নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Our sweetest songs are those that tell of saddest thought (Shelly).

রূপক বিধৌত সাধু

মন রে, কৃষিকাজ জানো না; এমন মানবজমিন রইলো পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা! রামপ্রসাদ সেন

রূপক বিধৌত সাধু › বিস্তারিত পোস্টঃ

গরুচোর ও খুনিসকল

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:০৩


এক গ্রামে আব্বাস ও মনসুর নামে দুইজন গরুচোর ছিলো । তাহারা ছিলো অন্তরঙ্গ বন্ধু । গরু চুরি তাহাদের শুধু পেশাই ছিলো না, নেশাও ছিলো বটে ।
তখন ছিলো পৌষ মাস । শীত একেবারে জাঁকিয়া বসিয়াছে । সন্ধ্যা হইতেই কুয়াশা পড়িতে আরম্ভ করে । ভারি ভারি শীতবস্ত্র পরিধান করিলেও শীত কাটিতে চাহে না ।
একরাত্রে শীতবস্ত্র পরিধানপূর্বক গরু চুরি করিতে বাহির হইলো আব্বাস ও মনসুর । আব্বাসের হস্তে ছোট্ট একখানি টর্চ আর মনসুরের হস্তে শক্ত একটি লাঠি ।
কিছুদূর আসিয়া মনসুর জানিতে চাহিলো, “আইজ কোন বাড়িত যামু আমরা?”
আব্বাস কিছুক্ষণ চিন্তা করিলো, অতঃপর ধীরে ধীরে বলিলো, “আইজ যামু আমজাদের বাড়ি । হের সুন্দর একটা ষাঁড় আছে ।”

তখন মধ্যরাত্রি! কুয়াশায় ঢাকা ছিলো চারিদিক । কুয়াশাগুলি তুষারের মতন ঝরিয়া পড়িতেছিলো।
মনসুর বলিলো, “আমার খুব শীত লাগতাছে ।”
“গায়ে তো কাপড় আছে, তারপরও এত শীত তোর, চুরি করতে আইলি কেন?” রাগান্বিত হইয়া নিজের গায়ের চাদরখানি মনসুরকে দিয়া দিলো আব্বাস ।

সম্মুখেই আমজাদের বাড়ি । তিনি বেশ প্রতাপশালী লোক, তাহার প্রচুর জায়গা-জমি, টাকা-পয়সা আছে । ছেলেমেয়েরা শহরে থাকিয়া পড়ালেখা করে ।
অন্য কোনদিন এই বাড়ির আশপাশে কোন আগন্তুক আসিলে কয়েকটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করিয়া উঠে । কিন্তু আজ একটি কুকুরও দেখা যাইতেছে না কেন? কোথায় গেলো সব কুকুরের পাল? একদিক দিয়া ভালোই হইলো, নিশ্চিন্তে কার্যসম্পাদন করা যাইবে ।
একটি কুকুর বারান্দায় পরম আরামে ঘুমাইতেছিলো । তাহার সহিত তিন-চারিটি বাচ্চা । দুয়েকদিন হইয়াছে হয়তো বাচ্চা প্রসব করিয়াছে । বাচ্চাদিগকে লইয়াই মা কুকুর অতিব্যস্ত, কে আসিলো, আর কে গেলো- সেইদিকে তাহার ভ্রূক্ষেপ নাই ।

গোহালঘরের দিকে অগ্রসর হইলো আব্বাস ও মনসুর । দুইজনেই প্রচন্ডভাবে বিস্মিত, তবে খুশিই হইলো । গোহালঘরে কোন তালা লাগানো ছিলো না । গৃহকর্তা বোধহয় তালা লাগাইতে ভুলিয়া গিয়াছিলেন । ভালোই হইলো, তালা ভাঙ্গার ঝামেলায় আর যাইতে হইলো না ।
প্রহরীর মত লাঠি হস্তে বাহিরে দাঁড়াইয়া রহিলো মনসুর । দুয়ার খুলিয়া ধীরে ধীরে গোহাল ঘরে প্রবেশ করিলো আব্বাস । টর্চ মারিয়া মোটাসোটা সাদা ষাঁড়টিকে দেখিতে পাইলো সে । খুঁটিতে বাঁধা ষাঁড়টি খড় চিবাইতেছিলো । আব্বাস মনে মনে ভাবিলো, “এইডা বেইচা ভালা দাম পাওয়া যাইব ।”
চুপি চুপি ষাঁড়টি লইয়া দরোজাটি চাপাইয়া পথে নামিয়া আসিলো আব্বাস ও মনসুর ।

