এই ছিল ঐ পরিকল্পনার মুল ভাবনা।
হাসিনার উপর অত্যাচার নির্যাতন করে এমন অবস্হায় নেওয়া হয়েছিল যে র্যাটের হাতে একটা কারজাই দল তখনই খাড়া হয়ে যায়। এই অবস্হা থেকে বাঁচতে বহু কষ্টে হাসিনা তার নেতৃত্ত্ব বাঁচাতে পারে ঠিকই কিন্তু কারজাই দলের কর্মসূচি তাকে কবুল করে নিতে হয়, র্যাটের জায়গায় একটা হাসিনা কারজাই দল হয়েই তাকে ক্ষমতায় আসতে হয়। ফলে আজ যা দেখছেন, চুক্তি বা যৌথ ঘোষণা, এগুলো যেভাবে ক্ষমতা তৈরি করে ক্ষমতায় আসা হয়েছিল তারই কর্মফল, খেসারত। যেমন ভাবে যাদের উপর দাড়িয়ে ক্ষমতা তৈরি করবেন, ক্ষমতা নেবেন - ক্ষমতার কাজকর্মের ভিতর এর প্রতিফলনই দেখবেন।
আর এক দল বিএনপির বেলায়, এমন দিনও গেছে যেদিন আক্ষরিক অর্থেই এক ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেন একা একটা ঝান্ডা ধরে বসেই ছিলেন, নড়বার শক্তি বলতে কিছু ছিল না তার, কারণ তাকে ছাড়া সবাই "সংস্কারের" পক্ষে মনস্হির করে ফেলেছিল। এটা অনেকটা পরিবারের দুর্দিনের সময়ের চিত্রের মত। যখন দেখা যায়, পরিবারের সবচেয়ে বখে যাওয়া বাউন্ডুলে ছেলেটা একা ঘুরে, রুখে দাড়িয়ে দুর্দিনের সময়ে পরিবারকে কোন মতে রক্ষা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এমন ঘটনা খুজলে আমার অনেক পাব। হয়ত দেখা গেল, সমাজের যে সবচেয়ে বড় গুন্ডা ছিল সেই ই সমাজ, দেশকে বাঁচাতে অস্ত্র হাতে সবচেয়ে ডেসপারেটলী লড়ছে।
এখন দেলোয়ারের বদনাম যেমন সত্য, এরচেয়ে বড় সত্য হলো ওর লড়াই, গোয়াড়ের মত একা বসে থাকা। এই দুই সত্যের মধ্যে, ওর কোন ভুমিকাকে আপনি সামনে রাখবেন এবিচার আপনার।
এরপর অন্য দিক তাকালে দেখব, খালেদার বড় দুর্বলতা তাঁর বদলামী ছেলেরা। ছেলেদেরকে দূরে রেখে এই আপোষের বিনিময়ে নিজের দল ফিরে পেতে হয়েছে তাকে, বিরোধী দলে জায়গা নিতে হয়েছে। এছাড়া চোরচোট্টায় ভর্তি দলের বড় নেতারা তো আছেই, যারা এখনও জানেই না, হুশজ্ঞান নাই, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উপর দিয়ে কী ঘটে গেছে।
আমার এসব কথা বলবার উদ্দেশ্য এটা নয় যে দূর্নীতে পারদর্শী এসব দল বা তার নেতাদের বাঁচানো। রাজনীতিতে দূর্নীতি এটা একটা দিক। আমি আর একটা দিক থেকে দেখছি, দেখাতে চাচ্ছি - বাংলাদেশকে রাজনৈতিক দল, নেতা শূণ্য করার বিপদ সম্পর্কে, যারা এই প্রোগ্রাম নিয়েছিলেন তাদের সম্পর্কে বলছি। এই দুর্দিনের সময়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গেলে সংগঠিত ও প্রতিবাদের জায়গায় নিতে চাইলে আমরা চাই বা না চাই আমাদের দূর্বল রাজনৈতিক কাঠামোগুলো ভেঙ্গে দিলে আমাদের দাড়াবার, নূন্যতম সংগঠিত হবার সুযোগটাও হারাবো - এদিকটা নজর করতে বলছি। সমাজ বি-রাজনীতিক হলে গেলে কোন বীজও থাকে না যার উপর দাড়িয়ে কোন নতুন রাজনীতি, রাজনৈতিক ক্ষমতা আমরা আবার তৈরি করতে পারি। আমাদের রাজনীতিকে ঐরকম একটা দূর্বল মাজাভাঙ্গা প্রতিরোধহীন অবস্হায় নিতে পেরেছিল বলেই হাসিনাকে কারজাই হাসিনা বানিয়ে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছিল কিন্ত নাকে একটা দড়ি লাগিয়ে রাখতে পেরেছিল ওরা। নাকে দড়ি লাগিয়েই হাসিনাকে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে।
