নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবনকে যারা উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যে বিষয়গুলো নিয়ে লেখার চেষ্টা করি- মোটিভেশনাল গল্প-কাহিনী-প্রবন্ধ, ছড়া এবং কবিতা

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

লিলিপুটাসো শিক্ষকং আওর সেলফিশাই গ্রহ\'র টে্রা চোখওয়ালাং ছাত্রজ

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৩২


পৃথিবী থেকে শতবর্ষ দূরের একটি গ্রহ। নাম তার এন্ড্রোমিডা। সে গ্রহের বাসিন্দা লিলিপুট নামের এক মানবগোষ্ঠী। ওরা ছোট ছোট মানুষের দল। ছোট হলে কি হবে, দলবেধে কাজ করতে তাদের কি যে আনন্দ তা বলে বুঝানো যাবে না। বিজ্ঞান নিয়েই তাদের কারবার, বিজ্ঞান তাদের ধ্যান-জ্ঞান। এই বিজ্ঞান দিয়েই তারা বিশ্ব জয় করতে চায়। তাদের এই সাফল্য বেশি দিন অন্যান্য গ্রহের মানুষদের কাছে আর অজানা থাকলো না। একদিন সেলফিশ গ্রহাণুপঞ্জের বং দেশের কিছু মানুষও তা জেনে গেলো। শুনে তারা কি যে ঈর্ষান্বিত বোধ করতে লাগলো!

এত্তো বড় অবিচার! তারা গায়ে-গতরে এতো বড়, বয়সও তাদের কম হয়নি, তারপরও লিলিপুটরা তাদের চেয়ে জ্ঞানে-গরিমায় এতো এগিয়ে গিয়েছে! কি করা যায় এখন? তাই, অনেক শলা-পরামর্শ করে তারা বুদ্ধি করে বের করলো, এই লিলিপুটদের অপমান করবে। এবং, তা করবে অন্যান্য গ্রহের মানুষদের সামনে। তাতে হয়তো এরা দমে যাবে।

যেই ভাবা, সেই কাজ। একদিন তারা একদল প্রতিনিধি পাঠালো লিলিপুটদের সর্দারদের কাছে এই বলে যে তাদের একজন শিক্ষক চাই। এই শিক্ষকের কাছ থেকে তারা বিজ্ঞানের নবোধারাগুলো শিখতে চায়। সব শুনে রাজা মানা করতে পারলেন না। জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রচারে লিলিপুটদের একটা প্রজেক্ট ছিলো। সেই প্রজেক্টের আন্ডারেই একজন ভালো শিক্ষককে সেলফিশ গ্রহে পাঠাতে রাজি হয়ে গেলেন তিনি।

সেই শিক্ষককে নিয়ে নিজ গ্রহে ফিরে গেলো প্রতিনিধি দল। শিক্ষককে নিজেদের কিছু অনগ্রসর ছাত্র-ছাত্রী'র দায়িত্ব দিলো। আর, রোজই তাকে একটা না একটা ছুতো ধরে বেইজ্জতি করতে লাগলো আর সেই ঘটনা ভিডিওতে ধারণ করে অন্যান্য গ্রহে প্রচার করতে লাগলো।



মানুষের তো সহ্যের একটা সীমানা আছে। একদিন, লিলিপুট শিক্ষক সিদ্ধান্ত নিলেন যে উনি সেলফিশ গ্রহবাসীকে শিক্ষা দিবেন। আর, তা দিবেন যুক্তিবিদ্যার সাহায্যে।

একদিন লিলিপুট শিক্ষক ল্যাবে কাজ করছেন। হরেক রকমের যন্ত্রপাতি সাজানো ঘরটিতে। শিক্ষার্থীদের তিনি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা হাতে-কলমে করে দেখাচ্ছেন। এ সময়ে তিনি এক ছাত্রকে বললেন-

"যাও তো, পাশের ঘর থেকে লাল পদার্থ ভর্তি বোতলটা নিয়ে আসো।"

ছেলেটি পাশের ঘরে গিয়ে দেখতে পেলো দু'টি লাল তরলওয়ালা বোতল। এখন কোনটি নেবে সে? ভাবনায় পড়ে গেলো।