প্রত্যূষ হইয়া আসিবে । গৃহকর্তা গরু বাহির করিতে যাইবেন । তিনি চমকিত হইয়া উঠিবেন, যখন দেখিবেন গোয়ালঘরের দুয়ার খোলা । তাহার মনে পড়িবে, গত রাত্রিরে গোয়াল ঘরে তালা দেওয়া হয় নাই । হঠাৎ তাহার নজর পড়িবে বাড়ির বারান্দায়, যেইখানে পোষ্য কুকুরটি সদ্য প্রসবিত বাচ্চাদিগকে লইয়া আরামে ঘুমাইয়া আছে । উদাস মনে তিনি গোহাল ঘরে ঢুকিবেন । ষাঁড়টি যেইখানে বাঁধা ছিলো, না থাকিলেও সেইখানে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকিবেন । তাহার খুব কান্না পাইবে । কারণ, পালিত পশুর জন্য মানুষের খুব মায়া থাকে । পালিত পশু নিজ সন্তানসম ।
গৃহকর্ত্রী দৌড়াইয়া বাইরে আসিবেন । তাহার সন্তানেরাও আসিবে । মাতা যখন উচ্চস্বরে বিলাপ করিবে, তাহারা সান্ত্বনা দিবে । গৃহকর্তা চুপচাপ বসিয়া শোক করিবেন । পাড়াপড়শিরাও আসিবে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য । বড় পুত্রটি গরুর খোঁজ-খবর আনার জন্য চারিদিকে লোক পাঠাইবে ।

গ্রাম থেকে অনেক দূরের এক হাটে গরুটি বিক্রি করা হইলো । হাটের লোকজনের সাথে আগে থেকেই জানাশোনা ছিলো, এইখানে আগেও তাহারা চুরিকৃত গরু বিক্রি করিয়াছে । আশি হাজার টাকা পাওয়া গেলো । ভাগাভাগি করিয়া যে যাহার বাড়ি চলিয়া গেলো ।

আব্বাস যখন তাহার বাড়িতে পৌঁছিল, তখন প্রায় সন্ধ্যা । তাহার স্ত্রী মরিয়ম রাত্রির খাবার রাঁধিতেছিলেন । আব্বাস ধপাস করিয়া বারান্দায় মাটিতে বসিয়া পড়িলো ।
মরিয়ম নিকটে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কী হইছে আপনের?”
আব্বাস চুপচাপ বসিয়া রহিলো ।
মরিয়ম পুনশ্চ জিজ্ঞাসা করিলেন, “ধরা-টরা খাইছেন নাকি?”
আব্বাস বিরক্ত হইয়া বলিলো, “আরে ওইসব কিচ্ছু না!”
মরিয়ম জিজ্ঞাসা করিলো, “সারাদিন কই আছিলেন?”
আব্বাস স্বাভাবিকভাবেই বলিলো, “রাইতের মাল খালাস কইরা বেচতে গিয়াই দেরি অইলো ।
মরিয়ম জিজ্ঞাসা করিলেন, “কত বেচলাইন?
আব্বাস বলিল, “আশি হাজার । এই লও চল্লিশ হাজার টেহা, ঠিকমতন তুইল্যা রাইখ্য । দিনকাল ভালা না ।” কোঁচ হইতে টাকার বান্ডেলটি খুলিয়া স্ত্রীর হস্তে তুলিয়া দিলো আব্বাস ।