কিন্তু এটা স্রেফ ব্যক্তি হাসিনা, খালেদা নয়, আমাদের রাষ্ট্রের নাকে দড়ি পরিয়ে রাখা হয়েছে। দড়ির আর এক মাথা যাদের হাতে এটা ঠিক করে দিচ্ছে আনদের রাষ্ট্র, দেশ কোন পথে হাটবে।
এখন হাসিনার নাকে দড়ি পড়ানো আছে দেখে কী আমরা খুশি হব, হাততালি দিয়ে ওর দূর্দশা নিয়ে ঠাট্টা মশকরা করব? আমাদের নেতারা কত বড় দূর্নীতিবাজ, খারাপ কাজ করে তা বুঝে আরও নিন্দা কটুবাক্য ছুড়ে দিব?
আমরা তা করতে পারি। আমাদের অনেকেই যথেষ্ট চিন্তা না করার জন্য না বুঝে ব্যাপারটাকে এভাবে দেখেনও।
কিন্তু আমরা ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখব, দড়িটা আসলে হাসিনার নাকে না, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গলায় পরিয়ে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্র তো চোখ দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পাওয়া খুব মুশকিল, কারণ ওটা চোখের না, অনুভব করার বিষয়। তাই, বাইরে থেকে দেখলে ওটা হাসিনা অথবা খালেদার নাকই আমাদের মনে হবে।
তাহলে কর্তব্য কী? কর্তব্য হলো, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গলায় পরিয়ে রাখা দড়িটাকে অনুভব করতে পারা - দেশকে কিভাবে এই দড়ি থেকে মুক্ত করব এই জন্য নিজের কর্তব্য, করণ, সংকল্প খুজে বের করা, নতুন রাজনৈতিক ক্ষমতা তৈরির পক্ষে কাজ করা।
১৯|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১১
এস এইচ খান বলেছেন: সাইফ শেরিফ, আমি আপনার কমেন্টের সাথে সম্পূর্ণ একমত। কিন্ত একটি প্রশ্ন , প্লিজ ভুল বুঝবেন না আর তা হল, তাইলে আমরা দেশটা সাধীন করে কি মাইনকা চিপায় পরে গেলাম? এ থেকে বেড়িয়ে আসার উপায় সম্পর্কে কি কিছু বলবেন? অনেক আগে একটি লেখা পড়েছিলাম, ২০২৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর মানচিত্রের একটা ব্যপক পরিবর্তন হবে। লেখকের মূল কথা ছিল, ছোট ছোট দেশগুলো ইচ্ছায় অনিচ্ছায় বড় দেশগুলোর সংগে একিভুত হতে বাধ্য করবে, সে ক্ষেত্রে দালাল শ্রেনীরও একটি বিশেষ ভুমিকা থাকবে যা একীভুত করতে তরানি¦ত করবে। আমার এ ভয় যেন মিথ্যা হয়।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৮
পি মুন্সী বলেছেন: হ্যা ২০২৫ এর ব্যাপারটা সত্যি।
শুরু হয়েছিল আমেরিকান Forbes ম্যাগাজিনের একটা আগাম পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে। Forbes নেহায়েতই ম্যাগাজিন নয়, ষ্টাটিসটিক্যাল তথ্য এন্যালাইসিস থেকে প্রজেকশন করে বিভিন্ন রিপোর্ট সবসময়ই সে করে থাকে। ওখানে আগামী ৫০ বছরে অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ারের দিক থেকে ক্ষমতার বিন্যাসের চিত্রটা কেমন হতে পারে এটার একটা প্রজেকটেড ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। তার সারকথা, আমেরিকা যে একক সুপার পাওয়ারের জায়গায় থাকছে না, আর নতুন অন্তর্ভুক্তি ঘটছে ব্রাজিল, চীন ও ভারতের - এর ফলে কেউই আর একক ক্ষমতার অধিকারী নয়, নতুন ক্ষমতার বিন্যাসে অন্তত আট-দশ জনের অন্যতম একজন মাত্র।
