নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঝগড়া

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১০




স্বামী স্ত্রীর তুমুল ঝগড়া হচ্ছে।
এই ঝগড়ার মধ্যে আমি উপস্থিত হলাম। এই বাসায় আজ আমার দাওয়াত ছিলো। নায়লা ভাবী, আর জসিম ভাই দুই জনই আমার বিশেষ পরিচিত। দীর্ঘদিনের পরিচিত। এবং আমার খুব কাছের মানুষ। তারা দুই জনই ভালো মানুষ। শিক্ষিত এবং আধুনিক। সাত বছর প্রেম করে তারা বিয়ে করেছেন। দুইজন'ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। সারা ক্যাম্পাসে তাদের জুটিকে সবাই চিনতো। মাঝে মাঝে আমিও তাদের সাথে টিএসসি'তে গিয়ে আড্ডা দিতাম। বাদাম খেতাম, চা খেতাম। বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে বড় কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করতাম। নায়লা ভাবী আর জসিম ভাইয়ের বিয়ের সময় আমি সাক্ষী ছিলাম। বর্তমানে জসিম ভাই চাকরি করছেন। বেশ ভালো চাকরি। গাড়ি, বাড়ি, ফ্লাট সবই করেছেন।

নায়লা ভাবী বলছেন, আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছো তুমি।
জসিম ভাই বললেন, আঙুল নামিয়ে কথা বলো। আঙ্গুল ভেঙ্গে দিবো।
নায়লা ভাবী বললেন, আমি কি আঙ্গুল কিভাবে ভাঙতে হয় জানি না?
জসিম ভাই বললেন, বেয়াদপ মহিলা। অসভ্য মহিলা।
নায়লা ভাবী বললেন, তুমি বেয়াদপ। আর তোমার ছোট চাচা একটা বদমাইশ।
জসিম ভাই বললেন, খবরদার আমার আত্মীয়স্বজন নিয়ে কিচ্ছু বলবে না।
নায়লা ভাবী বললেন, বালের সংসারে আমি থাকবো না।
জসিম ভাই বললেন, কে থাকতে বলেছে তোমাকে? তুমি গেলে বাঁচি।

আমি কি করবো বুঝতে পারছি না!
আমি ঘরের এক কোনায় তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসে আছি। আর ঝগড়া দেখছি। তাদের বিয়ে হয়েছে তেরো বছর। একটা মাত্র মেয়ে তাদের। মেয়ের বয়স নয় বছর। তেরো বছরে নায়লা ভাবী এবং জসিম ভাই কমপক্ষে তেরো লক্ষ বার ঝগড়া করেছেন। নায়লা ভাবী কমপক্ষে দুই শ' বার ঝগড়া করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। আবার সব্বোর্চ তিন দিন পর ফিরে এসেছেন। জসিম ভাই তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে না খেয়ে থাকেন। একসময় নায়লা ভাবী এসে ভাত মেখে জসিম ভাইকে খাইয়ে দেন। ঝগড়ার অবসান হয়। গত তেরো বছর ধরে এরকমটাই দেখছি। দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

আজকের ঝগড়া থামছেই না।
নায়লা ভাবীর গলাই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আমি বললাম- ভাবী, প্লীজ থামেন। ভাবী বললেন, ওকে থামতে বলেন। আমি তো চুপ করেই থাকি। সব সহ্য করে যাই। জসিম ভাই বললেন, কোন কুলক্ষনে যে এই বেয়াদপকে বিয়ে করেছিলাম। নায়লা ভাবী বললেন, তোমার সাত কপালের ভাগ্য আমার মতো মেয়ে পেয়েছো। জসিম ভাই বললেন, এমন কপালের খেতাপুরী আমি। খেতাপুরী। ধ্বংস করে দিয়েছো তুমি আমার জীবন। অসভ্য মেয়েলোক কোথাকার। এদিকে আমার পেয়েছে ক্ষুধা। রান্না ঘরে গিয়ে আমি আর মিতা খাওয়া শুরু করলাম। মিতা হচ্ছে নায়লা ভাবীর মেয়ে। অনেক কিছুই রান্না করেছেন ভাবী। আমি অর্ধেক খাওয়া শেষ করে বললাম, ভাবী কোক টোক কিছু আছে? ভাবী বললেন, ফ্রিজে আছে। পায়েশও আছে।

