নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ফেসবুকে আমি - রিয়াদুল রিয়াদ (শেষ রাতের আঁধার)

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার )

কিছু মানুষ অন্য মানুষকে মুগ্ধ করার অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। আর কিছু মানুষের ভিতর এই ক্ষমতা কখনই আসে না। আমি দ্বিতীয় দলের মানুষ। কাউকে মুগ্ধ করার মত কিছু কখনই করতে পারি না। কেউ অনেক সুন্দর গান গায়, আমি শুধু শুনে যাই। কেউ অনেক সুন্দর নাচে, আমি শুধু হাত তালি দিয়ে যাই। কেউ অনেক সুন্দর লেখে, আমি শুধু ভেবে যাই, কী করে এত ভালো লেখে কেউ? আমিও লিখি। তবে তা কাউকে মুগ্ধ করার মত কিছু না। আমার লেখায় আমার ভালোবাসা ছাড়া কিছুই নেই। পড়াশুনা শেষ, বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হয়ে চাকরি, বিয়ে, পেশা পরিবর্তন সব হয়েছে। লেখালেখির ধারাবাহিকতায় চারখানা উপন্যাস অমর একুশে বইমেলায় বেরিয়েছে। টুকরো ছায়া টুকরো মায়া (২০১৫) – সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার । একা আলো বাঁকা বিষাদ (২০১৬) – সামাজিক উপন্যাস । মধ্য বৃত্ত (২০১৮) – ডিটেকটিভ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার । অভিসন্ধি (২০২০) – ক্রাইম থ্রিলার । দেশটাকে ভালোবাসি অনেক। অনেক মায়া কাজ করে। মাঝে মাঝে ভাবি, সব বদলে দিতে পারতাম। স্বপ্নের মত না, বাস্তবের মত একটা দেশ গড়তে পারতাম …………………………

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ) › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছোটগল্পঃবিস্মৃতি

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫৩

ভাঙা কালভার্টের উপর পাশাপাশি বসে মুখোমুখি তাকিয়ে রইল দুজন। কালভার্টের নিচ দিয়ে যাওয়া ময়লা পানির দিকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে শান্ত স্বরে মিমি বলল, আবার কী কাজে এসেছ?
নাসির আশেপাশে তাকাল। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে প্রায়। চারপাশের আবছা আলো আঁধারের খেলা। ময়লা জামার পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে, কাঁপা হাতে ধরিয়ে, ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল, কাজেই আসতে হবে? তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করতে পারে না?
ঝি ঝি পোকার ডাকের সাথে তাল মিলিয়ে মুখে শব্দ শব্দ করতে করতে একটা সাত আট বছরের ছেলে চলে গেল মিমি আর নাসিরের সামনে দিয়ে। চলে যাবার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করে বলল, তুমি যে কোন কাজে এসেছ, এটা আমি জানি। দ্রুত বল। আমার যেতে হবে।
- সিগারেটের ধোঁয়ায় তোমার সমস্যা হচ্ছে না তো?
- তুমি খাচ্ছ, তোমার সমস্যা না হলে আমার সমস্যা কী?
- আচ্ছা, তাও কথা।
নাসির থেমে রইল কিছুক্ষণ। আবার এদিক ওদিক দেখল। মফঃস্বলে সবাই সবার পরিচিত থাকে না। এ এলাকায় নানা মিল কারখানা। দেশের নানা জায়গা থেকে লোক আসে, কাজের সন্ধানে। তাই অপরিচিত কারও দিকে কেউ গ্রামাঞ্চলের মত সূক্ষ্ম চোখে তাকায় না। কিন্তু এই মফঃস্বলে এখনও সন্ধ্যার পর দুজন ছেলে মেয়ের একসাথে বসে থাকাটা সিদ্ধ হয় নি। তাই যে যাচ্ছে আড়চোখে কিংবা আগ্রহের দৃষ্টি নিয়ে দেখার চেষ্টা করছে নাসির আর মিমিকে। মিমি তাড়া দেয়, দেখো, লোকজন কীভাবে তাকাচ্ছে। তুমি কী বলবে বল। আমি চলে যাব।
- তুমি প্রতিবার এতো ব্যস্ততা দেখাও কেন আমি বুঝি না। আমার সাথে খানিক সময় থাকলে তাতে কিইবা এতো ক্ষতি হয় তোমার?
- অনেক ক্ষতি হয়, ঠিক আছে? আর আসার সময় আমাদের বাসার দো তলার হাশেম ভাইও আমাকে দেখেছে আসতে।
- দেখুক তাই কী?
- তাই অনেক কিছু। ছয়টা পেরিয়ে গেল কিন্তু।

