নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তানভির জুমার

সব সময় সব জায়গায় সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে।

তানভির জুমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং বিএনপির ক্ষমতার বাইরে থাকা।

১৩ ই জুন, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:২৬

বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও চর দখলের স্তরেই থেকে গেছে। এখানে হার্ড পাওয়ার মানেই সন্ত্রাসের সক্ষমতা, রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পর্যাপ্ত সন্ত্রাস করার সক্ষমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কী এলিমেন্ট। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও ফ্রেজাইল স্টেট বা ভঙ্গুর রাষ্ট্র। কোন ভনিতা ছাড়াই বলা যায়, আজকে বিএনপি পর্যাপ্ত সন্ত্রাস করার সক্ষমতা হারিয়েছে বলেই সে ক্ষমতার বাইরে এবং বিপরীতে আওয়ামীলীগ নিজে ও রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ স্তরের সন্ত্রাস করার, গুম-খুনের সক্ষমতা আছে বলেই সে জবাবদিহিহীন এবং নির্বাচনহীন একক ক্ষমতা উপভোগ করছে।

কিন্তু মূল কথা হচ্ছে আমরা চাই না, বিএনপি সে পথে হেঁটে ক্ষমতায় যাক, কারন দেশটাকে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখি আমরা। এই জার্নিটা দীর্ঘ হোক, তথাপি টেকসই হোক! অর্থাৎ বিএনপি সহ অপরাপর বিরোধীদল এবং জাতীয় রাজনীতিতে কাঠামোগত সংস্কার, ক্ষমতা বেকেন্দ্রীকরন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক শাসন পুশ করা আমাদের দায়িত্ব। সেজন্যই বিএনপির আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার তাগাদা দেই প্রায়ই এবং এতে অনেকেই আপত্তি করেন।

রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে বাংলাদেশ যে একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্র তার প্রমাণ আমি খুঁজি ক্ষমতাসীনদের আসন ভাগাভাগি কিংবা আসন ছেড়ে দেয়ার হাইপোথিসিসে। একটা ভঙ্গুর রাষ্ট্রে সরকারি দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় মিত্রকে স্থানীয় আসন ছেড়ে দেয়ার পলিসি কাজ করে না। বিষয়টি আমি অনেকদিন ধরেই অব্জার্ভ করছি। কারণ 'সেট এরেঞ্জমেন্টে' আওয়ামীলীগ যদি তার বিবাদমান গ্রুপের এক পক্ষের কোন ক্ষমতাসীন নেতাকে মননোয়ন না দেয়, তখন আসলে ঐ নেতার রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটে। এই ''অবধারিত রাজনৈতিক মৃত্যু'' ঠেকাতে সে তার অবৈধভাবে অর্জিত সব সম্পদ ও শক্তির সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে।

আজকে শেখ পরিবারের বরিশালের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ভোট দিতেও বরিশাল যায়নি। সে জেনে গেছে খেলাটা সে হেরে গেছে এবং হারা খেলা জিতার ব্যর্থ চেষ্টাটা সে করেনি। একই কারণে শেখ পরিবারের অপর সদস্য বরিশালের রাজনীতির ঠিকাদারি পীরসাবের হাতে তুলে দেয়নি, ভোটের শুরু থেকে পর্যাপ্ত সফট ও হার্ড সন্ত্রাস করে, এইভিএম জালিয়াতি করে 'রাজনৈতিক ক্যারিয়ার' রক্ষা করেছে।
(জেতার সক্ষমতা না থাকুক, অন্তত মনে করার কোন কারন নেই যে, পীর সাহেব নিজের শহরে মাত্র ৩৩ হাজার ভোট পেয়েছেন!)
আমি অবাক হই, যখন বাম দল, নতুন গড়ে উঠা দল, ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত বা বিএনপির কেউ কেউ এই 'হারা' খেলাটা খেলতে যায়। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতির বুঝাপড়াটা তাদের এখনও শেষ হয়নি।

আওয়ামীলীগের কোন নেতা স্বজ্ঞানে নিজের দলীয় এবং আ-দলীয় প্রতিপক্ষকে আসন ছেড়ে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক মৃত্যু নিশ্চিত করবে না। ফলে প্রতিটা গ্রামে সে যে শত শত লাঠিয়াল ও ক্যাডার পোষে, স্থানীয় পুলিশ ও নির্বাচনী প্রসাশনে সে যে এজেন্সি পালে, তাকে সে সর্বোচ্চ ব্যবহারে পিছপা হয় না। ফলে কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েই কাউকে স্থানীয় নির্বাচনে বিকল্প 'বিরোধী দলকে' পাশ করানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। (বাই দ্য ওয়ে, ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঠিক পরপরই ঘটা গাজীপুর নির্বাচন ভিন্ন কেইস হলেও সত্যিকার অর্থেই জাহাঙ্গীর আজমতের চেয়ে বেশি কর্মী-লাঠিয়াল পোষে)

