নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবনকে যারা উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যে বিষয়গুলো নিয়ে লেখার চেষ্টা করি- মোটিভেশনাল গল্প-কাহিনী-প্রবন্ধ, ছড়া এবং কবিতা

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

হিমু যখন সিলেটে

১১ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫


নিজের মেসে ঘুমিয়ে ছিলো হিমু। ঘরে নড়া-চড়ার আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। বিছানার কাছে তার ইজি চেয়ারটায় কে যেন বসে আছে। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে মটকা মেরে পড়ে থেকে বুঝার চেষ্টা করে কে হতে পারে।

পুরো ঘর জুড়ে মিষ্টি একটা সুগন্ধ ছেয়ে আছে। অপরিচিত একটি মেয়ে তার মেসে কি করছে! একটু ভাবার চেষ্টা করে হিমু। মেয়েটি কতক্ষণ হলো এসেছে? কি চায় তার কাছে? মেয়েটি কি পড়ে আছে? শাড়ি না সেলোয়ার কামিজ? নাকি প্যান্ট-শার্ট? অনেকগুলো ভাবনা একসাথে খেলে যায় তার মাথায়।
.
আচ্ছা, বিছানার পাশের চেয়ারে যে মেয়েটি বসে আছে, তাকে মেয়ে ভাবছে কেন সে! মহিলাও তো হতে পারে।

'হিমু সাহেব, আপনি কতক্ষণ এভাবে চোখ বন্ধ করে বিছানায় পড়ে থাকবেন?' মেয়েটি হঠাৎ কথা বলে উঠলো।
.
চমকে উঠে হিমু। তার যে ঘুম ভেঙ্গেছে তা বুঝলো কি করে মেয়েটি! চমকে উঠলেও মনে মনে একটু নিশ্চিন্ত হয় যে তার আন্দাজ ভুল নয়। একটা মেয়েই তার সাথে কথা বলছে, কোন মহিলা নয়। এমন চীকন আর মোলায়েম সুর কোন মহিলার হওয়ার কথা নয়।
.
ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকায় হিমু। এবারে শুধু চমকে যাওয়া নয়, বলা যায় বিষম খেলো। চেয়ারে বসে আছে কাঁচা-পাকা-চুলের এক মধ্যবয়সী মহিলা!
.
'চট-জলদি উঠে চোখে-মুখে একটু পানি দিয়ে নিন। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি আপনার জন্যে। আপনাকে নিয়ে বাইরে কোথাও ব্রেকফাস্ট করবো।'
.
হিমু একটা হাই তুললো। সকাল বেলা মেজাজ খারাপ করতে চাচ্ছে না। তার এই মহিলার সাথে বেরুনোর কোন ইচ্ছে নেই। কিভাবে এর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায় ভাবতে ভাবতে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে যায় সে।
.
হিমু যে ঘরে থাকে, তার ডান দিকে বাথ্রুম আরে বাম দিক দিয়ে বেরুনোর রাস্তা। তাই, যদি পালাতে হয় মহিলার সামনে দিয়েই যেতে হবে।
.
আরেকটা রাস্তা অবশ্য আছে। বাথরুমের পাশ দিয়ে সিড়ি। ওটা দিয়ে ছাদে গিয়ে পাশের বাড়িতে চলে যেতে পারে। তার মেস থেকে পাশের বাড়ির ছাদ ৪-৫ ফুট দূরে হবে। একটা লং জাম্প দিলেই ওপাশে চলে যাওয়া যাবে। একবার যেতে পারলে নিচে নেমে মহিলার চোখকে ফাঁকি দেওয়া কোন ব্যাপারই নয়।
.
যেই ভাবা সেই কাজ। সে বাথরুমের কাছে এসে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠলো। বাইরে তখন বেশ রোদ করেছে। ছাদে গিয়ে এক লাফে পার হয়ে গেলো মাঝের ফাঁকা জায়গা।
.
এরপর সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেই না একতালার দরজা দিয়ে বাইরে বেড়িয়েছে, সামনে তাকিয়ে দেখে সেই মাঝবয়সী মহিলাটি দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।
.
'আমি বাঘিনী না ভল্লুক যে আমার কাছ থেকে পালাচ্ছেন! আমি তো রূপাও না যে আমার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। কি ব্যাপার বলুন তো?'
.
মহিলাটি আবারো অল্পবয়সী মেয়ের গলায় তার সাথে কথা বলে উঠলেন। কন্ঠে কৌতুকের আভাস। হিমু কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর বললো- 'আপনার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিনি আর কক্ষনো আপনার কাছে ফিরে আসবেন না।'