নাসির সিগারেটের ফিল্টার পায়ের তলায় ফেলে, ধপ করে মিমির হাত দুটো ধরে ফেলল।
- মিমি, চল না আমরা পালিয়ে যাই।
নাসির আশা করেছিল মিমি খুব জোরাজোরি করবে হাত ছাড়াবার জন্য। মিমি তেমন কিছুই করল না। ছোট একটা নিঃশ্বাস গোপন করে বলল, পাগলামি কোরো না নাসির। যে জিনিস সম্ভব না, সেটা নিয়ে কেন এমন করছ?
- সম্ভব, তুমি সম্ভব করলেই সম্ভব।
- কত লাগবে তোমার?
নিঃস্পৃহ দৃষ্টি ছুঁড়ে প্রশ্ন করে মিমি। নাসির মিমির হাতটা ছেড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মিমির সাথে ভালবাসা সেই কলেজ জীবন থেকে। যথারীতি সমবয়সী। প্রেম গুলো হয় কেন যেন সমবয়সীদের, বয়সে বড় একটা ছেলেকে প্রেমিক হিসেবে কেমন যেন মানায় না। অথচ বিয়ে গুলো হয় বয়সের পার্থক্য রেখেই। একটা মেয়ের যখন বিয়ের বয়স, সমবয়সী একটা ছেলেকে তার পাশে ঠিক বিয়ের পাত্র হিসেবে মানায় না। ঢাকায় ভার্সিটিতে চান্স পেল নাসির, মিমি পেল না। তাই মিমিকে বিয়ের জন্য তোরজোড় করতে লাগল বাসা থেকে। নাসিরের ক্ষেত্রে তেমন হল না, হবার কথা না। নাসিরের বিয়ের জন্য তোরজোড় চলবে যখন চাকরি করবে, মাসে মাসে মোটা অঙ্কের টাকা কামাবে তখন। নাসির যেদিন ঢাকায় চলে আসবে, সেদিন মিমির সাথে দেখা করে।
- প্রতি সপ্তাহে আসবে তো?
- তা তো জানি না।
- সপ্তাহে না দুই দিন বন্ধ তোমাদের?
- হ্যাঁ, বন্ধ ঠিক আছে। ঢাকায় যাচ্ছি। বাবা মায়ের টাকায় আর কত দিন? দেখি বড় ভাইদের ধরে যদি একটা টিউশনি যোগাড় করতে পারি, সেটাকে তো বন্ধের দিন গুলোতেই পড়াতে হবে।
- তাহলে আসবে কবে?
অভিমানের সুরে বলে মিমি। নাসির একটা ছোট হাসি দিয়ে বলে, তোমার যেদিন দেখতে ইচ্ছা করবে বলবে। আমি চলে আসব। এ আর কতটুকু দূর? কাছেই তো ঢাকা।
- যদি প্রতিদিন দেখতে ইচ্ছা করে?
- প্রতিদিন আসব তুমি বললে।
- বাসা থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে।
- আরে চিন্তা কোরো না। বাসায় একটু বলে কয়ে বছর চারেক কাটাতে পারো কিনা দেখো। এর মধ্যে তো আমি পাশ করে বেরিয়েই যাব।
- যদি না পারি?
- পারবে, বড় বড় লেখক কবিরা বলেছেন, মন থেকে কাউকে চাইলে, তাকে নাকি পাওয়া যায়।
- যদি না পেলে?
- তবে আর কী? পড়ালেখা ছেড়ে পাগল হয়ে ঘুরব। নেশা করে তাল মাতাল হয়ে থাকব। টাকা না থাকলে তোমার বাসায় গিয়ে বলল, মিমি কিছু টাকা দিবে? খুব খারাপ যাচ্ছে দিন।
ফাজলামির ছলে বলা কথাটা সত্যি হয়ে গেল। টুপ করে মিমির হয়ে গেল বিয়ে। না একবার করেছে যদিও, কাজ হয় নি। ঢাকা বসে বিয়ের খবর পায় নাসির। ছেলে মিমির চেয়ে সাত বছরের বড়। ভাল টাকা পয়সা আছে। পাশের এলাকাতেই বাড়ি। মিমির বিয়ের ব্যাপারটায় প্রথম প্রথম কেমন যেন অনুভূতি শূন্য একটা অনুভব হচ্ছিল নাসিরের। যে ব্যথাটা বুকের ভিতর হচ্ছিল তা ঠিক টের পাচ্ছিল না নাসির। একটা সময় সে সূক্ষ্ম ব্যথাই কেমন স্থূল হয়ে গেল। কেমন পাগল পাগল লাগে। বার বার মিমিকে দেখতে ইচ্ছা করে। মনে হয় গিয়ে মেরে গিয়ে আসে মিমির স্বামীটাকে। যে হাতে হাত রেখেছিল নাসির, সে হাতে হাত রাখে অন্য কেউ। একটা সময় মনে হচ্ছিল, যে মিমির উপর পুরোটা অধিকার শুধু নাসিরের। সেই মিমির