নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাত বাড়ে, মাথার কাছের দেবদারু হয় অশ্বথ বৃক্ষ ..

রিম সাবরিনা জাহান সরকার

ভিনদেশী শহর ঘেরা স্ফটিকের দেয়াল// আটকে পড়া আমার হাজারো খেয়াল...।

রিম সাবরিনা জাহান সরকার › বিস্তারিত পোস্টঃ

কবেকার বরেন্দ্রভ্রমন...

১৬ ই জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৪



২৩।১২।০৯
রাজশাহী যাচ্ছি। একা যাবার প্রশ্নই ওঠে না। একা একা আমি নিউমার্কেটেও যাই না। আর রাজশাহী তো পুরো আরেকটা বিভাগ! আব্বাকে দিয়ে দেয়া হয়েছে আমার সফরসঙ্গী হিসেবে। আমাদের বাহন, বাস। বাসে কোনো কান্ড হবে না কিন্তু রাজশাহী পৌঁছে তিনটা ঘটনা ঘটতে পারে। এক, আব্বা হারিয়ে যাবে। দুই, সে আমাকে হারিয়ে ফেলবে। তিন, আমরা দুইজন ভুলভাল জায়গায় নেমে পড়ব এবং একসাথে হারিয়ে যাব। শেষের দুই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। কিন্তু আব্বা হারিয়ে যেতেই পারে। তার হারিয়ে যাবার স্বভাব আছে। আগে এরকম হয়েছে। একাধিকবার। প্রতিবারই আমার হাপুশ হুপুশ কান্নাকাটি অবস্থা। যাইহোক, পরে কখনো সে কাহিনী বলা যাবে। কিন্তু এবার হারিয়ে গেলে মুশকিলে পড়ব।

২৫।১২।০৯
বাস ছাড়ল মাত্র। বাজে নয়টা তিরিশ। ছাড়ার কথা নয়টায়। আধা ঘন্টা লেট। কিন্তু বাসটা ভাল। গ্রিনলাইন, ভলভো। বসে আরাম লাগছে। গ্লাস খোলা যায় না। তাই ধুলা নেই। এতোটা পথ বসে থেকে থেকে একঘেয়ে হয়ে যাব। তার চেয়ে ল্যাপটপ টেপাটিপি করা ভাল। সকালে নাস্তা করা হয় নি সময়ের অভাবে। এখন আস্তে আস্তে খিদাটা একটা আকার পাচ্ছে। এরা মাঝপথে কোথাও থামবে। ভ্রমণ বিরতি। কিন্তু ততক্ষণে আমি খিদায় হজম হয়ে যাব মনে হচ্ছে। চিপস টিপস কিনে নেয়া উচিত ছিল। বোকামি হয়ে গেছে।ধুস!

বাসে টিভি আছে। নাটক ছাড়া হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের নাটক। গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এক লোক তার ম্যানেজারকে নিয়ে অচেনা জায়গায় আটকে গেছে। ম্যানেজার আবার একটু পর পর গাছের আড়ালে বিয়ের লাল শাড়ি পড়া একটা মেয়ে দেখতে পাচ্ছে আর আঁতকে উঠছে। কিন্তু তার বস বিশ্বাস করছে না। বেশ কয়েক বছর আগের নাটক। আমি আগে দেখেছি। আগ্রহ নেই সেজন্যে।