রাত্রিরে খাওয়া দাওয়ার পর বিছানায় শুইয়া আরাম করিতেছিলো আব্বাস । আজ আর বাহিরে যাইবে না সে । মনসুর আসিয়াছিলো, তাহাকে না করিয়া দিয়াছে । শরীরটি বড্ড যন্ত্রণায় ফেলিয়াছে ।
মরিয়ম পোশাক-পরিচ্ছদ গোছাইতেছিলেন । হঠাৎ বলিয়া উঠিলেন, “আইচ্ছা, আপনে এই গরু চুরির কামডা ছাইড়া দিবার পারেন না?”
পান চিবাইতে চিবাইতে আব্বাস জিজ্ঞাসা করিলো, “হঠাৎ এই প্রশ্ন!”
মরিয়ম বলিলেন, “ঘরে একটা যুবতী মাইয়া আছে, ওরে বিয়া দিতে অইবো না? চোরের মাইয়ারে কোন বাপের পুতে বিয়া করবো? আর ছেলেডারও তো একটা ভবিষ্যৎ আছে, না? লোকজন যদি আমাগো সম্পর্কে জাইনা যায়, তাইলে কি আমগোরে আস্ত রাখবো?’’ তাহার কণ্ঠ নামিয়া গেলো ।
আব্বাসের কণ্ঠস্বর এইবার ভারি হইলো, সে বলিলো, “তুমি তো সবই জানো । আমাগো অবস্থা কী খারাপ আছিলো! দিন আনতাম দিন খাইতাম । নুন আনতে পান্তা ফুরাইতো । অনেক সময় ঘরে খাওন থাকতো না! মাইনষের বাড়ি থাইকা কর্জ করতে অইতো, কত খুঁটা-ধাক্কা! কেউ আবার কুত্তার মত ধুর ধুর কইরা তাড়াইয়া দিতো । মানুষ হিসাবে সামান্য মূল্যও পাইতাম না ।” আবেগাপ্লুত হইয়া পড়িলো আব্বাস । এইবার একটু দম নিলো, অতঃপর বলিতে লাগিলো, “এখন দেখো আমাগো কত গুণগ্রাহী, কত বন্ধু-বান্ধব । এখন যদি ধার চাই, সানন্দে দেয়; অথচ দুঃসময়ে কেউ পাশে আছিলো না!” আব্বাস অশ্রুসিক্ত হইয়া পড়িলো ।
মরিয়ম তাহার মাথায় হাত বুলাইয়া দিলেন; অতঃপর বলিলেন, “এখন মানুষ জানে না আপনে কী করেন । যখন জানবো, আপনারে বাঁচবার দিবো না । আপনে মরলে আমি পোলা-মাইয়া লইয়া কই যামু? আপনের পায়ে ধরি দয়া কইরা চুরিডা ছাইড়া দেইন । আমগোর এত টেহা-পয়সার দরকার নাই । দরকার পড়লে না খাইয়া থাকমু, তারপরও ইজ্জতের লগে বাঁচবার চাই ।” মরিয়ম কাঁদিতে কাঁদিতে বাহিরে চলিয়া গেলেন ।

পুকুরপাড়ে বসিয়া সকালের রুদ্র পোহাইতেছিলো আব্বাস । সে উপলোব্ধি করিয়াছে, চুরি করা অতি জঘন্য কাজ । সে মনস্থির করিয়াছে, জীবনে আর কখনোই চুরি করিবে না । তাহার স্ত্রী পুষ্করিণীর ঘাটে বসিয়া তালা-বাসন মাজিতেছিলেন । মনের কথা কি এখনই স্ত্রীকে জানাইয়া দিবে? না থাক, রাত্রিরে জানাইলেই হইবে ।
হঠাৎ মনসুরকে দেখা গেলো । সে সাজগোজ করিয়া কোথায় যেন যাইতেছিলো । আব্বাস তাহাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলো, “কই যাস রে, মনসুর?”
মনসুর বলিলো, “একটু শ্বশুর বাড়ি যাইতাছি, দোস্ত! যাইবা নাকি আমার লগে? পাড়ায় নাকি নাটক অইবো ।”
আব্বাস উদাসভাবে বলিলো, “না রে, মনডা ভালা না । তোর বউ গেলো না?”
মনসুর হাসিয়া বলিলো, “হের বাপ আইছিলো । বাপের লগে দুইদিন আগেই চইলা গেছে । আইচ্ছা, যাইগা । দোয়া রাইখো ।”

