নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নতুনভাবে নিজের চিন্তার শক্তি আর ভাবনার বিশ্লেষণ করার সামর্থ অর্জনের জায়গা হল ব্লগ। বিচিত্র ভাবনারাশির আলোয় নিজেকে আলোড়িত আর আলোকিত করার উদ্দেশেই আমরা ব্লগে আসি। অবসর সময়টাকে ভালোভাবে কাটানোর জন্য এর চেয়ে মোক্ষম উপায় আর নেই। তদুপরি বিনোদন এখানে উপরি পাওনা

এস এম ইসমাঈল

মুক্তমনা, সকল রকমের সংস্কার মুক্ত, আমি ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধতা আমাকে কখনো গ্রাস করে নিতে পারেনি।আমি সুস্থ্য চিন্তা আর মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। আমার শক্তি আমার আবেগ আবার সে আবেগ-ই আমার বিশেষ দুর্বলতা। নেহায়েত সখের বশে এক আধটু কাব্য চর্চা করি, এই আর কি। প্রিয় বিষয় সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, সংগীত, দর্শন, দেশ ভ্রমন আর গোয়েন্দা সিরিজের বই পড়া।ভীষণ ভোজন রসিক আমি। জন্ম যদিও চট্টগ্রামে কিন্তু ঢাকা শহরেই লেখা পড়া আর বেড়ে উঠা। আমার জীবনের গল্প তাই আর দশ জনের মতো খুবই সাদামাটা।

এস এম ইসমাঈল › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুরশীদে বরহক হযরতুল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্‌ রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলায়হির জীবনের একটা ঘটনা

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৯



মুরশীদে বরহক হযরতুল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্‌ রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলায়হি আজীবন সুন্নতের প্রতি অটল ও নীতির প্রশ্নে অবিচল ছিলেন। দুনিয়াবী কোন লোভ-লালসা বা প্রভাবপ্রতিপত্তি লাভের আশা কখনো তাঁর পবিত্র অন্তরে ঠাঁই করে নিতে পারে নাই।প্রসঙ্গতঃ এখানে হুজুর কিবলার (রহঃ) ঢাকা অবস্থানকালীন একটা ঘটনার কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না।

১৯৮১-৮২ সালের কথা। হুজুর কিবলা (রহঃ) তখন মোহাম্মদপুরের মাদ্রাসা সংলগ্ন খানকায় অবস্থান করছিলেন। রোজকার মত বাদ আছর হুজুর কিবলাকে (রহঃ) বিকেলের চা-নাস্তা পরিবেশন করা হল। নেতৃস্থানীয় পীর ভাইয়েরা এবং মুরুব্বীরা হুজুর কিবলার (রহঃ) সামনে হাজির আছেন। মরহুম বিচারপতি আবদুস সাত্তার সাহেব তখন দেশের ভাইস প্রেসিডেণ্ট পদে আসীন। তাঁর পি,এস,জনাব শাহজাহান চৌধুরী সাহেব স্বপরিবারে তাঁর শ্বশুর সহকারে আমার হুযুর কিবলার (রহঃ) মুরীদ। (তাঁর গ্রামের বাড়ী চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায়। তিনি আমার নিকটাত্মীয়ও বটে।) যাই হোক, একদিন বিকেলে আছরের নামজের পর তিনি এসেছেন হুজুর কিবলাকে (রহঃ) ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহেবের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে চায়ের নিমন্ত্রণ জানাতে। সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহেবের একজন ব্যক্তিগত স্টাফও এসেছেন হুজুর কিবলাকে (রহঃ) সালাম জানাতে। কথাটা হুজুর কিবলাকে (রহঃ) জানানো মাত্রই হঠাৎ তাঁর পবিত্র চেহারায়ে মুবারাক রাগে লাল ও গম্ভীর হয়ে গেল। হুজুর কিবলা (রহঃ) তাঁর পাশে বসা ঢাকা আঞ্জুমানের সহ-সভাপতি (মরহুম) হাজী সিরাজুল ইসলাম সওদাগর সাহেব, আঞ্জুমানের সেক্রেটারী (মরহুম) আলহাজ চিনু মিয়া সাহেব, হাজী আশরাফ আলী সাহেব I উপস্থিত সকল পীর ভাইদেরকে লক্ষ করে বললেন, “আমার কী প্রয়োজন তাঁর সাথে? তাঁর সাথে আমার কীসের সম্পর্ক? যদি আমার সাথে দেখা করার ইচ্ছা হয়, তবে তাঁকে বলে দিও, এখানে এসে আমার সাথে দেখা করার জন্য।আমি যাব না।”। হুজুর কিবলার (রহঃ) এ কঠিন চেহারা দেখে, হাজী সিরাজুল ইসলাম সওদাগর সাহেব, আলহাজ চিনু মিয়া সাহেব, হাজী আশরাফ আলী সাহেব আর এবি চৌধুরী সাহেবতো একেবারে কিংকর্তব্যবিমূঢ়! তাঁরা বার বার হুজুর কিবলার (রহঃ) পায়ে পড়ে মাফ চেয়ে নিচ্ছেন। আর অনুনয় করে বলছেন, “হুজুর!দয়া করে বেয়াদবী মাফ করে দিন!! ভবিষ্যতে এ রকম ভুল আর কক্ষনো হবে না। এর অনেকক্ষণ পর হুজুর কিবলার (রহঃ) মন নরম হয়ে এল। তিনি চা পানে মনোনিবেশ করলেন। আমার হুজুর কিবলা (রহঃ) আজকালকার জামানার দুনিয়াদার আর দশজন পীর সাহেবদের মত ছিলেন না। মহান আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লাম কে রাজী খুশী করাই ছিল তাঁর একমাত্র ভাবনা। মুরিদ করার সময় তিনি সকলকে এ মর্মে ওয়াদা করতে বলতেন যে, “ভবিষ্যতে আমি ঐ কাজ করব যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লাম রাজী হন। আর ঐ কাজ করা থেকে বিরত থাকব যে কাজে আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লাম কে নারাজ হন।” এই ছিল মুরশীদে বরহক হযরতুল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্‌ রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলায়হির চরিত্রের বৈশিষ্ট। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ্‌ পাক আমাদেরকে কত উঁচু মর্যাদাবান পীর নসীব করেছেন!!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.