এই বলে সে রহমত মিয়াঁর হোটেলের দিকে হাঁটা দিলো। ওখানেই আজ সকালের খাবার খাবে। সে জানে মহিলাটি তার কথার ধাক্কা সামলাতে সময় নিবে। এই ফাঁকে হোটেলে ঢুকে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে পারবে সে।

পিছনে আবারো সেই রিনিঝিনি কন্ঠের হাঁসি শুনতে পেলো হিমু।

'আপনার সম্পর্কে যে রকম শুনেছিলাম, আপনার মাঝে সে রকম আধ্যাত্মিক কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমার স্বামী গাড়ির ভিতরে ড্রাইভিং সিটে বসে আছেন। ঐ যে দেখুন, মেরুন রঙের মার্সিডিজে উৎকণ্ঠিত হয়ে এদিকেই চেয়ে আছেন।'

সত্যিই তাই। সৌম্য দর্শন এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক গাড়িটায় বসে আছেন। মেজাজটা ঠিক রাখতে অনেক কষ্ট করতে হলো হিমুকে। সকালবেলাতে রাগ করতে নেই। বাবা'র নির্দেশ। মহাপুরুষরা ঘুম থেকে উঠে কখনোই মেজাজ খারাপ করেন না।

একদিনে তিন তিনবার তার আন্দাজ ভুল প্রমাণিত হলো। এমনটা তো কখনো আগে হয়নি। সে কি বুড়ো হয়ে যাচ্ছে? কিন্তু, মহাপুরুষদের যত বয়স হয়, তাঁদের মস্তিস্কের ক্ষমতা তো আরো তীক্ষ্ণ হতে থাকে। তার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে কি?

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:১৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।

১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৪১

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। আপনার প্রশংসা পাওয়ায় সত্যিই ভালো লাগছে।

শুভেচ্ছান নিরন্তর।

২| ১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:২৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: তারপর ?

:)

১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৪৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: পরের পর্ব লেখা শুরু করেছি। বলা যায় না, সিলেটের চা বাগানে হিমু হয়তো হারিয়ে যেতে পারে! :)

লাইক ও কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ নিরন্তর।

শুভেচ্ছা অফুরান।

৩| ১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৫৫

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: হিমুরা এমনি হয়। পরের পর্ব অপেক্ষায়।

১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:১২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

ভালো থাকুন নিরন্তর।

৪| ১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: খুব ভালো লাগলো পোষ্ট টি।

১২ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫১

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা নিরন্তর।

৫| ১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১১:০১

মা.হাসান বলেছেন: ব্লগে নিয়মিত আসতে পারি না। অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকবো। সাধু-সন্যাসীদের চেয়ে সমাজে ভালো লোকের প্রয়োজন ইদানিং বেশি অনুভূত হয়।

১২ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: সাধুরা কি ভালো লোকদের কাতারে নন কি? :)

ভালো থাকুন নিরন্তর।

৬| ১১ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১১:৪০

বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায়।

১২ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: পেয়ে যাবেন শীঘ্রই।

শুভেচ্ছা থাকলো।

৭| ১২ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:১৪

অর্থনীতিবিদ বলেছেন: সুন্দর। পোস্টে +

১২ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: কমেন্ট ও প্লাসের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন এই কামনা করি।

৮| ১২ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:০৪

আনমোনা বলেছেন: হিমুর শক্তিনাশ দেখে মন খারাপ হলো। হিমু কি তার ক্ষমতা নিয়ে অহংকারী হয়ে উঠেছিলো?

১২ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: হিমুরা তো অহংকারী হয় না!

শুভেচ্ছা থাকলো।

৯| ১২ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: বয়সের সাথে সাথে মস্তিষ্কের ধার কমতে থাকে।

১২ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: হিমুরা তো মহাপুরুষ। মহাপুরুষদের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতিরেক হতেই পারে। :)

ভালো থাকুন।

১০| ১২ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩

ইসিয়াক বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর । +++++++

১২ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: ওয়াও!!! এত্তোগুলো প্লাস!!!!!!

অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.