প্রজেকটেড এই চিত্র দেখে ভয় পেয়ে করণীয় নির্ধারণে বসে আমেরিকান নীতি নির্ধারকেরা। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে কি হতে যাচ্ছে তা আরও ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট করে বুঝবার জন্য এক বিশাল গবেষণার কাজ হাতে নেয়া হয়। কাজটা দেয়া হয় আমেরিকার সরকারী নীতিনির্ধারক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, National Intelligence Council (NIC) কে। নভেম্বর ২০০৮ সালে NIC তার কাজ শেষ করে রিপোর্ট প্রকাশ করে। সরকারী এই ডকুমেন্ট পাবলিকলি ওপেন করা হয়েছে, আগ্রহীরা PDF ফরম্যাটে তা নামিয়ে নিতে পারেন, Click This Link এই লিঙ্ক থেকে।
রিপোর্টের কিছু অজারভেশন এখানে দিচ্ছে।
১. By 2025 the US will find itself as one of a number of important actors on the world stage, albeit still the most powerful one.
২. The whole international system—as constructed following WWII—will be revolutionized. Not only will new players—Brazil, Russia, India and China— have a seat at the international high table, they will bring new stakes and rules of the game.
৩. The unprecedented transfer of wealth roughly from West to East now under way will continue for the foreseeable future.
৪. Unprecedented economic growth, coupled with 1.5 billion more people, will put pressure on resources—particularly energy, food, and water—raising the specter of scarcities emerging as demand outstrips supply.
৫. The potential for conflict will increase owing partly to political turbulence in parts of the greater Middle East.
৬. If current trends persist, by 2025 China will have the world’s second largest economy and will be a leading military power.
সরি, এখানেই বাংলা করতে পারলাম না।
মুলকথায় বলি, চীন ধেয়ে আসা দ্বিতীয় অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসাবে উঠে আসার খবর থেকে আমেরিকানরা নড়েচড়ে বসেছে। নীতি নির্ধারকরা এই প্রজেকশন মত যেন দুনিয়া যেন হাজির না হয় বা যতটা পারে কমানো যায় - এই নীতিতে তাই, চীন ঠেকাও, ভারতের সাথে জোট বেধে চীন ঠেকাও - এই আওয়াজের উপরে আমাদের এশিয়া সরগরম করে ফেলেছে।
আমরা ছোট্ট বাংলাদেশ দুই প্রতিবেশী চীন ও ভারতের এবং সহযোগী আমেরিকার প্রস্তুতির হুঙ্কার, টানাটানি - সবই এখন আমাদের উপরে এসে পড়ছে, আমাদের উপর দিয়ে এই টেনশনের টের পেতে শুরু করেছি আমরা। যদিও সে খবর আমাদের রাজনীতি যারা খবর রাখেন বলে মনে করি এদের কাছেও এসে পৌচেছে বলে মনে হয় না। বরং এখনও আমরা হাসিনার ভারত সফর নিয়ে যে তোলপাড় সমাজে চলছে একে ৫০ এর দশকের কায়দায় ভারত বিরোধিতা বলেই মনে করে আরামে নিদ্রা দিচ্ছে। এই ব্লগেও অনেককে দেখেছি, এটা পাকিস্তানি মনের ভারত বিরোধিতা বলেই নিজে বুঝেছে, অন্যকেই বুঝার জন্য তাগিদ রেখেছে।
আমাদের রাজনীতিকে আজ ২০১০ সালে এভাবে বুঝতে চাওয়া শুধু নাদানিই নয়, রীতিমত অপরাধও বটে। বাংলাদেশের রাজনীতি এখন একমাত্র এই গ্লোবাল নতুন ঝোঁক মাথায় রেখেই বুঝা সম্ভব, এবং সে যোগ্যতা, পরিপক্কতা আমাদের অর্জন করতেই হবে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আপনার উস্কানিতে কথাগুলো লিখে ফেলতে পারলাম।