শরীরটাই এখন অন্য কারও বাহুর মধ্যে থাকে, মিমির শরীরে অন্য কেউ অধিকার খাটায়। মানতে পারে না নাসির। একদম না। তবু কিছু ক্ষেত্রে মনে হওয়া সবটার কিছুই পূরণ হয় না। বন্ধুরা বলে, নেশা কর। নেশা করলে কষ্ট ভুলতে পারবি। সিগারেট আর গাঁজায় সারাদিন বুদ হয়ে রইল টানা অনেক গুলো দিন। মাঝে মাঝে তাও কষ্ট হয়। সে এক দুর্বিষহ যন্ত্রণা। কত করে চেয়েও শেষমেশ তাড়ানো গেল না। ওদিকে পড়ালেখা গোল্লায় গেল। ক্লাস করে না, পরীক্ষা দেয় না, আবার বাসায়ও যায় না। একদিন হঠাৎ করেই মিমির বাসায় গিয়ে পৌছায়। মিমি স্বামীকে নিয়ে থাকে যে বাড়িটায়। তিন তলা বাড়ির, উপর তলায় থাকে মিমিরা। নিচের দুই তলা ভাড়া দেয়া। মিমি চমকে যাওয়া চোখে, বদলে যাওয়া নাসিরের দিকে তাকিয়ে বলে, তুমি এখানে?
- চিনতে পেরেছ?
- পারব না কেন? চেহারার এই অবস্থা কেন?
- আর চেহারা। টাকা দাও তো কিছু আমাকে।
মিমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে। কিছুটা সময় নেয় ভাবনার জন্য আসলে কী বলছে নাসির।
- মানে?
- মানে টাকা দাও। টাকা নাই। বাসায় চাইতে পারব না। মনে পড়ল তোমার হাসবেন্ড তো বড়লোক, তোমার কাছে আসলে পাওয়া যাবে।
মিমি কোন কথা বলতে পারে না। নাসির বলে দেয় অকপটে নেশা করার ব্যাপারটা। মিমি কী মনে করে টাকা এনে নাসিরের হাতে ধরিয়ে দেয়, দেখো, এখানে টাকা আছে। নিয়ে যাও। বাসায় আসবে না আর। হিমেল জানলে সমস্যা হবে।
- হিমেল? তোমার হাসবেন্ড?
- হ্যাঁ।
- বাহ, ভালই আছ তাহলে? বেশ ভুলে আছ দেখি।
মিমি নিঃশব্দে চলে যায় নাসিরের সামনে থেকে। নাসির টাকা নিয়ে চলে আসে। এরপর আরও কয়েক বার গিয়েছিল নাসির মিমির কাছে টাকা চাইতে। মিমি প্রতিবারই টাকা দিয়েছে। শেষবার বলেছে যেন বাসায় না আসে। দরকার হলে ফোন দিয়ে বাহিরে দেখা করবে। আজ বাহিরেই দেখা করল। মিমি থাকে যেখানে তার পাশের এলাকায়। কালভার্টের উপরে দুজন বসে। মিমির করা প্রশ্নের উত্তরে নাসির বলে, তোমার যা মন চায় দাও সমস্যা নেই।
মিমি চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে নাসিরের দিকে। ব্যাগ থেকে টাকা বের করে নাসিরের হাতে ধরিয়ে দেয়। নাসির ময়লা প্যান্টের পকেটে টাকাটা ঢুকিয়ে রাখে।
- তুমি অনেক ভাল মিমি।
মিমির খুব কান্না পাচ্ছে। বুকে ফেটে কান্না। অনেক কষ্টে সে কান্না আটকে রেখে মিমি ধরে আসা গলায় বলে, চল উঠি। ওপাশের ছেলে গুলো অনেকক্ষণ ধরেই ঘুর ঘুর করছে এদিকটায়, আমাদের নিয়ে খারাপ কথা বলছে।
কালভার্টের এপাশ থেকে ওপাশে, ওপাশ থেকে এপাশে কতক্ষণ ধরেই কতগুলো ছেলে ঘুরছে। বারবার করে মিমি আর নাসিরকে দেখছে। নিজেদের মাঝে বাজে বাজে কথা বলছে।
মিমিকে নিয়ে উঠে দাঁড়ায় নাসির। মিমি বলে যায়, এই ছেলে গুলো এমন কেন? একটা একা মেয়ে বা দুজন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলে এরা কি মজা পায় বুঝি না।
- মজা পায় বলেই তো করে।
- এদের হয়ত কেউ কখনও ভালবাসেনি। কেউ আদর করে ডাকেনি। তাই এমন হয়েছে।
- সেটাই। ভালবাসা পেলে হয়ত এমন থাকত না।
- সবাই ভালবাসা পায় না, তাই না বল নাসির?
- আর পেলেও সবাই ধরে রাখতে পারে না, তাই না বল মিমি?