আসলে হয়েছে কি, ছাত্রটি ছিলো টেরা। সেলফিশদের মাঝে সবচেয়ে পাজী। টেরা হওয়ার কারণে সে একটি বোতলকে দুটি হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলো। যাহোক, ছেলেটি কোন বোতল না নিয়েই শিক্ষকের কাছে ফিরে গিয়ে বললো-

"দু'টি শিশি থেকে কোনটি আনবো পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলুন।"

শিক্ষক বিরক্ত হলেন। বললেন- "ওখানে বোতল দু'টি নয়, একটি। টেরামীর বশবর্তী হইও না - বেশি দেখিও না।"

ছাত্র উত্তরে বললো- "আমাকে মন্দ বলবেন না। ঐ ঘরে বোতল দুটিই আছে।"

তখন শিক্ষক উঠে বললেন- "তাহলে যাও, দুটা বোতল হতে একটা ভেঙ্গে ফেলো।"

টেরাটি গিয়ে একটা বোতল ভেঙ্গে ফেললো। সাথে সাথে অন্য বোতলটিও তার চোখ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো।

এবারে, শিক্ষক ঘরে লুকানো লাইভ ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়ালেন। সরাসরি ল্যান্সের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"এই ঘটনা থেকে তোমরা কি শিখতে পেলে? আমি তোমার এই-ই শিখাতে চেয়েছি যে, সৃষ্টিগত ভাবে মানুষের চর্মচক্ষু টেরা হলে ভুল দেখতে পারে। এরকম টেরামি চিকিৎসাযোগ্য। কিন্তু, ক্রোধ এবং বিদ্বেষের কারণেও মানুষ টেরা হয়ে থাকলে বড়ই মুশকিল। এই ধরণের টেরামি থেকে আরোগ্য লাভ করতে হলে অনেক কাঠ-খড় পোহাতে হয়।

বলে তিনি হেসে ফেললেন। বললেন- "এই গানটা থেকে তোমাদের শিখতে হবে-"





ছবিসূত্রঃ
"Chamber Music Society of Lincoln Center", pennstatenews, The corridor of uncertainty, ২০১৬,
http://acreelman.blogspot.com/2016

মন্তব্য ২৬ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (২৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৪৪

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: শিক্ষক তাহলে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ছাত্রকে একটা বোতল ভাঙতে বলেছিলেন? তাহলে বোঝা গেলো বেশি ক্রোধ থাকা ভালো না!

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৩৭

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ক্রোধ একটি শক্তি।

এই শক্তিকে পজিটিভলি ব্যবহার করা যায় নেগেটিভ ভাবেও।

মুক্তিযোদ্ধারা পজিটিভ ভাবে ব্যবহার করতে পেরেছিলেন যেমন লিলিপুট শিক্ষক ব্যবহারিক ভাবে ঐ টেরা ছাত্রকে বুঝিয়েছিলেন।

কিন্তু, সেলফিশ গ্রহের অনেকেই তা পারে না। ক্রোধকে বিদ্বেষে পরিণত করে ফেলে।

ধন্যবাদ।

২| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৫৫

উম্মে সায়মা বলেছেন: লিলিপুট শিক্ষক কেন শাইয়্যান ভাই? মানে বলতে চাচ্ছি এখানে লিলিপুটের তাৎপর্য কী?
শিক্ষনীয় গল্প.....

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
এটা আসলে ঈশপের গল্পের মতো। শিক্ষা নেওয়ার জন্যেই, আপু।

ব্লগে আজকাল গালিগালাজের রেওয়াজ আবারো চালু হয়েছে।

তাই, ঈশপের মতো শেখ রুমি'র দ্বারস্থ হতেই হলো।

আর, লিলিপুটেরাও ভালো শিক্ষক হতে পারেন,
গল্পটা তা-ই প্রমাণ করে।

ধন্যবাদ নিরন্তর।

৩| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৫৭

মাইনুল ইসলাম আলিফ বলেছেন: টেরা একটা কে দুইটা দেখে,আর ক্রোধ আর বিদ্বেষে মানুষ হয় গাউরা(যে গেরামো করে)।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: সেটাই। মনের টেরা বড় টেরা

৪| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০৬

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: সৃষ্টিগত ভাবে মানুষের চর্মচক্ষু টেরা হলে ভুল দেখতে পারে।