২০|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২০
সমাজ্ঞী বলেছেন: লেখককে,
আপনে মিয়া কথা বড় ঘুরায় ফিরায় কন। কথা সিধা করেন। ১৮ নমবরে জ্বীন কে এক লমবা লেকচার দেলেন। আসল কথা খারা কইতে পারলেন না। আপনার হেডা নাই।
একন হোনেন,
১. বাংলাদেশের মানুষ নিমকহারাম, নিমকহারামের জাত সব - আমার বাবারে খাইছে হেরা, বাংলাদেশের জন্ম দেল আমার বাপ আর এই নিমখারামের দল একটু চোখ্খের পানিও ফেলতে পারল না। আমি বাবার বিচার করে দেখাব, নিমকহারামের জাতকে একটা কঠিন শিক্ষা দিমু। আমি শেখের বেটি। আমার বাবার হত্যার বিচার কইরাই ছাড়ব, দেখাইয়া দিব - এজন্য যে কোন প্রক্কারে ক্ষমতায় যাইতে হবে, একাসি সাল থেকে হেই পথে আমি লাইগা রইছি - এজন্য যার যার সাথে চুমা দেওয়ন লাগে দিমু। ঝেইডা আপনেরা কম্প্রোমাইজ কইতে চান কইয়েন। হেতে আমার কি, নিমকহারামের জাত জাহান্নামে যাক? নিমকহারামের জাতটিরে একটা কঠিন শিক্ষা দিমু। ফাঁসি্্তে লটকানি শ্যাস হইলে যামু গা। হেরপর রেহানার শখ হইলে নিইয়া ফেলাক, যা করবার চাই করুক, আমার কাম শেষ। অহন, নাতি নাতনি লইয়া রেষট করুম, বয়স হইছে।
২. বাংগালি জনগণ, দেশের সার্থের জন্য লড়াই করে ক্ষমতা নিমু -কাউরে ছাড়ুম না, আপোষহীন লড়ুম, লাগতে আইলে দাদাদেরও ছাড়ুম না কইলাম, কেউ বাধা দিবার আইলে কাইটা ফেলাইবো -এমনে এক বিরের গণক্ষমতা লইয়া সরকারে বইসা হের পর বঙ্গবন্ধু মানে আমার বাপের হত্যার বিচার করুম, বীরের মত হেইকাম করুম, আমার সাহস - আমার জনগন আমার লগে আছে, কেই কিসসু করবার পারবা না। আমি বঙ্গবন্ধুর বেটি, বঙ্গবন্ধুর মরে নাই - হেইটা য্যান সবার হুশে থাহে।
দুইটা ছবি দিছি, একন খেয়াল কৈইরা, কুনটা মিইল্যা যায় দেহেন।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৭
পি মুন্সী বলেছেন: ভাল বলেছেন, ধন্যবাদ।
২১|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৪
নাজনীন১ বলেছেন: নেপাল ট্রানজিটের ব্যাপারে যে আলোচনা করলেন, আমার ভৌগোলিক জ্ঞান দুর্বলতার কারণে ব্যাপারটা পুরোপুরি ধরতে পারিনি।
রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ, রাধিকাপুর-বিরল -- এ জায়গাগুলোর কোনটা নেপালের , কোনটা ভারতের, কোনটা বাংলাদেশের?
আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম নেপালে ব্রডগেজ লাইন। বাংলাদেশ ভারতের ভিতরে যে অংশ দিয়ে নেপালের ব্যাপারে রেল ট্রানজিট চাচ্ছে তার পুরোটা কি মিটারগেজ , নাকি কিছু অংশ ব্রডগেজ, কিছু মিটার গেজ।
আবার মনে হলো রাধিকাপুর মনে হয় বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে, সেখান থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত মিটারগেজ, আবার মংলা যেতে হলে ব্রডগেজ।
এখন নেপালের মংলা বন্দর ব্যবহার করতে দেয়া আগ্রহ কোন পক্ষ থেকে, মনে হয় সেটা নেপাল থেকেই হবার কথা। তাহলে চুক্তিতে কোন অংশকে ব্রডগেজ করতে বলা হচ্ছে? নেপালকে মিটারগেজ কেন করতে বলা হচ্ছে না? মংলা ব্রডগেজ বলে? নাকি অন্য কোন ব্যাপার?