আমাদের খাওয়া শেষ।
অথচ তাদের ঝগড়া শেষ হয় নাই। চলছেই। দু'জনেই লাফিয়ে লাফিয়ে ঝগড়া করছেন। তাদের ঝগড়ার একটা ভালো দিক হচ্ছে- তারা মুখে ঝগড়া করেন। কিন্তু একজন আরেকজনের গায়ে কখনও হাত তুলেন না। দেখলাম, ভাবী ঝগড়া করতে করতেই ব্যাগে কাপড় ভরছেন। অর্থাৎ তিনি আবার বাপের বাড়ি যাচ্ছেন। জসিম ভাই বলছেন, যাও। যাও। তুমি গেলেই বাঁচি। ভাবী বললেন, আমাকে ফোন করবে না, খবরদার। আমাকে আনতেও যাবে না। ভাবী মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, দ্যাখ। আমাকে দেখে শিখ। গাধা থাকবি না। গাধা হলে জীবনে আমার মতো অবস্থা হবে। মিতা হা করে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। জসিম ভাই বললেন, আমার মেয়েকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। ভাবী বললেন, মেয়েটা আমার। দশ মাস পেটে ধরেছি।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: রাজিব'দার লেখাটি পড়ে একটা কৌতুক মনে পড়ল
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। দু’জনই চিৎকার-চেঁচামেচি করে কথা বলছেন-
স্ত্রী: তুমি আমার সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলছ কেন?
স্বামী: তোমার মতো বউয়ের সঙ্গে চিৎকার করে কথা না বলে মিষ্টি সুরে কথা বলব না কি!
স্ত্রী: সারা দুনিয়া তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখো, এই আমার মতো বউ আরেকটা পাও না কি!
স্বামী: তুমি কী ভাবছ, দ্বিতীয়বারও আমি তোমার মতোই বউ খুঁজব?

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: মজার কৌতুক।

২| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


বাংগালী ছেলেরা স্বামী হিসেবে ভয়ংকর

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: না সবাই খারাপ না।
আমি কোনোদিন সুরভির সাথে ঝগড়া করি নাই।

৩| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২২

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: প্রেম করতে আবেগ লাগে,সংসার করতে কমপ্রমাইজ করতে হয়,একের সাথে অন্যের এবং নিজের সাথে নিজের।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

৪| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৭

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

২ ও ৩ নম্বর মন্তব্যে সহমত।
উনারা বিচক্ষণ মানুষ।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার মন্তব্যের সাথে সহমত।

৫| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ডিভোর্স মামলা করতে হলে দুজনকে বলবেন বরিশাল জেলা কোর্টে মামলা করে দিতে। মামলাতে মজা পাওয়া যাবে।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: না তাদের ডিভোর্স হবে না। তবে ঝগড়া হবে নিয়মিত। ডিভোর্স হলে অনেক আগেই হয়ে যেত।

৬| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:১৭

জিকোব্লগ বলেছেন:



আপনি আর আপনার বউয়ের ঝগড়া নিয়ে লেখেন।
আপনার যে চারিত্রিক ভোলাটাইল অবস্থা, যেকোনো
সুস্থ মস্তিষ্কের মহিলা তার স্বামীর এই অবস্থা মেনে নিবে না।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের ঝগড়া হয় না।
আমরা ঝগড়া করবো না। আমরা কথা দিয়েছি। আমরা দুজনেই আমাদের কথা রেখেছি।

৭| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:২৯

জিকোব্লগ বলেছেন: তাহলে, আপনার বউ আপনার মতন ভোলাটাইল হাজবেন্ড নিয়ে চলেন ক্যামনে?

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ২:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: মানুষের অনেক গুলো জীবন।
ব্লগ জীবন, সংসার জীবন। দুটোই সম্পূর্ন আলাদা।

৮| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:৩৫

সিগনেচার নসিব বলেছেন: হাজার হাজার বছর ধরে এসব সমস্যা কম বেশি চলে আসতেছে। রাতদিন ঝগড়া করে সময়মত যারা আবার ঠিক হয়ে যায় তারা আমার কাছে সেরা দম্পতি।

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ২:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: সহমত।

৯| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:২৬

কবিতা ক্থ্য বলেছেন: ইচ্ছে হয়ে ঘুমিয়ে ছিলি হৃদমাঝারে- কোন কবিতা এটা

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: জানি না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.