নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি কপি- পেস্ট করি ,আপত্তি থাকলে আমার পোস্ট পড়বেন না।।

শাহ আজিজ

আমি ফিচার , কপি পেস্ট , ও অনুবাদ লিখি

শাহ আজিজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘বাংলাদেশ ক্যাটেল সার্ভিস’ (বিসিএস), গোড়াতেই যার গলদ

১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১:৩৭

মুলধারা বাংলাদেশ থেকে

সরকারী চাকুরীতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। অনেক ছাত্র রক্ত ঝড়িয়েছেন। আরো হয়ত ঝরবে। তাতেও সরকার পাত্তা দিচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা আগের একটি পোস্টে লিখেছিলাম, ''বর্তমান কোটা টিকিয়ে রাখার মধ্যে আওয়ামী লীগ তাঁদের ভোট ব্যাংক দেখছে। আওয়ামী লীগের অনুমান ৩০% মুক্তিযুদ্ধাদের নাতি-পুতি কোটার মাধ্যমে তাঁদের রিক্রুটমেন্ট জারি থাকবে অনন্তকাল।''

কেন এই মন্তব্য করা হয়েছিল সেটা বুঝতে আমাদেরকে একটু ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। কিভাবে দলবাজির মাধ্যমে স্বাধীনতার পরপরই প্রশাসন যন্ত্রকে 'অমেধাবীদের আখড়া' বানানোর উদ্যেগ নেয়া হয়। এখানে বলে নেয়া ভাল, পাকিস্তান আমলে প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে অকাট্টভাবে 'মেধা' ছিল মাপকাঠি। সেটাকে স্বাধীনতার পরপর কি রকম হাস্যকর অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল প্রথম সরকার, তার একটা চিত্র আমরা পাই সাবেক এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার সফিক উল্লাহর আত্মজীবনীতে। তিনি লিখেন;

''প্রশাসনের শূন্যতা পূরণ করার জন্য ১৯৭২ সালেই মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে থেকে সব ক্যাডারে কিছু অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধু। এ নির্দেশ প্রাপ্তির পর কোন প্রকার বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এবং কোনো যোগ্যতার মাপ-কাঠি বিবেচনা না করে ৩৫০ জন অফিসারকে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে নিপায় (ন্যশনাল ইনস্টিটিউশন অব পাবলিক অ্যাডমিনস্ট্রেশন) ট্রেনিংয়ের জন্য ডাকা হয়। এ অফিসাররা ট্রেনিং নিতে এসে নিজেদের পরিচয় দিতে শুরু করলে দেখা যায় তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের প্রথম শ্রেণির চাকরির শিক্ষাগত যোগ্যতাই নেই। এ নিয়ে পত্রিকায় ভীষণভাবে সমালোচনামূলক লেখালেখি শুরু হয়। বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর চোখে পড়ায় তিনি এই নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেন এবং তা বাতিল হয়ে যায়।

প্রশ্ন হলো এ নিয়োগ প্রক্রিয়াটির আয়োজন যারা করেছিলেন তারা কী জানতেন না যে কাজটি ঠিক হচ্ছে না? অবশ্যই জানতেন। এই পুরো ঘটনাটির পিছনে ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা এবং সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ। তখন তিনি ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান। সুচতুর আমলারা তাকে সামনে রেখেই এ কাজটি করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল সমালোচনা তৈরির মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করা। বঙ্গবন্ধুর যথোপযুক্ত হস্তক্ষেপের ফলে এই পরিস্থিতি থেকে সরকার রক্ষা পায়।

পরে নিয়ম মেনে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে প্রথমে ৩৫০ জন এবং পরে তা বাড়িয়ে ৪৫০ জন অফিসার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। এ লক্ষ্যে ১৫-০৫-৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ১ম পাবলিক সার্ভিস কমিশন। এর চেয়ারম্যান করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একিউএম বজলুল করিমকে। এই ভদ্রলোকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তুলেও বলা যায়—তিনি ছিলেন তোফায়েল আহমেদের লোক। তোফায়েল আহমেদ নিজে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় আলীম দাদ খান, আওলাদ হোসেন, শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী, ডা. শেখ মোহাম্মদ মোবারক হোসেন, এবিএম মোকছেদ আলী, আব্দুল হান্নান চৌধুরী, আদেল উদ্দিন আহমেদ, শামসুদ্দিন আহমেদ, হাফেজ হাফিজুর রহমান ও ড. সাফিয়া খাতুনকে। ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ২য় পাবলিক সার্ভিস কমিশন। যার চেয়ারম্যান করা হয় মহিউদ্দিন আহমদকে। এই ১ম কমিশনের মাধ্যমেই ৪৫০ জন অফিসার নিয়োগের সেই বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হয়।