এছাড়া আপনি মালামালের ট্রানজিটের যে সমস্যার কথা বললেন, এরকম মালামাল ট্রানজিট তো প্লেনের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। একই এয়ারওয়েজের বা ভিন্ন এয়ারওয়েজের মধ্যকার যাত্রীদের বা পার্সেল করা মালামালের যাত্রাপথের মাঝে যেভাবে ট্রানজিট হয়, সেটা যদি এখানেও হয়, তাতে কি কোন সমস্যা? হ্যাঁ, কিছু সময়, খরচের ব্যাপার তো থাকবেই।
বাকী বিশ্লেষণ সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম। কষ্ট করছেন অনেক, বোঝা যাচ্ছে। ধন্যবাদ।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৫
পি মুন্সী বলেছেন: রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ:
রোহনপুর হলো বাংলাদেশ অংশে রাজশাহীর নবাবগঞ্জ জেলার অধীনে।
সিঙ্গাবাদ হলো ভারত অংশে মালদহ জেলার অধীনে।
রোহনপুর ছাড়িয়ে ভারতের দিকে গেলে পরের ষ্টেশন সিঙ্গাবাদ।
রাধিকাপুর-বিরল:
রাধিকাপুর হলো ভারতীয় অংশের রায়গঞ্জ জেলার অধীনে
বিরল হলো বাংলাদেশ অংশের দিনাজপুর জেলার অধীনে
বিরল ছাড়িয়ে ভারতের দিকে গেলে পরের ষ্টেশন রাধিকাপুর।
নেপাল-ভারত এর রেল যোগাযোগের জায়গা হলো, নেপালের বীরগঞ্জ আর এপারে ভারতের রক্ষুল (Raxaul), বিহারে। এরপর সারা বিহার চষে বেরিয়ে এটা কাটিহার (বিহারে) জংশনে আসার পর রেললাইন দুটো রাস্তা নিয়েছে, একটা রায়গঞ্জের রাধিকাপুর হয়ে বিরল বাংলাদেশে; অন্যটা মালদহের সিঙ্গাবাদ হয়ে রোহনপুর বাংলাদেশ।
রাধিকাপুর থেকে বিরল-দিনাজপুর শহর-পার্বতীপুর পর্যন্ত পুরাটাই মিটারগেজ।
ওদিকে সিঙ্গাবাদ-রোহনপুর-নবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে একেবারে মংলা পর্যন্ত সবটাই ব্রডগেজ।
ফলে লাইন তৈরি আছে অর্থে রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ লাইনই যথেষ্ট। রাধিকাপুর-বিরল দিয়ে ঢুকানোর চেষ্টার কোন কারণ দেখি নাই আমি, এর উপর রেললাইন তৈরিও নয়।রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ ব্রডগেজ লাইন প্রস্তুত থাকতে রাধিকাপুর-বিরল অপ্রস্তুত সম্ভাব্য লাইনের কথা বলা একটা খামোখা।
কিন্তু সমস্যর কথা এইগুলো নয়। কেন ভারত "allow use" বলতে পারল না, "would be available" বলতে হলো - সেখানেই আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে। সেটা আমরা খুজে পেতে পারি যদি "ভারতের নিরাপত্তা", নিরাপত্তাবোধ সংক্রান্ত উদ্বিগ্নতা নিয়ে অর্থাৎ ট্রানজিটের সাথে নিরাপত্তা বিষয়টাকে মিলিয়ে আলোচনা করি তাহলে বুঝা যাবে। পরের পর্বে, যৌথ ঘোষণায় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কথা তুলার ইচ্ছা আছে ওখানেই এনিয়ে বিস্তারিত বলব।
নেপাল বা ভুটানকে ভারতের উপর দিয়ে ট্রানজিট দিতে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অস্বস্তি আছে। ফলে সে দিতে চায়না- এই হলো মুল কথা।
আপনার মন্তব্য পড়ে এতক্ষণ ম্যাপ ঘেটে এসবই বিচার করছিলাম। আপনি বলছিলেন, মংলা বন্দর ব্যবহারে নেপালের আগ্রহের কথা, কেন নেপালের আগ্রহ নাই।