লাইনটির কি কোন বৈজ্ঞানীক ব্যখ্যা আছে? রিপু হল মানব জীবনের অপরিহার্ষ অংশ,এর নেতিবাচক-ইতিবচক (ভাল-মন্দ) উভয় দিক-ই আছে। এই ষড়রিপু কে মহৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে যেমন বড় বড় মহৎ কার্য সম্পাদন করা যায় এবং মানব জীবনের চরম উদ্দেশ্য ঈশ্বর প্রাপ্তি, সেই ঈশ্বর প্রাপ্তিও সম্ভব হয় ।তেমনি রিপুর বশীভূত হয়ে রিপুর দাসত্ব করলে মানব জীবনে নেমে আসে চরম অধঃপতন।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৪৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ষঢ় রিপু একবারে শেষ করে দেওয়া সম্ভব নয়, যেহেতু তা শরীরেরই অংশ।

বরং, ঐ রিপুকে নিয়ন্ত্রন করে তাকে শক্তিতে পরিণত করে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন মহৎ লোকের কর্ম।

উক্ত গল্পে টেরাকে দুষ্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ধন্যবাদ।

৫| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২৬

নূর-ই-হাফসা বলেছেন: ঈশপের এই ধরনের গল্প গুলো খুব ভালো ছিল । আনন্দ দেয়ার মাঝে কিছু শিখানোও হত ।
গল্প ভালো লাগল ।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:০৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: আজকাল ঈশপের বা রুমির গল্প লাগবে না, আপু।

আমাদের আশেপাশেই মন থেকে যারা বিদ্বেষ পোষন করে টেরা্ হয়েছে তাদের সুযোগের অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে দেখবেন। :)

৬| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৪১

:):):)(:(:(:হাসু মামা বলেছেন: টেরাতো টেরগাই আর যে গাউরা তার লগে কোন বিষয় সহজ ভাবে মিমাংসা করা যায়না। ;)

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: চর্মচক্ষুর টেরামি তো চিকিৎসাযোগ্য।

কিন্তু, মনে টেরামি???!!! [মাথা চুলকানোর ইমো হবে]

৭| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৪৮

মনিরা সুলতানা বলেছেন: :) :)

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৪৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: মনের টেরাদের জন্যে চিকিৎসা অতি জরুরী। :)

৮| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:০৬

শাহিন-৯৯ বলেছেন: আপনিও লিলিপুট নিয়ে লিখলেন, পিগমি জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:১৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: আমি লিলিপুটদের পছন্দ করি ছোটবেলা থেকে। গ্যালিভারস ট্রাভেলস যখন থেকে পড়েছি।

আর, বেতাল পড়েছেন? ঐ যে ছোটবেলার কমিক? ওখানে তো পিগমিরা তাঁর বন্ধু ছিলো।

তাই, যারা লিলিপুট আর পিগমিদের হেয় করে, তারা নিজের ছোটবেলাকেই হেয় করে।

৯| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:২৩

শাহিন-৯৯ বলেছেন: শব্দ দুটি চাঁদগাজী প্রায়শই ব্যাবহার করে তাই বললাম আর কি।
ছোটবেলায় গ্যালিভারের ছবি ছিল না বলে খাতা কিনি নাই একবার।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:০৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ব্লগার চাঁদগাজী প্রায়শই ব্যবহার করেন এটা জানা ছিলো না। আমি ব্লগে নতুন।

উনি যদি হেয় করে বলেন, সেটা উনার দূর্বলতা।

১০| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:০৪

সুমন কর বলেছেন: ছোট কিন্তু অর্থবহ। ভালো লাগল।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৪২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।

ধন্যবাদ নিরন্তর।

১১| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:০৫

বাকরখানি বলেছেন: পোস্টে যেই বিশেষ ব্যক্তির কথা বলা হৈসে, তিনি মানুষরে হেয় কর্তেই এইগুলা বলেন। এইটা মানতে পারা এখন এই ব্লগের সাধারণ আইন হয়া গেছে।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৩২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: টেরা ছাত্রের কথা বলছেন? চিনেন নাকি!!! আমি ভেবেছিলাম সব কাল্পনিক! :)

মন্তব্যে ধন্যবাদ।

১২| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:০৪

প্রামানিক বলেছেন: ভালো লাগল।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:১১

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। আপনাকে কয়েকদিন পর দেখলাম!!!

১৩| ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:০৬

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: শিক্ষণীয় গল্প।

১৪| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:১৬

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: হুম বুঝলাম, রাগ বেশী হইছে। কিন্তু কার উপর? ;)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.