থালা-বাসন মাজা শেষ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন মরিয়ম । যাওয়ার সময় স্বামী আব্বাসকে তাড়া দিয়া গেলেন যেন সেলুন হইতে চুল-দাড়ি পরিষ্কার করিয়া আসে ।

“এই পায়খানা পরিষ্কার করাবেন, পায়খানা পরিষ্কার করাবেন ।” জনৈক মেথরের চিল্লাচিল্লি শোনা গেলো । আব্বাস সবে চুল-দাড়ি কামাইতে সেলুনের দিকে যাইতেছিলো । পথে মেথরের সহিত দেখা ।
আব্বাস তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “নাম কী তোমার?”
মেথর বলিলো, “বিমল” ।
আব্বাস আবার জিজ্ঞাসা করিলো, “বিয়ে-শাদী করেছো?”
বিমল বলিলো, “হ ।”
আব্বাস জিজ্ঞাসা করিলো, “পোলাপান আছে?”
বিমল বলিলো, “হ, দুই মাইয়া আর এক পোলা ।”
আব্বাস জিজ্ঞাসা করিলো, “এই কাজ করতে কেমুন লাগে?”
বিমল বলিলো, “ভালাই লাগে । আমি এহন যাই ।”
আব্বাস বুঝিলো, চুরি অপেক্ষা মেথরগিরি করা ঢের ভালো ।

চায়ের দোকান হইতে চা খাইয়া সেলুনে ঢুকিলো আব্বাস । একজনের দাড়ি কামানো প্রায় শেষ । তাহার পরেই আব্বাসের সিরিয়াল । আপাতত টেলিভিশন দেখিতেছিলো সে ।
আব্বাসের চুল কাটা শেষ হইলো । এখন দাড়ি কামানোর পালা । সবেমাত্র চিবুকের একপাশের দাড়ি কামানো হইয়াছে, হঠাৎ বাহিরে প্রচণ্ড শোরগোল শুরু হইলো । কী হইয়াছে দেখিতে নরসুন্দর বাহিরে গেলো, আর ফিরিলো না । অবস্থা বেগতিক দেখিয়া পালাইয়াছে ।
একজন দৌড়াইয়া আসিয়া বলিলো, “আব্বাস ভাই, জলদি পালান ।” ছেলেটি মনসুরের চাচাত ভাই । আব্বাস পালাইলো না । নির্বিকারভাবে দাঁড়াইয়া রহিলো ।
তিন-চারিজন লোক আসিয়া আব্বাসকে ঘাড় ধরিয়া সেলুন হইতে বাহির করিয়া আনিলো । কিল-ঘুষি মারিতে মারিতে টানিয়া হেঁচড়াইয়া বাজারের মধ্যিখানে নিয়া গেলো । তাহাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করিতে লাগিলো । “তোরে আমরা ভালা মানুষ জানতাম, কিন্তু তুই একটা চোর ।” বলিয়াই তাহার উপর সকলে ঝাঁপাইয়া পড়িলো, মধ্যযুগীয় কায়দায় প্রহার আরম্ভ করিলো । সে কী নির্যাতন! লোকজন তাহার শরীরের হাড়গোড় ভাঙ্গিয়া ফেলিলো, হাত-পা ছিঁড়িয়া ফেলিলো । শত শত মানুষের সম্মুখে তাহাকে বিবস্ত্র করা হইলো । হাতুড়ি দিয়া মাথা থেতলাইয়া দেওয়া হইলো, ফিরিঙ্গি দিয়া রক্ত বাহির হইতেছিলো । দুই বাঁশের চিপায় যৌনাঙ্গ রাখিয়া চাপা দেওয়া হইলো যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রাণ যায় । মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও লাঠি দ্বারা আঘাত করা হইতে থাকিলো । মৃত্যুর পূর্বে একফোঁটা জল চাহিয়াছিলো অভাগা । মৃত্যুপথযাত্রীকে একফোঁটা জল দিতে কাহারও প্রাণে সামান্য করুণারও উদ্রেক হয় নাই ।
গল্পের লেখক উক্ত ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন । ঘটনাটি ঘটিয়াছিলো মুসলমানদের অতি পবিত্র রমজান মাসে ।
হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হওয়ার পর পুলিশ আসিয়া লাশটি থানায় লইয়া যায় । পুলিশই আবার মুর্দার বাড়িতে পৌঁছে দেয় । লাশটি দাফন করার মত কোন লোক পাওয়া যায় নাই । মাতা-কন্যা-পুত্র মিলিয়া লাশটি মাটি চাপা দিয়াছিলো ।