১৯৭৩ সালে প্রথম বিসিএসে আমরা নিয়োগ পাই। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। শুধু ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগটি দেওয়া হয়। কোন লিখিত পরীক্ষা ছিল না। অথচ ছোটখাটো একটা লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হলে হয়তো পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠত না। বাঁকা চোখে দেখা হতোনা তিয়াত্তরের ব্যাচকে।

আমার যতদূর মনে আছে, ১৯৭৩-এ প্রায় ৬ হাজার প্রার্থীর মধ্যে থেকে আমরা ১৪০০-এর মতো প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এর মধ্যে থেকে আমরা ৪৫০ জন প্রথমে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ম শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাই। পরে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ম শ্রেণি ও ২য় শ্রেণির পদ সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বাকি অধিকাংশেরই চাকরি হয়।''

পাকিস্তান আমলের সিএসপি যারা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেতেন সরকারী চাকুরীতে, তাঁরা স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া বিসিএস পদ্ধতিকে বলতেন ‘বাংলাদেশ ক্যাটেল সার্ভিস’। ৪৭ বছরের প্রশাসনের যে চরিত্র আমরা এখন দেখছি তাকে কি এরচেয়ে ভাল কিছু বলা যায়? পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের এই ঐতিহাসিক ব্যাচকে আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্য 'তোফায়েল ক্যাডার বা তোফায়েল-রাজ্জাক ক্যাডার' নামে ডাকা হয়।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১:৫২

অনন্য দায়িত্বশীল আমি বলেছেন: অনেক দিন পর একটি চমৎকার লেখা পড়লাম।

১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ২:০২

শাহ আজিজ বলেছেন: এরকম অনেক অনন্য চমৎকার কাহিনী আছে যা ৮০ পরবর্তী প্রজন্মকে চমৎকৃত করবে। তোফায়েল ভাই কিন্তু রক্ষী বাহিনীর ডেপুটি কম্যান্ডার ছিলেন কিন্তু এখনকার লীগের মন্ত্রী পরিষদে সংযুক্ত জাসদ নেতারা ৭৪, ৭৫ সালে মেধাবী তরুণদের নিধন নিয়ে কোন টু শব্দ করে না । ক্ষমতা হচ্ছে গাদ্দারির সকল চাবি কাঠি ।

২| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:২৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। আমিও এমনটি মনে করি। ধন্যবাদ আপনাকে।

১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৯

শাহ আজিজ বলেছেন: সফিকউল্লাহ্‌র আত্মজীবনী বাজারে পাওয়া যায়। ওখানে আরও নতুন কিছু বিষয় দেওয়া আছে।

৩| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৭

প্রান্তর পাতা বলেছেন: যা হোক, সমাজে বিসিএস রা সম্মানী লোক।

১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৯

শাহ আজিজ বলেছেন: হ্যা আপাত দৃষ্টিতে তাই হওয়া উচিত কিন্তু কেন মেধাবিহিন নিয়োগ এনিয়ে এই প্রথম জানলাম । তাই ছেপে দিলাম পাঠকদের উদ্দেশ্যে ।

৪| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: এই সব অন্যায়গুলোই বাড়তে থাকায় তারুণ্যকে এই পতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য করছে। মতিয়া চৌধুরীর মত নির্বোধদের কারণে এখন সবাই বলছে "আমি রাজাকারের বাচ্চা", খুব কি ভালো হলো এটা সরকারের জন্য।

১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৫:০৬

শাহ আজিজ বলেছেন: নেত্রীকে খুশি করতে গিয়ে মতি বেগম বিপদে । তার উপর বেশি চাপ দিলেই মেঝেতে শুয়ে পড়বে কিন্তু। আমার যা মনে হয় পার্লামেন্টে তার এই চিৎকার সরকারকে বিপদে ফেলার একটি কম্যুনিস্টিক কায়দা ।

৫| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৫:২৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আমাদের তো দেখি গোড়ায়ই বিরাট গলদ। যোগ্যতার প্রশ্নে কোন আপস করা উচিত নয়। সেটা যেই হোক না কেন।

১১ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৫:২৮

শাহ আজিজ বলেছেন: তাই হয়ে গেছে বহু দিবস আগে টাকলার হাতে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.