নাসির কথাটা বলে অন্যদিকে তাকাল। মিমি হাঁটা থামিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। নাসির চমকে তাকাল। চারপাশ বেশ অন্ধকার। এখানে দাঁড়ানোটা ঠিক হয় নি। নাসির এসে তাড়া দেয়, চল।
মিমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নাসির কাছে এসে হাত ধরতেই নাসিরকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে মিমি, আমি তোমাকে এখনও ভালবাসি। আমি যার সাথে আছি তাকে আমি ভালবাসতে পারি না।
নাসির আস্তে করে ছাড়িয়ে নিল নিজেকে। বুকের ভিতর কেমন একটা ব্যথা হচ্ছে। এই ব্যথা মাঝে মাঝেই হয়। কিছু না পাওয়ার ব্যথা, কিছু হারাবার ব্যথা। নাসিরের চোখ জ্বলছে। চোখ জ্বলার পরিণতি দেখুক মিমি, চায় না নাসির। থেমে থেমে নাসির বলে, টাকা শেষ হলে আবার ফোন দিব। তোমার হাসবেন্ড তো বড়লোক, মনে হয় না কিছু টাকা দেয়াতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে।
মিমির চোখ থেকে জল বেরিয়ে গাল বেয়ে পড়ছে। মিমির চোখ জ্বলার পরিণতি স্পষ্ট অনুভব করছে নাসির অন্ধকারেও। তবুও কিছু জিনিসকে সায় দিতে নেই। কিছু জিনিস, আঁধারে লুকিয়ে থাকাই ভাল। আলোতে তারা বড় বেমানান।
মিমিকে পৌঁছে দিয়ে চলে আসল নাসির। হিসেব মিলাচ্ছে, কিছু এলোমেলো হয়ে যাওয়া হিসেব। মিমি ভালবাসি বলল আবার, মানে সবটাই বিফল হয়ে গেল। নাসির চায় মিমি আর না বাসুক ভাল, ভুলে থাকুক মিমি, মন থেকে দূরে থাকুক নাসির। তাই মিমির মন থেকে দূরে যাবার তাড়নায় টাকা চাইতে যায়, নিজেকে খারাপ বুঝাবার ইচ্ছায় এমন সব আচরণ করে যায়। মিমি ভাল থাকুক ঐ হিমেল নামক লোকটার সাথে। নাসির বুঝতে পারে, ভাল করেই বুঝতে পারে, যেমন কষ্ট হচ্ছে নাসিরের, তার চেয়ে বহুগুণ বেশী কষ্ট হয় মিমির। নাসিরের অভিনয় ভাল থাকার শুধু নিজের সাথে। মিমির অভিনয় করতে হয় হিমেলের সাথে, পরিবারের সাথে, আশেপাশের সবার সাথে, নিজের সাথে, এমনকি নাসিরের সাথে। বুঝাতে হয়, আসলেই বড্ড ভাল আছে মিমি।
ভাল নেই মিমি, ভাল থাকে না নাসির।
মাঝে মাঝেই খুব দেখতে ইচ্ছা করে মিমিকে। মাঝে মাঝেই উপর তলার হাশেমকে খুব হিংসা হয় নাসিরের। অন্তত ঐ ব্যাটা প্রতিদিন দেখতে পায় মিমিকে। নাসিরের তো তাও হয় না সুযোগ।
এতো খারাপ লাগার ভিড়েও ভাল থাকার অভিনয় করা মিমি ভাবে, না হয় খারাপ আছে মিমি, না হয় কষ্ট পায় নাসির। তবুও ভাল আছে বাকী সবাই।