খাদ্যচিন্তা থেকে বেরোতে পারছি না। কালকে রাতে সাহেববাজারে গিয়েছিলাম। তিলের খাজা কিনতে। আরো টুকিটাকি জিনিস কেনা হল। দেখলাম আমি ধারসে কিনেই যাছি। থামাথামি নাই। প্রিয় মানুষদের জন্যে কেনাকাটায় ক্লান্তি থাকে না। খাজাই তো মনে হয় চার কেজি কিনে ফেলেছি। কেনাকাটা শেষে রাতের খাবারও খেয়ে নিলাম বাইরে।ফাস্ট ফুড টাইপের দোকান। মনে হয় বিশ্বখিদা লেগেছিল। চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর মাউন্টেন ডিউ পেটে চালান দেয়ার পর আব্বার জন্যে আসা ধোঁয়া ওঠা ফ্রাইড রাইস আর চিকেনের প্লেটটার অর্ধেক নিজের প্লেটে নামিয়ে আনলাম। খাওয়া মোটামুটি শেষ, এমন সময়ে চোখের কোনা দিয়ে দেখলাম ওয়েটার আরেক টেবিলের জন্যে থাই স্যুপ নিয়ে যাচ্ছে। এই তো লেগে গেল চোখের খিদা। অর্ডার দিলাম থাই স্যুপের। সেটার সদগতি করতে বেশি সময় লাগল না। আইসক্রিমও নেয়া যেত। খাবার পর মিষ্টি খাওয়া নাকি সুন্নত। যাইহোক মিষ্টিমুখ আর হল না। কারণ তাড়া ছিল। কিন্তু মন পড়ে থাকল আইসক্রিমের কাছে।

কালকে ব্যাস্ত দিন গেছে। সকাল নয়টায় জুবেরী হাউস থেকে বেরোলাম নাস্তা করতে। একটু হাঁটতেই পাওয়া গেল ইটালিয়ান হোটেলের সারি। তামান্না হোটেল আমাদের মনে ধরল। সেখানে পরাটা আর ডিম খেয়ে চায়ের জন্যে বলেছি। প্রায় সাত কি আ্ট মিনিট পর জানা গেল তামান্না হোটেলে চা পাতি নাই। কে যেন আনতে গেছে। তার ফিরতে দেরি হবে। দায়সারা ভঙ্গীতে এই তথ্য জানিয়ে দোকানের ম্যানেজার ডুবে গেল তার হিসেবের খাতায়। ভাবখানা এমন যেন নিউটনের ক্যালকুলাস মেলাচ্ছে! কি আর করা। বের হয়ে আসলাম হোটেল থেকে। সামনে দুই পা এগোতে চা পাওয়া গেল। শীতের সকালে তাড়িয়ে তাড়িয়ে চা খাওয়া একটা আনন্দদায়ক ব্যাপার। আমি কাঠের বেঞ্চে বসে পা দোলাতে দোলাতে দুধ চায়ে চুমুক দিতে থাকলাম। এই রকম একটা দিন ভাল না গিয়েই পারে না। চা পান পর্ব শেষ হল। রিকশা নিয়ে রওনা দিলাম ক্যাম্পাসের দিকে। দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন খুঁজে বের করতে হবে। ক্যাম্পাসের আয়তন বিরাট। রাজশাহী ক্যাম্পাস নাকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পাস। কথা মিথ্যা না। মুগ্ধ হয়ে গেলাম চারপাশ দেখতে দেখতে। সবুজ, গাঢ় সবুজ, হালকা সবুজ, ফ্যাকাসে সবুজ; কত ধরনের সবুজ দেখতে চাও!! বসন্ত কালে আসতে হবে এখানে। না জানি কি মারাত্মক অবস্থা হয় তখন। আবার আসতে হবে। মন স্থির করে ফেললাম।

দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন খুঁজে পাওয়া গেলো। তার চার তলায় বায়োকেমিস্ট্রি এ্যান্ড মলিক্যুলার বায়োলজি বিভাগ। খুঁজে পেতে পৌঁছে গেলাম এনভায়ারমেন্ট হেলথ সাইন্স ল্যাব। খালেদ স্যারের ল্যাব। আমার থিসিস সুপারভাইজার আমাকে পাঠিয়েছেন থিসিসেরই একটা কাজে। ছোট ল্যাব। কিন্তু গোছানো। সবার সাথে পরিচয় হল। খুব অমায়িক মনে হল সবাইকে। আব্বা আমার সাথেই ছিল। তাকে খালেদ স্যার জোর করে দিনের দ্বিতীয় কাপ চা খাইয়ে দিলেন। ফজল ভাইকে নিয়ে কাজে লেগে গেলাম। একটু পর খায়রুল ভাই এসে হাত লাগালেন। আব্বার সাথে কথায় কথায় বের হল সে হচ্ছে আব্বার খুব প্রিয় ছাত্র ফরিদের ভাগ্নে। দেখলাম তাদের বেশ ভাল খাতির জমে উঠেছে। তাও ভাল, আব্বার সময়টা খায়রুল ভাইয়ের সাথে গপসপ করে কেটে যাবে। আমার স্যাম্পল কম। কিন্তু তা দিয়ে যতগুলি টেস্ট করা যায় সেটাই উদ্দেশ্য। কাজের ফাঁকে ল্যাবের পিসি থেকে নেটে ঢুকলাম। ফেসবুক ঘাটাঘাটি করলাম। এর মাঝে ফজল ভাই চটপট চা বানিয়ে ফেললেন। এরপর আরো বার পাচেঁক চা কফি বানাতে হয়েছে তাকে। নইলে রাত আটটা পর্যন্ত টিকে থাকা মুশকিল। জোরাজুরি করে লাভ হল না। আমাকে চা বানাতে দেয়া হল না। তবে কাপগুলি ধুয়ে দিতে চাইলে আর আপত্তি করলেন না।

ল্যাবের পাট চুকিয়ে যখন বেরলাম তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে আটটা। খালেদ স্যার জোর করে সাথে তার এক ছাত্র দিয়ে দিয়েছেন। সে আমাদেরকে জুবেরী হাউসে নিয়ে যাবে। ভালই হল। নইলে এত বড় ক্যাম্পাসে আমরা বাপ-বেটি হারিয়ে যাব। যেতে যেতে দেখি সবুজ একটা আলো চোখের সামনে নাচছে। এটা কি?? আমি তো অবাক। একটু বাদেই বুঝলাম জোনাকি পোকা। কি যে মজা লগাল। মানুষেরো নিজেদের আলো থাকা দরকার। যখন ইচ্ছা জ্বালিয়ে রাখব, যখন ইচ্ছা নিভিয়ে দেব।

জুবেরী হাউসে ল্যাপটপ, খাতাপত্র ইত্যাদি নামিয়ে রওনা দিলাম সাহেববাজারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তার আগে বাসের টিকেট করে ফেলতে হবে। খালেদ স্যারের ছাত্র কিছুতেই যাবে না। টিকেট কাউন্টারে নিয়ে গিয়ে টিকেট করে দিয়ে সাহেববাজারের জন্যে রিকশা ঠিক করে দিয়ে তবে সে যাবে। ভাল নাছোরবান্দা লোক। কাউন্টারে গিয়ে দেখি লোকজন গালে হাত দিয়ে টিভি দেখছে। চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ না কি যেন হচ্ছে। লাইভ প্রোগ্রাম। রাজশাহী স্টেডিয়ামে নাকি প্রোগ্রামটা হচ্ছে। এজন্যেই রাস্তাঘাট এখনো সরব। তিন বার করে বলার পর খুব অনিচ্ছাসহকারে তাকালো লোকটা। দায়সারা ভাবে কোনো রকমে খসখস করে টিকেট লিখে দিল আমাদের। তার মন এখন আবার টিভি পর্দায়। ফৌজিয়া ব্রাউনিয়া নামের এক মহিলা উপস্থাপনার নামে প্রচুর কথা বলে যাচ্ছে। কথার তোড়ে আমার মাথা ধরে গেল। বাইরে বেরিয়ে এসে বাঁচলাম।

