নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাত বাড়ে, মাথার কাছের দেবদারু হয় অশ্বথ বৃক্ষ ..

রিম সাবরিনা জাহান সরকার

ভিনদেশী শহর ঘেরা স্ফটিকের দেয়াল// আটকে পড়া আমার হাজারো খেয়াল...।

রিম সাবরিনা জাহান সরকার › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইশকুলের দিনগুলি

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৪৮

(লেখাটি আঠারো বছর আগের!)

৯ মার্চ, ২০০০
বৃহস্পতিবার


প্রমিজ করছি এখন থেকে প্রতিদিন ডাইরী লিখবই লিখব। যদি না লিখি, তাহলে কান কেটে পাড়ার নেড়িটার গলায় ঝুলিয়ে দেব। কিন্তু লিখতে গেলেই যে সব গুলিয়ে যায়। কোনটা ছেড়ে কোনটা লিখব বুঝে উঠতে পারি না। আজকে একটা চেষ্টা নিয়ে দেখা যেতে পারে। একেবারে সকাল থেকে শুরু করি।

হলুদ বর্ডার দেয়া জাপানী কোয়ার্টজ টেবিল ঘড়িটা সবসময় আমার বিছানায় থাকে। সে হিসেবে তার নাম হওয়া উচিত ‘বিছানা ঘড়ি’। ঠিক করেছি তাকে আর টেবিল ঘড়ি ডাকব না। তার বিকট প্রিং প্র্যাং আর্তচিতকারে ধড়ফড় করে জ্যান্ত হয়ে উঠলাম। চোখ খুলে দেখি পৌনে আটটা। এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ালাম। স্কুল ইউনিফর্মটা আব্বুকে ইস্ত্রী করতে দিয়ে হাতমুখ ধুতে গেলাম। আমার জামা-কাপড় ইস্ত্রী করার এই কাজটা সে খুব আগ্রহের সাথে করে। নাকেমুখে কিছু একটা গিলে চলে গেলাম স্কুলে। প্রথম পিরিয়ডেই পরীক্ষা। সাধারণ গনিত। দিলাম আর কি। ভাল না খারপ হল বুঝে ওঠার আগেই শিবানী আপা এসে হাজির। আমার প্রিয় একজন মানুষ। বলা উচিত না কিন্তু বলেই ফেলি, বায়োলজি আমার ভাল লাগে না। তাই ক্লাসে আমি খুব অন্যমনস্ক। আমার ঝুলিতে শিবানী আপার বকা খাওয়ার অনেক তিতা-মিঠা অভিজ্ঞতা আছে। তারপরও ক্লাসে বসে ঘুম তাড়াতে আমি অক্ষম।

ইংলিশ ক্লাসে কিশোরীমোহন স্যারের অনুরোধে আনুশকা গান শোনালো। ওর গলা যে কি সুন্দর! আফসোস হল গান শিখি নি বলে। টিফিন টাইমে অমিয়কে পাওয়া গেল। তাকে কখনো অমিয় ডাকা হয়, কখনো মুনরবি। ওর নামটা সুন্দর, মুনরবি অমিয়। অমিয়র গানের গলা অসাধারণ। “ভালো আছি, ভালো থেকো”- এই গানটার একটা ফাজিল সংস্করণ লিখেছে আমাদের ধুমকেতুর ফাহিম। অমিয় গানটা দারুণ করে গাইতে পারে। আজকে ওকে দেখামাত্র পাকড়াও করলাম। গানটার লিরিক্স লেখালাম ডাইরীতে। ভাল কথা, অমিয়র টাইটেল দেয়া হয়েছে “লিটু আনাম”। মারাত্মক এই টাইটেল শুনে সে কি করে সেটা খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। তাহসীনার কাছ থেকে ফেয়ারওয়েলের দুইটা ছবি নেয়া হয়েছিল। নাভিদকে দিয়ে সেগুলো ডেভেলপ করানো হয়েছে। একটা ছবিতে শুধু ছেলেরা। আরেকটা সবার কম্বাইন্ড ছবি। ছবির মোটামুটি সবাইকে টাইটেল দেয়া হয়েছে। স্কুলের দারোয়ান আজিজ ভাইয়ের নাম অনুপম খের আর ঝন্টু ভাই শাহরুখ খান। রাশিন হল সালমান খান, আস-সাবা বাংলা সিনেমার ভিলেন আলেকজান্ডার বো আর আমাদের রুবাব হল এ্যাকশন হিরো রুবেল।

