নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

হুমায়ুন আহমেদ স্মরনে এবং তার \'কৃষ্ণপক্ষ\' উপন্যাস অবলম্বনে (গল্প)

২০ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৩৮



আজ একটি বিশেষ দিন।
সকাল দশটা। হিমি রিকশা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষন ধরে শাহবাগ যাদু ঘরের সামনে। গুল্লু আসার কথা ঠিক দশটায়। এখন সাড়ে দশটা বেজে গেছে। কিন্তু হিমির একটুও রাগ লাগছে না। সে ঠিক করেছে আজ একটু রাগ করবে না গুল্লুর উপর। আজ একটি বিশেষ দিন। হিমি আজ খুব সুন্দর করে সেজেছে। নতুন একটা মেরুন কালারের শাড়ি পড়েছে। কপালে বড় একটা সবুজ টিপ পরেছে। দুই হাত ভরতি করে পরেছে অনেকগুলো লাল-নীল-সবুজ কাচের চুড়ি। আজ হিমি আর গুল্লু কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করবে। হিমি হঠাৎ কি মনে করে আকাশের দিকে তাকাতেই গুল্লু পেছন দিক থেকে হিমির কাছে এসে বলল, স্যরি দেরী করে ফেললাম। রাস্তায় এত জ্যাম! চলো চা খাই। হিমি বলল- আচ্ছা, চলো।

সকাল বারোটার মধ্যে হিমি আর গুল্লুর বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল।
হিমি বুঝতেই পারেনি বিয়ে করা এত সহজ। দু'টা সই করলো- আর বিয়ে হয়ে গেল! দুইজন মানুষ চিরজীবনের জন্য কাছাকাছি এসে গেলো! এই বিয়েতে সাক্ষী ছিল গুল্লু আর হিমির চারজন কাছের বন্ধু। তারা সবাই মিলে স্টার রেস্টুরেন্টে দুপুরে খেলো। এই বিয়ের খবর হিমি এবং গুল্লুর বাড়ির কেউ জানে না। সব বন্ধুরা বিদায় নিয়ে চলে যাবার পর হিমি আর গুল্লু ধানমন্ডি লেকে গিয়ে বসলো।
হিমি বলল, আমার খুব মাথা ব্যাথা করছে।
গুল্লু বলল, তুমি আমার কোলে মাথা রাখো, আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই।
হিমি গুল্লুর কোলে মাথা রাখতেই ঘুমিয়ে পড়ল। গুল্লু হিমির মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। কতখানি ভালোবাসি তা তুমি কোনো দিনও জানবে না। আর তখন একফোটা চোখের জল হিমির গালে গড়িয়ে পড়ল। হিমির ঘুম ভেঙ্গে গেল।

গুল্লু সন্ধ্যা ছয়টায় হিমিকে বাসায় নামিয়ে দিল।
হিমি তার ঘরে ঢুকে গরম পানি দিয়ে গোছল করে এক কাপ চা খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। এবং সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখল, গুল্লুকে বিচ্ছিরি চেহারার কিছু লোক ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ঘুমের মধ্যেই হিমি খুব ভয় পেল। কেঁদে উঠল। এই সময় হিমির মা এসে দেখল হিমি কাঁদছে, ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেছে। হিমি তার মাকে জড়িয়ে ধরল। হিমির মা হিমিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, রেডি হয়ে নাও পাত্রপক্ষ তোমাকে দেখতে আসছে। রাতে তারা খেয়ে যাবে। হিমি লক্ষ্মী মেয়ের মতন সুন্দর একটা শাড়ি পরে নিল। মোটা করে চোখে কাজল দিলো। হিমিকে দেখে ছেলেসহ ছেলের বাবা-মা সবাই খুব পছন্দ করলো। তারা আর দেরী করতে চায়, আজই আংটি পড়িয়ে দিবে। আংটি তারা সাথে করেই নিয়ে আসছে। হিমি হঠাৎ খুব অবাক হয়ে গেল। অজানা এক ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেল।

রাত আট টা।
মিরপুর রোড থেকে গুল্লু তার বাইকে করে বাসায় ফিরছে। সে সব গুছিয়ে রেখেছে বাসায় গিয়ে মাকে কিভাবে হিমির কথাটা বলবে। গুল্লু জানে তার মা সব হাসি মুখে মেনে নিবেন। গুল্লু আজ খুব খুশি। তার জীবনের একটা স্বপ্ন আজ সত্যি হলো। গুল্লু মনে মনে ভেবে রেখেছে- সে হিমিকে কোনো দিনও কষ্ট দিবে। অনেক...অনেক ভালোবাসবে হিমিকে। বারবার গুল্লুর চোখে হিমি ভেসে আসছে। গুল্লু আসাদ গেট নেমে এক কাপ চা খেলো। একটা সিগারেট ধরালো। সিগারেট শেষ করে আবার তার বাইক স্টার্ট দিলো। গুল্লু সংসদ ভবনের রাস্তায় আসা মাত্র একটা মাইক্রোবাস গুল্লুর বাইককে ধাক্কা দিলো। গুল্লু রাস্তার পাশে ছিটকে পড়লো। তার কপালের সামনের অংশ থেতলে গেল।