এরকম ঘটনা ২০১৮ জাতীয় নির্বাচনে হয়েছে বলে অভিযোগ ও অভিমত আছে। বলা হয়েছে, ঐক্যফ্রন্টকে ৭০-৮০টা আসন দেয়া হবে। কিন্তু স্থানীয় নেতারা ছেড়ে দেয়নি, বরং রাতেই জয় নিশ্চিত করেছে। মাফিয়াতন্ত্র এমন স্তরে পৌঁছেছে যে, এখানে কেন্দ্র স্থানীয় 'হার্ড পাওয়ার'কে অনেক ক্ষেত্রেই ডিক্টেট করতে ব্যর্থ হয়। এর বাইরে আছে ফরেন ফ্যাক্টর। চীন ও ভারত বাংলাদেশের অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকারের কন্টিনিউয়েশান চায়, ফলে তারা সরকার ও সংসদকে ক্রমাগতভাবে বিরোধী হীন রাখতে তৎপর। এতে তাদের অবৈধ চাওয়া/আবদার/চুক্তি/বাণিজ্য স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ফলে এক দেশের এজেন্সি যখন রাতে ২৫% ভোট কাস্টিং এর প্ল্যান করছে, অন্য দেশ সেটা ওভার-প্লে করে ৫০% করে দিসে। ৫ বছর পরে এসে আমরা দেখি উভয়ের স্বার্থই এই রেজিমকে সুরক্ষিত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়েছে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস সংগঠনের সক্ষমতা, নিশ্চিত রাজনৈতিক মৃত্যুর বিপদ নয় শুধু বরং ডিপ্লোম্যাটিক সেটেলমেন্টও আসন ভাগাভাগি ও আসন ছাড়ার মেকানিজমের বিরুদ্ধে কাজ করে।

শেষ করি জি এম কাদেরকে দিয়ে। এই যে মিস্টার জিএম কাদের বললেন, 'আ.লীগ জামায়াতকে কিছু সিট দেবে, আমাদেরও বাড়িয়ে দেবে'। বাস্তবতা হচ্ছে , জামায়াত (যদি আদৌ আতত করে থাকে) বা ইসলামি আন্দোলন বা বিএনপির পদ বঞ্চিত অংশ অথবা অন্য কোন নতুন দলের যে কেউ লীগের সাথে নির্বাচন করে আসন ভাগাভাগির যতই সুখ স্বপ্ন দেখুক না কেন, যতই আওয়ামীলীগের সাথে আন্ডার টেবিল দরকষাকষি করুক না কেন, নির্বাচন শেষে তাদের বাটপারির ভিক্ষার ঝুলিটা খালিই থাকবে যাদি না তাদেরও পর্যাপ্ত পাল্টা সন্ত্রাস করার সক্ষমতা থাকে এবং প্রসাশনে হিউজ পেনিট্রেশান থাকে।
সাধু সাবধান!

কার্টেসী- ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জুন, ২০২৩ রাত ৮:৪১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: গুড এনালাইসিস।

২| ১৩ ই জুন, ২০২৩ রাত ১০:০৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার।

৩| ১৩ ই জুন, ২০২৩ রাত ১০:১৭

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: এই লেখাটা ফাইজ তাইয়েব আহমেদ লিখেছে নাকি আপনি লিখেছেন?

বাংলাদেশে বর্তমানে কোন রাজনীতি নাই। এগুলি সবই মাফিয়া কার্যক্রম। তাই এগুলি নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করা সময়ের অপচয় মাত্র।

আপনি পোস্টে অনেক বেশী ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেছেন।

১৪ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৫:৩৫

তানভির জুমার বলেছেন: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ লিখেছ। সবই মাফিয়া কার্যক্রম বললে ভুল হবে, দেশে এখন ভালো রাজনীতিবিদ আছে আমরা তাদের কে ক্ষমতায় আনতে পারতেছিনা। ভোটিং ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে গত ১৫ বছরে। কাউকে ক্ষমতায় নেওয়া বা ক্ষমতা থেকে নামানোর আমাদের একমাত্র বৈধ উপায় হচ্ছে ভোটিং ব্যবস্থা। আপনি যখন সব বৈধ উপায় বন্ধ করে দিবেন তখনই অবৈধ উপায় নিজে টেনে আনলেন।

৪| ১৪ ই জুন, ২০২৩ সকাল ৯:০০

শেরজা তপন বলেছেন: আপনার দ্বিতীয় প্যারায় যে কথাগুলো বলেছেন, আপনি বিশ্বাস করেন অদুর ভবিষ্যতে বি এন পির মত দল নিজেদের এভাবে পালটে ফেলে শুধু দেশের কথা ভাববে???
পীরসাহেবের ফু ফা দিয়ে কোটি কোটি টাকা ইনকামে পোষাচ্ছিল না , তার দরকার ছিল টাকা আর ক্ষমতা। আটরশির পীরজাদাদের দেখে তাঁর শিক্ষা হয়নি।
আপনি যেভাবেই বলেন পীরগিরি আর রাজনীতির মারপ্যাঁচ আলাদা। তাঁর যোগ্যতা ওইটুকুই।
শেষের প্যারায় যা বলেছেন, সেটা ঘটা অসম্ভব নয়। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা আকড়ে রাখার জন্য হেন কিছু নাই যা না করবে।
তবে আপনার সপ্নকে সাধুবাদ জানাই- আমরা প্রত্যেকেই দেশটা রূপান্তরের সপ্ন দেখি।