১৭ ডিসেম্বর ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
ভালুকা, ময়মনসিংহ ।



















মন্তব্য ৪২ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৪২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১০

শায়মা বলেছেন: চোর ও খুনিসকল! :(

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৫

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: হুম।

ওহহো! লেখাটার শিরোনাম কি "গরুচোর ও খুনিসকল" দেওয়া যায়?

২| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১৭

বিষাদ সময় বলেছেন: চুরি করা অত্যন্ত গর্হীত কাজ। একজন চোরকে সামান্য উত্তম মধ্যম দেয়ারও প্রয়োজন আছে, তবে যারা কোন মানুষকে এভাবে অত্যাচার করে তারা ঐ চোরের চেয়েও নিকৃষ্ট।
অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ঘটনা। অবশ্য এ দেশে এরকম ঘটনা হরহামেশা ঘটছে।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৬

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: যথার্থই বলেছেন।

৩| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১৯

চাঁদগাজী বলেছেন:

"প্রত্যূষ হইয়া আসিবে । গৃহকর্তা গরু বাহির করিতে যাইবেন । তিনি চমকিত হইয়া উঠিবেন, যখন দেখিবেন গোয়ালঘরের দুয়ার খোলা । তাহার মনে পড়িবে, গত রাত্রিরে গোয়াল ঘরে তালা দেওয়া হয় নাই । হঠাৎ তাহার নজর পড়িবে বাড়ির বারান্দায়, যেইখানে পোষ্য কুকুরটি সদ্য প্রসবিত বাচ্চাদিগকে লইয়া আরামে ঘুমাইয়া আছে । উদাস মনে তিনি গোহাল ঘরে ঢুকিবেন । ষাঁড়টি যেইখানে বাঁধা ছিলো, না থাকলেও সেইখানে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকিবেন ।"

-একটা প্যরাগ্রাপে "ভবিষ্যত কাল" কেন ব্যবহার করা হয়েছে?

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৭

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ভবিতব্য তো এমনটাই ছিলো; বিশেষ কোন কারণ নেই।

৪| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:২৮

সুমন কর বলেছেন: সত্য ঘটনা বুঝি? গল্প হিসেবে ভালো হয়েছে। তবে শেষে চোরকে মেরে ফেলাটা সমর্থন করিনা।
+।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০০

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: হুম। সত্য ঘটনা। আরও একটা ঘটনা উল্লেখ করছি Click This Link

৫| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৩০

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মর্মষ্পর্শী!!

রমজানের মাহাত্ব বোঝার লোক কই! এখানে ধর্মরে জন্য মানুষ- মানুষের জন্য ধর্ম নহে!

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১২

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: অনেক লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলো। কী অমানবিক!

৬| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৩৫

ওমেরা বলেছেন: আব্বাসের পাপের শাস্তি সে পেয়েছে । আব্বাসের খুনীদের কি হল ?

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১৪

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে একটা অপমৃত্যু মামলা হয়েছিলো।

৭| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০০

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: সেই ছোটবেলা থেকেই মসজিদের জুতা চোর, পকেটমার দের গনপিটুনি সহ্য করতে পারি না। কেন যে মানুষ এত নিষ্ঠুর হয়...

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১৭

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: অথচ রাষ্ট্রীয়ভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হলে এদের ভ্রুক্ষেপ নেই!

৮| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০০

শায়মা বলেছেন: যায়!