হিমিদের বাসায় একটা ফোন আসে।
ফোন ধরেন হিমির বাবা। অপর প্রান্ত থেকে বাবু নামের একজন ব্যাকুল হয়ে বলল- প্লীজ হিমিকে ফোনটা একটু দেন। খুব জরুরী। হিমির বাবা কঠিন গলায় বলল- আজ হিমিকে দেওয়া যাবে না। বাবু আবার বলল- তাহলে হিমিকে বলুন গুল্লু একসিডেন্ট করেছে। অবস্থা ভালো না। হিমির বাবা আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিলো। কিন্তু সে শুভ দিনে তার মেয়েকে একটা দুর্ঘটনার কথা বলতে চান না। রাত দশটায় পাত্রপক্ষ খেতে বসল। খাওয়ার পর তারা হিমিকে আংটি পরিয়ে বিদায় নিবে। হিমি কি করবে সব ঠিক করে নিয়েছে। তাদের খাওয়া শেষ হলে হিমি ছেলেটিকে সব খুলে বলব। বুদ্ধিমান ছেলে হলে অবশ্যই সব বুঝে নিবে এবং মেনে নিবে।

হাসপাতালে গুল্লুর পরিচিতজনরা সবাই ভিড় করেছে।
গুল্লুর মা খুব কাঁদছে। গুল্লুর বাবা ডাক্তারদের পেছন পেছন পাগলের মতন ঘুরছেন। গুল্লুর সব বন্ধুরা এক জাগায় জড়ো হয়ে পাথরের মতন দাঁড়িয়ে আছে। ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছে- গুল্লুর অবস্থা ভালো না। আত্মীয় স্বজনদের খবর দেন। মনে মনে আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। তবে আমরা আমাদের স্বাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন সব আল্লাহর হাতে। আমাদের আর কিছু করণীয় নেই।

রাত সাড়ে দশটায় গুল্লুর বন্ধু হিমিকে ফোন করে গুল্লুর কথা জানায়।
হিমি কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে তার বাবার কাছে এসে বলল - বাবা আমাকে ওর কাছে নিয়ে চলো। হিমি হাসপাতালে যায়। গুল্লু আছে কমায়। গুল্লুর মাথায় ব্যান্ডেজ, গলা দিয়ে গরগর শব্দ বের হচ্ছে। হিমি ডা্ক্তারকে বলল- ডাক্তার আমি যদি কিছু বলি ও কি শুনতে পাবে? ডাক্তার বলল, অবশ্যই শুনতে পাবে, তার মস্তিস্ক সচল আছে। হিমি বলল- আমি ওর সাথে এক মিনিট একা কিছু কথা বলতে চাই। সবাই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। হিমি গুল্লুর কাছে বসে একহাত ধরে আর এক হাত গুল্লুর বুকের উপর রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলল- তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি।

রাত একটায় গুল্লু চোখ মেলে সবার দিকে তাকালো। ছোট একটু হাসি দিলো। আর কি আশ্চর্য সবাইকে অবাক করে দিয়ে মরে গেল।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১৬

সন্ধ্যা রাতের ঝিঁঝিঁ বলেছেন: মন খারাপ হয়ে গেলো।

২১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: স্যরি।

২| ২১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১:১৯

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ওহে দয়ার সাগর -----মরণ দিও । এই গান খুব শুনতে ইচ্ছে হয়।

২১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: শুনে নিন ইউটিউব এ।

৩| ২১ শে জুলাই, ২০২০ ভোর ৫:৫৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
খারাপ কথা।
খুবই খারাপ কথা।
মরে যাওয়া খুবই খারাপ।
মানুস কেন অকারণে অসময়ে মরে যাবে?

২১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: মরে তো।

৪| ২১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৪০

নূর আলম হিরণ বলেছেন: মৃত্যুকে মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।

২১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: মেনে না নিয়েও উপায় নাই।

৫| ২১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:১৬

এম ডি মুসা বলেছেন: না পড়ে মন্তব্য করলাম!! শুধু শুভেচ্ছা রইল

২১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: এতেও আমি খুশি।

৬| ২১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:৫৪

আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: রাজীব দা সমাপ্তিটা চমৎকার করেছে শ্রাবণ ঝরল -----------------

২১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:১৭

রাজীব নুর বলেছেন: ভালোবাসা ভাই।

৭| ২২ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৪৪

কল্পদ্রুম বলেছেন: ভালোই লেগেছে।যে নায়কের নামক গুল্লু তার বেঁচে থাকার কারণ দেখি না।আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২২ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:১১

রাজীব নুর বলেছেন: গুল্লু তার ভালো নাম না। ভালো নামটা অনেক সুন্দর। আসলে তার নায়িকা তাকে আদর করে গুল্লু ডাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.