বাতাস কেটে রিকশা চলছে। পথের একপাশে পদ্মা নদীর বাঁধ। রিকশা থামিয়ে নামলাম। সিড়ি দিয়ে উঠে দেখি মাঠের মত জায়গা। প্যান্ডেল খাটিয়ে অনুষ্ঠান টাইপের কিছু একটার আয়োজন করা হচ্ছে। তাহলে পদ্মা কই? বুঝলাম না। মাতঙ্গিনী পদ্মা দেখা দাও। লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে নির্লিপ্ত উত্তর আসল, আরো দেড় কিলোমিটার হাঁটলে পরে পদ্মার দেখা মিলবে। সুতরাং ক্ষ্যামা দিলাম আমরা। ঠিক হল কালকে খুব ভোরে আসব। কিন্তু আমি তো আমাকে চিনি। ভোরে আমাকে হাতি দিয়েও টেনে তোলা যাবে না। তাছাড়া আজকে যে খাটুনি গেছে, এরপর ঘুমটা হবে মারাত্মক গাঢ়। মনে মনে পদ্মাকে বিদায় জানিয়ে আবার রিকশায় উঠলাম।

আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। বাসে এসি ছাড়া হয়েছে। এরা পাগল নাকি? শীতে ব্যাকা হয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে আমার। বাসের সিটে হাত-পা তুলে গুটিসুটি মেরে বসেছি। ঘুম দেই বরং ল্যাপটপের ঝাঁপি ফেলে।।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুন, ২০১৮ রাত ৮:০২

প্রামানিক বলেছেন: পেটের খিদা, মনের খিদা, চোখের খিদা খিদার অভাব নাই, ভালো লাগল লেখা। ধন্যবাদ

১৬ ই জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৮

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্যে।

২| ১৬ ই জুন, ২০১৮ রাত ৯:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: আমিও একা একা কোথা যাই না।
ঈদ মোবারক বোন।

১৮ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২১

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: ঈদ মোবারক আপনাকেও!

৩| ১৬ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:০৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার লেখা ভালো লাগেনি; এর আগেও কি একটা পড়েছিলাম, সেটাও বিরক্তিকর ছিলো

১৮ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৩

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: কিন্তু অকপট সরল মন্তব্য আমার ভালো লেগেছে। একটু বিস্তারিত সমালোচনা করলে ভবিষত্যে কাজে দেবে আমার। ধন্যবাদ।

৪| ১৬ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:০৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: রিম সাবরিনা জাহান সরকার ,




চমৎকার, গ্রীনলাইন ভলভোর মতো মসৃন বেগে লেখা ।
হ্যা.... মানুষেরও একটা নিজস্ব আলো থাকা দরকার । খুবই দরকার । যখন ইচ্ছে জ্বালিয়ে রাখা , যখন ইচ্ছে নেভানো..........

১৮ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৪

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: ঈদের মাঝে লেখা পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।

৫| ১৭ ই জুন, ২০১৮ সকাল ৭:২৬

nahih09 বলেছেন: আপনার লিখার প্রতিটা স্থান আমার চোখে স্পষ্ট আঁকা। আমি যেন আপনারা বাপ বেটিকে কল্পনা আর বাস্তবের মাছের অবস্থানে দেখছিলাম।

রাজশাহী আমার য্যেবনের শহর। ১১ বছর কাটিয়েছি এই শহরে। বাস স্ট্যান্ড, সাহেব বাজার, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, আইসক্রিম পার্লার, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এর তিলের খাজার দোকান টা, পদ্মা বাঁধ.. সব সব সবকিছু যেন এই তো দেখতে পাচ্ছি আপনার লিখায়।

অনেক ধন্যবাদ। মন টা ভালো হয়ে গেলো এই সাত সকালে ব্লগে এসে।

১৮ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৫

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: আমারো মন ভালো হয়ে গেলো আপনার ভালো লেগেছে জেনে।

৬| ১৮ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:২১

নিশি মানব বলেছেন: আমার স্বভাবটা আবার একটু অন্য রকম। একা একা সব কিছু করি।
একা করি। একা খাই। ঘুমাই। একাকী ঘুরে বেড়াই। সব কিছু একাই করতে ভালবাসি।
দলবল, সার্কেল আপনার কাছে কেমন যেন লাগে।

১৮ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৭

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: দলবল, সার্কেল ভীষন প্রিয়। মানুষ খুব ভালো লাগে। কিন্তু মৃদুভাষী বলে আড্ডার মধ্যমনি নই। ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্যে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.