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১৮

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ঠিক আছে।

৯| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০২

বিলিয়ার রহমান বলেছেন: ভালা লিখছেন ব্রো!:)

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২০

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকুন নিরন্তর।

১০| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: উত্তম পুরুষে আরও একটা নির্মম ঘটনার বয়ান
http://www.somewhereinblog.net/blog/rupakbidhoutsadhu/30084901।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৫

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ২০০৫ সালের দিককার ঘটনা Click This Link

১১| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৫৫

মনিরা সুলতানা বলেছেন: অমানবিক !
ভালোলিখেছেন ।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:২৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: শুভেচ্ছা জানবেন।

১২| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০৬

প্রামানিক বলেছেন: এটা কি আপনার গ্রামের ঘটনা?

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:২৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: হুঁ!

১৩| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:১৬

কথাকথিকেথিকথন বলেছেন:



ইদানিং তো এমন ঘটনা প্রকট । খুবই দুঃখজনক ।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:২৬

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: সামান্য জুতা চুরির অপরাধেও মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আর গরু চুরি কোন ছাড়!

১৪| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ২:১৬

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: '৭০দশকের কিছু কথা মনে পরে গেলো!! সেই হাইজ্যাকার আর আব্বাসের মৃত্যুও একই নিয়তি!!

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ ভোর ৬:৪৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: এমন সব ঘটনা প্রায়শই আমাদের আশপাশে ঘটছে।

১৫| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ ভোর ৬:৩৮

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: মর্মস্পর্শী!

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ ভোর ৬:৪৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: তা বটে।

১৬| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:১১

রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম। অনেকদিন পর এই রকম গল্প পড়লাম।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:০১

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: শুভেচ্ছা অফুরন্ত।

১৭| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:২২

নীলপরি বলেছেন: মর্মস্পর্শী ও করুণ । পাপকে ঘৃণা করো , পাপীকে নয় । মানুষ , এতোটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে যে এসত্য ভুলে গেছে । করুণা
শুধু আব্বাসের জন্য নয় , তার খুনিদের জন্য । কারণ তারা বড়ো চোরদের বিরূদ্ধ কোনোদিন প্রতিবাদ না করতে পারার জন্য হতাশাগ্রস্থ ছিল । দুর্বল আব্বাসকে মেরে সেই হতাশা থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিল । বিচার করতে চায়নি ।

আপনার উপস্থাপণা ভালো হয়েছে ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫৩

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: চোরেরাও যে মানুষ, ভুলে যায় অনেকেই।

১৮| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:২৪

নীলপরি বলেছেন: লিঙ্কের লেখাটাও পড়েছি ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫৪

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: শুভেচ্ছা।

১৯| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৩

জাহিদ অনিক বলেছেন:



ঘটনাটি লেখক দেখেছিলেন এবং সেই সূত্র ধরেই গল্পটি লেখা। গল্প ভাল হয়েছে। লেখকের লেখনী সার্থক, একজন চোরের জন্য পাঠক সিমপ্যাথি পাওয়া গেছে।


লিখেছেন, চোর চার বৌ এর কথা শুনে এবং বিবেকের তাড়নায় মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে সে আর চুরি করবে না। সে একজন মেথরের সাথে আলোচনা করেন এবং মনেমনে ভাবেন যে, চুরি হইতে মেথরগিরি উত্তম।

এইটুকু লেখকের খেল। যা না হলে পাঠক সিমপ্যাথি পাওয়া যেত না। তবে চুরি হইতে নিশ্চয়ই হত্যা জঘন্য।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫৫

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: চমৎকার মন্তব্যে ভালো লাগা!

২০| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩

জেন রসি বলেছেন: নির্লিপ্ত ভাবে গল্পটা বলে গেলেন। গল্পে সাধু ভাষার ভুলে যাওয়া স্বাদটাও মনে করিয়ে দিলেন।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫৬

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো।

২১| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৮

শখের লেখায় ২৩৪৩ বলেছেন: খুন করা এখন হাতের ময়লা পরিস্কার করার মত সোজা ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৫৭

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: মানুষ দিনদিন অমানুষে পরিণত হচ্ছে!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.