কালকে ফাইজা আর আমার নতুন উদ্যোগ Love Letter Agency (LLA) এর প্রথম চিঠিটা লেখা হল। আগের দিনও একটা লিখেছিলাম। “ক” কে দেয়া মাত্র সে দলা পাকিয়ে ফেলে দিয়েছে। ফাজিল! কিন্তু LLA’র ট্যাগ লাইনই হল “আমরা বিশ্বস্ততায় বিশ্বাসী, বাস্তবে নয়”। সুতরাং আরেকখানা পত্র রচিত হইল। সেটা অনেকটা এরকমঃ (‘অনেকটা এরকম’ বলছি একারণে যে এই চিঠিটাও সে টান মেরে ছিড়ে ফেলে দিয়েছে):

“ ৭৮৬/৪২০
যাও পাখি বলো তারে সে যেন ভোলেনা মোরে।
‘দোয়াগো’

Our dear ‘vatija’,

তোমার আবু-লাবু-বাবু চাচ্চু-চাচী আম্মাকে আমাদের কলিজা নিঙরানো শ্রদ্ধা ও সালাম জানিয়ে পাঁটের আশঁ দিয়ে কৃতজ্ঞতাপাশে বেঁধে দিবে। আনোয়ার স্যার কিংবা মালাইকারি (মালাকার) আপা- এ দু’জনের মধ্যে যার মাথায় চুল কম তার চুলের সমান, মানে তত পিকোসেকেন্ড তোমার পরমায়ু হোক।

পর সমাচার এই যে, গতকাল কার কাছে যেন শুনলাম তুমি নাকি শনিবারে শনির আখড়ার বিখ্যাত স্যুয়েজ পাইপের কাছে ডাকু দল হালাকু খাঁ কর্তৃক ধৃত হয়ে সর্বস্ব খুঁইয়েছ (inside+outside)। আঃহারে, চুক চুক চুক...
এবার কাজের কথায় আসি। নান্দাইলের ইউনুস তোমাকে দেখতে চেয়েছে। আগামীকাল মাঝরাতে গুলিস্তানের গলাচিপা গলিতে পৌনে তিন নাম্বার টিউবলাইটের থাম্বার পাশের লজ্জাবতী গাছের তলে বোরখা পরে রামদা হাতে সে অপেক্ষায় থাকবে। সুতরাং বুঝতেই পারছো, এই যে দুনিয়া/কিসের লাগিয়া। দে দৌড়! তুমি আর বেশিদিন নাই।

ইতি
কষ্টে আছি আইজুদ্দিন

কাগজের উল্টা পৃষ্ঠায় লিখে দিয়েছিলাম, “আমরা বিশ্বস্ততায় বিশ্বাসী, বাস্তবে নয়।“
অনেক রাত। কিছুই পড়ি নাই আজকে। লেখাপড়া যে করি না সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে! তাতে খুব বেশি কিছু আসে যায় না আমার। কারণ আমি বাস্তবে বিশ্বাসী না। LLA effect!!

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: আহারে---
আপনার লেখা পড়ে আমার স্কুল জীবনের কথা মনে পড়ে গেল।

আহা কি আনন্দময় দিনই না পার করেছি!!!

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:২০

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: আসলেই, কি দারুন তিড়িং বিড়িং ফড়িং জীবন ছিল...।

২| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:২২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: এইটা কি আসলেই আপনার স্কুল ডায়েরি???

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:২২

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: জী, বহু পুরানো। ডাইরি লেখার ঝোঁক ছিল তখন। লেখাটার শুরুতে একটা লাইন যোগ করেছি, দেখুন।

৩| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৩৮

কাইকর বলেছেন: খুব খারাপ লাগতেছে এখন।কত না মজা করতাম স্কুল জীবনে

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:২৪

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: সময়টাও অনেক বেশি সহজ সরল ছিল। যন্ত্রপাতির ভিড়বিহীন মজার শৈশব।

৪| ২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০০

পদ্ম পুকুর বলেছেন: এইটা যদি আপনার স্কুলের ডায়েরির লেখা হয়ে থাকে, তাহলে সত্যি বলছি আপনার বিজ্ঞানের খটোমটো সাবজেক্টে পড়া একদমই উচিৎ হয়নি। ক্রিয়েটিভ কিছুর সাথে যুক্ত থাকলে ভালো করতেন। সিরিয়াসলি বলছি।

২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:২১

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: কিন্তু আমার তো এই খাম খেয়ালী বিচ্ছিন্ন লেখালিখিই ভালো লাগে। বিজ্ঞানের বদৌলতে একটা নিরেট পেশাদার জীবন থাকাও একদম খারাপ না। প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছাড়া কলম চালানো যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.