আপনার প্রসঙ্গে যাবার আগে একটা প্রাসঙ্গিক তথ্য দেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ নিম চন্দ্র ভৌমিক এখন নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত নিয়োজিত হয়েছেন। গত ২৩ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে নেপালের প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনার সময় রোহনপুর-সিঙ্গাবাদ-বীরগঞ্জ এই ট্রানজিট রুটেই বাণিজ্য হবে বলে একমত হয়েছেন।
এখন, রেলপথের সুবিধাদি বিচারে নেপালের বীরগঞ্জ থেকে বিহার পেরিয়ে ১. বাংলাদেশের মংলা ব্যবহার করা, ২. কলকাতার ডায়মন্ডহারবার - এই দুইয়ের তুলনা করলে নেপালের কোন বাড়তি সুবিধা নাই, দূরত্ত্ব প্রায় একই, হয়ত আরএক দেশে আবার ঢুকার ঝামেলাই আছে। অর্থাৎ মালামাল যদি মংলা পোর্টে নয় বাংলাদেশের বাজারই গন্তব্য হয়, নেপাল বাংলাদেশ বাণিজ্যের ব্যাপার হয়, তবেই কিছু সুবিধা আছে, নইলে নাই।
কিন্তু এখানেও কথা আছে, নেপাল বাংলাদেশ বাণিজ্যের ব্যাপার ট্রানজিট সুবিধাজনক ভাবে রেডি হয়ে আছে সড়ক ট্রানজিট: বাংলাবান্ধা-কাকড়ভিটা, দূরত্ত্বও সম্ভবত মাঝে ভারতের ২০-২৫ কিমি। কিন্তু এখানেই সেই একই। ট্রানজিট দিতে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অস্বস্তিবোধ - প্রধা বাধা, ফলে এর প্রতিফলন যৌথ ঘোষণায় শব্দের মারপ্যাচ, আবছা করে রাখা, কনক্লুসিভ ভাবে ডিল না করা, শব্দ ব্যবহার না করা। এনিয়ে পরের পর্বে কথা বলব।
আপনার শেষ প্রসঙ্গে। রপ্তানির মালামালে মালের রেলবগি রাস্তায় খোলা যাবে না; ব্রডগেজ রেলের বগি খুলে সীল ভেঙ্গে মিটারগেজ রেলের বগিতে লোড-আনলোড করা যাবে না। নিরাপত্তা, কাষ্টমস ও যার মালামাল তার - সবার জন্যই তা রিস্কি। প্লেনের সাথে এটা তুলনীয় নয়, কারণ ওখানে বড় জোড় কয়েক শ কেজির ব্যাপার, আর এর চেয়ে ববেশি হলে তো কার্গো প্লেনই ভাড়া করবে এবং তা সরাসরি ফ্লাই করবে, অবশ্য বাণিজ্যিক মালামালে যদি ভাড়ায় পোষায়।
কষ্ট বহু করছি সন্দেহ নাই, কিন্তু ফল কী পাব এখনও জানি না।
ভাল থাকবেন।
২২|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৮
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: 'পোড়ামাটি' বিশ্লেষণ! ভালো লাগল পড়ে।
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৫
পি মুন্সী বলেছেন: 'পোড়ামাটি' কি বুঝি নাই।
২৩|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৩
এস এইচ খান বলেছেন:
যেমন, পোড়ামাটি নীতি এভাবে সর্বোচ্চ বিশ্লেষণ মিন করেছেন ফিউশন ফাইভ। অনেক চিন্তাভাবনা করেছেন এ অর্থে।
ভাল থাকবেন।
২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৬
পি মুন্সী বলেছেন: আমারও এখন তাই মনে হচ্ছে।
২৪|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৪
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: সফরের সময় করেছে কিনা সেটা জানা নাই। সাধারণ রেয়াজ এ ব্যাপারে কতটুকু পালন করা হয়েছে সেটাতে আমি বেশ সন্দিহান।
কথার সপক্ষে একটা উদাহরণ দেই। উন্নয়নশীল দেশ আর স্বল্পোন্নত দেশের ফারাক বা পরিচয় যেখানে গায়েব হয়ে গেছে সেটাকে কি আপনি দীর্ঘ সময়ের কথাচালাচালির নমুনা বলতে পারবেন? নাকি অদৌ পড়ে দেখা দলিল বলা যায়?