আকাশে আজ চাঁদ উঠেনি। মিটিমিটি তারারা চাঁদের অভাব দূর করতে পারছে না। বরং নিগুঢ় আঁধারে আরও জড়িয়ে ধরছে সব কিছু। মৃদু তালে নেচে শীতের বাতাসে পাতারা ঝরে পড়ছে। যে পাতাটা আজ আঁধারে ঝরে পড়ল, তার আর কখনও জ্যোৎস্না বিলাস হবে না। বাতিলের খাতায় নাম লেখানো মানুষ গুলোও তেমন হয়ত কখনও আর হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরে পাবে না। শুধু মিথ্যে সান্ত্বনা নিয়ে বুকের ভিতর, চুপিচুপি স্মৃতির সাথে কথা বলা, স্মৃতির রোমন্থনে আবছা মুখের দিকে চেয়ে বলা, ভালবাসি। ভাল থেকো। হয়ত ভাল আছি।

- শেষ রাতের আঁধার (রিয়াদুল রিয়াদ)

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০০

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ) বলেছেন: একুশে বইমেলা ২০১৬ তে প্রকাশিত হচ্ছে আমার দ্বিতীয় উপন্যাস "একা আলো বাঁকা বিষাদ।"
প্রকাশনীঃ বর্ষা দুপুর

২| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:১৩

মিয়া মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামান বলেছেন: পড়লাম। ভালো লেগেছে। লেখককে ধন্যবাদ এবং শুভকামনা।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১০

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ) বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ :)

৩| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৮

কান্ডারি অথর্ব বলেছেন:



বইয়ের জন্য শুভকামনা রইলো।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১১

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ) বলেছেন: ধন্যবাদ। দোয়া করবেন।

৪| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:০৪

নামহীন ভবঘুরে বলেছেন: ভাল লাগল.।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১০

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ) বলেছেন: :)

৫| ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫৯

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: প্রকাশিতব্য বইয়ের জন্য শুভকামনা রইল।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০৯

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ) বলেছেন: দোয়া করবেন :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.