১৪ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৫:৩৯

তানভির জুমার বলেছেন: বি এন পি যদি না পাল্টায় তাহলে আবার জনগণ অন্য কাউকে ক্ষমতায় আনবে। ভোটিং ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে গত ১৫ বছরে, যেটার খেসারত বাংলাদেশের জনগণ অনেকদিন ধরে দিয়ে যাবে। আমরা প্রত্যেকেই দেশটা রূপান্তরের সপ্ন দেখি। দেশটা আমাদের সব বাধা পেরিয়ে আমাদের সামনে আগাতেই হবে।

৫| ১৪ ই জুন, ২০২৩ দুপুর ১২:৪৩

আমি সাজিদ বলেছেন: তপন ভাই, একটু লজিক্যালি সাপোর্ট করলে হয় না? আপনার এই মন্তব্যে হতাশ হলাম।আশা করি নাই। বিষয়টা আওয়ামী -বিএনপির না, বিষয়টা রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের। ফেয়ার ইলেকশনে কেউ ৩০০ টা আসনে জিতে আসলে, সেটা আওয়ামী / বিএনপি যেই হোক, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা এক্সামপল সেটা সেট হবে। আওয়ামী লীগও যদি গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জিতে আসে, সেটাও তো তাদের জন্য লাভের। ক্ষতি তো না। তখন প্রতিটা কাজের জবাবদিহিতা থাকবে। আজকে যে এমপির পুত্র বিদেশ থেকে পড়ে এসে সোনার চামচ মুখে নিয়ে রাজনীতি করছে এমন পরিবারতন্ত্রগুলোও থাকবে না।

১৪ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৫:৪১

তানভির জুমার বলেছেন: সহমত.. বিষয়টা রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের। ফেয়ার ইলেকশনে কেউ ৩০০ টা আসনে জিতে আসলে, সেটা আওয়ামী / বিএনপি যেই হোক, জনগণের কোন সমস্যা নেই।

৬| ১৪ ই জুন, ২০২৩ দুপুর ১:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: বিএনপি ফ্যাসিবাদের কারনেই আজ ক্ষমতা থেকে বাইরে। এবং তাদের কোমর ভেঙ্গে গেছে।

১৪ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৫:৪২

তানভির জুমার বলেছেন: বিএনপি ফ্যাসিবাদ ছিল না। কার কোমর ভেঙ্গেছে এটা সময় বলে দিব।

৭| ১৪ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৩:২০

ঢাবিয়ান বলেছেন: লেখাটা খুব সম্ভবত ব্লগার এক নিরুদ্দেশ পথিকের। উনার আসল নাম ( পোস্ট দাতা কার্টেসি উল্লেখ করেছেন) করুনাধারা আপু এক পোস্টে জানিয়েছিলেন ।

১৪ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৫:৪৩

তানভির জুমার বলেছেন: এটা আমার লেখা নয়।

৮| ১৪ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৫:০০

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: কতা সবই সত্য ভাইজান, তয় আইজকা যে ক্ষেমতার বাইরে হেই যদি ক্ষেমতায় যায় তাইলে হেরাও ঐরহমই করব যা এহন চেতনার পুজারীরা করে।

আসলে ভালো কেউ নাই ভাইজান।
কতায় আছেনা, " যে যায় লংকায় হেই অয় রাক্ষস"।

১৪ ই জুন, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:০৩

তানভির জুমার বলেছেন: কোন একটা সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র একক রাস্তায় থাকে না, বিএনপি ক্ষমতায় এসে খারাপ করলে আবার জনগণ ভোটিং এর মাধ্যমে অন্য কাউ ক্ষমতায় আনবে, এভাবে আমরা আমাদের দেশটাকেতো ভালো বানানোর চেষ্টা ছেড়ে দিতে পারিনা।

মূল কথা হচ্ছে জনগণের শক্তি, অধিকার (ভোট) কে ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষমতা থেকে নামানোর বৈধ পথ বন্ধ কা হয়েছে। বাংলাদেশের সব রাজনীতিবিদ খারাপ নয়, ফেয়ার নির্বাচন দিয়ে যেই ক্ষমতায় আসুক জনগণ মেনে নিবে।

আওয়ামীলিগ ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকুক সমস্যা নেই তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে জনগনের ভোটের মাধ্যমে। তুরস্কের অবস্থা দেখুন এরোদোয়ান ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় সেটা জনগণের মেন্ডেট নিয়ে। পশ্চিমারা রাতদিন এরোদোয়ান কে গালাগালি করে, কিন্তু সে দেশের মানুষ এবং বিরোধীরা ভোটের কারচুপির কোন অভিযোগ করে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.