২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০০
পি মুন্সী বলেছেন: দলিল একটা করতেই হবে - এই মনোভাব থেকে শুরু করলে এরকমই হবে। ভিতরে কি লেখা হলো তা নিয়ে কোন বাদাবাদি নাই, ভাই ভাতারি। সেজন্যই আমার প্রথম পর্ব বলেছিলাম, বাংলাদেশের কোন পেশাদার কুটনীতিকের কাজ এটা নয়।
২৫|
১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৪
সেলিম৬২৫১ বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর যুক্তিযুক্ত লেখার জন্য।
২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০২
পি মুন্সী বলেছেন: মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন নিশ্চয়! ভাল থাকবেন সেলিম৬২৫১।
২৬|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৮
নীল লাল সবুজ বলেছেন: বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতির সাথে এত বড় প্রতারনা আর কোন সরকারই করে নাই।
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৭
পি মুন্সী বলেছেন: ধন্যবাদ নীল লাল সবুজ।
সবচেয়ে যেটা বাজে ব্যাপার এটা নাকি শস্তা ভারত বিরোধীতা।
২৭|
২২ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০২
অজানা মানুষ বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনার এই চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে এধরনের মানুষ আরও আছে যারা আপনার মতো ঝরের আলামত বুঝতে পারে। আশা করি তারা সবাই এগিয়ে আসবেন সেভাবে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে এসেছিলো এদেশকে স্বাধীন করতে। আমাদের দেশ তখন পরাধীন ছিলো প্রত্যাক্ষ ভাবে, (অপ্রত্যক্ষ ভাবে যে ছিলোনা তা বলছিনা) আর এখন পরাধীন হয়ে যাচ্ছে পরোক্ষ ভাবে। তাই এখন আবার সময় হয়েছে যুদ্ধে নামার। সবাইকে আমার আহবান রইলো নিজের মাতৃভূমিকে অপরের করতলগত হওয়া থেকে রক্ষা করতে আর সেই সাথে আপনার জন্য রইলো অযূত ধন্যবাদ।
২২ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৪১
পি মুন্সী বলেছেন: বা বাহ, ভাল বলেছেন। আমার কাজ অনেকদূর আগিয়ে দিয়েছেন।
ধন্যবাদ।
২৮|
২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৬
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন: +। আপন লাভ পাগলেও বুঝে। কিন্তু হাসিনা তা বুঝেও না বুঝার ভান করেন দালালী মনোভাবের কারণে। যেখানে লিখিত চুক্তিই ভারত ঠিকমত মানে না সেখানে নেপাল-ভুটানকে ভারতের ট্রানজিট দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস কিভাবে বাস্তবায়িত হবে। লিখিত চুক্তি যেমন তিন বিঘা করিডোরের দখল এবং ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা-পদ্মা চুক্তি। আপনাকে ধন্যবাদ।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:০৬
পি মুন্সী বলেছেন: হ্যাঁ। সেটাই আশঙ্কার কথা।
ভালো থাকবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪০
এস এইচ খান বলেছেন: যথেষ্ঠ চুলচেড়া বিশ্লেষণ। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এবং কনক্লুসান টানবেন সে অপেক্ষায় থাকলাম। ও হ্যা, যারা শুধুই চেতনা বুঝে কিন্ত তেল বুঝেনা, গ্যাস বুঝেনা, বুঝেনা কিভাবে একটি সাধীন দেশ পরাধীন হয়ে যায়। ঐসব চেতনাধারীদের মতামতের অপেক্ষা থাকলাম।